শিশু বিকাশ

শিশু বিকাশ বলতে জন্ম থেকে বয়ঃসন্ধি শেষ হওয়া পর্যন্ত মানুষের মধ্যে ঘটে যাওয়া জীবতাত্ত্বিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং আবেগজনিত পরিবর্তনসমূহকে বোঝায়। এটি—বিশেষ করে জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত—একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই সমাজের ভিত্তি।[১]
শৈশবকে জীবনের তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে প্রারম্ভিক শৈশব, মধ্য শৈশব এবং উত্তর শৈশব বা প্রাক-কৈশোর।[২] প্রারম্ভিক শৈশব সাধারণত শৈশবকাল থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সময়ের মধ্যে বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এই সময়েই অর্জিত হয়; যেমন: প্রথম কথা বলা, হামাগুড়ি দিতে শেখা এবং হাঁটতে শেখা। মধ্য শৈশব/প্রাক-কৈশোর বা ৫-১০ বছর বয়স সার্বজনীনভাবে প্রধান উন্নয়নমূলক রূপান্তর বিন্দুগুলোর মধ্যবর্তী একটি স্বতন্ত্র সময়কাল হিসেবে চিহ্নিত।[২] বয়ঃসন্ধি প্রায়শই যৌন পরিপক্কতার সূচনার সাথে শুরু হয় (১০ থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে),[৩] এবং পূর্ণবয়স্ক হওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়। বয়ঃসন্ধিকাল শরীরের পরিপক্কতা, শেখার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত আত্মপরিচয় প্রকাশের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়।[৪] উন্নয়নমূলক পরিবর্তন জেনেটিক্যালি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ার ফলে ঘটতে পারে যা পরিপক্কতা নামে পরিচিত,[৫] অথবা পরিবেশগত কারণ এবং শিক্ষার মাধ্যমেও হতে পারে। তবে সাধারণত এটি উভয় উপাদানের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে। এছাড়া মানুষের সহজাত প্রকৃতি এবং পরিবেশ থেকে শেখার ক্ষমতার ফলেও বিকাশ ঘটতে পারে।
শিশু বিকাশের পর্যায়গুলোর বিভিন্ন সংজ্ঞা রয়েছে, কারণ প্রতিটি পর্যায় শুরু এবং শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পার্থক্যসহ একটি ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। নির্দিষ্ট ব্যবধিসহ বয়স-ভিত্তিক কিছু বিকাশের পর্যায় হলো: নবজাতক (০–২ মাস বয়স); শৈশবকাল (৩–১১ মাস বয়স); টডলার (১–২ বছর বয়স); প্রাক-স্কুলগামী শিশু (৩–৪ বছর বয়স); মূল শৈশব (৫–৮ বছর বয়স); প্রাক-কিশোর (৯–১২ বছর বয়স); এবং কিশোর-কিশোরী (১৩–১৯ বছর বয়স)।
শিশুর কার্যকলাপ, সামাজিকীকরণ এবং বিকাশে অভিভাবকরা বড় ভূমিকা পালন করেন। একাধিক অভিভাবকের উপস্থিতি শিশুর জীবনে স্থিতিশীলতা যোগ করতে পারে এবং এর ফলে স্বাস্থ্যকর বিকাশকে উৎসাহিত করে।[৪] একটি স্থিতিশীল ভিত্তিসহ অভিভাবক-সন্তান সম্পর্ক শিশুর মধ্যে সমর্থিত এবং নিরাপদ বোধ করার সুযোগ তৈরি করে। আবেগ প্রকাশের জন্য প্রতিষ্ঠিত এই পরিবেশ একটি প্রাথমিক ধাপ, যা শিশুদের কার্যকরভাবে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তাদের বিকাশে সহায়তা করে।[৬] শিশুদের বিকাশের আরেকটি প্রভাবশালী কারণ হলো তাদের যত্নের মান। শিশু-যত্ন কর্মসূচিগুলো শৈশবকালীন বিকাশ যেমন—শেখার ক্ষমতা এবং সামাজিক দক্ষতার জন্য উপকারী হতে পারে।[৭]
শিশুদের সর্বোত্তম বিকাশ সমাজের জন্য অত্যাবশ্যক বলে বিবেচিত হয়। শিশুদের সামাজিক, জ্ঞানীয়, আবেগীয় এবং শিক্ষামূলক বিকাশ বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান গবেষণা ও আগ্রহের ফলে নতুন নতুন তত্ত্ব ও কৌশল তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে স্কুল ব্যবস্থার মধ্যে বিকাশকে উৎসাহিত করার পদ্ধতিগুলোর ক্ষেত্রে। কিছু তত্ত্ব শিশু বিকাশের স্তরগুলোর একটি ধারাবাহিকতা বর্ণনা করার চেষ্টা করে।
তত্ত্বসমূহ
[সম্পাদনা]বাস্তুতন্ত্র পদ্ধতি
[সম্পাদনা]এটিকে "প্রেক্ষাপটভিত্তিক বিকাশ" বা "মানব বাস্তুসংস্থান" তত্ত্বও বলা হয়। বাস্তুতন্ত্র তত্ত্বটি মূলত ইউরি ব্রনফেনব্রেনার দ্বারা প্রণীত হয়েছিল। এটি চার ধরনের পরিবেশগত ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে, যেগুলোর মধ্যে পারস্পরিক প্রভাব বিদ্যমান; সেগুলো হলো মাইক্রোসিস্টেম, মেসোসিস্টেম, এক্সোসিস্টেম এবং ম্যাক্রোসিস্টেম। প্রতিটি সিস্টেমে বিভিন্ন ভূমিকা, আদর্শ এবং নিয়ম থাকে যা বিকাশকে শক্তিশালীভাবে গঠন করতে পারে। ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত ব্রনফেনব্রেনারের এই তত্ত্বের প্রধান গ্রন্থ দ্য ইকোলজি অব হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট[৮] মনোবিজ্ঞানী এবং অন্যান্য গবেষকদের মানুষ ও তাদের পরিবেশ নিয়ে কাজ করার পদ্ধতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বিকাশের এই প্রভাবশালী ধারণার ফলে পরিবার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর মতো পরিবেশগুলোকে শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে দেখা হয়।[৯]
পিয়াজে
[সম্পাদনা]জঁ পিয়াজে একজন সুইস পণ্ডিত ছিলেন যিনি ১৯২০-এর দশকে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ নিয়ে তার গবেষণা শুরু করেন। প্রাণীরা কীভাবে তাদের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয় সে বিষয়ে আগ্রহী পিয়াজে তার প্রথম বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ ১০ বছর বয়সে প্রকাশ করেন। তিনি প্রাণিবিদ্যায় পিএইচডি করেন এবং পরবর্তীকালে জ্ঞানতত্ত্বের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।[১০] জ্ঞানতত্ত্ব হলো দর্শনের একটি শাখা যা জ্ঞানের উৎস নিয়ে কাজ করে। পিয়াজে বিশ্বাস করতেন এই জ্ঞানের উৎস মনোবিজ্ঞান থেকে আসে। প্যারিস ভ্রমণের পর তিনি আলফ্রেড বিনেট ল্যাবরেটরিতে প্রথম "প্রমিত বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষা"-এর ওপর কাজ শুরু করেন, যা তার কর্মজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এই বুদ্ধিবৃত্তিক পরীক্ষার সময় তিনি শিশুদের মেধা কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে গভীর আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ফলস্বরূপ, তিনি নিজস্ব ল্যাবরেটরি তৈরি করেন এবং শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বৃদ্ধি রেকর্ড করতে ও চিন্তার বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে শিশুরা কীভাবে বিকশিত হয় তা খুঁজে বের করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন। এর ফলে পিয়াজে জ্ঞানীয় বিকাশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় তৈরি করেন: সংবেদন-চালিত পর্যায় বা সেনসরিমোটর পর্যায় (জন্ম থেকে ২ বছর বয়স পর্যন্ত); এখানে শব্দ, স্পর্শ, স্বাদ এবং প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তথ্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়। প্রাক-ক্রিয়ামূলক বা প্রি-অপারেশনাল পর্যায় (২ থেকে ৭ বছর বয়স), যখন শিশুরা প্রতীকিভাবে চিন্তা করতে শেখে এবং কল্পনাপ্রসূত খেলাধুলা শুরু করে। এই পর্যায়ে তাদের মধ্যে আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা কাজ করে। মূর্ত-ক্রিয়ামূলক বা কনক্রিট-অপারেশনাল পর্যায় (৭ থেকে ১২ বছর বয়স), যখন শিশুরা যৌক্তিক চিন্তা শুরু করে এবং রূপান্তর বুঝতে শেখে—অর্থাৎ বুঝতে পারে যে কোনো বস্তুর আকৃতি পরিবর্তন হলেও তার পরিমাণ একই থাকে। আনুষ্ঠানিক-ক্রিয়ামূলক বা ফরমাল-অপারেশনাল পর্যায় (১১ বছর থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত), যা বিমূর্ত চিন্তা এবং কাল্পনিক সমস্যার সমাধান খোঁজার প্রক্রিয়া প্রবর্তন করে। পিয়াজে উপসংহারে পৌঁছান যে, পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া (আচরণ) স্কিমা-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং 'আত্মীকরণ' ও 'উপযোজন'-এর মাধ্যমে এই অভিযোজন ঘটে।[১১]
পর্যায়সমূহ
[সম্পাদনা]সংবেদন-চালিত: (জন্ম থেকে প্রায় ২ বছর বয়স পর্যন্ত)
পিয়াজের তত্ত্বের প্রথম পর্যায়ে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি এবং মোটর দক্ষতার মতো মৌলিক ইন্দ্রিয়গুলো থাকে। এই স্তরে বিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান সীমিত হলেও শিশুর অভিজ্ঞতা এবং মিথস্ক্রিয়ার কারণে তা ক্রমাগত বিকাশ লাভ করে।[১২] পিয়াজের মতে, যখন একটি শিশুর বয়স প্রায় ৭-৯ মাস হয়, তখন তারা বস্তুর স্থায়িত্ববোধ অর্জন করতে শুরু করে। এর অর্থ হলো শিশু এখন বুঝতে পারে যে বস্তুগুলো চোখের আড়ালে থাকলেও সেগুলোর অস্তিত্ব থাকে। এর একটি উদাহরণ হলো শিশুর প্রিয় খেলনা কম্বলের নিচে লুকিয়ে রাখা; যদিও শিশু এটি দেখতে পাচ্ছে না, তবুও সে জানে যে কম্বলের নিচেই এটি খুঁজতে হবে।[১৩]
প্রাক-ক্রিয়ামূলক: (শিশু কথা বলতে শুরু করার সময় থেকে শুরু হয়, প্রায় ২ বছর বয়স)
এই পর্যায়ে ছোট শিশুরা শব্দ এবং ছবিসহ মানসিক প্রতীক ব্যবহার করে তাদের পরিবেশ বিশ্লেষণ শুরু করে। শিশু বিভিন্ন বস্তু, ঘটনা এবং পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার সাথে সাথে তার দৈনন্দিন জীবনে এগুলো প্রয়োগ করতে শুরু করে।[১০] তবে পিয়াজে এই পর্যায়ের নাম "প্রাক-ক্রিয়ামূলক" রাখার প্রধান কারণ হলো শিশুরা এই সময়ে নির্দিষ্ট জ্ঞানীয় কার্যক্রম যেমন—মানসিক গণিত প্রয়োগ করতে সক্ষম হয় না। প্রতীকের পাশাপাশি শিশুরা কল্পিত খেলায় নিযুক্ত হতে শুরু করে, যেমন তারা শিক্ষক বা সুপারহিরো হওয়ার অভিনয় করে। এই খেলাকে বাস্তবসম্মত করতে তারা অনেক সময় বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে।[১০] এই পর্যায়ের কিছু দুর্বলতা হলো ৩-৪ বছর বয়সী শিশুরা প্রায়শই আত্মকেন্দ্রিকতা প্রদর্শন করে। এর অর্থ শিশু অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে সক্ষম হয় না এবং তারা মনে করে অন্য প্রতিটি ব্যক্তিও তাদের মতোই একই ঘটনা ও অনুভূতির সম্মুখীন হচ্ছে। তবে প্রায় ৭ বছর বয়সে শিশুদের চিন্তা প্রক্রিয়া আর আত্মকেন্দ্রিক থাকে না এবং আরও সহজাত হয়; অর্থাৎ তারা এখন কোনো কিছু দেখতে কেমন তা নিয়ে চিন্তা করে, যদিও তারা এখনও যৌক্তিক চিন্তা ব্যবহার করে না।[১০]
মূর্ত-ক্রিয়ামূলক: (প্রায় প্রথম শ্রেণী থেকে প্রাথমিক বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত)
এই পর্যায়ে ৭ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুরা জ্ঞানীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সঠিক যুক্তি ব্যবহার করে এবং তাদের সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন ঘটনায় এই নতুন চিন্তাধারা প্রয়োগ করতে শুরু করে।[১০] এই পর্যায়ের শিশুরা আরোহী যুক্তি ব্যবহার করে, যার মধ্যে সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা অন্তর্ভুক্ত।[১৪] প্রাক-ক্রিয়ামূলক পর্যায়ের বিপরীতে শিশুরা এখন একটি যৌক্তিক চিন্তা তৈরির জন্য মানসিক চিত্র এবং প্রতীক পরিবর্তন ও পুনর্গঠন করতে পারে। এর একটি উদাহরণ হলো "বিপরীতমুখী ক্ষমতা", যেখানে শিশু এখন জানে কীভাবে একটি কাজকে তার বিপরীত কাজ করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হয়।[১০]
আনুষ্ঠানিক-ক্রিয়ামূলক: (প্রাথমিক বয়ঃসন্ধি থেকে মধ্য/শেষ বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত)
পিয়াজের জ্ঞানীয় বিকাশের চূড়ান্ত পর্যায় অনুসারে একটি শিশুর এখন "বিমূর্ত ধারণা এবং কাল্পনিক ঘটনা সম্পর্কে আরও যুক্তিযুক্ত ও সুশৃঙ্খলভাবে চিন্তা করার" ক্ষমতা থাকে।[১০] এই সময়ের কিছু ইতিবাচক দিক হলো শিশু বা কিশোর-কিশোরী তাদের নিজস্ব পরিচয় তৈরি করতে শুরু করে এবং মানুষ কেন নির্দিষ্ট আচরণ করে তা বুঝতে শুরু করে। তবে কিছু দুর্বলতার মধ্যে রয়েছে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে কিছু আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা তৈরি হওয়া, যার মধ্যে কাল্পনিক দর্শক এবং ব্যক্তিগত রূপকথা অন্তর্ভুক্ত।[১০] কাল্পনিক দর্শক হলো যখন একজন কিশোর অনুভব করে যে পুরো বিশ্ব তার প্রতিটি কাজের ব্যাপারে সমানভাবে চিন্তিত ও বিচারপ্রবণ। তারা মনে করতে পারে তারা যেন একটি "মঞ্চে" আছে এবং সবাই তাদের সমালোচনা করছে।[১০] ব্যক্তিগত রূপকথা হলো যখন কিশোর অনুভব করে যে সে একজন অনন্য ব্যক্তি এবং তার প্রতিটি কাজই অনন্য। তারা মনে করে যে তারা যা অনুভব করছে তা অন্য কেউ কখনও করেনি এবং তারা অপরাজেয়—তাদের সাথে খারাপ কিছু ঘটবে না, খারাপ ঘটনা শুধু অন্যদের সাথেই ঘটে।[১০]
ভাইগটস্কি
[সম্পাদনা]রুশ তাত্ত্বিক ভাইগটস্কি শিশু বিকাশের সমাজ-সাংস্কৃতিক তত্ত্ব প্রস্তাব করেছিলেন। ১৯২০-১৯৩০-এর দশকে যখন পিয়াজে তার নিজস্ব তত্ত্ব তৈরি করছিলেন, তখন ভাইগটস্কি একজন সক্রিয় পণ্ডিত ছিলেন। তার তত্ত্বটি "সাম্প্রতিক" বলা হয় কারণ এটি রুশ ভাষা থেকে অনূদিত হয়ে পশ্চিমা চিন্তাধারায় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।[১০] পিয়াজের মতোই তিনি মনে করতেন শিশুরা সরাসরি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখে। তবে পিয়াজের বিপরীতে তিনি দাবি করেছিলেন যে, যখন কোনো শিশু একটি নতুন কাজ শেখার প্রান্তসীমায় থাকে (যাকে নিকটবর্তী বিকাশের অঞ্চল বা zone of proximal development বলা হয়), তখন বড়দের সঠিক ও সংবেদনশীল হস্তক্ষেপ শিশুকে সেটি শিখতে সাহায্য করতে পারে। এই কৌশলটিকে "স্ক্যাফোল্ডিং" বলা হয়, যা শিশুকে শেখার জন্য তার পূর্বের জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে নতুন জ্ঞান তৈরি করে।[১৫] এর একটি উদাহরণ হতে পারে যখন একজন অভিভাবক একটি শিশুকে তালি দিতে বা হাত নাড়াতে সাহায্য করেন, যতক্ষণ না তারা নিজে সেটি করতে পারে।[১৬][১৭]
ভাইগটস্কি শিশুর বিকাশের ধরণ নির্ধারণে সংস্কৃতির ভূমিকার ওপর জোরালো গুরুত্ব দিয়েছিলেন।[১৫] তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে "শিশুর সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রতিটি কাজ দুইবার উপস্থিত হয়: প্রথমে সামাজিক স্তরে এবং পরে ব্যক্তিগত স্তরে; প্রথমে মানুষের মধ্যে (আন্তঃমনস্তাত্ত্বিক) এবং তারপর শিশুর অভ্যন্তরে (অন্তঃমনস্তাত্ত্বিক)। এটি স্বেচ্ছামূলক মনোযোগ, যৌক্তিক স্মৃতি এবং ধারণার গঠনের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য। সমস্ত উচ্চতর কাজ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রকৃত সম্পর্ক হিসেবে শুরু হয়।"[১৫]
ভাইগটস্কি মনে করতেন বিকাশ একটি প্রক্রিয়া এবং তিনি দেখেছিলেন যে সংকটের সময়ে শিশুর মানসিক কার্যকারিতায় একটি গুণগত পরিবর্তন ঘটে।[১৮]
আসক্তি বা সংযুক্তি
[সম্পাদনা]সংযুক্তি তত্ত্ব, যা মূলত জন বোলবি-র কাজ থেকে উদ্ভূত এবং মেরি আইন্সওয়ার্থ দ্বারা বিকশিত হয়েছে, একটি মনস্তাত্ত্বিক, বিবর্তনীয় এবং আচরণতাত্ত্বিক তত্ত্ব যা আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক বোঝার জন্য একটি বর্ণনামূলক ও ব্যাখ্যামূলক কাঠামো প্রদান করে। বোলবির পর্যবেক্ষণ তাকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল যে একটি শিশু এবং তার প্রাথমিক যত্নদাতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ মানসিক বন্ধন বা "সংযুক্তি" হলো "স্বাভাবিক সামাজিক ও মানসিক বিকাশ" গঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তা।[১০]
এরিক এরিকসন
[সম্পাদনা]ফ্রয়েডের অনুসারী এরিকসন, ফ্রয়েডের তত্ত্বের সাথে নিজের তত্ত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে মানুষের বিকাশের যা মনোসামাজিক পর্যায় হিসেবে পরিচিত তা তৈরি করেন। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিস্তৃত এই পর্যায়গুলো প্রতিটি স্তরের নির্দিষ্ট 'কাজ' বা লক্ষ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে, যা জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য সম্পন্ন করা প্রয়োজন।[১৯]
এরিকসনের আটটি পর্যায় নিম্নরূপ:[২০]
- বিশ্বাস বনাম অবিশ্বাস (শিশু)
- স্বায়ত্তশাসন বনাম লজ্জা (টডলার/হামাগুড়ি দেওয়া শিশু)
- উদ্যোগ বনাম অপরাধবোধ (প্রাক-স্কুলগামী শিশু)
- পরিশ্রম বনাম হীনম্মন্যতা (কিশোর বয়সের শুরুতে)
- আত্মপরিচয় বনাম ভূমিকা বিভ্রান্তি (কিশোর)
- ঘনিষ্ঠতা বনাম বিচ্ছিন্নতা (তারুণ্য/তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক)
- উৎপাদনশীলতা বনাম স্থবিরতা (মধ্যবয়স)
- অহং অখণ্ডতা বনাম হতাশা (বার্ধক্য)
আচরণগত
[সম্পাদনা]জন বি. ওয়াটসনের আচরণবাদ তত্ত্ব বিকাশের আচরণগত মডেলের ভিত্তি গঠন করে।[২১] ওয়াটসন ধ্রুপদী সাপেক্ষীকরণের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের মনোবিজ্ঞান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে আচরণের সমস্ত ব্যক্তিগত পার্থক্য মূলত বিভিন্ন শেখার অভিজ্ঞতার কারণে ঘটে।[২২] তিনি শিশু বিকাশ নিয়ে ব্যাপকভাবে লিখেছেন এবং গবেষণা পরিচালনা করেছেন, যার মধ্যে লিটল আলবার্ট পরীক্ষা অন্যতম। এই পরীক্ষাটি দেখিয়েছিল যে ধ্রুপদী সাপেক্ষীকরণের মাধ্যমে কোনো বস্তুর প্রতি ভীতি তৈরি করা সম্ভব। ওয়াটসন উইলিয়াম জেমসের 'চেতনার প্রবাহ' পদ্ধতি সংশোধন করে আচরণ তত্ত্ব নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।[২৩] পর্যবেক্ষণযোগ্য এবং পরিমাপযোগ্য আচরণের ওপর ভিত্তি করে বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে তিনি শিশু মনোবিজ্ঞানে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসতে সাহায্য করেছিলেন।[২৩] ওয়াটসনের পথ অনুসরণ করে বি.এফ. স্কিনার এই মডেলটিকে আরও প্রসারিত করেন এবং কারক সাপেক্ষীকরণ ও মৌখিক আচরণের অন্তর্ভুক্ত করেন।[২৪] স্কিনার নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে প্রাণীদের আচরণ পর্যবেক্ষণের জন্য 'অপারেন্ট চেম্বার' বা স্কিনার বক্স ব্যবহার করেন এবং প্রমাণ করেন যে আচরণ পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়। তদুপরি, কাঙ্ক্ষিত আচরণ গঠনে তিনি উৎসাহ এবং শাস্তি ব্যবহার করেছিলেন। শিশুদের আচরণ তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের ওপর দৃঢ়ভাবে নির্ভর করতে পারে।
ফ্রয়েড
[সম্পাদনা]সিগমুন্ড ফ্রয়েড শৈশব থেকে শুরু করে মানুষের বিকাশকে পাঁচটি পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন।[২৫] যৌন তাড়না মানুষের মৌলিক প্রেরণা—তার এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মিল রেখে প্রতিটি পর্যায় শরীরের একটি নির্দিষ্ট অংশ বা কামোদ্দীপক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।[২৬] তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে মানুষের বিকাশের সাথে সাথে তারা তাদের বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট বস্তুর প্রতি আসক্ত বা নিবদ্ধ হয়ে পড়ে।[২৭][২৮] প্রতিটি পর্যায়ে কিছু দ্বন্দ্ব থাকে যা নিরসন করা প্রয়োজন, যাতে শিশুর বিকাশ সঠিকভাবে হতে পারে।[২৯]
অন্যান্য
[সম্পাদনা]বিকাশের আলোচনার কাঠামো হিসেবে গতিশীল ব্যবস্থা তত্ত্বের ব্যবহার ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে শুরু হয় এবং বর্তমানেও তা অব্যাহত রয়েছে।[৩০] এই তত্ত্বটি অ-রৈখিক সংযোগ (যেমন—শৈশব ও পরবর্তী জীবনের সামাজিক দৃঢ়তার মধ্যে সম্পর্ক) এবং কোনো ব্যবস্থার পুনর্গঠিত হওয়ার ক্ষমতার ওপর জোর দেয়, যা অনেকটা পর্যায়ের মতো পরিবর্তন ঘটায়। বিকাশবিদদের জন্য আরেকটি দরকারী ধারণা হলো 'অ্যাট্রাক্টর স্টেট'; এটি এমন একটি অবস্থা (যেমন দাঁত ওঠা বা অপরিচিতদের দেখে ভয় পাওয়া) যা আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন বা সম্পর্কিত আচরণগুলো নির্ধারণ করতে সাহায্য করে।[৩১] গতিশীল ব্যবস্থা তত্ত্ব মোটর বিকাশের অধ্যয়নে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে; সংযুক্তি ব্যবস্থা বা অ্যাটাচমেন্ট সিস্টেম সম্পর্কে বোলবির কিছু মতামতের সাথেও এই তত্ত্বের গভীর মিল রয়েছে। এছাড়া গতিশীল ব্যবস্থা তত্ত্বটি লেনদেনমূলক প্রক্রিয়ার ধারণার সাথেও সম্পর্কিত।[৩২] এটি এমন একটি পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়াশীল প্রক্রিয়া যেখানে শিশু এবং অভিভাবক একে অপরকে একই সাথে প্রভাবিত করে, যা সময়ের সাথে সাথে উভয়ের মধ্যেই উন্নয়নমূলক পরিবর্তন ঘটায়।[৩৩]
