সমলৈঙ্গিক সামাজিকতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

সমাজবিজ্ঞানে, সমলৈঙ্গিক সামাজিকতা এর অর্থ হচ্ছে প্রেম অথবা যৌনচিন্তা না থাকা একপ্রকার সমলৈঙ্গিক সম্পর্ক। এ সম্পর্ক নিছক বন্ধুত্ব, পরামর্শদাতার সাথে সাধারণ সম্পর্ক অথবা অন্য কিছু হতে পারে। সমলৈঙ্গিক সামাজিকতার বিপরীত হচ্ছে বিষমলৈঙ্গিক সামাজিকতা, যেখানে যৌন সম্পর্ক ব্যতিরেকে বিপরীত লিঙ্গে সম্পর্ক তৈরী হয়। যদি দুইয়ের অধিক ব্যক্তি মিলে সম্পর্ক তৈরী হয়, তবে সেখানে সমলৈঙ্গিক সামাজিকতা (সমলিঙ্গে সম্পর্ক), বা উভলৈঙ্গিক সামাজিকতা (একইসাথে সমকামী ও বিষমকামীর সাথে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা) অথবা বিষমলৈঙ্গিক সামাজিকতা (বিপরীত লিঙ্গের একাধিক ব্যক্তির মধ্যকার সম্পর্ক) তৈরী হতে পারে।

জিন লিপম্যান ব্লুম্যান প্রথমদিকে সমলৈঙ্গিক সামাজিকতা (ইংরেজি: Homosociality) শব্দটির সংজ্ঞায় বলেন, এসমাজের সদস্যরা শুধুমাত্র তার সমলিঙ্গের মানুষের সাথে মেলামেশায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তবে এধরনের সদস্যদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক তৈরী হতেও পারে, নাও পারে।[১] ইভ সেডউইক তার পুরুষ সমলৈঙ্গিক অভিরুচি (ইংরেজি: "male homosocial desire") শীর্ষক আলোচনায় এই শব্দটিকে জনপ্রিয়করণ করেন।[২]

গবেষণামুলক প্রমাণ[সম্পাদনা]

রোজ নামে একজন বিজ্ঞানী ১৯৮৫ সালে একটি গবেষণা করেন।[৩] ২০ থেকে ২৮ বছর বয়সী নারী এবং পুরুষের সমলিঙ্গে ও বিপরীত লিঙ্গে বন্ধুত্বের প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করেছিলেন তিনি। গবেষণা থেকে দেখা গিয়েছে, বিপরীত লিঙ্গে বন্ধুত্বের তুলনায় নারী এবং পুরুষ উভয়ই সমলিঙ্গে বন্ধুত্বকে নির্ভরশীল বলে ধরে নেন। সমলিঙ্গ এবং বিপরীত লিঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে উঠার ধরনেও পার্থক্য খুজে পান এ গবেষক।

সংস্কৃতি, পরিবার এবং সামাজিক গঠন ভেদে সমলিঙ্গে অনুরক্তি ৩ থেকে ৯ বছরের বিকশিত হতে থাকে(LaFreniere, Strayer,& Gauthier, 1984; Jacklin& Maccoby, 1978; Harkness & Super, 1985)।[৪][৫][৬] ল্যাফ্রেনিয়ার, স্ট্রেয়ার এবং গোথার(১৯৮৪)[৬] ১ থেকে ৬ বছর বয়সী ৯৮ জন বালক এবং ৯৩ জন বালিকাকে ১৫ টি গ্রুপে বিভক্ত করে ৩ বছর ধরে গবেষণা করেন। তারা দেখতে পান বেশিরভাগ পশ্চিমা শিশুদের ৩-৪ বছর বয়সের মধ্যে নিজের যৌনতা ভিত্তিক আচরণে স্বতন্ত্রতা তৈরী হয়ে যায়। অর্থাৎ, অর্থাৎ নারী ও পুরুষ ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট আচরণ পশ্চিমা শিশুরা প্রদর্শন করতে শুরু করে। যাইহোক, হার্কন্যাস এবং সুপার[৭] কেনীয় শিশুদের উপর করা গবেষণায় দেখতে পান, যে পর্যন্ত না শিশুদের বয়া ৬ থেকে ৯ বছর হচ্ছে, যৌনতা ভিত্তিক অনুরক্ততায় তাদের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গী তৈরী হচ্ছে না। গবেষকরা গ্রামাঞ্চলের ১৫২ জন কেনীয় শিশুর উপর করা গবেষুণায় দেখতে পান, পরিবার থেকে যৌনতা ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট প্রথা বুঝানোর পরেই শিশুদের যৌনতা ভিত্তিক মানসিক পরিবর্তন তৈরী হয়।[৭]

It appears that the social bias towards members of one's own sex can develop early in children. Specifically, studies have found that by the early age of 3 or 4, children prefer members of their own sex to members of the opposite sex (Bussey & Bandura, 1992).[৮] That is, young girls favor other females (girls and women) over males (boys and men). The findings are identical for young boys. Moreover, a study done by Carol Martin (1989)[৯] found that boys 4.5 years of age expressed significantly more dislike for a girl depicted as a "tomboy" than a boy depicted as a "sissy"; whereas boys 8.5 years of age express more dislike for a boy depicted as a "sissy". This age difference suggests that children as young as 4 prefer their own sex regardless of gender-incongruent behavior. Around the age of 8 however, boys begin to adhere to and appreciate the social expectations for males—devaluing feminine behavior. It has also been shown that children ages 10–12 prefer same-sex socializing. That is, girls favored girls who socialized with other girls and boys liked boys who socialized with other boys.[১০]

