সরগুজা রাজ্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরগুজা রাজ্য
सरगुजा
ব্রিটিশ ভারত দেশীয় রাজ্য
১৬১৩–১৯৪৮
পতাকা
SurgujaKart.jpg
ইম্পেরিয়াল গেজেটিয়ার অব ইন্ডিয়া থেকে প্রাপ্ত সরগুজা রাজ্যের মানচিত্র
রাজধানীঅম্বিকাপুর
আয়তন 
• ১৯০৪
১৫,৭৭০ বর্গকিলোমিটার (৬,০৯০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা 
• ১৯০৪
৩,৫১,০১১
ইতিহাস 
• প্রতিষ্ঠিত
১৬১৩
১৯৪৮
পূর্বসূরী
উত্তরসূরী
মারাঠা সাম্রাজ্য
ভারত

সরগুজা রাজ্য, ছিলো ব্রিটিশ শাসিত ভারতে অবস্থিত একটি দেশীয় রাজ্য, যা বর্তমানে ভারতের অন্তর্গত৷ স্যালুট রাজ্য না হওয়া সত্ত্বেও রাজ্যটির গুরুত্ব কম ছিলো না৷ ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে এটি মধ্য ভারত এজেন্সির অন্তর্গত ছিলো কিন্তু পরে এটিকে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য এজেন্সির অংশীভূত করা হয়৷

রাজ্যটি জঙ্গল ও পার্বত্যভূমি বরাবর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ছিলো৷ গোণ্ড, ভূমিজ, ওরাওঁ, পণিকা, কোরবা, ভুইয়াঁ, খরোয়ার, মুন্ডা, চেরো, রাজোয়ার, নাগেশিয়া ও সাঁওতালের মতো বহু জনজাতির বাস ছিলো এই রাজ্যে৷[১] বর্তমানে এটি ছত্তিশগড় রাজ্যে অবস্থিত৷ সরগুজা জেলার সদর অম্বিকাপুর শহর ছিলো এই রাজ্যটির রাজধানী ও প্রশাসনিক দপ্তর৷

ইতিহাস[সম্পাদনা]

তিনটি শিকারকৃত এশীয় চিতাসহ মহারাজা রামানুজ প্রতাপ সিংহদেও[২]

জনশ্রুতি অনুযায়ী সরগুজা রাজ্যের রাজবংশ ছিল যথেষ্ট প্রাচীন এবং তারা ছিলেন মূলত রাজপুতানার চন্দ্রবংশীয় রাজপুত। তবে বর্তমান শাসকরা পালামৌ অঞ্চলের রাজার অনুরূপ রাক্সেল চন্দ্র বংশীয় রাজা বলে অনুমান করা হয়। ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের পর থেকে এটি ব্রিটিশ করদ রাজ্যে পরিণত হয়। সরগুজা রাজ্যের রাজবংশীয় প্রশাখা হিসাবে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা পায় পার্শ্ববর্তী উদয়পুর রাজ্য। ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে মহারাজা অমর সিংহ দেওয়ের কনিষ্ঠ পুত্র রাজা বাহাদুর ভিন্দেশ্বরীপ্রসাদ সিংহ দেওকে ইংল্যান্ডের রানী অর্ডার অব দ্যা স্টার অব ইন্ডিয়া পদমর্যাদায় ভূষিত করেন। রাজ্যের প্রধান সরগুজার রক্ষণাবেক্ষণ অনুদান হিসাবে একটি ট্র্যাক্টের সদর দফতর প্রতাপপুরে থাকতেন এবং তিনি যথেষ্ট ক্ষমতা ও চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। ১৮৭১ সালে তিনি কেওনঝড় রাজ্য-এর বিদ্রোহের দমনে সহায়তা করেছিলেন, যার জন্য তিনি ব্রিটিশ সরকারের তরফ থেকে ধন্যবাদস্বরূপ এবং স্বর্ণ-সূচিকর্মযুক্ত ট্র্যাপিংস এবং একটি সোনার ঘড়ি এবং শৃঙ্খল সহ একটি হাতি উপহার পেয়েছিলেন। একইসাথে তিনি অবংশপরম্পরায় রাজা বাহাদুর উপাধি গ্রহণ করেন৷ ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে তার মৃত্যুর পর রাজ্যে বংশপরম্পরায় গৃহীত মহারাজা উপাধিটি আবার প্রচলিত হয়। এটি ছিল ছোটনাগপুর রাজ্য সমষ্টির মধ্যে অন্যতম একটি রাজ্য।[৩] এটি ছিল বস্তুত পার্শ্ববর্তী ছোট ছোট রাজ্য তথা উদয়পুর, জশপুর, কোরিয়া এবং চঙ্গভাকর রাজ্যগুলির অধিরাজ ফলে এই ছোট রাজ্যগুলি সুরগুজা সাম্রাজ্যের অংশীভূত ছিল।[৪]