"মূল জ্ঞান দৃষ্টিভঙ্গি" হলো শিশু বিকাশের একটি বিবর্তনীয় তত্ত্ব। এটি প্রস্তাব করে যে "শিশুরা তাদের জীবন শুরু করে জন্মগত ও বিশেষ উদ্দেশ্যের জ্ঞান ব্যবস্থার মাধ্যমে, যাকে চিন্তার মূল ডোমেইন বা ক্ষেত্র বলা হয়"।[৩৪] বেঁচে থাকার জন্য এই পাঁচটি ডোমেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো আমাদের প্রাথমিক জ্ঞানীয় ক্ষমতার প্রধান দিকগুলো বিকাশে সহায়তা করে। এগুলো হলো: ভৌত বা শারীরিক, সংখ্যাতাত্ত্বিক, ভাষাগত, মনস্তাত্ত্বিক এবং জীবতাত্ত্বিক।[৩৪]
জ্ঞানের সূচনা
[সম্পাদনা]সবচেয়ে প্রভাবশালী তত্ত্বগুলো শিশুর জন্মের পর থেকে বিকাশে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার অপরিহার্য অবদানের ওপর জোর দেয় (যেমন—ব্রনফেনব্রেনার,[৯] পিয়াজে,[১০] এবং ভাইগটস্কির[১৫] তত্ত্বসমূহ)। এর অর্থ হলো সহজ প্রতিবর্ত ক্রিয়া সম্পন্ন জীব বা শিশুরা যত্ন প্রদানকারীদের সহযোগিতায় পরিবেশকে চিনতে শুরু করে। তবে এই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি—যেমন 'বাইন্ডিং সমস্যা'[৩৫] এবং প্রাথমিক ডেটা এন্ট্রি সমস্যা[৩৬]—বিকাশের এই পর্যায়ে পরিবেশের সাথে অর্থপূর্ণভাবে মিথস্ক্রিয়া করার ক্ষেত্রে শিশুদের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে।[৩৭]
স্নায়ুবিজ্ঞান, শরীরতত্ত্ব এবং পদার্থবিদ্যার গবেষণায় সাম্প্রতিক অগ্রগতি সামাজিক মিথস্ক্রিয়া কীভাবে নবজাতক এবং শিশুদের জ্ঞানীয় ক্ষমতা প্রদান করে সেই জ্ঞানের ঘাটতি পুনর্বিবেচনা করছে। উন্নয়নমূলক মনোবিজ্ঞানী মাইকেল টোমাসেলো 'অংশীদারিত্বমূলক অভিপ্রায়' ধারণাটি প্রবর্তনের মাধ্যমে শিশুদের সামাজিক জ্ঞানের উৎস সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেছেন।[৩৮] তিনি ইচ্ছাশক্তি বা অভিপ্রায় গঠনে জন্মের পরে সামাজিক শিক্ষার সময় ঘটে যাওয়া অচেতন প্রক্রিয়াগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য বিভিন্ন ধারণা উপস্থাপন করেছেন।[৩৮] অন্যান্য গবেষকরা মনো-শারীরবৃত্তীয় গবেষণায় এই সহযোগিতামূলক মিথস্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ধারণাটিকে আরও উন্নত করেছেন।[৩৯][৪০]
এই ধারণাটি এখন জরায়ু বা প্রাক-জন্মকাল পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। লিয়েপায়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণার অধ্যাপক ইগর ভাল দানিলভ মাইকেল টোমাসেলোর ধারণাটিকে প্রসারিত করে একটি 'মা-ভ্রূণ স্নায়ু-জ্ঞানীয় মডেল' প্রবর্তন করেছেন। এটি অংশীদারিত্বমূলক অভিপ্রায়ের সময় ঘটে যাওয়া নিউরোফিজিওলজিক্যাল প্রক্রিয়াগুলোর একটি হাইপোথিসিস।[৩৬][৩৭] এটি শৈশব বিকাশের সূচনা ব্যাখ্যা করে এবং জৈব-ব্যবস্থার জটিলতার বিভিন্ন স্তরে—আন্তঃব্যক্তিক গতিশীলতা থেকে শুরু করে নিউরোনাল মিথস্ক্রিয়া পর্যন্ত—এই সহযোগিতামূলক যোগাযোগকে বর্ণনা করে।[৩৭] 'অংশীদারিত্বমূলক অভিপ্রায়' হাইপোথিসিসটি দাবি করে যে স্নায়ুতন্ত্রের সিঙ্ক্রোনাইজেশন বা সমন্বয় মা-শিশুর জুটির মধ্যে একটি বিশেষ নিউরোনাল সংযোগ প্রদান করে, যা ভ্রূণ অবস্থা থেকেই শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক বিকাশে অবদান রাখে।[৩৭] জ্ঞানীয় বিকাশের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই নিউরোনাল সংযোগ মাকে কোনো একটি নির্দিষ্ট উদ্দীপকের প্রতি শিশুর মনোযোগ আকর্ষণ করতে সাহায্য করে, যা শিশুকে সেই বস্তু সম্পর্কে ধারণা পেতে সহায়তা করে।[৩৭] অংশীদারিত্বমূলক অভিপ্রায়ের এই পূর্বশর্তটি গর্ভাবস্থা থেকেই মা-ভ্রূণ জৈব-ব্যবস্থায় নিউরোনাল সংলগ্নতার কারণে সফল হয়।[৪১] ভ্রূণের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর মায়ের হৃদস্পন্দনের প্রাকৃতিক উদ্দীপনা বাস্তুসংস্থান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জ্ঞানীয় কার্যাবলীসহ স্নায়ুতন্ত্রের সুষম কাঠামো নিশ্চিত করে।[৪২]
স্নায়ুবিজ্ঞানের ক্রমবর্ধমান তথ্যসমূহ 'অংশীদারিত্বমূলক অভিপ্রায়' পদ্ধতিকে সমর্থন করে। হাইপারস্ক্যানিং গবেষণাগুলো দেখায় যে যখন কোনো জুটি একটি যৌথ জ্ঞানীয় কাজ সমাধান করে, তখন সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই তাদের মস্তিষ্কের মধ্যে সমন্বিত কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হয়।[৪৩][৪৪] এই জ্ঞানের তাৎপর্য হলো, যদিও অংশীদারিত্বমূলক অভিপ্রায় অচেতন অবস্থায় সামাজিক সহযোগিতা অর্জনে সক্ষম করে, তবুও এটি সমাজ গঠন করে। এই সামাজিক মিথস্ক্রিয়া যেমন শিশুর বিকাশকে সহজতর করে, তেমনি এটি শিশুদের সামাজিক নিয়ম এবং ব্যক্তিগত মূল্যবোধ গঠনেও অবদান রাখে।[৪৫]
নিরবচ্ছিন্নতা এবং বিচ্ছিন্নতা
[সম্পাদনা]গবেষক এবং যত্ন প্রদানকারীদের কাছে উন্নয়নমূলক মাইলফলকগুলো চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বিকাশের অনেক দিকই নিরবচ্ছিন্ন এবং সেখানে কোনো সুস্পষ্ট মাইলফলক দেখা যায় না।[৪৬] উচ্চতা বৃদ্ধির মতো নিরবচ্ছিন্ন পরিবর্তনগুলো প্রাপ্তবয়স্কদের বৈশিষ্ট্যের দিকে ধাপে ধাপে এবং অনুমানযোগ্য অগ্রগতির মাধ্যমে ঘটে। তবে যখন উন্নয়নমূলক পরিবর্তনগুলো বিচ্ছিন্ন বা অসংলগ্ন হয়, তখন গবেষকরা কেবল বিকাশের মাইলফলকগুলোই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট বয়সের পর্যায়গুলোও চিহ্নিত করতে পারেন। এই পর্যায়গুলো হলো সময়ের এমন কিছু ধাপ (প্রায়ই নির্দিষ্ট বয়সসীমার সাথে যুক্ত), যে সময়ে কোনো আচরণ বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য অন্যান্য বয়সের তুলনায় গুণগতভাবে ভিন্ন হয়। যখন কোনো বয়সসীমাকে একটি 'পর্যায়' বলা হয়, তখন এই শব্দটি কেবল গুণগত পার্থক্যই নয়, বরং উন্নয়নমূলক ঘটনাগুলোর একটি অনুমানযোগ্য ধারাবাহিকতাকেও নির্দেশ করে। ফলে প্রতিটি পর্যায়ের আগে এবং পরে নির্দিষ্ট কিছু সময়কাল থাকে যা বিশেষ আচরণগত বা শারীরিক গুণাবলীর সাথে সম্পর্কিত।[৪৭]
বিকাশের পর্যায়গুলো একে অপরের ওপর আপতিত হতে পারে অথবা বিকাশের অন্যান্য দিক যেমন—কথা বলা বা চলাফেরার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। এমনকি একটি নির্দিষ্ট উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে একটি পর্যায়ে প্রবেশের অর্থ এই নয় যে পূর্ববর্তী পর্যায়টি পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, এরিকসনের পর্যায়গুলোতে তিনি প্রস্তাব করেছেন যে, একজন মানুষ তার সারা জীবন সেই সমস্যাগুলো পুনরায় সমাধান করতে ব্যয় করে যা মূলত শৈশবের পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য ছিল।[৪৮] একইভাবে, জ্ঞানীয় বিকাশ তাত্ত্বিক পিয়াজে এমন পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন যেখানে শিশুরা পরিপক্ক চিন্তাভাবনা ব্যবহার করে এক ধরণের সমস্যার সমাধান করতে পারে, কিন্তু কম পরিচিত সমস্যার ক্ষেত্রে তা করতে পারে না; এই ঘটনাটিকে তিনি 'অনুভূমিক ডেকলেজ' বলেছেন।[৪৯]
কার্যপদ্ধতি
[সম্পাদনা]
যদিও উন্নয়নমূলক পরিবর্তন কালানুক্রমিক বয়সের সাথে সমান্তরালভাবে চলে,[৫০] বয়স নিজে থেকে বিকাশ ঘটাতে পারে না।[৫০] উন্নয়নমূলক পরিবর্তনের মূল কারণ হলো বংশাণুগত এবং পরিবেশগত উপাদান।[৫১] বংশাণুগত উপাদানগুলো কোষীয় পরিবর্তনের জন্য দায়ী যেমন—সামগ্রিক বৃদ্ধি, শরীরের বিভিন্ন অংশ ও মস্তিষ্কের অনুপাতের পরিবর্তন,[৫২] এবং দৃষ্টিশক্তি ও খাদ্যতালিকাগত চাহিদার মতো কার্যকারিতার পরিপক্কতা। যেহেতু জিন বা বংশাণুগুলো 'সক্রিয়' বা 'নিষ্ক্রিয়' হতে পারে,[৫০] তাই একজন ব্যক্তির প্রাথমিক জিনোটাইপ সময়ের সাথে সাথে কার্যকারিতায় পরিবর্তিত হতে পারে, যা আরও উন্নয়নমূলক পরিবর্তনের জন্ম দেয়। বিকাশকে প্রভাবিত করার মতো পরিবেশগত উপাদানগুলোর মধ্যে ডায়েট এবং রোগের সংস্পর্শের পাশাপাশি সামাজিক, আবেগীয় এবং জ্ঞানীয় অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।[৫০] তবে পরিবেশগত কারণগুলো পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, শিশুরা পরিবেশগত অভিজ্ঞতার বেশ বিস্তৃত পরিসরের মধ্যেও টিকে থাকতে সক্ষম।[৪৯]
বংশাণুগত এবং পরিবেশগত উপাদানগুলো স্বাধীন মেকানিজম হিসেবে কাজ করার পরিবর্তে প্রায়ই উন্নয়নমূলক পরিবর্তন ঘটাতে একে অপরের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে।[৫০] শিশু বিকাশের কিছু দিক তাদের নমনীয়তা বা পরিবেশগত কারণগুলোর দ্বারা বিকাশের দিক নির্দেশিত হওয়ার মাত্রার জন্য উল্লেখযোগ্য। যখন বিকাশের কোনো দিক প্রাথমিক অভিজ্ঞতার দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত হয়, তখন বলা হয় যে এটি উচ্চ মাত্রার নমনীয়তা প্রদর্শন করে; আর যখন বংশাণুগত গঠন বিকাশের প্রাথমিক কারণ হয়, তখন নমনীয়তা কম বলে ধরা হয়।[৫৩] নমনীয়তার ক্ষেত্রে হরমোনের মতো অভ্যন্তরীণ উপাদান এবং সংক্রমণের মতো বাহ্যিক উপাদানগুলো দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

পরিবেশ যেভাবে বিকাশকে পরিচালিত করে তার একটি উপায় হলো অভিজ্ঞতা-নির্ভর নমনীয়তা, যেখানে পরিবেশ থেকে শেখার ফলে আচরণ পরিবর্তিত হয়। এই ধরণের নমনীয়তা জীবনকাল জুড়েই ঘটতে পারে এবং অনেক ধরণের আচরণের সাথে যুক্ত হতে পারে। নমনীয়তার দ্বিতীয় ধরণ হলো অভিজ্ঞতা-প্রত্যাশিত নমনীয়তা, যার মধ্যে বিকাশের সীমিত সংবেদনশীল সময়ে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার শক্তিশালী প্রভাব অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, দুই চোখের সমন্বিত ব্যবহার এবং একক ত্রিমাত্রিক চিত্র দেখার অভিজ্ঞতা জীবনের প্রথম বছরের দ্বিতীয়ার্ধে দৃষ্টিশক্তির অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে।[৫০] অভিজ্ঞতা-প্রত্যাশিত নমনীয়তা বিকাশের এমন দিকগুলোকে নিখুঁত করতে কাজ করে যা কেবল বংশাণুগত উপাদানের মাধ্যমে সর্বোত্তম ফলাফল অর্জন করতে পারে না।[৫৪]
নমনীয়তা ছাড়াও, বংশাণু-পরিবেশগত সহসম্পর্ক একজন ব্যক্তির পরিপক্ক বৈশিষ্ট্যগুলো নির্ধারণে বেশ কয়েকটি উপায়ে কাজ করতে পারে। বংশাণু-পরিবেশগত সহসম্পর্ক হলো এমন পরিস্থিতি যেখানে বংশাণুগত উপাদানগুলো পরিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।[৫০] নিষ্ক্রিয় বংশাণু-পরিবেশগত সহসম্পর্কে, একটি শিশু একটি বিশেষ পরিবেশ অনুভব করতে পারে কারণ তার পিতামাতার বংশাণুগত গঠন তাদের এমন একটি পরিবেশ বেছে নিতে বা তৈরি করতে উৎসাহিত করে। উদ্দীপক বংশাণু-পরিবেশগত সহসম্পর্কে, শিশুর বংশাণুগতভাবে উৎপাদিত বৈশিষ্ট্যগুলো অন্য ব্যক্তিদের একটি নির্দিষ্ট উপায়ে সাড়া দিতে বাধ্য করে; উদাহরণস্বরূপ, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত একটি শিশুকে অন্য শিশুদের তুলনায় বেশি সুরক্ষা দেওয়া হতে পারে এবং কম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করা হতে পারে।[৫০] অবশেষে, সক্রিয় বংশাণু-পরিবেশগত সহসম্পর্ক হলো এমন একটি বিষয় যেখানে শিশু নিজেই এমন অভিজ্ঞতা বেছে নেয় যা তার ওপর প্রভাব ফেলে। যেমন—একজন শক্তিশালী ও সক্রিয় শিশু স্কুল পরবর্তী খেলাধুলা বেছে নিতে পারে যা তার অ্যাথলেটিক দক্ষতা বাড়ায়, কিন্তু সে হয়তো সংগীত পাঠ পরিহার করতে পারে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে, শিশুর বৈশিষ্ট্যগুলো বংশাণুগত কারণে, অভিজ্ঞতার কারণে নাকি উভয়ের সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন হয়ে পড়ে।[৫৫]
অসমলয় বিকাশ
[সম্পাদনা]অসমলয় বিকাশ তখন ঘটে যখন কোনো শিশুর জ্ঞানীয়, শারীরিক এবং/অথবা আবেগীয় বিকাশ ভিন্ন ভিন্ন গতিতে হয়। এটি মেধাবী বা প্রতিভাধর শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণ একটি বিষয়, যখন তাদের জ্ঞানীয় বিকাশ তাদের শারীরিক এবং/অথবা আবেগীয় পরিপক্কতাকে ছাড়িয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, একটি শিশু শিক্ষাগতভাবে অনেক এগিয়ে গিয়ে স্কুল গ্রেড লেভেল অতিক্রম করতে পারে, কিন্তু তবুও সে শিশুসুলভ বিষয়ে কান্নাকাটি করতে পারে বা দেখতে তার বয়সের মতোই মনে হতে পারে। অসমলয় বিকাশ বিদ্যালয়, অভিভাবক, ভাইবোন, সহপাঠী এবং শিশুদের নিজেদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এর ফলে শিশুটির পক্ষে অন্যদের সাথে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে অথবা এটি বড়দের জন্য হতাশাজনক হতে পারে যারা শিশুর অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রগতিতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন।[৫৬]
গবেষণার বিষয় এবং পদ্ধতি
[সম্পাদনা]গবেষণার প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- কী বিকশিত হচ্ছে? একজন ব্যক্তির কোন দিকগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিবর্তিত হয়?
- বিকাশের হার এবং গতি কেমন?
- বিকাশের কার্যপদ্ধতি কী—অভিজ্ঞতা এবং বংশগতির কোন দিকগুলো উন্নয়নমূলক পরিবর্তন ঘটায়?
- প্রাসঙ্গিক উন্নয়নমূলক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কি কোনো সাধারণ ব্যক্তিগত পার্থক্য রয়েছে?
- বিকাশের এই দিকটিতে কি জনসংখ্যার কোনো পার্থক্য আছে (উদাহরণস্বরূপ, ছেলে এবং মেয়েদের বিকাশের পার্থক্য)?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার প্রচেষ্টায় পরীক্ষামূলক গবেষণা বেশ কিছু ধরণ অনুসরণ করতে পারে। শুরুতে, প্রাকৃতিক পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা প্রয়োজন হতে পারে যাতে প্রথম বছরের প্রতিবর্ত ক্রিয়ার পরিবর্তনের মতো উন্নয়নমূলক দিকগুলো বর্ণনা ও সংজ্ঞায়িত করা যায়।[৫৭] পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণার পরে সহসম্পর্কিত অধ্যয়ন হতে পারে, যা কালানুক্রমিক বয়স এবং কোনো নির্দিষ্ট বিকাশের (যেমন শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি) তথ্য সংগ্রহ করে।[৫৮] অন্যান্য পদ্ধতির মধ্যে লম্বিক অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যেখানে একদল শিশুকে বড় হওয়ার সাথে সাথে বারবার পরীক্ষা করা হয়; আড়াআড়ি অধ্যয়ন, যেখানে বিভিন্ন বয়সের শিশুদের একদলকে একবার পরীক্ষা করা হয় এবং একে অপরের সাথে তুলনা করা হয়। কিছু শিশু বিকাশ অধ্যয়ন যা বিভিন্ন দলের শিশুদের বৈশিষ্ট্য তুলনা করে অভিজ্ঞতা বা বংশগতির প্রভাব পরীক্ষা করে, সেখানে দৈবচয়িত নকশা ব্যবহার করা সম্ভব হয় না; তবে অন্যান্য গবেষণায় বিভিন্ন হস্তক্ষেপ বা শিক্ষামূলক চিকিৎসা গ্রহণকারী শিশুদের ফলাফলের তুলনা করার জন্য দৈবচয়িত নকশা ব্যবহার করা হয়।[৪৯]
শিশু গবেষণা পদ্ধতি
[সম্পাদনা]নবজাতক এবং শিশুদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা পরিচালনার সময় কিছু মূল দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন।[৫৯] এর মধ্যে রয়েছে যে নবজাতকরা কথা বলতে পারে না, তাদের আচরণের পরিসর সীমিত, তারা নির্দেশাবলী অনুসরণ করতে পারে না এবং তাদের মনোযোগের পরিধি খুব ছোট। এছাড়া নবজাতকরা দ্রুত বিকশিত হয় বলে বিভিন্ন বয়স এবং উন্নয়নমূলক পর্যায়ের জন্য পদ্ধতিগুলো আপডেট করা প্রয়োজন।[৫৯]
হাই-অ্যাম্প্লিচিউড সাকিং টেকনিক হলো নবজাতকদের পছন্দগুলো অন্বেষণ করার একটি সাধারণ উপায় এবং এটি জন্ম থেকে চার মাস পর্যন্ত উপযুক্ত, কারণ এটি শিশুদের চোষা প্রতিবর্ত ক্রিয়ার সুবিধা নেয়।[৬০] এটি পরিমাপ করার সময় গবেষকরা শিশুকে কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর সংস্পর্শে আনার আগে প্রতিটি শিশুর চোষার গতির একটি বেসলাইন তৈরি করেন। এই পদ্ধতিতে দেখা গেছে যে নবজাতকরা যখন তাদের পরিচিত কিছুর (যেমন মায়ের কণ্ঠস্বর) সংস্পর্শে আসে তখন তাদের চোষার গতি স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু নতুন কোনো উদ্দীপকের সংস্পর্শে এলে চোষার গতি বেড়ে যায়।[৬১]
প্রেফারেনশিয়াল-লুকিং টেকনিক ছিল ১৯৬১ সালে রবার্ট এল. ফ্যান্টজ দ্বারা করা একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন।[৫৯] তার পরীক্ষায় তিনি শিশুদের দুটি ভিন্ন উদ্দীপক দেখাতেন। যদি একটি শিশু একটি ছবির দিকে অন্যটির চেয়ে বেশি সময় তাকিয়ে থাকে, তবে দুটি বিষয় অনুমান করা যায়: শিশুটি বুঝতে পারছে যে ছবি দুটি আলাদা এবং শিশুটি কোনো একটি ছবির প্রতি পছন্দ প্রদর্শন করছে। পরীক্ষার ধরণ অনুযায়ী শিশুরা নতুন এবং কৌতূহলোদ্দীপক ছবির দিকে অথবা আরও আরামদায়ক ও পরিচিত ছবির দিকে তাকাতে পছন্দ করতে পারে।[৬২]
আই ট্র্যাকিং হলো শিশুদের পছন্দ দেখার একটি সহজ উপায়। একটি আই ট্র্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে দেখা সম্ভব যে শিশুরা সাধারণত ব্যবহৃত বিশেষ্য শব্দগুলো বোঝে কি না।[৬৩]

শিশুদের জ্ঞানীয় ক্ষমতা অধ্যয়নের আরেকটি অনন্য উপায় হলো অভ্যস্তকরণ, যা হলো একটি শিশুকে বারবার কোনো উদ্দীপক দেখানো যতক্ষণ না তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়।[৬৪] এরপর যখন শিশুদের সামনে একটি নতুন উদ্দীপক উপস্থাপন করা হয় তখন তারা প্রতিক্রিয়া দেখায়, যা তাদের জ্ঞান ও উপলব্ধির ধরণ প্রকাশ করে।[৬৪] এই পদ্ধতি ব্যবহার করে রঙের পছন্দ,[৬৫] এবং বিভিন্ন সংগীতের সুরের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতার মতো বিষয়গুলো অধ্যয়ন করা যেতে পারে।[৬৬]
শিশুদের অধ্যয়নের আরেকটি উপায় হলো মস্তিষ্কের ইমেজিং প্রযুক্তি যেমন—ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) এবং ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাফি (ইইজি)। এমআরআই শিশুদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ, বৃদ্ধি এবং সংযোগ ট্র্যাক করতে ব্যবহার করা যেতে পারে,[৬৭] এমনকি ভ্রূণ অবস্থা থেকেও এটি করা সম্ভব।[৬৮] ইইজি ব্যবহার করে খিঁচুনি এবং এনসেফালোপ্যাথি নির্ণয় করা যেতে পারে।[৬৯]
নৈতিক বিবেচনা
[সম্পাদনা]প্রাপ্তবয়স্কদের গবেষণায় যে সমস্ত নৈতিক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান, শিশুদের ক্ষেত্রেও তার অধিকাংশই প্রযোজ্য, তবে কিছু উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।[৭০] বিশেষ করে অবগত সম্মতি-এর ক্ষেত্রে; গবেষণায় শিশুদের সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা আইনি সম্মতি দিতে পারে না; তাই অভিভাবকদের শিশুদের পক্ষ থেকে অবগত সম্মতি দিতে হয়। তবে শিশুরা অনানুষ্ঠানিক সম্মতি দিতে পারে এবং তাদের মৌখিক ও অমৌখিক সংকেতের মাধ্যমে তারা গবেষণায় অংশগ্রহণ চালিয়ে যেতে চায় কি না তা নির্ভরযোগ্যভাবে পরীক্ষা করা উচিত। এছাড়া গবেষণার পরিবেশে ক্ষমতার কাঠামোর কারণে গবেষকদের এমন ডিজাইন বিবেচনা করতে হবে যাতে শিশুরা কোনোভাবেই বাধ্য বোধ না করে।[৭০]
মাইলফলক
[সম্পাদনা]মাইলফলক হলো নির্দিষ্ট শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতার পরিবর্তন (যেমন—হাঁটা এবং ভাষা বোঝা) যা একটি উন্নয়নমূলক পর্যায়ের সমাপ্তি এবং অন্যটির সূচনাকে চিহ্নিত করে;[৭১] পর্যায়ভিত্তিক তত্ত্বের ক্ষেত্রে মাইলফলক একটি পর্যায় পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। এই মাইলফলকগুলো এবং সাধারণত যে বয়সে এগুলো ঘটে তা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ কখন সম্পন্ন হয় তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে মাইলফলক অর্জনের সময়ের ক্ষেত্রে শিশুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে। কিছু মাইলফলক অন্যদের তুলনায় বেশি পরিবর্তনশীল; উদাহরণস্বরূপ, শ্রবণশক্তির স্বাভাবিক সূচকগুলো শিশুদের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য দেখায় না, তবে কথা বলার মাইলফলকগুলো বেশ পরিবর্তনশীল হতে পারে।[৭২]
শিশু বিকাশে একটি সাধারণ উদ্বেগ হলো বয়স-ভিত্তিক মাইলফলকগুলো অর্জনে বিলম্বিত বিকাশ। উন্নয়নমূলক বিলম্ব প্রতিরোধ করা এবং দ্রুত হস্তক্ষেপ করা শিশু বিকাশের অধ্যয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উন্নয়নমূলক বিলম্ব মাইলফলক অর্জনের গড় বয়সের সাপেক্ষে নয়, বরং সেই মাইলফলকের বয়স-পরিবর্তনশীলতার সীমার সাথে তুলনা করে চিহ্নিত করা হয়।[৭৩]
বিকাশের শারীরিক দিকসমূহ
[সম্পাদনা]শারীরিক বৃদ্ধি
[সম্পাদনা]
| উত্তর আমেরিকান, ইন্দো-ইরানীয় (ভারত, ইরান) এবং ইউরোপীয়দের জন্য ... | |
|---|---|
| মেয়েদের | ছেলেদের |
| |
