শ্রী মহিলা গৃহ উদ্যোগ লিজ্জত পাঁপড়
| ধরন | কর্মী সমবায় |
|---|---|
| শিল্প | পাঁপড় সাবান এবং ডিটারজেন্ট বেকারি পণ্য মসলা ময়দা |
| প্রতিষ্ঠাকাল | ১৫ মার্চ ১৯৫৯ |
| প্রতিষ্ঠাতা | যশয়ান্তিবেন জমনাদাস, পার্বতীবেন রামদাস থোদানি, উজামবেন নারান্দাস কুন্ডালিয়া, বানুবেন। এন. তান্না, লাগুবেন অমৃতলাল গোকানি, জয়াবেন ভি. বিথালানি, দিওয়ালিবেন লুক্কা |
| সদরদপ্তর | , |
বাণিজ্য অঞ্চল | ভারত এবং অন্যান্য ২৫টি দেশে |
প্রধান ব্যক্তি | স্বাতী পারাদকার, সভাপতি |
| আয় | |
কর্মীসংখ্যা | ৪৫০০০ (মে ২০২১)[৩] |
| ওয়েবসাইট | www.lijjat.com |
শ্রী মহিলা গৃহ শিল্প লিজ্জত পাঁপড যা লিজ্জত নামে পরিচিত, একটি ভারতীয় মহিলা শ্রমিক সমবায় যারা বিভিন্ন দ্রুত বিক্রি হওয়া ভোগ্যপণ্য তৈরিতে জড়িত। এই সংস্থার মূল লক্ষ্য হল নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়ন করা। ১৯৫৯ সালে মুম্বাইয়ের সাতজন গুজরাটি মহিলা মাত্র ৮০ টাকা (মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ৬,৮০০ টাকা ) (আজকের টাকায় ৮০ ডলার) মূলধন দিয়ে শুরু করেছিলেন, ২০১৯ সালে এর বার্ষিক টার্নওভার ছিল ১৬০০ কোটি টাকারও বেশি (২২৪ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি)।[৪] এটি সারা দেশে ৪৫,০০০ (২০২১ সালে) নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে।[৫]
লিজ্জত পাঁপড় শহরাঞ্চলে একটি কুটির শিল্প হিসেবে শুরু হয়েছিল, কিন্তু এটি গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে।[৬] এটিকে ভারতে নারীর ক্ষমতায়নের সাথে চিহ্নিত নারী উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলির মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাঁপড়ের মানসম্মতকরণের কারণে, সারা ভারতে ৪৫,০০০ লিজ্জত বোনেরা একই স্বাদের ৪.৮ বিলিয়ন পাপড় তৈরি করেছেন।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]লিজ্জত শুরু করেছিলেন মুম্বাইয়ের সাতজন গুজরাটি মহিলা। মহিলারা গিরগাঁওয়ের লোহানা নিবাসে থাকতেন, এটি পাঁচটি ভবনের একটি গুচ্ছ। তাঁরা তাঁদের একমাত্র দক্ষতা, অর্থাৎ রান্না ব্যবহার করে দীর্ঘস্থায়ীভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি উদ্যোগ শুরু করতে চেয়েছিলেন। এই সাত মহিলা হলেন যশবন্তীবেন জমনাদাস পোপট, পার্বতীবেন রামদাস থোদানি, উজামবেন নারান্দাস কুণ্ডলিয়া, বানুবেন এন তান্না, লাগুবেন অমৃতলাল গোকানি, জয়াবেন ভি বিথালানি, এবং দিওয়ালিবেন লুক্কা।[৭][৮]
মহিলারা সার্ভেন্টস অফ ইণ্ডিয়া সোসাইটির সদস্য এবং একজন সমাজকর্মী ছগনলাল করমসি পারেখের কাছ থেকে ৮০ টাকা ধার নিয়েছিলেন।[৮] তাঁরা লক্ষ্মীদাস ভাইয়ের[৯] লোকসানে চলা পাঁপড় তৈরির একটি উদ্যোগ অধিগ্রহণ করেন এবং পাঁপড় তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও মৌলিক অবকাঠামো কিনে নেন। ১৯৫৯ সালের ১৫ই মার্চ, তাঁরা তাদের ভবনের বারান্দায় জড়ো হয়ে প্রথম ৪ প্যাকেট পাপড় উৎপাদন করেন।[১০] তাঁরা ভুলেশ্বরের এক পরিচিত ব্যবসায়ীর কাছে পাঁপড় বিক্রি শুরু করেন। শুরু থেকেই, মহিলারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে যদি সংগঠনের ব্যবসায় ক্ষতিও হয় তবুও তাঁরা কারও কাছে অনুদান বা সাহায্যের জন্য যাবেন না।[১১]
ছাগনবাপা নামে পরিচিত ছগনলাল পারেখ তাঁদের পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠেন।[৬] প্রাথমিকভাবে, মহিলারা দুটি ভিন্ন মানের পাঁপড় তৈরি করছিলেন, নিম্নমানের পাঁপড়টি কম দামে বিক্রি করার জন্য। ছগনবাপা তাঁদের একটি মানসম্মত পাপড় তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং মানের সাথে কখনও আপস না করতে বলেছিলেন। তিনি তাঁদের কাছে এটিকে একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ হিসেবে পরিচালনার গুরুত্ব এবং সঠিক হিসাব রক্ষণের গুরুত্বের উপর জোর দেন।
লিজ্জত একটি সমবায় ব্যবস্থা হিসেবে প্রসারিত হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে, এমনকি বালিকারাও যোগ দিতে পারত, কিন্তু পরে প্রবেশের ন্যূনতম বয়স আঠারো নির্ধারণ করা হয়। তিন মাসের মধ্যে প্রায় ২৫ জন মহিলা পাঁপড় তৈরি করতে শুরু করলেন। শীঘ্রই মহিলারা ব্যবসার জন্য বাসনপত্র, যেমন আলমারি, উনুন ইত্যাদি কিছু সরঞ্জাম কিনে ফেললেন। প্রথম বছরে, প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বিক্রয় ছিল ৬১৯৬ টাকা।[১২] ভাঙা পাঁপড়গুলো প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল।[৯]
