সংযুক্ত আরব আমিরাত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে পুনর্নির্দেশিত)
Jump to navigation Jump to search

স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৬′৫৯.৯৯″ উত্তর ৫৪°০′০.০০″ পূর্ব / ২৩.৭৮৩৩৩০৬° উত্তর ৫৪.০০০০০০০° পূর্ব / 23.7833306; 54.0000000

সংযুক্ত আরব আমিরাত
دولة الإمارات العربية المتحدة
দাওলাত্ আল্-ঈমারাত্ আল্-আরবিয়াহ্ আল্-মুত্তাহিদাহ্
পতাকা জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
নীতিবাক্যالله , الوطن , الرئيس (আল্লাহ, স্বদেশ, রাষ্ট্রপতি)
জাতীয় সঙ্গীত: "ইশ্যি বিলাদি"
রাজধানীআবুধাবি
২২°৪৭′ উত্তর ৫৪°৩৭′ পূর্ব / ২২.৭৮৩° উত্তর ৫৪.৬১৭° পূর্ব / 22.783; 54.617
বৃহত্তম শহর দুবাই
রাষ্ট্রীয় ভাষাসমূহ আরবি
জাতীয়তাসূচক বিশেষণ আমিরাতি
সরকার যুক্তরাষ্ট্রীয়, পরম ও বংশগত রাজতন্ত্র
 •  রাষ্ট্রপতি খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান
 •  প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম
 •  মোট  কিমি (১১৬)
 বর্গ মাইল
 •  পানি (%) নগণ্য
জনসংখ্যা
 •  ২০১৭ আনুমানিক ৯,৪০০,০০০ (94তম)
 •  ২০০৫ আদমশুমারি ৪,১০৬,৪২৭
 •  ঘনত্ব ৯৯/কিমি (১১০তম)
/বর্গ মাইল
মোট দেশজ উৎপাদন
(ক্রয়ক্ষমতা সমতা)
২০১৭ আনুমানিক
 •  মোট $৬৯৩.৭৬৫ বিলিয়ন[১] (৩২তম)
 •  মাথা পিছু $৬৮,৪২৪[১] (৭ম)
মোট দেশজ উৎপাদন (নামমাত্র) ২০১৭ আনুমানিক
 •  মোট $৪০৭.২১০ বিলিয়ন[১] (২৮তম)
 •  মাথা পিছু $৪০,১৬২[১] (১৯তম)
জিনি সহগ (২০০৮)৩৬
মাধ্যম
মানব উন্নয়ন সূচক (২০১৫)বৃদ্ধি ০.৮৪০[২]
অতি উচ্চ · ৪২তম
মুদ্রা আমিরাতি দিরহাম (AED)
সময় অঞ্চল GMT+4 (ইউটিসি+৪)
 •  গ্রীষ্মকালীন (ডিএসটি) না (ইউটিসি+৪)
কলিং কোড +৯৭১
ইন্টারনেট টিএলডি .ae, امارات.

সংযুক্ত আরব আমিরাত (আরবি: دولة الإمارات العربية المتحدة‎‎‎ দাওলাত্ আল্-ঈমারাত্ আল্-আরবিয়াহ্ আল্-মুত্তাহিদাহ্) মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় অবস্থিত সাতটি স্বাধীন রাষ্ট্রের একটি ফেডারেশন। এগুলি একসময় ট্রুসিয়াল স্টেটস নামে পরিচিত ছিল। ১৯৭১ সালে দেশগুলি স্বাধীনতা লাভ করে। প্রতিটি আমিরাত একটি উপকূলীয় জনবসতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত এবং ঐ লোকালয়ের নামেই এর নাম। আমিরাতের শাসনকর্তার পদবী আমির। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাতটি আমিরাতের নাম হল আবু ধাবি, আজমান, দুবাই, আল ফুজাইরাহ, রাআস আল খাইমাহ, আশ শারিকাহ এবং উম্ম আল ক্বাইওয়াইন। আবু ধাবি শহর ফেডারেশনের রাজধানী এবং দুবাই দেশের বৃহত্তম শহর।