উচ্চতা এবং ওজনে শারীরিক বৃদ্ধি জন্মের পর ১৫-২০ বছর ধরে ঘটে। জন্মের সময় গড় ওজন ৩.৫ কেজি[রূপান্তর: অজানা একক] এবং দৈর্ঘ্য ৫০ সেন্টিমিটার (২০ ইঞ্চি)* থেকে একজন ব্যক্তি তার চূড়ান্ত প্রাপ্তবয়স্ক আকারে পৌঁছায়। উচ্চতা এবং ওজন বৃদ্ধির সাথে সাথে শরীরের অনুপাতও পরিবর্তিত হয়; নবজাতকের তুলনামূলকভাবে বড় মাথা এবং ছোট ধড় ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনামূলকভাবে ছোট মাথা এবং লম্বা ধড় ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পরিণত হয়।[৭৪] শিশু বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশ্যে লেখা একটি বইয়ে বলা হয়েছে যে, শিশুর বৃদ্ধির ধরণ মাথা থেকে পা পর্যন্ত এবং কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে হয়ে থাকে।[৭৫]
গতি এবং ধরণ
[সম্পাদনা]শারীরিক বৃদ্ধির গতি জন্মের পরের মাসগুলোতে দ্রুত হয়, তারপর ধীর হয়ে যায়। প্রথম চার মাসেই জন্মের ওজন দ্বিগুণ হয়, ১ বছরে তিনগুণ হয়, কিন্তু ২ বছরের আগে চারগুণ হয় না।[৭৬] এরপর বয়ঃসন্ধির ঠিক আগ পর্যন্ত (প্রায় ৯ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে) বৃদ্ধির গতি ধীর থাকে এবং তারপর আবার দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে।[৭৭] শরীরের সমস্ত অংশে বৃদ্ধির হার এবং সময় অভিন্ন নয়। জন্মের সময় মাথার আকার প্রাপ্তবয়স্ক আকারের কাছাকাছি থাকে, কিন্তু শরীরের নিচের অংশগুলো অনেক ছোট থাকে। তাই বিকাশের সময় মাথা তুলনামূলকভাবে কম বাড়ে, যেখানে ধড় এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়।[৭৪]
পরিবর্তনের কারণসমূহ
[সম্পাদনা]বৃদ্ধির হার নির্ধারণে বংশাণুগত উপাদানগুলো প্রধান ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে প্রাথমিক বিকাশের সময় শরীরের অনুপাতের পরিবর্তনগুলোতে। তবে বংশাণুগত উপাদানগুলো কেবল তখনই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে যদি পরিবেশগত অবস্থা অনুকূল থাকে; কারণ দুর্বল পুষ্টি, ঘন ঘন আঘাত বা রোগ একজন ব্যক্তির প্রাপ্তবয়স্ক উচ্চতা কমিয়ে দিতে পারে। তবে বংশগতি দ্বারা নির্ধারিত উচ্চতার চেয়েও বেশি উচ্চতা কোনো অনুকূল পরিবেশও দিতে পারে না।[৭৪]
ব্যক্তিগত পার্থক্য বনাম রোগ
[সম্পাদনা]শৈশবকালে উচ্চতা এবং ওজনের ব্যক্তিগত পার্থক্য উল্লেখযোগ্য হতে পারে। এই পার্থক্যের কিছু কারণ বংশাণুগত বা পরিবেশগত, তবে প্রজননগত পরিপক্কতার ব্যক্তিগত পার্থক্যগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিকাশে প্রবল প্রভাব ফেলে।[৭৪] সাধারণ পরিবর্তনের সীমার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজিস্টস খর্বাকৃতিকে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে যেখানে উচ্চতা নির্দিষ্ট বয়স ও লিঙ্গের গড় উচ্চতা থেকে ২-এর বেশি মানক বিচ্যুতি নিচে থাকে; যা জনসমষ্টির সবচেয়ে খাটো ২.৩% ব্যক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।[৭৮] এর বিপরীতে, শারীরিক বৃদ্ধিতে ব্যর্থতা সাধারণত ওজনের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এটি শিশুর বয়সের তুলনায় কম ওজন অথবা ওজন বৃদ্ধির ধীর হারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যেতে পারে।[৭৯] একই ধরণের আরেকটি শব্দ হলো স্থবির বৃদ্ধি, যা মূলত প্রারম্ভিক শৈশবে অপুষ্টির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বৃদ্ধির হার কমে যাওয়াকে বোঝায়।[৮০]
মোটর দক্ষতা
[সম্পাদনা]
শৈশবজুড়ে শারীরিক ক্ষমতা পরিবর্তিত হয়; যা ছোট শিশুদের প্রধানত প্রতিবর্ত ক্রিয়া (অশিক্ষিত, অনিচ্ছাকৃত চলাচল) থেকে শুরু করে পরবর্তী শৈশব ও বয়ঃসন্ধির উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন স্বেচ্ছামূলক চলাচলে রূপ নেয়।
"মোটর শিখন বলতে অনুশীলনের মাধ্যমে চলাচলের ক্রমবর্ধমান স্থানিক এবং কালিক নির্ভুলতাকে বোঝায়"।[৮১] মোটর দক্ষতাকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে: দৈনন্দিন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক দক্ষতা এবং কর্মসংস্থান বা আগ্রহের ভিত্তিতে বিনোদনমূলক দক্ষতা।
জীবনের শুরুতে মোটর বিকাশের গতি অত্যন্ত দ্রুত হয়, কারণ নবজাতকের অনেক প্রতিবর্ত ক্রিয়া প্রথম বছরের মধ্যেই পরিবর্তিত হয় বা অদৃশ্য হয়ে যায়; এবং পরবর্তী সময়ে এই গতি ধীর হয়। শারীরিক বৃদ্ধির মতো মোটর বিকাশও সেফালোকডাল (মাথা থেকে পা) এবং প্রক্সিমোডিস্টাল (ধড় থেকে প্রান্তীয় অংশ) বিকাশের অনুমানযোগ্য ধরণ অনুসরণ করে। শরীরের নিচের অংশ বা হাত-পায়ের আগে মাথা এবং শরীরের কেন্দ্রীয় অংশগুলোর নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণে আসে।[৮২] চলাচলের ক্ষমতা পর্যায়ক্রমিক ধারাবাহিকভাবে বিকশিত হয়,[৮৩] উদাহরণস্বরূপ: ৬–৮ মাসে চলাচলের ক্ষেত্রে চার হাত-পায়ে হামাগুড়ি দেওয়া অন্তর্ভুক্ত থাকে, এরপর দাঁড়ানোর চেষ্টা করা, কোনো বস্তু ধরে হাঁটা, বড়দের হাত ধরে হাঁটা এবং সবশেষে স্বাধীনভাবে হাঁটা।[৮৩] মধ্য শৈশব এবং বয়ঃসন্ধিকালের মধ্যে নতুন মোটর দক্ষতাগুলো কোনো অনুমানযোগ্য ধারাবাহিকের পরিবর্তে নির্দেশনা বা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত হয়।[৪৬] মস্তিষ্কের কিছু নির্বাহী কার্যাবলী (কার্যকরী স্মৃতি, সময়ের বাধা এবং পরিবর্তন) রয়েছে যা সাধারণত মোটর দক্ষতার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়, যদিও কেউ কেউ এর বিপরীত নির্ভরতার কথা যুক্তি দেখান—যে মোটর দক্ষতা আসলে নির্বাহী কার্যাবলীর পূর্বসূরী।[৮৪][৮৫]
মোটর বিকাশের সাথে জড়িত কার্যপদ্ধতিতে কিছু বংশাণুগত উপাদান রয়েছে যা পেশী ও হাড়ের শক্তি এবং একটি নির্দিষ্ট বয়সে শরীরের অংশগুলোর শারীরিক আকার নির্ধারণ করে। মোটর দক্ষতার সাথে জড়িত মস্তিষ্কের প্রধান অঞ্চলগুলো হলো ফ্রন্টাল কর্টেক্স, প্যারাইটাল কর্টেক্স এবং বেসাল গ্যাংলিয়া। ডরসোলেটারাল ফ্রন্টাল কর্টেক্স কৌশলগত প্রক্রিয়াকরণের জন্য দায়ী, প্যারাইটাল কর্টেক্স সংবেদনশীল-মোটর একীভূতকরণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ এবং বেসাল গ্যাংলিয়া ও সম্পূরক মোটর কর্টেক্স মোটর সিকোয়েন্স বা ধারাবাহিকতার জন্য দায়ী।[৮৬][৮৭]
নবজাতকদের সমন্বয় এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বৃদ্ধির মধ্যে সম্পর্ক দেখানো একটি গবেষণা অনুযায়ী, বংশাণুগত উপাদানগুলো মোটর বিকাশে বিশাল প্রভাব ফেলে।[৮৮] অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অভ্যন্তরীণ সহসম্পর্ক, যেমন নিতম্ব এবং হাঁটুর সন্ধির মধ্যবর্তী দূরত্ব অধ্যয়ন করা হয়েছে এবং এটি প্রমাণিত হয়েছে যে এটি শিশুর হাঁটার ধরণকে প্রভাবিত করে। এছাড়াও কিছু বংশাণুগত কারণ রয়েছে যেমন শরীরের বাম বা ডান দিক বেশি ব্যবহার করার প্রবণতা (যা খুব আগেভাগেই কোন হাতটি প্রধান হবে তা অনুমান করতে সাহায্য করে)। নমুনা টি-টেস্টগুলো দেখিয়েছে যে, কন্যা শিশুদের ক্ষেত্রে ১৮ সপ্তাহে বাম এবং ডান দিকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল এবং সাধারণত ডান দিকটিই প্রধান ছিল।[৮৮] কিছু কারণ হলো জীবতাত্ত্বিক সীমাবদ্ধতা যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, যেমন পুরুষ শিশুদের বাহু বড় এবং লম্বা হওয়ার প্রবণতা থাকে।
বংশাণুসমূহ পেশী শক্তি, নমনীয়তা এবং শরীরের কোনো অংশ কত সহজে ও নির্ভুলভাবে নাড়াচড়া করা যায় তাও নির্ধারণ করে।[৪৬][৮৯] এটিও দেখা গেছে যে ফ্রন্টাল লোব পিছন থেকে সামনের দিকে বিকশিত হয়, যা মোটর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ কারণ ফ্রন্টাল লোবের পিছনের অংশ মোটর কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে। এই ধরণের বিকাশ (যাকে "আনুপাতিক বিকাশ" বলা হয়) ব্যাখ্যা করে কেন শৈশবে মোটর কার্যাবলী সাধারণত দ্রুত বিকশিত হয়, যেখানে যুক্তি বা লজিক যা ফ্রন্টাল লোবের মধ্য ও সামনের অংশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তা সাধারণত উত্তর শৈশব বা বয়ঃসন্ধির আগে বিকশিত হয় না।[৯০] চলাফেরা করার সুযোগ শরীরের অংশগুলোকে বাঁকানো এবং প্রসারিত করার ক্ষমতা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে; মোটর দক্ষতার জন্য এই উভয় ক্ষমতাই প্রয়োজন। এক হাত থেকে অন্য হাতে বস্তু নেওয়ার মতো দক্ষ স্বেচ্ছামূলক নড়াচড়া অনুশীলন এবং শিক্ষার ফলে বিকশিত হয়।[৪৬] মাস্টারি ক্লাইমেট হলো স্বায়ত্তশাসন-সহায়ক পরিবেশ যা একজন শিক্ষক শিশুদের নিজস্ব অনুপ্রেরণায় মোটর দক্ষতা বৃদ্ধি ও শক্তিশালী করার জন্য একটি সফল শিখন পরিবেশ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। এটি শিশুদের অংশগ্রহণ এবং সক্রিয় শিখনে উৎসাহিত করে, যা পিয়াজের জ্ঞানীয় বিকাশ তত্ত্বে প্রারম্ভিক শৈশবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে।[৯১]
ব্যক্তিগত পার্থক্য
[সম্পাদনা]মোটর দক্ষতায় ব্যক্তিগত পার্থক্য খুব সাধারণ এবং এটি আংশিকভাবে শিশুর ওজন ও গঠনের ওপর নির্ভর করে। যেসব শিশুর শারীরিক গঠন তুলনামূলকভাবে ছোট, স্লিম এবং বেশি পরিপক্ক, তারা সাধারণত বড় গঠনের শিশুদের তুলনায় আগে হামাগুড়ি দেয়।[৮৮] বেশি মোটর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিশুদের পেটে ভর দিয়ে আগে হামাগুড়ি দিতে দেখা গেছে। সব শিশু পেটে ভর দিয়ে হামাগুড়ি দেয় না; তবে যারা এই পর্যায়টি এড়িয়ে যায় তারা হাত ও হাঁটুর ওপর হামাগুড়ি দেওয়ায় ততটা দক্ষ হয় না।[৯২] শৈশবকাল পেরিয়ে যাওয়ার পর, ব্যক্তিগত পার্থক্যগুলো অনুশীলন, পর্যবেক্ষণ এবং নির্দিষ্ট নড়াচড়ার ওপর নির্দেশনার সুযোগ দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত হয়। ৪–৬ মাসের পরেও আদিম প্রতিবর্ত ক্রিয়ার স্থায়িত্ব বা দেরিতে হাঁটা উন্নয়নমূলক বিলম্ব অথবা অটিজম, সেরিব্রাল পালসি বা ডাউন সিনড্রোমের মতো অবস্থার ইঙ্গিত হতে পারে।[৪৬] নিম্নতর মোটর সমন্বয়ের ফলে জটিল কাজে গতির নির্ভুলতা বজায় রাখতে সমস্যা হয়। শিশুদের তাদের অনন্য ব্যক্তিত্বের সাথে মানানসই কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা তাদের নতুন দক্ষতা অর্জন এবং বিভিন্ন পরিবেশে বেড়ে ওঠার একটি কার্যকর উপায়। উদাহরণস্বরূপ, একজন স্বাভাবিকভাবে লাজুক শিশু ড্রামা ক্লাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে, যেখানে সে অন্যদের সামনে আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজেকে প্রকাশ করতে শিখবে। একইভাবে, একজন প্রতিযোগিতামূলক শিশু স্পোর্টস টিমে ভালো করতে পারে যেখানে সে দলগত কাজ এবং খেলোয়াড়ি মনোভাবের মূল্য বুঝতে পারবে। সুসংগঠিত খেলাধুলা একটি শিশুকে নেতৃত্ব এবং দলগত কাজের মতো প্রয়োজনীয় জীবন দক্ষতা বিকাশের অসংখ্য সুযোগ প্রদান করতে পারে। দলগত কাজের মাধ্যমে শিশু একটি সাধারণ লক্ষ্যের দিকে একসাথে কাজ করার মূল্য শেখে এবং বুঝতে পারে যে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্যই সব নয়। শৈশবে বা কৈশোরে কাজের অভিজ্ঞতা সময়ের ব্যবস্থাপনা এবং দায়বদ্ধতা শেখার সুযোগ করে দেয়।
প্রতিবন্ধী শিশু
[সম্পাদনা]ডাউন সিনড্রোম বা উন্নয়নমূলক সমন্বয় ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুদের চোষা, ধরা, গড়াগড়ি খাওয়া, উঠে বসা, হাঁটা এবং কথা বলার মতো প্রধান মোটর মাইলফলকগুলোতে পৌঁছাতে দেরি হয়। ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুদের মাঝে মাঝে হার্টের সমস্যা, ঘন ঘন কানের সংক্রমণ বা পেশী ভরের অনুন্নত হওয়ার সমস্যা থাকে। শিশুদের শিখন অক্ষমতাও নির্ণয় করা হতে পারে, যা ভাষা, পড়া এবং গণিত সংক্রান্ত যে কোনো ক্ষেত্রে হতে পারে; যার মধ্যে পড়ার অক্ষমতাই সবচেয়ে সাধারণ। শিখন অক্ষমতার সংজ্ঞা শিশুর শিক্ষাগত অর্জন এবং তাদের শেখার আপাত ক্ষমতার মধ্যে পার্থক্যের ওপর গুরুত্ব দেয়।[৯৩]
জনসমষ্টিগত পার্থক্য
[সম্পাদনা]একটি শিশু যে সংস্কৃতিতেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন, তারা কিছু মৌলিক জ্ঞান নিয়ে জন্মায় যা তাদের পরিবেশ বুঝতে এবং মোটর দক্ষতা ব্যবহার করে আগের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শিখতে সাহায্য করে। মোটর বিকাশে জনসমষ্টিগত কিছু পার্থক্য রয়েছে, যেখানে মেয়েরা ছোট পেশীর ব্যবহারে (যেমন ঠোঁট এবং জিহ্বা দিয়ে শব্দের উচ্চারণ) কিছুটা সুবিধা দেখায়। নবজাতক শিশুদের প্রতিবর্ত ক্রিয়ার ক্ষেত্রে জাতিগত পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে, যা নির্দেশ করে যে এখানে কোনো জীবতাত্ত্বিক কারণ কাজ করছে। সাংস্কৃতিক পার্থক্যগুলো নির্দিষ্ট মোটর দক্ষতা শিখতে উৎসাহিত করতে পারে, যেমন শুধুমাত্র স্যানিটারি কাজে বাম হাত ব্যবহার করা এবং অন্য সব কাজে ডান হাত ব্যবহার করা, যা একটি জনসমষ্টিগত পার্থক্য তৈরি করে।[৯৪] সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো অনুশীলিত স্বেচ্ছামূলক নড়াচড়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে, যেমন ফুটবল ড্রিবল করার জন্য পায়ের ব্যবহার বা বাস্কেটবল ড্রিবল করার জন্য হাতের ব্যবহার।[৪৬]
বিকাশের মানসিক এবং আবেগীয় দিকসমূহ
[সম্পাদনা]জ্ঞানীয়/বুদ্ধিবৃত্তিক
[সম্পাদনা]জ্ঞানীয় বিকাশ মূলত সেইসব উপায়ের সাথে সম্পর্কিত যার মাধ্যমে ছোট শিশুরা তাদের অভ্যন্তরীণ মানসিক ক্ষমতা যেমন—সমস্যা সমাধান, স্মৃতি এবং ভাষা অর্জন ও ব্যবহার করে।[৯৫]
কার্যপদ্ধতি
[সম্পাদনা]জ্ঞানীয় বিকাশে বংশাণুগত এবং অন্যান্য জীবতাত্ত্বিক কার্যপদ্ধতি রয়েছে, যা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতার অনেক বংশাণুগত কারণের মধ্যে দেখা যায়। খাদ্য ও পুষ্টি, পিতামাতার সাড়া প্রদান, ভালোবাসা, দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা এবং শারীরিক পরিশ্রম শিশুদের প্রারম্ভিক মস্তিষ্কের বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে।[৯৬] যদিও ধারণা করা হয় যে মস্তিষ্কই জ্ঞানের কারণ, তবে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট পরিবর্তনগুলো পরিমাপ করা এবং সেগুলো যে জ্ঞানীয় পরিবর্তন ঘটায় তা সরাসরি দেখানো এখনও সম্ভব নয়। জ্ঞানের উন্নয়নমূলক অগ্রগতি অভিজ্ঞতা এবং শিখনের সাথেও সম্পর্কিত, বিশেষ করে উচ্চ-স্তরের ক্ষমতা যেমন বিমূর্ত চিন্তা করার ক্ষেত্রে, যা অনেকটা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর নির্ভর করে।[৪৬]
গতি এবং ধরণ
[সম্পাদনা]প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে করা কাজের মাধ্যমে কালিক প্যাটার্ন শেখার ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। কালিক শিখন নির্ভর করে কর্মের ধারাবাহিকের সাথে সময়ের প্যাটার্ন একীভূত করার প্রক্রিয়ার ওপর। ৬–১৩ বছর বয়সী শিশু এবং তরুণ প্রাপ্তবয়স্করা একটি সিরিয়াল রেসপন্স টাইম টাস্ক সম্পন্ন করে যেখানে পর্যায়ক্রমে প্রতিক্রিয়া এবং সময় উপস্থাপন করা হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে যে শিখন প্রক্রিয়া শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য গড়ে একই রকম ছিল তবে শিশুদের ক্ষেত্রে বয়সের সাথে সাথে এটি বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাহী কার্যাবলী এবং প্রতিক্রিয়ার গতিও বয়সের সাথে উন্নত হয়। সামগ্রিকভাবে, ফলাফলগুলো নির্দেশ করে যে প্রাক-কৈশোর পর্যায়ে কালিক শিখন বিকশিত হতে থাকে এবং এই ক্ষমতা অর্জনে পরিপক্ক নির্বাহী কার্যাবলী বা প্রক্রিয়াকরণের গতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।[৯৭]
ব্যক্তিগত পার্থক্য
[সম্পাদনা]নির্দিষ্ট জ্ঞানীয় ক্ষমতা অর্জনের বয়সের ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যক্তিগত পার্থক্য থাকে, তবে শিল্পোন্নত দেশগুলোতে শিশুদের স্কুলিং এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে করা হয় যে সেখানে খুব বড় কোনো পার্থক্য নেই।[৪৬] যেসব সংস্কৃতিতে কাজ এবং স্বাধীন জীবনযাপনের জন্য উন্নত জ্ঞানীয় দক্ষতার প্রয়োজন হয়, সেখানে জ্ঞানীয় বিকাশে বিলম্ব শিশুদের জন্য সমস্যাযুক্ত হতে পারে।[৪৬] দৈনন্দিন জ্ঞানীয় দক্ষতার মধ্যে সমস্যা সমাধান, যুক্তি এবং বিমূর্ত চিন্তাসহ আরও অনেক কিছু অন্তর্ভুক্ত।[৯৮] এই জীবন দক্ষতার অভাবে শিশুদের সময়মতো কাজ শেষ করতে বা কোনো নির্দেশ বুঝতে অসুবিধা হতে পারে। যদি কোনো বিলম্ব লক্ষ্য করা যায়, তবে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে সমস্যার উৎস খুঁজে বের করা সম্ভব হতে পারে;[৯৯] যদি কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যা না থাকে তবে শিশুর সাথে বই পড়ে, খেলাধুলা করে বা বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে তাদের সহায়তা করা গুরুত্বপূর্ণ।[৯৯]
জনসমষ্টিগত পার্থক্য
[সম্পাদনা]জ্ঞানীয় বিকাশে জনসমষ্টিগত পার্থক্য খুব কম: ছেলে এবং মেয়েরা তাদের দক্ষতা ও পছন্দের ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য দেখায়, তবে তাদের মধ্যে অনেক বেশি মিলও রয়েছে।[৪৬] প্রায় চার বছর বয়স পর্যন্ত মেয়েরা কিছু দক্ষতা পরীক্ষায় ছেলেদের চেয়ে ভালো ফলাফল করে, তবে ছয় বা সাত বছর বয়সে ছেলে ও মেয়েরা প্রায় সমান নম্বর পায়। আইকিউ টেস্টের ক্ষেত্রেও এটি সত্য যেখানে শুরুতে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই ব্যবধান কমে যায়।[১০০] বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যে জ্ঞানীয় অর্জনের পার্থক্য মূলত সাংস্কৃতিক বা অন্যান্য পরিবেশগত কারণ থেকে উদ্ভূত বলে মনে হয়।[৪৬]
সামাজিক-আবেগীয়
[সম্পাদনা]উপাদানসমূহ
[সম্পাদনা]নবজাতক শিশুরা সাধারণত ভয় অনুভব করে না বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ পছন্দ প্রদর্শন করে না। জীবনের প্রথম কয়েক মাসে তারা কেবল আনন্দ, দুঃখ এবং রাগ অনুভব করে।[১০১][১০২] একটি শিশুর প্রথম হাসি সাধারণত ৬ থেকে ১০ সপ্তাহের মধ্যে দেখা যায়; যেহেতু এটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার সময় ঘটে, তাই একে "সামাজিক হাসি" বলা হয়।[১০৩] প্রায় ৮-১২ মাস বয়সের মধ্যে তাদের মধ্যে একটি দ্রুত পরিবর্তন ঘটে এবং তারা ধারণাকৃত হুমকির প্রতি ভীত হয়ে ওঠে।[১০৪] প্রায় ৬-৩৬ মাসের মধ্যে শিশুরা পরিচিত ব্যক্তিদের পছন্দ করতে শুরু করে এবং তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে বা অপরিচিত কেউ কাছে আসলে উদ্বেগ ও কষ্ট প্রকাশ করে।[১০৫]
বিচ্ছেদকালীন উদ্বেগ বা সেপারেশন অ্যাংজাইটি একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত বিকাশের একটি স্বাভাবিক অংশ। পা ছোড়া, চিৎকার করা এবং মেজাজ দেখানো হলো বিচ্ছেদকালীন উদ্বেগের স্বাভাবিক উপসর্গ। এই উপসর্গগুলোর তীব্রতার মাত্রা নির্ধারণ করতে সাহায্য করতে পারে যে একটি শিশুর বিচ্ছেদকালীন উদ্বেগ ব্যাধি আছে কি না; যা মূলত ঘটে যখন একটি শিশু ক্রমাগত এবং তীব্রভাবে অভিভাবকের কাছ থেকে আলাদা হতে অস্বীকার করে।[১০৬]
সহমর্মিতার ক্ষমতা এবং সামাজিক নিয়ম বোঝার প্রক্রিয়া প্রাক-স্কুল সময়কাল থেকে শুরু হয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বিকশিত হতে থাকে। মধ্য শৈশব সমবয়সীদের সাথে বন্ধুত্বের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয় এবং বয়ঃসন্ধিকাল যৌনতার সাথে যুক্ত আবেগ এবং রোমান্টিক প্রেমের সূচনার মাধ্যমে চিহ্নিত হয়। রাগ সাধারণত টডলার এবং প্রাক-স্কুল সময়ের শুরুর দিকে এবং বয়ঃসন্ধিকালের সময় সবচেয়ে তীব্র বলে মনে হয়।[৪৬]
গতি এবং ধরণ
[সম্পাদনা]সামাজিক-আবেগীয় বিকাশের কিছু দিক, যেমন সহমর্মিতা, ধীরে ধীরে বিকশিত হয়; তবে ভয়ভীতির মতো অন্যান্য দিকগুলো শিশুর আবেগের অভিজ্ঞতার একটি আকস্মিক পুনর্গঠন বলে মনে হয়।[৪৬] যৌন এবং রোমান্টিক আবেগগুলো শারীরিক পরিপক্কতার সাথে যুক্ত হয়ে বিকশিত হয়।[৪৬]
কার্যপদ্ধতি
[সম্পাদনা]বংশাণুগত উপাদানগুলো নির্দিষ্ট বয়সে ঘটা কিছু সামাজিক-আবেগীয় বিকাশকে নিয়ন্ত্রণ করে বলে মনে হয়, যেমন ভয়ভীতি এবং পরিচিত ব্যক্তিদের প্রতি সংযুক্তি। কোন ব্যক্তিরা পরিচিত হবে, কোন সামাজিক নিয়ম পালন করা হবে এবং কীভাবে রাগ প্রকাশ করা হবে তা নির্ধারণে অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।[৪৬]
অভিভাবকত্বের ধরণ বা লালন-পালন পদ্ধতি শিশুদের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। মায়েরা তাদের সন্তানদের সাথে কতটুকু সময় ব্যয় করেন এবং তাদের মিথস্ক্রিয়ার মান কেমন, তা শিশুদের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই যৌথ কার্যকলাপের সময়গুলো শুধুমাত্র ইতিবাচক অভিভাবকত্বই প্রতিফলিত করে না, বরং এগুলো আদর্শ আচরণ প্রদর্শন, সুদৃঢ়করণ, অংশীদারিত্বমূলক মনোযোগ এবং সামাজিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে।[১০৭]