প্রথম বছর, বর্ষাকালে মহিলাদের চার মাস উৎপাদন বন্ধ রাখতে হত কারণ বৃষ্টির ফলে পাঁপড় শুকোনো যেত না।[৬] পরের বছর, তাঁরা একটি খাট এবং একটি উনুন কিনে সমস্যার সমাধান করেন। পাঁপড়গুলো খাটের ওপর রেখে খাটের নিচে জ্বলন্ত উনুন রাখা হত যাতে বৃষ্টির মধ্যেও শুকানোর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যায়।[৮]
মুখে মুখে এবং স্থানীয় সংবাদপত্রের লেখার মাধ্যমে দলটি যথেষ্ট প্রচার পেয়েছিল। এই প্রচারণা এঁদের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে। গঠনের দ্বিতীয় বছরে, ১০০ থেকে ১৫০ জন মহিলা এই দলে যোগ দিয়েছিলেন এবং তৃতীয় বছরের শেষে এর সদস্য সংখ্যা ৩০০ জনেরও বেশি হয়ে যায়।[৮] এই সময়ের মধ্যে, এঁদের ছাদে সদস্যদের কাজ করার এবং উপকরণ রাখার জায়গা হচ্ছিল না। তাই মাখা মণ্ড সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল, তাঁরা এটি নিজেদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পাঁপড় তৈরি করতেন।[৬] পাঁপড়গুলো ওজন ও প্যাকেজিংয়ের জন্য ফিরিয়ে আনা হত।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- আমুল
- ভারতে সমবায় আন্দোলন
- খাদি
- খাদি ও গ্রামোদ্যোগ কমিশন
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Meet 7 Indian women who run Rs 1600 crore business empire with 42,000 employees, started with Rs 80, all are homemakers"। DNA India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২৪।
- ↑ "Lijjat Papad: How seven women came together to create an iconic brand of taste, trust, and quality with just Rs 80 initial capital"। Financialexpress (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২৪।
- ↑ "Home > Organisation > About Us"। ১৮ মে ২০২১। ৮ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "Shri Mahila Griha Udyog Lijjat Papad - Overview, News & Similar companies | ZoomInfo.com"। ZoomInfo (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "The amazing Lijjat Papad story: from Rs 80 to Rs 800 crore"। Yahoo Finance। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৮।
- 1 2 3 4 Surekha Kadapa-Bose। "A model of modern development" (পিডিএফ)। The tmtc Journal of Management। ৬ জানুয়ারি ২০০৭ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০০৭।
- ↑ "ગૃહિણીઓ દ્વારા, ગૃહિણીઓ માટે ગૃહિણીઓને રોજગાર આપતો ગૃહઉદ્યોગ લાજવાબ લિજ્જત"। Gujarati Mid-day (গুজরাটি ভাষায়)। ৩১ জানুয়ারি ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
- 1 2 3 4 "Successful Women Entrepreneurs: Shri Mahila Griha Udyog Lijjat Papad (Lijjat)"। ICFAI Center for Management Research। ৩ অক্টোবর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০২১।
- 1 2 Malathi Ramanathan। "Grassroots Developments in Women's Empowerment in India: Case Study of Shri Mahila Griha Udyog Lijjat Papad (1959–2000)" (পিডিএফ)। ১৫ মার্চ ২০০৭ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০০৭।
- ↑ "organization – The Beginning"। Lijjat। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৬।
- ↑ "Queens of PAPADom"। The Times of India। ৬ ডিসেম্বর ২০০১। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০০৭।
- ↑ Deepti Bhatnagar (IIM-A), Animesh Rathore ((IIM-A)), Magüi Moreno Torres (World Bank), Parameeta Kanungo (World Bank).। "Empowering Women in Urban India: Shri Mahila Griha Udyog Lijjat Papad"। The tmtc Journal of Management। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০০৭।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)