শ্বেতাগোঁন মহাচৈত্য
| শ্বেতাগোঁন মহাচৈত্য | |
|---|---|
ရွှေတိဂုံစေတီတော် | |
| ধর্ম | |
| অন্তর্ভুক্তি | বৌদ্ধধর্ম |
| ফেরকা | থেরবাদ |
| অঞ্চল | ইয়াঙ্গুন অঞ্চল |
| উৎসব | শ্বেতাগোঁন মহাচৈত্য উৎসব ( তপোঙ) |
| পরিচালনা সংস্থা | শ্বেতাগোঁন মহাচৈত্যর ট্রাস্টি বোর্ড |
| অবস্থা | সক্রিয় |
| অবস্থান | |
| পৌরসভা | ইয়াঙ্গুন |
| দেশ | মিয়ানমার |
| স্থানাঙ্ক | ১৬°৪৭′৫৪″ উত্তর ৯৬°০৮′৫৯″ পূর্ব / ১৬.৭৯৮৩৫৪° উত্তর ৯৬.১৪৯৭০৫° পূর্ব |
| স্থাপত্য | |
| সম্পূর্ণ হয় | 1362–63 (অথবা তার আগে) 1462 1775 |
| বিনির্দেশ | |
| উচ্চতা (সর্বোচ্চ) | ৯৯ মি (৩২৫ ফু)[১] |
| মোচাকার চূড়ার উচ্চতা | ১১২ মি (৩৬৭ ফু)[১] |
| ওয়েবসাইট | |
| www | |
শ্বেতাগোঁন মহাচৈত্য (বর্মী: ရွှေတိဂုံဘုရား, MLCTS (মিয়ানমার ভাষা কমিশন লিপ্যন্তরন পদ্ধতি): shwe ti. gon bhu. ra:, IPA: [ʃwèdəɡòʊɰ̃ pʰəjá]; মোন: ကျာ်ဒဂုၚ်), যার সরকারি নাম Shwedagon Zedi Taw বা শ্বেতাগোঁন জ়েদি তও (বর্মী: ရွှေတိဂုံစေတီတော်, [ʃwèdəɡòʊɰ̃ zèdìdɔ̀], আক্ষরিক অর্থে ‘স্বর্ণ তাগোঁন চৈত্য’), এবং যা মহান তাগোঁন চৈত্য বা স্বর্ণচৈত্য নামেও পরিচিত, এটি মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন নগরে অবস্থিত এক স্বর্ণমণ্ডিত বৌদ্ধস্তূপ।
শ্বেতাগোঁন মহাচৈত্য মিয়ানমারের সর্বাধিক পবিত্র বৌদ্ধ চৈত্য, কারণ প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী এতে বর্তমান কল্পের চারজন অতীত বুদ্ধের ধাতু-অবশেষ অবস্থিত। এই ধাতুগুলির মধ্যে রয়েছে ক্রকুচ্ছন্দ বুদ্ধের দণ্ড, কনকমুনি বুদ্ধের জলছাঁকনি, কাশ্যপ বুদ্ধের বস্ত্রের একটি অংশ, এবং গৌতম বুদ্ধের মস্তক থেকে নেওয়া আটটি কেশরাশি।[২]
৫১ মিটার (১৬৭ ফুট) উচ্চ সিঙ্গুত্তর পর্বতের ওপর নির্মিত, ১১২ মিটার (৩৬৭ ফুট) উঁচু এই চৈত্য সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭০ মিটার (৫৬০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত, এবং ইয়াঙ্গুন নগরের আকাশরেখায় এটি প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। ইয়াঙ্গুন নগরের অঞ্চলবিন্যাস বিধি অনুযায়ী ভবনের সর্বোচ্চ উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২৭ মিটার (৪১৭ ফুট) — অর্থাৎ চৈত্যটির উচ্চতার ৭৫ শতাংশ — নির্ধারিত হয়েছে, যাতে শ্বেতাগোঁন মহাচৈত্য নগরের আকাশরেখায় তার প্রাধান্য বজায় রাখতে পারে।[৩]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]

জনশ্রুতি অনুসারে, শ্বেতাগোঁন মহাচৈত্য নির্মিত হয়েছিল প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে — যখন বুদ্ধ তখনও জীবিত ছিলেন — ফলে এটি বিশ্বের প্রাচীনতম বৌদ্ধ স্তূপ হিসেবে বিবেচিত হয়।[৪] বুদ্ধবংশ অনুসারে, উক্কলাজনপদের দুই বণিক, তপুস্স এবং ভল্লিক, বোধগয়ার মধ্য দিয়ে যাত্রাকালে বুদ্ধের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সময় বুদ্ধ রাজায়তন বৃক্ষের নিচে বসে সদ্যপ্রাপ্ত বুদ্ধত্বের আনন্দে নিমগ্ন ছিলেন। তিনি তাঁদের প্রদত্ত চিড়ের পিঠা ও মধুগ্রহণ করেন এবং প্রতিদানে তাঁদের কিছু ধর্মাদেশনা প্রদান করেন। এভাবে, তাঁরা বুদ্ধের ধর্মাশ্রয় গ্রহণকারী প্রথম গার্হস্থ শিষ্য হন।[৫] [৬] [৭] বুদ্ধ ঐ দুই বণিককে তাঁর মস্তক থেকে আটটি কেশরাশি প্রদান করেন এবং সেই ধাতুগুলি সংরক্ষণের জন্য একটি স্তূপ নির্মাণের নির্দেশ দেন।[৬] বণিকরা দাগনের রাজা ওক্কালাপাকে আটটি চুলের সুতা উপহার দিয়েছিলেন, যিনি বর্তমান মায়ানমারের সিঙ্গুত্তারা পাহাড়ের একটি স্তূপে পূর্ববর্তী তিন বুদ্ধের ( কাকুসন্ধ, কোনাগমন এবং কাসাপা ) কিছু ধ্বংসাবশেষ সহ এই সুতাগুলি স্থাপন করেছিলেন। [৮]