জনসমষ্টিগত পার্থক্য
[সম্পাদনা]বয়সে বড় শিশুদের মধ্যে জনসমষ্টিগত পার্থক্য দেখা দিতে পারে; উদাহরণস্বরূপ, যদি তারা শেখে যে ছেলেদের জন্য আবেগ প্রকাশ করা বা মেয়েদের তুলনায় ভিন্নভাবে আচরণ করা উপযুক্ত, অথবা যদি এক জাতিগত গোষ্ঠীর শিশুদের শেখা প্রথা অন্য গোষ্ঠীর থেকে ভিন্ন হয়।[১০৮] একই বয়সের ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে সামাজিক এবং আবেগীয় পার্থক্য দুই লিঙ্গের মধ্যে বয়ঃসন্ধির সময়ের পার্থক্যের সাথেও যুক্ত হতে পারে।[৪৬]
ভাষা এবং যোগাযোগের বিকাশ
[সম্পাদনা]কার্যপদ্ধতি
[সম্পাদনা]ভাষা মূলত শব্দ, সংকেত বা লিখিত চিহ্নের একটি পদ্ধতিগত এবং প্রচলিত ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করার যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।[১০৯] ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য একটি শিশুকে চারটি উপ-উপাদান জানতে হয়: ধ্বনিতত্ত্ব, শব্দভাণ্ডার, রূপতত্ত্ব ও বাক্যতত্ত্ব এবং প্রয়োগতত্ত্ব।[১১০] এই উপ-উপাদানগুলো একত্রিত হয়ে ভাষার মূল উপাদানগুলো গঠন করে: সমাজভাষাবিজ্ঞান এবং সাক্ষরতা।[১০৯] বর্তমানে ভাষা অর্জনের কোনো একক স্বীকৃত তত্ত্ব নেই, তবে ভাষা বিকাশের বিভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
উপাদানসমূহ
[সম্পাদনা]ভাষা বিকাশের চারটি উপাদানের মধ্যে রয়েছে:
ধ্বনিতত্ত্ব ভাষার ধ্বনি নিয়ে কাজ করে।[১১১] এটি ভাষাগত উপাদান হিসেবে ধ্বনির কাজ, আচরণ এবং সংগঠন।[১১২] ধ্বনিতত্ত্ব বিবেচনা করে যে ভাষার ধ্বনিগুলো কী এবং ধ্বনিগুলো একত্রিত করার নিয়মগুলো কী। শিশুদের মধ্যে ধ্বনিতত্ত্ব অর্জন বিভিন্ন স্বরবর্ণ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ তৈরির ফ্রিকোয়েন্সি এবং নির্ভুলতা বা ধ্বনিগত বৈপরীত্য অর্জনের মাধ্যমে পরিমাপ করা যেতে পারে।[১১৩]
শব্দভাণ্ডার অনেকটা ভোকাবুলারির মতো, কারণ উভয়ই কথা বলা এবং বোঝার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দের জটিল অভিধানকে বর্ণনা করে।[১১৪] কোনো ভাষার শব্দভাণ্ডারে সেই ভাষার মোর্ফিম বা রূপমূলসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকে। রূপমূলগুলো ভাষার ক্ষুদ্রতম অর্থবহ একক হিসেবে কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, "cat" শব্দটিতে "cat" অংশটি অর্থপূর্ণ, যেমনটি "at"-ও অর্থপূর্ণ, কিন্তু "at" এবং "cat" একই অর্থ প্রকাশ করে না। এই উদাহরণে "ca" কোনো অর্থ প্রকাশ করে না।
রূপতত্ত্ব হলো শব্দ এবং সেগুলো কীভাবে গঠিত হয় তার অধ্যয়ন। এটি ভাষাবিজ্ঞানের সেই শাখা যা শব্দ, তাদের অভ্যন্তরীণ গঠন এবং শব্দ তৈরির মানসিক ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে।[১১৫]
প্রয়োগতত্ত্ব হলো ভাষাগত রূপ এবং সেই ভাষার বক্তাদের মধ্যে সম্পর্কের অধ্যয়ন; এটি আরও অন্তর্ভুক্ত করে যে কীভাবে কথা বলা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। প্রয়োগতত্ত্বকে অন্যের কাছে নিজের অনুভূতি এবং ইচ্ছা প্রকাশ করার ক্ষমতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে।[১১৬]
শিশুদের ভাষা বিকাশের মধ্যে অর্থতত্ত্ব অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা হলো শব্দের সাথে অর্থ যুক্ত করা। এটি তিনটি পর্যায়ে ঘটে। প্রথমত, প্রতিটি শব্দ একটি সম্পূর্ণ বাক্য বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ, একটি ছোট শিশু "মা" বলতে পারে কিন্তু শিশুটি বোঝাতে পারে "এখানে মা", "মা কোথায়?", অথবা "আমি মাকে দেখছি।" দ্বিতীয় পর্যায়ে, শব্দের অর্থ থাকে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা থাকে না। এই পর্যায়টি দুই বা তিন বছর বয়সের দিকে ঘটে। তৃতীয়ত, সাত বা আট বছর বয়সের দিকে শব্দগুলোর প্রাপ্তবয়স্কদের মতো সংজ্ঞা থাকে এবং সেগুলোর অর্থ আরও পূর্ণাঙ্গ হয়।[১১৭]
একটি শিশু তার ভাষার বাক্যতত্ত্ব শেখে যখন তারা শব্দগুলোকে একত্রে বাক্যে পরিণত করতে পারে এবং অন্য মানুষের বলা একাধিক শব্দের বাক্য বুঝতে পারে। শিশুর বাক্যতত্ত্ব অর্জনের প্রধান ছয়টি পর্যায় রয়েছে বলে মনে হয়।[১১৮] প্রথমত, বাক্যের মতো শব্দের ব্যবহার যেখানে শিশু অতিরিক্ত কণ্ঠস্বর এবং শারীরিক সংকেত ব্যবহার করে একটি শব্দের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। এই পর্যায়টি সাধারণত ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের মধ্যে ঘটে। দ্বিতীয়ত, ১৮ মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে রূপান্তর পর্যায় থাকে যেখানে শিশুরা একটি মূল শব্দ পরিবর্তনের মাধ্যমে ধারণা প্রকাশ করে। তৃতীয় পর্যায়টি দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ঘটে, যেখানে শিশু ধারণা প্রকাশের জন্য পূর্ণাঙ্গ 'উদ্দেশ্য-বিধেয়' কাঠামো ব্যবহার করে। চতুর্থত, শিশুরা মৌলিক বাক্য কাঠামোর পরিবর্তন ঘটায় যা তাদের আরও জটিল ধারণা প্রকাশ করতে সক্ষম করে। এই পর্যায়টি আড়াই থেকে চার বছর বয়সের মধ্যে ঘটে। শ্রেণীকরণের পঞ্চম পর্যায়ে সাড়ে তিন থেকে সাত বছর বয়সী শিশুরা আরও উদ্দেশ্যমূলক শব্দ চয়নের মাধ্যমে তাদের বাক্যগুলোকে নিখুঁত করে। পরিশেষে, পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সের মধ্যে শিশুরা ভাষার এমন কাঠামো ব্যবহার করে যেখানে বাক্যতাত্ত্বিক সম্পর্কগুলো আরও জটিল হয়।[১১৮]
ক্রমিক দক্ষতা এবং মাইলফলক
[সম্পাদনা]| শিশুর বয়স (মাস হিসেবে) | ভাষাগত দক্ষতা |
|---|---|
| ০–৩ | স্বরধ্বনি নিয়ে খেলা: কান্না, কুঁজন, গড়গড় শব্দ, গোঙানি |
| ৩+ | ব্যাব্লিং: অস্পষ্ট ধ্বনিসমূহ |
| ৬–১০ | ব্যাব্লিং: ক্যানোনিক্যাল বা পুনরাবৃত্তিমূলক সিলেবল |
| ৯+ | অনুকরণ |
| ৮–১৮ | প্রথম শব্দ |
| ১৩–১৫ | ভাবপ্রকাশক অস্পষ্ট বুলি, সুরযুক্ত বাক্য |
| ১৩–১৯ | ১০ শব্দের শব্দভাণ্ডার |
| ১৪–২৪ | ৫০ শব্দের শব্দভাণ্ডার |
| ১৩–২৭ | এক শব্দের পর্যায় এবং কিছু বাক্য; ২–৩ শব্দের সংমিশ্রণ; আর্টিকেল: a/the; বহুবচন: -s |
| ২৩–২৪ | অনিয়মিত অতীতকাল: went, মডাল এবং ভার্ব: can/will; ২৮ থেকে ৪৩৬ শব্দের শব্দভাণ্ডার; প্রতি ঘন্টায় ৯৩–২৬৫টি উচ্চারণ |
| ২৫–২৭ | নিয়মিত অতীতকাল: -ed; অক্সিলিয়ারি "be": -'m, -'s |
| ২৩–২৬ | থার্ড পারসন সিঙ্গুলার: -s; ৮৯৬ থেকে ১,৫০৭ শব্দের শব্দভাণ্ডার; প্রতি ঘন্টায় ১,৫০০ থেকে ১,৭০০ শব্দ |
শিশুরা কুঁজন এবং নরম স্বরধ্বনির মাধ্যমে শুরু করে। জন্মের কিছু পরেই এই ব্যবস্থাটি বিকশিত হয় কারণ শিশুরা বুঝতে শুরু করে যে তাদের শব্দ বা অমৌখিক যোগাযোগ তাদের যত্নকারীর কাছ থেকে একটি প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।[১২০] এটি পরে প্রায় ৫ মাস বয়সে ব্যাব্লিং-এ পরিণত হয়, যেখানে শিশুরা প্রথমে ব্যঞ্জনবর্ণ এবং স্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারণ করে যা শুনতে "মা" বা "দা" এর মতো হতে পারে।[১২১] প্রায় ৮ মাস বয়সে ব্যাব্লিং বৃদ্ধি পায় এবং এতে শব্দের পুনরাবৃত্তি অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমন "মা-মা" এবং "দা-দা"। এই বয়সে শিশুরা শব্দের ধরণ এবং কোন ধ্বনির পরে কোন ধ্বনি আসার সম্ভাবনা বেশি তা শেখে।[১২১] এই পর্যায়ে শিশুর অনেক যোগাযোগই ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি শিশু খেলনার ঘরে তার অভিভাবকের সাথে থাকার সময় "বাহ" বলে, তবে এটি সম্ভবত "বল" হিসেবে ব্যাখ্যা করা হবে কারণ খেলনাটি সামনেই রয়েছে। তবে প্রেক্ষাপট না জেনে রেকর্ড করা ফিতায় একই 'শব্দ' শুনলে শিশুটি কী বলতে চেয়েছিল তা বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে।[১২০]
অন্যদের কথা বোঝার ক্ষমতা বা গ্রহণমূলক ভাষা প্রায় ৬ মাস বয়স থেকে ধীরে ধীরে বিকশিত হতে শুরু করে।[১২২] তবে শব্দ তৈরির ক্ষমতা বা প্রকাশমূলক ভাষা এক বছর বয়স থেকে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং দ্বিতীয় বছরের মাঝামাঝি সময়ে দ্রুত শব্দ অর্জনের একটি "শব্দভাণ্ডার বিস্ফোরণ" ঘটে।[১২২] ব্যাকরণগত নিয়ম এবং শব্দের সংমিশ্রণ প্রায় দুই বছর বয়সে দেখা দেয়।[১২২] ২০ থেকে ২৮ মাসের মধ্যে শিশুরা উঁচু ও নিচু, গরম ও ঠান্ডার মধ্যে পার্থক্য বোঝা থেকে শুরু করে "না" কে "একটু দাঁড়াও", "এখন না" এবং "কেন"-তে পরিবর্তন করতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত তারা শব্দের সাথে সর্বনাম যুক্ত করতে এবং সেগুলোকে একত্রিত করে ছোট বাক্য তৈরি করতে সক্ষম হয়।[১২০] শব্দভাণ্ডার এবং ব্যাকরণ আয়ত্ত করার প্রক্রিয়া প্রাক-স্কুল এবং স্কুল বছরগুলোতেও চলতে থাকে। কিশোর-কিশোরীদের শব্দভাণ্ডার প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় ছোট হয় এবং তারা প্যাসিভ ভয়েসের মতো কাঠামোর ক্ষেত্রে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়।[১২২]
১ বছর বয়সের মধ্যে শিশুরা ১-২টি শব্দ বলতে পারে, নিজের নামে সাড়া দেয়, পরিচিত শব্দ অনুকরণ করে এবং সহজ নির্দেশাবলী অনুসরণ করতে পারে।[১২১] ১-২ বছর বয়সের মধ্যে শিশু ৫-২০টি শব্দ ব্যবহার করে, ২ শব্দের বাক্য বলে, "আরও" বা "উপরে" এর মতো শব্দ বলে নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং "না" শব্দটি বোঝে।[১২১] ২ থেকে ৩ বছর বয়সের মধ্যে শিশু নিজেকে "আমি" হিসেবে উল্লেখ করতে পারে, বিশেষ্য ও ক্রিয়া একত্রিত করতে পারে, ছোট বাক্য এবং কিছু সহজ বহুবচন ব্যবহার করতে পারে, "কোথায়" প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে এবং তার শব্দভাণ্ডারে প্রায় ৪৫০টি শব্দ থাকে।[১২১] ৪ বছর বয়সের মধ্যে শিশুরা ৪-৫ শব্দের বাক্য ব্যবহার করতে পারে এবং তাদের শব্দভাণ্ডারে প্রায় ১০০০টি শব্দ থাকে।[১২১] ৪ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরা অতীতকাল ব্যবহার করতে পারে, তাদের শব্দভাণ্ডারে প্রায় ১,৫০০টি শব্দ থাকে এবং তারা "কেন?" এবং "কে?" এর মতো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে।[১২১] ৬ বছর বয়সের মধ্যে শিশুর শব্দভাণ্ডারে ২,৬০০টি শব্দ থাকে, তারা ৫-৬ শব্দের বাক্য তৈরি করতে পারে এবং বিভিন্ন ধরণের বাক্য ব্যবহার করতে সক্ষম হয়।[১২১] ৫ বা ৬ বছর বয়সের মধ্যে অধিকাংশ শিশু তাদের মাতৃভাষার মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত করে ফেলে।[১২১]
১৫ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুরা তাদের মাতৃভাষার পরিচিত শব্দগুলো অপরিচিত কোনো উচ্চারণে বললে তা বুঝতে পারে না।[১২৩] এর অর্থ হলো কানাডিয়ান-ইংরেজি ভাষায় কথা বলা একটি শিশু অস্ট্রেলিয়ান-ইংরেজি উচ্চারণে পরিচিত শব্দগুলো চিনতে পারে না। এই দক্ষতা তাদের দ্বিতীয় জন্মদিনের কাছাকাছি সময়ে বিকশিত হয়।[১২৩] তবে পরীক্ষার আগে যদি কোনো পরিচিত গল্প নতুন উচ্চারণে পড়ে শোনানো হয়, তবে তারা তা বুঝতে পারে; যা নির্দেশ করে যে কথ্য ভাষার মৌলিক কার্যাবলী পূর্বের ধারণার চেয়েও আগে থেকেই কার্যকর থাকে।[১২৩]
শব্দভাণ্ডার সাধারণত ১৮ মাস বয়সে ২০টি শব্দ থেকে ২১ মাস বয়সে প্রায় ২০০টি শব্দে বৃদ্ধি পায়। প্রায় ১৮ মাস থেকে শিশু শব্দগুলোকে দুই শব্দের বাক্যে একত্রিত করতে শুরু করে, যা প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত অর্থ পরিষ্কার করার জন্য প্রসারিত করে। ২৪-২৭ মাসের মধ্যে শিশু যৌক্তিক বাক্যতত্ত্ব ব্যবহার করে তিন বা চার শব্দের বাক্য তৈরি করে।[১২২] একটি তত্ত্ব হলো শিশুরা একগুচ্ছ মৌলিক নিয়ম প্রয়োগ করে যেমন বহুবচনের জন্য 's' যুক্ত করা অথবা খুব জটিল শব্দের বদলে সহজ শব্দ তৈরি করা, যেমন চকলেট বিস্কুটের বদলে "চসকিট"।[১২২] এর পরেই ব্যাকরণগত নিয়ম এবং বাক্যের ক্রম দ্রুত প্রকাশ পায়।[১২২] প্রায়ই ছড়ার প্রতি আগ্রহ দেখা দেয় এবং কল্পনাপ্রসূত খেলায় কথোপকথন অন্তর্ভুক্ত থাকে। শিশুদের রেকর্ডকৃত মনোলোগ বা স্বগতোক্তি তথ্যগুলোকে অর্থপূর্ণ ইউনিটে সংগঠিত করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেয়।[১২২]
তিন বছর বয়সের মধ্যে শিশু রিলেটিভ ক্লজসহ জটিল বাক্য ব্যবহার করতে শুরু করে, যদিও তারা তখনও বিভিন্ন ভাষাগত ব্যবস্থা নিখুঁত করার পর্যায়ে থাকে। পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে শিশুর ভাষা ব্যবহার প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই হয়। প্রায় তিন বছর বয়স থেকে শিশুরা ফ্যান্টাসি বা কল্পিত ভাষা ব্যবহার করতে পারে, শুরু এবং শেষসহ সুসংগত ব্যক্তিগত গল্প এবং কাল্পনিক কাহিনী তৈরি করতে পারে।[১২২] যুক্তি দেওয়া হয় যে শিশুরা তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা বোঝার উপায় হিসেবে এবং অন্যদের কাছে নিজেদের অর্থ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে বর্ণনামূলক কাহিনী বা ন্যারেটিভ তৈরি করে।[১২২]
প্রাপ্তবয়স্ক এবং সমবয়সীদের সাথে নিয়মিত কথোপকথনের মাধ্যমে সময়ের সাথে সাথে দীর্ঘ আলোচনায় নিযুক্ত হওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয়। এর জন্য একটি শিশুকে নিজের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাইরের ঘটনার সংমিশ্রণ করতে শিখতে হয়। তারা কাকে বলছে তার ওপর ভিত্তি করে নিজেদের ভাষা পরিবর্তন করতেও শেখে।[১২২] সাধারণত ৯ বছর বয়সের মধ্যে একটি শিশু লেখক, গল্পের চরিত্র এবং নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অন্যান্য কাহিনী বর্ণনা করতে পারে।[১২২]
তত্ত্বসমূহ
[সম্পাদনা]শিশুর শিখনে প্রাপ্তবয়স্কদের কথার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি শিশুর প্রাথমিক অর্থ এবং প্রকাশমূলক শব্দগুলোকে কতটুকু প্রভাবিত করে সে সম্পর্কে তাত্ত্বিকদের মধ্যে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে। নতুন শব্দের প্রাথমিক ম্যাপিং, শব্দকে প্রেক্ষাপটমুক্ত করার ক্ষমতা এবং শব্দের অর্থ নিখুঁত করার ফলাফলগুলো বৈচিত্র্যময়।[৯] একটি হাইপোথিসিস যা সিনট্যাকটিক বুটস্ট্র্যাপিং হাইপোথিসিস নামে পরিচিত, তা বাক্যের গঠন থেকে ব্যাকরণগত তথ্য ব্যবহার করে সংকেত থেকে অর্থ অনুমান করার ক্ষমতাকে নির্দেশ করে।[১২৪]
আরেকটি তত্ত্ব হলো মাল্টি-রুট মডেল যা যুক্তি দেয় যে প্রেক্ষাপট-বদ্ধ শব্দ এবং নির্দেশমূলক শব্দগুলো ভিন্ন ভিন্ন পথ অনুসরণ করে; প্রথমটি ঘটনা উপস্থাপনের সাথে এবং পরেরটি মানসিক উপস্থাপনের সাথে যুক্ত হয়। এই মডেলে পিতামাতার ভূমিকার গুরুত্ব থাকলেও শিশুরা শেষ পর্যন্ত শব্দের পরবর্তী ব্যবহারের ক্ষেত্রে জ্ঞানীয় প্রক্রিয়াকরণের ওপর নির্ভর করে।[১২৫] তবে ভাষা বিকাশের প্রাকৃতিক গবেষণা নির্দেশ করে যে প্রাক-স্কুলগামী শিশুদের শব্দভাণ্ডার প্রাপ্তবয়স্কদের বলা শব্দের সংখ্যার সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত।[১২৬]
ভাষা অর্জনের কোনো একক সর্বজনগ্রাহ্য তত্ত্ব নেই। পরিবর্তে বর্তমানে বেশ কিছু তত্ত্ব রয়েছে যা ভাষা, জ্ঞান এবং বিকাশের তত্ত্বগুলো ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে জেনারেটিভিজম তত্ত্ব, সামাজিক মিথস্ক্রিয়াবাদ তত্ত্ব, ব্যবহার-ভিত্তিক তত্ত্ব (টোমাসেলো), কানেকশনিজম তত্ত্ব এবং আচরণবাদী তত্ত্ব (স্কিনার)। জেনারেটিভিজম তত্ত্ব বলে যে সার্বজনীন ব্যাকরণ জন্মগত এবং ভাষাগত অভিজ্ঞতা সেই জন্মগত জ্ঞানকে সক্রিয় করে।[১২৭] সামাজিক মিথস্ক্রিয়াবাদ তত্ত্ব ভাষাকে একটি সামাজিক ঘটনা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে যেখানে শিশুরা ভাষা শেখে কারণ তারা অন্যদের সাথে যোগাযোগ করতে চায়; এই তত্ত্বটি মূলত সামাজিক-জ্ঞানীয় ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি যা ভাষা অর্জন প্রক্রিয়াকে চালিত করে।[১২৭] ব্যবহার-ভিত্তিক তত্ত্ব ভাষাকে একগুচ্ছ সূত্রের সমষ্টি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে যা শিশুর শেখার ক্ষমতার মাধ্যমে তার সামাজিক-জ্ঞানীয় ব্যাখ্যা এবং বক্তার অভিপ্রায় বোঝার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি হয়।[১২৭] কানেকশনিজম তত্ত্ব হলো একটি প্যাটার্ন-লার্নিং পদ্ধতি যা ভাষাকে ছোট ছোট সাব-সিস্টেম বা ধ্বনি বা অর্থের প্যাটার্ন দ্বারা গঠিত একটি ব্যবস্থা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে।[১২৭] আচরণবাদী তত্ত্ব ভাষাকে ইতিবাচক সুদৃঢ়করণ বা পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে অর্জিত ব্যবস্থা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছিল, কিন্তু বর্তমানে এগুলো কেবল ঐতিহাসিক গুরুত্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।[১২৭]
যোগাযোগ
[সম্পাদনা]যোগাযোগকে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে মৌখিক এবং অমৌখিক প্রতীকের মাধ্যমে, মৌখিক এবং লিখিত (বা চাক্ষুষ) পদ্ধতিতে এবং যোগাযোগের উৎপাদন ও বোধগম্যতা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তথ্যের আদান-প্রদান ও সমঝোতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে।[১২৮] 'ফার্স্ট ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস ফর দ্য স্টাডি অফ চাইল্ড ল্যাঙ্গুয়েজ'-এর মতে, "সাধারণ হাইপোথিসিস হলো যে, সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ থাকা স্বাভাবিক ভাষা অর্জনের জন্য একটি পূর্বশর্ত"।[১২৯] কথোপকথনের নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা। কথোপকথনের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত, মন্তব্যগুলো বোঝা বা স্বীকার করা উচিত এবং নীতিগতভাবে যে কোনো নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই কথোপকথনগুলো মৌলিক বা পুনরাবৃত্তিমূলক হবে বলে আশা করা হয়। বিকাশের পর্যায়ে অভিভাবকদের ভূমিকা হলো কথোপকথনের একটি উদ্দেশ্য আছে তা বোঝানো এবং শিশুদের অন্য বক্তার আবেগ চিনতে শেখানো।[১২৯]
যোগাযোগমূলক ভাষা মৌখিক এবং অমৌখিক উভয়ই হতে পারে এবং যোগাযোগে দক্ষতা অর্জনের জন্য চারটি উপাদানে পারদর্শী হতে হয়। এই উপাদানগুলো হলো: ব্যাকরণগত দক্ষতা, যার মধ্যে শব্দভাণ্ডার জ্ঞান, শব্দ ও বাক্য গঠনের নিয়ম ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত; সমাজভাষাগত দক্ষতা, বা বিভিন্ন সামাজিক প্রেক্ষাপটে উপযুক্ত অর্থ এবং ব্যাকরণগত রূপের ব্যবহার; ডিসকোর্স দক্ষতা, যা রূপ এবং অর্থ একত্রিত করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান; এবং কৌশলগত দক্ষতা, যা মৌখিক এবং অমৌখিক যোগাযোগ কৌশল সম্পর্কে জ্ঞানের রূপ।[১২৮] প্রকৃত যোগাযোগের ক্ষেত্রে যোগাযোগগত দক্ষতা অর্জন একটি অপরিহার্য অংশ।[১৩০]
ভাষা বিকাশকে যোগাযোগের একটি চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হয় এবং ভাষার যোগাযোগমূলক কাজ আবার ভাষা বিকাশের প্রেরণা যোগায়। জঁ পিয়াজে শিশুর যোগাযোগের ধরন ব্যাখ্যা করতে "ক্রিয়াশীল কথোপকথন" শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা শব্দের চেয়ে অঙ্গভঙ্গি এবং শরীরের নড়াচড়ার ওপর বেশি নির্ভর করে।[১১৮] ছোট শিশুরা তাদের বার্তার সরাসরি প্রকাশের জন্য অঙ্গভঙ্গির ওপর নির্ভর করে। তারা যখন আরও ভাষা অর্জন করতে শুরু করে, তখন শরীরের নড়াচড়া ভিন্ন ভূমিকা গ্রহণ করে এবং মৌখিক বার্তার পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে শুরু করে।[১১৮] এই অমৌখিক শারীরিক নড়াচড়াগুলো শিশুদের মৌখিকভাবে প্রকাশের আগেই তাদের আবেগ প্রকাশ করতে সাহায্য করে। ০ থেকে ৩ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের এই অমৌখিক পদ্ধতি দেখা যায়, যারা উত্তেজনা বা কষ্ট বোঝাতে শরীরের অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া ব্যবহার করে।[১১৮] ৩ থেকে ৫ মাস বয়সে এটি পুরো শরীরের আরও ছন্দময় নড়াচড়ায় রূপ নেয় যা শিশুর রাগ বা আনন্দ প্রদর্শন করে।[১১৮] ৯–১২ মাস বয়সের মধ্যে শিশুরা নিজেদের যোগাযোগের জগতের অংশ হিসেবে ভাবতে শুরু করে।[১০৯]
