বিষয়বস্তুতে চলুন

শিহাবুদ্দিন ওমর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শিহাবুদ্দিন ওমর খিলজি
১৪তম দিল্লির সুলতান
রাজত্ব৫ জানুয়ারি – ১৪ এপ্রিল ১৩১৬
পূর্বসূরিআলাউদ্দিন খিলজি
উত্তরসূরিকুতুবুদ্দীন মুবারক খিলজি
জন্ম১৩১০ অথবা ১৩১১[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
মৃত্যু১৩১৬ (বয়স ৩–৫)
গোয়ালিয়র, ভারত (দিল্লি সালতানাত)
রাজবংশখিলজি রাজবংশ
পিতাআলাউদ্দিন খিলজি
মাতাঝঠ্যাপালি
ধর্মসুন্নি ইসলাম

শিহাবুদ্দিন ওমর (শা.  ১৩১৬) ছিলেন ভারতের খিলজি রাজবংশের তৃতীয় এবং দিল্লি সালতানাতের চতুর্দশ সুলতান। ১৩১৬ সালে তার পিতা আলাউদ্দিন খিলজির মৃত্যুর পর, তিনি আলাউদ্দিনের দাস-সেনাপতি মালিক কাফুরের সমর্থনে শিশু অবস্থায় সিংহাসনে আরোহণ করেন। কাফুর নিহত হওয়ার পর তার ভাই কুতুবুদ্দীন মুবারক রাজপ্রতিনিধি (regent) হন এবং পরবর্তীতে তাকে সিংহাসনচ্যুত করে নিজেই সুলতান হন।


প্রাথমিক জীবন

[সম্পাদনা]

১৪শ শতাব্দীর ইতিহাসবিদ ইসামির মতে, শিহাবুদ্দিন ছিলেন আলাউদ্দিনের যাদব সামন্ত দেবগিরির রামচন্দ্রের কন্যা ঝঠ্যাপালির গর্ভজাত সন্তান।[]

সিংহাসন আরোহণ

[সম্পাদনা]

আলাউদ্দিন তার জীবনের শেষ বছরগুলোতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শাসনব্যবস্থা তার দাস-সেনাপতি মালিক কাফুরের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। আলাউদ্দিনের আদি উত্তরাধিকারী খিজির খানকে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গোয়ালিয়র দুর্গে বন্দি করার পর, মালিক কাফুর আলাউদ্দিনের শয্যাপাশে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের একটি সভা ডাকেন। এই সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, শিহাবুদ্দিন আলাউদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং মালিক কাফুর রাজপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ইসামির মতে, সভার সময় আলাউদ্দিন এতটাই দুর্বল ছিলেন যে তিনি কিছু বলতে পারেননি, তবে উপস্থিত সকলে একমত হন যে তার নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত। এই সময় শিহাবুদ্দিনের বয়স ছিল ছয় বছরের কিছু বেশি।[]

১৩১৬ সালের ৩-৪ জানুয়ারি রাতে আলাউদ্দিনের মৃত্যুর পরদিন, কাফুর গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের (উমরা) একটি সভা ডাকেন এবং শিহাবুদ্দিনকে নতুন সুলতান হিসেবে নিযুক্ত করেন। তিনি আলাউদ্দিনের একটি আদেশ পাঠ করেন যার মাধ্যমে মৃত সুলতান তার জ্যেষ্ঠ পুত্র খিজির খানকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছিলেন এবং শিহাবুদ্দিনকে তার উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। আলাউদ্দিনের অন্যান্য পুত্রদের - মুবারক খান, শাদি খান, ফরিদ খান, ওসমান খান, মোস্তফা খান, মুহাম্মদ খান এবং আবু বকর খানকে - শিহাবুদ্দিনের পা চুম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।[]


শাসনকাল

[সম্পাদনা]

শিহাবুদ্দিনের পূর্ণ উপাধি ছিল "আল-সুলতান আল-আজম শিহাব আল-দুনিয়া ওয়া'ল দিন আবু'ল মুজাফফর উমর শাহ আল-সুলতান"।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

কাফুরের সংক্ষিপ্ত রাজপ্রতিনিধিত্বের সময়, শাসনে শিহাবুদ্দিনের অংশগ্রহণ কেবল কাফুর কর্তৃক প্রতিদিন আয়োজিত একটি সংক্ষিপ্ত দরবার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। অনুষ্ঠানের পর কাফুর শিহাবুদ্দিনকে তার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং বিভিন্ন কর্মকর্তাদের আদেশ দেওয়ার জন্য আলাদা সভা করতেন।[]

সিংহাসনের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে কাফুর আলাউদ্দিনের পুত্র খিজির খান এবং শাদি খানকে অন্ধ করে দেন।[] তিনি আলাউদ্দিনের প্রধান মহিষী 'মালিকা-ই-জাহান' এবং আলাউদ্দিনের অন্য এক প্রাপ্তবয়স্ক পুত্র মুবারক শাহকে বন্দি করেন। ১৬শ শতাব্দীর ইতিহাসবিদ ফিরিশতার মতে, কাফুর আলাউদ্দিনের বিধবা পত্নী ঝঠ্যাপালিকে বিয়ে করেন, যিনি শিহাবুদ্দিনের মা ছিলেন। নতুন সুলতানের সৎ-পিতা হওয়া ছিল সম্ভবত কাফুরের ক্ষমতা বৈধ করার একটি উপায়।[]

আলাউদ্দিনের প্রাক্তন দেহরক্ষীরা (পাইক) তাদের মৃত প্রভুর পরিবারের বিরুদ্ধে কাফুরের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে এবং কাফুরকে হত্যা করে।[] কাফুরের হত্যাকারীরা মুবারক শাহকে মুক্ত করে, যাকে প্রথমে রাজপ্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।[] ১৩১৬ সালের এপ্রিলে মুবারক শাহ শিহাবুদ্দিনকে আটক করেন এবং নিজেই সুলতান হন। শিহাবুদ্দিনকে গোয়ালিয়র দুর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে সেই বছরই তার মৃত্যু হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Kishori Saran Lal 1950, পৃ. 56-57।
  2. 1 2 Banarsi Prasad Saksena 1992, পৃ. 425।
  3. 1 2 Banarsi Prasad Saksena 1992, পৃ. 425-426।
  4. Banarsi Prasad Saksena 1992, পৃ. 426।
  5. Banarsi Prasad Saksena 1992, পৃ. 427।
  6. Banarsi Prasad Saksena 1992, পৃ. 427-428।

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]
  • Banarsi Prasad Saksena (১৯৯২)। "The Khaljis: Qutubuddin Mubarak Khalji"। Mohammad Habib; Khaliq Ahmad Nizami (সম্পাদকগণ)। A Comprehensive History of India। খণ্ড ৫: The Delhi Sultanat (A.D. ১২০৬-১৫২৬)। The Indian History Congress / People's Publishing House। ওসিএলসি 31870180
  • Kishori Saran Lal (১৯৫০)। History of the Khaljis (1290-1320)। Allahabad: The Indian Press। ওসিএলসি 685167335