বিষয়বস্তুতে চলুন

শিলাশিলা আচার্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শিলাশিলা আচার্য
জন্ম
জাতীয়তানেপালি
শিক্ষাকাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়
পরিচিতির কারণরিসাইক্লিং, ক্যাম্পেইন

শিলাশিলা আচার্য একজন নেপালি পরিবেশ বিজ্ঞানী যিনি নেপালের প্লাস্টিক রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহার বৃদ্ধির সফল প্রচারাভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি তাঁর দেশে প্লাস্টিকের ব্যাগের ব্যবহার কমিয়েছেন এবং হিমালয় ভ্রমণে আসা পর্বতারোহীদের ফেলে যাওয়া বর্জ্য উদ্ধার করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি বিবিসির ১০০ জন অনুপ্রেরণাদায়ী নারীর তালিকায় স্থান পান।

আচার্য নেপালের বাগলুংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যখন একটি মূল্যবান এমবিবিএস স্কলারশিপ পান, তখন তাঁর পরিবার অবাক হয়েছিল কারণ এটি তাকে একজন সার্জন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারত। কিন্তু তিনি তাঁর পরিবারকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, তিনি পরিবেশ বিজ্ঞান পড়তে বেশি আগ্রহী, যদিও আর্থিক দিক থেকে তা খুব একটা লাভজনক ছিল না। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ তাকে নিজেই বহন করতে হয়েছিল কারণ পরিবেশ বিজ্ঞানের জন্য কোনো স্কলারশিপ ছিল না। স্নাতক শেষ করার পর তিনি নেপাল এবং নরওয়ে সরকারের স্কলারশিপ নিয়ে নরওয়েতে পড়তে যান। তিনি ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বার্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন[১] এবং একটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।[২] তাঁর প্রথম দিকের একটি প্রচারাভিযান ছিল নেপালের একটি মহাসড়কের পাশে গাছ লাগানো।[৩] ২০১৪ সালে তিনি হিমালয়ান ক্লাইমেট ইনিশিয়েটিভে যোগদান করেন। এই সংস্থাটি নেপালে প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করে।[৩] যদিও এটি তাদের প্রাথমিক ধারণা ছিল না। তাঁর দল চেয়েছিল বিদেশ পাচার হওয়া মেয়েদের সংখ্যা কমাতে। তাঁর দল একটি বৃহৎ সুপারমার্কেট চেইন ভাট-ভাটেনি সুপারমার্কেটের সাথে অংশীদারিত্ব করে ডিসপোজেবল প্লাস্টিক ব্যাগের পরিবর্তে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেয়। কাপড়ের ব্যাগগুলো খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। মানুষ সেগুলো কিনলেও ব্যবহার করত না। তখন এই দলকে মানুষকে প্রভাবিত করার জন্য নতুন কোনো উপায় খুঁজতে হয়েছিল।[৪] তাদের নতুন প্রচারণার স্লোগান ছিল "না ধন্যবাদ, আমি নিজের ব্যাগ নিজেই বহন করি" এবং এটি মানুষের আচরণের পরিবর্তন আনে। এর ফলশ্রুতিতে নেপালি সরকার কাঠমান্ডুতে প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে।[৫] ২০১৮ সালে নেপালের ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (WWF) তাদের ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করে এবং তাদের সংরক্ষণ পুরস্কারগুলো পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। হিমালয়ান ক্লাইমেট ইনিশিয়েটিভের সিইও হিসেবে তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আচার্য অন্যতম পুরস্কার লাভ করেন।[৬] ২০১৯ সালে তিনি হিমালয়ে আগত পর্বতারোহীদের ফেলে যাওয়া বিপুল পরিমাণ বর্জ্য কমানোর একটি প্রচারাভিযানে জড়িত হন। তাঁর এই অভিযানের ফলে প্রায় ১২০ টন বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়।[৫] ২০২৪ সালে তিনি বিবিসির ১০০ জন অনুপ্রেরণাদায়ী নারীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য নির্বাচিত হন।[৭]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ of 2024, Ganesh Khatiwada :: Silsila Acharya Named Among BBC's 100 Influential Women। "Silsila Acharya Named Among BBC's 100 Influential Women of 2024"। ecospherenews। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০২৪।{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  2. ↑ "Shilshila Acharya – Avni" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০২৪।
  3. 1 2 Rich, Carrie; Fealk, Dean (১০ মে ২০২২)। Impact the World: Live Your Values and Drive Change As a Citizen Statesperson (ইংরেজি ভাষায়)। John Wiley & Sons। পৃ. ১০৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১১৯-৮৪৮৯১-২।
  4. ↑ "Beating Plastic Pollution with Shilshila Acharya"। www.wwfnepal.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০২৪।
  5. 1 2 "Climate Pioneer Shilshila Acharya listed among BBC 100 Women 2024"। kathmandupost.com (English ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০২৪।{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  6. ↑ "CONSERVATION AWARDS 2018" (পিডিএফ)। WWF Nepal। ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০২৪।
  7. ↑ "BBC 100 Women 2024: Who is on the list this year? - BBC News"। News (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০২৪।