সমকামিতার প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

সমকামিতা হলো একই লিঙ্গের দুজন ব্যক্তির মধ্যে ঘটা যৌনতা। সমকামিতা পুরুষ এবং পুরুষ অথবা নারী এবং নারীর মধ্যে সংগঠিত হয়ে থাকে। সমকামিতা এই দু ধরনের হয়। পুরুষের মাঝে ঘটা সমকামিতা কে বলে গে। নারীর মধ্যে সমকামিতা কে বলে লেসবিয়ান। পুরুষের মধ্যে দুজন তিনটি রুল ব্যবহার করেন। ১ টপ (যে শুধুমাত্র পুরুষের ভূমিকা পালন করেন) ২ বটম (যে নারীর ভূমিকা পালন করেন) ৩ ভার্সেটাইল (যে নারী পুরুষ দুই রুলই ব্যবহার করে)

আবার নারীর মধ্যে ও দুটি রুল ১ টম বয় (যে পুরুষের ভূমিকা পালন করে) ২ টম গার্ল (যে নরম সরম নারীর ভূমিকা পালন করে)

আমাদের সমাজে সমকামিতার অবস্থান বাঙ্গালী সমাজের সুচনা থেকেই সংস্কৃতির শুরু থেকেই সমকামিতা ছিল এবং হয়ে আসছে। এটা অতি গোপনীয়তার সাথেই সংগঠিত হয়ে আসছে। কখনোই এটা প্রকাশ্যে আসেনি। রাজা বাদশাহদের আমল জমিদারের আমল ব্রিটিশ আমল এবং সাম্প্রতিক কালে ও সমকামিতা পরিলক্ষিত।

পুরুষ সমকামিদের মধ্যে যারা বটম বা হাফলেডিস নামে পরিচিত তাদের বেশির ভাগই রাজা বাদশাহী আমলে নাচের জন্য বেশ প্রশংসিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে মুঘল আমলে সমকামীদের সংস্কৃতি তে বিশেষ অবদান ছিল। নাচে গানে কবিতা আর রসিকতা এবং রসিয়ে রসিয়ে কথা বলার জন্য এরা বেশ প্রশংসা পেতেন। জমিদারী আমলে ঘেটু গান খুব প্রচলিত ছিল। বারো তেরো বছরের ছেলেরা মেয়েদের মতো সেজে জমিদারদের নাচ দেখাতেন। এটা বর্ষা কালের খুব জনপ্রিয় বিনোদন ছিলো। ঘেটুদের অনেক সময় জমিদাররা রেখে দিতেন নিজের সেবা যত্নের জন্য। এবং বৌর থেকেও বেশি ভালবাসতেন বলে জমিদার পত্নীরা বেশ ঈর্ষা করতেন।

যুগ যুগ ধরেই ঘটে আসা সমকামিতা সমাজে কখনোই স্থান পায়নি। অন্ধকারে ঘেরা সমকামিতার অধ্যায়। মুসলিম ধর্মে সমকামিতা কবিরা গুনাহ হওয়ার জন্য এটা বেশ ঘৃণিত। এদের শাস্তির ব্যাপারে কোরআনে খুব ভালো করেই বর্ণনা আছে।

সমাজে সমকামিতার ব্যাপারে উদাসীন এবং এটাকে দমিয়ে রাখার ব্যাপারে উৎসুক। কখনোই সমকামিতা সেইভাবে স্থান পায়নি। এটা নিয়ে কোথাও কোন লেখা হয়নি। বই পত্রিকা বা নাটক সিনেমাতেও একে শুধুই কমেডি চরিত্র হিসেবেই উল্লেখ করা হয়। এই হাসি ঠাট্টার ভেতরেও রয়েছে এক হাহাকারের গল্প। রয়েছে দুঃখ কষ্ট আর অত্যাচারের গল্প যা সবার অজানা রয়ে গেছে। এক অন্ধকার বিভীষিকাময় জীবন নিয়ে বেঁচে থাকেন সমকামীরা। কখনো পুরুষ হয়েও সঠিক পুরুষ হিসেবে সম্মান মর্যাদা পায় নি। দুশ্চরিত্র পুরুষদের লালসার শিকার হতে হতে নিজের পুরষ সত্বাটা বিকিয়ে দিয়ে হয় হিজড়া নয়তো আত্মহত্যার পথ বেচে নিতে হয় কিছু কিছু সমকামিদের। আবার শিক্ষা দীক্ষার পাশাপাশি সৃজনশীল কাজেও অবদান রাখা কিছু সমকামী সুন্দর জীবন যাপন করার পরেও কোথাও একটা অপরাধীর তীর এদের উপর বিঁধে থাকে বলে সব সময়ই দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হয়। ভালবাসার কাঙাল এসব লোকদের জীবনটা শেষ হয়ে যাবে তবু সমাজের লোকদের মনে এদের জন্য ভালবাসা জন্মাবে না। সুযোগ পেলে ভোগ করবে। পরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে অপরাধী হিসেবেই গণ্য করে।

প্রকৃতপক্ষে সমকামিদের সামাজিক কোন মর্যাদা বা বৈধতা নেই বাংলাদেশে।