যৌন অভিমুখিতা[সম্পাদনা]

সংজ্ঞানুসারে সমলৈঙ্গিক সামাজিকতা বলতে বিষমকামিতা বা সমকামিতা বুঝায় না। উদাহরণস্বরুপ, যেসব বিষমকামী পুরুষ; পুরুষের সাথে সামাজিকতা গড়ে তুলে তাদের সমলৈঙ্গিক সামাজিক বিষমকামী বলেও অভিহিত করা হয়। নারীবাদীরাও এই শব্দটিকে ব্যবহার করেন। অড্রে লর্ড এপ্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন "প্রকৃত নারীবাদীরা সর্বদা সমকামী নারীদের অধিকার নিয়ে সচেষ্ট থাকবে, এর জন্য তারা অন্য কোনো নারীর সাথে বিছানায় গমন করছে কিনা, তা বিবেচ্য নয়।"[১১]

ঐতিহাসিক ব্যবহার[সম্পাদনা]

ইতিহাস থেকে সমলৈঙ্গিক সামাজিকতার চর্চা মুলত কোনো একটা পেশার মানুষদের মধ্যে দেখা যেত। যেমনঃ এক সময় নাবিকরা (ঐতিহাসিক মার্কাস রেডিকার জলদস্যুদের সমাজ ব্যাখ্যা করতে এই শব্দকে ব্যবহার করেছেন) শুধুমাত্র পুরুষ হত। ফলে অবধারিতভাবে তাদের মধ্যে গড়ে উঠত সমলৈঙ্গিক সামাজিকতা। সমলৈঙ্গিক সামাজিকতা মাত্রই যে সেখানে যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠবে তা নয়, বরং এই সমাজ বলতে বুঝানো হয়, একই লিঙ্গের মানুষদের মধ্যে সহাবস্থান।

যেসব স্থানে আবশ্যিক ভাবে এই সমাজ গড়ে উঠেঃ

সাধারণত যে সমাজে যত বেশি লিঙ্গকে আশ্রয় করে নানারুপ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, সে সমাজে তত বেশি সমলৈঙ্গিক সমাজ গড়ে উঠে।[১২]

ভ্রার্তৃত্বপ্রেম[সম্পাদনা]

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে 'ভ্রার্তৃত্বপ্রেম (bromance) শব্দটি ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে বুঝানো হয়, দুইজন পুরুষ কোনো যৌন সম্পর্কে না থেকেও তারা একে অপরের খুব কাছের। সাধারণত দুজন বিষমকামী সমলিঙ্গের ব্যক্তিদ্বয়ের ক্ষেত্রেই এই শব্দ ব্যবহৃত হয়। তবে মিডিয়াতে সমকামী-বিষমকামী দুজন পুরুষের ক্ষেত্রেও এই শব্দের ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে। একে সমকামী-বিষমকামী ভ্রার্তৃত্বপ্রেম বলা হয়। নারীদের জন্য বোনপ্রেম শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

সাহিত্যে প্রতীয়মান[সম্পাদনা]

ইভ সেডগুইকের মতে, "শেক্সপীয়রের সনেটে পুরুষ সমলৈঙ্গিক সামাজিকতা গভীরভাবে প্রোথিত হয়েছে।"[১৩]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Merl Storr, Latex and Lingerie (2003) p. 39-40
  2. J. Childers/G. Hentzi eds., The Columbia Dictionary of Modern Literary and Cultural Criticism (New York 1995) p. 138
  3. Rose, S.M. (1985). Same- and cross-sex friendships and the psychology of homosociality. Sex Roles, 12(1/2), 63-75.
  4. Harkness, S., & Super, C.M. (1985). The cultural context of gender segregation in children’s peer groups. Child Development, 56, 219-224.
  5. Maccoby, E.E., & Jacklin, C.N. (1987). Gener segregation in childhood. Advances in Child Development and Behavior, 20, 239-287.
  6. LaFreriere, P., Strayer, F.F., & Gauthier, R. (1984). The emergence of same-sex preferences among preschool peers: A developmental ethological perspective. Child Development, 55, 1958-1965.
  7. Harkness, S., & Super, C.M. (1985). The cultural context of gender segregation in children's peer groups. Child Development, 56, 219-224.
  8. Bussey, K., & Bandura, A. (1992). Self-regulatory mechanisms governing gender development. Child Development, 63, 1236-1250.
  9. Martin, C. L. (1989) Children's use of gender-related information in making social judgments. Developmental Psychology, 25, 80-88.
  10. Lobel, T. E., Bempechat, J., Gewirtz, J. C., Shoken- Topaz, T., & Bashe, E. (1993). The role of gender-related information and self-endorsement traits in preadolescents' inferences and judgments. Child Development, 64, 1285-1294.
  11. Juhasz, Suzanne (২০০৩)। A Desire for Women: Relational Psychoanalysis, Writing, and Relationships Between Womenআইএসবিএন 978-0-8135-3274-5 
  12. Gilbert H. Herdt, in Merl Storr ed., Bisexuality: A Critical Reader (1999) p. 152
  13. Helen Vendler, The Art of Shakespeare's Sonnets (London 1997) p. 2