শিশু নিগ্রহ
শিশুর অবহেলা হলো যত্ন প্রদানকারীদের (যেমন: পিতামাতা) এমন একটি আচরণ বা কাজ যার ফলে একটি শিশু তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো থেকে বঞ্চিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত পুষ্টি, তত্ত্বাবধান, স্বাস্থ্যসেবা, পোশাক বা বাসস্থান প্রদানে ব্যর্থতা। সেই সাথে শিশুর শারীরিক, আবেগীয়, সামাজিক, শিক্ষাগত এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত।[১] প্রতিটি সমাজই কিছু নির্দিষ্ট আচরণ নির্ধারণ করে দিয়েছে যা একজন যত্ন প্রদানকারীকে অবশ্যই পালন করতে হয়, যাতে শিশুটি শারীরিকভাবে, সামাজিকভাবে এবং আবেগীয়ভাবে বেড়ে উঠতে পারে। অবহেলার কারণগুলোর পেছনে অভিভাবকত্বের বেশ কিছু সমস্যা থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মানসিক ব্যাধি, অপরিকল্পিত গর্ভাবস্থা, মাদকদ্রব্য আসক্তিজনিত ব্যাধি, বেকারত্ব, অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা, পারিবারিক সহিংসতা এবং বিশেষ ক্ষেত্রে দারিদ্র্য।
শিশুর অবহেলা নির্ভর করে শিশু এবং সমাজ যত্ন প্রদানকারীর আচরণকে কীভাবে দেখছে তার ওপর; এটি পিতামাতা তাদের শিশুর প্রতি কেমন আচরণ করছেন বলে মনে করেন তার ওপর নির্ভর করে না।[২] সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শিশুর প্রয়োজন মেটাতে পিতামাতার ব্যর্থতা এবং সুযোগ না থাকার কারণে ব্যর্থ হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দারিদ্র্য এবং সম্পদের অভাব প্রায়শই একটি সহায়ক কারণ হিসেবে কাজ করে, যা পিতামাতাকে তাদের সন্তানদের প্রয়োজন মেটাতে বাধা দিতে পারে। কোনো আচরণকে অবহেলা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার আগে পরিস্থিতি এবং অভিপ্রায় পরীক্ষা করা আবশ্যক।
শিশুর অবহেলা হলো শিশু নির্যাতনের সবচেয়ে প্রচলিত রূপ। অবহেলিত শিশুরা সারাজীবনের জন্য সামাজিক, আবেগীয় এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভোগার ঝুঁকিতে থাকে, বিশেষ করে যদি তারা দুই বছর বয়সের আগে অবহেলিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এবং রাষ্ট্রীয় উভয় আইনেই শিশুর অবহেলাকে সংজ্ঞায়িত করার এবং পিতামাতাকে এমন সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী রাখার আইনি কাঠামো রয়েছে যা তাদের সন্তানদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে বা ক্ষতি করে অথবা আইনত প্রয়োজনীয় পিতামাতার কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়।
সংজ্ঞা
[সম্পাদনা]অবহেলার সংজ্ঞা দেওয়া কঠিন কারণ পছন্দসই বা ন্যূনতম পর্যাপ্ত শিশু পালনের অভ্যাসের জন্য কোনো স্পষ্ট আন্তঃসাংস্কৃতিক মানদণ্ড নেই।[৩] গবেষণা দেখায় যে, অবহেলা প্রায়শই অন্যান্য ধরণের অপব্যবহার এবং প্রতিকূলতার সাথে সহাবস্থান করে।[৪][৫] যদিও অবহেলা সাধারণত পিতামাতার যত্নের অনুপস্থিতি এবং শিশুর মৌলিক প্রয়োজনগুলো মেটাতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যর্থতাকে বোঝায়, তবে সেই প্রয়োজনগুলোকে সংজ্ঞায়িত করা সহজ ছিল না। "ওয়ার্কিং টুগেদার"-এ শিক্ষা ও দক্ষতা বিভাগ (যুক্তরাজ্য)[৬] ২০০৬ সালে অবহেলার সংজ্ঞা এভাবে দিয়েছে:
...একটি শিশুর মৌলিক শারীরিক এবং/অথবা মনস্তাত্ত্বিক প্রয়োজন মেটাতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যর্থতা, যার ফলে শিশুর স্বাস্থ্য বা বিকাশের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গর্ভাবস্থায় মায়ের মাদকদ্রব্য আসক্তিজনিত ব্যাধির ফলেও অবহেলা ঘটতে পারে। শিশু জন্মের পর অবহেলার মধ্যে থাকতে পারে পিতামাতা বা পরিচর্যাকারীর পর্যাপ্ত খাদ্য, পোশাক এবং আশ্রয় প্রদানে ব্যর্থতা (বাসস্থান থেকে বের করে দেওয়া বা পরিত্যাগ করা সহ); শিশুকে শারীরিক ও আবেগীয় ক্ষতি বা বিপদ থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থতা; পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা (অযোগ্য যত্ন প্রদানকারী নিয়োগ সহ), অথবা উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা বা প্রতিকারের সুযোগ নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা। এটি শিশুর মৌলিক আবেগীয় প্রয়োজনের প্রতি অবহেলা বা প্রতিক্রিয়াহীনতাকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
শিশুর অবহেলা সাধারণত শিশুর যত্ন প্রদানকারী কর্তৃক শিশুর শারীরিক, আবেগীয়, শিক্ষাগত বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।[৭] শিশুর অবহেলার বিভিন্ন রূপের মধ্যে রয়েছে: শিশুকে পিতামাতা বা প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সহিংসতা বা মারাত্মক নির্যাতন প্রত্যক্ষ করতে দেওয়া, শিশুকে অবজ্ঞা করা, অপমান করা বা সহিংসতার হুমকি দেওয়া, শিশুকে নিরাপদ পরিবেশ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের আবেগীয় সমর্থন প্রদানে ব্যর্থতা এবং শিশুর মঙ্গল কামনায় বেপরোয়া অবজ্ঞা প্রদর্শন করা।[৮]
শিশুর অবহেলার অন্যান্য সংজ্ঞাগুলো হলো:
- "শিশুর যত্ন ও লালনপালনের জন্য দায়বদ্ধ একজন ব্যক্তির শিশুর আবেগীয় ও শারীরিক স্বাস্থ্য এবং সাধারণ মঙ্গলের সুরক্ষায় ব্যর্থতা।" — ওয়েবস্টার'স নিউ ওয়ার্ল্ড ল ডিকশনারি অনুযায়ী[৯]
- "কর্তব্যে অবহেলা: একটি শিশুর মৌলিক শারীরিক, আবেগীয় বা শিক্ষাগত প্রয়োজন মেটাতে অথবা শিশুকে ক্ষতি বা সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থতা। [...] শিশুর ক্ষতি করা ইচ্ছাকৃত হতে পারে বা নাও হতে পারে। সেবা প্রদানে ব্যর্থতার ফলে শারীরিক অবহেলা, আবেগীয় অবহেলা, চিকিৎসা/দন্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত অবহেলা এবং শিক্ষাগত অবহেলা ঘটে। তত্ত্বাবধানে ব্যর্থতার ফলে অপর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান এবং সহিংস পরিবেশের সম্মুখীন হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।" — রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) অনুযায়ী[১০]
- "শিশুর মৌলিক শারীরিক এবং/অথবা মনস্তাত্ত্বিক প্রয়োজন মেটাতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যর্থতা যার ফলে স্বাস্থ্য এবং/অথবা বিকাশের মারাত্মক ক্ষতি হয়।"[১১]:১–৮
শিশুর অবহেলার সংজ্ঞা অত্যন্ত ব্যাপক। কখন একটি শিশু অবহেলিত হচ্ছে তা নির্ধারণ করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশিকা নেই; তাই কী অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হবে তা নির্ধারণ করা রাষ্ট্রীয় সরকারি সংস্থা এবং পেশাদার গোষ্ঠীগুলোর ওপর নির্ভর করে।[১২]:১৩ সাধারণভাবে, শিশুর অবহেলা বলতে একটি শিশুর মানসিক, শারীরিক এবং আবেগীয় বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলো মেটাতে পিতামাতা বা যত্ন প্রদানকারীদের ব্যর্থতাকে বোঝায়।[১৩]:২৬২
শিশুর অবহেলা হলো শিশু অপব্যবহারের অন্যতম সাধারণ রূপ এবং এটি অনেক শিশুর জন্য একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুর অবহেলা শিশুর শারীরিক বিকাশ, মানসিক বিকাশ এবং আবেগীয় বিকাশকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে যার দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল হিসেবে নিম্ন শিক্ষাগত অর্জন, বিষণ্নতা এবং ব্যক্তিত্ব ব্যাধি দেখা দিতে পারে। এই ফলাফলগুলো সমাজকেও প্রভাবিত করে, কারণ যে শিশুরা অবহেলার শিকার হয়েছে তাদের বড় হয়ে মাদকদ্রব্য আসক্তিজনিত ব্যাধি এবং শিক্ষাগত ব্যর্থতার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।[১৪]
প্রকারভেদ
[সম্পাদনা]শিশুর অবহেলা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।
| প্রকারভেদ | সংজ্ঞা | ঘটনা পর্যালোচনার উদাহরণ |
|---|---|---|
| তত্ত্বাবধানমূলক | অভিভাবক বা পিতামাতা শিশুর ওপর গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধান বা নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হন, যেমন: শিশুকে দীর্ঘ সময়ের জন্য একা ফেলে রাখা। | হেনরি নামের একটি ৭ বছরের ছেলে প্রতিদিন স্কুল থেকে হেঁটে বাড়ি ফেরে এবং সন্ধ্যা ৭টায় তার মা না আসা পর্যন্ত নিজের দেখাশোনা নিজেই করে। মাঝে মাঝে সে চুলায় রান্না করার চেষ্টা করে বা স্থানীয় দোকানে হাঁটতে যায়। |
