শেখ মুসা দরগা
| শেখ মুসা দরগা | |
|---|---|
| ধর্ম | |
| অন্তর্ভুক্তি | সুন্নি ইসলাম |
| ফেরকা | সুফি চিশতিয়া তরিকা |
| উৎসবসমূহ | ঊরস |
| যাজকীয় বা সাংগঠনিক অবস্থা | |
| পরিচালনা সংস্থা | হরিয়ানা ওয়াকফ বোর্ড |
| অবস্থা | সক্রিয় |
| উৎসর্গকৃত | হাজরত শেখ মুসা |
| অবস্থান | |
| অবস্থান | পল্লা, নুহ জেলা, মেওয়াত, হরিয়ানা, ৬২৪০০০ |
| দেশ | ভারত |
| স্থাপত্য | |
| ধরন | মসজিদ স্থাপত্যশৈলী |
| স্থাপত্য শৈলী | |
| প্রতিষ্ঠাতা | খিলজি রাজবংশ |
| সম্পূর্ণ হয় | হিজরি ১১৪২ (১৭২৯/১৭৩০ খ্রিস্টাব্দ) |
| বিনির্দেশ | |
| গম্বুজসমূহ | একটি (সম্ভবত আরও থাকতে পারে) |
| মিনার | অনেক |
| স্থানের এলাকা | ২৪ কানাল |
| মঠ | একটি |
| উপাদানসমূহ | পাথর; ইট; মার্বেল; চুন |
শেখ মুসার দরগাহ বা শেখ মুসার সমাধি ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের নুহ জেলার পাল্লা গ্রামে অবস্থিত। এটি চিশতি তরিকার একটি সুফি দরগাহ কমপ্লেক্স। দরগায় ১৪ শতকের সুফি সাধক হযরত শেখ মুসার সমাধি রয়েছে। মুসা ইসলাম প্রচারের জন্য দিল্লি থেকে মেওয়াতে চলে আসেন। এই ভবনটিকে হরিয়ানা সরকার একটি রাজ্য সুরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ হিসাবে স্বীকৃত দিয়েছে।
শেখ মুসার দরগাহ কমপ্লেক্সটি ২৪ কানালের একটি বিশাল সুরক্ষিত এলাকা। এখানে একটি মসজিদ, শেখ মুসার বাসস্থান, একটি বড় প্রবেশদ্বার রয়েছে। দরগাহে অনেক আগের তৈরি কাঠামো রয়েছে। কমপ্লেক্সের মধ্যে একটি মাদ্রাসাও অবস্থিত। প্রধান দরগাহে সাধকের সমাধি রয়েছে।
সংস্কৃতি
[সম্পাদনা]শেখ মুসার সমাধি তার পানির জন্য বিখ্যাত। বিশ্বাস করা হয় যে যদি কেউ সর্বশক্তিমানের উপর বিশ্বাস রাখে এবং প্রতিদিন সেই পানি তিল বা আঁচিলের ওপর লাগায়, তাহলে সে দাগ দূর হয়ে যায়। আরেকটি আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হল কাঁপানো মিনার। যদি আপনি একটি মিনারে প্রবেশ করে সামান্য জোরে নাড়ান, তাহলে আপনি এটির নড়াচড়া অনুভব করবেন। একই সাথে অন্য মিনারে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিও সেই কম্পন অনুভব করতে পারবে।[১][২]
ভারত বিভাজনের আগে তাঁর স্মরণে একটি বার্ষিক ওরস মেলা অনুষ্ঠিত হত। কিন্তু ১৯৫৭ সালের পর এই অঞ্চলে দেওবন্দী প্রভাব বাড়ার ফলে এই মেলা বন্ধ হয়ে যায়।[৩]
২০২৩ সালে উরসের মেলা পুনরায় শুরু হয়। দরগাহ কমপ্লেক্সে সাধকের ৭১২তম মৃত্যুবার্ষিকী সকল সুফি ঐতিহ্য ও আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে উদযাপিত হয়।[৪]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]হযরত খাজা শেখ মুসা ছিলেন বাবা ফরিদউদ্দিন গঞ্জশকরের নাতি এবং খাজা নিজামুদ্দিন আউলিয়ার শিষ্য। হযরত নিজামুদ্দিনের নির্দেশে, শেখ মুসা মেওয়াত অঞ্চলের মেও সম্প্রদায়ের কাছে ইসলাম প্রচার করেন।[৩][৫]
