বিষয়বস্তুতে চলুন

শেরগাজিখান মাদ্রাসা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শেরগাজি খান মাদ্রাসা
সাধারণ তথ্যাবলী
স্থাপত্যশৈলীমধ্য এশীয় স্থাপত্য
ঠিকানা২৩, পহলভান মাহমুদ স্ট্রিট, ইচান কালা, খিভা, খোয়ারেজম প্রদেশ, উজবেকিস্তান
নির্মাণের বছর১৭১৯-১৭২৬
স্বত্বাধিকারীরাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য[]
কারিগরি বিবরণ
উপাদানইট
তলার সংখ্যা

শেরগাজি খান মাদ্রাসা হলো খিভায় অবস্থিত একটি স্থাপত্য স্মৃতিসৌধ (১৭১৯-১৭২৬)। এটি ইচান কালার অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। ঐতিহাসিক সূত্র অনুসারে, উজবেক শাসক শেরগাজি খানের (শির গাজী খান) অর্থায়ন ও আদেশে ১৭১৯ থেকে ১৭২৬ সালের মধ্যে এটি নির্মিত হয়। মাদ্রাসাটি ইচান কালার কেন্দ্রে, পহলভান মাহমুদ কমপ্লেক্সের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত। শেরগাজি খানের বৃহত্তর খোরাসান অভিযানের সময় এই স্থাপনাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। খানের মৃতদেহ মাদ্রাসার পশ্চিম দিকে নির্মিত একটি ছোট কক্ষে সমাধিস্থ করা হয়েছে।

স্থাপত্য

[সম্পাদনা]

মাদ্রাসার মূল ভবনগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত। মাদ্রাসাটি দুই তলা বিশিষ্ট। একটি বিশাল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে গম্বুজাকৃতির 'মিয়নসরায়' বা প্রবেশকক্ষ দেখা যায়। এর দুই কোণে একটি গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ এবং একটি শ্রেণীকক্ষ অবস্থিত। মিয়নসরায়ের ওপরের ছোট কক্ষগুলো শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য ব্যবহৃত হতো। কক্ষের দেওয়ালে তাক এবং কুলুঙ্গি তৈরি করা হয়েছে। আঙিনার চারপাশের একতলা কক্ষগুলোর সামনে বারান্দা বা আইভান রয়েছে এবং আঙিনার মাঝখানে একটি ছোট জলাধার আছে। মাদ্রাসায় মোট হুজরা বা কক্ষের সংখ্যা ৫৫টি। মাদ্রাসার মূল অলঙ্করণগুলো বর্তমানে আর সংরক্ষিত নেই। সম্মুখভাগটি কালো পাথর দিয়ে তৈরি এবং আঙিনার দেওয়ালগুলো বিশেষ নির্মাণ সামগ্রী দ্বারা আচ্ছাদিত। সম্মুখভাগের একমাত্র অলঙ্করণ বলতে জানালায় খোদাই করা রেলিংগুলো অবশিষ্ট আছে। এর ভিত্তিগুলো ইট দিয়ে তৈরি এবং সমতল ভূমির ওপর কোনো বাড়তি বাধা ছাড়াই নির্মিত, যা দেখে মনে হয় এটি দেওয়ালেরই ধারাবাহিকতা। ভিত্তিগুলোর গভীরতা প্রায় ০.৬৭-১.০ মিটার।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

১৭১৫ সালে মাশহাদ জয়ের পর শেরগাজি খান ইরান থেকে ৫,০০০ বন্দী সৈন্য নিয়ে আসেন মাদ্রাসাটি নির্মাণের জন্য।[] তাদের মধ্যে দক্ষ স্থপতি ও কারিগর ছিল। যে স্থানে সমাধিসৌধটি অবস্থিত, সেখানকার মাটি বসে যাওয়ার কারণে সমাধিটি দুই মিটার নিচে নেমে গিয়েছে। শেরগাজি খানের কবরে নামার জন্য বর্তমানে সিঁড়ি রয়েছে।[] এই মাদ্রাসার উৎসর্গপত্রে ঐতিহাসিক ও কবিরা এই ভবনটিকে "মাসকান-ই-ফাজিলন" ("জ্ঞানীদের আবাসস্থল") বলে অভিহিত করেছেন। এই শব্দগুচ্ছের অক্ষরগুলোর সাংখ্যিক মান থেকে এর নির্মাণকাল জানা যায়। তখন থেকেই এই নামটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় নাম হিসেবে পরিচিতি পায়। তুর্কমেন কবি মখতুমকুলি, উজবেক কবি পহলভানকুল রওনাক, কাজাখ সুফি ও কবি বেকেত ওতা এবং কারাকালপাক কবি আজিনিয়োজের মতো প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বরা এখানে পড়াশোনা করেছেন।

বর্তমানে এই মাদ্রাসায় মখতুমকুলি এবং আজিনিয়োজের জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।[]

ভবনটি তৎকালীন সময়ের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী নির্মিত হয়েছিল: প্রবেশপথে দুই তলা, বারান্দা বিশিষ্ট চারটি আঙিনা এবং একগুচ্ছ প্রবেশকক্ষ। নির্মাণের এই শৈলীটি পরবর্তীকালে কুতলুগমুরাদ ইনাক মাদ্রাসা (১৮০৯), আল্লাহকুলি খান মাদ্রাসা (১৮৩৫), মুহাম্মদ রহিম খান মাদ্রাসা (১৮৭৬) এবং আমির মাদ্রাসাগুলোতে (১৮৭০) দেখা যায়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "LAW ON THE APPROVAL OF THE NATIONAL LIST OF REAL ESTATE OBJECTS OF TANGIBLE CULTURAL HERITAGE"Lex.uz। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
  2. Маньковская Л., Булатова В. Памятники зодчества Хорезма. 1978, 114
  3. "Shergazikhan Madrasah"khivamuseum.uz। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৩
  4. "Information about Shergazikhan Madrasah"। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৩
  5. Bobojonov D, Abdurasulov M। Firdavsmonand shahar। Xorazm Ma'mun akademiyasi nashriyoti 2008। পৃ. ৪৫।