সংযুক্ত আরব আমিরাত মরুময় দেশ। এর উত্তরে পারস্য উপসাগর, দক্ষিণ ও পশ্চিমে সৌদি আরব, এবং পূর্বে ওমান ও ওমান উপসাগর। ১৯৫০-এর দশকে পেট্রোলিয়াম আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত মূলত ব্রিটিশ সরকারের অধীন কতগুলি অনুন্নত এলাকার সমষ্টি ছিল। খনিজ তেল শিল্পের বিকাশের সাথে সাথে এগুলির দ্রুত উন্নতি ও আধুনিকায়ন ঘটে, ফলে ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে আমিরাতগুলি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে আসতে সক্ষম হয়। দেশের খনিজ তেলের বেশির ভাগ আবু ধাবিতে পাওয়া যায়, ফলে এটি সাতটি আমিরাতের মধ্যে সবচেয়ে ধনী ও শক্তিশালী। তেল শিল্পের কারণে এখানকার অর্থনীতি স্থিতিশীল এবং জীবনযাত্রার মান বিশ্বের সর্বোচ্চগুলির একটি।

আরব আমিরাতে রয়েছে অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন ও গগণচুম্বী ভবন।স্বাধীনতার পর খুব কম সময়ে আরব আমিরাত বিশ্বের অন্যতম সুন্দর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম মানব বসতির সন্ধান পাওয়া যায় খৃষ্ট পূর্ব ৫৫০০ শতাব্দী থেকে। তৎকালে বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ বলতে উত্তর- পশ্চিমের মেসোপটেমিয়ার সভ্যতার সাথে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। হাজর পর্বতে প্রাপ্ত তামা দিয়ে ব্যবসার মাধ্যমে ৩০০০খৃষ্ট পূর্ব থেকে মেসোপটেমিয়ার সাথে এই যোগাযোগ দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত হয়। ১ম শতাব্দী থেকে ভূমি পথে সিরিয়া ও ইরানের দক্ষিণাংশের সাথে যোগাযোগ শুরু হয়। পরবর্তীতে ওমানা বন্দর(বর্তমান উম্ম-আল-কোয়াইন) এর মাধ্যমে সমুদ্র পথে ভারতের সাথে যোগাযোগ শুরু হয়।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

আমিরাত (প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ)[সম্পাদনা]

আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ, আজমান, ফুজাইরাহ, রাস আল খাইমাহ, উম্ম আল কোয়াইন

আমির[সম্পাদনা]

আবুধাবি-শেখ খলিফা বিন যায়েদ আল-নাহিয়ান

দুবাই-শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম

শারজাহ-শেখ সুলতান বিন মোহাম্মদ আল-কাশিমি

আজমান-শেখ হুমাইদ বিন রশিদ আল-নুয়াইমি

ফুজাইরাহ-শেখ মোহাম্মদ বিন হামাদ বিন মোহাম্মদ আশ-শারকি

রাস আল খাইমাহ-শেখ সৌদ বিন শাকর আল-কাশিমি

উম্ম আল কোয়াইন-শেখ সৌদ বিন রশিদ আল-মু'আল্লা

ভূগোল[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

এই দেশের প্রধান অর্থনীতি খনিজ তেল, মাথাপিছু আয় প্রায় ৪২,৭১৬ ম.ডলার।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

লোকসংখ্যা ৮২ লক্ষ প্রায়,স্বাক্ষরতার হার (১৫ বছর+)-৯০% গড় আয়ু ৭৬.৭ বছর।

২০১৪ সালের তথ্য অনুযায়ী এখানে বসবাসকারীদের মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা সবচেয়ে বেশি রয়েছেন। [৩] প্রায় ২৬ লক্ষ ভারতীয় রয়েছেন। এছাড়া ১২ লক্ষ পাকিস্তানী রয়েছেন। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১১ লক্ষ।

