শু'বা ইবনে আয়াশ
শু'বা ইবনে আয়াশ আল-আসাদি, আল-কুফি | |
|---|---|
شعبة بن عياش | |
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| জন্ম | ৭১৩ খ্রি./ ৯৫ হি. |
| মৃত্যু | ৮০৯ খ্রি./ ১৯৩ হি. (বয়স: ৯৫-৯৬) |
| ধর্ম | ইসলাম |
| আদি নিবাস | কুফা |
| পিতামাতা |
|
| মুসলিম নেতা | |
| শিক্ষক | আসিম ইবনে আবিন্নাজুদ |
আবু বকর শুবাহ ইবনে আয়াশ ইবনে সালিম আল-আসাদি আল-কুফি আন-নাহশালি ( আরবি: أبو بكر شعبة بن عياش بن سالم الأسدي الكوفي النهشلي , ৯৫–১৯৩ হি./৭১৩–৮০৯ খ্রি.) [১][২][৩] ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ ইসলামি পণ্ডিত, ক্বারী ও হাদিসবিশারদ, যিনি কেরাত ও হাদিস বর্ণনার ইতিহাসে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হন। ইসলামের ইতিহাসে তিনি শু'বা নামে অধিক পরিচিত।[১] ইমাম হাফস বিন সুলাইমান মত শু'বাও আসিম ইবনে আবিন নাজুদের কাছ থেকে কুরআনের সাত কেরাতের একটি বর্ণনা করেছেন। [৪][৫][৬][৭] তবে ইমাম হাফসের পাঠ বর্তমান মুসলিম বিশ্বে অধিক পরিচিত ও প্রচলিত। [৮]
জীবনী
[সম্পাদনা]তিনি ওয়াসেল ইবনে হাইয়্যান আল-আসাদীর একজন মাওলা (স্বাধীনকৃত দাস) এবং তিনি কুফায় বসবাস করতেন। [২][৯] তাঁর কুনিয়া ও নাম উভয়ই আবু বকর ছিল। [১০] তিনি ছিলেন একাধারে ক্বারী, ফিকহবিদ ও হাদীসবিশারদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি আসিম ইবনে আবিন্নাজুদের কাছ থেকে কুরআন এবং মুগিরা ইবনে শো'বার কাছ থেকে ফিকহ শিখেছিলেন। [১১]
তিনি তিনবার আসিমের অধীনে কুরআন তিলাওয়াত সম্পূর্ণরূপে নিখুঁতভাবে শিখেন। শু‘বা একবার বলেন:[১১]
আমি যেভাবে আসিমের কাছ থেকে কুরআন শিখেছি, তা যেন একজন শিশু তার শিক্ষক থেকে শেখে। তিনি আমার ব্যাপারে খুব কঠোর ছিলেন এবং আমি কেবল তার কেরাতে দক্ষ হতে পেরেছি। আমি কুরআনের যেসব কেরাতের বর্ণনা তোমাদের দিই, তা সবই সরাসরি আসিমের কাছ থেকে শেখা।”
আরেকটি বর্ণনায় তিনি বলেন:[১১]
“আমি প্রায় তিন বছর ধরে আসিমের সঙ্গে পড়াশোনা করেছি; গ্রীষ্ম, শীত ও বৃষ্টিতে ভিজে। এমনকি বনু কাহল মসজিদের মানুষের সামনে নিজেকে লজ্জিত মনে হতো। তখন আসিম বললেন: ‘আল্লাহর প্রশংসা করো, তুমি আমার কাছে এসেছিলে, যখন তুমি একেবারে কিছুই জানতে না।’ আমি বললাম: ‘আমি পাঠশালা ছেড়ে আপনার কাছে এসেছি।’ তখন তিনি বললেন: ‘তুমি আমার কাছ থেকে কুরআনের প্রতিটি অক্ষর শিখে যাচ্ছো।’”
তাঁর কাছ থেকেও অনেকে কেরাত শিখেছেন; তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: আবুল হাসান আল-কিসাঈ (যিনি তাঁর আগেই ইন্তেকাল করেন), ইয়াহইয়া আল-ইলমি, আবু ইউসুফ আল-আ'শা, আব্দু্ল হামিদ ইবনে সালেহ আল-বুরজামী, উরওয়া ইবনে মুহাম্মদ আসাদি, আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাম্মাদ ও ইয়াহইয়া ইবন আদম, যিনি তার কাছ থেকে হরফ উচ্চারণে দক্ষতা অর্জন করেন। [১১]
