সংগীতের ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search

সংগীত অতীত বা বর্তমান সব সংস্কৃতিতেই পাওয়া যায়, যদিও সময় ও স্থানভেদে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। বিশ্বের সকল জনগণের মধ্যে, এমনকি ভীষণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া উপজাতি গোষ্ঠীগুলো সমেত, এক ধরনের সংগীত আছে, এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় যে, সংগীত সম্ভবত তাদের মধ্যেও জাগরুক ছিল যখন মানুষকে পৃথিবীব্যাপী এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে হোত। ঘটনাচক্রে, প্রথম সংগীতের অস্তিত্ব অন্তত ৫৫,০০০ বছর আগে সম্ভাব্যভাবে আবিষ্কৃত হয়েছিল আফ্রিকায় এবং তখন থেকেই নানা বিবর্তন ঘটতে ঘটতে এটা একটা মৌলিক নিয়োজক হয়ে ক্রমেই মানুষের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

একটা সংস্কৃতির সংগীত সমাজের অন্যান্য সংস্কৃতির দৃষ্টিভঙ্গি, যেমন, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সংস্থা ও অভিজ্ঞতা, আবহাওয়া, এবং কারিগরির ব্যবহার, এই সমস্ত বিষয়ের দ্বারা প্রভাবিত হয়। সংগীত যে আবেগ ও ধারণা পরিব্যক্ত করে, যে পরিস্থিতিগুলোতে সংগীত গাওয়া এবং শোনা হয়, এবং যে ভঙ্গিমায় সংগীতশিল্পী ও সংগীতকাররা উপস্থাপন করেন, তার সবটাই অঞ্চল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারতম্য ঘটায়। সংগীত ইতিহাস হচ্ছে একটা পরিষ্কার সংগীতবিদ্যা এবং ইতিহাসের অধীনস্থ ক্ষেত্র যেটা সংগীতকে অধ্যয়ন করা হয় (বিশেষত পশ্চিমি কলা সংগীত) কালক্রমানুযায়ী দৃষ্টিগোচর চেহারার দিক থেকে। 

সংগীতের যুগান্তর[সম্পাদনা]

প্রাগৈতিহাসিক সংগীত[সম্পাদনা]

প্রাগৈতিহাসিক সংগীত, আরো একবার সাধারণভাবে বলা হয় আদিকালীন সংগীত, প্রাকসাহিত্যিক সংস্কৃতির সময়কালে প্রস্তুত সমস্ত সংগীতের এই নাম দেওয়া হয়েছিল, ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের অনেক দেরিতে কোথাও এর শুরু হয়েছিল। প্রায় সারা উইরোপে (১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) প্রাগৈতিহাসিক সংগীত অতীত সংগীত দ্বারা অনুসৃত হোত এবং পরবর্তীতে অন্যান্য ইউরোপীয়-প্রভাবিত অঞ্চলে, এমনকি বিচ্ছিন্ন অঞ্চলেও সংগীতের অস্তিত্ব ছিল।  

প্রাগৈতিহাসিক সংগীত এভাবে সারা বিশ্বের সংগীতের সঙ্গে কারিগরিগতভাবে অঙ্গীভূত হয়েছিল যেটার অস্তিত্ব এখনো পর্যন্ত বর্তমান, সাম্প্রতিক উদ্ভূত ঐতিহাসিক সূত্রগুলো, সেই সংগীতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, উদাহরণস্বরূপ, প্রাকসাহিত্যিক উপজাতিদের ঐতিহাসিক দেশি আমেরিকান সংগীত এবং অস্ট্রেলীয় আদিম সংগীত। যাই হোক, এটা অ-ইউরোপীয় মহাদেশগুলোর 'প্রাগৈতিহাসিক' সংগীতের সঙ্গে খুবই সাধারণভাবে সম্পর্কযুক্ত ব্যাপার--বিশেষভাবে যেটা এখনো টিকে আছে--লোকসংগীত, দেশীয় অথবা ঐতিহ্যপূর্ণ সংগীত হিসেবে। সংগীতের মূল উৎস অজানা-ই রয়েছে, কেননা এটা ঘটেছিল নথিভুক্ত ইতিহাসের আগের সময়ে। কেউ কেউ বলে যে, স্বাভাবিকভাবে ঘটে যাওয়া শব্দ এবং ছন্দগুলো থেকে সম্ভবত সংগীতের উদ্ভব হয়েছে। মানুষের সংগীত এই সব নকশা, পুনরাবৃত্তি এবং সুরময়তার ব্যাপারগুলোকে যথাসম্ভব প্রতিধ্বনিত করে। এমনকি আজকের দিনেও, কয়েকটা সংস্কৃতির কিছু সংখ্যক উদাহরণ আছে, তারা প্রাকৃতিক শব্দ নকল করে সংগীত রচনা করে। কিছু উদাহরণের মধ্যে, এই আদল কাল্পনিক বিশ্বাস এবং অভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এটা আমোদ বিতরণ (খেলা) করতে পারে অথবা বাস্তবিক (শিকারকে টোপ দেওয়া) কাজকর্মগুলো।



এটা বিশ্বাসযোগ্য হল যে, প্রথম সাংগীতিক যন্ত্র বলতে ছিল মনুষ্য কণ্ঠ নিজেই, যেটা শব্দগুলোর একটা বিস্তৃত বিন্যাস তৈরি করতে সমর্থ হয়েছিল, গান গাওয়া, গুন গুন করা, টিক টিক করার মাধ্যমে শিষ দেওয়া, গলা খাঁকারি এবং হাই তোলা থেকে। অন্যান্য সাংগীতিক যন্ত্রপাতির সম্বন্ধে, ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে প্রত্নতত্ত্ববিদগণ [Ulm, Germany জার্মানির উল্মের][7][8][9] কাছে [Hohls Fels হোল ফেলস] গুহায় একটা হাড়ের তৈরি বাঁশি আবিষ্কার করেন।  মনে করা হচ্ছে প্রায় ৩৫,০০০ বছরের পুরোনো, পাঁচ-ছিদ্রবিশিষ্ট বাঁশিটার একটা ইংরেজি V-আকৃতির মুখ দিয়ে বাজানোর জায়গা আছে এবং এটা শকুনের ডানার হাড় থেকে তৈরি। সবচেয়ে পুরোনো বলে জানা কাঠের নলগুলো আবিষ্কৃত হয়েছিল ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে, [Greystones, Ireland গ্রেস্টোন্স, আয়ার্ল্যান্ডে], এক কাঠের খোলযুক্ত একটা ছ-খানা বাঁশির সম্মিলিত বাজনা যেটা ইউ গাছের কাঠ থেকে তৈরি, ৩০ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার লম্বা, একদিকের কিনারা একটু চাপা, কিন্তু আঙুল দিয়ে বাজানোর ছেঁদা ছাড়া। তারা একবার সম্ভবত চামড়া দিয়ে একসঙ্গে বেঁধে রাখত।[10]

এটা ধারণা করা হয়ে থাকে যে, 'Divje Babe Flute', একটা বাঁশি, গুহা ভালুকের উরুর হাড়ের তৈরি, তারিখ হিসেবে প্রায় ৪৩,৫০০ বছরের পুরোনো, যা পৃথিবীর প্রাচীনতম সাংগীতিক যন্ত্র এবং নিয়ান্দারথাল দ্বারা প্রস্তুত। এই দাবি করা হয় যে, উরুর হাড় হল প্রকৃতপক্ষে একটা সাংগীতিক যন্ত্র, যাই হোক, বিকল্প নীতিসমূহের দ্বারা দ্বান্দ্বিক অবস্থায় ধারণাটা অন্তর্ভুক্ত হয় যে, উরুর হাড় সম্ভবত মাংসাশী স্তন্যপায়ীরা চিবিয়ে ছেঁদা তৈরি করে দেয়। 

প্রাচীন সংগীত[সম্পাদনা]