| শারীরিক | শিশুকে খাবার, জল, পোশাক, বাসস্থান প্রদান না করা বা অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধির কারণে মৌলিক শারীরিক প্রয়োজন পূরণ না হওয়া। | জয়েস নামের একটি ৪ বছরের মেয়েকে তার বাবা জলখাবার (চিপস এবং চকলেট) এবং ম্যাকডোনাল্ডসের খাবার খেতে দেন। তার বাবা রান্না করতে পছন্দ করেন না এবং যখন করেন তা কেবল ফ্রোজেন খাবার হয়। যদিও তাকে খাওয়ানো হচ্ছে, কিন্তু তার পুষ্টিগত চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। |
| চিকিৎসা সংক্রান্ত | শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা গ্রহণে অস্বীকৃতি বা বিলম্ব করা। | বেন নামের একটি ৯ বছরের ছেলের এক মাস ধরে কাশি হচ্ছে। তার পিতামাতা তার স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত। তবে তার বাবা সম্প্রতি চাকরি হারিয়েছেন, তাই আর্থিক খরচের কারণে তার পিতামাতা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন না। |
| শিক্ষাগত | অভিভাবক বা পিতামাতা শিশুর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন, যেমন: স্কুলে উপস্থিতি নিশ্চিত না করা বা বিশেষ চাহিদ সম্পন্ন শিশুদের প্রয়োজনীয়তা পূরণ না করা। | চেস নামের একটি ৮ বছরের ছেলে স্কুল ঘৃণা করে। তার মা তাকে স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা ছেড়ে দিয়েছেন কারণ প্রতিবার সে বায়না ধরে। সে এক মাসেরও বেশি সময় স্কুলে অনুপস্থিত। তার শিক্ষকরা সন্দেহ করেন যে তার শেখার অক্ষমতা (learning disability) আছে, কিন্তু তার মা তার পরীক্ষা করাননি। |
| আবেগীয় | অভিভাবক বা পিতামাতা অপর্যাপ্ত যত্ন বা স্নেহ প্রদান করেন। অভিভাবক এমন পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হন যেখানে শিশু নিজেকে নিরাপদ, প্রিয়, কাঙ্ক্ষিত এবং মূল্যবান মনে করে। | তিয়ানা নামের একটি ৩ বছরের মেয়ে বর্তমানে প্রতি কর্মদিবসে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চাইল্ডকেয়ারে থাকে। তার বাবা-মা দুজনেই দীর্ঘ সময় কাজ করেন। সপ্তাহান্তে তার বাবা-মা তাকে শান্ত রাখার জন্য আইপ্যাড দেন, কিন্তু তারা তার সাথে খেলতে বা সরাসরি কথা বলতে খুব ব্যস্ত থাকেন। |
- শারীরিক অবহেলা বলতে খাদ্য এবং পোশাকের মতো জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো প্রদানে ব্যর্থতাকে বোঝায়।
- চিকিৎসা সংক্রান্ত অবহেলা হলো যত্ন প্রদানকারীদের শিশুর মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা চাহিদা মেটাতে ব্যর্থতা, যেমন— প্রতিদিন দাঁত না মাজা, শিশুকে গোসল না করানো বা প্রয়োজন অনুযায়ী শিশুকে ডাক্তারের কাছে না নিয়ে যাওয়া।
- আবেগীয় অবহেলা হলো আবেগীয় সমর্থন প্রদানে ব্যর্থ হওয়া, যেমন— মানসিক নিরাপত্তা এবং উৎসাহ না দেওয়া।
- শিক্ষাগত/বিকাশমূলক অবহেলা হলো শিশুকে প্রয়োজনীয় বৃদ্ধি এবং বিকাশের সুযোগ প্রদানে ব্যর্থতা, যেমন— শিশুকে স্কুলে না পাঠানো বা তাদের শিক্ষিত না করা।
- কোনো এলাকার আইন এবং শিশু সুরক্ষা নীতির ওপর ভিত্তি করে, একটি ছোট শিশুকে তত্ত্বাবধানহীন অবস্থায় রেখে যাওয়াও অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, বিশেষ করে যদি তা শিশুকে বিপদে ফেলে।[১৫]
শিশুর প্রতি অবহেলাকে এর তীব্রতার মাত্রা এবং সমাজ ও সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতেও বর্ণনা করা যেতে পারে।[১৬]
মৃদু অবহেলা (Mild neglect): এটি শিশুর কাছে অবহেলা হিসেবে মনে হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। তবে এটি এমনভাবে ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ায় যার জন্য সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একজন অভিভাবক যদি সঠিক 'কার সেফটি সিট' ব্যবহার না করেন।
মধ্যম অবহেলা (Moderate neglect): এটি তখন ঘটে যখন শিশুর কোনো না কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো শিশুকে বারবার আবহাওয়ার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ পোশাক পরানো (যেমন—শীতকালে হাফ প্যান্ট)। মধ্যম মানের ক্ষতির ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোকে অভিভাবকদের সহায়তার জন্য ডাকা হতে পারে।
গুরুতর অবহেলা (Severe neglect): এটি দীর্ঘ সময় ধরে ঘটে এবং এর ফলে শিশুর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়। উদাহরণস্বরূপ, হাঁপানি বা অ্যাজমা আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করা।
অভিজ্ঞতা
[সম্পাদনা]শিশুদের বাড়িতে একা ফেলে রাখা হতে পারে, যার নেতিবাচক পরিণতি হতে পারে। বাড়িতে একা থাকা শিশুদের মনে ভীতি ও অসহায়ত্ব তৈরি করতে পারে। বাবা-মা কখন ফিরে আসবেন তা না জানা তাদের জন্য পীড়াদায়ক হয়।[১৭] বাড়িতে একা রাখার ফ্রিকোয়েন্সি বা পুনরাবৃত্তি এবং সময়কাল একেক সময় একেক রকম হতে পারে; যেমন—প্রতি সন্ধ্যায় অথবা টানা কয়েক দিন বা এমনকি কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত।[১৭]
এছাড়াও, ছোট শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে মানসম্মত খাবার না দেওয়া অবহেলার আরেকটি রূপ। শিশুরা জানিয়েছে যে তাদের পচা খাবার দেওয়া হয়েছে, ঘরে কোনো খাবার ছিল না অথবা তাদের অপর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার দেওয়া হয়েছে।[১৭]
কারণসমূহ
[সম্পাদনা]শিশুর প্রতি অবহেলার কারণগুলো অত্যন্ত জটিল। একে তিনটি ভিন্ন স্তরে ভাগ করা যেতে পারে: ব্যক্তিগত (intra-personal), আন্তঃব্যক্তিক/পারিবারিক (inter-personal/family) এবং সামাজিক/অর্থনৈতিক স্তর।[১১] যদিও অবহেলার কারণগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়, তবে গবেষণায় দেখা গেছে যে অভিভাবকদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং মাদকাসক্তি অবহেলার সম্ভাবনা বাড়ায়।[১৮][১৯] এছাড়া পারিবারিক সহিংসতা,[২০][২১] বেকারত্ব,[২২] এবং দারিদ্র্য[২৩] অবহেলার ঝুঁকি বাড়ায়। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভাবস্থার ফলে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।[২৪][২৫] তাদের দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।[২৬] অবহেলাকারী পরিবারগুলো প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।
ব্যক্তিগত পর্যায়
[সম্পাদনা]ব্যক্তিগত স্তরে, অবহেলাকারী অভিভাবকদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা মূলত মায়েদের ওপর আলোকপাত করে। এটি শিশুদের প্রাথমিক যত্নদাতা হিসেবে নারীদের প্রথাগত ধারণাকে প্রতিফলিত করে।[১১][২৭] "অবহেলাকারী গুণাবলীর" মধ্যে পরিকল্পনা করতে না পারা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসের অভাব, অর্থ পরিচালনায় অসুবিধা এবং আবেগীয় অপরিপক্কতা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শিশুদের প্রয়োজন সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব, অধিক সংখ্যক সন্তান থাকা, কিশোরী মা হওয়া, উচ্চ মাত্রার মানসিক চাপ এবং দুর্বল আর্থ-সামাজিক অবস্থাও এর সাথে যুক্ত।[২৮][২৯][৩০][৩১][৩২] মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, বিশেষ করে বিষণ্ণতা, সন্তানের চাহিদা পূরণে অভিভাবকের অক্ষমতার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।[৩৩] একইভাবে, মাদকাসক্তি অভিভাবকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় 'প্যারেন্টাল বার্নআউট' বা সন্তানের লালন-পালনে দীর্ঘস্থায়ী সম্পদের অভাবকে শিশুদের প্রতি অবহেলাকারী আচরণের একটি শক্তিশালী কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।[৩৪] যদিও অধিকাংশ গবেষণায় মায়েদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে অবহেলার ক্ষেত্রে বাবাদের ভূমিকা এবং তাদের অনুপস্থিতির প্রভাব সম্পর্কে এখনও অনেক গবেষণা বাকি আছে।
আন্তঃব্যক্তিক/পারিবারিক