৯–১২ মাসের আগে শিশুরা বস্তুর সাথে এবং মানুষের সাথে যোগাযোগ করে, কিন্তু তারা বস্তু সম্পর্কে মানুষের সাথে যোগাযোগ করে না। এই উন্নয়নমূলক পরিবর্তনটি প্রাথমিক আন্তঃব্যক্তিকতা (intersubjectivity - নিজেকে অন্যের সাথে ভাগ করে নেওয়ার ক্ষমতা) থেকে গৌণ আন্তঃব্যক্তিকতায় (অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার ক্ষমতা) রূপান্তর ঘটায়, যা শিশুকে অসামাজিক থেকে সামাজিকভাবে যুক্ত জীবে পরিণত করে।[১০৯] প্রায় ১২ মাস বয়সে যোগাযোগমূলক অঙ্গভঙ্গির ব্যবহার শুরু হয়, যার মধ্যে যোগাযোগমূলক নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত; যেখানে শিশু কোনো কিছুর জন্য অনুরোধ করতে বা তথ্য প্রদানের জন্য আঙুল দিয়ে নির্দেশ করে।[১০৯] ১০ এবং ১১ মাস বয়সের দিকে আরেকটি যোগাযোগমূলক অঙ্গভঙ্গি দেখা দেয় যেখানে শিশুরা অন্য ব্যক্তি যেদিকে তাকাচ্ছে সেদিকে তাকিয়ে তাকে অনুসরণ করতে শুরু করে।[১০৯] এই যৌথ মনোযোগের ফলে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সের মধ্যে তাদের সামাজিক জ্ঞানীয় দক্ষতায় পরিবর্তন আসে কারণ তারা অন্যদের সাথে ক্রমবর্ধমান সময় ব্যয় করে।[১০৯] শিশুদের অমৌখিক যোগাযোগমূলক অঙ্গভঙ্গির ব্যবহার ভবিষ্যতের ভাষা বিকাশের পূর্বাভাস দেয়। অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে অমৌখিক যোগাযোগের ব্যবহার যোগাযোগ বিকাশে শিশুর আগ্রহ নির্দেশ করে এবং তারা যে অর্থগুলো প্রকাশ করতে চায় তা শীঘ্রই ভাষার মৌখিক রূপের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।[১০৯]
ভাষা অর্জন এবং বিকাশ যোগাযোগের মৌখিক রূপে অবদান রাখে। শিশুরা একটি ভাষাগত ব্যবস্থা থেকে শুরু করে যেখানে তারা যে শব্দগুলো শেখে সেগুলো মূলত কার্যকরী অর্থের জন্য ব্যবহৃত হয়।[১২৭] বক্তৃতার এই প্রবর্তনকে প্রয়োগতাত্ত্বিক বুটস্ট্র্যাপিং বলা হয়। এই তত্ত্ব অনুসারে শিশুরা শব্দকে সামাজিক সংযোগের মাধ্যম হিসেবে দেখে, যেখানে শব্দগুলো বক্তার যোগাযোগমূলক অভিপ্রায়কে নতুন শব্দের সাথে যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।[১২৭] ফলে ভাষার মাধ্যমে মৌখিক যোগাযোগের দক্ষতা বাক্যতত্ত্ব বা ব্যাকরণের উন্নতির মাধ্যমে অর্জিত হয়।
ভাষার মাধ্যমে যোগাযোগের আরেকটি কাজ প্রয়োগতাত্ত্বিক বিকাশের সাথে সম্পর্কিত। প্রয়োগতাত্ত্বিক বিকাশের মধ্যে রয়েছে শিশুর যোগাযোগের অভিপ্রায়, যা তারা কীভাবে প্রকাশ করতে হয় তা জানার আগেই তৈরি হয় এবং জীবনের প্রথম কয়েক বছর ধরে ভাষা ও যোগাযোগমূলক কাজ উভয়ই বিকশিত হয়।[১২৭]
শিশুরা যখন ভাষা অর্জন করে এবং যোগাযোগের কাজে ভাষার ব্যবহার শেখে (প্রয়োগতত্ত্ব), তখন তারা কথোপকথনে কীভাবে অংশগ্রহণ করতে হয় এবং কীভাবে অতীত অভিজ্ঞতা/ঘটনা বর্ণনা করতে হয় (ডিসকোর্স জ্ঞান) সে সম্পর্কেও জ্ঞান লাভ করে। সেইসাথে তারা তাদের সামাজিক পরিস্থিতি বা সামাজিক গোষ্ঠীর জন্য উপযুক্তভাবে ভাষা ব্যবহার করতে শেখে (সমাজভাষাগত জ্ঞান)।[১২৭]
জীবনের প্রথম দুই বছরের মধ্যে শিশুর ভাষার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং কথোপকথনের দক্ষতা যেমন—মৌখিক মিথস্ক্রিয়ার কলাকৌশল বিকশিত হয়। মৌখিক মিথস্ক্রিয়ার কলাকৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে পালাবদল করা, আলোচনার বিষয় শুরু করা, ভুল যোগাযোগ সংশোধন করা এবং কথোপকথন দীর্ঘায়িত বা বজায় রাখার জন্য প্রতিক্রিয়া জানানো।[১২৭]
যখন একটি শিশু একজন প্রাপ্তবয়স্কের সাথে যোগাযোগ করে তখন কথোপকথনটি অসম হয়, কারণ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিই কথোপকথনের কাঠামো তৈরি করেন এবং শিশুর অংশগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা এগিয়ে নেন। শিশুর কথোপকথন দক্ষতার বিকাশের সাথে সাথে প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুর মধ্যকার এই অসম কথোপকথন একটি সমান স্তরের কথোপকথনে রূপান্তরিত হয়। কথোপকথনের ভারসাম্যের এই পরিবর্তন যোগাযোগের ক্ষেত্রে বর্ণনামূলক আলোচনার বিকাশকে নির্দেশ করে। সাধারণত যোগাযোগগত দক্ষতার বিকাশ এবং ভাষার বিকাশ একে অপরের সাথে যুক্ত।[১২৭]
বিলম্বের কারণসমূহ
[সম্পাদনা]ব্যক্তিগত পার্থক্য
[সম্পাদনা]ভাষা দক্ষতার বিলম্ব হলো উন্নয়নমূলক বিলম্বের সবচেয়ে সাধারণ ধরণ। জনমিতি অনুযায়ী প্রতি ৬ জন শিশুর মধ্যে ১ জনের উল্লেখযোগ্য ভাষা বিলম্ব রয়েছে; কথন/ভাষা বিলম্ব মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে তিন থেকে চার গুণ বেশি সাধারণ। কিছু শিশু তাদের যা চাই বা প্রয়োজন তা প্রকাশ করতে না পারার হতাশা থেকে আচরণগত সমস্যাও প্রদর্শন করে।[১৩১]
সাধারণ কথন বিলম্ব সাধারণত সাময়িক হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলো নিজে থেকেই বা পরিবারের একটু বাড়তি মনোযোগের মাধ্যমে সমাধান হয়ে যায়। অঙ্গভঙ্গি বা শব্দের মাধ্যমে কথা বলতে শিশুকে উৎসাহিত করা এবং তাদের সাথে খেলাধুলা করা, বই পড়া এবং যোগাযোগের মাধ্যমে প্রচুর সময় ব্যয় করা অভিভাবকদের দায়িত্ব। কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের পেশাদার সাহায্য যেমন—একজন স্পিচ থেরাপিস্ট-এর শরণাপন্ন হতে হবে।[১৩১]
এটি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ যে কখনও কখনও বিলম্ব আরও গুরুতর অবস্থার সতর্কবার্তা হতে পারে যার মধ্যে থাকতে পারে শ্রবণ প্রক্রিয়াকরণ ব্যাধি, শ্রবণশক্তি হ্রাস, উন্নয়নমূলক মৌখিক ডিসপ্রাক্সিয়া, অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক বিলম্ব, বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার।[১৩১]
পরিবেশগত কারণসমূহ
[সম্পাদনা]ভাষা বিলম্বের সাথে অনেক পরিবেশগত কারণ যুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে এমন পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত যেখানে শিশু অন্য কোনো দক্ষতার ওপর (যেমন—হাঁটা) পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে। শিশুটির হয়তো যমজ বা সমবয়সী কোনো ভাইবোন থাকতে পারে এবং সে পিতামাতার পূর্ণ মনোযোগ পাচ্ছে না। আরেকটি সম্ভাবনা হতে পারে যে শিশুটি এমন কোনো ডে-কেয়ারে আছে যেখানে ব্যক্তিগত মনোযোগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নেই। শিশু যদি পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার না পায় তবে তার সাধারণ বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্ভবত সবচেয়ে স্পষ্ট পরিবেশগত কারণ হলো এমন একটি শিশু যে মনস্তাত্ত্বিক বঞ্চনার শিকার যেমন—দারিদ্র্য, নিম্নমানের আবাসন, অবহেলা, অপর্যাপ্ত ভাষাগত উদ্দীপনা বা মানসিক চাপ।[১৩২]
স্নায়বিক কারণসমূহ
[সম্পাদনা]ভাষা বিলম্ব অনেক অন্তর্নিহিত ব্যাধির কারণে হতে পারে, যেমন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতা, যা ভাষা বিলম্বের ৫০ শতাংশের বেশি কারণের জন্য দায়ী। বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্ষেত্রে ভাষা বিলম্ব সাধারণত অন্যান্য উন্নয়নমূলক বিলম্বের চেয়ে বেশি গুরুতর হয় এবং এটিই সাধারণত বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতার প্রথম স্পষ্ট লক্ষণ। বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতা সার্বিক ভাষা বিলম্ব ঘটায়, যার মধ্যে বিলম্বিত শ্রবণ বোধগম্যতা এবং অঙ্গভঙ্গির বিলম্বিত ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত।[১৩৩]
শ্রবণশক্তির ত্রুটি ভাষা বিলম্বের অন্যতম সাধারণ কারণ। যে শিশু স্পষ্টভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে কথা শুনতে বা প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না তার ভাষা বিলম্ব হবেই এবং এমনকি ন্যূনতম শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা বা শ্রবণ প্রক্রিয়াকরণ ত্রুটিও ভাষা বিকাশকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। সাধারণত প্রতিবন্ধকতা যত গুরুতর হয়, ভাষা বিলম্ব তত বেশি হয়।[১৩৪] তাসত্ত্বেও, বধির শিশুরা যারা সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে এমন পরিবারে জন্মগ্রহণ করে, তারা শ্রবণশক্তি সম্পন্ন শিশুদের সমান গতিতেই শিশুর বুলি এবং পূর্ণাঙ্গ ভাবপ্রকাশক সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করতে শেখে।[১৩৫]
উন্নয়নমূলক ডিসলেক্সিয়া হলো একটি পঠন ব্যাধি যা তখন ঘটে যখন মস্তিষ্ক কথার ধ্বনি প্রকাশকারী চাক্ষুষ প্রতীকগুলোকে সঠিকভাবে চিনতে এবং প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না। ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা ছড়া মেলানো এবং শব্দ গঠনকারী ধ্বনিগুলোকে আলাদা করার ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে, যা পড়তে শেখার জন্য অপরিহার্য। বর্ণমালা ভিত্তিক লিখন পদ্ধতিতে এটি শব্দের ধ্বনিগুলোকে আলাদা করার এবং সেগুলোকে বর্ণ ও বর্ণসমষ্টির সাথে মেলানোর ক্ষমতার সাথে যুক্ত। শব্দের বর্ণের সাথে ভাষার ধ্বনি সংযোগ করার এই অসুবিধা বাক্য বুঝতে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সদৃশ বর্ণ যেমন "b" এবং "d"-এর মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। সাধারণত ডিসলেক্সিয়ার লক্ষণগুলো হলো: একটি সহজ বাক্যের অর্থ নির্ধারণে অসুবিধা, লিখিত শব্দ চিনতে শেখা এবং ছড়া মেলাতে কষ্ট হওয়া।
অটিজম এবং কথন বিলম্ব সাধারণত সহসম্পর্কিত। মৌখিক ভাষার সমস্যা অটিজমের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। অটিজমের প্রাথমিক নির্ণয় এবং চিকিৎসা শিশুর কথন দক্ষতা উন্নত করতে উল্লেখযোগ্যভাবে সাহায্য করতে পারে। অটিজম পাঁচটি সার্বিক উন্নয়নমূলক ব্যাধির একটি হিসেবে স্বীকৃত, যা ভাষা, কথন, যোগাযোগ এবং সামাজিক দক্ষতার সমস্যা দ্বারা চিহ্নিত যা প্রারম্ভিক শৈশবেই প্রকাশ পায়। ভাষা ব্যাধির কিছু সাধারণ ধরণ হলো সীমিত বা কোনো মৌখিক বক্তৃতা না থাকা, ইকোলালিয়া বা প্রেক্ষাপট বহির্ভূত শব্দের পুনরাবৃত্তি করা, মৌখিক নির্দেশনায় সাড়া দেওয়ার সমস্যা এবং যারা তাদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের উপেক্ষা করা।[১৩৬]
বিকাশের অন্যান্য দিকসমূহ
[সম্পাদনা]লিঙ্গ
[সম্পাদনা]লিঙ্গ পরিচয় বলতে একজন ব্যক্তি নিজেকে পুরুষ, নারী বা উভয়ের সংমিশ্রণ হিসেবে কীভাবে দেখেন তা বোঝায়। শিশুরা দুই বছর বয়সের মধ্যেই নিজেদের একটি নির্দিষ্ট লিঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে,[১৩৭] তবে লিঙ্গ পরিচয় কীভাবে বিকশিত হয় তা একটি বৈজ্ঞানিক বিতর্কের বিষয়। ব্যক্তির লিঙ্গ নির্ধারণে বেশ কিছু কারণ জড়িত যার মধ্যে রয়েছে নবজাতক হরমোন, জন্ম পরবর্তী সামাজিকীকরণ এবং বংশাণুগত প্রভাব।[১৩৮] কেউ কেউ মনে করেন যে উত্তর শৈশব পর্যন্ত লিঙ্গ নমনীয় থাকে, আবার অন্যরা যুক্তি দেন যে লিঙ্গ খুব সকালেই প্রতিষ্ঠিত হয় এবং লিঙ্গ-ভিত্তিক সামাজিকীকরণ হয় ব্যক্তির লিঙ্গ ধারণাকে শক্তিশালী করে অথবা নমনীয় করে। যেহেতু বেশিরভাগ মানুষ তাদের যৌনাঙ্গের সাথে সম্পর্কিত লিঙ্গ হিসেবেই নিজেদের পরিচয় দেয়, তাই এই কারণগুলোর প্রভাব অধ্যয়ন করা কঠিন।
প্রমাণ থেকে জানা যায় যে, নবজাতক অ্যান্ড্রোজেনসমূহ (গর্ভাবস্থায় জরায়ুতে উৎপন্ন পুরুষ যৌন হরমোন) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জরায়ুতে থাকা টেস্টোস্টেরন সরাসরি মস্তিষ্ককে পুরুষ বা নারী-সুলভ বিকাশের জন্য কোড করে দেয়। এর মধ্যে মস্তিষ্কের শারীরিক গঠন এবং এর ফলে ব্যক্তির প্রকাশিত বৈশিষ্ট্য উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। গর্ভাবস্থায় উচ্চ মাত্রার টেস্টোস্টেরনের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা সাধারণত পুরুষ লিঙ্গ পরিচয় লাভ করে, যেখানে টেস্টোস্টেরনের সংস্পর্শে না আসা বা এর সাথে মিথস্ক্রিয়া করার জন্য প্রয়োজনীয় রিসেপ্টরের অভাব থাকা ব্যক্তিরা সাধারণত নারী লিঙ্গ পরিচয় লাভ করে।[১৩৮][১৩৯]
ব্যক্তির বংশাণুসমূহ গর্ভাবস্থায় হরমোনের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে লিঙ্গ পরিচয়কে প্রভাবিত করে বলে মনে করা হয়, তবে এর জন্য দায়ী বংশাণু এবং তাদের প্রভাবগুলো নির্ভুলভাবে নথিভুক্ত করা হয়নি এবং তথ্য সীমিত। জন্ম পরবর্তী সামাজিকীকরণ লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখে কি না তা অজানা। এটি স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত যে শিশুরা তাদের লিঙ্গের ওপর ভিত্তি করে অন্যদের সাথে কীভাবে যোগাযোগ করতে হয় সে সম্পর্কে সক্রিয়ভাবে তথ্য খোঁজে, তবে অভিভাবক, বন্ধু এবং টিভি চরিত্রের মতো রোল মডেলরা লিঙ্গ পরিচয়কে কতটুকু প্রভাবিত করে তা কম স্পষ্ট এবং এ নিয়ে কোনো ঐকমত্য নেই।
জাতি
[সম্পাদনা]বিকাশের গতিপথের পাশাপাশি পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোতে দেখা হয়েছে যে কীভাবে জাতি, নৃগোষ্ঠী এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থা শিশু বিকাশকে প্রভাবিত করে। কিছু গবেষণায় কিশোর যুবকদের ওপর প্রাপ্তবয়স্কদের তত্ত্বাবধানের গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আফ্রিকান আমেরিকান শিশুদের বিকাশকে সাংস্কৃতিক সামাজিকীকরণ এবং জাতিগত সামাজিকীকরণের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছিল। আরও একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে বেশিরভাগ অভিবাসী যুবক বিজ্ঞান এবং গণিত সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে পড়াশোনা করতে পছন্দ করে।[১৪০]
ঝুঁকির কারণসমূহ
[সম্পাদনা]শিশু বিকাশে ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে: অপুষ্টি, মাতৃকালীন বিষণ্নতা, মায়ের মাদকদ্রব্য ব্যবহার এবং শৈশবের ব্যথা; যদিও আরও অনেক কারণ নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে।[১৪১][১৪২][১৪৩]
ব্যথা
[সম্পাদনা]নবজাতকদের, বিশেষ করে অপরিণত শিশুদের ব্যথা প্রতিরোধ এবং উপশম করা গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র নৈতিকতার খাতিরেই নয়, বরং জীবনের শুরুতে বারবার বেদনাদায়ক উদ্দীপনার সংস্পর্শে আসার ফলে স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে শারীরবৃত্তীয় অস্থিরতা, মস্তিষ্কের বিকাশে পরিবর্তন এবং অস্বাভাবিক স্নায়বিক বিকাশ। এছাড়া এটি সোমাটোসেন্সরি এবং মানসিক চাপ মোকাবিলা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে, যা শৈশব পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।৫,–১৫ গর্ভাবস্থার ২৫ সপ্তাহ থেকেই নোসিসেপ্টিভ পথগুলো সক্রিয় ও কার্যকর থাকে এবং অপরিণত নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক উদ্দীপনার প্রতি এটি একটি সাধারণ বা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।১৬
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স, ফেব্রুয়ারি ২০১৬ নীতি বিবৃতি (জুলাই ২০২০-এ পুনর্নিশ্চিত)
প্রসবোত্তর বিষণ্নতা
[সম্পাদনা]শিশুর বিকাশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মায়ের বিষণ্নতা এবং প্রসবোত্তর বিষণ্নতার প্রভাব নিয়ে প্রচুর গবেষণা থাকলেও, এর প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে গবেষকরা এখনও কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি। অসংখ্য গবেষণা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করলেও, অনেক গবেষণায় বিকাশের ওপর বিষণ্নতার কোনো প্রভাব পাওয়া যায়নি।[১৪৫][১৪৬]
১৮ মাস বয়সী শিশুদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মায়েদের সন্তান জন্মের ৬ সপ্তাহ এবং/অথবা ৬ মাস বয়সে বিষণ্নতার উপসর্গ ছিল, তাদের বিষণ্নতা শিশুর জ্ঞানীয় বিকাশে কোনো প্রভাব ফেলেনি। উপরন্তু, গবেষণাটি নির্দেশ করে যে শুধুমাত্র মায়ের বিষণ্নতার চেয়ে মায়ের বিষণ্নতার সাথে প্রতিকূল পারিবারিক পরিবেশের সংমিশ্রণ জ্ঞানীয় বিকাশে প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা বেশি। তবে লেখকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে স্বল্পমেয়াদী বিষণ্নতার কোনো প্রভাব না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্নতা আরও গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।[১৪৭]
৭ বছর ব্যাপী একটি লম্বিক গবেষণায় সামগ্রিকভাবে জ্ঞানীয় বিকাশের ওপর মায়ের বিষণ্নতার কোনো প্রভাব পাওয়া যায়নি। তবে এটি দেখা গেছে যে মায়ের বিষণ্নতা থাকলে ছেলেরা জ্ঞানীয় বিকাশের সমস্যার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়।[১৪২]
২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় লিঙ্গভেদে জ্ঞানীয় বিকাশে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে, যেখানে মেয়েদের স্কোর ছিল বেশি। তবে মায়ের বিষণ্নতার ইতিহাস থাকুক বা না থাকুক, মেয়েরা সব ক্ষেত্রেই বেশি স্কোর করেছে। দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতায় ভোগা মায়েদের শিশুদের ক্ষেত্রে 'বেইলি স্কেল অব ইনফ্যান্ট ডেভেলপমেন্ট'-এর মোটর এবং মানসিক স্কেলে উল্লেখযোগ্যভাবে কম স্কোর দেখা গেছে,[১৪৮] যা অনেক পুরোনো গবেষণার ফলাফলের বিপরীত।[১৪২][১৪৭]
১১ বছর বয়সেও একই ধরণের প্রভাব পাওয়া গেছে: বিষণ্নতায় ভোগা মায়েদের ছেলে সন্তানরা আইকিউ টেস্টে সুস্থ মায়েদের সন্তানদের তুলনায় গড়ে ১৯.৪ পয়েন্ট কম পায়; যেখানে মেয়েদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটি ততটা প্রকট নয়।[১৪৯] বিষণ্নতায় ভোগা মায়েদের ৩ মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে 'গ্রিফিথস মেন্টাল ডেভেলপমেন্ট স্কেলে' উল্লেখযোগ্যভাবে কম স্কোর দেখা গেছে, যা জ্ঞানীয়, মোটর এবং সামাজিক বিকাশের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রকে কভার করে।[১৫০] উপরন্তু, বিষণ্নতায় ভোগা মা এবং তার সন্তানের মধ্যেকার মিথস্ক্রিয়া পরবর্তী জীবনে সামাজিক এবং জ্ঞানীয় ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।[১৫১]
মায়ের বিষণ্নতা তার সন্তানের সাথে মিথস্ক্রিয়াকেও প্রভাবিত করে। সন্তানের সাথে কথা বলার সময় বিষণ্নতায় ভোগা মায়েরা তাদের কণ্ঠস্বরের ওঠানামা বা সুরভঙ্গি পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হন এবং অসংগঠিত কণ্ঠস্বর ব্যবহারের প্রবণতা দেখান।[১৫২] এছাড়া সুস্থ মায়েদের তুলনায় বিষণ্নতায় ভোগা মায়েদের সাথে মিথস্ক্রিয়া করার সময় শিশুদের মধ্যে মানসিক চাপের লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন পালস রেট বৃদ্ধি এবং কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। তারা এড়িয়ে চলার প্রবণতাও বেশি দেখায়, যেমন অন্যদিকে তাকানো। ২ মাস বয়সে মা ও শিশুর মিথস্ক্রিয়া ৫ বছর বয়সে শিশুর জ্ঞানীয় কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে প্রমাণিত হয়েছে।[১৫৩]
গবেষণায় দেখা গেছে যে অন্যান্য ধরণের মানসিক রোগ মা-বাবার সাথে শিশুর সংযুক্তির মধ্যে থাকা নিয়ন্ত্রণমূলক প্রক্রিয়াগুলোকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে স্বাধীনভাবে শিশু ও টডলারদের সামাজিক-আবেগীয় বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, মায়েদের আন্তঃব্যক্তিক সহিংসতা-সম্পর্কিত পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার ৪-৭ বছর বয়সের মধ্যে শিশুর আবেগ এবং আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণের সমস্যার সাথে যুক্ত।[১৫৪]
মায়ের মাদক ব্যবহার
[সম্পাদনা]কোকেন
[সম্পাদনা]গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের পর মায়ের মাদক ব্যবহার শিশুর বিকাশে কতটা গুরুতর প্রভাব ফেলে, সে সম্পর্কে গবেষণায় পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। গর্ভাবস্থায় জরায়ুতে কোকেনের সংস্পর্শে আসা শিশুদের ওজন ৬ থেকে ৩০ মাস বয়সের মধ্যে কোকেনের সংস্পর্শহীন শিশুদের তুলনায় কম থাকে।[১৫৫] এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে যে কোকেনের সংস্পর্শে আসা শিশুদের মাথার পরিধি সাধারণ শিশুদের তুলনায় কম।[১৫৫][১৫৬] তবে অতি সাম্প্রতিক দুটি গবেষণায় কোকেনের সংস্পর্শে আসা এবং না আসা শিশুদের মধ্যে এই পরিমাপগুলোর কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।[১৫৭][১৫৮]
মায়ের কোকেন ব্যবহার শিশুর জ্ঞানীয় বিকাশকেও প্রভাবিত করতে পারে; কোকেনের সংস্পর্শে আসা শিশুরা সাইকোমোটর এবং মানসিক বিকাশের পরীক্ষায় কম স্কোর অর্জন করে। তবে এক্ষেত্রেও গবেষণার তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে এবং বেশ কিছু গবেষণা নির্দেশ করে যে মায়ের কোকেন ব্যবহার শিশুর জ্ঞানীয় বিকাশে কোনো প্রভাব ফেলে না।[১৫৯]
অন্যান্য
[সম্পাদনা]শুধুমাত্র কোকেনই নয়, গর্ভাবস্থায় তামাক, মারিজুয়ানা এবং অপিয়েট বা আফিমজাতীয় ড্রাগ ব্যবহারও অনাগত শিশুর জ্ঞানীয় এবং আচরণগত বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে।[১৬০]
