শিরেশিং পাখি
| শিরেশিং পাখি | |
|---|---|
| দক্ষিণের শিরেশিং, উত্তরের শিরেশিং, বামন শিরেশিং (বাম থেকে ডানে) | |
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | |
| জগৎ: | প্রাণীজগৎ |
| পর্ব: | কর্ডাটা |
| শ্রেণী: | পক্ষী |
| অধঃশ্রেণী: | পালিওগনাথি |
| বর্গ: | ক্যাসুয়ারিফর্মিস |
| পরিবার: | ক্যাসুয়ারিডি |
| গণ: | Casuarius* |
| প্রজাতি | |
| |
| শিরেশিং এর বিস্তৃতি | |
শিরেশিং পাখি বা ক্যাসোয়ারি (ইন্দোনেশীয় ভাষায়: কাসুয়ারি; পাপুয়ান ভাষায়: কাসু ওয়েরি - অর্থ 'শিংওয়ালা মাথা') হলো একধরনের উড়তে না পারা পাখি। এরা Casuarius নামের গণে এবং Casuariiformes নামের বর্গে পড়ে। এদের শরীরে বুকের হাড়ে কোনো 'keel' নেই, তাই এরা উড়তে পারে না। Keel হলো পাখির বুকের হাড়ের নিচের দিকের উঁচু অংশ, যেখানে উড়ার জন্য শক্তিশালী পেশি জোড়া লাগে। এ পাখির সবচেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো এদের সবগুলো প্রজাতির মাথার উপর শিং-এর মতো শক্ত খোল[১] থাকে, তাই বাংলা ভাষায় এদেরকে শিরেশিং(শির বা মাথায় শিং) পাখি বলা যায়।
শিরেশিং পাখিরা মূলত নিউ গিনি দ্বীপ (পশ্চিম নিউ গিনি ও পাপুয়া নিউ গিনি), মালুকু দ্বীপপুঞ্জ (সেরাম ও আরু দ্বীপ), এবং উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্যে বসবাস করে।[২]
বর্তমানে শিরেশিং পাখির তিনটি প্রজাতি টিকে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সহজলভ্য হলো দক্ষিণের শিরেশিং পাখি,[৩] যেটি পৃথিবীর সকল জীবিত পাখিদের মধ্যে উচ্চতায় তৃতীয় এবং ওজনে দ্বিতীয় (শুধু উটপাখি ও এমুর চেয়ে ছোট)। অন্য দুটি প্রজাতি হলো উত্তরের শিরেশিং পাখি ও বামন শিরেশিং পাখি। এর মধ্যে উত্তরের শিরেশিং পাখি হলো সবচেয়ে নতুন আবিষ্কৃত ও সবচেয়ে বিপন্ন।[৪] আর একটি বিলুপ্ত প্রজাতির নাম পিগমি শিরেশিং পাখি।
এই পাখিরা সাধারণত মানুষকে এড়িয়ে চলে, কিন্তু বিরক্ত করলে এরা ভয়ংকরভাবে আঘাত করতে পারে, এমনকি মানুষ মারতেও পারে। এদের আক্রমণে কুকুর বা মানুষ আহত বা নিহত হতে পারে। অনেক সময় একে “বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক পাখি” বলা হয়, যদিও বাস্তবে উটপাখির আক্রমণে প্রতিবছর দক্ষিণ আফ্রিকায় ২–৩ জন মানুষ মারা যায়, যা সংখ্যায় এর তুলনায় বেশি।[৫]
বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস ও বিবর্তন
[সম্পাদনা]Casuarius গণটি প্রথম প্রস্তাব করেন ফরাসি বিজ্ঞানী মথুরিন জ্যাক ব্রিসঁ ১৭৬০ সালে তাঁর Ornithologie গ্রন্থে।[৬] এই গণের আদর্শ প্রজাতি হলো দক্ষিণের শিরেশিং (Casuarius casuarius)।[৭] সুইডিশ প্রকৃতিবিদ কার্ল লিনিয়াস ১৭৪৮ সালে তাঁর সিস্টেমা ন্যাচারাই বইয়ের ৬ষ্ঠ সংস্করণে এই নামটি দিয়েছিলেন, কিন্তু ১৭৫৮ সালের গুরুত্বপূর্ণ ১০ম সংস্করণে তিনি এই গণ বাদ দিয়ে দক্ষিণের শিরেশিংকে উটপাখি ও গ্রেটার রিয়ার সঙ্গে Struthio গণে রেখেছিলেন।[৮]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Naish, Darren; Perron, Richard (১৮ মে ২০১৬)। "Structure and function of the cassowary's casque and its implications for cassowary history, biology and evolution"। Historical Biology (ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ (4): ৫০৭–৫১৮। ডিওআই:10.1080/08912963.2014.985669। আইএসএসএন 0891-2963।
- ↑ Clements, James F., সম্পাদক (২০০৭)। The Clements checklist of birds of the world: the official world checklist of the American Birding Association (6. ed সংস্করণ)। Ithaca, NJ: Cornell Univ. Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০১৪-৪৫০১-৯।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|edition=-এ অতিরিক্ত লেখা রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Owen, Megan A; Glikman, Jenny Anne (২০২১)। "Wildlife Trade in 2021: Still start with the consumer"। Asian Journal of Conservation Biology: ১–২। ডিওআই:10.53562/ajcb.neae1423। আইএসএসএন 2278-7666।
- ↑ Owen, Megan A; Glikman, Jenny Anne (২০২১)। "Wildlife Trade in 2021: Still start with the consumer"। Asian Journal of Conservation Biology: ১–২। ডিওআই:10.53562/ajcb.neae1423। আইএসএসএন 2278-7666।
- ↑ Usurelu, Sergiu; Bettencourt, Vanessa; Melo, Gina। "Abdominal trauma by ostrich"। Annals of Medicine & Surgery (ইংরেজি ভাষায়)। ৪ (1): ৪১–৪৩। ডিওআই:10.1016/j.amsu.2014.12.004। আইএসএসএন 2049-0801।
- ↑ Brisson, Mathurin-Jacques; Dwight, Jonathan; Laetvaerennydt; Martinet, François Nicolas; Tucker, Marcia Brady; Vaernewyck (১৭৬০)। Ornithologie, ou, Méthode contenant la division des oiseaux en ordres, sections, genres, especes & leurs variétés : a laquelle on a joint une description exacte de chaque espece, avec les citations des auteurs qui en ont traité, les noms quils leur ont donnés, ceux que leur ont donnés les différentes nations, & les। Parisiis :: Ad Ripam Augustinorum, apud Cl. Joannem-Baptistam Bauche, bibliopolam, ad Insigne S. Genovesae, & S. Joannis in Deserto,।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অতিরিক্ত বিরামচিহ্ন (লিঙ্ক) - ↑ Cottrell, G. William; Greenway, James C.; Mayr, Ernst; Paynter, Raymond A.; Peters, James Lee; Traylor, Melvin A. (১৯৩১)। Check-list of birds of the world। Cambridge: Harvard University Press।
- ↑ Linné, Carl von (১৭৬৭)। Systema naturae per regna tria naturae, secundum classes, ordines, genera, species, cum characteribus, differentiis, synonymis, locis /। Vindobonae :: Typis Ioannis Thomae von Trattner,।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অতিরিক্ত বিরামচিহ্ন (লিঙ্ক)