[সম্পাদনা]আন্তঃব্যক্তিক বা পারিবারিক স্তরে দেখা যায়, অবহেলাকারী পরিবারগুলোর একটি বড় অংশই একক মা দ্বারা পরিচালিত অথবা তাদের পরিবারে পুরুষ সঙ্গীর স্থায়িত্ব কম।[৩৫] অস্থির এবং বৈরী সম্পর্কও শিশুর প্রতি অবহেলার ঝুঁকি বাড়ায়। পারিবারিক সহিংসতার মধ্যে বসবাসকারী শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায়ই প্রত্যক্ষ সহিংসতা বা নির্যাতনের সাক্ষী হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, যা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।[৩৬] যদিও যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর পারিবারিক সহিংসতার সংস্পর্শে আসাকে আবেগীয় ক্ষতি থেকে শিশুদের রক্ষা করতে অভিভাবকদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখে,[৩৭] তবে "রক্ষা করতে ব্যর্থতা" ধারণাটি বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কারণ এটি মূলত নির্যাতিত অভিভাবকের (সাধারণত মা) ওপর দায় চাপায়, যিনি নিজেও প্রায়শই মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।[৩৮] পারিবারিক সহিংসতা সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গেছে যে, সহিংসতাহীন অভিভাবককে সহায়তা করা শিশুর নিরাপত্তার জন্য ভালো। কিছু ক্ষেত্রে অবহেলার একটি চক্রাকার এবং প্রজন্মগত প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মায়েরা শৈশবে নিজেরা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে সন্তানদের আবেগীয় সংকেতের প্রতি সংবেদনশীলতার অভাব বেশি হতে পারে।[৩৯] যত্নদাতাদের মধ্যে অ্যালকোহল এবং মাদকের অপব্যবহার শিশুদের বারবার নির্যাতনের শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ।[৪০]
আর্থ-সামাজিক
[সম্পাদনা]সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্তরে, দারিদ্র্য এবং অবহেলার মধ্যে প্রায়শই একটি যোগসূত্র স্থাপন করা হয়েছে। শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধের জন্য জাতীয় সমিতি (NSPCC) কর্তৃক পরিচালিত শিশু নির্যাতনের ওপর একটি গবেষণা অবহেলার সাথে নিম্ন আর্থ-সামাজিক শ্রেণির সম্পর্ককে সমর্থন করে।[২১] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে যে, সচ্ছল পরিবারের তুলনায় নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে শিশুদের প্রতি নির্যাতন, বিশেষ করে অবহেলা এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি থাকে।[৪১][৪২] কেউ কেউ যুক্তি দেন যে, পর্যাপ্ত পোশাকের অভাব, পরিবেশগত ঝুঁকির সংস্পর্শ এবং নিম্নমানের স্বাস্থ্যবিধির মতো শারীরিক অবহেলার অনেক রূপ সরাসরি দারিদ্র্যের কারণে হতে পারে;[৪৩] তবে অন্যরা এমন সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।[২২] গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিম্ন আর্থ-সামাজিক স্তরের অভিভাবকরা তাদের শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ক্রয় করতে সক্ষম হন না, যার ফলে তারা প্রায়শই শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়।[৪৪] যদিও দারিদ্র্য অবহেলার সম্ভাবনা বাড়ায় বলে মনে করা হয়, তবে দারিদ্র্য মানেই অবহেলা হবে এমন কোনো পূর্বনির্ধারিত বিষয় নেই।[৪৫] অনেক নিম্ন-আয়ের পরিবারে অবহেলা নেই এবং তারা তাদের শিশুদের জন্য ভালোবাসাময় পরিবেশ নিশ্চিত করে। তবে দারিদ্র্যের সাথে যখন অন্যান্য প্রতিকূলতা যোগ হয়, তখন এটি একজন অভিভাবকের মানসিক চাপের সাথে লড়াই করার ক্ষমতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং সন্তানের প্রয়োজনে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাকে ব্যাহত করতে পারে। এর অর্থ এমনও হতে পারে যে, যেসব অভিভাবক কাজ করতে চান তারা বেকার থাকা অথবা সন্তানদের বাড়িতে একা রেখে যাওয়ার মতো কঠিন পছন্দের সম্মুখীন হন।[৪৬] ম্যাকশেরি যুক্তি দেন যে, শিশুর অবহেলা এবং দারিদ্র্যের সম্পর্কটিকে চক্রাকার এবং পরস্পর নির্ভরশীল হিসেবে দেখা উচিত।[৪৫] যেসব ক্ষেত্রে যত্নদাতার অ্যালকোহল আসক্তি শনাক্ত করা হয়েছে, সেখানে আসক্তিহীন পরিবারের শিশুদের তুলনায় অবহেলার পুনরাবৃত্তিমূলক ঘটনার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকে; একই কথা অন্যান্য পারিবারিক ঝুঁকির কারণ (আর্থ-সামাজিক অনগ্রসরতা সহ) বিদ্যমান থাকা শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।[৪০]
লালন-পালনের ধরন
[সম্পাদনা]আচরণের পুনরাবৃত্তিমূলক ধরণগুলো নির্দেশ করে যে সহিংসতার একটি চক্র বারবার আবর্তিত হয়। শিশুর অবহেলা এবং লালন-পালনের ধরনের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা শৈশবে অভিভাবকীয় অবহেলার শিকার হয়েছে তারা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যায় ভোগে।[৪৭] নির্যাতনকারী অভিভাবকদের সন্তানদের আসক্তি বা সংযুক্তির ধরণ আদর্শ যত্নদাতাদের শিশুদের তুলনায় কম নিরাপদ। যারা শারীরিক ও আবেগীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের মধ্যে অনিরাপদ সংযুক্তি—যেমন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্থ (), অবজ্ঞাপূর্ণ বা ভীতিমূলক আচরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মূলত তিনটি লালন-পালনের ধরন শিশুর অবহেলার দিকে পরিচালিত করে: কর্তৃত্ববাদী (), প্রশ্রয়দানকারী এবং উদাসীন বা বিচ্ছিন্ন ধরণ।[৪৮]
ট্যাবু
[সম্পাদনা]এমন কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে যা নির্দেশ করে যে, নিজের পরিবারে শিশুর অবহেলা স্বীকার করার ক্ষেত্রে একটি সাংস্কৃতিক ট্যাবু বা সংস্কার কাজ করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অভিভাবক এমন সেবা গ্রহণ করেছেন যেখানে শিশুর অবহেলা একটি উদ্বেগের বিষয় ছিল, তারা সেই সেবার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় কখনোই 'অবহেলা' শব্দটি উচ্চারণ করেননি।[৪৯] এনএসপিসিসি চাইল্ডলাইন তথ্যের বিশ্লেষণে হেল্পলাইন প্রধান জন ক্যামেরন জানিয়েছেন যে, চাইল্ডলাইনে যোগাযোগ করা অনেক অবহেলিত শিশু অবহেলা শব্দটি ব্যবহার করেনি এবং তারা যখন প্রথমবার চাইল্ডলাইনের কোনো কর্মীর সাথে কথা বলে তখন তারা যে অবহেলিত হচ্ছে এমন কোনো ইঙ্গিতও দেয়নি।[১৭]
প্রভাবসমূহ
[সম্পাদনা]শিশুর অবহেলার প্রভাব ব্যক্তিভেদে এবং চিকিৎসার মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণভাবে বলতে গেলে, শিশুর জীবনের প্রথম দুই বছরে ঘটা অবহেলা পরবর্তী সময়ের অবহেলার তুলনায় শৈশবকালীন আগ্রাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বলক্ষণ হতে পারে। শিশুদের প্রতি দুর্ব্যবহার তাদের জ্ঞানীয় (), ভাষাগত, সামাজিক-আবেগীয় এবং স্নায়বিক বিকাশে আপস করতে বাধ্য করে।[৫০] অবহেলার শিকার শিশুদের প্রায়ই সংযুক্তি বা আসক্তিজনিত অসুবিধা, জ্ঞানীয় ঘাটতি, আবেগীয়/আচরণগত সমস্যা এবং শারীরিক পরিণতির সম্মুখীন হতে হয়। শৈশবকালীন অবহেলা শরীরের স্ট্রেস রেসপন্স বা মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া পরিবর্তন করতে পারে, বিশেষ করে কর্টিসল লেভেল (মানসিক চাপের হরমোন) যা শরীরে অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি করতে পারে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, অবহেলা এবং শিশু-যত্নদাতার সংযুক্তির অস্বাভাবিক ধরণগুলোর মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে। যদি অভিভাবকরা তাদের শিশুর প্রয়োজনের প্রতি সংবেদনশীল না হন, তবে শিশুর মধ্যে অনিরাপদ-উদ্বিগ্ন সংযুক্তি তৈরি হতে পারে। জৈবিক ও সামাজিক প্রভাবের পাশাপাশি, অবহেলা মেধা এবং জ্ঞানীয়/অ্যাকাডেমিক দক্ষতার ওপরও প্রভাব ফেলে। অবহেলার শিকার শিশুরা উদ্বেগ বা আবেগ নিয়ন্ত্রণহীনতা জনিত ব্যাধিতে ভুগতে পারে। শিশুর অবহেলার আরেকটি ফল হলো যাকে অনেকে "বিকাশহীনতা" বলে থাকেন। যেসব শিশুর বৃদ্ধিতে ঘাটতি রয়েছে এবং যাদের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে রাখা, উদাসীনতা এবং অতিরিক্ত ঘুমের মতো অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায়, তারা "সুস্থ" ব্যক্তি হিসেবে বিকশিত হওয়ার পরিবর্তে বিকাশহীনতার শিকার হয়।[৫১]
শিকাগোর রাশ ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার-এর অধ্যাপক রবার্ট উইলসন এবং তার সহকর্মীদের একটি গবেষণায় প্রথমবারের মতো দেখা গেছে যে, যেসব শিশুরা ১৮ বছর বয়সের নিচে থাকা অবস্থায় তাদের যত্নদাতাদের দ্বারা কোনোভাবে অবহেলিত হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় স্ট্রোকের ঝুঁকি অবহেলিত না হওয়া শিশুদের তুলনায় ৩ গুণ বেশি। অবহেলা, উৎপীড়ন এবং নির্যাতনকে ইতিপূর্বে মস্তিষ্কের ধূসর বস্তু এবং শ্বেত বস্তু ()-র পরিবর্তন এবং ত্বরান্বিত বার্ধক্যের সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছে।[৫২]
পরিসংখ্যান