তামাক সেবন গর্ভাবস্থায় জটিলতা বাড়ায়, যার মধ্যে রয়েছে জন্মের সময় কম ওজন, অকাল জন্ম, এবং গর্ভাবস্থায় জরায়ু থেকে প্লাসেন্টা বিচ্ছিন্ন হওয়া। জন্মের পর এটি মা ও শিশুর মিথস্ক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে, আইকিউ কমাতে পারে এবং অটিজম বা এডিএইচডি-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।[১৬০]
গর্ভাবস্থায় মারিজুয়ানা বা ক্যানাবিস ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদী আবেগীয় ও আচরণগত পরিণতি থাকতে পারে। দশ বছর বয়সে দেখা গেছে যে, যেসব শিশু গর্ভাবস্থায় এই ড্রাগের সংস্পর্শে এসেছিল তাদের মধ্যে অন্যদের তুলনায় বিষণ্নতার উপসর্গ বেশি ছিল। এছাড়া অন্যান্য প্রভাবের মধ্যে রয়েছে নির্বাহী কার্যাবলীর সমস্যা, পড়তে অসুবিধা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব।[১৬০]
গর্ভাবস্থায় হেরোইন-এর মতো অপিয়েট ড্রাগ ব্যবহারের ফলে জন্মের সময় শিশুর ওজন ও দৈর্ঘ্য কম হয় এবং মাথার পরিধি ছোট হয়। অপিয়েট বা আফিমের সংস্পর্শ শিশুর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র-কে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া আরও কিছু বিরূপ পরিণতি দেখা দিতে পারে, যেমন: ছন্দহীন গিলতে পারা, ট্যারা চোখ এবং প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অনুভূতি।[১৬০]
অপষ্টি এবং পুষ্টিহীনতা
[সম্পাদনা]জীবনের শুরুতে দুর্বল পুষ্টি শারীরিক স্থবিরতা সৃষ্টি করে এবং দুই বা তিন বছর বয়সের মধ্যে এটি জ্ঞানীয় ঘাটতি, বিদ্যালয়ে দুর্বল ফলাফল এবং পরবর্তী জীবনে দুর্বল সামাজিক সম্পর্কের সাথে যুক্ত হতে পারে।[১৬১] উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অপুষ্টি একটি বড় সমস্যা এবং এটি শিশুদের ওজন ও উচ্চতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। কলম্বিয়ায় অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ওজন ৩৬ মাস বয়সে উচ্চবিত্ত পরিবারের শিশুদের তুলনায় কম ছিল (১১.৮৮ কেজি[রূপান্তর: অজানা একক] বনাম ১৪ কেজি[রূপান্তর: অজানা একক]) এবং তারা উচ্চতায় খাটো ছিল (৮৫.৩ সেন্টিমিটার (৩৩.৬ ইঞ্চি)* বনাম ৯৪ সেন্টিমিটার (৩৭ ইঞ্চি)*)।[১৪১]
শিশুর জীবনের প্রথম ১০০০ দিনের মধ্যে অপুষ্টি ঘটলে তা অপরিবর্তনীয় শারীরিক ও মানসিক স্থবিরতা সৃষ্টি করতে পারে। অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধির কারণে সংক্রমণ ও পরজীবী অন্ত্রে পুষ্টির শোষণে বাধা দিতে পারে। পুষ্টিহীনতা এবং শারীরিক স্থবিরতা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও হাইজিন (শুধুমাত্র খাবারের লভ্যতা নয়) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং শৈশবকালীন স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করে। গবেষণায় অপুষ্টিকে শৈশবকালীন আইকিউ-এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও কোনো কোনো গবেষক মনে করেন যে পিতামাতার আইকিউ বিবেচনা করলে এই প্রভাবটি নগণ্য হয়ে যায়, যা নির্দেশ করে যে এই পার্থক্যটি বংশাণুগত।[১৬২]
নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানসমূহ
[সম্পাদনা]বিকাশের ওপর আয়রনের অভাবের প্রভাব সম্পর্কে এখনও চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে কিছু প্রমাণ নির্দেশ করে যে এমনকি সুপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রেও আয়রন এবং ফোলেট-এর মাত্রা কম থাকলে (অভাব হিসেবে চিহ্নিত করার মতো কম না হলেও) তাদের আইকিউ উচ্চমাত্রার আয়রন ও ফোলেট থাকা শিশুদের তুলনায় কম হয়। এছাড়া অ্যানিমিক বা রক্তাল্পতায় ভোগা শিশুরা জ্ঞানীয় পরীক্ষায় অ্যানিমিক নয় এমন শিশুদের চেয়ে খারাপ ফলাফল করে।[১৬৩]
মস্তিষ্কের বিকাশে আয়োডিন এবং জিঙ্ক-এর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় থাইরয়েড হরমোন গঠনের জন্য আয়োডিন প্রয়োজন। আয়োডিনের অভাব সুস্থ ব্যক্তির তুলনায় আইকিউ গড়ে ১৩.৫ পয়েন্ট কমিয়ে দিতে পারে। জিঙ্কের অভাবও শৈশবকালীন বৃদ্ধি ও বিকাশকে ধীর করে দেয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের বৃদ্ধির জন্য জিঙ্ক সাপ্লিমেন্টেশন উপকারী হতে পারে।[১৬৪]
আর্থ-সামাজিক অবস্থা
[সম্পাদনা]আর্থ-সামাজিক অবস্থা মূলত আয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশার ওপর ভিত্তি করে পরিমাপ করা হয়। শিশু বিকাশে আর্থ-সামাজিক উপাদানগুলোর ভূমিকা নিয়ে গবেষণায় বারবার দেখা গেছে যে, স্বল্পমেয়াদী দারিদ্র্যের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য আইকিউ এবং জ্ঞানীয় ক্ষমতার ওপর বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
দারিদ্র্য শিশু বিকাশকে প্রভাবিত করার মতো আরও অনেকগুলো কারণ তৈরি করতে পারে, যেমন শিক্ষাগত সাফল্য কম হওয়া, পরিবারে কম সম্পৃক্ততা, আয়রনের অভাব, সংক্রমণ এবং পুষ্টিহীনতা। এছাড়া দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা শিশুদের মধ্যে সীসা বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় কারণ কিছু নিম্নমানের ঘরের দেয়ালে সীসাযুক্ত রঙ ব্যবহৃত হয়। আয়ের ভিত্তিতে দারিদ্র্যের ফলে আইকিউ ৬–১৩ পয়েন্ট পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।[১৬৫]
পিতামাতার শিক্ষাগত যোগ্যতা শিশুর জ্ঞানীয় ক্ষমতার পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর্থ-সামাজিক উপাদান। যে মায়েদের আইকিউ বেশি, তাদের সন্তানদের আইকিউ-ও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একইভাবে, মায়ের পেশা উন্নত জ্ঞানীয় অর্জনের সাথে যুক্ত। যেসব মায়েদের কাজে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজন হয়, তারা তাদের সন্তানদের আরও বেশি উদ্দীপনামূলক কাজ ও খেলা উপহার দেন এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে উন্নত ভাষাগত দক্ষতা দেখা যায়।
অন্যদিকে, আর্থ-সামাজিক অবস্থা নির্বিশেষে মায়ের চাকুরিজীবী হওয়া পরীক্ষার স্কোরের সামান্য হ্রাসের সাথে যুক্ত বলে দেখা গেছে। উচ্চবিত্ত শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায় কারণ তারা একটি সমৃদ্ধ পারিবারিক পরিবেশ থেকে সরে এসে ডে-কেয়ারের অধীনে চলে যায়। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোতে সাধারণত দাদা-দাদি বা আত্মীয়রা শিশুদের দেখাশোনা করেন এবং এর ফলে পরিবারের সাথে দৃঢ় বন্ধন তৈরি হয়। এমনকি যত্নের মান নিয়ন্ত্রিত থাকলেও, গবেষণায় দেখা গেছে যে শিশুর প্রথম বছরের মধ্যে মায়ের পূর্ণকালীন কাজ শিশুর বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।[১৬৬] এর কারণ হতে পারে মায়েরা কাজে ফেরার ফলে শিশুরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় এবং তাদের বুকের দুধ খাওয়ানোর হার কমে যায়।
নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সময় এবং আর্থিক চাপের কারণে তাদের সন্তানদের উদ্দীপনামূলক পারিবারিক পরিবেশ দিতে পারে না। দুই অভিভাবক থাকা পরিবারের তুলনায় একক অভিভাবক থাকা পরিবারের শিশুরা বেশি অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে থাকে এবং অভিভাবকের সময় কম পায়, যা সামাজিক, আচরণগত বা জ্ঞানীয় ক্ষেত্রে নেতিবাচক ফলাফল বয়ে আনতে পারে।
পরজীবী
[সম্পাদনা]জিয়ার্ডিয়াসিস নামক পরজীবী রোগের কারণে সৃষ্ট ডায়রিয়া আইকিউ কমার সাথে যুক্ত। অন্ত্রের পরজীবী কৃমিগুলো পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করে যা শিশু বিকাশের জন্য ঝুঁকির কারণ হিসেবে পরিচিত। অন্ত্রের পরজীবী সংক্রমণ উন্নয়নশীল বিশ্বে সবচেয়ে উপেক্ষিত ক্রান্তীয় রোগগুলোর একটি এবং এটি শিশুর বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ সময় ধরে পরজীবী বা সংক্রমণের সংস্পর্শে থাকলে তা অপরিবর্তনীয় শারীরিক স্থবিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এই পরজীবীগুলোর প্রাদুর্ভাব কমানো শিশুর বৃদ্ধি, বিকাশ এবং শিক্ষাগত ফলাফলের জন্য উপকারী হতে পারে।[১৬৭]
বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ
[সম্পাদনা]রক্তে উচ্চমাত্রার সিসার উপস্থিতি মনোযোগের ঘাটতির সাথে সম্পর্কিত।[১৬৮] অন্যদিকে, আর্সেনিক বিষক্রিয়া মৌখিক আইকিউ এবং সামগ্রিক বুদ্ধ্যঙ্ক বা আইকিউ উভয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।[১৬৮] পানীয় জলের মাধ্যমে ঘটা ম্যাঙ্গানিজ বিষক্রিয়াও আইকিউ হ্রাসের সাথে যুক্ত। বিষক্রিয়ার সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ মাত্রার পার্থক্যের কারণে আইকিউ গড়ে ৬.২ পয়েন্ট পর্যন্ত কমে যেতে পারে।[১৬৯]
অর্গানোফসফেটসহ বিভিন্ন কীটনাশকের সংস্পর্শ এবং গর্ভাবস্থায় ক্লোরপাইরিফোস-এর সংস্পর্শও আইকিউ স্কোর হ্রাসের সাথে যুক্ত।[১৭০][১৭১] অর্গানোফসফেটগুলো বিশেষভাবে দুর্বল কার্যকরী স্মৃতি, মৌখিক বোধগম্যতা, ধারণাগত যুক্তি এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের গতির সাথে সম্পর্কিত।[১৭০]
অন্যান্য
[সম্পাদনা]জরায়ুভ্যন্তরে বৃদ্ধি সীমাবদ্ধতা শৈশবে শেখার ঘাটতির সাথে যুক্ত এবং এর ফলে আইকিউ কমে যেতে পারে।[১৭২] শৈশবে সহিংসতা এবং আঘাতজনিত অভিজ্ঞতার সংস্পর্শে আসলেও জ্ঞানীয় বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর মধ্যে পিতামাতার মধ্যে দাম্পত্য কলহ বা সহিংসতা এবং যৌন নিপীড়ন অন্তর্ভুক্ত।[১৭৩][১৭৪]
অবহেলা
[সম্পাদনা]যখন কোনো শিশু পর্যাপ্ত যত্ন, উদ্দীপনা বা পুষ্টি না পাওয়ার কারণে তাদের উন্নয়নমূলক লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন সেই পরিস্থিতিকে সাধারণত শিশু অবহেলা বলা হয়। এটি শিশু নির্যাতনের সবচেয়ে বিস্তৃত ধরণ। শুধুমাত্র ২০১০ সালেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত শিশু নির্যাতনের ঘটনার ৭৮% ছিল এই অবহেলা। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে শিশু অবহেলার ফলে শিশুদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদী ও আজীবন নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।[১৭৫]
মূল্যায়ন এবং সনাক্তকরণ
[সম্পাদনা]অবহেলার মূল্যায়ন এবং সনাক্তকরণ পেশাদারদের জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। যেহেতু অবহেলা হলো শিশুর বিকাশ এবং তাকে দেওয়া যত্নের বা লালন-পালনের মাত্রার মধ্যকার একটি গতিশীল বিষয়, তাই অবহেলা সনাক্ত করার ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে যে আপনি কোথা থেকে শুরু করবেন—শিশুর বিকাশ থেকে নাকি তাকে দেওয়া যত্নের মাত্রা থেকে?[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
বিকাশ-কেন্দ্রিক পদ্ধতিসমূহ
[সম্পাদনা]কিছু পেশাদার শিশুর বিকাশের স্তর পরিমাপ করার মাধ্যমে অবহেলা সনাক্ত করেন। যদি সেই স্তরগুলো স্বাভাবিক হয় তবে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে শিশুটি অবহেলিত হচ্ছে না। বিকাশের পরিমাপকৃত ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ওজন, উচ্চতা, সহনশীলতা, সামাজিক ও আবেগীয় প্রতিক্রিয়া, কথা বলা এবং মোটর বিকাশ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। যেহেতু একটি শিশু সঠিকভাবে বেড়ে উঠছে কি না তা নির্ধারণে এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যগুলো একটি মেডিকেল মূল্যায়নের অংশ, তাই অবহেলার মূল্যায়ন শুরু করার জন্য একজন পেশাদার চিকিৎসক কর্তৃক সংগৃহীত তথ্যের সাহায্য নিতে পারেন।[১৭৬]
নবজাতকদের সুস্থতা পরীক্ষার জন্য যখন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন প্রায়ই তাদের ওজন এবং উচ্চতা মাপা হয়। যদি নবজাতকের বিকাশ এবং কার্যকারিতা বিলম্বিত বলে মনে হয়, তখন চিকিৎসক আরও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শুরু করেন। অবহেলা সনাক্তকরণের প্রথম ধাপ হিসেবে সমাজকর্মীরা মেডিকেল নোটগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পারেন যে শিশুটি শারীরিকভাবে বেড়ে উঠতে ব্যর্থ হচ্ছে কি না। যদি বিকাশের স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়, তবে পেশাদারদের নিশ্চিত করতে হয় যে এটি শিশুটির পাওয়া যত্নের বা লালন-পালনের অভাবের কারণে কি না। বংশাণুগত অবস্থা বা রোগের কারণে হওয়া উন্নয়নমূলক বিলম্বগুলোকে অবহেলার কারণ হিসেবে ধরা যাবে না, কারণ সেগুলোর মূল ভিত্তি লালন-পালনের অভাব নয়।[১৭৬]
মূল্যায়ন শুরু করা
[সম্পাদনা]রুটিনমাফিক শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পাশাপাশি অবহেলা সনাক্তকরণের আরেকটি উপায় হলো—শিশুটির পাওয়া লালন-পালনের মান স্বাভাবিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে কম কি না তা নির্ধারণ করা।[১৭৭] এই মাত্রা শিশুর বয়স, লিঙ্গ এবং অন্যান্য কারণের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন হতে পারে।[১৭৭] তবে বিকাশের স্তরের দিকে না তাকিয়ে একটি শিশুর ঠিক কী প্রয়োজন তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে সম্পর্কে অবহেলা সংক্রান্ত তত্ত্ব ও নীতিগুলোতে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। তদুপরি, একটি শিশু প্রয়োজনীয় মাত্রায় যত্ন পাচ্ছে কি না তা নির্ধারণের জন্য শুধুমাত্র যত্নের তীব্রতা নয়, বরং এর স্থায়িত্ব এবং পুনরাবৃত্তির হারও বিবেচনায় নিতে হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
শিশুরা সারা দিন এবং সময়ে সময়ে বিভিন্ন ধরণের যত্নের অভাব অনুভব করতে পারে। তবে যত্নের এই অভাবের মাত্রা তীব্রতা, স্থায়িত্ব এবং পুনরাবৃত্তির হারের সীমা কখনও অতিক্রম করা উচিত নয়। এই কারণে পেশাদারদের যত্নের বিস্তারিত ইতিহাস রাখতে হয়, যা যত্ন, উদ্দীপনা এবং পুষ্টির অভাবের দীর্ঘসূত্রিতা প্রদর্শন করে।[১৭৮]
সাধারণ নির্দেশনা অনুযায়ী পেশাদারদের উচিত শিশুর যত্ন প্রদানকারীদের দেওয়া যত্নের মাত্রার ওপর আলোকপাত করা, কারণ অবহেলাকে শিশুর প্রতি পিতামাতার আচরণের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়।[১৭৯] কিছু লেখক মনে করেন যে, পিতামাতা এবং যত্ন প্রদানকারীদের যত্ন দিতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করাই অবহেলা ঘটছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট। অবহেলার একটি সংজ্ঞা হলো, "যখন শিশুদের দেখাশোনা করার দায়িত্বে থাকা প্রাপ্তবয়স্করা তাদের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়, তখন শিশুটি অবহেলার শিকার হয়"। এই সংজ্ঞা অবহেলাকে স্পষ্টভাবেই পিতামাতার কর্মদক্ষতার বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করে।
এটি প্রশ্ন তোলে যে একজন অভিভাবক বা পিতামাতাকে কতটুকু যত্নের অভাব ঘটালে তা উন্নয়নমূলক বিলম্ব হিসেবে গণ্য হবে এবং কীভাবে তা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা যাবে। এই সংজ্ঞাটি, যা যত্ন প্রদানকারীর উদ্দীপনার ওপর গুরুত্ব দেয়, তা সমালোচনার শিকার হতে পারে। অবহেলা হলো শিশুর বিকাশের ওপর লালন-পালনের অভাবজনিত বিরূপ প্রভাব, কিন্তু যত্ন প্রদানকারীর যত্নের মান সবসময় শিশুর প্রাপ্ত যত্নের সঠিক সূচক নয়। অবহেলা স্কুলেও ঘটতে পারে, যা পিতামাতার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আবার শিশুটি হয়তো তার ভাইবোনদের কাছ থেকে বা বোর্ডিং স্কুলের মাধ্যমে যত্ন পাচ্ছে, যা তার পিতামাতার দেওয়া যত্নের অভাব পূরণ করে দিচ্ছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
উদ্দীপনার সাথে সংযোগ
[সম্পাদনা]অবহেলা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার ফলে শিশুরা পর্যাপ্ত লালন-পালন না পাওয়ার কারণে উন্নয়নমূলক বিলম্বের শিকার হয়। বাস্তবে এর অর্থ হলো উন্নয়নমূলক বিলম্ব চিহ্নিত করার মাধ্যমে অবহেলার মূল্যায়ন শুরু করার সময় শিশুটির প্রাপ্ত লালন-পালনের মাত্রাও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অবহেলা সনাক্তকরণের কিছু নির্দেশিকায় বিকাশের স্তর পরিমাপের ওপর জোর দেওয়া হলেও, অন্যগুলোতে এই উন্নয়নমূলক বিলম্বগুলো কীভাবে পিতামাতার আচরণের সাথে সম্পর্কিত তা দেখা হয়। তবে শুধুমাত্র পিতামাতার আচরণের ওপর গুরুত্ব দিলে প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার (যেমন স্কুলে অবহেলা) সম্ভাব্য প্রভাবগুলো আড়ালে চলে যেতে পারে।
যদি কেউ এই সিদ্ধান্তে শুরু করেন যে শিশুটির প্রাপ্ত লালন-পালনের মাত্রা অপর্যাপ্ত, তবে তাকে শিশুর অর্জিত বিকাশের স্তরগুলোও বিবেচনা করতে হবে। তবে এখানে আরও চ্যালেঞ্জ রয়েছে; কারণ উন্নয়নমূলক বিলম্ব এবং যত্নের অভাব উভয়ের উপস্থিতি থাকলেও এটি নিশ্চিত করতে হবে যে দুটির মধ্যে সংযোগটি কাকতালীয় নয়। উন্নয়নমূলক বিলম্ব কোনো বংশাণুগত ব্যাধি, রোগ অথবা শারীরিক, যৌন বা আবেগীয় নির্যাতনের কারণেও হতে পারে। আবার এটি যত্নের অভাব, নির্যাতন, বংশগতি এবং রোগের সংমিশ্রণেও হতে পারে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
পরিমাপের সরঞ্জামসমূহ
[সম্পাদনা]গ্রেডেড কেয়ার প্রোফাইল টুল হলো একটি অনুশীলনমূলক সরঞ্জাম যা পিতামাতা/যত্ন প্রদানকারীর প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে যত্নের মানের একটি বস্তুনিষ্ঠ পরিমাপ প্রদান করে। এটি যুক্তরাজ্যে তৈরি করা হয়েছে।[১৮০]
নর্থ ক্যারোলিনা ফ্যামিলি অ্যাসেসমেন্ট স্কেল হলো একটি সরঞ্জাম যা একজন পেশাদার পরিবারের বিভিন্ন কার্যকারিতার ক্ষেত্রের ওপর ভিত্তি করে অবহেলা ঘটছে কি না তা অন্বেষণ করতে ব্যবহার করতে পারেন।[১৮১]
হস্তক্ষেপ কর্মসূচি
[সম্পাদনা]প্রারম্ভিক হস্তক্ষেপ কর্মসূচি এবং চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং, পারিবারিক ও দলগত কাউন্সেলিং, সামাজিক সহায়তা পরিষেবা এবং আচরণগত দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এগুলো মূলত সমস্যাযুক্ত আচরণ দূর করতে এবং অভিভাবকদের উপযুক্ত লালন-পালন পদ্ধতি শেখাতে সাহায্য করে।[১৮২]
ভিডিও ইন্টারঅ্যাকশন গাইডেন্স হলো একটি ভিডিও ফিডব্যাক হস্তক্ষেপ পদ্ধতি যার মাধ্যমে একজন "নির্দেশক" গ্রাহককে সম্পর্কের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করতে সাহায্য করেন। এখানে গ্রাহককে তাদের নিজস্ব মিথস্ক্রিয়ার ভিডিও ক্লিপগুলো বিশ্লেষণ এবং প্রতিফলিত করতে পরিচালিত করা হয়।[১৮৩][১৮৪] ভিডিও ইন্টারঅ্যাকশন গাইডেন্স এমন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যেখানে ২–১২ বছর বয়সী শিশুদের সম্ভাব্য অভিভাবকীয় অবহেলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং যেখানে শিশুটি কোনো শিশু সুরক্ষা পরিকল্পনার আওতাভুক্ত নয়।[১৮৫]
দ্য সেফকেয়ার প্রোগ্রাম হলো একটি প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি যা ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের অভিভাবকদের সাথে কাজ করে যারা অবহেলার কারণে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে। এই কর্মসূচিটি প্রশিক্ষিত পেশাদারদের দ্বারা বাড়িতে গিয়ে প্রদান করা হয় এবং এতে ১৮ থেকে ২০টি সেশন থাকে। এই সেশনগুলো ৩টি মূল ক্ষেত্রের ওপর আলোকপাত করে: অভিভাবক-শিশু মিথস্ক্রিয়া, গৃহস্থালির নিরাপত্তা এবং শিশুর স্বাস্থ্য।[১৮৬]
ট্রিপল পি (প্যারেন্টিং প্রোগ্রাম) হলো একটি ইতিবাচক অভিভাবকত্ব কর্মসূচি। এটি একটি বহুমুখী অভিভাবকত্ব এবং পারিবারিক সহায়তা কৌশল। এর মূল ধারণা হলো যদি অভিভাবকদের সঠিক লালন-পালন বিষয়ে শিক্ষিত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংস্থান সরবরাহ করা হয়, তবে তা শিশু অবহেলার ঘটনার সংখ্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে।[১৮৭]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- সংযুক্তি তত্ত্ব
- জন্ম ক্রম
- শিশু বিকাশের পর্যায়সমূহ
- চাইল্ড লাইফ বিশেষজ্ঞ
- বিস্ময়কর শিশু
- ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্ক
- সংকটময় কাল
- উন্নয়নমূলক মনোবিজ্ঞান
- উন্নয়নমূলক মনোজীববিজ্ঞান
- উন্নয়নমূলক সাইকোপ্যাথলজি
- প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষা
- বিবর্তনীয় উন্নয়নমূলক মনোবিজ্ঞান
- শিক্ষাবিদ্যা
- খেলা
- মনোবিশ্লেষণমূলক শিশু পর্যবেক্ষণ
- আফ্রিকায় শিশু বিকাশ
- ভারতে শিশু বিকাশ
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Center on the Developing Child (2007). The Science of Early Childhood Development (InBrief). Retrieved from www.developingchild.harvard.edu.