রাজকীয় ইতিহাসে প্যাগোডার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৩৬২/৬৩ খ্রিস্টাব্দে (৭২৪ খ্রিষ্টাব্দ ) যখন মার্তাবান-হানথাওয়াদ্দির রাজা বিন্ন্যা ইউ প্যাগোডাটিকে ১৮ মিটার (৫৯ ফুট) । সমসাময়িক শিলালিপির প্রমাণ, হান্তাবাদির রাজা ধম্মাজেদির (শাসনকাল ১৪৭১-১৪৯২) রাজত্বকালের শ্বেদাগন প্যাগোডা শিলালিপিতে ১৪৩৬ সাল থেকে প্যাগোডার মেরামতের একটি তালিকা দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে, রানী শিন স পু (শাসনকাল ১৪৫৪-১৪৭১) এর উচ্চতা ৪০ মিটার (১৩০ ফুট), এবং নতুন কাঠামোটি সোনালী করে মোড়ানো। ষোড়শ শতাব্দীর শুরুতে, শ্বেদাগন প্যাগোডা বার্মার সবচেয়ে বিখ্যাত বৌদ্ধ তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছিল। [৯]
পরবর্তী শতাব্দীগুলিতে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের ফলে ক্ষতি হয়েছে। ১৭৬৮ সালের ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল স্তূপের চূড়া ভেঙে পড়ে, কিন্তু রাজা সিনবিউশিন ১৭৭৫ সালে এটিকে বর্তমান উচ্চতা ৯৯ মিটার (৩২৫ ফুট) সেলসিয়াসে উন্নীত করেন। ( hti (মুকুট ছাতা) এর উচ্চতা গণনা না করে)। ব্রিটিশদের দ্বারা নিম্ন বার্মা দখলের প্রায় দুই দশক পর, ১৮৭১ সালে রাজা মিন্ডন একটি নতুন হিটি দান করেছিলেন। ১৯৭০ সালের অক্টোবরে একটি মাঝারি ভূমিকম্পের ফলে এইচটিআই -এর খাদটি সারিবদ্ধভাবে বিকল হয়ে পড়েছিল; সমস্যাটি সমাধানের জন্য ব্যাপক মেরামতের প্রয়োজন ছিল।
দেশের বৃহত্তম প্যাগোডা উৎসব, শ্বেদাগন প্যাগোডা উৎসব, ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ ক্যালেন্ডারে তাবাউং মাসের অমাবস্যায় শুরু হয় এবং পূর্ণিমা পর্যন্ত চলতে থাকে। [১০] এই প্যাগোডাটি ইয়াঙ্গুন শহরের ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Ministry of Religious Affairs and Culture, Myanmar (৬ ডিসেম্বর ২০১৮)। "Shwedagon Pagoda on Singuttara Hill"। UNESCO।
- ↑ Tan, Heidi (২৯ জুলাই ২০১৬)। "Curating the Shwedagon Pagoda Museum in Myanmar"। Buddhistdoor Global। ২৪ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০১৯।
- ↑ "Striking a balance: New housing and office projects are changing the landscape of cities"। Oxford Business Group। ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০২৩।
- ↑ Hmannan Yazawin। Royal Historical Commission of Burma। ১৮৩২।
- ↑ Goldberg, Kory; Decary, Michele (২০১৩)। Along the Path: The Meditator's Companion to Pilgrimage in the Buddha's India and Nepal (2nd সংস্করণ)। Pariyatti Press। পৃ. ১২৫। আইএসবিএন ৯৭৮-১৯৩৮৭৫৪৫৮৬।
- 1 2 Strong, John S. (২০০৪)। Relics of the Buddha। Princeton University Press। পৃ. ৭৩–৭৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০৬৯১১১৭৬৪৫।
- ↑ Sayadaw, Mingun (২০০৮)। "The Buddha's stay at the Seven Places"। The Great Chronicle of Buddhas (পিডিএফ) (Singapore সংস্করণ)। পৃ. ৩৪৭।
- ↑ "Shwedagon Pagoda | History of the gold plated diamond studded Yangon Pagoda"। Renown Travel। ৩০ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০১৯।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;Hall1960নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;mizzনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি