শিশুর খাবার
শিশুর খাবার হল ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়সী মানব শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি যেকোনো নরম এবং সহজে গ্রহণযোগ্য খাদ্য, যা বুকের দুধ বা বেবি ফর্মুলা থেকে ভিন্ন। এই খাবারগুলো বিভিন্ন প্রকার ও স্বাদের হয় যা উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে তৈরি অবস্থায় কেনা যায়, অথবা এটি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য তৈরি সাধারণ খাবারও হতে পারে যা চটকে বা অন্য কোনোভাবে নরম করে নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তুতি এবং স্বাস্থ্য
[সম্পাদনা]প্রস্তুতি
[সম্পাদনা]২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং অনেক দেশের স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো শিশুকে শক্ত খাবার দেওয়ার আগে তার বয়স অন্তত ছয় মাস হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেয়।[১][২][৩]
২০২০ সালে ইতালিতে অভিভাবকদের ওপর পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে যে, দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিশুকে তাদের বয়স পাঁচ বা ছয় মাস হওয়ার পর প্রথমবার শিশুর খাবার দেওয়া হয়েছিল।[৪] ২০১৭ সালে স্কটল্যান্ডের একটি জরিপ নির্দেশ করে যে, প্রায় কোনো শিশুকেই চার মাস বয়সের আগে শিশুর খাবার দেওয়া হয়নি এবং তাদের অর্ধেকেরও বেশি শিশুকে অন্তত ছয় মাস বয়স না হওয়া পর্যন্ত কোনো বাইরের খাবার দেওয়া হয়নি।[৫]
অকালে বা সময়ের আগে (অর্থাৎ শিশুর বয়স অন্তত চার মাস হওয়ার আগে) শিশুর খাবার শুরু করার বিষয়টি সাধারণত পরিবারের এই উদ্বেগের সাথে জড়িত যে, শুধুমাত্র বুকের দুধে শিশুর ক্ষুধা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।[৫] চার মাস বয়সের আগে বুকের দুধ বা ইনফ্যান্ট ফর্মুলা বাদে অন্য যেকোনো খাবার খাওয়ানোর ফলে শিশুর খাদ্য এলার্জি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে;[৬][৭] তবে এলার্জি হতে পারে এমন খাবার যেমন চিনাবাদাম ছয় মাসের বেশি সময় দেরি করে শুরু করলেও স্বাস্থ্যের কোনো বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় না।[৮] অকালে খাবার শুরু করার ফলে গলায় খাবার আটকে শ্বাসকষ্ট, কিডনির ওপর চাপ এবং গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস (পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহ যার ফলে বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।[৭]
স্বাস্থ্য
[সম্পাদনা]একটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সুপারিশ হিসেবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরামর্শ দেয় যে শিশুদের সর্বোত্তম বৃদ্ধি, বিকাশ এবং স্বাস্থ্যের জন্য জীবনের প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। অধিকাংশ ছয় মাস বয়সী শিশু শারীরবৃত্তীয় এবং বিকাশগতভাবে নতুন খাবার, খাবারের বুনন এবং নতুন পদ্ধতিতে খাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে।[৯] বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন-এ পরামর্শ প্রদানকারী বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ দেখিয়েছেন যে, ছয় মাসের আগে শক্ত খাবার শুরু করলে শারীরিক বৃদ্ধির কোনো উন্নতি ছাড়াই শিশুর অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।[১০]
ছয় মাসের আগে শক্ত খাবার শুরু করার ফলে অন্যতম স্বাস্থ্যঝুঁকি হল আয়রনের অভাব। সময়ের আগে পরিপূরক খাবার শুরু করলে শিশুর ক্ষুধা মিটে যেতে পারে, যার ফলে সে কম পরিমাণে বুকের দুধ পান করে এবং শেষ পর্যন্ত মায়ের দুধ উৎপাদন কমে যায়। যেহেতু বুকের দুধের আয়রন শোষণ ক্ষমতা অন্যান্য খাবারের সংস্পর্শে এলে কমে যায়, তাই অকালে পরিপূরক খাবার ব্যবহারের ফলে আয়রনের ঘাটতি এবং রক্তাল্পতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।[৯]
কানাডায় শিশুর খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত; ছেঁকে নেওয়া ফল, ফলের রস এবং সিরিয়াল যদি বাড়তি সোডিয়াম যুক্ত থাকে তবে তা বিক্রি করা নিষিদ্ধ (ছেঁকে নেওয়া ডেজার্ট বাদে)। শিশুর খাবারের ধরণ অনুযায়ী প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান সোডিয়ামের পরিমাণ প্রতি ১০০ গ্রামে ০.০৫ থেকে ০.২৫ গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়।[১১]
যদি পরিবারে এলার্জির ইতিহাস থাকে, তবে শুরুতে একবারে একটি মাত্র নতুন খাবার দেওয়া এবং যেকোনো প্রতিক্রিয়ার দিকে লক্ষ্য রাখার জন্য কয়েক দিন বিরতি দেওয়া ভালো। এতে কোনো নির্দিষ্ট খাবারে শিশুর সংবেদনশীলতা থাকলে সহজেই তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়।[১২]
শিশুর বৃদ্ধির সাথে সাথে তার পুষ্টির চাহিদা মেটানো তাদের সুস্থ বিকাশের জন্য অপরিহার্য।[১৩] শিশুদের অনুপযুক্ত বা অপর্যাপ্ত খাওয়ানো তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।
পুষ্টির চাহিদা এবং খাবারের পরিমাণ
[সম্পাদনা]বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুরুতেই অল্প পরিমাণে খাবার দেওয়ার এবং শিশুর বয়স বাড়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে তা বাড়ানোর পরামর্শ দেয়: ৬ থেকে ৮ মাস বয়সী শিশুদের জন্য দিনে ২ থেকে ৩ বার খাবার এবং ৯ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের জন্য দিনে ৩ থেকে ৪ বার খাবার, সাথে প্রয়োজন অনুযায়ী ১ বা ২ বার অতিরিক্ত নাস্তা দেওয়া যেতে পারে।[১]
নবজাতকদের জন্য বুকের দুধ বা ইনফ্যান্ট ফর্মুলা আবশ্যক। শিশুদের ক্ষেত্রে মোট শক্তির অন্তত ৪০% আসা উচিত কার্বোহাইড্রেট (প্রধানত ল্যাকটোজ) থেকে, যা ২ বছর বয়সের মধ্যে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে ৫৫% করা উচিত।[১৪]
২০০৮ সালের 'ফিডিং ইনফ্যান্টস অ্যান্ড টডলার্স' গবেষণায় দেখা গেছে যে, শিশুর খাবারের প্রধান ভোক্তা—শিশু এবং টডলারদের সামগ্রিক খাদ্যতালিকায় সাধারণত সুপারিশকৃত পরিমাণের সমান বা তার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পরিমাণে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট (শর্করা, প্রোটিন ও চর্বি) থাকে।[১৫] তবে টডলার এবং প্রিস্কুলাররা সাধারণত খুব কম পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার গ্রহণ করে এবং প্রিস্কুলাররা সাধারণত সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে সম্পৃক্ত চর্বি খায়, যদিও তাদের সামগ্রিক চর্বি গ্রহণের পরিমাণ সুপারিশের চেয়ে কম ছিল।[১৫] মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট-এর মাত্রা সাধারণত সুপারিশকৃত সীমার মধ্যেই ছিল। মার্কিন গবেষণায় দেখা গেছে যে, বয়সে কিছুটা বড় শিশুদের একটি ছোট গোষ্ঠীর আরও বেশি আয়রন এবং জিঙ্ক প্রয়োজন ছিল, যা আয়রন-সমৃদ্ধ শিশুর খাবার থেকে পাওয়া সম্ভব।[১৫] এছাড়া টডলার এবং প্রিস্কুলারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সিন্থেটিক ফোলেট, ভিটামিন এ, জিঙ্ক এবং সোডিয়ামের (লবণ) সুপারিশকৃত ঊর্ধ্বসীমা অতিক্রম করেছিল।[১৫]
প্রস্তুতি এবং খাওয়ানো
[সম্পাদনা]
শিশুর খাবারগুলো হয় নরম ও তরল মণ্ড জাতীয় অথবা সহজে চিবানো যায় এমন খাবার হয়, কারণ শিশুদের খাবার চিবানোর জন্য প্রয়োজনীয় পেশি এবং দাঁত বিকশিত হয় না। সাধারণত যখন স্তন্যপান বা ফর্মুলা দুধ শিশুর ক্ষুধা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত হয় না, তখন থেকেই শিশুরা বাইরের খাবার খেতে শুরু করে। শক্ত খাবার শুরু করার জন্য শিশুর দাঁত থাকা বাধ্যতামূলক নয়, যদিও সাধারণত এই বয়সেই দাঁত উঠতে শুরু করে। কিছু খাবারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত যা শিশুর গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরোধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যেমন—আধাসিদ্ধ সবজি, আস্ত আঙুর বা হাড় থাকতে পারে এমন খাবার।
শিশুরা সাধারণত পিউরি করা সবজি এবং ফলের মতো তরল ধরণের খাবার দিয়ে খাওয়া শুরু করে, যা অনেক সময় চালের সিরিয়াল এবং ফর্মুলা বা বুকের দুধের সাথে মেশানো থাকে। এরপর শিশু যখন চিবানোতে অভ্যস্ত হয়, তখন খাবারে ছোট ও নরম টুকরো অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, কারণ দাঁত ওঠা শিশুরা খাবারের টুকরো ছিঁড়ে নিতে পারলেও তাদের খাবার পিষ্ট করার জন্য পেছনের মাড়ি বা দাঁত থাকে না। তাই খাবারটি ভালোমতো চটকে বা ছোট ছোট টুকরো করে শিশুকে দেওয়া উচিত।
প্রায় ৬ মাস বয়স থেকে শিশুরা পরিবারের বড় সদস্য বা যত্নশীলদের সাহায্যে নিজে নিজে খাওয়ার চেষ্টা করতে পারে (হাত দিয়ে খাবার তোলা, পুরো মুষ্টি ব্যবহার করা বা পরবর্তীতে পিন্সার গ্রাস্প অর্থাৎ বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দিয়ে খাবার ধরা)।
বাড়িতে তৈরি না বাণিজ্যিক

বাড়িতে তৈরি শিশুর খাবার বাণিজ্যিক খাবারের তুলনায় সাশ্রয়ী।[১৬] তবে বাড়িতে তৈরি খাবার তখনই উপযুক্ত যখন পরিবারের খাদ্যতালিকা পর্যাপ্ত ও বৈচিত্র্যময় হয় এবং খাবার সংরক্ষণের জন্য রেফ্রিজারেশন ও মৌলিক স্যানিটেশনের সুবিধা থাকে।[১৬] বাড়িতে শিশুর খাবার তৈরির সময় যথাযথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ, যেমন—ফল ও সবজি ধোয়া এবং রান্নার সরঞ্জাম ও পাত্র জীবাণুমুক্ত রাখা।
বাণিজ্যিক তৈরি খাবার ব্যবহারের তুলনায় বাড়িতে খাবার তৈরিতে সময়ের প্রয়োজন বেশি হয়। ছোট শিশুদের জন্য খাবার মিহি করে কুচানো বা পিউরি করার প্রয়োজন হতে পারে, অথবা পরিবারের অন্যদের জন্য রান্নার সময় লবণ, কড়া মশলা বা চিনি ছাড়া শিশুর জন্য আলাদাভাবে রান্না করতে হতে পারে।[১৬]
খাবারে বাছবিচার