তিনি একটানা ৪০ বছর ধরে প্রতি রাত-দিন কুরআন খতম করতেন। তিনি মৃত্যুর বিশ বছর আগে কুরআন শিক্ষা দেওয়া বন্ধ করেন; তবে হাদীস বর্ণনা চালিয়ে যান।[১২]
হাদীস বর্ণনায় তিনি সাধারণভাবে “সিকা” (বিশ্বস্ত) হিসেবে গণ্য হতেন। কুতুবুস সিত্তাহতে (ছয়টি প্রধান হাদীস গ্রন্থ) তাঁর সূত্রে বর্ণিত অনেক হাদীস পাওয়া যায়। ইসলামি পণ্ডিত শাদি নাসের বলেন, ইমাম আল-যাহাবীর বরাতে একটি বর্ণনায় এসেছে যে, শু‘বা তাঁর সমসাময়িক হাফেজ হামযা যাইয়্যাতের কেরাতকে বেদাত (ধর্মে নতুন উদ্ভাবন) হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেন। [১৩][১৪]
হারুনুর রশীদের সঙ্গে সংলাপ
[সম্পাদনা]খলীফা হারুনুর রশিদ কুফা থেকে ইবনে আয়্যাশকে ডেকে পাঠান। তিনি ওয়াকি'র সঙ্গে সেখানে উপস্থিত হন। যখন তাঁরা প্রবেশ করেন, তখন ওয়াকি তাঁকে পথ দেখাচ্ছিলেন। তখন হারুনুর রশিদ তাঁকে কাছে ডেকে বললেন, “তুমি তো উমাইয়াদের যুগও দেখেছো এবং আমাদের যুগও দেখছ। এখন তুমি বলো, কারা উত্তম? ইবনে আয়াশ উত্তর দিলেন, “আপনারা নামায আদায়ে উত্তম; কিন্তু তারা জনগণের জন্য অধিক উপকারী ছিলেন।” তার এই কথা শুনে হারুনুর রশিদ তাঁকে ছয় হাজার দিনার পুরস্কার দিলেন এবং বিদায় করলেন। পাশাপাশি ওয়াকীকেও তিন হাজার দিনার পুরস্কার দিলেন। [১১]
দৃষ্টিভঙ্গি
[সম্পাদনা]হামযা বিন সাঈদ আল-মারওয়াযী বলেন: আমি আবু বকর ইবনে আয়াশকে জিজ্ঞেস করলাম: “আপনি কি ইবনে উলায়্যার কুরআন সংক্রান্ত বক্তব্য শুনেছেন (যিনি কুরআনকে সৃষ্ট বলতেন)?” [১১]
তিনি জবাব দিলেন: “তোমার সর্বনাশ হোক! যে ব্যক্তি বলে কুরআন সৃষ্টি করা হয়েছে, সে আমাদের দৃষ্টিতে একজন কাফির, বিদায়াতী ও আল্লাহর শত্রু। আমরা তার সঙ্গে বসি না; এমনকি তার সঙ্গে কথা বলাও পরিত্যাগ করি।” [১১]
আহমাদ ইবনে ইউনুস একবার শু‘বাকে বলেছিলেন: “আমার একজন রাফেজি (চরমপন্থি শিয়া) প্রতিবেশী আছে এবং সে এখন অসুস্থ।” শু‘বা বললেন: তাকে দেখতে যাও, যেমন তুমি কোনো ইহুদি বা খ্রিস্টানকে দেখতে যেতে; কিন্তু এতে সওয়াবের আশা করো না। [১১]
মূল্যায়ন
[সম্পাদনা]- আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: “তিনি সত্যবাদী ও বিশ্বাসযোগ্য, একজন ক্বারী ও সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন।” [১৫]
- ইবনে মুবারক বলেন: সুন্নাহর প্রতি আবু বকর ইবনে আয়াশের মতো দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো কাউকে আমি দেখিনি। [১৫]
- সুলাইমান আল-আ‘মাশ বলেন: "আবু বকর ইবনে আয়াশের চেয়ে সুন্দরভাবে নামায আদায়কারী আমি আর কাউকে আমি।”[১৫]
মৃত্যু
