বিষয়বস্তুতে চলুন

সমর সেন (কূটনীতিবিদ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সমর সেন
জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি
কাজের মেয়াদ
জানুয়ারি ১৯৬৯  জুন ১৯৭৪
পূর্বসূরীগোপালস্বামী পার্থসারথি
উত্তরসূরীরিখি জয়পাল
কাজের মেয়াদ
১৯৪৬  ১৯৪৮
পূর্বসূরীপদ প্রতিষ্ঠিত
উত্তরসূরীবেনেগাল নরসিং রাউ
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি
কাজের মেয়াদ
১৯৭৪  ১৯৭৬
পূর্বসূরীজিয়ান মার্তিন সিসে
উত্তরসূরীচাইদির আনোয়ার সানি
জি-৭৭ এর চেয়ারপারসন
কাজের মেয়াদ
১৯৭২  ১৯৭৩
পূর্বসূরীপদ প্রতিষ্ঠিত
উত্তরসূরীহাভিয়ের পেরেস দে কুয়েইয়ার
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৯১৪-০৮-১০)১০ আগস্ট ১৯১৪
ঢাকা জেলা, বাংলা প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৩(2003-02-16) (বয়স ৮৮)
লন্ডন, যুক্তরাজ্য
শিক্ষাবার অ্যাট ল
প্রাক্তন শিক্ষার্থীলিংকনস্‌ ইন

সমর সেন (১৯১৪ – ২০০৩) একজন ভারতীয় কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৭৪ সালের জুন থেকে ১৯৭৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত জেনেভায় জাতিসংঘে ভারতের ১ম স্থায়ী প্রতিনিধি, নিউইয়র্কে ৮ম স্থায়ী প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে ভারতের ২য় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্রিটিশ ভারতের ঢাকা জেলায় (বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগ) জন্মগ্রহণকারী, সমর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড এবং লিংকনস্‌ ইন থেকে শিক্ষা লাভ করেন। তিনি একজন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি ১৯৭২ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রারম্ভিক ও ব্যক্তিজীবন

[সম্পাদনা]

সমর সেন ১০ আগস্ট ১৯১৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির ঢাকা জেলায় (বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থিত) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রথমে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করার পর লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করে ব্যারিস্টারি শেখার জন্য লিংকনস্‌ ইন থেকে উত্তীর্ণ হন।[] তিনি হোটেল ব্যবসায়ী সারদারি লাল মালহোত্রা ও ভেরা সোয়ানের কন্যা শীলা লাল মালহোত্রাকে বিয়ে করেন।[]

পেশাজীবন

[সম্পাদনা]

১৯৩৮ সালে ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৪৬ সালে তিনি জাতিসংঘের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হন এবং দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৯ সালে তিনি লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের চ্যানসারি প্রধান হিসেবে কাজ করেন। ১৯৫১ সালে তিনি ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপসচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়ে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। তারপর তিনি দুই বছরের জন্য জেনেভা ইনস্টিটিউট সংস্থার কনসাল জেনারেল ও প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তারপর ১৯৫৭ সালে তিনি বিদেশ মন্ত্রকের পররাষ্ট্র বিষয়ক যুগ্মসচিব হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন।[]

১৯৫৯ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত সমর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর দুই বছরের মধ্যে আলজেরিয়া, লেবানন, জর্ডান ও কুয়েতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৬৪ সাল থেকে দুই বছরের জন্য সাইপ্রাসের হাইকমিশনার হওয়ার পর ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তার কূটনৈতিক জীবনের সমাপ্তি ঘটে।[]

বাংলাদেশে ভূমিকা

[সম্পাদনা]

১৯৬৯ সালে তিনি জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হয়েছিলেন। এর দুই বছর পর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এই সময় তিনি জাতিসংঘে যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার তথ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি পশ্চিম পাকিস্তানে বন্দী শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির জন্য কাজ করেছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল জাতিসংঘে এলে প্রয়োজনে তাদের সাধ্যমতো সাহায্য করেন। ১৯৭৪ সালে তাকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।[]

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তৎকালীন সময় গুজব রটেছিল যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ মধ্যকার একটি মিত্রসংঘ গঠিত হতে পারে। ১৮ আগস্ট ১৯৭৫ সালে সমর সেন নতুন রাষ্ট্রপতিকে তার কাছে থাকা চিরকুটের লেখাগুলো পড়ে শোনান যেখানে লেখা ছিল "যদি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করা হয় এবং কোনো দেশের সঙ্গে কনফেডারেশন করা হয়, তাহলে ভারতের সাথে থাকা বৈধ চুক্তির আওতায় ভারতের সেনাবাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু আপনি যদি নাম পরিবর্তন এবং তথাকথিত কনফেডারেশনের ধারণা থেকে বিরত থাকেন, তাহলে ভারত ১৫ই অগাস্ট থেকে যাই ঘটুক না কেন, তাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসাবে বিবেচনা করবে"। চিরকুটের লেখা পড়ে শোনানোর প্রতিক্রিয়ায় মোশতাক বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলেন।[]

এরপর ২৬ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে সমর জিম্মি হওয়ার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। ভারতের বিপরীতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এম আনোয়ার হোসেনের পরিকল্পনায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একটি বিপ্লবী উপদলের সশস্ত্র কর্মীরা তাকে অপহরণ করতে বেসামরিক পোশাক পরে দর্শনার্থী সেজে চ্যান্সারি ভবনে যায়।[] তখন নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে তাদের বন্দুকযুদ্ধের ফলে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তার কাঁধের একটি হাড় ভেঙে যায়, তবে ঢাকার একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে গুলি অপসারণ করা হয়। পাল্টা প্রতিরোধে ছয়জন হামলাকারীর মধ্যে চারজন মারা যায়। সমরকে সরিয়ে নিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিমান পাঠানো হলেও তিনি ঢাকাতেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন।[] তিনি বাংলাদেশে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।[]

মৃত্যু ও কিংবদন্তি

[সম্পাদনা]

সমর সেন ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন।[] ১ অক্টোবর ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করে।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 জহির, কাজী সাজ্জাদ আলী (২০২০)। "বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের কূটনীতিক সমর সেন"। হারুন-অর-রশিদ (সম্পাদক)। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ। খণ্ড ১০ম। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৩৪-৯২৬৯-২
  2. "Sebastian Malhotra Coe: The little-known Punjabi connection of an English Olympic legend"www.scroll.in (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৭
  3. ইসলাম, সায়েদুল (১৪ আগস্ট ২০২৩)। "সপরিবারে শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পরের দুই সপ্তাহে যা ঘটেছিল"বিবিসি। ১৪ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত
  4. "Why JSD wanted to take Samar Sen hostage in November 1975"দি এশিয়ান এজ (ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ নভেম্বর ২০২২।
  5. "India's Top Aide in Dacca Wounded in Ambush by 6"The New York Times। ২৭ নভেম্বর ১৯৭৫। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২১
  6. "Samar Sen dead"দ্য টেলিগ্রাফ (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৩।
  7. "60 foreign friends honoured"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১ অক্টোবর ২০১৩।
কূটনৈতিক পদবী
পূর্বসূরী
সুবিমল দত্ত
বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার উত্তরসূরী
কীঝক্কে পলত শঙ্কর মেনন
পূর্বসূরী
কেবল সিং চৌধুরী
পাকিস্তানে ভারতীয় হাইকমিশনার উত্তরসূরী
বিহারী কুমার আচার্য