বুর্জ খলিফা[সম্পাদনা]

বুর্জ খলিফা (আরবি: برج خليفة ‎‎; /খালিফাহ/) বর্তমানে পৃথিবীর গগনচুম্বী অট্টালিকা বা উচ্চতম ভবন যা ৪ঠা জানুয়ারী ২০১০ তারিখে উদ্বোধন করা হয়েছে। এটি আরব আমিরাতের দুবাই শহরে অবস্থিত। এটি "দুবাই টাওয়ার" নামেও পরিচিত।নির্মাণকালে এর বহুল প্রচারিত নাম বুর্জ দুবাই (আরবি: برج دبي‎‎) থাকলেও উদ্বোধনকালে নাম পরিবর্তন করে "বুর্জ খলিফা" রাখা হয়।

এটির উচ্চতা ৮২৮ মিটার (২,৭১৭ ফু)। এটি তাইওয়ানের তাইপে ১০১ টাওয়ার থেকে ১,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতর। "তাইপেই ১০১" ভবনটির উচ্চতা ৫০৮ মিটার (১,৬৬৭ ফু)। ২০০৪ থেকে ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এটিই ছিল পৃথিবীর উচ্চতম স্থাপনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অবস্থিত উইলিস টাওয়ারটি ৪৪২ মিটার (১,৪৫০ ফু) উঁচু। "বুর্জ খলিফা" এতই উঁচু একটি ভবন যে নিচতলা আর সর্বোচ্চ তলার মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য ৬° সেলসিয়াস

বুর্জ খলিফার" নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে, আর কাজ শেষ হয় ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে। এটি তৈরীতে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। এর বহিঃপ্রাঙ্গনে অবস্থিত ফোয়ারা নির্মাণেই ব্যয় হয়েছে ১৩৩ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড। এই ভবনে ১,০৪৪টি বাসা (এপার্টমেন্ট) আছে; ১৫৮তলায় আছে একটি মসজিদ; ৪৩তম এবং ৭৬তম তলায় আছে দুটি সুইমিং পুল। আরো আছে ১৬০ কক্ষবিশিষ্ট একটি হোটেল। ১২৪তম তলায় দর্শকদের জন্য প্রকৃতি দর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ভবনে সংস্থাপিত কোনো কোনো লিফটের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ মাইল। ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে শিলান্যাসের পর থেকে অতি দ্রুত নির্মাণ কাজ অগ্রসর হয়েছে। এমনো দিন গেছে যে দিন ১২ হাজার নির্মাণ কর্মী একযোগে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত ছিল। সে সময় প্রতি তিন দিন পর পর একটি ছাদ তৈরি করা হয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

সংযুক্ত আরব আমিরাতে তলোয়ার নৃত্য জনপ্রিয়।অন্যান্য আরব দেশের মত এখানে তলোয়ার নৃত্য প্রচলিত;ইংরেজীতে যাকে বলে 'সোর্ড ড্যান্স'।

এখানকার অধিকাংশ অধিবাসীদের মধ্যে পুরুষেরা আলখাল্লা,জুব্বা,গুত্রা (মাথায় পরার আরব্য পরিধান) ,টুপি পরে থাকেন।নারীরা আবায়া,বোরকা,হিজাব ও অন্যান্য শালীন পোশাক পরিধান করেন।

আরব আমিরাতে অন্যান্য শালীন সংস্কৃতি চর্চার ব্যবস্থা রয়েছে।

পরিবহণ[সম্পাদনা]

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হল সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এছাড়া শারজাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অন্যতম প্রধান বিমানবন্দর।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  1. "United Arab Emirates"International Monetary Fund 
  2. "2016 Human Development Report" (PDF)। United Nations Development Programme। ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০১৭ 
  3. "বিশ্বে প্রবাসীদের সংখ্যায় শীর্ষে ভারত"