- 1 2 Collins WA, সম্পাদক (১৯৮৪)। "Introduction"। Development During Middle Childhood: The Years From Six to Twelve. (ইংরেজি ভাষায়)। National Academies Press (US)।
- ↑ "Child Development: Young Teens (12-14 years old)"। U.S. Centers for Disease Control and Prevention (CDC)। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১।
- 1 2 "Parents Can Play Vital Role in Encouraging Children's Active, Healthy Lifestyles" (পিডিএফ)। U.S. Centers for Disease Control and Prevention। ২০ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- ↑ Toga AW, Thompson PM, Sowell ER (মার্চ ২০০৬)। "Mapping brain maturation"। Trends in Neurosciences। ২৯ (3): ১৪৮–১৫৯। ডিওআই:10.1016/j.tins.2006.01.007। পিএমসি 3113697। পিএমআইডি 16472876।
- ↑ Morris, Amanda S.; Criss, Michael M.; Silk, Jennifer S.; Houltberg, Benjamin J. (২০১৭)। "The Impact of Parenting on Emotion Regulation During Childhood and Adolescence"। Child Development Perspectives (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ (4): ২৩৩–২৩৮। ডিওআই:10.1111/cdep.12238। আইএসএসএন 1750-8606।
- ↑ Brundavani V, Murthy SR, Kurpad AV (মে ২০০৬)। "Estimation of deep-abdominal-adipose-tissue (DAAT) accumulation from simple anthropometric measurements in Indian men and women"। European Journal of Clinical Nutrition। ৬০ (5): ৬৫৮–৬৬৬। ডিওআই:10.2307/1602366। জেস্টোর 1602366। পিএমআইডি 16391572।
- ↑ Bronfenbrenner U (১৯৭৯)। The ecology of human development: experiments by nature and design। Cambridge: Harvard University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-২২৪৫৬-৮। ওসিএলসি 4515541।
- 1 2 3 Blades M, Smith PK, Cowie H (২০১১)। Understanding Children's Development। Wiley-Blackwell। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০৫১-৭৬০১-৯। ওসিএলসি 620124946।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 Shaffer DR (২০০৯)। Social and personality development (6th সংস্করণ)। Australia: Wadsworth। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪৯৫-৬০০৩৮-১।
- ↑ Huitt W, Hummel J (জুলাই ২০০৩)। "Piaget's theory of cognitive development." (পিডিএফ)। Educational Psychology Interactive। ৩ (2): ১–৫।
- ↑ "Cognitive Development - stages, meaning, average, Definition, Description, Common problems"। Encyclopedia of Children's Health।
- ↑ Stangor C, Walinga J (১৭ অক্টোবর ২০১৪)। "7.2 Infancy and Childhood: Exploring and Learning"। Introduction to Psychology (ইংরেজি ভাষায়) (1st Canadian সংস্করণ)। BCcampus।
- ↑ "Deduction & Induction"। www.socialresearchmethods.net। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৭।
- 1 2 3 4 Cole M, Vygotskiĭ LS (১৯৭৮) [Published originally in Russian in 1930]। Mind in society: the development of higher psychological processes। Cambridge: Harvard University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-৫৭৬২৮-৫। ওসিএলসি 3517053।
- ↑ Kozulin A, Vygotsky LS (২০১২)। Thought and Language। Cambridge, Mass: The MIT Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৬২-৫১৭৭১-৩। ওসিএলসি 768728899।
- ↑ Wertsch JV (১৯৮৫)। Culture, communication, and cognition: Vygotskian perspectives। Cambridge, UK: Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৩৩৮৩০-১। ওসিএলসি 715955821।
- ↑ Carton AS, Vygotskiĭ LS, Rieber RW (১৯৮৭)। The collected works of L. S. Vygotsky. 5, Child psychology। New York: Plenum Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩০৬-৪৫৭০৭-৪। ওসিএলসি 312913751।
- ↑ Boyd D, Wood SH, Wood EM (২০১০)। Mastering the World of Psychology, Books a la Carte Edition (4th সংস্করণ)। Englewood Cliffs, N.J: Prentice Hall। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২০৫-০০৫০৫-৫। ওসিএলসি 660087952।
- ↑ Manning ML (সেপ্টেম্বর ১৯৮৮)। "Erikson's Psychosocial Theories Help Explain Early Adolescence"। NASSP Bulletin। ৭২ (509): ৯৫–১০০। ডিওআই:10.1177/019263658807250914। এস২সিআইডি 144082864।
- ↑ Watson JB (১৯২৬)। "What the nursery has to say about instincts."। Murchison E (সম্পাদক)। Psychologies of 1925। Clark University, Worcester, MA, US: Clark University Press। পৃ. ১–৩৫। ডিওআই:10.1037/11020-001।
- ↑ Watson JB, Rayner R (ফেব্রুয়ারি ১৯২০)। "Conditioned emotional reactions."। Journal of Experimental Psychology। ৩ (1): ১–১৪। ডিওআই:10.1037/h0069608। এইচডিএল:21.11116/0000-0001-9171-B।
- 1 2 Hergenhahn BR, Henley T (১ মার্চ ২০১৩)। An Introduction to the History of Psychology (ইংরেজি ভাষায়)। Cengage Learning। পৃ. ৩৯৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৩-৯৫৮০৯-৩।
- ↑ Skinner BF (আগস্ট ১৯৬৩)। "Operant behavior."। American Psychologist। ১৮ (8): ৫০৩–৫১৫। ডিওআই:10.1037/h0045185। আইএসএসএন 1935-990X। এস২সিআইডি 51796099।
- ↑ Frager R, Fadiman J (২০০৫)। Personality and personal growth (6th সংস্করণ)। Upper Saddle River, N.J.: Pearson Prentice Hall। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৩-১৪৪৪৫১-৫। ওসিএলসি 57168823।
- ↑ "Freud and the Psychodynamic Perspective | Introduction to Psychology"। courses.lumenlearning.com। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০২০।
- ↑ Felluga D। "Definition: Fixation"। Introduction to Psychoanalysis। Purdue University। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০২০।
- ↑ Tyson P, Tyson RL (১৯৯০)। Psychoanalytic theories of development: an integration। New Haven, CT: Yale University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩০০-০৪৫৭৮-৯। ওসিএলসি 21197269।
- ↑ Lemma A (২০০২)। "Psychodynamic Therapy: The Freudian Approach"। Dryden W (সম্পাদক)। Handbook of individual therapy। Thousand Oaks, Calif: Sage। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৬১৯-৬৯৪৩-৩। ওসিএলসি 50279223।
- ↑ Aslin RN (১৯৯৩)। "Commentary : the strange attractiveness of dynamic systems to development"। Thelen E, Smith LC (সম্পাদকগণ)। A Dynamic systems approach to development applications। Cambridge, Mass: MIT Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫৮৫-০৩৮৬৭-৪। ওসিএলসি 42854628।
- ↑ Gleick J (১৯৮৭)। Chaos: Making a New Science। Penguin Books।
- ↑ Sameroff A (১৯৮৩)। "Factors in predicting successful parenting."। Hoekelman RA, Sasserath V (সম্পাদকগণ)। Minimizing high-risk parenting: a review of what is known and consideration of appropriate preventive intervention। Radnor, Pa: Johnson & Johnson Baby Products Company pediatric round table series। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৯৩১৫৬২-০৭-৫। ওসিএলসি 8689673।
- ↑ Thelen E (১৫ এপ্রিল ২০০৫)। "Dynamic Systems Theory and the Complexity of Change"। Psychoanalytic Dialogues। ১৫ (2): ২৫৫–২৮৩। ডিওআই:10.1080/10481881509348831। আইএসএসএন 1048-1885। এস২সিআইডি 1327081।
- 1 2 Berk LE (২০০৯)। Child development। Boston: Pearson Education/Allyn & Bacon। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২০৫-৬১৫৫৯-৯। ওসিএলসি 232605723।
- ↑ Treisman A (সেপ্টেম্বর ১৯৯৯)। "Solutions to the binding problem: progress through controversy and convergence"। Neuron। ২৪ (1): ১০৫–১০, ১১১–২৫। ডিওআই:10.1016/s0896-6273(00)80826-0। পিএমআইডি 10677031।
- 1 2 Val Danilov, Igor (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)। "Theoretical Grounds of Shared Intentionality for Neuroscience in Developing Bioengineering Systems"। OBM Neurobiology। ৭ (1): ১৫৬। ডিওআই:10.21926/obm.neurobiol.2301156।
- 1 2 3 4 5 Val Danilov I (২০২৩)। "Low-Frequency Oscillations for Nonlocal Neuronal Coupling in Shared Intentionality Before and After Birth: Toward the Origin of Perception"। OBM Neurobiology (ইংরেজি ভাষায়)। ৭ (4): ১–১৭। ডিওআই:10.21926/obm.neurobiol.2304192।
- 1 2 Tomasello M (২০১৯)। Becoming human: A theory of ontogeny.। Cambridge, Massachusetts, USA: Harvard University Press।
- ↑ Val Danilov I, Mihailova S (এপ্রিল ২০২৩)। "Empirical Evidence of Shared Intentionality: Towards Bioengineering Systems Development."। OBM Neurobiology। ৭ (2): ১–২০। ডিওআই:10.21926/obm.neurobiol.2302167।
- ↑ McClung JS, Placì S, Bangerter A, Clément F, Bshary R (সেপ্টেম্বর ২০১৭)। "The language of cooperation: shared intentionality drives variation in helping as a function of group membership"। Proceedings. Biological Sciences। ২৮৪ (1863) 20171682। ডিওআই:10.1098/rspb.2017.1682। পিএমসি 5627217। পিএমআইডি 28931743।
- ↑ Val Danilov I, Mihailova S (2025). "Reflexes and Shared Intentionality in the Origins of Emotions Development: A Scoping Review of Studies on Blinking in Infants". OBM Neurobiology 2025; 9(1): 263; doi:10.21926/obm.neurobiol.2501263.
- ↑ Val Danilov I (2024). "The Origin of Natural Neurostimulation: A Narrative Review of Noninvasive Brain Stimulation Techniques". OBM Neurobiology 2024; 8(4): 260; doi:10.21926/obm.neurobiol.2404260.
- ↑ Liu J, Zhang R, Xie E, Lin Y, Chen D, Liu Y, এবং অন্যান্য (আগস্ট ২০২৩)। "Shared intentionality modulates interpersonal neural synchronization at the establishment of communication system"। Communications Biology। ৬ (1) 832। ডিওআই:10.1038/s42003-023-05197-z। পিএমসি 10415255। পিএমআইডি 37563301।
- ↑ Painter DR, Kim JJ, Renton AI, Mattingley BJ (জুন ২০২১)। "Joint control of visually guided actions involves concordant increases in behavioural and neural coupling"। Communications Biology। ৪ (1) 816। ডিওআই:10.1038/s42003-021-02319-3। পিএমসি 8242020। পিএমআইডি 34188170।
- ↑ "David E. Rumelhart Prize". CognitiveScienceSociety.org. Cognitive Science Society. 2022. "2022 Recipient – Michael Tomasello" section. Retrieved 12 January 2024.
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 Patterson C (২০০৮)। Child development। Boston: McGraw-Hill Higher Education। আইএসবিএন ৯৭৮-০-০৭-২৩৪৭৯৫-১। ওসিএলসি 179102376।
- ↑ Gross J (১৯৮৭)। Introducing Erik Erikson। Lanham, MD: University Press of America। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮১৯১-৫৭৮৮-১।
- ↑ Erikson EH (১৯৬৮)। Identity: youth, and crisis। New York: W.W. Norton। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৯৩-৩১১৪৪-০। ওসিএলসি 750885788।
- 1 2 3 Mercer J (১৯৯৮)। Infant Development: A Multidisciplinary Introduction। Pacific Grove, CA: Brooks/Cole। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫৩৪-৩৩৯৭৭-৭।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 Feldman RS (২০১১)। Development across the life span (6th সংস্করণ)। Upper Saddle River, NJ: Prentice Hall। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২০৫-৮০৫৯১-৪।
- ↑ Plomin R, Asbury K (২০০৫)। "Nature and Nurture: Genetic and Environmental Influences on Behavior"। Annals of the American Academy of Political and Social Science। ৬০০: ৮৬–৯৮। ডিওআই:10.1177/0002716205277184। জেস্টোর 25046112। এস২সিআইডি 20315503।
- ↑ Tau GZ, Peterson BS (জানুয়ারি ২০১০)। "Normal development of brain circuits"। Neuropsychopharmacology। ৩৫ (1): ১৪৭–১৬৮। ডিওআই:10.1038/npp.2009.115। পিএমসি 3055433। পিএমআইডি 19794405।
- ↑ Buchwald J (১৯৮৭)। "A comparison of plasticity in sensory and cognitive processing systems"। Gunzenhauser N (সম্পাদক)। Infant Stimulation। Skillman NJ: Johnson & Johnson। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৯৩১৫৬২-১৫-০।
- ↑ Greenough WT, Black JE, Wallace CS (জুন ১৯৮৭)। "Experience and brain development" (পিডিএফ)। Child Development। ৫৮ (3): ৫৩৯–৫৫৯। ডিওআই:10.2307/1130197। জেস্টোর 1130197। পিএমআইডি 3038480। ১০ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০১২।
- ↑ Berk L (২০০৫)। Infants, Children, and Adolescents। Boston: Allyn & Bacons। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২০৫-৫১১৩৮-৯।
- ↑ Rubenstein LD, Schelling N, Wilczynski SM, Hooks EN (অক্টোবর ২০১৫)। "Lived experiences of parents of gifted students with autism spectrum disorder: The struggle to find appropriate educational experiences."। Gifted Child Quarterly। ৫৯ (4): ২৮৩–২৯৮। ডিওআই:10.1177/0016986215592193। এস২সিআইডি 146380252।
- ↑ "Newborn Reflexes"। HealthyChildren.org। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৭।
- ↑ Goodwin CJ (২০০৯)। Research in psychology: Methods and design। Wiley।
- 1 2 3 Siegler RS, Gershoff ET, Saffran J, Eisenberg N, Leaper C (২০২০)। How children develop (Sixth সংস্করণ)। New York, New York: Worth Publishers, Macmillan Learning। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩১৯-১৮৪৫৬-৮। ওসিএলসি 1137233012।
- ↑ Byers-Heinlein K (২০১৪)। "High-Amplitude Sucking Procedure"। Encyclopedia of Language Development। Thousand Oaks: SAGE Publications, Inc.। পৃ. ২৬৩–২৬৪। ডিওআই:10.4135/9781483346441। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৫২২-৫৮৭৬-৮। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০২২।
- ↑ Butler SC, O'Sullivan LP, Shah BL, Berthier NE (নভেম্বর ২০১৪)। "Preference for infant-directed speech in preterm infants"। Infant Behavior & Development। ৩৭ (4): ৫০৫–৫১১। ডিওআই:10.1016/j.infbeh.2014.06.007। পিএমআইডি 25009957।
- ↑ Matsuda YT, Okamoto Y, Ida M, Okanoya K, Myowa-Yamakoshi M (অক্টোবর ২০১২)। "Infants prefer the faces of strangers or mothers to morphed faces: an uncanny valley between social novelty and familiarity"। Biology Letters। ৮ (5): ৭২৫–৭২৮। ডিওআই:10.1098/rsbl.2012.0346। পিএমসি 3440980। পিএমআইডি 22696289।
- ↑ Bergelson E, Swingley D (ফেব্রুয়ারি ২০১২)। "At 6-9 months, human infants know the meanings of many common nouns"। Proceedings of the National Academy of Sciences of the United States of America। ১০৯ (9): ৩২৫৩–৩২৫৮। বিবকোড:2012PNAS..109.3253B। ডিওআই:10.1073/pnas.1113380109। জেস্টোর 41506937। পিএমসি 3295309। পিএমআইডি 22331874।
- 1 2 Daum MM (২০১৭)। Hopkins B, Geangu E, Linkenauger S (সম্পাদকগণ)। Cognitive development during infancy। Cambridge University Press। পৃ. ২৭৭–২৮৭।
- ↑ Skelton AE, Franklin A (ফেব্রুয়ারি ২০২০)। "Infants look longer at colours that adults like when colours are highly saturated"। Psychonomic Bulletin & Review। ২৭ (1): ৭৮–৮৫। ডিওআই:10.3758/s13423-019-01688-5। পিএমসি 7000485। পিএমআইডি 31848908। এস২সিআইডি 209407243।
- ↑ Flom R, Pick AD (ডিসেম্বর ২০১২)। "Dynamics of infant habituation: infants' discrimination of musical excerpts"। Infant Behavior & Development। ৩৫ (4): ৬৯৭–৭০৪। ডিওআই:10.1016/j.infbeh.2012.07.022। পিএমআইডি 22982268।
- ↑ Thomason ME (২০১৭)। Hopkins B, Geangu E, Linkenauger S (সম্পাদকগণ)। Magnetic resonance imaging (MRI) (2nd সংস্করণ)। Cambridge University Press। পৃ. ১২১–১২৮।
- ↑ Giedd JN, Raznahan A, Alexander-Bloch A, Schmitt E, Gogtay N, Rapoport JL (জানুয়ারি ২০১৫)। "Child psychiatry branch of the National Institute of Mental Health longitudinal structural magnetic resonance imaging study of human brain development"। Neuropsychopharmacology। ৪০ (1): ৪৩–৪৯। ডিওআই:10.1038/npp.2014.236। পিএমসি 4262916। পিএমআইডি 25195638।
- ↑ Britton JW, Frey LC, Hopp JL, Korb P, Koubeissi MZ, Lievens WE, এবং অন্যান্য (২০১৬)। St Louis EK, Frey LC (সম্পাদকগণ)। The Developmental EEG: Premature, Neonatal, Infant, and Children (ইংরেজি ভাষায়)। American Epilepsy Society।
- 1 2 Aldridge J (২০১৫)। Participatory research: Working with vulnerable groups in research and practice। Bristol University Press। পৃ. ৩১–৬৪।
- ↑ "Child Development"। Centers for Disease Control and Prevention (CDC)। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮।
- ↑ Kover, Sara T.; Edmunds, Sarah R.; Ellis Weismer, Susan (জুলাই ২০১৬)। "Brief Report: Ages of Language Milestones as Predictors of Developmental Trajectories in Young Children with Autism Spectrum Disorder"। Journal of Autism and Developmental Disorders। ৪৬ (7): ২৫০১–২৫০৭। ডিওআই:10.1007/s10803-016-2756-y। পিএমসি 4903886। পিএমআইডি 26936159।
- ↑ Khan I, Leventhal BL (২০২৩)। "Developmental Delay"। StatPearls। StatPearls Publishing। পিএমআইডি 32965902। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩।
- 1 2 3 4 Tanner JM (১৯৯০)। Fetus into Man। Cambridge MA: Harvard University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-৩০৬৯২-৯।
- ↑ Kristine M. Ruggiero; Michael Ruggiero (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০)। Fast Facts Handbook for Pediatric Primary Care: A Guide for Nurse Practitioners and Physician Assistants (ইংরেজি ভাষায়)। Springer Publishing Company। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮২৬১-৫১৮৪-১।
- ↑ Graber EG। "Physical Growth of Infants and Children - Children's Health Issues"। Merck Manuals Consumer Version (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২০।
- ↑ "Puberty Definition, Stages, Duration, Signs for Boys & Girls"। MedicineNet (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২০।
- ↑ "FDA Approves Humatrope for Short Stature"। U.S. Food and Drug Administration। ২৫ জুলাই ২০০৩। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০০৯।
- ↑ Palumbo EJ। "Failure to Thrive: Miscellaneous Disorders in Infants and Children"। Merck Manual Professional। Merck Sharp & Dohme Corp.। ২৯ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০১০।
- ↑ "Stunting in a nutshell"। www.who.int (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩।
- ↑ Willingham DB (১৯৯৯)। "The Neural Basis of Motor-Skill Learning"। Current Directions in Psychological Science। ৮ (6): ১৭৮–১৮২। ডিওআই:10.1111/1467-8721.00042। এস২সিআইডি 143942008।
- ↑ Lang D (১ আগস্ট ২০২২)। Individual and Family Development, Health, and Well-being। Iowa State University Digital Press। ডিওআই:10.31274/isudp.2022.122।
- 1 2 Bayley N (২০০৫)। Bayley Scales of Infant and Toddler Development। Harcourt Assessment।
- ↑ Fathirezaie, Zahra; Matos, Sérgio; Khodadadeh, Elham; Clemente, Filipe Manuel; Badicu, Georgian; Silva, Ana Filipa; Zamani Sani, Seyed Hojjat; Nahravani, Samaneh (২৫ মার্চ ২০২২)। "The Relationship between Executive Functions and Gross Motor Skills in Rural Children Aged 8–10 Years"। Healthcare। ১০ (4): ৬১৬। ডিওআই:10.3390/healthcare10040616। পিএমসি 9026807। পিএমআইডি 35455794।
- ↑ Cameron, Claire E.; Brock, Laura L.; Murrah, William M.; Bell, Lindsay H.; Worzalla, Samantha L.; Grissmer, David; Morrison, Frederick J. (জুলাই ২০১২)। "Fine Motor Skills and Executive Function Both Contribute to Kindergarten Achievement"। Child Development। ৮৩ (4): ১২২৯–১২৪৪। ডিওআই:10.1111/j.1467-8624.2012.01768.x। এইচডিএল:2027.42/92367। পিএমসি 3399936। পিএমআইডি 22537276।
- ↑ Hertrich, Ingo; Dietrich, Susanne; Blum, Corinna; Ackermann, Hermann (১৭ মে ২০২১)। "The Role of the Dorsolateral Prefrontal Cortex for Speech and Language Processing"। Frontiers in Human Neuroscience। ১৫। ডিওআই:10.3389/fnhum.2021.645209। পিএমসি 8165195। পিএমআইডি 34079444।
- ↑ Ferrandez, A.M; Hugueville, L; Lehéricy, S; Poline, J.B; Marsault, C; Pouthas, V (আগস্ট ২০০৩)। "Basal ganglia and supplementary motor area subtend duration perception: an fMRI study"। NeuroImage। ১৯ (4): ১৫৩২–১৫৪৪। ডিওআই:10.1016/S1053-8119(03)00159-9। পিএমআইডি 12948709।
- 1 2 3 Piek JP, Gasson N, Barrett N, Case I (ডিসেম্বর ২০০২)। "Limb and gender differences in the development of coordination in early infancy"। Human Movement Science। ২১ (5–6): ৬২১–৩৯। ডিওআই:10.1016/s0167-9457(02)00172-0। পিএমআইডি 12620715।
- ↑ Bell S (১৪ জুন ২০১১)। "Flexibility diets"। livestrong.com। ২৮ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ Soska KC, Adolph KE, Johnson SP (জানুয়ারি ২০১০)। "Systems in development: motor skill acquisition facilitates three-dimensional object completion"। Developmental Psychology। ৪৬ (1): ১২৯–১৩৮। ডিওআই:10.1037/a0014618। পিএমসি 2805173। পিএমআইডি 20053012।
- ↑ Rudisill ME, Johnson JL (২৪ জুলাই ২০১৮)। "Mastery Motivational Climates in Early Childhood Physical Education: What Have We Learned over the Years?"। Journal of Physical Education, Recreation & Dance (ইংরেজি ভাষায়)। ৮৯ (6): ২৬–৩২। ডিওআই:10.1080/07303084.2018.1476940। আইএসএসএন 0730-3084। এস২সিআইডি 150213725।
- ↑ Adolph KE, Vereijken B, Denny MA (অক্টোবর ১৯৯৮)। "Learning to crawl"। Child Development। ৬৯ (5): ১২৯৯–৩১২। ডিওআই:10.2307/1132267। জেস্টোর 1132267। পিএমআইডি 9839417।
- ↑ "The Future of Children"। futureofchildren.org। Princeton University। ৪ জুন ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০১৬।
- ↑ Scharoun SM, Bryden PJ (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪)। "Hand preference, performance abilities, and hand selection in children"। Frontiers in Psychology। ৫: ৮২। ডিওআই:10.3389/fpsyg.2014.00082। পিএমসি 3927078। পিএমআইডি 24600414।
- ↑ "Cognitive Development Domain - Child Development (CA Dept of Education)"। www.cde.ca.gov। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০২৪।
- ↑ Brotherson SE (এপ্রিল ২০০৫)। "Understanding Brain Development in Young Children" (পিডিএফ)। Fargo, ND: NDSU Extension Service। ১৪ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- ↑ Shin JC (জুন ২০১১)। "The development of temporal coordination in children"। Brain and Cognition। ৭৬ (1): ১০৬–১১৪। ডিওআই:10.1016/j.bandc.2011.02.011। পিএমআইডি 21463915। এস২সিআইডি 20708124।
- ↑ "default - Stanford Medicine Children's Health"। www.stanfordchildrens.org। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০২৩।
- 1 2 "Developmental Delay in Children"। Cleveland Clinic (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০২৩।
- ↑ Buczyłowska D, Ronniger P, Melzer J, Petermann F (মে ২০১৯)। "Sex Similarities and Differences in Intelligence in Children Aged Two to Eight: Analysis of SON-R 2-8 Scores"। Journal of Intelligence। ৭ (2): ১১। ডিওআই:10.3390/jintelligence7020011। পিএমসি 6630280। পিএমআইডি 31162390।
- ↑ Gu J, Bourne PE (২০০৯)। স্ট্রাকচারাল বায়োইনফরমেটিকস (দ্বিতীয় সংস্করণ)। Hoboken (N.J.): Wiley-Blackwell। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪৭০-১৮১০৫-৮।
- ↑ "শিশুর আবেগ: জীবনব্যাপ্ত বিকাশ"। Open Education Resource। Lumen Learning। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০২৩।
- ↑ Mendes DM, Seidl-de-Moura ML (নভেম্বর ২০১৪)। "Different kinds of infants' smiles in the first six months and contingency to maternal affective behavior"। The Spanish Journal of Psychology। ১৭: E৮০। ডিওআই:10.1017/sjp.2014.86। পিএমআইডি 26055068। এস২সিআইডি 39470102।
- ↑ "আবেগীয় এবং সামাজিক বিকাশ: ৮ থেকে ১২ মাস"। HealthyChildren.org (ইংরেজি ভাষায়)। আগস্ট ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩।
- ↑ Brooker RJ, Buss KA, Lemery-Chalfant K, Aksan N, Davidson RJ, Goldsmith HH (নভেম্বর ২০১৩)। "The development of stranger fear in infancy and toddlerhood: normative development, individual differences, antecedents, and outcomes"। Developmental Science। ১৬ (6): ৮৬৪–৮৭৮। ডিওআই:10.1111/desc.12058। পিএমসি 4129944। পিএমআইডি 24118713।
