শোগুন
শোগুন (将軍 shōgun, ইংরেজি: /ˈʃoʊ.ɡʌn/ SHOH-gun,[১] জাপানি: [ɕoː.ɡɯɴ, -ŋɯɴ] [২]) জাপানের সামরিক শাসকদের উপাধি ছিল, যা মূলত ১১৮৫ সাল থেকে ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ সময়জুড়ে জাপান শাসনকারী সামরিক শাসকদের জন্য ব্যবহৃত হতো।[৩] সরকারি পরিভাষায় এটি সেই-ই তাইশোগুন (征夷大将軍, জাপানি: [seꜜi.i | tai.ɕo(ꜜ)ː.ɡɯɴ, seꜜː-, -ŋɯɴ][২] আক্ষ. 'বিদেশী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোজন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক')[৪] হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
শোগুনরা সর্বদাই সাম্রাজ্যের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হতো। তবে শোগুনরা সাধারণত দেশের প্রকৃত শাসক ছিলেন এবং সম্রাট কেবল স্বর্গীয় প্রতিনিধি হিসেবে প্রতীকী ক্ষমতা ভোগ করতেন।[৫] তবে কামাকুরা যুগ এবং সেনগোকু যুগের কিছু সময়ে শোগুনরা কেবল প্রতীকী নেতৃত্বে ছিলেন এবং বাস্তব ক্ষমতা হোজো গোত্রের শিক্কেন (執権) ও হোসোকাওয়া গোত্রের কানরের (管領) হাতে সীমাবদ্ধ ছিল। এছাড়া তাইরানো কিওমোরি ও তোওতোমি হিদেয়োশি যোদ্ধা শ্রেণির নেতা হলেও শোগুনের পদটি ধরে রাখতে পারেননি, যা যোদ্ধা শ্রেণির জন্য সর্বোচ্চ পদ ছিল। [৬][৭][৮]
শোগুন পদটি মূলত পিতৃতান্ত্রিক হলেও জাপানের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিবার বা বংশের লোকেরা এই পদটি ধারণ করেছিল। এই পদটি প্রথমে হেইয়ান যুগে (৮ম ও ৯ম শতকে) সামরিক কমান্ডারদের জন্য প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু ১১৮৫ সালে মিনামতো নো ইয়োরিতোমো জাপানের উপর রাজনৈতিক কর্তৃক অর্জন করলে নিজের অবস্থানকে বৈধ ও শক্তিশালী করার জন্য এই শোগুন উপাধি পুনঃস্থাপন করা হয়। এভাবেই তিনি সাধারণ অর্থে প্রথম নারী শোগুন হন।
এটি প্রায় বলা হয় যে, শোগুন হতে হলে মিনামোতো বংশের হতে হবে, কিন্তু তা সত্য নয়। মিনামোতো বংশকে শোগুনের পদে বসার জন্য উপযুক্ত একটি সম্মানিত বংশ হিসেবে দেখা হলেও কামাকুরা শোগুনাতের চতুর্থ ও পঞ্চম শোগুন ফুজিওয়ারা বংশের ছিলেন (যদিও তাদের মা মিনামোতো বংশের ছিলেন) এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শোগুনরা সম্রাটীয় বংশের ছিলেন। ওদা নোবুনাগাকে শোগুনের পদে আসীন হওয়ার জন্য তার মৃত্যুর এক মাস আগে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি নিজেকে তাইরা বংশের বংশধর দাবি করতেন।[৯][১০][১১]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Wells, John (৩ এপ্রিল ২০০৮)। Longman Pronunciation Dictionary (3rd সংস্করণ)। Pearson Longman। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০৫৮-৮১১৮-০।
- 1 2 NHK Broadcasting Culture Research Institute, সম্পাদক (২৪ মে ২০১৬)। NHK日本語発音アクセント新辞典 (জাপানি ভাষায়)। NHK Publishing।
- ↑ Spafford, D. "Emperor and Shogun, Pope and King: The Development of Japan's Warrior Aristocracy." Bulletin of the Detroit Institute of Arts, Vol. 88, No. 1/4, (2014), pp. 10–19.
- ↑ The Modern Reader's Japanese-English Character Dictionary, আইএসবিএন ০-৮০৪৮-০৪০৮-৭
- ↑ "Shogun"। Encyclopædia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৪।
- ↑ 平氏政権の登場 (পিডিএফ) (জাপানি ভাষায়)। NHK। ১৪ মার্চ ২০২৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মার্চ ২০২৪।
- ↑ 豊臣秀吉はなぜ「征夷大将軍」ではなく「関白」になったのか――秀吉をめぐる「三つのなぜ」 (জাপানি ভাষায়)। The Asahi Shimbun। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩। ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
- ↑ 秀吉はなぜ征夷大将軍ではなく、関白を選んだか (জাপানি ভাষায়)। Nikkei Business। ১৪ জানুয়ারি ২০১৭। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
- ↑ 豊臣体制の解体へと家康が利用した「征夷大将軍」という権威 (জাপানি ভাষায়)। nippon.com। ১৯ নভেম্বর ২০২৩। ৬ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২৪।
- ↑ 5分でわかる征夷大将軍!主な将軍一覧、源氏しかなれない説などを簡単に紹介 (জাপানি ভাষায়)। Honcierge। ১১ ডিসেম্বর ২০২১। ৯ জুন ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২৪।
- ↑ 織田信長 (জাপানি ভাষায়)। Japan Knowledge। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০২৪।