[সম্পাদনা]শেষ বয়সে তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তাঁর বোন কাঁদতে লাগলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন: “তুমি কেন কাঁদছ? ঘরের ঐ কোণার দিকে তাকাও, সেখানে আমি আঠারো হাজারবার কুরআন খতম করেছি।” তিনি ১৯৩ হিজরির ( ফেব্রুয়ারি/মার্চ, ৮০৯ খ্রিস্টাব্দ) জুমাদিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। [৯][১১]
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Jane Dammen McAuliffe, Encyclopaedia of the Qurʾān, vol. 4, p. 390. Leiden: Brill Publishers, 2004. আইএসবিএন ৯৭৮৯০০৪১২৩৫৫৭
- 1 2 Abu Dawood, Sunan Abu Dawood, vol. 3, p. 1113. of Trns. Ahmad Hasan. Sh. M. Ashraf, 1984.
- ↑ "Qāriʼ, Shuʻbah ibn ʻAyyāsh, 713 or 714-809 - LC Linked Data Service: Authorities and Vocabularies | Library of Congress"। ৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৪।
- ↑ Aḥmad ʻAlī Imām, Variant Readings of the Qurʼan: A Critical Study of Their Historical and Linguistic Origins, p. 159. Herndon: International Institute of Islamic Thought, 1998. আইএসবিএন ৯৭৮১৫৬৫৬৪২৩০০
- ↑ Shady Hekmat Nasser, The Transmission of the Variant Readings of the Qurʾān: The Problem of Tawātur and the Emergence of Shawādhdh, pp. 132 & 135. Leiden: Brill Publishers, 2012. আইএসবিএন ৯৭৮৯০০৪২৪১৭৯৪
- ↑ Taqi Usmani, An Approach to the Qurānic Sciences, p. 219. Darul Ishaʼat, 2000.
- ↑ Theodor Nöldeke, Friedrich Schwally, Gotthelf Bergsträsser, and Otto Pretzl, The History of the Qurʾān, p. 530. Leiden: Brill Publishers, 2013. আইএসবিএন ৯৭৮৯০০৪২২৮৭৯৫
- ↑ Bewley, Aishah. "The Seven Qira'at of the Qur'an" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০০৬-০৫-০১ তারিখে, Aisha Bewley's Islamic Home Page
- 1 2 Ibn Sa'd, Muhammad (১৯৯০)। Kitab at-Tabaqat al-Kabir (Arabic ভাষায়)। খণ্ড ৬ (1st সংস্করণ)। Beirut: Dar al-Kutub al-Ilmiyya। পৃ. ৩৬০।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - ↑ Ibn Hibban, Muhammad (১৯৭৩)। Thiqat Ibn Hibban (Arabic ভাষায়)। খণ্ড ৭ (1st সংস্করণ)। Hyderabad Deccan, India: Osmania Oriental Publications Bureau। পৃ. ৬৬৯।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - 1 2 3 4 5 6 7 8 9 Al-Dhahabi, Shamsuddin (১৯৮৫)। Siyar A'lam al-Nubala' (Arabic ভাষায়)। খণ্ড ৮ (3rd সংস্করণ)। Al-Risala Foundation। পৃ. ৪৯৫–৫০৭।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - ↑ Al-Kawakib Al-Niyyaraat (الكواكب النيرات) by Ibn al-Kayyal (1/439)
- ↑ Nasser, The Transmission of the Variant Readings of the Qurʾān, p. 58.
- ↑ al-Dhahabi, Ma'rifat al-Qurra al-Kibar, 1/250-259
- 1 2 3 Tahdhib al-Tahdhib (4/492)