[Sassanid সাস্সানিদ] মহিলারা, [Taq-e Bostan তাক-এ বস্তান], [Iran ইরানে] [Chang চ্যাং] (যন্ত্রসংগীত) বাজাচ্ছে (ছবি-৩৭৯ খ্রিস্টাব্দ)

লেখন পদ্ধতি উদ্ভাবনের সঙ্গে সঙ্গে প্রাগৈতিহাসিক যুগ শেষ হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়, এবং এর সঙ্গে, সংজ্ঞা দেওয়া হয়, প্রাগৈতিহাসিক সংগীত। 'প্রাচীন সংগীত' হল একটা প্রদত্ত নাম যেটা সংগীতে অনুসরণ করা হয়। 'সবচেয়ে পুরোনো সংগীত'টা লিখিত হয়েছিল [cuneiform শিলালিপির কীলকাকার বর্ণমালাতে], উগারিত থেকে তারিখ হিসেবে ৩৪০০ বছর আগে। এটা শিলালিপি থেকে পাঠোদ্ধার করেছিলেন অ্যান দ্রাফকরন্ কিলমার, এবং প্রাচীন [gymel জিমেল][11] গীতির মতো তৃতীয়ের সুরেলা ধ্বনিতে নিবদ্ধ হতে উপস্থাপনা করা হয়েছিল; এবং [diatonic scale দ্বিস্বর সম্বন্ধীয় ছন্দে] [Pythagorean tuning পিথাগোরান সুরেও] লেখা হয়েছিল। প্রাচীনতম টিকে থাকা সম্পূর্ণ সাংগীতিক রচনার উদাহরণটা, সংগীতিক স্বরলিপির অন্তর্ভুক্ত, বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে, এটা হল [Seikilos epitaph সেইকিলস সমাধিস্তম্ভে উৎকীর্ণ লিপি]।



দুই পাইপ, যেমন যেগুলো [ancient Greeks প্রাচীন গ্রিকরা] ব্যবহার করত, এবং প্রাচীন ব্যাগপাইপগুলো, এছাড়া অতীতের পাত্রাদি এবং দেওয়ালগুলোতে আঁকা পুরোনো চিত্রাদির সমীক্ষায়, এবং অতীতের লেখাগুলোতে (যেমন, অ্যারিস্টটল, প্রব্লেমস, বুক XIX.12-তে) যেগুলো সমসাময়িক সাংগীতিক কারিগরিকে বর্ণনা করত, বহুধ্বনির অবতারণা করত। অলোস জোড়ার (ডবল বাঁশিগুলো) মধ্যে একটা পাইপ সম্ভবত পরিবেশিত হোত [drone গুঞ্জন] অথবা 'স্বরলিপি' হিসেবে, যখন অন্যটা বাজত সুরেলা সংগীতাংশকে নিয়ে। যন্ত্রগুলো, যেমন সাত ছেঁদাবিশিষ্ট বাঁশি এবং বিভিন্ন ধরনের তারের যন্ত্রসংগীত উদ্ধার হয়েছিল [Indus valley civiliszation সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতার] প্রত্নতাত্ত্বিক ভূমি থেকে।[12]


[Indian classical music ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীত] (মার্গ) দেখতে পাওয়া যাবে হিন্দু ঐতিহ্যের লিপিগুলো থেকে, যেগুলো হল বেদ। সামবেদ হচ্ছে চারটে বেদের মধ্যে একটা, যা সংগীতকে দীর্ঘায়িতভাবে বর্ণনা করে থাকে।

রাবণাহাথা (রাবণাহাত্তা, রাওয়াণহাত্থা, রাবণাস্ত্রন অথবা রাবণ হস্ত বীণা) হল একটা আনত বেহালা বাজানো যেটা ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে জনপ্রিয়। এটা শ্রীলঙ্কার রাবণের রাজত্বকালে হেলা সভ্যতার মধ্যেকার একটা বিশ্বাসের বিষয় ছিল। এই তার সমন্বিত যন্ত্রটা বিশ্ব ইতিহাসের স্বীকৃত প্রাচীন তারের বাজনাগুলোর মধ্যে একটা ছিল বলে বিবেচিত হয়েছিল।  

ইরানের ([Persian music পারসিক সংগীত]) সাংগীতিক বিকাশ ফিরে যায় প্রাগৈতিহাসিক যুগের দিনগুলোতে। মহান কিংবদন্তি রাজা জামসিদ, সংগীতের আবিষ্কর্তা হিসেবে যার সুনাম আছে। [Elamite Empire ইলামাইট সাম্রাজ্যের] দিনগুলোত (২৫০০ থেকে ৬৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে) ইরানে সংগীত খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। দেশের ইতিহাসের বিভিন্ন রাজত্বকালে টুকরো টুকরো দলিল থেকে এটা প্রতিপন্ন হয় যে, পারসিকরা একটা সম্প্রসারিত সংগীত সংস্কৃতির ধারক ছিল। বিশেষভাবে [Sassanid সাস্সানিদ] রাজত্বকাল (২২৬-৬৫১ খ্রিস্টাব্দ), পারস্য দেশে এক মনোগ্রাহী সংগীতের অস্তিত্বের দিকে যথেষ্ট কারণসহ দিকনির্দেশ করে। কিছুসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ সংগীতজ্ঞ, যেমন, বারবদ, নাকিস্সা এবং রামতিন, এবং তাঁদের কিছু কিছু কাজের শিরোনাম বাঁচিয়ে রাখা আছে।


[Early music গোড়ার সংগীত] যুগে সম্ভবত সমসাময়িক কিন্তু ঐতিহ্যবাহী অথবা লোকসংগীত অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, সঙ্গে [Asian music এশীয় সংগীত], পারসিক সংগীত, [music of India ভারতীয় সংগীত], [Jewish music জিউয়িশ সংগীত], [Greek music গ্রিক সংগীত], [Roman music রোমীয় সংগীত], [music of Meaopotamia মেসোপটেমিয়ার সংগীত], [music of Egypt মিশরীয় সংগীত], এবং মুসলমানি সংগীত ছিল।

গ্রিস

গ্রিক লিখিত ইতিহাস[Ancient Greece অতীত গ্রিসে] বহু আগে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, এবং এটা অতীত [Greek theatre গ্রিক নাটকের] অনেকটা অংশ জুড়ে ছিল। অতীত গ্রিসে প্রমোদানুষ্ঠান, উদযাপন এবং আধ্যাত্মিক কারণের জন্যে মহিলা-পুরুষ মিশ্র বৃন্দগান পরিবেশিত হতো। যন্ত্রসংগীতের অন্তর্ভুক্ত ছিল ডবল-রিডওয়ালা বাঁশি এবং জোরে টানা [string instrument তারের বাদ্যযন্ত্র], [lyre বীণাজাতীয় তারের বাদ্যযন্ত্র], বিশেষভাবে বিশেষ ধরনের, যাকে বলা হতো একটা কিথারা। অতীত গ্রিসে সংগীত ছিল শিক্ষা দানের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং ছেলেদের ছ-বছর বয়সকাল থেকেই সংগীতের শিক্ষা দেওয়া হতো।

বাইবেলীয় সময়কাল[সম্পাদনা]

'বীণা হাতে ডেভিড' [Paris Psalter প্যারিস স্যল্টার], ছবি: ৯৬০ খ্রি, [Constantinople কন্সতান্তিনোপল]

ম্যাথ্যু জর্জ [Easton's Bible Dictionary ইস্টনের বাইবেল ডিক্সনারি] অনুযায়ী, বাইবেলে প্রদত্ত নাম হল [Jubal জুবল], যাকে সাংগীতিক যন্ত্রের আবিষ্কর্তা বলা হয়ে থাকে (জেন. ৪ : ২১)। [Hebrews হিব্রুরা] সংগীতের সংস্কার সাধন করার জন্যে অনেক প্রয়াস চালিয়েছিল। তাদের পুরো ইতিহাস এবং সাহিত্য এব্যাপারে অনেক প্রমাণ ছেড়ে রেখে গিয়েছে। [Deluge ডিলুজের] পরবর্তীতে, [Laban লাবান] এবংইয়াকুব যে সাক্ষাতকারে সামিল হয়েছিল সেই হিসেবে প্রথম বর্ণিত বিষয় ছিল সংগীত (জেন. ৩১ : ২৭)। লোহিত সাগরের জয়োল্লাসসূচক যাত্রার পর,মোজেস এবং [children of Israel ইজরায়েলের শিশুগণ] তাদের রায় দানের গান গেয়েছিল(এক্স. ১৫)। কিন্তু স্যামুয়েল, ডেভিড, এবং সলোমন এদের সময়কাল ছিল হিব্রু সংগীতের স্বর্ণময় যুগ, যেহেতু এটার পিছনে ছিল হিব্রু কবিতা।  সেই সময়ই প্রথম নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংগীতের সংস্কারকর্ম সাধিত হয়েছিল। এটা ছিল ধর্মগুরুদের (১ সাম. ১০:৫) বিদ্যালয়ের শিক্ষাদানের অত্যাবশ্যকীয় একটা অংশ। এইভাবে অবশ্য সেখানে এক শ্রেণির পেশাদার গায়কদের উদ্ভব হয়েছিল (২ সাম. ১৯:৩৫; ইসিসিএল. ২:৮)। [ সলোমনের মন্দির], আর যাই হোক, একটা মহান সংগীতের বিদ্যালয় ছিল। ধারাবাহিকতার সঙ্গে এর পরিসেবা চালু রাখার জন্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গায়ক এবং যন্ত্রসংগীত উপস্থাপনাকারীদৈর নিয়ে গঠিত বড়ো ধরনের ঐকতান সংগীত গোষ্ঠী অব্যাহতভাবে কাজে লাগানো হোত (২ সাম. ৬:৫; ১ চর. ১৫:১৬; ২৩;৫; ২৫:১-৬)। ব্যক্তিগত জীবন যাপনেও হিব্রুদের মধ্যে সংগীত একটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করেছিল (ইসিসিএল. ২:৮; অ্যামস ৬:৪-৬; ইসা. ৫:১১, ১২; ২৪:৮, ৯; পিএস. ১৩৭; জার. ৪৮:৩৩, লুক ১৫:২৫)।[13]   



সংগীত ও নাটকের পণ্ডিতরা সেমিটিক এবং প্রথম দিকের ইহুদি-খ্রিস্টান সংস্কৃতির ইতিহাস এবং নৃবিজ্ঞান গবেষণা করে, নাটকীয় এবং সাংগীতিক কার্যকরতার একটা সাধারণ যোগাযোগও আবিষ্কার করে যে, হিব্রুদের উচ্চাঙ্গের সংস্কৃতিতেগ্রিক এবং [Roman রোমান] সংস্কৃতির সঙ্গে পরবর্তীতে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। উপস্থাপনার সাধারণ চৌহদ্দিটা দেখা যেত একটা 'সামাজিক অবস্থা যাকে বলা হোত লিটানি', এটা এক ধরনের প্রার্থনা, যাতে আছে একগুচ্ছ মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে আহ্বান এবং মিনতিসমূহদ্য জার্নাল অফ রিলিজিয়ন অ্যান্ড থিয়েটার  জানায় যে, এটা লিটানির একেবার গোড়ার যুগের ধরন, "হিব্রু লিটানির সঙ্গী ছিল একটা উন্নত পর্যায়ের সাংগীতিক ঐতিহ্য।"[4] যখন জেনেসিস ৪.২১ জুবলকে ''এই এক ধরনের তারবাজনা ও পাইপ ব্যবহারকারীদের পিতা'' হিসেবে সাব্যস্ত করে, তখন [Pentateuch পেন্টাটিউক] নামে বাইবেলীয় পাঁচটা বই ইসরায়েলের গোড়ার যুগের সংগীতের অভ্যাস ও নির্দেশ সম্বন্ধে প্রায় নীরব ছিল। সেই সময়, আই স্যামুয়েল ১০-এর মধ্যে এবং পাঠ্যতে যেটা অনুসৃত হয়, একটা কৌতূহলী ব্যাপার ঘটেছিল। ''বাইবেলীয় পাঠ্যের মধ্যে একজন দেখে'', আলফ্রেড সেন্ড্রে লেখেন, "একটা হঠাৎ এবং অব্যাখ্যাত তরঙ্গায়িত বড়ো বৃন্দগান এবং বাজনাবাদ্যিগুলো, যার মধ্যে ছিল নিবিড়ভাবে সংগঠিত এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাংগীতিক গোষ্ঠীসমূহ, যেগুলো  দীর্ঘায়িত, পদ্ধতিগত প্রস্তুতি ছাড়া, কার্যকরভাবে ধারণাতীত ছিল।" এটা কিছু পণ্ডিতকে বিশ্বাসযোগ্য করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল যে, ভাববাদী স্যামুয়েল ছিল একটা স্কুলের গোষ্ঠীপতি যেখানে শুধুমাত্র ভাববাদী এবং দিব্য মানুষদেরই শিক্ষা দেওয়া হোতনা, বরং পবিত্র আচার-অনুষ্ঠানের সংগীতজ্ঞদেরও শিক্ষা দেওয়া হোত। এই জনতার গানের বিদ্যলয়, সম্ভবত নথিভুক্ত ইতিহাসে সবচেয়ে আগের যুগের, শুধু যাজক সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলনা--যেটাতে এখন যেভাবেই হোক মেষপালক বালক ডেভিড রাজা সৌলতে চারণকবি হিসেবে দৃশ্যমান।[14]

গোড়ার সংগীত[সম্পাদনা]

 গোড়ার যুগের সংগীত হল রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর থেকে ইউরোপীয় উচ্চাঙ্গের ঐতিহ্যের সংগীত, ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে শুরু, আঠারো শতকের মাঝামাঝি বারোক যুগের সমাপ্তি পর্যন্ত চলে। বিশালতাপূর্ণ সময়ের চৌহদ্দির মধ্যবর্তী সংগীত ছিল চরমভাবে বিচ্ছিন্ন, একটা বিস্তৃত ভৌগোলিক অঞ্চলের ভিতর বহুমুখি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলোর দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল; যেটা সম্পর্কে সামান্য কিছু জানতে পারা যায় যে, মধ্যযুগের ইউরোপের সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অনেকেরই ইতিমধ্যে বিকাশপ্রাপ্ত সাংগীতিক ঐতিহ্য ছিল। যেটা মধ্যযুগে এই সংস্কৃতিসমূহকে একীভূত করেছিল তা হল রোমান ক্যাথলিক গির্জা, এবং এর সংগীত এই সময়কালের প্রথম এক হাজার বছরের জন্যে সাংগীতিক বিকাশের ক্ষেত্রে একটা কেন্দ্রী বিষয় হিসেবে অবস্থান করেছিল।

পশ্চিমি কলা সংগীত[সম্পাদনা]

মধ্যযুগীয় সংগীত[সম্পাদনা]

মধ্যযুগ সময়কালের প্রথম দিকে যখন সাংগীতিক জীবন ছিল সন্দেহাতীতভাবে উন্নত, যেমন যন্ত্রসংগীতের কলানৈপুণ্যগত প্রদর্শনের প্রমাণ, সংগীত সম্বন্ধে লেখাজোকা, এবং অন্যান্য নথিগুলো, সংগীতের একমাত্র সংগ্রহ যেটা ৮০০ খ্রিস্টাব্দের আগে থেকে বর্তমান কাল জাগিয়ে রাখাছিল, সেটা হল রোমান ক্যাথলিক গির্জার যৌথ সংগীত অনুষ্ঠান, যার বৃহদংশকে বলা হোত গ্রেগরিয়ান গান গাওয়া। পোপ গ্রেগরি ১, যিনি তাঁর নাম সাংগীতিক সংগ্রহে দিয়েছিলেন এবং সম্ভবত তিনি নিজে একজন সংগীতজ্ঞ হয়ে থাকবেন, ব্যবহারিকভাবে গির্জার অনুষ্ঠানবিধির এখনকার ধরনের সাংগীতিক অংশের সৃজনীকার হিসেবে দাবি করতে পারেন, যদিও তাঁর অবদানের তারিখ সম্বন্ধে যে বিষদ সূত্রাদি পাওয়া যায়, তাতে জানা যায় যে, এটা তাঁর মৃত্যুর একশো বছরের বেশি পরের ঘটনা। অনেক পণ্ডিত এটা বিশ্বাস করেন যে, কিংবদন্তি হিসেবে তাঁর খ্যাতিকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছিল। বেশির ভাগ গান গাওয়া সংগ্রহই গ্রেগরি এবং শার্লমাইনের মধ্যবর্তী সময়কালে সর্বসম্মতভাবে গ্রথিত করা হয়েছিল। 

নবম শতকজুড়ে সংগীতের নানা রকমের গুরুত্বপূর্ণ বিকাশগুলো জায়গা পেয়েছিল। প্রথমত, ওই যুগে গির্জার একটা বড়ো ভূমিকা ছিল অনেক ঐতিহ্যের গান গাওয়াকে ঐক্যবদ্ধ করত, এবং তাদের অনেককে প্রচার ঠেকিয়ে গ্রেগরীয় গির্জার অনুষ্ঠানবিধির পক্ষে গান গাওয়ানো হতো। দ্বিতীয়ত, সবচেয়ে অাগে বহুধ্বনিসংক্রান্ত গান গাওয়া হতো, একটা সমান্তরাল ধরনের গায়কী যাকে বলা হোত গবেষণার প্রণালী। তৃতীয়ত, এবং সংগীত ইতিহাসের জন্যে মহত্তম গুরুত্বপূর্ণ, প্রায় পাঁচশো বছর সময় গড়িয়ে যাওয়ার পর স্বরলিপি পুনরাবিষ্কৃত হয়েছিল, যদিও এটা বেশ কয়েক শতক আগেকার ব্যাপার নির্দিষ্ট সুরে বাঁধা এবং ছন্দের পদ্ধতির স্বরলিপি বিবর্তিত হয়ে সূক্ষ্ম ও নমনীয়তায় আসে যেটা আধুনিক সংগীতজ্ঞরা অনুমোদনের জন্যে গ্রহণ করে। 

১১০০ খ্রিস্টাব্দের পর নানা ধরনের বহুধ্বনিসংক্রান্ত বিদ্যালয় বিস্তৃতিলাভ করেছিল: গবেষণার প্রণালীর সেন্ট মার্শাল স্কুল, যার সংগীত প্রায়ই বিশেষীকৃত হয়েছিল একটা একক গতিশীল বাঁচিয়ে রাখার নীতি নিয়ে, বহুধ্বনিসংক্রান্ত নোটর ড্যাম স্কুল, যেখানে লিওনিন এবং পারটিন এদের মতো সংগীতজ্ঞ যুক্ত ছিলেন, এবং যেখানে ১২০০ খ্রিস্টাব্দব্যাপী প্রায় দুই অংশে প্রস্তুত হয়েছিল প্রথম সংগীত; গ্যালিসিয়াসান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলার সাংগীতিক গলন-পাত্র, তীর্থযাত্রীদের একটা গন্তব্যস্থল এবং একটা জায়গা যেখানে মধ্য যুগের শেষ দিকে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যের সংগীতজ্ঞরা একসঙ্গে আসত, যাদের সংগীত হাতে লেখা পুথিতে (কোডেক্স ক্যালিক্সটিনাস) বেঁচেছিল; এবং ইংরেজি স্কুল, যার সংগীত ওরসেস্টার ফ্র্যাগমেন্টস এবং ওল্ড হল ম্যানুস্ক্রিপ্ট হয়ে বেঁচেছিল। পবিত্র সংগীত বিদ্যালয়ের পাশাপাশি একটা সংবেদনশীল ঐতিহ্যের ধর্মনিরপক্ষ সংগীত বিকাশলাভ করেছিল, ট্রুবাদুর, ট্রুভার্স এবং মিনেস্যাঙ্গার সংগীতে উদাহরণস্বরূপ যেমন ব্যাখ্যা করা ছিল। গোড়ার দিকের পুনরভ্যুদয়ের শেষের ধর্মনিরপেক্ষ সংগীতের বেশির ভাগ বিবর্তিত ধরন, ধারণা, এবং সাংগীতিক নান্দনিক ব্যাপারগুলো ট্রুবাদুরদের থেকে আসত, ভদ্র কবিগণ এবং ভ্রমণশীল সংগীতজ্ঞরা, যাদের সংস্কৃতি ত্রয়োদশ শতকের গোড়ার দিকে অ্যালবিগেন্সীয় ধর্মযুদ্ধ চলাকলীন ভীষণভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। 



মোটেল, কন্ডাক্টাস, ডিস্ক্যান্ট এবং ক্লজুলা এই জাতীয় পবিত্র সংগীত, যে সমস্ত আকারগুলো ত্রয়োদশ শতকের শেষদিকের মধ্যেই বিকাশলাভ করেছিল। একটা অ-প্রথাগত বিকাশ ছিল গেইসলারলিয়েডার, দুটো সময়কাল চলাকালীনফ্ল্যাগেল্যান্টসের চমকানো ব্যান্ডগুলোর সংগীত: ত্রয়োদশ শতকের মধ্যকাল (গির্জার দ্বারা তাদের যখন পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখা হয়েছিল); এবং ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ চলাকালীন যে সময়কালের মধ্যে এবং অব্যবহিতভাবে কালো মৃত্যু অনুসরণ করে, যখন তাদের কার্যকরতা চমৎকার মানসচিত্রপূর্ণ অবস্থায় সংগীতের স্বরলিপির সঙ্গে নথিভুক্ত এবং ভালোভাবে দলিলবন্দি করেছিল। তাদের সংগীত অনুতাপীয় অথবা রহস্যময় কথার সঙ্গে মিশ্র লোকগীতির ধাঁচের ছিল। চতুর্দশ শতকের ইউরোপীয় সংগীত ইতিহাসের ধারা প্রভাবিত হয়েছিল আর্স নোভা থেকে, যা প্রথাগতভাবে মধ্যযুগীয় সংগীত যুগের সঙ্গে সংঘবদ্ধ হয়েছিল, এমনকি যদিও এটা গোড়ার দিকের রেনেসাঁর আদর্শ এবং নান্দনিকতার সঙ্গে অনেকটা সাধারণভাবে মিলে গিয়েছিল। সেই সময়ের বেশির ভাগ জাগরুক থাকা সংগীত ছিল ধর্মনিরপেক্ষ, এবং নিবদ্ধ ধারা ব্যবহারের প্রবণতা স্থিত হয়: বাল্লাড, ভিরেলাই, লাই, রন্দেউ, যেগুলো একই নামের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কাব্যিক আকার। এই ধারার বেশির ভাগ সংগীত ছিল এক থেকে তিন কথাযুক্ত, সম্ভাব্যভাবে এগুলো যন্ত্রানুষঙ্গে গাওয়া হতো: এঁদের মধ্যে গিলাউম দে ম্যাকাউ এবং ফ্রান্সিস্কো লানদিনি প্রমুখ স্বনামধন্য সংগীতকার যুক্ত ছিলেন।  



রেনেসাঁ সংগীত[সম্পাদনা]