অভিভাবক বা যত্নশীলরা প্রায় অর্ধেক টডলারকে খাবারে "বাছবিচার করা" বা খুঁতখুঁতে হিসেবে গণ্য করেন, যার প্রকোপ ২৪ মাস বয়সের দিকে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।[১৭][১৮] অনেক প্রাপ্তবয়স্ক কেবল ৩ থেকে ৫ বার চেষ্টার পরই শিশুকে নতুন খাবার দেওয়া বন্ধ করে দেন। অথচ কোনো খাবারের স্বাদ পছন্দ করার জন্য একটি শিশুকে অন্তত ৮ থেকে ১৫ বার সেই খাবারটি খেতে দেওয়া উচিত। অনেক সময় অভিভাবকরা বিরূপ আচরণও করেন, যেমন—বিকল্প হিসেবে শিশুর পছন্দের কোনো খাবার বা ক্ষুধা কমিয়ে দেয় এমন দুধ খেতে দেওয়া, অথবা শিশুকে খাওয়ার জন্য জোর করা বা প্রলোভন দেখানো।[১৯]
ধরণ
[সম্পাদনা]প্রথম বছর জুড়ে বুকের দুধ বা ইনফ্যান্ট ফর্মুলাই ক্যালরি এবং পুষ্টির প্রধান উৎস। ছয় মাস বয়সের মধ্যে শিশুরা সাধারণ পারিবারিক খাবারের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়।[২০]
গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকিগুলোর দিকে লক্ষ্য রেখে শিশুদের সরাসরি পরিবারের স্বাভাবিক খাবার দিয়ে শুরু করানো যেতে পারে; একে বলা হয় 'শিশু-নির্দেশিত খাওয়ানো' বা বেবি-লেড উইনিং। যেহেতু বুকের দুধে মা যা খান তার স্বাদ পাওয়া যায়,[২১] তাই মায়ের খাওয়া খাবারগুলো শিশুর জন্য ভালো পছন্দ হতে পারে।
খাবারের প্রকারভেদ
- সিরিয়াল
- একটি সাধারণ দিনে চার ও পাঁচ মাস বয়সী মার্কিন শিশুদের প্রায় অর্ধেককে শিশুর সিরিয়াল খাওয়ানো হয়। শিশুটি হয়তো খুব সামান্য এক কামড় সিরিয়াল খেয়েছে অথবা অন্য খাবারের সাথে মেশানো সামান্য সিরিয়াল খেয়েছে। ওই বয়সে অন্যান্য শস্য-ভিত্তিক খাবার বিরল। ছয় থেকে বারো মাস বয়সী শিশুদের প্রায় ৯০% কোনো না কোনো ধরণের শস্য জাতীয় খাবার খায়, যদিও তাদের মধ্যে মাত্র অর্ধেক শিশু 'ইনফ্যান্ট সিরিয়াল' খায়। অন্যরা ভাত, রুটি, ক্র্যাকার্স, পাস্তা বা বড় শিশুদের উপযোগী সিরিয়াল খায়।[২২]
- ফল
- যেকোনো দিনে চার ও পাঁচ মাস বয়সী শিশুদের প্রায় ২০% কোনো না কোনো ধরণের ফল খায়, যা সাধারণত তৈরি করা শিশুর খাবার হিসেবে দেওয়া হয়।[২২] ছয় থেকে নয় মাস বয়সী শিশুদের দুই-তৃতীয়াংশ এবং নয় মাসের বেশি বয়সী শিশু ও টডলারদের ৭৫% থেকে ৮৫% ফল খায়। ১২ মাস বা তার বেশি বয়সী টডলাররা মূলত তাজা কলা বা টিনজাত ফলের মতো সাধারণ ফল খায়। সব বয়সের শিশুদের জন্য আপেল ও কলা খুব সাধারণ ফল। ফলের রস (প্রধানত আপেল ও আঙুরের রস) সাধারণত ফলের পরে শুরু করা হয়।[২২]
- সবজি
- চার ও পাঁচ মাস বয়সী শিশুদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ দিনে অন্তত একবার কোনো না কোনো সবজি খায়, যা সাধারণত হলুদ বা কমলা রঙের সবজি যেমন গাজর, মিষ্টি কুমড়া বা মিষ্টি আলু।[২২] ছয় থেকে নয় মাস বয়সী শিশুদের প্রায় ৬০% এবং তার বেশি বয়সীদের প্রায় ৭০% সবজি খায়। নয় মাস বয়সের পর 'বেবি ফুড সবজি'র স্থান দ্রুত রান্না করা সবজি দখল করে নেয়। কাঁচা সবজি শিশু ও টডলারদের জন্য অস্বাভাবিক। প্রথম জন্মদিনের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু প্রতিদিন আলু খায়।[২২]
- মাংস
- চার থেকে পাঁচ মাস বয়সী খুব কম মার্কিন শিশু মাংস বা অন্যান্য প্রোটিন উৎস (দুধ বাদে) খায়।[২২] ছয় থেকে নয় মাস বয়সী শিশুরা মূলত সবজি বা শস্যের সাথে সামান্য মেশানো মাংস খায়। নয় থেকে বারো মাস বয়সী শিশুদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশকে মাংস অথবা ডিম, পনির, দই, শিম বা বাদামের মতো অন্যান্য প্রোটিন উৎস দেওয়া হয়। ১২ মাস থেকে ১৮ মাস বয়সী শিশুদের ৯০% এরও বেশি এবং তার চেয়ে বড় শিশুদের প্রায় সবাই দিনে অন্তত একবার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার পায়।[২২]
- মিষ্টি ও নোনতা খাবার
- শিশুদের জন্য মিষ্টি ও নোনতা খাবার খুব একটা দেওয়া হয় না।[২২] ২০০২ সালের এক গবেষণার তুলনায় বর্তমানে মিষ্টি জাতীয় খাবার বা পানীয় দেওয়ার হার প্রায় অর্ধেক কমেছে। নয় থেকে বারো মাস বয়সী শিশুদের অর্ধেকেরও কম শিশুকে কুকিজ, আইসক্রিম বা ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়ের মতো মিষ্টি খাবার দেওয়া হয়। কৃত্রিম চিনি ও চর্বির কারণে ভবিষ্যতে হতে পারে এমন স্বাস্থ্য সমস্যা এড়াতে শিশুদের খাবারের চাহিদা মেটাতে ফল ও সবজির প্রাকৃতিক চিনি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।[২৩]
| অঞ্চল | দেশ | প্রথম খাবার | প্রথম খাবারের বয়স (মাস) | খাওয়ানোর পদ্ধতি |
|---|---|---|---|---|
| আফ্রিকা | নাইজেরিয়া (ইয়োরুবা জাতি) | 'একো', জোয়ার বা ভুট্টা থেকে তৈরি এক ধরণের তরল জাউ | ৬ | মা অঞ্জলি করে জাউ ধরে শিশুর মুখে ঢেলে দেন। শিশু যদি গিলতে না চায়, তবে মা তাকে জোর করে খাওয়াতে পারেন। |
| আফ্রিকা | তানিজানিয়া (গোগো জাতি) | 'উজি', বাজারার পাতলা জাউ | ৩ থেকে ৪ | কাপ বা লাউয়ের খোলের পাত্র থেকে উজি পান করানো হয়। |
| আফ্রিকা | মালি | বাজরা বা চাল দিয়ে তৈরি জাউ বা পরিজ, সাথে হয়তো মাছ বা আলু | মেয়েদের জন্য ৭ এবং ছেলেদের জন্য ১০ | শিশুরা নিজেরাই পাত্র থেকে ডান হাত দিয়ে খায়। |
| আফ্রিকা | জিম্বাবুয়ে | 'বোটা', ভুট্টার আটা থেকে তৈরি জাউ | ৩ বা তার আগে | মা বা যত্নশীল কাপ বা চামচ দিয়ে শিশুকে খাওয়ান। |
| দক্ষিণ আমেরিকা | ব্রাজিল | কর্ন স্টার্চ এবং অন্যান্য শস্য | ৪ | নবজাতকদের ৩ মাস বয়সের আগে প্রায়ই গুঁড়ো দুধ দেওয়া হয়। ৬ মাস পর থেকে শিশুরা ভাত-ডাল বা পরিবারের বাকিদের মতো খাবার খায়। প্রাপ্তবয়স্কদের খাবার ছোট টুকরো করে মা নিজের হাত দিয়ে খাওয়ান। |
| দক্ষিণ আমেরিকা | গুয়াতেমালা | 'ইনকাপারিনা' বা ভুট্টার আটার জাউ, ডিম এবং ফলের রস | ৪ থেকে ৬ | মায়েরা সাধারণত পরিবারের খাবার থেকেই শিশুর উপযোগী খাবার বেছে নেন। ভুট্টার জাউ প্রায়ই বোতলে দেওয়া হয়। |
| দক্ষিণ আমেরিকা | পেরু | গম এবং আলুর স্যুপ | ৬ থেকে ৮ | শিশুরা অসুস্থ না থাকলে সাধারণত নিজেরাই খাওয়ার সুযোগ পায়। গ্রামীণ শিশুদের তুলনায় শহরের শিশুদের দ্রুত শক্ত খাবার দেওয়া শুরু হয়। |
| দক্ষিণ আমেরিকা | ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র | কমলার রস, লেবুর রস, শিম | ৩ | ১ মাস বয়সের আগেই নবজাতকদের প্রায়ই গুঁড়ো দুধ দেওয়া হয়। দুধ ও রস সাধারণত বোতলে দেওয়া হয়। মাংস ও শিমের আগে ফল ও সবজি শুরু করা হয়, এবং শস্য দেওয়া হয় সবার শেষে। |
| এশিয়া | ভুটান | মাখন দিয়ে রান্না করা চালের গুঁড়ো বা ভুট্টার জাউ | ২ | মায়েরা নিজেদের হাত দিয়ে শিশুকে খাওয়ান। |
| এশিয়া | বাংলাদেশ | ফিঙ্গার ফুড, ভাত বা ভাতের মতো খাবার | - | শক্ত খাবারের পরিমাণ সাধারণত খুব সামান্য হয়, তবে দিনে কয়েকবার দেওয়া হয়। খাবার সাধারণত যত্নশীলের হাতে থাকে, তবে বোতল, কাপ বা চামচও ব্যবহৃত হতে পারে। |
| এশিয়া | নেপাল | শস্য | ৬ | মায়েরা পরিবারের অন্যদের জন্য রান্না করা শস্য নিজে আগে চিবিয়ে নরম করেন, এরপর পানি বা মাখন মিশিয়ে আঙ্গুল দিয়ে শিশুর মুখে দেন। হিন্দু পরিবারগুলোতে অন্নপ্রাশনের মাধ্যমে ৩ সপ্তাহ বয়সে ভাত খাওয়ানো হয়, তবে নিয়মিত খাবার শুরু হয় আরও পরে। |
| এশিয়া | ফিলিপাইন | 'লুগাও' (এক ধরণের চালের জাউ), চটকানো ফল বা সবজি, অথবা নরম রুটি | ৩ থেকে ৬ | বোতলে খাওয়ানোকে উচ্চ সামাজিক মর্যাদার প্রতীক মনে করা হয়। মায়েরা আঁশযুক্ত খাবার (যেমন আনারস বা ভুট্টা) এড়িয়ে চলেন কারণ তাদের বিশ্বাস শিশুরা এগুলো সহজে হজম করতে পারে না। |
| ওশেনিয়া | পাপুয়া নিউ গিনি | চটকানো পেঁপে, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া এবং কলা | ৬ থেকে ১২ | পানি, সবজির ব্রথ এবং ছিলে রাখা আখ শিশুদের তরল খাবারের বাড়তি উৎস হিসেবে দেওয়া হয়। তড়ো এবং মাংস এক বছর না হওয়া পর্যন্ত দেওয়া হয় না। ঐতিহ্যগতভাবে, শিশু হাঁটতে না শেখা পর্যন্ত তাকে শক্ত খাবার দেওয়া হতো না। |
| ওশেনিয়া | সলোমন দ্বীপপুঞ্জ (কুয়াইও জাতি) | পানি মিশিয়ে আগে চিবানো তড়ো অথবা নারিকেলের দুধে রান্না করা মিষ্টি আলু | ০ থেকে ৯ | ঐতিহ্যবাহী প্রথা পালনকারী মায়েরা জন্মের ১ থেকে ২ মাসের মধ্যেই শক্ত খাবার শুরু করেন; তারা খাবারটি চিবিয়ে মুখ থেকে মুখে শিশুকে খাওয়ান। 'সুকুরু' মায়েরা সাধারণত ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে খাবার শুরু করেন। |
| উত্তর আমেরিকা | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র | ইনফ্যান্ট সিরিয়াল, এরপর পিউরি করা ফল বা সবজি | ২ থেকে ৬ | সিরিয়াল ইনফ্যান্ট ফর্মুলার সাথে মিশিয়ে বোতলে বা চামচ দিয়ে খাওয়ানো হয়। ধনী মহিলাদের তুলনায় দরিদ্র মহিলারা অনেক দ্রুত শক্ত খাবার দেওয়া শুরু করেন। |
টডলারদের খাবার
কিছু বাণিজ্যিক শিশু খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ১২ মাস থেকে আড়াই বছর বয়সী টডলারদের জন্য বিশেষায়িত খাবার তৈরির মাধ্যমে তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জুস, সিরিয়াল, মাইক্রোওয়েভে গরম করা যায় এমন ছোটখাটো খাবার, বেক করা পণ্য এবং টডলারদের জন্য বিশেষভাবে বাজারজাত করা অন্যান্য খাবার।
বয়স্কদের জন্য ব্যবহার
১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে, গারবার প্রোডাক্টস কোম্পানি এবং বিচ-নাট বয়স্ক, অসুস্থ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বাণিজ্যিক শিশু খাদ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করতে বিশেষ কুকবুক (রান্নার বই) তৈরি করেছিল।[২৫]
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট
[সম্পাদনা]
সংস্কৃতিভেদে শিশুর খাবারের ভিন্নতা দেখা যায়। অনেক সংস্কৃতিতে শস্যের মণ্ড এবং তরলের মিশ্রণই হলো শিশুর প্রথম খাবার। মানব ইতিহাসে এবং বর্তমানেও বিশ্বের অনেক সংস্কৃতিতে, যত্নশীলরা খাবারটি নিজে আগে চিবিয়ে শিশুকে খাওয়ান, যাতে খাবারটি মিহি হয় এবং হজম প্রক্রিয়া শুরু হতে সুবিধা হয়।[২৬]
পাশ্চাত্যে ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত শিশুর খাবার সাধারণত বাড়িতেই তৈরি করা হতো। শিল্প বিপ্লবের ফলে শিশুর খাবারের বাণিজ্যিক বাজার সৃষ্টি হয়, যা সুবিধাজনক পণ্য হিসেবে কেনা খাবারের প্রসার ঘটায়। উন্নত দেশগুলোতে বর্তমানে শিশুদের প্রায়শই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত আয়রন-সমৃদ্ধ সিরিয়াল দিয়ে খাওয়ানো শুরু করা হয় এবং পরবর্তীতে চটকানো ফল ও সবজি দেওয়া হয়। তৈরি খাবারগুলো শুকনো, ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত এবং হিমায়িত আকারে বাজারে সহজলভ্য। এর বিপরীতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জনসমক্ষে স্তন্যদান সামাজিকভাবে বেশি স্বীকৃত, যা একটি সামাজিক বৈপরীত্য তৈরি করে। 'ইনভেন্টিং বেবি ফুড'-এর লেখক অ্যামি বেন্টলি আলোচনা করেছেন যে, কীভাবে শিশুকে খাওয়ানোর পদ্ধতিটি একজনের সামাজিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে; কারণ উন্নত দেশে পরিবারগুলো প্রক্রিয়াজাত খাবার কিনতে সক্ষম, যেখানে উন্নয়নশীল দেশে প্রাকৃতিক স্তন্যপান বেশি জনপ্রিয়।[২৭]
নেদারল্যান্ডসে ১৯০১ সালে মার্টিনাস ভ্যান ডার হেগেন প্রথম বাণিজ্যিকভাবে শিশুর খাবার তৈরি শুরু করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯২০-এর দশকে হ্যারল্ড ক্ল্যাপ প্রথম এটি প্রবর্তন করেন। ফ্রেমন ক্যানিং কোম্পানি, যা বর্তমানে গারবার প্রোডাক্টস কোম্পানি নামে পরিচিত, ১৯২৭ সালে যাত্রা শুরু করে। ১৯৩১ সালে বিচ-নাট কোম্পানি বাজারে প্রবেশ করে। ১৯৩০-এর দশকে অসুস্থ শিশুদের জন্য প্রথম প্রাক-রান্না করা শুকনো খাবার হিসেবে পাবলাম তৈরি করা হয়েছিল। অন্যান্য প্রধান নির্মাতাদের মধ্যে রয়েছে হেইঞ্জ, নেসলে (Nestlé), নুট্রিশিয়া এবং ইউনিলিভার। ১৯৬০-এর দশক থেকে জৈব বা অর্গানিক খাবারের চাহিদা বাড়তে শুরু করে এবং বর্তমানে অনেক বড় কোম্পানি অর্গানিক বেবি ফুড উৎপাদন করছে।
বিশ শতকের শুরুতে আমেরিকায় বেশিরভাগ শিশু প্রায় সাত মাস বয়সে প্রথম বাইরের খাবার খেতে শুরু করত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই বয়স কমে মাত্র ছয় সপ্তাহে নেমে আসে। বর্তমানে এটি আবার বেড়ে চার থেকে ছয় মাসে দাঁড়িয়েছে। লেখক অ্যামি বেন্টলি যুক্তি দিয়েছেন যে, বাণিজ্যিক খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ এবং এমএসজি ব্যবহারের ফলে শিশুরা পরবর্তী জীবনে প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে।
চীন এবং পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতে বাড়িতে তৈরি শিশুর খাবার এখনও জনপ্রিয়। সেখানে 'কঞ্জি' নামক চালের জাউ দিয়ে শুরু করা হয়, এরপর চটকানো ফল, নরম সবজি, টোফু এবং মাছ দেওয়া হয়। সুইডেনে সাধারণত চটকানো ফল (যেমন কলা), ওটমিল এবং চটকানো সবজি দিয়ে শুরু করা হয়। পশ্চিম আফ্রিকায় ভুট্টার জাউ প্রায়ই প্রথম শক্ত খাবার হিসেবে দেওয়া হয়।
অনেক সংস্কৃতিতে শিশুর প্রথম শক্ত খাবার গ্রহণ একটি আনুষ্ঠানিক এবং ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে। যেমন হিন্দু ঐতিহ্যে অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুকে আশীর্বাদপুষ্ট মিষ্টি চালের জাউ বা পায়েস খাওয়ানো হয়। অনুরূপ প্রথা বাংলা অঞ্চল, ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডেও প্রচলিত রয়েছে।
| অঞ্চল | দেশ | প্রথম খাবার | বয়স (মাস) | খাওয়ানোর পদ্ধতি |
|---|---|---|---|---|
| আফ্রিকা | নাইজেরিয়া (ইয়োরুবা জাতি) | 'একো', জোয়ার বা ভুট্টা থেকে তৈরি তরল জাউ | $৬$ | মা অঞ্জলি করে জাউ ধরে শিশুর মুখে ঢেলে দেন। |
| আফ্রিকা | তানজানিয়া (গোগো জাতি) | 'উজি', বাজারার পাতলা জাউ | $৩$ থেকে $৪$ | কাপ বা লাউয়ের খোল থেকে পান করানো হয়। |
| আফ্রিকা | মালি | বাজরা বা চালের জাউ, সাথে মাছ বা আলু | মেয়েদের $৭$, ছেলেদের $১০$ | শিশুরা ডান হাত দিয়ে বাটি থেকে নিজে খায়। |
| আফ্রিকা | জিম্বাবুয়ে | 'বোটা', ভুট্টার আটা থেকে তৈরি জাউ | $৩$ বা তার আগে | কাপ বা চামচ দিয়ে খাওয়ানো হয়। |
| দক্ষিণ আমেরিকা | ব্রাজিল | কর্ন স্টার্চ এবং অন্যান্য শস্য | $৪$ | প্রাপ্তবয়স্কদের খাবার ছোট টুকরো করে মা হাত দিয়ে খাওয়ান। |
| দক্ষিণ আমেরিকা | গুয়াতেমালা | ভুট্টার আটার জাউ, ডিম এবং ফলের রস | $৪$ থেকে $৬$ | পরিবার যা খাচ্ছে তার মধ্য থেকেই বেছে নেওয়া হয়। |
| দক্ষিণ আমেরিকা | পেরু | গম এবং আলুর স্যুপ | $৬$ থেকে $৮$ | শিশুরা নিজেরাই খাওয়ার সুযোগ পায়। |
| দক্ষিণ আমেরিকা | ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র | কমলার রস, লেবুর রস, শিম | $৩$ | দুধ ও রস সাধারণত বোতলে দেওয়া হয়। |
| এশিয়া | ভুটান | মাখন দিয়ে রান্না করা চালের গুঁড়ো বা ভুট্টার জাউ | $২$ | মা নিজের হাত দিয়ে খাওয়ান। |
| এশিয়া | বাংলাদেশ | শুকনো ফিঙ্গার ফুড, ভাত বা ভাতের মতো খাবার | $৪$ | দিনে কয়েকবার খুব সামান্য পরিমাণে দেওয়া হয়। |
| এশিয়া | নেপাল | শস্য | $৬$ | মায়েরা খাবার আগে নিজে চিবিয়ে নরম করে শিশুর মুখে দেন। হিন্দু পরিবারে ৩ সপ্তাহে অন্নপ্রাশন হয়। |
| এশিয়া | ফিলিপাইন | 'লুগাও' (চালের জাউ), চটকানো ফল বা সবজি | $৩$ থেকে $৬$ | |
| ওশেনিয়া | পাপুয়া নিউ গিনি | চটকানো পেঁপে, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া, কলা | $৬$ থেকে $১২$ | পানি, সবজির ব্রথ এবং ছিলে রাখা আখ দেওয়া হয়। |
| ওশেনিয়া | সলোমন দ্বীপপুঞ্জ | আগে চিবানো তড়ো অথবা নারিকেল দুধে রান্না করা মিষ্টি আলু | $০$ থেকে $৯$ | মায়েরা খাবার চিবিয়ে মুখ থেকে মুখে শিশুকে খাওয়ান। |
| ওশেনিয়া | ট্রোব্রিয়ান্ড দ্বীপপুঞ্জ | স্যুপ, এরপর চটকানো বা আগে চিবানো কচু বা আলু | $১$ | |
| উত্তর আমেরিকা | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র | শিশুর সিরিয়াল, পরবর্তীতে পিউরি করা ফল বা সবজি | $২$ থেকে $৬$ | সিরিয়াল ফর্মুলার সাথে মিশিয়ে বোতলে বা চামচে দেওয়া হয়। |
বাজার পরিস্থিতি
[সম্পাদনা]জিয়ন মার্কেট রিসার্চ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিশুর খাবারের বাজারের আকার ছিল প্রায় $৫৩$ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২১ সাল নাগাদ তা $৭৬$ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হয়েছিল।[২৯]
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক শিশুর খাবারের বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে আছে গারবার, ১৯৯৬ সালে দেশটির মোট বাজারের প্রায় $৭০\%$ তাদের দখলে ছিল। বিচ-নাট এর দখলে ছিল প্রায় $১৫\%$ এবং হেইঞ্জ এর দখলে ছিল প্রায় $১০\%$। হেইঞ্জ-এর মালিকানাধীন 'আর্থ'স বেস্ট' (Earth's Best), যা অর্গানিক বা জৈব শিশু খাদ্যের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড, তার বাজারের অংশীদারিত্ব ছিল প্রায় $২\%$।
অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ডে ১৯৯৬ সালে বাজারের প্রায় $৯০\%$ অংশীদারিত্ব ছিল হেইঞ্জ-এর দখলে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ইতালি এবং পূর্ব ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে হেইঞ্জ বাজারের শীর্ষস্থানে রয়েছে।
বিতর্কসমূহ
[সম্পাদনা]কিছু বাণিজ্যিক শিশুর খাবারের উপাদান এবং উচ্চ মূল্যের কারণে সেগুলো সমালোচিত হয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে দূষণ বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকবার বাজার থেকে শিশুর খাবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ১৯৮৪ এবং ১৯৮৬ সালে গারবার একটি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছিল যেখানে পরিবহনের সময় তাদের কাঁচের জার ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল; এটি তাদের বিক্রয় এবং মুনাফায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তবে পরবর্তীতে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে এতে কোম্পানির কোনো দোষ ছিল না। ১৯৮৭ সালে বিচ-নাট ভেজাল আপেলের রস বিক্রির অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য $২৫$ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা প্রদান করে। ২০১১ সালে নেসলে ফ্রান্স সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে 'পি'তিত পট' (P'tit pot) বেবি ফুডের একটি ব্যাচ বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়, কারণ একজন গ্রাহক তাদের একটি জারে কাঁচের টুকরো পাওয়ার দাবি করেছিলেন।
কীটনাশক
[সম্পাদনা]মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা আইনত বাধ্য কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ যেন শিশু ও বাচ্চাদের ক্ষতি না করে তা নিশ্চিত করতে। এনভায়রনমেন্টাল ওয়ার্কিং গ্রুপ-এর ২০২৩ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দোকানে বিক্রি হওয়া সাধারণ শিশুর খাবারের প্রায় $৪০\%$ বিষাক্ত কীটনাশক ধারণ করে। এই খাবারগুলোতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে 'অ্যাসিটামিপ্রিড', যা মানুষ এবং মৌমাছির জন্য ক্ষতিকর এবং 'ক্যাপটান', যা ক্যান্সারের সাথে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়। তবে একই গবেষণায় দেখা গেছে যে, পরীক্ষিত অর্গানিক বা জৈব শিশুর খাবারগুলোর কোনোটিতেই কীটনাশক পাওয়া যায়নি।[৩০]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 "৬-২৩ মাস বয়সী শিশু এবং ছোট বাচ্চাদের পরিপূরক খাওয়ানোর জন্য ডব্লিউএইচও নির্দেশিকা"। www.who.int (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২৩।
- ↑ "শিশু এবং ছোট বাচ্চাদের খাওয়ানো"। www.who.int (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২৩।
- ↑ "আপনার শিশুকে খাওয়ানো: ৬-১২ মাস"। www.unicef.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২৩।
- ↑ Fioravanti, Miriam; Di Giorgio, Gianni; Amato, Roberta; Bossù, Maurizio; Luzzi, Valeria; Ierardo, Gaetano; Polimeni, Antonella; Vozza, Iole (১০ মে ২০২২)। "শিশুর খাবার এবং মৌখিক স্বাস্থ্য: বিদ্যমান মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞান"। International Journal of Environmental Research and Public Health। ১৯ (10): ৫৭৯৯। ডিওআই:10.3390/ijerph19105799। আইএসএসএন 1660-4601। পিএমসি 9140504। পিএমআইডি 35627333।
- 1 2 Pollard, Maria (২৯ আগস্ট ২০২৩)। স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য প্রমাণ-ভিত্তিক যত্ন: ধাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের জন্য একটি রিসোর্স (ইংরেজি ভাষায়)। Taylor & Francis। আইএসবিএন ৯৭৮-১-০০০-৯২৭৪০-৫।
- ↑ Ho, Dr Vincent (৭ জুন ২০২২)। সুস্থ শিশুর পেটের নির্দেশিকা: প্রথম দিন থেকেই অ্যালার্জি প্রতিরোধ করুন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করুন এবং মাইক্রোবায়োম স্বাস্থ্য শক্তিশালী করুন (ইংরেজি ভাষায়)। Greystone Books Ltd। পৃ. ২৭। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৭৭১৬৪-৮৮৬-৮।
- 1 2 Langley-Evans, Simon (৮ নভেম্বর ২০২১)। পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং রোগ: একটি জীবনব্যাপী পদ্ধতি (ইংরেজি ভাষায়)। John Wiley & Sons। পৃ. ১৯৯। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১১৯-৭১৭৫১-৫।
- ↑ American Academy Of Pediatrics (২২ সেপ্টেম্বর ২০২০)। আপনার শিশুর প্রথম বছর: পঞ্চম সংস্করণ (ইংরেজি ভাষায়)। Random House Publishing Group। পৃ. ২৬২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫৯৩-১৫৮২৮-৯।
- 1 2 "শক্ত খাবারে রূপান্তর"। canada.gc.ca। ৭ জুন ২০০৮। ৭ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০১১।
- ↑ "অস্ট্রেলিয়ান ব্রেস্টফিডিং অ্যাসোসিয়েশন"। ২৬ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০২১।
- ↑ Branch, Legislative Services। "কানাডার সংহত ফেডারেল আইন, খাদ্য ও ওষুধ প্রবিধান"। laws.justice.gc.ca (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১৭।
- ↑ CDC (২৪ আগস্ট ২০২১)। "কখন, কী এবং কীভাবে শক্ত খাবার শুরু করবেন"। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
- ↑ Arikpo, Dachi; Edet, Ededet Sewanu; Chibuzor, Moriam T.; Odey, Friday; Caldwell, Deborah M. (১৮ মে ২০১৮)। "২৪ মাস বা তার কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রাথমিক যত্নশীলের পরিপূরক খাওয়ানোর অভ্যাস উন্নত করার জন্য শিক্ষামূলক হস্তক্ষেপ"। The Cochrane Database of Systematic Reviews। ২০১৮ (5) CD011768। ডিওআই:10.1002/14651858.CD011768.pub2। আইএসএসএন 1469-493X। পিএমসি 6494551। পিএমআইডি 29775501।
- ↑ Stephen A, Alles M, de Graaf C, এবং অন্যান্য (জুলাই ২০১২)। "শিশু এবং টডলারদের খাদ্যতালিকায় হজমযোগ্য কার্বোহাইড্রেটের ভূমিকা এবং প্রয়োজনীয়তা"। Eur J Clin Nutr। ৬৬ (7): ৭৬৫–৭৯। ডিওআই:10.1038/ejcn.2012.27। পিএমসি 3390559। পিএমআইডি 22473042।
- 1 2 3 4 Butte NF, Fox MK, Briefel RR (ডিসেম্বর ২০১০)। "মার্কিন শিশু, টডলার এবং প্রিস্কুলারদের পুষ্টি গ্রহণ ডায়েটারি রেফারেন্স ইনটেক পূরণ করে বা অতিক্রম করে"। J Am Diet Assoc। ১১০ (12 Suppl): S২৭–৩৭। ডিওআই:10.1016/j.jada.2010.09.004। পিএমআইডি 21092766।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}:|display-authors=এর 5 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য); অবৈধ|display-authors=etal(সাহায্য) - 1 2 3 Samour, Patricia; King, Kathy (৭ জানুয়ারি ২০১১)। পেডিয়াট্রিক নিউট্রিশন। Jones & Bartlett Publishers। পৃ. ৯২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৬৩৭-৮৪৫০-৮। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১৩।
- ↑ Carruth BR, Ziegler PJ, Gordon A, Barr SI (January 2004 )। "শিশু ও টডলারদের মধ্যে খাবারে বাছবিচার করা এবং নতুন খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে যত্নশীলদের সিদ্ধান্তের প্রকোপ"। J Am Diet Assoc। ১০৪ (1 Suppl 1): s৫৭–৬৪। ডিওআই:10.1016/j.jada.2003.10.024। পিএমআইডি 14702019।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}:|date=এর 13 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য);|date=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ Wright CM, Parkinson KN, Shipton D, Drewett RF (October 2007 )। "টডলারদের খাওয়ার সমস্যাগুলো কীভাবে তাদের আচরণ, খাদ্যের পছন্দ এবং বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত?"। Pediatrics। ১২০ (4): e১০৬৯–৭৫। ডিওআই:10.1542/peds.2006-2961। পিএমআইডি 17908727। এস২সিআইডি 24743739।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}:|date=এর 13 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য);|date=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ Scaglioni S, Arrizza C, Vecchi F, Tedeschi S (December 2011 )। "শিশুদের খাওয়ার আচরণের নির্ধারকসমূহ"। Am. J. Clin. Nutr.। ৯৪ (6 Suppl): ২০০৬S – ২০১১S। ডিওআই:10.3945/ajcn.110.001685। পিএমআইডি 22089441।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}:|date=এর 14 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য);|date=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ "ব্রাইট ফিউচারস হেলথ প্রমোশন থিমস", Bright Futures Pocket Guide, 4th Ed, American Academy of Pediatrics, পৃ. ৬, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ডিওআই:10.1542/9781610020831-themes, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬১০০২-০৮৩-১, এস২সিআইডি 243881713
- ↑ Mienella, Julie A.; Beauchamp, Gary K. (২০১০)। "স্বাদ গ্রহণ ও আনন্দের ক্ষেত্রে জীবনের প্রাথমিক অভিজ্ঞতার ভূমিকা"। Laurette Dube; Antoine Bechara; Alain Dagher; Adam Drewnowski; Jordan LeBel; Philip James; Rickey Y. Yada (সম্পাদকগণ)। স্থূলতা প্রতিরোধ: ব্যক্তিগত আচরণের ওপর মস্তিষ্ক এবং সমাজের ভূমিকা (1st সংস্করণ)। Amsterdam: Elsevier/Academic Press। পৃ. ২১১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-০৮-০৯২২০৯-৬।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 Siega-Riz AM, Deming DM, Reidy KC, Fox MK, Condon E, Briefel RR (ডিসেম্বর ২০১০)। "শিশু এবং টডলারদের খাদ্য গ্রহণের ধরণ: আমরা এখন কোথায়?"। J Am Diet Assoc। ১১০ (12): S৩৮–৫১। ডিওআই:10.1016/j.jada.2010.09.001। পিএমআইডি 21092767।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "আমাদের ভবিষ্যতের পুষ্টি: পুষ্টিকর খাবারের জন্য অভিভাবকদের নির্দেশিকা"। aunty.sg (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ মে ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মে ২০২৪।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ Pelto, Gretel H.; Levitt, Emily; Thairu, Lucy (জানুয়ারি ২০০৩)। "খাওয়ানোর অভ্যাস উন্নয়ন: বর্তমান ধরণ, সাধারণ প্রতিবন্ধকতা এবং হস্তক্ষেপের নকশা"। Food and Nutrition Bulletin (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ (1): ৪৫–৮২। ডিওআই:10.1177/156482650302400104। আইএসএসএন 0379-5721। পিএমআইডি 12664527। এস২সিআইডি 10940283।
- ↑ Bentley, Amy (২০০৬)। "বুমিং বেবি ফুড: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী আমেরিকায় শিশুর খাবার এবং খাওয়ানো" (পিডিএফ)। Michigan Historical Review। ৩২ (2): ৬৩–৮৭। ডিওআই:10.1353/mhr.2006.0026। এস২সিআইডি 148617654। ৬ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১২।
- ↑ Holmes, Wendy; Hoy, D; Lockley, A; Thammavongxay, K; Bounnaphol, S; Xeuatvongsa, A; Toole, M (২০০৭), "উত্তর লাও পিডিআর-এর উচ্চভূমিতে মা ও শিশুর পুষ্টির ওপর প্রভাব", Asia Pac J Clin Nutr, ১৬ (3): ৫৩৭–৫৪৫, পিএমআইডি 17704036
- ↑ Bentley, Amy (২০১৪)। ইনভেন্টিং বেবি ফুড: স্বাদ, স্বাস্থ্য এবং আমেরিকান খাদ্যের শিল্পায়ন। University of California Press। পৃ. Chapter ২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-২৮৩৪৫-৯।
- ↑ Pelto, Gretel H.; Levitt, Emily; Thairu, Lucy (১ মার্চ ২০০৩)। "খাওয়ানোর অভ্যাস উন্নয়ন: বর্তমান ধরণ, সাধারণ প্রতিবন্ধকতা এবং হস্তক্ষেপের নকশা"। Food and Nutrition Bulletin। ২৪ (1): ৪৫–৮২। ডিওআই:10.1177/156482650302400104। আইএসএসএন 0379-5721। পিএমআইডি 12664527। এস২সিআইডি 10940283।
- ↑ Hirsch, Jesse (১৬ আগস্ট ২০১৮)। "শিশুর খাবারে ভারী ধাতু: আপনার যা জানা দরকার"। Consumer Reports। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০১৮।
- ↑ Perkins, Tom (২৩ নভেম্বর ২০২৩)। "মার্কিন গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৪০% সাধারণ শিশুর খাবারে বিষাক্ত কীটনাশক রয়েছে"। The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]৬ থেকে ২৪ মাস বয়সীদের খাবার ও পানীয়
কখন, কী এবং কীভাবে শক্ত খাবার শুরু করবেন
শিশু ও টডলারদের খাবারের পরিকল্পনা
অন্যান্য
[সম্পাদনা]শক্ত খাবার প্রবর্তন: আপনার যা জানা দরকার — মেয়ো ক্লিনিক থেকে।