- ↑ Robinson L (২০১২)। "শিশুদের মধ্যে বিচ্ছেদকালীন উদ্বেগ"। helpguide.org। ৬ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ Alegre A (২০১২)। "The Relation Between the Time Mothers and Children Spent Together and the Children's Trait Emotional Intelligence"। Child & Youth Care Forum। ৪১ (5): ৪৯৩–৫০৮। ডিওআই:10.1007/s10566-012-9180-z। এস২সিআইডি 144031333।
- ↑ Vilhjalmsson R, Kristjansdottir G (জানুয়ারি ২০০৩)। "Gender differences in physical activity in older children and adolescents: the central role of organized sport"। Social Science & Medicine। ৫৬ (2): ৩৬৩–৩৭৪। ডিওআই:10.1016/S0277-9536(02)00042-4। পিএমআইডি 12473321। এস২সিআইডি 30233756।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 Hoff, E. (2014). Language Development. Belmont, CA: Wadsworth Cengage Learning
- ↑ "চারটি ভাষা ব্যবস্থা"। The Learning House, Inc.। ১৩ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০১৩।
- ↑ de Villiers JG, de Villiers PA (১৯৭৯)। Language acquisition (3rd সংস্করণ)। Cambridge, Massachusetts: Harvard Univ. Press। পৃ. ৭–১৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-৫০৯৩১-৩।
- ↑ Lass R (১৯৮৪)। Phonology: an introduction to basic concepts। Cambridge: Cambridge University Press। পৃ. ১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-২৮১৮৩-৬।
- ↑ de Villiers JG, de Villiers PA (১৯৭৯)। Language acquisition (3rd সংস্করণ)। Cambridge, Massachusetts: Harvard Univ. Press। পৃ. ৪২–৪৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-৫০৯৩১-৩।
- ↑ Plag I, Braun M, Lappe S, Schramm M (২০০৭)। Introduction to English linguistics (1st সংস্করণ)। Berlin: Mouton de Gruyter। পৃ. ১৫০। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-১১-০১৮৯৬৯-৮।
- ↑ Aronoff M, Fudeman K (২০১১)। What is Morphology (2nd সংস্করণ)। John Wiley & Sons।
- ↑ de Villiers JG, de Villiers PA (১৯৭৯)। Language acquisition (3rd সংস্করণ)। Cambridge, Massachusetts: Harvard Univ. Press। পৃ. ২২৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-৫০৯৩১-৩।
- ↑ Hopper R, Naremore RC (১৯৭৩)। Children's Speech। New York, NY: Harper & Row।
- 1 2 3 4 5 6 Wood BS (১৯৭৬)। Children and communication: verbal and nonverbal language development। Englewood Cliffs, N.J.: Prentice-Hall।
- ↑ Hart B, Risley TR (১৯৯৯)। Developmental Change. The Social World of Children Learning to Talk। Baltimore, Md.: P.H. Brookes Pub.। পৃ. ২৭১।
- 1 2 3 Hart B (১৯৯৯)। The Social World of Children Learning to Talk। Baltimore, Md.: P.H. Brookes Pub। পৃ. ৫৩–৭২। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৫৭৬৬-৪২০-৪।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 Woolfolk A, Perry NE (২০১২)। Child and adolescent development। Upper Saddle River, NJ: Pearson Education। আইএসবিএন ৯৭৮-১-২৯২-০৪১০৬-৩।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 Pal BK (২০১১)। Education Psychology। Delhi: Prerna Parkashan।
- 1 2 3 van Heugten M, Johnson EK (ফেব্রুয়ারি ২০১৪)। "Learning to contend with accents in infancy: benefits of brief speaker exposure"। Journal of Experimental Psychology. General। ১৪৩ (1): ৩৪০–৩৫০। ডিওআই:10.1037/a0032192। পিএমআইডি 23506084।
- ↑ Gleitman LR (১৯৯০)। "The structural sources of verb meaning"। Language Acquisition। ১ (1): ৩–৫৫। ডিওআই:10.1207/s15327817la0101_2। এস২সিআইডি 144713838।
- ↑ Barrett M, Harris M, Chasin J (ফেব্রুয়ারি ১৯৯১)। "Early lexical development and maternal speech: a comparison of children's initial and subsequent uses of words"। Journal of Child Language। ১৮ (1): ২১–৪০। ডিওআই:10.1017/S0305000900013271। পিএমআইডি 2010501। এস২সিআইডি 35724493।
- ↑ Hart B, Risley TR (১৯৯৫)। Meaningful Differences in the Everyday Experience of Young American Children। P.H. Brookes। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৫৭৬৬-১৯৭-৫।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 Hoff E (২০০৯)। Language development। Wadsworth Cengage Learning। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪৯৫-৫০৮২০-৫।
- 1 2 Richards JC, Schmidt WR, সম্পাদকগণ (১৯৮৬)। Language and Communication। USA: Longman Group Limited।
- 1 2 Dale PS, Ingram D, Snow CE (১৯৮১)। "Social Interaction and Language Acquisition."। Child language, an international perspective: selected papers from the First International Congress for the Study of Child Language। Baltimore, Md.: University Park Press। পৃ. ১৯৫–২১৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৩৯১-১৬০৮-০।
- ↑ Burgoon KJ, Le Poire AB (১৯৯৩)। "Effects of Communication Expectancies, Actual Communication, and Expectancy Disconfirmation on Evaluations of Communicators and Their Communication Behavior"। Human Communication Research। ২০: ৬৭–৯৬। ডিওআই:10.1111/j.1468-2958.1993.tb00316.x।
- 1 2 3 McLaughlin MR (মে ২০১১)। "Speech and language delay in children"। American Family Physician (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ৮৩ (10): ১১৮৩–১১৮৮। পিএমআইডি 21568252।
- ↑ Sunderajan T, Kanhere SV (মে ২০১৯)। "Speech and language delay in children: Prevalence and risk factors"। Journal of Family Medicine and Primary Care। ৮ (5): ১৬৪২–১৬৪৬। ডিওআই:10.4103/jfmpc.jfmpc_162_19। পিএমসি 6559061। পিএমআইডি 31198730।
- ↑ Marrus N, Hall L (জুলাই ২০১৭)। "Intellectual Disability and Language Disorder"। Child and Adolescent Psychiatric Clinics of North America। ২৬ (3): ৫৩৯–৫৫৪। ডিওআই:10.1016/j.chc.2017.03.001। পিএমসি 5801738। পিএমআইডি 28577608।
- ↑ Lang-Roth R (১ ডিসেম্বর ২০১৪)। "Hearing impairment and language delay in infants: Diagnostics and genetics"। GMS Current Topics in Otorhinolaryngology, Head and Neck Surgery। ১৩: Doc০৫। ডিওআই:10.3205/cto000108। পিএমসি 4273166। পিএমআইডি 25587365।
- ↑ Caselli N, Pyers J, Lieberman AM (মে ২০২১)। "Deaf Children of Hearing Parents Have Age-Level Vocabulary Growth When Exposed to American Sign Language by 6 Months of Age"। The Journal of Pediatrics। ২৩২: ২২৯–২৩৬। ডিওআই:10.1016/j.jpeds.2021.01.029। পিএমসি 8085057। পিএমআইডি 33482219।
- ↑ Vogindroukas I, Stankova M, Chelas EN, Proedrou A (১৪ অক্টোবর ২০২২)। "Language and Speech Characteristics in Autism"। Neuropsychiatric Disease and Treatment। ১৮: ২৩৬৭–২৩৭৭। ডিওআই:10.2147/NDT.S331987। পিএমসি 9578461। পিএমআইডি 36268264।
- ↑ Halim ML (২৯ মার্চ ২০১৬)। "Princesses and Superheroes: Social-Cognitive Influences on Early Gender Rigidity"। Child Development Perspectives (ইংরেজি ভাষায়)। ১০ (3): ১৫৫–১৬০। ডিওআই:10.1111/cdep.12176। আইএসএসএন 1750-8592।
- 1 2 Steensma TD, Kreukels BP, de Vries AL, Cohen-Kettenis PT (জুলাই ২০১৩)। "Gender identity development in adolescence"। Hormones and Behavior। ৬৪ (2): ২৮৮–২৯৭। ডিওআই:10.1016/j.yhbeh.2013.02.020। পিএমআইডি 23998673। এস২সিআইডি 23056757।
- ↑ Roselli CE (জুলাই ২০১৮)। "Neurobiology of gender identity and sexual orientation"। Journal of Neuroendocrinology। ৩০ (7) e12562। ডিওআই:10.1111/jne.12562। পিএমসি 6677266। পিএমআইডি 29211317।
- ↑ Rangel MA, Shi Y (জানুয়ারি ২০১৯)। "Early patterns of skill acquisition and immigrants' specialization in STEM careers"। Proceedings of the National Academy of Sciences of the United States of America। ১১৬ (2): ৪৮৪–৪৮৯। বিবকোড:2019PNAS..116..484R। ডিওআই:10.1073/pnas.1812041116। পিএমসি 6329961। পিএমআইডি 30598440।
- 1 2 Mora JO, Herrera MG, Suescun J, de Navarro L, Wagner M (সেপ্টেম্বর ১৯৮১)। "The effects of nutritional supplementation on physical growth of children at risk of malnutrition"। The American Journal of Clinical Nutrition। ৩৪ (9): ১৮৮৫–১৮৯২। ডিওআই:10.1093/ajcn/34.9.1885। পিএমআইডি 7282613।
- 1 2 3 Kurstjens S, Wolke D (জুলাই ২০০১)। "Effects of maternal depression on cognitive development of children over the first 7 years of life"। Journal of Child Psychology and Psychiatry, and Allied Disciplines। ৪২ (5): ৬২৩–৬৩৬। ডিওআই:10.1111/1469-7610.00758। পিএমআইডি 11464967।
- ↑ Frank DA, Augustyn M, Knight WG, Pell T, Zuckerman B (মার্চ ২০০১)। "Growth, development, and behavior in early childhood following prenatal cocaine exposure: a systematic review"। JAMA। ২৮৫ (12): ১৬১৩–১৬২৫। ডিওআই:10.1001/jama.285.12.1613। পিএমসি 2504866। পিএমআইডি 11268270।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;AAP20162020নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Slomian, Justine; Honvo, Germain; Emonts, Patrick; Reginster, Jean-Yves; Bruyère, Olivier (জানুয়ারি ২০১৯)। "Consequences of maternal postpartum depression: A systematic review of maternal and infant outcomes"। Women's Health। ১৫: ১৭৪৫৫০৬৫১৯৮৪৪০৪। ডিওআই:10.1177/1745506519844044। পিএমসি 6492376। পিএমআইডি 31035856।
- ↑ Parsons, C. E.; Young, K. S.; Rochat, T. J.; Kringelbach, M. L.; Stein, A. (১ মার্চ ২০১২)। "Postnatal depression and its effects on child development: a review of evidence from low- and middle-income countries"। British Medical Bulletin। ১০১ (1): ৫৭–৭৯। ডিওআই:10.1093/bmb/ldr047। পিএমআইডি 22130907।
- 1 2 Piteo AM, Yelland LN, Makrides M (আগস্ট ২০১২)। "Does maternal depression predict developmental outcome in 18 month old infants?"। Early Human Development। ৮৮ (8): ৬৫১–৬৫৫। ডিওআই:10.1016/j.earlhumdev.2012.01.013। পিএমআইডি 22361258।
- ↑ Cornish AM, McMahon CA, Ungerer JA, Barnett B, Kowalenko N, Tennant C (২০০৫)। "Postnatal depression and infant cognitive and motor development in the second postnatal year: The impact of depression chronicity and infant gender"। Infant Behavior and Development। ২৮ (4): ৪০৭–৪১৭। ডিওআই:10.1016/j.infbeh.2005.03.004।
- ↑ Hay DF, Pawlby S, Sharp D, Asten P, Mills A, Kumar R (অক্টোবর ২০০১)। "Intellectual problems shown by 11-year-old children whose mothers had postnatal depression"। Journal of Child Psychology and Psychiatry, and Allied Disciplines। ৪২ (7): ৮৭১–৮৮৯। ডিওআই:10.1111/1469-7610.00784। পিএমআইডি 11693583।
- ↑ Galler JR, Harrison RH, Ramsey F, Forde V, Butler SC (সেপ্টেম্বর ২০০০)। "Maternal depressive symptoms affect infant cognitive development in Barbados"। Journal of Child Psychology and Psychiatry, and Allied Disciplines। ৪১ (6): ৭৪৭–৭৫৭। ডিওআই:10.1111/1469-7610.00662। পিএমআইডি 11039687।
- ↑ Field T, Healy B, Goldstein S, Guthertz M (১৯৯০)। "Behaviour-state matching and synchrony in mother-infant interactions of nondepressed versus depressed dyads"। Developmental Psychology। ২৬ (1): ৭–১৪। ডিওআই:10.1037/0012-1649.26.1.7।
- ↑ Bettes BA (আগস্ট ১৯৮৮)। "Maternal depression and motherese: temporal and intonational features"। Child Development। ৫৯ (4): ১০৮৯–১০৯৬। ডিওআই:10.2307/1130275। জেস্টোর 1130275। পিএমআইডি 3168616।
- ↑ Murray L, Kempton C, Woolgar M, Hooper R (অক্টোবর ১৯৯৩)। "Depressed mothers' speech to their infants and its relation to infant gender and cognitive development"। Journal of Child Psychology and Psychiatry, and Allied Disciplines। ৩৪ (7): ১০৮৩–১১০১। ডিওআই:10.1111/j.1469-7610.1993.tb01775.x। পিএমআইডি 8245134।
- ↑ Schechter DS, Zygmunt A, Coates SW, Davies M, Trabka K, McCaw J, এবং অন্যান্য (সেপ্টেম্বর ২০০৭)। "Caregiver traumatization adversely impacts young children's mental representations on the MacArthur Story Stem Battery"। Attachment & Human Development। ৯ (3): ১৮৭–২০৫। ডিওআই:10.1080/14616730701453762। পিএমসি 2078523। পিএমআইডি 18007959।
- 1 2 Hurt H, Brodsky NL, Betancourt L, Braitman LE, Malmud E, Giannetta J (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫)। "Cocaine-exposed children: follow-up through 30 months"। Journal of Developmental and Behavioral Pediatrics। ১৬ (1): ২৯–৩৫। ডিওআই:10.1097/00004703-199502000-00005। পিএমআইডি 7730454। এস২সিআইডি 241091।
- ↑ Azuma SD, Chasnoff IJ (সেপ্টেম্বর ১৯৯৩)। "Outcome of children prenatally exposed to cocaine and other drugs: a path analysis of three-year data"। Pediatrics। ৯২ (3): ৩৯৬–৪০২। পিএমআইডি 7689727।
- ↑ Richardson GA, Conroy ML, Day NL (১৯৯৬)। "Prenatal cocaine exposure: effects on the development of school-age children"। Neurotoxicology and Teratology। ১৮ (6): ৬২৭–৬৩৪। বিবকোড:1996NTxT...18..627R। ডিওআই:10.1016/S0892-0362(96)00121-3। পিএমআইডি 8947939।
- ↑ Kilbride H, Castor C, Hoffman E, Fuger KL (ফেব্রুয়ারি ২০০০)। "Thirty-six-month outcome of prenatal cocaine exposure for term or near-term infants: impact of early case management"। Journal of Developmental and Behavioral Pediatrics। ২১ (1): ১৯–২৬। ডিওআই:10.1097/00004703-200002000-00004। পিএমআইডি 10706345। এস২সিআইডি 28960955।
- ↑ Singer LT, Yamashita TS, Hawkins S, Cairns D, Baley J, Kliegman R (মে ১৯৯৪)। "Increased incidence of intraventricular hemorrhage and developmental delay in cocaine-exposed, very low birth weight infants"। The Journal of Pediatrics। ১২৪ (5 Pt 1): ৭৬৫–৭৭১। ডিওআই:10.1016/S0022-3476(05)81372-1। পিএমসি 4181569। পিএমআইডি 7513757।
- 1 2 3 4 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;Minnesনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Chilton M, Chyatte M, Breaux J (অক্টোবর ২০০৭)। "The negative effects of poverty & food insecurity on child development"। The Indian Journal of Medical Research। ১২৬ (4): ২৬২–২৭২। পিএমআইডি 18032801।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;Webbনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Halterman JS, Kaczorowski JM, Aligne CA, Auinger P, Szilagyi PG (জুন ২০০১)। "Iron deficiency and cognitive achievement among school-aged children and adolescents in the United States"। Pediatrics। ১০৭ (6): ১৩৮১–১৩৮৬। ডিওআই:10.1542/peds.107.6.1381। পিএমআইডি 11389261।
- ↑ Lassi ZS, Kurji J, Oliveira CS, Moin A, Bhutta ZA (এপ্রিল ২০২০)। "Zinc supplementation for the promotion of growth and prevention of infections in infants less than six months of age"। The Cochrane Database of Systematic Reviews। ২০২০ (4) CD010205। ডিওআই:10.1002/14651858.CD010205.pub2। পিএমসি 7140593। পিএমআইডি 32266964।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;Smithনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;Ruhm2004নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Opara KN, Udoidung NI, Opara DC, Okon OE, Edosomwan EU, Udoh AJ (২০১২)। "The Impact of Intestinal Parasitic Infections on the Nutritional Status of Rural and Urban School-Aged Children in Nigeria"। International Journal of MCH and AIDS। ১ (1): ৭৩–৮২। ডিওআই:10.21106/ijma.8। পিএমসি 4948163। পিএমআইডি 27621960।
- 1 2 Calderón J, Navarro ME, Jimenez-Capdeville ME, Santos-Diaz MA, Golden A, Rodriguez-Leyva I, এবং অন্যান্য (ফেব্রুয়ারি ২০০১)। "Exposure to arsenic and lead and neuropsychological development in Mexican children"। Environmental Research। ৮৫ (2): ৬৯–৭৬। বিবকোড:2001ER.....85...69C। ডিওআই:10.1006/enrs.2000.4106। পিএমআইডি 11161656।
- ↑ Bouchard MF, Sauvé S, Barbeau B, Legrand M, Brodeur MÈ, Bouffard T, এবং অন্যান্য (জানুয়ারি ২০১১)। "Intellectual impairment in school-age children exposed to manganese from drinking water"। Environmental Health Perspectives। ১১৯ (1): ১৩৮–১৪৩। বিবকোড:2011EnvHP.119..138B। ডিওআই:10.1289/ehp.1002321। পিএমসি 3018493। পিএমআইডি 20855239।
- 1 2 Bouchard MF, Chevrier J, Harley KG, Kogut K, Vedar M, Calderon N, এবং অন্যান্য (আগস্ট ২০১১)। "Prenatal exposure to organophosphate pesticides and IQ in 7-year-old children"। Environmental Health Perspectives। ১১৯ (8): ১১৮৯–১১৯৫। বিবকোড:2011EnvHP.119.1189B। ডিওআই:10.1289/ehp.1003185। পিএমসি 3237357। পিএমআইডি 21507776।
- ↑ Rauh V, Arunajadai S, Horton M, Perera F, Hoepner L, Barr DB, Whyatt R (আগস্ট ২০১১)। "Seven-year neurodevelopmental scores and prenatal exposure to chlorpyrifos, a common agricultural pesticide"। Environmental Health Perspectives। ১১৯ (8): ১১৯৬–১২০১। বিবকোড:2011EnvHP.119.1196R। ডিওআই:10.1289/ehp.1003160। পিএমসি 3237355। পিএমআইডি 21507777।
- ↑ Low JA, Handley-Derry MH, Burke SO, Peters RD, Pater EA, Killen HL, Derrick EJ (ডিসেম্বর ১৯৯২)। "Association of intrauterine fetal growth retardation and learning deficits at age 9 to 11 years"। American Journal of Obstetrics and Gynecology। ১৬৭ (6): ১৪৯৯–১৫০৫। ডিওআই:10.1016/0002-9378(92)91727-R। পিএমআইডি 1471654।
- ↑ Enlow MB, Egeland B, Blood EA, Wright RO, Wright RJ (নভেম্বর ২০১২)। "Interpersonal trauma exposure and cognitive development in children to age 8 years: a longitudinal study"। Journal of Epidemiology and Community Health। ৬৬ (11): ১০০৫–১০১০। ডিওআই:10.1136/jech-2011-200727। পিএমসি 3731065। পিএমআইডি 22493459।
- ↑ Schechter DS, Willheim E (২০০৯)। "The Effects of Violent Experience and Maltreatment on Infants and Young Children"। Zeanah CH (সম্পাদক)। Handbook of Infant Mental Health (3rd সংস্করণ)। New York: Guilford Press, Inc। পৃ. ১৯৭–২১৪।
- ↑ "Neglect"। Center on the Developing Child। Harvard University। ২০১৫। ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- 1 2 McTavish JR, Gonzalez A, Santesso N, MacGregor JC, McKee C, MacMillan HL (মার্চ ২০২০)। "Identifying children exposed to maltreatment: a systematic review update"। BMC Pediatrics। ২০ (1) 113। ডিওআই:10.1186/s12887-020-2015-4। পিএমসি 7060650। পিএমআইডি 32145740।
- 1 2 Scott J, Daniel B, Taylor J, Derbyshire D, Neilson D (২০১১)। Recognizing and Helping the Neglected Child: Evidence-Based Practice for Assessment and Intervention। London: Jessica Kingsley Publishers।
- ↑ Zeanah CH, Humphreys KL (সেপ্টেম্বর ২০১৮)। "Child Abuse and Neglect"। Journal of the American Academy of Child and Adolescent Psychiatry। ৫৭ (9): ৬৩৭–৬৪৪। ডিওআই:10.1016/j.jaac.2018.06.007। পিএমসি 6615750। পিএমআইডি 30196867।
- ↑ Sullivan S (২০০০)। Child Neglect: Current Definitions and Models. A Review of the Literature, 1993-1998.। Family Violence Prevention Unit, Health Canada।
- ↑ "What is the Graded Care Profile Tool?"। Luton Safeguarding Children's Board। ২০১৫। ২১ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "Overview of Assessment Tools" (পিডিএফ)। National Family Preservation Network। ২০১৫। ২০ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- ↑ van der Put CE, Assink M, Gubbels J, Boekhout van Solinge NF (জুন ২০১৮)। "Identifying Effective Components of Child Maltreatment Interventions: A Meta-analysis"। Clinical Child and Family Psychology Review। ২১ (2): ১৭১–২০২। ডিওআই:10.1007/s10567-017-0250-5। পিএমসি 5899109। পিএমআইডি 29204796।
- ↑ "What is Video Interaction Guidance? (VIG)"। YouTube। ১৭ ডিসেম্বর ২০১২। ৩ জুন ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৬।
- ↑ "Video Interaction Guidance (VIG)"। North East Autism =Society। ১৮ জুলাই ২০১৬। ২২ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৬ – vimeo.com এর মাধ্যমে।
- ↑ Whalley P, Williams M (২০১৫)। Child neglect and Video Interaction Guidance: key findings and executive summary of an NSPCC service offered to parents where initial concerns of neglect have been noted (পিডিএফ) (প্রতিবেদন)। National Society for the Prevention of Cruelty to Children।
- ↑ Churchill G (২০১৫)। SafeCare: evidence from a home based parenting programme for neglect (প্রতিবেদন)।
- ↑ Slack KS (২০০৬)। "Descriptions of NICHD career development projects related to child abuse, child maltreatment, and child violence" (পিডিএফ)। National Institutes of Health। ১০ অক্টোবর ২০২১ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]Berl MM, Duke ES, Mayo J, Rosenberger LR, Moore EN, VanMeter J, এবং অন্যান্য (আগস্ট ২০১০)। "Functional anatomy of listening and reading comprehension during development"। Brain and Language। ১১৪ (2): ১১৫–১২৫। ডিওআই:10.1016/j.bandl.2010.06.002। পিএমসি 2962416। পিএমআইডি 20656105।
Bishop DV, Anderson M, Reid C, Fox AM (মে ২০১১)। Koenig T (সম্পাদক)। "Auditory development between 7 and 11 years: an event-related potential (ERP) study"। PLOS ONE। ৬ (5) e18993। বিবকোড:2011PLoSO...618993B। ডিওআই:10.1371/journal.pone.0018993। পিএমসি 3090390। পিএমআইডি 21573058।
Friederici AD, Brauer J, Lohmann G (২০১১)। Rodriguez-Fornells A (সম্পাদক)। "Maturation of the language network: from inter- to intrahemispheric connectivities"। PLOS ONE। ৬ (6) e20726। বিবকোড:2011PLoSO...620726F। ডিওআই:10.1371/journal.pone.0020726। পিএমসি 3113799। পিএমআইডি 21695183।
Giedd JN, Rapoport JL (সেপ্টেম্বর ২০১০)। "Structural MRI of pediatric brain development: what have we learned and where are we going?"। Neuron। ৬৭ (5): ৭২৮–৭৩৪। ডিওআই:10.1016/j.neuron.2010.08.040। পিএমসি 3285464। পিএমআইডি 20826305।
Hu Z, Chan RC, McAlonan GM (ফেব্রুয়ারি ২০১০)। "Maturation of social attribution skills in typically developing children: an investigation using the social attribution task"। Behavioral and Brain Functions। ৬ 10। ডিওআই:10.1186/1744-9081-6-10। পিএমসি 2830993। পিএমআইডি 20181076।
Jolles DD, Crone EA (২০১২)। "Training the developing brain: a neurocognitive perspective"। Frontiers in Human Neuroscience। ৬: ৭৬। ডিওআই:10.3389/fnhum.2012.00076। পিএমসি 3321411। পিএমআইডি 22509161।
Mooney CG (২০০০)। Theories of Childhood: an Introduction to Dewey, Montessori, Erikson, Piaget & Vygotsky। Redleaf Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৮৪৮৩৪-৮৫-১।
Poulin-Dubois D, Brooker I, Chow V (২০০৯)। "The developmental origins of naïve psychology in infancy"। Advances in Child Development and Behavior Volume 37। খণ্ড ৩৭। পৃ. ৫৫–১০৪। ডিওআই:10.1016/S0065-2407(09)03702-1। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১২-৩৭৪৪৭০-৮। পিএমআইডি 19673160।
Stiles J, Jernigan TL (ডিসেম্বর ২০১০)। "The basics of brain development"। Neuropsychology Review। ২০ (4): ৩২৭–৩৪৮। ডিওআই:10.1007/s11065-010-9148-4। পিএমসি 2989000। পিএমআইডি 21042938।
Tau GZ, Peterson BS (জানুয়ারি ২০১০)। "Normal development of brain circuits"। Neuropsychopharmacology। ৩৫ (1): ১৪৭–১৬৮। ডিওআই:10.1038/npp.2009.115। পিএমসি 3055433। পিএমআইডি 19794405।
Vannest J, Karunanayaka PR, Schmithorst VJ, Szaflarski JP, Holland SK (মে ২০০৯)। "Language networks in children: evidence from functional MRI studies"। AJR. American Journal of Roentgenology। ১৯২ (5): ১১৯০–১১৯৬। ডিওআই:10.2214/AJR.08.2246। পিএমসি 2791163। পিএমআইডি 19380541।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]গ্রন্থাগার সংরক্ষণ সম্পর্কে
শিশু বিকাশ- "Child development"। U.S. Centers for Disease Control and Prevention। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২।
- "child development activities for parents"। ৩ জুন ২০২৪।
- "The science of early childhood"। Harvard University Center on the Developing Child।
- "World Association for Infant Mental Health"। ৩০ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।