শেখ মুসা মূলত দিল্লির বাসিন্দা ছিলেন। তার পিতা মৌলানা বদরুদ্দিন ইশাক একজন সম্মানিত পণ্ডিত ছিলেন। মৌলানা বদরুদ্দিন ইশাক এবং খাজা নিজামুদ্দিন আউলিয়া উভয়েই বাবা ফরিদ গঞ্জের শিষ্য ছিলেন। বাবা ফরিদ তার কন্যার সঙ্গে মৌলানা বদরুদ্দিন ইশাকের বিয়ে দেন। মৌলানা বদরুদ্দিন ইশাকের ঘরে হযরত খাজা শেখ মুসা এবং হযরত খাজা মুহাম্মদ ইমামের জন্ম হয়। শেখ মুসা অল্প বয়সে পিতামাতা উভয়কেই হারান। তাদের মৃত্যুর পর নিজামুদ্দিন আউলিয়া তাদের লালন-পালনের দায়িত্ব নেন। তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্য এবং ইসলামের শিক্ষা প্রচারের জন্য তাদের দেশব্যাপী ভ্রমণে পাঠিয়েছিলেন।[৩]
আরাবল্লী পর্বতমালার কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি কাঁটাঝোপ তার শালে আটকে যায়। তিনি এটি মুক্ত করতে পারেননি। তখন তিনি পরিস্থিতি বুঝতে পারেন এবং সেখানে থামেন। যেখানে হযরত শেখ মুসার শাল আটকে গিয়েছিল, সেখানেই এখন পাল্লা গ্রাম অবস্থিত। তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং ইসলাম প্রচারের সময় বাকি জীবন মেওয়াতে কাটিয়ে দেন। তিনি হিজরি ৭৩৩ (১৩৩২/১৩৩৩) মৃত্যুবরণ করেন। সেখানে খিলজি রাজবংশ দরগাটি প্রতিষ্ঠা করেছিল।[৩][৬]
১৯৫৬ সালে, স্থানীয় একজন ধর্মীয় নেতা মৌলানা নিয়াজ মুহাম্মদ দরগাহে নামাজ ও আজান পরিচালনার জন্য একজন ইমাম নিযুক্ত করেন। এই প্রথা আজও অব্যাহত রয়েছে। ইমাম দরগাহ ও সম্পর্কিত কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানও করে।[৩]
১৯৫৭ সালে মেওয়াত অঞ্চলে দেওবন্দী - তাবলীগী প্রভাব বেড়ে গেলে দরগায় বার্ষিক ওরস উদযাপন বন্ধ হয়ে যায়।[৩]
হযরত শেখ মুসার কবরে অলংকৃত মূল্যবান পোখরাজ পাথরটি কোথায় আছে তা আজও জানা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে এর মূল্য লক্ষ লক্ষ টাকা। ধারণা করা হয় এটি চুরি হয়ে বিক্রি হয়ে গেছে। এমনকি এমনও দাবি করা হয় যে পোখরাজটি রাতে দরগা আলোকিত করত।[৩]
স্থাপত্য ও অবস্থান
[সম্পাদনা]দরগাটিতে মুঘল এবং রাজপুত স্থাপত্য শৈলীর এক সুন্দর সংমিশ্রণ দেখা যায়। মিনারগুলিতে মুঘল নকশা ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ছত্রী রাজপুত প্রভাবও নির্মাণ শৈলীতে দেখা যায়। কারণ মুঘলরা স্থানীয় নির্মাণ শৈলীর সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছিল। সেখানে স্থানীয় কারিগর ও শিল্পীরা নির্মাণে সহায়তা করেছিল। এর ফলে এই দরগাহেও উভয় স্থাপত্যশৈলীর একত্রিত রূপ ফুটে উঠেছে।[১][৭]
এ কমপ্লেক্সে বারোটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাঁপন্ত মিনারগুলো একে অপরকে ঠেস দিয়ে রাখে। মূলত স্থানীয়ভাবে পাওয়া পাথর ও চুন দিয়ে নির্মিত এই কাঠামোর গম্বুজ এবং উপরের তলার ছত্রীতে সজ্জাসংক্রান্ত উপাদান রয়েছে। নির্মাণশৈলীর পরিবর্তনের ফলে এখানে ইট ব্যবহারের প্রবণতা কম দেখা যায়। কারণ পাথরের তুলনায় ইট হালকা ও সহজে গঠনযোগ্য।[৮]
মসজিদটি সম্পূর্ণ পাথর দিয়ে নির্মিত। এতে একটি সমাধি এবং একটি প্রাচীন কুয়া রয়েছে। মার্বেল দিয়ে তৈরি সমাধিটি ভূগর্ভস্থ পানির উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত। মসজিদের খিলান থেকে কাছাকাছি একটি পুরোনো দুর্গের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।[৮]
নির্মাণের তারিখ ১১৪২ হিজরি সন (১৭২৯/১৭৩০ খ্রিস্টাব্দ) উল্লেখিত হয়েছে। মিনার, খিলান এবং প্রবেশদ্বারগুলো ১৮শ থেকে ১৯শ শতাব্দীর প্রথম দিকে তৈরি হয়েছে।[১][৭][৯]
ভারতের হরিয়ানার নুহ জেলার মেওয়াত অঞ্চলের পাল্লা গ্রামে অবস্থিত এই স্থানটি দিল্লি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) দূরে অবস্থিত। এটি আরাবল্লি পর্বতশ্রেণীর পাদদেশে নুহ-তাওরু সড়কের কাছে মেওয়াত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নিকটে অবস্থিত। এখানে একটি মাদ্রাসাও রয়েছে। মাদ্রাসায় অনেক ছাত্র থাকে ও পড়াশোনা করে।[৮]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 "Sheikh Musa's tomb to be preserved"। The Times of India। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬। আইএসএসএন 0971-8257। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২৪।
- ↑ "Indian Trust for Rural Heritage and Development (ITRHD)"। www.itrhd.com। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০২৪।
- 1 2 3 4 5 6 7 "Aastha : सैंकड़ों साल बाद भी नहीं सुलझा हजरत शेख मूसा की दरगाह का रहस्य, एक मीनार को हिलाने से हिलती है दूसरी"। News18 हिंदी (হিন্দি ভাষায়)। ২ জুন ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২৪।
- ↑ Bharat, E. T. V. (১২ ডিসেম্বর ২০২৩)। "नूंह में हजरत शेख मूसा की दरगाह पर मनाया गया 712वां सालाना उर्स, उलेमा बोले- भाईचारा बहाल करने की कोशिश जारी"। ETV Bharat News (হিন্দি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০২৫।
- ↑ Jain, Shikha (১০ ডিসেম্বর ২০১৮)। "Discovering the town of Nuh through its architectural heritage"।
- ↑ "Sheikh Musa's Tomb in Har village declared protected monument | India.com"। www.india.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২৪।
- 1 2 "हरियाणा: शेख मूसा की दरगाह को संरक्षित क्षेत्र घोषित किया गया"। ndtv.in (হিন্দি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২৪।
- 1 2 3 "Tomb of Sheikh Musa"। The Times of India। ২৭ আগস্ট ২০০৩। আইএসএসএন 0971-8257। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২৪।
- ↑ "Mewat: Once a region with mixed identities, now marred by communal tensions"। Firstpost (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ৩ আগস্ট ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০২৪।