সংগীতে রেনেসাঁর শুরুয়াত অন্যান্য কলাবিদ্যায় রেনেসাঁর মতো ছিলনা, এবং সংগীতের সঙ্গে মেলেনা এরকম কলাবিদ্যাগুলোতে, এটা ইতালিতে শুরু হয়নি, কিন্তু হয়েছিল ইউরোপের উত্তরাঞ্চলে, বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে সাম্প্রতিকভাবে বিন্যস্ত ফ্রান্স দেশের কেন্দ্রীয় এবং উত্তরাঞ্চল, নেদারল্যান্ড এবংবেলজিয়াম দেশে। বার্গান্ডিয়ান সংগীতজ্ঞদের ধরন, যেমন জানা যায় ফ্রাঙ্কো-ফ্লেমিশ বিদ্যালয়ের প্রথম প্রজন্মের মতো, চোদ্দো শতকের শেষ দিকের আর্স সাটিলিয়র ধরনের ভীষণভাবে জটিলতার এবং চালু আদবকায়দার বিরুদ্ধে সবচেয়ে প্রথমে প্রতিক্রিয়া ছিল, এবং এতে ছিল স্পষ্ট, গাওয়ার মতো সুরেলা আওয়াজ ও ভারসাম্যযুক্ত সবরকম স্বরের বহুধ্বনির ছোঁয়া। পনেরো শতকের মাঝামাঝি বার্গান্ডিয়ান বিদ্যালয়ের  অধিকাংশ বিখ্যাত সংগীতজ্ঞরা  হলেন গিলাউম দুফে, গিলস বিঙ্কোইস, এবং আন্তোইন বাসনই


পনেরো শতকের মাঝ বরাবর, নিচু দেশগুলো এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলো থেকে সংগীতজ্ঞ এবং গায়করা সারা ইউরোপময় ছড়িয়ে যেতে আরম্ভ করে, বিশেষত ইতালিতে, যেখানে তারা পোপের শাসনাধীন নিজস্ব গির্জা এবং কলাসমূহের জন্যে অভিজাত শ্রেণির পৃষ্ঠপোষকদের দ্বারা নিয়োজিত হতো (যেমন ছিলেন মেদিকি, এস্তে, এবং ফোর্জা পরিবারবর্গ)। তারা তাঁদের সঙ্গে নিজস্ব ধারা নিয়ে চলতেন: সাবলীল বহুধ্বনি সমন্বিত সংগীত যা প্রযুক্ত হোত পবিত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার গ্রহণযোগ্যতা অনুযায়ী। সেই সময়ের পবিত্র সংগীতের স্বরলিপির ধারাগুলো ছিল সর্বজনীন, আকর্ষণীয় এবং উচ্চগ্রাম পর্যায়ের; ধর্মনিরপেক্ষ ধারাগুলো ছিল গান, ফ্রোটোলা, এবং পরবর্তীতে প্রেমমূলক গীতিকবিতা। 

ছাপার আবিষ্কার সংগীতের ধারাগুলোর ছড়িয়ে যাওয়ার পিছনে একটা ভালোমতো প্রভাব বিস্তার করেছিল, এবং ফ্রাঙ্কো-ফ্লেমিশ সংগীতজ্ঞদের গতিধারার পাশাপাশি, কার্লম্যানের অধীনে গ্রেগরীয় গানের সম্মিলিত অবস্থান থেকে ইউরোপীয় সংগীতে বাস্তবিকপক্ষে সত্যিই প্রথম আন্তর্জাতিক ধারা প্রতিষ্ঠিত করতে অবদান রেখেছিল। ফ্রাঙ্কো-ফ্লেমিশ বিদ্যালয়ের জোহানেস ওকেগেম সমেত মধ্যম প্রজন্মের গীতিকারা, যারা অদ্ভুত ধারার জটিল সংগীত রচনা করেছিল, বিভিন্ন বুনট এবং দীর্ঘায়ত আনুশাসনিক যন্ত্রের ব্যবহারের সঙ্গে, জেকব অবরেট, পনেরো শতকের শেষ দশকগুলোতে সর্বজনীনের মধ্যে বিখ্যাত সংগীতজ্ঞদের মধ্যে একজন, এবং জসকুইন ডেস প্রেজ, প্যালেস্ত্রিনা পূর্ববর্তী ইউরোপে সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত গীতিকার, এবং ষোলো শতকের সময়কালে তিনি এতটাই বিখ্যাত ছিলেন যে, তাঁকে ওই সময়ের যেকোনো ধরনের মহত্তম শিল্পীদের একজন বলে ধরা হোত। যসকুইনের বিভিন্ন সুরের মিশ্রণে জটিল পরীক্ষানিরীক্ষার পরের প্রজন্মের সংগীত; সম্ভবত ভীষণ চূড়ান্ত অভিব্যক্তি হল নিকোলাস গম্বার্ট- এর সংগীত, যার অদ্ভুত ধারার জটিলতাগুলো গোড়ার যন্ত্রাদি সমন্বিত সংগীতের দ্বারা প্রভাবিত ছিল, যেমন, বলা যায়, ক্যাঞ্জোনা এবং রিসারকার, চূড়ান্তভাবে বারোক ফিউগাল ধারাগুলোয় উঁচু শিখরে উঠেছিল।


ভেনিসে একজন ইতালীয় সংগীতকার ক্লদিয়ো মন্তেভার্দি, বার্নাদো স্ত্রোজি অঙ্কিত, ছবি. ১৬৩০ খ্রিস্টাব্দ

ষোলো শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত, আন্তর্জাতিক সাংগীতিক ধারায় ভাঙন ধরতে শুরু করে, এবং ব্যাপকভাবে কতকগুলো বিচ্ছিন্ন ধারার প্রবণতা সামনে আসতে শুরু করে: পবিত্র সংগীতে একটা সরলীকরণের ঝোঁক দেখা যায়, যেরকম কাউন্টার-রিফর্মেশন কাউন্সিল অফ ট্রেন্ট নির্দেশিত ছিল, জিয়োভানি পিয়েরলুইগি দা প্যালেস্ত্রিনার সংগীত উদাহরণ হিসেবে প্রমাণিত ছিল; প্রেমমূলক গীতিকবিতায় সুরের আরোহ-অবরোহে জটিলতার প্রবণতা ছিল, লুজাস্কিফেরারা বিদ্যালয় এবং শতক শেষের প্রেমময় গীতিকবিতা বিশারদ কার্লো গেসুয়ালদোঅগ্রণী-পর্যায়ের ধারায় যেটা এর চূড়ান্ত অভিব্যক্তিতে পৌঁছেছিল; এবং ভেনিস দেশীয় বিদ্যালয়ের আড়ম্বরপূর্ণ উচ্চনাদী সংগীত, যেটা সান মার্কো ডি ভেনেজিয়া রাজপ্রাসাদের স্থাপত্যশিল্প ব্যবহৃত হোত একটা শব্দনৈপুণ্যের তারতম্য সৃষ্টির জন্যে।ভেনিস দেশের বিদ্যালয়ের সংগীত সুর সংযোজন বিকাশের অঙ্গীভূত ছিল, অলংকারপূর্ণ যন্ত্রানুষঙ্গের অংশ, এবং ধারাবাহিক খাদে আওয়াজের অংশ, যেসব ঘটনাগুলোর সবই ঘটেছিল ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের বিভিন্ন দশক জুড়ে। ভেনিস দেশের বিখ্যাত সংগীতকার গ্যাব্রিয়েলিস, আন্দ্রেয়া এবং জিয়োভানি ছিলেন, এছাড়াও ছিলেন ক্লদিয়ো মন্তেভার্দি, সেযুগের মহান বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সংগীত স্রষ্টাদের মধ্যে একজন।


শতকের শেষ দিকে ইউরোপের বেশির ভাগ অংশে সংগীতে কার্যকর এবং ভালো রকম বিভিন্নতার ঐতিহ্যগুলো উপলব্ধ হয়। যেমন ইংল্যান্ডে, টমাস তালিস এবং উইলিয়াম ব্যর্ড প্রমুখ সংগীতকাররা মহাদেশে পবিত্র সংগীত রচনা করেছিলেন এরকম একই ধারায়, যখন ঘরোয়াভাবে গড়ে ওঠা একটা কার্যকর প্রেমমূলক গীতিকবি গোষ্ঠী ইতালীয় ধারা থেকে নেওয়া ইংরেজ স্বাদের সংগীত অভিযোজিত করেছিল: তাঁরা হলেন টমাস মর্লি, জন উইলবাই এবং টমাস উইলকেস। স্পেন তার যান্ত্রিক এবং কণ্ঠসংগীত ধারাকে নিজের মতো বিকাশসাধন করেছিল, ঠিক প্যালেস্ত্রিনার মতো নতুন ধরনের সংগীত টমাস লুইস ডে ভিক্টোরিয়াকে দিয়ে রচনা করেছিল, এবং বহুসংখ্যক অন্যান্য সংগীতকার নতুন গিটারের জন্যে সংগীত রচনা করেছিলেন। জার্মানি প্রোটেস্ট্যান্ট স্ত্রোত্র তৈরির জন্যে বহু ধ্বনিবিশিষ্ট সংগীতের সংস্কারসাধন করেছিল, যেটা  রোমান ক্যাথলিক গ্রেগরীয় সুরের রূপান্তর ঘটিয়ে পবিত্র সংগীতের ভিত্তি হিসেবে স্থাপন করেছিল, এবং ভেনিসীয় বিদ্যালয়ের ধারা আমদানি করেছিল (যার অবস্থান সেখানে বারোক যুগের সূচনা সংজ্ঞায়িত করে)। এছাড়া, জার্মান সংগীতকাররা প্রচুর সংখ্যক অর্গান সংগীত রচনা করেন, পরবর্তীতে বারোক অর্গান ধারার ভিত্তি স্থাপনা হয়েছিল, যেটা জে এস বাখ-এর কার্যকরতায় সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছিল। ফ্রান্স মিউজিক মেসুরী নামে এক অনন্য সাংগীতিক ধারায় রচনাশৈলীর বিকাশসাধন করে, যা ধর্মনিরপেক্ষ গানে ব্যবহৃত, এই আন্দোলনে গিলাউম কোস্তেলে এবং ক্লদে লে জেউন প্রমুখ স্বনামধন্য সংগীতকার সঙ্গে ছিলেন।

ফ্লোরেন্স শহরে ষোলো শতকের সাত এবং আটের দশকে সেযুগের অনেক বৈপ্লবিক আন্দোলনের মধ্যে একটা ঘটেছিল,ফ্লোরেন্টাইন ক্যামেরাটার কাজের সঙ্গে, যিনি কঠিনভাবে একটা প্রতিক্রিয়াশীল মনোযোগের সঙ্গে লেখেন: যার সঙ্গে তারা অসন্তুষ্ট হয়ছিল এজন্যে যে, এতে সমসাময়িক সাংগীতে নৈতিক বিচ্যুতি হয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল প্রাচীন গ্রিক সংগীত পুনঃস্থাপন করা। তাদের মধ্যে প্রধান ছিলেন ভিনসেঞ্জো গ্যালিলেই, জ্যোতির্বিদের পিতা, এবং গিলিয়ো ক্যাসিনি। তাদের পরিশ্রমের ফলাফল ছিল মোনোডি নামে একটা অলংকারপূর্ণ সুতানযুক্ত গায়কী ধারা, এবং একটা সংশ্লিষ্ট মঞ্চস্থ নাটকীয় ধারা: আজকে যে ধারার নাম হল অপেরা। প্রথম অপেরাগুলো লিখিত হয়েছিল ১৬০০ খ্রিস্টাব্দ জুড়ে, অধিকন্তু এটাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল রেনেসাঁ যুগের অবসান এবং বারোক যুগের শুরুয়াত হিসেবে।

১৬০০ খ্রিস্টাব্দের আগে সংগীত ছিল সুর সংক্রান্তের চেয়ে বেশি মাত্রায় রীতি সংক্রান্ত। ষোলো শতকের শেষদিকে বিভিন্ন তাত্ত্বিক বিকাশগুলো, যেমন গিয়োসেফো জার্লিনো এবং ফ্র্যান্সিনাস গ্যাফুরিয়াস দ্বারা রীতি সংক্রান্ত মাত্রার ওপর রচনাগুলো, সাধারণ বাস্তব সুর সংক্রান্ত বিকাশে সরাসরি ধ্যান দেওয়া হোত। অধিক এবং কম মাত্রায় গির্জা রীতির ওপর প্রভাবসম্পন্ন হতে শুরু করে, একটা আদল যেটা প্রথমেই ভীষণভাবে প্রতীয়মান হয় স্বরলিপি রচনার সময় ধ্বনির উঁচুনিচু অবস্থানে, কিন্তু ক্রমান্বয়ে পরিব্যাপকরূপে পর্যবসিত হয়। ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের পরের সংগীত, বারোক যুগের সুর সংক্রান্ত সংগীতের শুরু, কখনোবা বলা হোত যে, এটা সাধারণ অভ্যাস পর্যায়

বারোক সংগীত[সম্পাদনা]

উচ্চাঙ্গ সংগীত যুগ[সম্পাদনা]

উচ্চাঙ্গ পর্যায়ের সংগীত হল একক ধ্বনিযুক্ত অঙ্গবিন্যাস দ্বারা বিশেষীকৃত সংগীত, অথবা অবশ্যই একটা সুরেলা ধ্বনির সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত। এই নতুন সুরেলা ধ্বনিগুলো প্রকৃতপক্ষে কণ্ঠস্বরের মতো এবং গাওয়া যায় এরকমভাবে ঝুঁকেছিল, সংগীতকারদেরকে মান্যতা দেওয়া হোত প্রকৃতপক্ষে গায়ক বদল করে সংগীতের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে।  ফলস্বরূপ যান্ত্রিক সংগীতে দ্রুতগতিতে অপেরা বদল হোত এবং অন্যান্য গায়কী ধারাগুলো (যেমন ওরাটোরিয়ো), যেগুলো সাংগীতিক শ্রোতৃমণ্ডলীর প্রিয় এবং মহান রচনার সংক্ষিপ্তসার। যাই হোক, অপেরা অদৃশ্য হোতনা: উচ্চঙ্গ পর্যায়ের মধ্যবর্তী সময়ে, বিভিন্ন সংগীতকার অপেরাগুলো সাধারণ জনগণের জন্যে তাদের দেশীয় ভাষায় প্রস্তুত করত (আগেকার অপেরাগুলো ছিল সাধারণত ইতালীয় ভাষায়)।

ভলফগাং অমাদেউস মোজার্ট-এর রচনাগুলো উচ্চাঙ্গ যুগের বিশেষীকৃত সংগীত।

ক্রমশ কণ্ঠস্বরের স্থানচ্যুতির পাশাপাশি দৃঢ়তর, স্পষ্টতর সুরেলা ধ্বনিগুলো, উলটোদিকেও বিশিষ্টভাবে একটা অলংকৃত উন্নত, প্রায়ই ব্যবহৃত হোত কাজ শেষ হওয়ার কাছাকাছি সময়ে অথবা একটা একক গতিতে। এর সুবিধে হল, সরল নকশাগুলো, যেমন আর্পেজিয়োস এবং পিয়ানো সংগীতে, আলবার্তি বাস (একটা পুনরাবৃত্তি নকশার সঙ্গে বাঁহাতে সঙ্গত), কোনো বাড়তি সন্দেহজনক স্বর সৃষ্টি না-করে এই গতিকে প্রাণবন্ত করার চেষ্টা করা হোত। এই নতুন জনপ্রিয় যান্ত্রিক সংগীত নানা রকম ভালো নামকরণ করে প্রভাব বিস্তার করেছিল:সোনাটা, সিম্ফনি, এবং কন্সার্টো, এখন তারা যেরকম সংগীত শাস্ত্রতে আছে, যদিও তাদের মধ্যে কোনোটাই তখন বিশেষভাবে সংজ্ঞায়িত অথব শেখানো হতোনা। তিনটের মধ্যে সবগুলোই এসেছিল [ সোনাটা ধরন] থেকে, উভয়ই একটা পুরো কাজের মধ্যে চাপা পড়ে একটা একক গতির কাঠামো থেকে উঠে এসেছিল। সারা উনিশ শতক জুড়ে প্রাথমিক যন্ত্রসাংগীতিক রচনা হয়ে ওঠার জন্যে সোনাটা উচ্চাঙ্গ সংগীত যুগের মধ্যেই সম্পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়ে উঠেছিল। 



গোড়ার দিকে উচ্চাঙ্গ সংগীতের পর্যায়ে ম্যানহেইম স্কুল সহকারী শিক্ষকের কাজ করেছিল, যেখানে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন জন স্তামিজ, ফ্রাঞ্জ জেভার রিচার, কার্ল স্তামিজ, এবং ক্রিশ্চিয়ান ক্যানাবিখ প্রমুখ। এটা জোসেফ হেডনের ওপর প্রগাঢ় প্রভাব ফেলতে সচেষ্ট হয়েছিল, এবং তাঁর মারফত বাদবাকি সারা ইউরোপীয় সংগীতের ওপরই। উল্ফগ্যাং অমাদেউস মোজার্ট উচ্চাঙ্গ সংগীত পর্যায়ের কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিল, এবং তাঁর বিস্ময়কর ও বৈচিত্রপূর্ণ সব ধরনের অবদান ওই পর্যায় সম্বন্ধে আমাদের  উপলব্ধি সংজ্ঞায়িত করে। লুদভিগ ভ্যান বীঠোভেন এবং ফ্রাঞ্জ স্কুবার্ট ছিলেন সংক্রমণগত সংগীতকার, তাঁদের চলতি ধরন, ধারা এবং এমনকি সংগীতের কাজকর্মের বিস্তৃতির সঙ্গে রোমান্টিক পর্যায়ে উচ্চ শিখরে ছিলেন।

রোমান্টিক সংগীত[সম্পাদনা]

একটা উনিশ শতকের প্রদর্শন ওয়েঙ্গার-এর অপেরা সেগফ্রায়েড থেকে শিরোনাম চরিত্র

রোমান্টিক পর্যায়ে সংগীত খুব ব্যয়বহুল এবং আবেগপ্রবণ হয়েছিল, যার বিস্তৃতি সাহিত্য, কলা এবং দর্শনে পরিবেষ্টিত হয়েছিল। প্রথম দিকের বিখ্যাত রোমান্টিক সংগীতকারগণের মধ্যে ছিলেন স্কুম্যান, কোপিন, মেন্ডেলসন, বেলিনি এবং বার্লিয়োজ। উনিশ শতকের শেষ দিকে অর্কেস্ট্রার আকারে একটা নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল, এবং ঐকতান নগর সমাজের অঙ্গ হিসেবে দেখা দিয়েছিল। শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে জোহান স্ত্রউস II, ব্রাহ্মস, লিৎস, চাইকোভস্কি, ভার্দি এবং ওয়েঙ্গার প্রমুখ বিখ্যাত সংগীতকাররা একাজে যুক্ত ছিলেন। ১৮৯০ এবং ১৯১০ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে ভোরাক, মলার, রিচার্ড স্ট্রস, পুসিনি এবং সিবেলিয়াস প্রমুখকে নিয়ে একটা  তৃতীয় সংগীতকার প্রবাহ মধ্য রোমান্টিক সংগীতকার হিসেবে কাজ করে এমনকি জটিলতর সংগীত সৃষ্টি করেছিলেন--এবং কখনো অনেকটা দীর্ঘতর--সংগীতের কাজ। উনিশ শতকের শেষ দিকের বিশেষ সংগীত নিদর্শন ছিল এর জাতীয়তাবাদী উৎসাহযুক্ত, ভোরাক, সিবেলিয়াস এবং গ্রিয়েগ প্রমুখ যেমন উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করেছিলেন। অন্যান্য বিশিষ্ট উত্তর-শতকের চেহারার মধ্যে ছিলেন সেন্ট-স্যন্স, ফয়ের, রকম্যামিনফ এবং ফ্র্যাঙ্ক।  



বিশ এবং একুশ শতকের সংগীত[সম্পাদনা]

বেতার বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করায় সংগীত শোনার ক্ষেত্রে বিশ শতক এক বিপ্লব দেখেছিল এবং একটা নতুন মাধ্যম ও সঙ্গে সংগীতকে  নথিভুক্তি, অধিগ্রহণ, পুনর্যোজন এবং বিতরণ করার কারিগরিসমূহের বিকাশ ঘটেছিল। সংগীত ভিডিয়ো এবং ঐকতানগুলো সম্প্রচার ও নথিভুক্তির সঙ্গে সংগীত সংসাধনগুলো অধিকতরভাবে দৃশ্যমান হতে শুরু করে। সব রকমের সংগীতই বেশি বেশি করে চালানযোগ্য হয়ে ওঠে। পাশাপাশি বসে একে অন্যের একদম আলাদা অথবা একই সংসাধন নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করার ক্ষেত্রে হেডফোন জনগণের কাছে স্বীকৃতি পেয়ে যায়।

বিশ শতকের সংগীত একটা নতুন স্বাধীনতা এনেছিল এবং সংগীতের নতুন ধারা ও আকার নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষানিরীক্ষা যেটা গোড়ার পর্যায়ের স্বীকৃত অনুশাসনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।  বিশ শতকের মধ্যবর্তী পর্যায়ে সাংগীতিক উচ্চনাদ এবং ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি, বিশেষত সিন্থেসাইজার আবিষ্কার, জনপ্রিয় সংগীতের বৈপ্লবিকীকরণ করেছিল এবং সংগীতের নতুন ধারার বিকাশকে ত্বরান্বিত করেছিল।



উচ্চাঙ্গ সংগীতের জন্যে দুটো মৌলিক বিদ্যালয় ওই শতকের কার্যধারা নির্ধারিত করেছিল: যাঁদের নাম পাওয়া যায় তাঁরা হলেন আর্নল্ড স্কোয়েনবার্গ এবং ইগর স্ত্রাভিনস্কি

ইউরোপের বাইরে উচ্চাঙ্গ সংগীত[সম্পাদনা]

উচ্চাঙ্গ সংগীত হল একটা ব্যাপক, মনমাতনো বৈশিষ্টপূর্ণ, ঐতিহ্যপূর্ণ কলাবিদ্যায় নিহিত অথবা প্রস্তুত সংগীতসহ, গির্জা সংক্রান্ত এবং ঐকতান সংগীত। একটা সংগীতকে উচ্চাঙ্গের বলা হয় যদি তার নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্টগুলো থাকে: একটা শিক্ষিত ঐতিহ্য, গির্জা অথবা সরকারের সমর্থন, অথবা মহত্তর সাংস্কৃতিক ঠিকানা। উচ্চাঙ্গ সংগীত আবার বিবৃত হয় যেমন জটিল, লিপিবদ্ধ, সর্বোৎকৃষ্ট এবং বিমূর্ত। বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যপূর্ণ অথবা জনপ্রিয় সংগীতের সঙ্গে উচ্চাঙ্গ ঐতিহ্যেরও সহাবস্থান ছিল, ঘটনাচক্রে হাজার হাজার বছরের জন্যে এবং একাধিক সমান্তরাল ঐতিহ্য থেকে সহমতের ভিত্তিতে ধার করা সংগীতও ছিল। 

