সফটওয়্যার বাগ

সফটওয়্যার বাগ হলো কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা সিস্টেমের ভুল, ত্রুটি, খুঁত বা দোষ; যেটির কারণে কম্পিউটার ত্রুটিপূর্ণ বা অপ্রত্যাশিত ফলাফল প্রদান করে, অথবা অনিচ্ছাকৃত আচরণ করে। বাগ খুঁজে বের করা এবং সমাধান করার প্রক্রিয়াকে ডিবাগিং বলা হয়। এজন্য প্রায়ই প্রচলিত কৌশল বা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর ১৯৫০ এর দশক থেকে কিছু কম্পিউটার সিস্টেম ডিজাইন করা হয়েছে অপারেশন চলাকালীন বিভিন্ন কম্পিউটার বাগকে আটকাতে, শনাক্ত বা স্বয়ংক্রিয়-সংশোধন করার জন্য। বেশিরভাগ বাগ প্রোগ্রামের ডিজাইন বা তার সোর্স কোড বা প্রোগ্রামগুলির দ্বারা ব্যবহৃত উপাদান এবং অপারেটিং সিস্টেমে তৈরি ভুল এবং ত্রুটি থেকে উদ্ভূত হয়। এর কিছু সংখ্যক কম্পাইলার দ্বারা ত্রুটিপূর্ণ কোড তৈরির কারণে হয়ে থাকে। কোনো প্রোগ্রামে যদি অনেকগুলি বাগ থাকে এবং বাগগুলি যদি গভীরভাবে প্রোগ্রামের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে, তাহলে এটিকে বলা হয় বাগি (ত্রুটিযুক্ত)। বাগগুলি সিস্টেমে ভুল প্রবেশ করাতে পারে, যাতে রিপল ইফেক্ট থাকতে পারে। বাগের সূক্ষ্ম প্রভাবের কারণে প্রোগ্রাম ক্রাশ হতে পারে বা কম্পিউটার ফ্রিজ (স্ক্রিন স্থির) হয়ে যেতে পারে। অন্যান্য বাগগুলি নিরাপত্তা বাগ হিসাবে যোগ্যতা অর্জন করে এবং সম্ভবত অননুমোদিত সুবিধাগুলি পাওয়ার জন্য অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ বাইপাস করার জন্য দূষিত (ম্যালিশাস) ব্যবহারকারী সক্ষম করে।[১]

কিছু সফটওয়্যার বাগ বিপর্যয়ের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। যেমন -
- ১৯৮০-এর দশকে রোগীর মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী করা হয় Therac-25 রেডিয়েশন থেরাপি মেশিন নিয়ন্ত্রণের কোডের বাগকে।
- ১৯৯৬ সালে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের Ariane 5 রকেটের প্রোটোটাইপ উৎক্ষেপণের এক মিনিটেরও কম সময়ে ধ্বংস হয়েছিল অন-বোর্ড গাইডেন্স কম্পিউটার প্রোগ্রামের একটি বাগের কারণে।
- ১৯৯৪ সালের জুনে রাজকীয় বিমান বাহিনীর চিনুক হেলিকপ্টার ক্র্যাশ করে ২৯ জনকে হত্যা করে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল এটি পাইলটের ভুল, কিন্তু হাউস অব লর্ডস প্রনোদিত কম্পিউটার উইকলি দ্বারা পরিচালিত তদন্তে বলা হয় যে, বিমানের ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণের কম্পিউটার সফটওয়্যার বাগের কারণে এটি হতে পারে।[২]
- ২০০২ সালে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষক দল এই উপসংহারে পৌঁছায় যে, "সফটওয়্যার বাগ বা ত্রুটিগুলোর জন্য ইউএস অর্থনীতির বাৎসরিক খরচ আনুমানিক ৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা জিডিপির প্রায় ০.৬ শতাংশ"।[৩]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Mittal, Varun; Aditya, Shivam (১ জানুয়ারি ২০১৫)। "Recent Developments in the Field of Bug Fixing"। Procedia Computer Science। International Conference on Computer, Communication and Convergence (ICCC 2015) (ইংরেজি ভাষায়)। ৪৮: ২৮৮–২৯৭। ডিওআই:10.1016/j.procs.2015.04.184। আইএসএসএন 1877-0509।
- ↑ Prof. Simon Rogerson। "The Chinook Helicopter Disaster"। Ccsr.cse.dmu.ac.uk। জুলাই ১৭, ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১২।
- ↑ "Software bugs cost US economy dear"। ১০ জুন ২০০৯। ১০ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২।