১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে ইঙ্গ-ভারতীয় লেখক জর্জ রবার্ট আবেরাই ম্যাকে তার লিখিত বইতে এই রাজ্যের মহারাজা ইন্দ্রজিৎ সিংহ দেওকে চন্দ্র বংশীয় বলে উল্লেখ করেন।[৫]

রাজ্যটির শেষ শাসক মহারাজা রামানুজশরণ সিংহ দেও ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের পয়লা জানুয়ারি তারিখে এটিকে ভারতীয় অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।[৬] তিনি এককভাবে ১৭১০ টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার শিকার করে সর্বাধিক সংখ্যক বাঘ শিকারের রেকর্ড তৈরি করেন।[৭][৮] এছাড়াও চিতা শিকারের ক্ষেত্রে সরগুজা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অবস্থিত বিলুপ্তপ্রায় এশীয় চিতার শেষ তিন সদস্যকে হত্যা করায় স্থানীয়ভাবে এই প্রজাতিটি পরিসমাপ্তি ঘটে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে। যদিও ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের রেকর্ড অনুসারে কোরিয়া জেলাতে একই প্রজাতির একটি স্ত্রী চিতার খোঁজ পাওয়া যায়। এই স্বীকার করেছিলেন কোরিয়ার রাজা রামানুজ প্রতাপ সিংহ দেও এবং এই বিষয়ে বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির একটি প্রতিবেদন রয়েছে। অনেক সময় উভয় রাজার নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হয়ে থাকলেও তা একটি গুজব ছাড়া কিছুই নয়।[২]

শাসকবর্গ[সম্পাদনা]

সরগুজার রাজ সিংহাসন এর সচিত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা

সরগুজা দেশীয় রাজ্যের শাসন মহারাজা উপাধিতে ভূষিত হলেও শেষ শাসক সহ কিছু শাসকের ক্ষেত্রে মহারাজা বাহাদুর উপাধি ও লক্ষ্য করা যায়।[৯]

রাজা[সম্পাদনা]

  • ১৬৭৮ – ১৭০৯ বৈহাদাদু সিংহদেও
  • ১৭০৯ – ১৭২৮ প্রথম বলভদ্র সিংহদেও
  • ১৭২৮ – ১৭৪৯ যশোবত সিংহদেও
  • ১৭৪৯ – ১৭৫৮ বাহাদুর সিংহদেও
  • ১৭৬০ – ১৭.. শিব সিংহদেও
  • ১৭৯২ – ১৭৯৯ অজিত সিংহদেও
  • ১৭৯৯ – ১৮০০ দ্বিতীয় বলভদ্র সিংহদেও (প্রথমবার)
  • ১৮০০ – ১৮১৩ লাল সংগ্রাম সিংহদেও
  • ১৮১৩ – ১৮১৬ দ্বিতীয় বলভদ্র সিংহদেও (দ্বিতীয়বার)
  • ১৮১৬ – ১৮২০ পদশূণ্য
  • ১৮২০ – ১৮৫১ লাল অমর সিংহদেও (১৮২০ থেকে বংশপরম্পরায় মহারাজা উপাধি গ্রহণ)
  • ১৮৫১ – ২৫ মার্চ ১৮৭৯ ইন্দ্রজিৎ সিংহদেও
  • ২৫ মার্চ ১৮৭৯ – ৩১ ডিসেম্বর ১৯১৭ রঘুনাথশরণ সিংহদেও (১৮৮৭ থেকে বংশপরম্পরায় মহারাজা উপাধি গ্রহণ; ১৮৯৬ থেকে বংশপরম্পরায় মহারাজা বাহাদুর উপাধি গ্রহণ)
  • ৩১ ডিসেম্বর ১৯১৭ – ১৯১৮ রামানুজ চরণ সিংহদেও

মহারাজা[সম্পাদনা]

  • ১৮২০ – ১৮৫১ মহারাজা লাল অমর সিংহদেও
  • ১৯১৮ – ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ মহারাজা রামানুজ চরণ সিংহদেও

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The Tribes and Castes of the Central Provinces of India
  2. Divyabhanusinh (১৯৯৯)। The End of a Trail: the Cheetah in India। Banyan Books, New Delhi। 
  3. চিসাম, হিউ, সম্পাদক (১৯১১)। "Sirguja"। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ25 (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা 156। [[বিষয়শ্রেণী:উইকিসংকলনের তথ্যসূত্রসহ ১৯১১ সালের এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা থেকে উইকিপিডিয়া নিবন্ধসমূহে উদ্ধৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে]]
  4. Malleson, G. B.: An historical sketch of the native states of India, London 1875, Reprint Delhi 1984
  5. G. R. Aberigh-Mackay, The Native Chiefs and Their States in 1877:A Manual of reference.
  6. Rajput Provinces of India – Surguja (Princely State)
  7. The scent of shikar
  8. Tiger Hunting in India 1924
  9. Princely States of India