সাহারা-সংশ্লিষ্ট আফ্রিকেয় সংগীত হল একটা শক্তিশালী ছান্দিক ঝোঁক যেটা এই বিশাল ভূখণ্ডের সব অঞ্চলেই সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো প্রদর্শন করে, সুতরাং আর্থার মরিস জোন্স (১৮৮৯-১৯৮০) বর্ণনা করেছেন যে, অনেক আঞ্চলিক অভিগমনগুলো যেমন একটা মুখ্য ধারা গঠন করে। সি কে-ও একই ধরনের প্রগাঢ় অভিগমনের সত্যতাকে সমর্থন করেছিল। পশ্চিম আফ্রিকার ছন্দোবদ্ধ কৌশলগুলো অতলান্তিকের ওপর দিয়ে জের টেনে নিয়ে গিয়েছিল, যেগুলো ছিল আমেরিকার বিভিন্ন সাংগীতিক ধারার প্রধান উপাদান: ব্রাজিলের সাম্বা, ফরো, মারাকাতু এবং কোকো, আফ্রো-কিউবীয় সংগীত এবং আফ্রো-মার্কিন সাংগীতিক রীতিগুলো, যেমন ব্লুজ, জ্যাজ, রিদম অ্যান্ড ব্লুজ, ফাঙ্ক, সোল, রেগি, হিপ হপ এবং রক অ্যান্ড রোল, যার ফলে বিশ শতকে এগুলোর অপরিমেয় তাৎপর্য ছিল।



বাইজান্টিয়াম[সম্পাদনা]

বাইজান্টিনীয় সংগীত (গ্রিক: Βυζαντινή Μουσική) হল বাইজান্টিনীয় সাম্রাজ্যের সংগীত যা গ্রিক পাঠ্যাংশসমূহকে আনুষ্ঠানিকভাবে, উৎসব অথবা গির্জা সংগীত হিসেবে রচনা করা হয়। গ্রিক এবং বৈদেশিক ঐতিহাসিকরা সহমত হয়েছিলেন যে, গির্জা সংক্রান্ত সুরগুলো এবং সাধারণভাবে বাইজান্টিনীয় সংগীতের পুরো পদ্ধতি প্রাচীন গ্রিক পদ্ধতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এটা প্রাচীনতম ধরন যেটা আজো বর্তমান, যা থেকে প্রদর্শনের রীতি এবং (পাঁচ শতকের পর থেকে বাড়ন্ত সঠিকতার সঙ্গ) সংগীতকারদের নাম, এবং কখনো কখনো এক-একটা বিশেষ সাংগীতিক কাজের পরিস্থিতিতে জানতে পারা যায়। 

এশিয়া[সম্পাদনা]

আরব, মধ্য এশিয়া, পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার সাংগীত সংস্কৃতি জুড়ে এশীয় সংগীতের অবস্থান।

ভারত[সম্পাদনা]

ভারতীয় সংগীত হল বিশ্বের প্রাচীনতম সাংগীতিক ঐতিহ্যগুলোর মধ্যে একটা।[15সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতার স্থাপত্য শিল্পের যে নিদর্শন পাওয়া যায় তাতে নৃত্যশৈলী [16] এবং সাংগীতিক যন্ত্রপাতি দেখা যায় (তার মধ্যে কয়েকটা দীর্ঘকাল ব্যবহার হয়না), যেমন সাত ছেঁদাওয়ালা বাঁশি। হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো থেকে স্যার মর্তাইমার হুইলার[17] দ্বারা খননকার্য চালানোর সময় বিভিন্ন ধরনের তারের যন্ত্রাদি এবং আনদ্ধ তালবাদ্য উদ্ধার করা গিয়েছিল। ঋগ্বেদ বর্তমান ভারতীয় সংগীতের আকর গ্রন্থ, ছন্দ এবং গায়কীর ঢঙের সঙ্গে সাংগীতিক স্বরলিপি লেখা হোত।[18] গোড়ার যুগের ভারতীয় সংগীত ঐতিহ্য বলছে তিনটে উচ্চারণ ভঙ্গি এবং কণ্ঠ সংগীত যেটা 'সামগান' নামে পরিচিত ('সাম' অর্থে সুর আর 'গান' অর্থে গাওয়া)।[19] ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীতের ঐতিহ্য দুটো মূল ধারায় বহমান: দক্ষিণ ভারভীয় কর্ণাটকী সংগীত এবং উত্তর ভারতীয় হিন্দুস্থানী উচ্চাঙ্গ সংগীত। ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীতের ঐতিহ্য হাজারো বছরের দীর্ঘতম এবং ভারতীয়দের জীবনে একটা ধর্মীয় উৎসাহের উৎস, সাংস্কৃতিক বহিঃপ্রকাশ এবং প্রমোদের ক্ষেত্রে আজো সমান গুরুত্বপূর্ণ।



ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীত (মার্গ) হল এককধ্বনিবিশিষ্ট, এবং একটা একক সুরপ্রবাহে নিবদ্ধ অথব রাগ ছন্দোবদ্ধভাবে তাল সহযোগে সংগঠিত। কর্ণাটকী সংগীত হল ভীষণভাবে ভক্তিমূলক; অধিকাংশ গানই হিন্দু দেবদেবীদেরকে উদ্দশ্য করে গাওয়া। বেশির ভাগ গানে ভালোবাসা এবং অন্যান্য সামাজিক বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হোত। কর্ণাটকী সংগীতের বিপরীতে, হিন্দুস্থানী সংগীত শুধুমাত্র প্রাচীন হিন্দু সাংগীতিক ঐতিহ্যের দ্বারা প্রভাবিত হোতনা, বৈদিক দর্শন এবং ভারত দেশীয় ধ্বনিগুলো কিন্তু আফগান মুঘলদের পারসিক প্রদর্শন অভ্যাস দ্বারাও প্রভাবিত হোত। ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীতের উৎস দেখা গিয়েছিল প্রাচীনতম শিলালিপিগুলো থেকে, হিন্দু ঐতিহ্যের অংশ, বেদ, সামবেদ, চারটে বেদের মধ্যে একটায় সংগীত বিশদে বর্ণনা করা হোত।

চিন[সম্পাদনা]

চিনা উচ্চাঙ্গ সংগীত হল চিনের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা অথবা রাজসভার সংগীত। তিন হাজারের বেশি সময় ধরে প্রসারিত হওয়া এর একটা লম্বা ইতিহাস আছে। চিনের নিজস্ব অদ্বিতীয় সাংগীতিক স্বরলিপির রীতিগুলো, এর সঙ্গে নিজস্ব তান এবং ধ্বনির মাত্রা, যন্ত্রসংগীতসমূহ এবং রীতি অথবা সাংগীতিক ধরনগুলো আছে। চিনা সংগীত হল বহুধ্বনি-দ্বিধনিযুক্ত, যেখানে অষ্টকে বারো মাত্রার স্বরলিপি আছে (5+7=12) যেমন  ইউরোপীয়-প্রভাবিত সংগীতে করা হয়ছে।

মধ্য এশিয়া[সম্পাদনা]

পারস্য[সম্পাদনা]

প্রাচীন ইরানিরা মহান গুরুত্বের সঙ্গে সংগীত এবং কবিতায় যুক্ত ছিল। সপ্তম শতকের ফলকে সাসানিদ যুগের সংগীতকারদের দেখা যাচ্ছে। দ্য ব্রিটিশ মিউজিয়াম

পারসিক সংগীত হল পারস্য এবং পারসিক ভাষাভাষি দেশগুলোর সংগীত: মিউজিকি, সংগীতের বিজ্ঞান ও কলাবিদ্যা, এবং মিউজিক, সংগীতের আওয়াজ এবং প্রদর্শন ([ সাকাতা ১৯৮৩])। দেখুন: মিউজিক অফ ইরান, মিউজিক অফ আফগানিস্তান, মিউজিক অফ তাজিকিস্তান, মিউজিক অফ উজবেকিস্তান। 

নমুনাসমূহ[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

উৎসসমূহ[সম্পাদনা]