[সম্পাদনা]অবহেলার অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রায়শই মায়েদের বা নারীদের নাম বেশি আসে। অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত নারীদের উচ্চ অনুপাত মূলত এই সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে যে মায়েরাই সন্তানের প্রয়োজন মেটানোর জন্য দায়ী। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাবার অবহেলার সাথে জড়িত সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বিষয়গুলোও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।[৫৩] অবহেলাকারী অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের সাথে কম যোগাযোগ করেন, মৌখিক নির্দেশনা ও খেলাধুলায় কম অংশ নেন, কম স্নেহ প্রদর্শন করেন এবং সন্তানদের সাথে নেতিবাচক আচরণ যেমন মৌখিক আগ্রাসনে বেশি লিপ্ত হন। প্রায়ই দেখা যায়, অবহেলাকারী অভিভাবকরা হয় একক অভিভাবক অথবা প্রতিবন্ধী মা যারা নিজেরাই নিজেদের যত্ন নিতে হিমশিম খাচ্ছেন, ফলে সন্তান তাদের জন্য একটি বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারের সদস্য সংখ্যাও শিশুর অবহেলায় প্রভাব ফেলতে পারে। যদি একটি পরিবারে অনেক সন্তান থাকে, তবে তারা হয়তো সবার বেঁচে থাকার এবং বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সকল চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয় না। যদি পরিবারের ইতিহাস দেখা হয়, তবে দেখা যায় যেসব অভিভাবকরা নিজেরা শৈশবে অবহেলার শিকার হয়েছিলেন, তারা অবহেলাকারী আচরণকেই "স্বাভাবিক" বলে মনে করেন, যার ফলে তারা তাদের সন্তানদেরও অবহেলা করেন।[৫৪][৫৫] ২০১১ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতি চারজন মায়ের মধ্যে একজন অবহেলাকারী ছিলেন এবং শৈশবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া মায়েদের ক্ষেত্রে অবহেলার সম্ভাবনা চার গুণ বেশি ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রিপোর্ট করা শিশু নির্যাতনের মধ্যে অবহেলা সবচেয়ে সাধারণ ধরন। ২০১৬ সালে শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোর প্রায় ৬৫ শতাংশই ছিল অবহেলা সংক্রান্ত।
প্রকাশ বা ডিসক্লোজার
[সম্পাদনা]গবেষণায় দেখা গেছে যে, বেশিরভাগ অবহেলিত শিশু এমনকি যখন তারা কোনো পেশাদার ব্যক্তির সাথে তাদের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ পায়, তখনও তারা 'অবহেলা' শব্দটি ব্যবহার করে না এবং তারা যে অবহেলিত হচ্ছে তাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে না।[১৭] তাই পেশাদার ব্যক্তিদের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয় যেন তারা নিজেরাই সক্রিয়ভাবে অবহেলার বিষয়টি খুঁজে বের করেন এবং শনাক্ত করেন।[১৭]
যখন অবহেলার বিষয়টি প্রকাশ পায়, তখনও সবসময় ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। একইভাবে, যখন কোনো পেশাদার ব্যক্তি অবহেলার বিষয়ে তাদের কর্মক্ষেত্রে অন্যান্য পেশাদারদের অবহিত করেন, তারা দেখেন যে সেই পেশাদাররা সবসময় সাড়া দেন না।[১৭] এনএসপিসিসি সম্প্রতি একজন শিক্ষক সহকারীর ঘটনা রিপোর্ট করেছে, যিনি একটি নির্দিষ্ট শিশুর বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সংস্থার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। সেই শিক্ষক সহকারী নিজের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন, কারণ তার ভয় ছিল যে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে।[১৭]
মূল্যায়ন ও শনাক্তকরণ
[সম্পাদনা]অবহেলার মূল্যায়ন এবং শনাক্তকরণ পেশাদারদের জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
অবহেলার বিষয়টি শনাক্ত করার জন্য সঠিক পদ্ধতি নির্বাচন করতে এর একটি পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। অবহেলা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি শিশু বিকাশে বিলম্ব অনুভব করে কারণ সে পর্যাপ্ত যত্ন, উদ্দীপনা বা পুষ্টির সংমিশ্রণ পায়নি (যাকে একত্রে 'প্রতিপালন' বলা যেতে পারে)। যেহেতু অবহেলা হলো শিশুর বিকাশ এবং প্রতিপালনের স্তরের মধ্যবর্তী একটি গতিশীল সম্পর্ক, তাই অবহেলা শনাক্ত করার প্রশ্নটি তখন দাঁড়ায়—শুরুটা কোথায় হবে? শিশুর বিকাশ থেকে নাকি প্রতিপালনের স্তর থেকে?
বিকাশ-কেন্দ্রিক পদ্ধতি
[সম্পাদনা]কিছু পেশাদার ব্যক্তি শিশুর বিকাশের স্তর পরিমাপ করে অবহেলা শনাক্ত করেন। কারণ বিকাশের স্তর যদি স্বাভাবিক থাকে তবে সংজ্ঞাগতভাবেই ধরে নেওয়া যায় যে শিশুটি অবহেলিত হচ্ছে না। বিকাশের যে ক্ষেত্রগুলো পরিমাপ করা যেতে পারে তার মধ্যে রয়েছে ওজন, উচ্চতা, স্ট্যামিনা বা প্রাণশক্তি, সামাজিক ও আবেগীয় প্রতিক্রিয়া এবং কথা বলা ও নড়াচড়ার বিকাশ। এই বৈশিষ্ট্যগুলো একটি চিকিৎসা মূল্যায়নের অংশ হিসেবে দেখা হয় যে শিশুটি সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে কি না। তাই একজন পেশাদার ব্যক্তি কোনো চিকিৎসকের সংগ্রহ করা তথ্য দিয়ে মূল্যায়ন শুরু করতে পারেন। নিয়মিত চেকআপের সময় চিকিৎসকরা প্রায়ই শিশুদের ওজন ও পরিমাপ গ্রহণ করেন। যখন শিশুর বিকাশ ও কার্যকারিতা বিলম্বিত দেখা যায়, তখন চিকিৎসক আরও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শুরু করেন। এটি নির্দেশ করে যে, সমাজকর্মীরা শিশুর বিকাশহীনতা শনাক্ত করার প্রথম ধাপ হিসেবে চিকিৎসকের নোটগুলো পরীক্ষা করতে পারেন। যদি বিকাশের স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়, তবে পেশাদারকে নিশ্চিত করতে হবে যে সেই ঘাটতি শিশুর প্রতিপালনের অভাবের কারণে কি না। এক্ষেত্রে কোনো বংশগত সমস্যা বা রোগ দায়ী কি না তা অবশ্যই বাদ দিতে হবে। শিশু নির্যাতন এবং অবহেলা শনাক্ত করার জন্য এই বিকাশ-কেন্দ্রিক পদ্ধতিগুলো বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর এবং পেশাদারদের জন্য একটি দরকারী হাতিয়ার।[৫৬]
প্রতিপালনের স্তর পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন
[সম্পাদনা]অবহেলা শনাক্ত করার আরেকটি উপায় হলো—সংশ্লিষ্ট শিশুটি স্বাভাবিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় স্তরের চেয়ে কম প্রতিপালন পাচ্ছে কি না তা শনাক্ত করা।[৫৭] আংশিকভাবে এর জন্য শিশুর বয়স, লিঙ্গ এবং অন্যান্য কারণের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় প্রতিপালনের স্তর সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।[৫৭] তবে বিকাশের স্তরের সাথে তুলনা না করে একটি নির্দিষ্ট শিশুর কী প্রয়োজন তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে অবহেলা সংক্রান্ত তত্ত্ব ও নীতিগুলো খুব একটা স্পষ্ট নয়। অধিকন্তু, প্রতিপালনের স্তরের পাশাপাশি এর তীব্রতা, সময়কাল এবং পুনরাবৃত্তিও বিবেচনায় নিতে হয়। কোনো শিশুর জন্য দিনের কোনো এক সময় কম প্রতিপালন পাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু সেই প্রতিপালন যদি কখনোই তীব্রতা, সময়কাল এবং ফ্রিকোয়েন্সির ন্যূনতম সীমা অতিক্রম না করে তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। এই কারণে পেশাদারদের যত্নের বিস্তারিত ইতিহাস রাখতে বলা হয়, যা প্রমাণ করে যে শিশুটি কত সময় ধরে অবহেলা বা প্রতিপালনের অভাবের শিকার হচ্ছে।[৫৮][৫৯][৬০]
যত্নদাতার বা পিতামাতার দেওয়া প্রতিপালন পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন শুরু করা
[সম্পাদনা]পেশাদারদের উচিত শিশুর যত্নদাতাদের দেওয়া প্রতিপালনের স্তরের ওপর গুরুত্ব দেওয়া, যেখানে অবহেলাকে মূলত পিতামাতার আচরণের একটি সমস্যা হিসেবে ধরা হয়।[৬১] কিছু লেখক মনে করেন যে, পিতামাতা এবং যত্নদাতাদের যত্ন প্রদানে ব্যর্থতা প্রতিষ্ঠিত হওয়াই এটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট যে সেখানে অবহেলা ঘটছে।[৬২] ‘অ্যাকশন ফর চিলড্রেন’[৬৩] উল্লেখ করেছে যে, "যখন শিশুদের দেখাশোনা করার দায়িত্বে থাকা প্রাপ্তবয়স্করা তাদের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হন, তখন শিশুটি অবহেলার শিকার হয়।" এটি অবহেলাকে স্পষ্টভাবে পিতামাতার কর্মদক্ষতার বিষয় হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। তবে এটি এই প্রশ্নটিও উত্থাপন করে যে, প্রতিপালনের স্তর ঠিক কতটা নিচে নামলে তা শিশুর বিকাশে বিলম্ব ঘটায় এবং কীভাবে তা সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়।
যত্নদাতার দেওয়া উদ্দীপনার ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করার এই পদ্ধতিটি সমালোচনার সম্মুখীন হতে পারে। অবহেলা মূলত প্রতিপালনের স্তরের কারণে শিশুর বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলার বিষয়। কিন্তু যত্নদাতার প্রতিপালন প্রদানের ধরণ সবসময় শিশুটি ঠিক কী পরিমাণ প্রতিপালন পাচ্ছে তার সঠিক নির্দেশক নাও হতে পারে। অবহেলা হয়তো স্কুলে বা পিতামাতার যত্নের বাইরে অন্য কোথাও ঘটতে পারে। আবার এমনও হতে পারে যে, শিশুটি তার ভাইবোনদের কাছ থেকে অথবা বোর্ডিং স্কুলের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিপালন পাচ্ছে, যা পিতামাতার দেওয়া প্রতিপালনের অভাব পূরণ করে দিচ্ছে।
উদ্দীপনার সাথে বিকাশের যোগসূত্র
[সম্পাদনা]অবহেলা এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে প্রতিপালনের অপর্যাপ্ত স্তরের কারণে শিশুরা বিকাশে বিলম্ব অনুভব করে। যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, নীতিগতভাবে এর অর্থ হলো—বিকাশগত বিলম্ব শনাক্ত করার মাধ্যমে অবহেলার মূল্যায়ন শুরু করার সময় শিশুটি কী পরিমাণ প্রতিপালন পাচ্ছে তাও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অবশ্যই যেখানে অবহেলা শনাক্তকরণের নির্দেশিকাগুলোতে পেশাদারদের বিকাশের স্তর পরিমাপের তাগিদ দেওয়া হয়েছে, সেখানে কিছু নির্দেশিকা পিতামাতার আচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ারও পরামর্শ দেয়।[৬৪] তবে পিতামাতার আচরণের ওপর এই সংকীর্ণ ফোকাস প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার (যেমন—স্কুলে অবহেলা) সম্ভাব্য প্রভাবকে বিবেচনার বাইরে রাখার জন্য সমালোচিত হতে পারে।
যদি কেউ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে মূল্যায়ন শুরু করেন যে শিশুটি অপর্যাপ্ত প্রতিপালন পাচ্ছে, তবে তাকে অবশ্যই শিশুটি কী পরিমাণ বিকাশ অর্জন করেছে তাও বিবেচনা করতে হবে।
তবে এখানে আরও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এমনকি যদি বিকাশগত বিলম্ব এবং প্রতিপালনের অভাব—উভয়ই প্রতিষ্ঠিত হয়, তবুও এই দুটির মধ্যে সম্পর্কটি কাকতালীয় কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বিকাশগত বিলম্ব কোনো বংশগত ব্যাধি, রোগ অথবা শারীরিক, যৌন বা আবেগীয় নির্যাতনের কারণেও হতে পারে। অবশ্যই, এই বিলম্ব প্রতিপালনের অভাব, নির্যাতন, বংশগতি এবং রোগের মিশ্র প্রভাবের ফলেও হতে পারে।
পরিমাপের ব্যবহারিক সরঞ্জামসমূহ
[সম্পাদনা]গ্রেডেড কেয়ার প্রোফাইল টুল[৬৫] একটি ব্যবহারিক সরঞ্জাম যা পিতামাতা বা যত্নদাতার অঙ্গীকারের পরিপ্রেক্ষিতে যত্নের মান বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিমাপ করে। এটি যুক্তরাজ্যে উদ্ভাবিত হয়েছে।[৬৬]
নর্থ ক্যারোলিনা ফ্যামিলি অ্যাসেসমেন্ট স্কেল এমন একটি সরঞ্জাম যা পারিবারিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবহেলা ঘটছে কি না তা যাচাই করতে পেশাদাররা ব্যবহার করতে পারেন।[৬৭] এনএসপিসিসি তাদের প্রমাণ-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ মডেলে NCFAS ব্যবহার করে। এটি জটিল অবহেলার মামলাগুলোতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমাজকর্মীর পাশাপাশি কাজ করে পরিবারের অবস্থা পর্যালোচনা করার জন্য ব্যবহৃত হয়।[৬৮]
হস্তক্ষেপ বা প্রতিকারমূলক কর্মসূচি
[সম্পাদনা]উন্নত দেশগুলোতে প্রাথমিক হস্তক্ষেপ কর্মসূচি এবং চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং, পারিবারিক ও দলগত কাউন্সেলিং এবং সামাজিক সহায়তা পরিষেবা। এছাড়াও সমস্যাযুক্ত আচরণ দূর করতে এবং পিতামাতাদের "উপযুক্ত" লালন-পালন আচরণ শেখানোর জন্য আচরণগত দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও রয়েছে।
লালন-পালন বা প্যারেন্টিং প্রোগ্রাম
[সম্পাদনা]ভিডিও ইন্টারঅ্যাকশন গাইডেন্স
[সম্পাদনা]ভিডিও ইন্টারঅ্যাকশন গাইডেন্স হলো একটি ভিডিও ফিডব্যাক হস্তক্ষেপ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একজন "গাইড" বা নির্দেশক কোনো ক্লায়েন্টকে তাদের সম্পর্কের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করতে সহায়তা করেন। ক্লায়েন্টকে তাদের নিজস্ব মিথস্ক্রিয়ার ভিডিও ক্লিপগুলো বিশ্লেষণ এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হয়।[৬৯][৭০] যেসব ক্ষেত্রে ২-১২ বছর বয়সী শিশুর ওপর সম্ভাব্য অভিভাবকীয় অবহেলার উদ্বেগ রয়েছে এবং শিশুটি কোনো শিশু সুরক্ষা পরিকল্পনার অধীনে নেই, সেখানে ভিডিও ইন্টারঅ্যাকশন গাইডেন্স ব্যবহার করা হয়।[৭১]
সেফ-কেয়ার (SafeCare)
[সম্পাদনা]সেফ-কেয়ার কর্মসূচি হলো একটি প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি। এটি এমন অভিভাবকদের সাথে কাজ করে যাদের অনূর্ধ্ব ৬ বছর বয়সী শিশুদের অবহেলার মাধ্যমে গুরুতর ক্ষতির শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই কর্মসূচিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের মাধ্যমে ১৮ থেকে ২০টি সেশনের মাধ্যমে বাড়িতেই প্রদান করা হয়। এটি মূলত ৩টি প্রধান ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়: অভিভাবক-শিশু মিথস্ক্রিয়া, গৃহস্থালির নিরাপত্তা এবং শিশুর স্বাস্থ্য।[৭২]
ট্রিপল পি (Triple P)
[সম্পাদনা]ট্রিপল পি হলো একটি ইতিবাচক লালন-পালন কর্মসূচি। এটি একটি বহুমুখী প্যারেন্টিং এবং পারিবারিক সহায়তা কৌশল। এর পেছনের মূল ধারণা হলো—যদি পিতামাতাদের "সঠিক" লালন-পালন সম্পর্কে শিক্ষিত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ প্রদান করা হয়, তবে তা শিশুর অবহেলার ঘটনা কমাতে সাহায্য করবে। শিশুকে বাড়িতে একা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় যত্নদাতাদের শিশুর শারীরিক, মানসিক এবং আবেগীয় সুস্থতার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা বিবেচনায় নিতে হয়।[১৫]
হস্তক্ষেপ কর্মসূচির কার্যকারিতা
[সম্পাদনা]হস্তক্ষেপ কর্মসূচির কার্যকারিতার প্রমাণগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। এক ধরনের প্রমাণ হলো প্রভাব অধ্যয়ন (), যেখানে পরিসংখ্যানগতভাবে কোনো জনগোষ্ঠীর ফলাফলে উল্লেখযোগ্য উন্নতির লক্ষ্য রাখা হয়। দ্বিতীয় ধরনের প্রমাণ হলো গুণগত অধ্যয়ন (), যার লক্ষ্য হলো সেই প্রক্রিয়াগুলো ব্যাখ্যা করা যার মাধ্যমে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ এবং সহায়তা পেতে সক্ষম হন।
প্রভাব অধ্যয়ন
[সম্পাদনা]অবহেলার শিকার হচ্ছে এমন পরিবারগুলোর জন্য পরিচালিত বেশ কয়েকটি হস্তক্ষেপ কর্মসূচি প্রভাব অধ্যয়নের বিষয় হয়েছে।
ভিডিও ইন্টারঅ্যাকশন গাইডেন্স
[সম্পাদনা]২-১২ বছর বয়সী শিশুদের সম্ভাব্য অভিভাবকীয় অবহেলার ক্ষেত্রে ভিডিও ইন্টারঅ্যাকশন গাইডেন্স ব্যবহার করা হয়েছে।[৭১] এই প্রকল্পের একটি মূল্যায়ন দেখিয়েছে যে, VIG সেবা গ্রহণকারী শিশুদের আবেগীয় এবং আচরণগত সমস্যাগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এছাড়াও যেসব পিতামাতার সন্তানরা এই সেবা পেয়েছে, তাদের লালন-পালনের মান এবং সন্তানদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও উন্নতির কথা জানানো হয়েছে।[৭১] তবে এই তথ্যের মধ্যে সেইসব পিতামাতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি যারা কর্মসূচিটি সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন অথবা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চাননি।[৭১]
সেফ-কেয়ার (SafeCare)
[সম্পাদনা]যুক্তরাজ্যের যেসব পরিবারে অবহেলার মাধ্যমে গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করা হয়েছে, সেখানে সেফ-কেয়ার কর্মসূচি প্রদান করা হয়েছে। ফলাফলের তথ্য দেখাচ্ছে যে, গড়ে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর প্যারেন্টিং দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অবহেলাকারী আচরণ হ্রাস পেয়েছে। অধিকন্তু, সুপারিশকারী বা রেফারাররা তাদের পাঠানো পরিবারগুলোর মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন, বিশেষ করে ঘরের নিরাপত্তা এবং অভিভাবক-শিশু মিথস্ক্রিয়ার ক্ষেত্রে। তবে কোনো তুলনা গোষ্ঠী না থাকায় এই পরিবর্তনগুলো কেবলমাত্র সেফ-কেয়ারের কারণেই হয়েছে কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি।[৭২]
ট্রিপল পি (Triple P)
[সম্পাদনা]যুক্তরাজ্যের অবহেলাপ্রবণ পরিবারগুলোকে ট্রিপল পি সুবিধাও প্রদান করা হয়েছে। এই সেবার ফলাফল দেখিয়েছে যে, গড়ে অংশগ্রহণকারী শিশুদের আবেগীয় এবং আচরণগত ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটেছে। তবে এই ইতিবাচক পরিবর্তন কেবলমাত্র ট্রিপল পি-র কারণে হয়েছে কি না তা বলা যাচ্ছে না, কারণ কোনো কন্ট্রোল গ্রুপ বা নিয়ন্ত্রণ গোষ্ঠী স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।[৪৯]
অবহেলা বন্ধের প্রক্রিয়াগুলো
[সম্পাদনা]গুণগত গবেষণাগুলো এমন কিছু পদ্ধতি তুলে ধরেছে যার মাধ্যমে এই কর্মসূচিগুলো স্বতন্ত্র অভিভাবকদের সাহায্য করতে পারে।
সামাজিক শিক্ষণ তত্ত্ব
[সম্পাদনা]মূল্যায়নগুলো দেখিয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অভিভাবকরা সামাজিক শিক্ষণ তত্ত্বে বর্ণিত পদ্ধতিতে তাদের লালন-পালন প্রক্রিয়া উন্নত করতে শিখেছেন।[৭৩] সামাজিক শিক্ষণ তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষ অন্যের আচরণ এবং সেই আচরণের সাথে যুক্ত ইতিবাচক ফলাফল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শেখে।[৭২] 'ট্রিপল পি' হস্তক্ষেপের একটি মূল্যায়ন দেখিয়েছে যে, সন্তানদের সাথে স্পষ্ট যোগাযোগের পরামর্শ পাওয়ার পর অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের সাথে সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে অভিভাবকরা প্রথমবারের মতো এই ধরনের পদ্ধতির কার্যকারিতা নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন।[৪৯] 'ভিডিও ইন্টারঅ্যাকশন গাইডেন্স'-এর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে যেসব অভিভাবকের একাধিক সন্তান রয়েছে (যারা সাধারণত সন্তানদের সাথে কেবল দলগতভাবে সময় কাটাতেন), তারা প্রথমবারের মতো সন্তানদের সাথে একান্তে বা আলাদাভাবে সময় কাটাতে শুরু করেছেন।[৭১] এমনকি কিছু অভিভাবক ভিডিও ইন্টারঅ্যাকশন গাইডেন্সের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো সন্তানদের সাথে এমন কিছু সৃজনশীল কাজে অংশ নিয়েছেন যাতে সামান্য ঝুঁকি ছিল।[৭১]
পেশাদার এবং অভিভাবকের মধ্যে সম্পর্ক
[সম্পাদনা]অবহেলার শিকার পরিবারগুলোকে সহায়তা করার জন্য তৈরি করা কর্মসূচিগুলোর মূল্যায়নে একটি সাধারণ ফলাফল পাওয়া গেছে। সেটি হলো—অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে সেই পেশাদারের সাথে তাদের সম্পর্কের মান, যিনি কর্মসূচিটি পরিচালনা করছেন। পেশাদারদের অভিভাবকদের এই হস্তক্ষেপে সম্পৃক্ত করতে সহায়ক মূল কারণগুলো হলো:[৭১]
- এমন একটি ধারণা তৈরি করা যে, পেশাদার ব্যক্তি কেবল কর্মসূচির প্রয়োজনে নয় বরং তার বাইরেও পরিবারটিকে সহায়তা করবেন।
- অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় এবং তার বাইরেও পরিবারের সদস্যদের তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলার সুযোগ দেওয়া।
- যেসব সমস্যা সরাসরি কর্মসূচির সাথে সম্পর্কিত নয়, সেসব বিষয়েও পরিবারের পক্ষে কথা বলা।
- মিথস্ক্রিয়ার মধ্যে আনন্দের উপাদান নিশ্চিত করা।
- পোশাক, খাবার এবং উপহার প্রদানের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের প্রতি যত্নশীলতা প্রকাশ করা।
- পরিবারের কার্যকারিতা এবং লালন-পালন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণে অভিভাবকদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া।
- অভিভাবকের নিজের বাড়িতেই হস্তক্ষেপ কর্মসূচিটি পরিচালনা করা।
- পেশাদারদের সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বা সন্ধ্যায় কাজ করা।
ভিডিও ইন্টারঅ্যাকশন গাইডেন্সের ক্ষেত্রে যখন অভিভাবকদের তাদের অভিজ্ঞতার কথা জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তারা সবসময় পেশাদার ব্যক্তির প্রদান করা যত্ন এবং সহায়তার কথা উল্লেখ করেছেন। কার্যকরভাবে এই হস্তক্ষেপ কর্মসূচিটি যত্নের একটি সামগ্রিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে অনুভূত হয়।[৭১]
আইনি মানদণ্ড
[সম্পাদনা]শিশুর অবহেলার দণ্ড নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল এবং স্টেট—উভয় স্তরের আইন বিদ্যমান। ফেডারেল চাইল্ড অ্যাবিউজ প্রিভেনশন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট অ্যাক্ট (CAPTA)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিশুর অবহেলার মানদণ্ড দুটি প্রাথমিক সংবিধির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:[৭৪]
- "কোনো অভিভাবক বা যত্নদাতার এমন কোনো সাম্প্রতিক কাজ বা কাজ করতে ব্যর্থতা যার ফলে মৃত্যু, গুরুতর শারীরিক বা আবেগীয় ক্ষতি, যৌন নির্যাতন বা শোষণ ঘটে।"
- "এমন কোনো কাজ বা কাজ করতে ব্যর্থতা যা গুরুতর ক্ষতির আসন্ন ঝুঁকি তৈরি করে।"
যদিও নির্দিষ্ট আইনগুলো রাজ্যের বিধিবদ্ধ আইনের ওপর নির্ভর করতে পারে, তবে CAPTA দুর্ব্যবহারকে অবহেলা হিসেবে চিহ্নিত করার মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। শিশুর অবহেলার তদন্ত প্রক্রিয়া একটি রিপোর্টের মাধ্যমে শুরু হয় এবং এরপর এটি অপরাধমূলক অভিযোগের ভিত্তি কি না তা নির্ধারণের জন্য মূল্যায়ন করা হয়। শিশুর অবহেলায় লিপ্ত পিতামাতা বা যত্নদাতাদের প্রসিকিউশনের মাধ্যমে জরিমানা, হেফাজত বা কাস্টডি হারানো এবং কারাদণ্ড হতে পারে।[৭৫]
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশুর অবহেলা কোনো নাবালকের স্বাধীন অপরাধমূলক সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী কি না—এই প্রশ্নটি একটি বিতর্কিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নতুন কিছু আইনের ভিত্তিতে অভিভাবকদের সাজা দেওয়া শুরু হয়েছে যা তাদের সন্তানদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের দায়ী করে, এই ধরে নিয়ে যে এটি শিশুর অবহেলার পর্যায়ে পড়ে।[৭৬]
শিশুদের প্রতিক্রিয়া
[সম্পাদনা]অবহেলাজনিত অভিজ্ঞতার প্রতিক্রিয়ায় শিশুরা বিভিন্নভাবে কাজ করতে পারে।[১৭]
কিছু শিশু তাদের পিতামাতার অবহেলার বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করে। কিছু ক্ষেত্রে, সমস্যা সমাধানের এই প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় অভিভাবকরা আক্রমণাত্মক বা দুর্ব্যবহারমূলক আচরণ করতে পারেন।
কিছু শিশু নিজেদের খাওয়ানোর জন্য তাদের পিতামাতার পার্স থেকে টাকা চুরি করে।
শিশুরা অত্যন্ত ছোট হওয়ায় পিতামাতার অবহেলা কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতা তাদের থাকে না, তবে কিছু ক্ষেত্রে ভাইবোনরা এগিয়ে আসে এবং তাদের দেখাশোনা করে। কিছু বড় ভাইবোন নিজেরা না খেয়ে থাকে যাতে তাদের ছোট ভাইবোনরা খেতে পারে।
কিছু শিশু বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করে। যদি শিশুটি ক্ষুধার্ত থাকে, তবে তারা তাদের বাড়িতে ফিরে আসে অথবা ডাস্টবিন বা এমন কোনো জায়গা থেকে খাবার খুঁজে নেয় যেখান থেকে বিনামূল্যে খাবার পাওয়া সম্ভব।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "শিশুর অবহেলা", একটি সাইকোলজি টুডে ওয়েবপেজ, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে হালনাগাদকৃত।
- ↑ বার্নেট, ডব্লিউ. স্টিভেন; বেলফিল্ড, ক্লাইভ আর. (শরৎ ২০০৬)। "আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল মোবিলিটি" (পিডিএফ)। দ্য ফিউচার অফ চিলড্রেন। ১৬ (2)। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়: ৭৩–৯৮। ডিওআই:10.1353/foc.2006.0011। জেস্টোর 3844792। পিএমআইডি 17036547। এস২সিআইডি 25181095।
- ↑ গডিন, জে এম (১৯৯৯) চাইল্ড নেগলেক্ট: শর্ট-টার্ম অ্যান্ড লং-টার্ম আউটকামস। ইন এইচ ডুবোইটজ (সম্পাদনা) নেগলেক্টেড চিলড্রেন: রিসার্চ, প্র্যাকটিস অ্যান্ড পলিসি। থাউজেন্ড ওকস: সেজ।
- ↑ ড্যানিয়েল, বি (২০০৫) ইনট্রোডাকশন টু ইস্যুস ফর হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার ইন নেগলেক্ট। ইন জে টেলর ও বি ড্যানিয়েল (সম্পাদনা) চাইল্ড নেগলেক্ট: প্র্যাকটিস ইস্যুস ফর হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার (১১-২৫)। লন্ডন ও ফিলাডেলফিয়া: জেসিকা কিংসলে পাবলিশার্স।
- ↑ ক্লসেন, এ; চিচেটি, পি (১৯৯১)। "ফিজিক্যাল অ্যান্ড সাইকোলজিক্যাল মালট্রিটমেন্ট: রিলেশনস অ্যামাং টাইপস অফ মালট্রিটমেন্ট"। চাইল্ড অ্যাবিউজ অ্যান্ড নেগলেক্ট। ১৫ (1–2): ৫–১৮। ডিওআই:10.1016/0145-2134(91)90085-r। পিএমআইডি 2029672।
- ↑ Department for Education and Skills (2006) Working Together to Safeguard Children: a guide to inter-agency working to safeguard and promote the welfare of children. London: DfES.
- ↑ চাইল্ড ওয়েলফেয়ার ইনফরমেশন গেটওয়ে (২০১২)। অ্যাক্টস অফ ওমিশন: অ্যান ওভারভিউ অফ চাইল্ড নেগলেক্ট। Washington, DC: U.S. Department of Health and Human Services, Children's Bureau.। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
- ↑ "চাইল্ড নেগলেক্ট অ্যান্ড সাইকোলজিক্যাল অ্যাবিউজ"। নিউ ইয়র্ক টাইমস। ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০১২।
- ↑ "শিশুর অবহেলা"। ওয়েবস্টার'স নিউ ওয়ার্ল্ড ল ডিকশনারি। Hoboken, New Jersey: Wiley Publishing, Inc.। ২ সেপ্টেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১০।
- ↑ লীব আরটি; পলোজি এলজে; মেলানসন সি; সাইমন টিআর; আরিয়াস আই (১ জানুয়ারি ২০০৮)। "চাইল্ড মালট্রিটমেন্ট সার্ভেইল্যান্স: ইউনিফর্ম ডেফিনিশনস ফর পাবলিক হেলথ অ্যান্ড রিকমেন্ডেড ডেটা এলিমেন্টস"। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র। সংগ্রহের তারিখ ২০ অক্টোবর ২০০৮।
- 1 2 3 টার্নি, ডি ও ট্যানার, কে (২০০৫)। আন্ডারস্ট্যান্ডিং অ্যান্ড ওয়ার্কিং উইথ নেগলেক্ট। রিসার্চ ইন প্র্যাকটিস: এভরি চাইল্ড ম্যাটারস রিসার্চ ব্রিফিংস ১০:
- ↑ ওয়েলচ, জিঞ্জার, হিদার জনসন এবং লরা উইলহেম। "নেগলেক্টেড চাইল্ড: হাউ টু রিকগনাইজ, রেসপন্ড, অ্যান্ড প্রিভেন্ট"। বেল্টসভিল, এমডি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: গ্রিফন হাউস, ২০১৩। প্রো কুয়েস্ট ইব্রারি। ওয়েব।
- ↑ পলোনকো, কারেন এ. "এক্সপ্লোরিং অ্যাজাম্পশনস অ্যাবাউট চাইল্ড নেগলেক্ট উইথ দ্য ব্রডার ফিল্ড অফ চাইল্ড মালট্রিটমেন্ট"। জার্নাল অফ হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ভলিউম ২৯ ইস্যু ৩, পৃ. ২৬০–৮৪। ২৫ পৃ. সাউদার্ন পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এডুকেশন ফাউন্ডেশন
- ↑ ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল; ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিন; কমিটি অন ল অ্যান্ড জাস্টিস; ইয়ুথ বোর্ড অন চিলড্রেন; পলিসি কমিটি অন চাইল্ড মালট্রিটমেন্ট রিসার্চ; ফেইট, মনিকা; জোসেফ, জোশুয়া; পিটারসেন, অ্যান সি. (২৫ মার্চ ২০১৪)। কনসিকুয়েন্স অফ চাইল্ড অ্যাবিউজ অ্যান্ড নেগলেক্ট (ইংরেজি ভাষায়)। National Academies Press (US)।
- 1 2 জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। (২০০৬)। ডেসক্রিপশনস অফ NICHD ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টস রিলেটেড টু চাইল্ড অ্যাবিউজ, চাইল্ড মালট্রিটমেন্ট, অ্যান্ড চাইল্ড ভায়োলেন্স। সংগৃহীত ১৩ নভেম্বর ২০১২, https://www.nichd.nih.gov/sites/default/files/news/resources/spotlight/Documents/career_development_child_abuse.pdf
- ↑ ডিপ্যানফিলিস, ডি. (২০০৬)। Child neglect: A guide for prevention, assessment, and intervention (চাইল্ড নেগলেক্ট: এ গাইড ফর প্রিভেনশন, অ্যাসেসমেন্ট, অ্যান্ড ইন্টারভেনশন)। Washington, DC: U.S. Department of Health and Human Services, Administration for Children and Families, Administration on Children, Youth and Families, Children's Bureau, Office on Child Abuse and Neglect.। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 NSPCC (২০১৫)। "Hurting Inside: NSPCC report on the learning from the NSPCC helpline and Childline on neglect" (পিডিএফ)। NSPCC। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫।
- ↑ স্টোন, বি (১৯৯৮)। "Child neglect: practitioners' perspectives (চাইল্ড নেগলেক্ট: প্র্যাকটিশনার্স পার্সপেক্টিভস)"। চাইল্ড অ্যাবিউজ রিভিউ। ৭ (2): ৮৭–৯৬। ডিওআই:10.1002/(sici)1099-0852(199803/04)7:2<87::aid-car368>3.0.co;2-7।
- ↑ Cleaver H, Unell I & Aldgate J (1999) Children's Needs - Parental Capacity: The Impact of Parental Mental Illness, Problem Alcohol and Drug Use, and Domestic Violence on Children's Development. London: The Stationery Office.
- ↑ শেপার্ড, এম; রাশিক, এম (১৯৯৯)। "How Child Welfare Workers Assess and Intervene around Issues of Domestic Violence"। চাইল্ড মালট্রিটমেন্ট। ৪ (2): ১৪৮–৫৬। ডিওআই:10.1177/1077559599004002007। এস২সিআইডি 144326610।
- 1 2 Cawson P (2002) Child Maltreatment in the Family: The experience of a national sample of young people. London: National Society for the Prevention of Cruelty to Children.
- 1 2 মিন্টি, বি; প্যাটিনসন, জি (১৯৯৪)। "The Nature of Child Neglect"। ব্রিটিশ জার্নাল অফ সোশ্যাল ওয়ার্ক। ২৪ (6): ৭৩৩–৪৭।
- ↑ Thoburn, J, Wilding, J & Watson, J (2000) Family Support in Cases of Emotional Maltreatment and Neglect. London: The Stationery Office.
- ↑ লেসা বেথিয়া (১৯৯৯)। "Primary Prevention of Child Abuse"। আমেরিকান ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান। ৫৯ (6): ১৫৭৭–৮৫, ১৫৯১–২। পিএমআইডি 10193598। ২৮ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১।
- ↑ আইজেনবার্গ, লিওন; ব্রাউন, সারাহ হার্ট (১৯৯৫)। The best intentions: unintended pregnancy and the well-being of children and families। Washington, D.C.: National Academy Press। পৃ. ৭৩–৭৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩০৯-০৫২৩০-৬।
- ↑ মানিয়া জে, থমাস এ (জুন ২০১১)। "Unintended pregnancy and taxpayer spending"। পার্সপেক্টিভস অন সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ। ৪৩ (2): ৮৮–৯৩। ডিওআই:10.1363/4308811। পিএমআইডি 21651707। এস২সিআইডি 16230025।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: ভ্যাঙ্কুভার শৈলীর ত্রুটি: 1 নামে নাম (সাহায্য) - ↑ Scourfield, J (2003) Gender and Child Protection. Houndsmills: Palgrave MacMillan.
- ↑ কুহি, সি (১৯৯৫)। "Neglectful Mothers, Their Mothers, and Partners: The Significance of Mutual Aid"। চাইল্ড অ্যাবিউজ অ্যান্ড নেগলেক্ট। ১৯ (8): ৮৮৫–৯৫। ডিওআই:10.1016/0145-2134(95)00051-9। পিএমআইডি 7583748।
- ↑ Giovanni, J M & Becerra, R M (1979) Defining Child Abuse. New York: The Free Press.
- ↑ Mayall, P D & Norgard, K E (1983) Child Abuse and Neglect: Sharing Responsibility. Chichester: John Wiley and Sons.
- ↑ Polansky, N A, Chalmers, M A, Buttenwieser, E & Williams D P (1981) Damaged Parents: An Anatomy of Child Neglect. Chicago: The University of Chicago Press.
- ↑ Thompson, R A (1995) Preventing Child Maltreatment Through Social Support. Thousand Oaks, California; London; New Delhi: Sage.
- ↑ Minty, B (2005) "The Nature of Emotional Child Neglect and Abuse" in J Taylor & B Daniel (eds) Child Neglect: Practice Issues for Health and Social Care (57–72). London & Philadelphia: Jessica Kingsley Publishers.
- ↑ ব্লানচার্ড এমএ, রোস্কাম আই, মিকোলাজাক এম, হেরেন এ (২০২১)। "A network approach to parental burnout"। চাইল্ড অ্যাবিউজ অ্যান্ড নেগলেক্ট। ১১১ 104826। ডিওআই:10.1016/j.chiabu.2020.104826। এইচডিএল:2078.1/227066। পিএমআইডি 33310372। এস২সিআইডি 229178168।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: ভ্যাঙ্কুভার শৈলীর ত্রুটি: 1 নামে নাম (সাহায্য) - ↑ Stevenson, O (1998) Neglected Children: Issues and Dilemmas. Oxford: Blackwell.
- ↑ Radford, L & Hester, M (2006). Mothering Through Domestic Violence. London: Jessica Kingsley.
- ↑ Department of Health (2000) Framework for the Assessment of Children in Need and their Families. London: The Stationery Office.
- ↑ Hester, M, Pearson, C & Harwin, N Abrahams, H.' (2006) Making an Impact: Children and Domestic Violence – a Reader. London: Jessica Kingsley
- ↑ কাসানোভা, জি; ডোমানিক, জে; ম্যাক্যান, টি; মিলনার, জে (১৯৯৪)। "Physiological Responses to Child Stimuli in Mothers with and without a Childhood History of Physical Abuse"। চাইল্ড অ্যাবিউজ অ্যান্ড নেগলেক্ট। ১৮ (12): ৯৯৫–১০০৪। ডিওআই:10.1016/0145-2134(94)90124-4। পিএমআইডি 7850618।
- 1 2 লাসলেট, এ.; রুম, আর.; ডায়েটজে, পি.; ফেরিস, জে. (২০১২)। "Alcohol's involvement in recurrent child abuse and neglect cases"। অ্যাডিকশন। ১০৭ (10): ১৭৮৬–৯৩। ডিওআই:10.1111/j.1360-0443.2012.03917.x। পিএমআইডি 22507640।
- ↑ উওলক, আই; হোরোভিটজ, বি (১৯৭৯)। "Child Maltreatment and Material Deprivation"। সোশ্যাল সার্ভিস রিভিউ। ৫৩ (2): ১৭৫–৯৪। ডিওআই:10.1086/643725। এস২সিআইডি 145154223।
- ↑ Sedlak, A J & Broadhurst, D D (1996) Executive Summary of the Third National Incidence Study of Child Abuse and Neglect. Washington, D.C.: National Centre on Child Abuse and Neglect, HHS.
- ↑ ডাবোভিটজ, এইচ (১৯৯৪)। "Neglecting the neglect of neglect"। জার্নাল অফ ইন্টারপার্সোনাল ভায়োলেন্স। ৯ (4): ৫৫৬–৬০। ডিওআই:10.1177/088626094009004010। এস২সিআইডি 143971214।
- ↑ ব্র্যাডলি, রবার্ট (২০০২)। "Socioeconomic Status and Child Development"। অ্যানুয়াল রিভিউ অফ সাইকোলজি। ৫৩: ৩৭১–৩৯৯। ডিওআই:10.1146/annurev.psych.53.100901.135233। পিএমআইডি 11752490। এস২সিআইডি 43766257।
- 1 2 ম্যাকশেরি, ডি (২০০৪)। "Which Came First, the Chicken or the Egg? Examining the Relationship between Child Neglect and Poverty"। The British Journal of Social Work। ৩৪ (5): ৭২৭–৩৩। ডিওআই:10.1093/bjsw/bch087।
- ↑ হার্ডি, রুথ (১০ নভেম্বর ২০১৫)। "How can public services help tackle child neglect? Livechat"। দ্য গার্ডিয়ান। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১৬।
- ↑ Jo Ann, M. U., & Rayleen V De, L. (2014). The relationship between childhood physical abuse and adult attachment styles. Journal of Family Violence, 29(3), 223-234. ডিওআই:10.1007/s10896-014-9588-3
- ↑ Teyber E. & Teyber F.H. (2017). Interpersonal Process in Therapy: An Integrative Model (7th ed.). California: California State University, San Bernardino.
- 1 2 3 Whalley, P. (2015) Child neglect and Pathways Triple P: An Evaluation of NSPCC services offered to parents where initial concerns of neglect have been noted, https://www.nspcc.org.uk/globalassets/documents/research-reports/pathways-triple-p-evaluation-report.pdf
- ↑ জীনাহ, চার্লস (সেপ্টেম্বর ২০১৮)। "Child Abuse and Neglect"। জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান একাডেমি অফ চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলসেন্ট সাইকিয়াট্রি। ৫৭ (9): ৬৩৭–৬৪৪। ডিওআই:10.1016/j.jaac.2018.06.007। পিএমসি 6615750। পিএমআইডি 30196867। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০২৩।
- ↑ Barnett, Ola W., Miller-Perrin, Cindy L., Perrin, Robin D. (2011). Family Violence across the lifespan. Los Angeles, CA: SAGE Publications, Inc. p 86
- ↑ ভাইটালস (১৯ সেপ্টেম্বর ২০১২)। "Neglected kids more likely to have a stroke later"। NBC News। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০১৭।
- ↑ See, e.g., গ্যালেনসন, এম.ডি., এলেনর (১৯৯৫)। "The Effect of Paternal Deprivation on the Ability to Modulate Aggression"। নিউ লিটারারি হিস্ট্রি। ২৬ (2)। The Johns Hopkins University Press। ডিওআই:10.1353/nlh.1995.0026। এস২সিআইডি 144603523।
- ↑ Barnett, Ola W., Miller-Perrin, Cindy L., Perrin, Robin D. (2011). Family Violence across the lifespan. Los Angeles, CA: SAGE Publications, Inc. p. 92
- ↑ Barnett, W.S., & Camilli, G. (2002). Compensatory preschool education, cognitive development, and "race." In J.M. Fish (Ed.), Race and intelligence: Separating science from myth (pp. 369–406). Mahwah, NJ: Erlbaum.
- ↑ ম্যাকট্যাভিশ, জিল আর.; গঞ্জালেজ, আন্দ্রেয়া; সান্তেসো, ন্যান্সি; ম্যাকগ্রেগর, জেনিফার সি. ডি.; ম্যাককি, ক্রিস; ম্যাকমিলান, হ্যারিয়েট এল. (৭ মার্চ ২০২০)। "Identifying children exposed to maltreatment: a systematic review update"। বিএমসি পেডিয়াট্রিক্স। ২০ (1): ১১৩। ডিওআই:10.1186/s12887-020-2015-4। আইএসএসএন 1471-2431। পিএমসি 7060650। পিএমআইডি 32145740।
- 1 2 Daniel, B., Taylor, J., Scott. J., Derbyshire, D. and Neilson, D. (2011) Recognizing and Helping the Neglected Child: Evidence-Based Practice for Assessment and Intervention, London: Jessica Kingsley Publishers.
- ↑ Iwaniec, D., Donaldson, T., And Allweis, M. (2004) The Plight of Neglected Children – Social Work and Judicial Decision Making and Management of Neglect Cases, Child and Family Law Quarterly, 16 (4), 423-436.
- ↑ Minty, B. and Pattinson, G. (1994) The Nature of Child Neglect, British Journal of Social Work, 24, 733-747.
- ↑ DePanfilis, D. (2006) Child Neglect: A Guide for Prevention, Assessment and Intervention, U.S. Department of Health and Human Services. https://www.childwelfare.gov/pubPDFs/neglect.pdf
- ↑ সুলিভান, এস. (২০০০) Child Neglect: Current Definitions and Models. A Review of the Literature, অটোয়া, ফ্যামিলি ভায়োলেন্স প্রিভেনশন ইউনিট।
- ↑ হিকস, এল. এবং স্টেইন, এম. (২০১০) Neglect Matters: A multi-agency guide for professionals working together on behalf of teenagers, লন্ডন: DCSF।
- ↑ অ্যাকশন ফর চিলড্রেন (২০১৪) Child Neglect: The Scandal That Never Breaks, লন্ডন। https://www.actionforchildren.org.uk/media/3213/child-neglect-the-scandal-that-never-breaks_march2014.pdf
- ↑ স্কটিশ পার্লামেন্ট এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল কমিটি। অফিসিয়াল রিপোর্ট, ১৫ জানুয়ারি ২০১৩, কলাম ১৭৭৪।
- ↑ The Graded Care Profile Scale.
- ↑ লুটন সেফগার্ডিং চিলড্রেনস বোর্ড (২০১৫) What is the Graded Care Profile Tool? http://lutonlscb.org.uk/graded.html ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৫-১১-২১ তারিখে
- ↑ "Overview of Assessment Tools" (পিডিএফ)। ন্যাশনাল ফ্যামিলি প্রিজারভেশন নেটওয়ার্ক। ২০১৫। ২০ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৫।
- ↑ উইলিয়ামস, এম. (২০১৫) Evidence based decisions in child neglect: An evaluation of an exploratory approach to assessment using the North Carolina Family Assessment Scale, লন্ডন, NSPCC। সংগৃহীত ৫ ডিসেম্বর ২০২১।
- ↑ থিংক ভিজ্যুয়ালি (১৭ ডিসেম্বর ২০১২)। "What is Video Interaction Guidance? (VIG)"। ১২ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০১৭ – YouTube এর মাধ্যমে।
- ↑ "Private video on Vimeo"। vimeo.com। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০১৭।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 "হোয়ালি, পি. এবং উইলিয়ামস, এম. (২০১৫) Child neglect and video interactive guidance: an evaluation of an NSPCC service offered to parents where initial concerns of neglect have been noted" (পিডিএফ)। NSPCC। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১৫।
- 1 2 3 চার্চিল, জি. (২০১৫) Safe care: Evidence from a Home Based Parenting Programme for Neglect, লন্ডন, NSPCC। https://www.nspcc.org.uk/globalassets/documents/research-reports/safecare-evidence-evaluation-report.pdf
- ↑ আলবার্ট বান্দুরা (১৯৭১)। "Social Learning Theory (সামাজিক শিক্ষণ তত্ত্ব)" (পিডিএফ)। General Learning Corporation। ২৪ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩।
- ↑ "Child Abuse Prevention and Treatment Act"। 1974-এর আইন নং. Pub. L. 93-247। U.S.C.। খণ্ড ৮৮। § 1506g। STATUTE-88-Pg4।
{{বই উদ্ধৃতি}}: অজানা প্যারামিটার|firstpage=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য) - ↑ HG.Org. "Legal Consequences of Child Abuse - HG.org". সংগৃহীত ১৪ নভেম্বর ২০২৫। https://www.hg.org/legal-articles/legal-consequences-of-child-abuse-31009.
- ↑ স্কট, লেরয়; ব্র্যাঙ্ক, ইভ (২০১২)। ""Get A Hold of Your Kids Before We Have to!" Using Parental Responsibility Laws to Curb Juvenile Crimes"। PsycEXTRA Dataset। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২৫।