বিষয়বস্তুতে চলুন

শাহ ইবন মিকাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শাহ ইবন মিকাল
شاه بن ميكال
আনুগত্যআব্বাসীয় খিলাফত
কার্যকালআনু.৮৬৩ –৮৮০
পদমর্যাদাকমান্ডার
যুদ্ধ/সংগ্রাম
সন্তানমুহাম্মাদ ইবনে শাহ ইবনে মিকাল

শাহ ইবনে মিকাল বা আল-শাহ ইবনে মিকাল ছিলেন মিকালি পরিবারের একজন ইরানি অভিজাত ব্যক্তি, যিনি খোরাসানের গভর্নর আবদুল্লাহ ইবনে তাহিরের সামরিক কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে শেষ জীবনে তিনি সরাসরি আব্বাসীয় খলিফাদের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন।

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

তিনি ছিলেন মিকাল নামক এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পুত্র। মিকাল মূলত ইরাকি বংশোদ্ভূত ছিলেন; কিন্তু পরবর্তীতে সেখান থেকে চলে গিয়ে তিনি খুরাসানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। মিকালের বংশপরিচয় অত্যন্ত গৌরবময় ছিল। তাঁর বংশধারা প্রাচীন সগদীয় শাসক দিভাশতিচের সাথে গিয়ে মেলে।[] এই কারণে শাহ এমন একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে রাজনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা উভয়ই সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল। শাহের একজন ভাইও ছিল, যার নাম ছিল মুহাম্মদ ইবনে মিকাল। তাঁর কর্মজীবনের প্রারম্ভিক পর্যায়ে শাহ প তাঁর ভাই দুজনেই আবদুল্লাহ ইবন তাহির আল-খুরাসানির অধীনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যিনি তাহিরীয় শাসনামলে খুরাসানের গভর্নর ছিলেন। তখন তারা প্রশাসনিক ও সামরিক ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণিত করেন এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। ৮৬৪/৮৬৫ সালের শাহের ভাই মুহাম্মদ এক যুদ্ধে নিহত হন। এই যুদ্ধটি রায় নগরীর নিকটে সংঘটিত হয়। তবে ভাইয়ের মৃত্যু শাহের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয়।[]

এর কিছুদিন পরেই আব্বাসীয় খিলাফতের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী খলিফা আল-মুস্তাঈন ও আল-মু'তাজ্জের মধ্যে আব্বাসীয় গৃহযুদ্ধ (৮৬৫–৮৬৬) শুরু হয়। এই সংঘর্ষে শাহ অধিকাংশ ইরানি ও আরব গোষ্ঠীর মতো খলিফা আল-মুস্তাঈনের পক্ষ অবলম্বন করেন, যেখানে তুর্কি সামরিক কর্মকর্তাদের অধিকাংশই আল-মু'তাজ্জের পক্ষে অবস্থান নেয়। ৮৬৫ সালের ২০ মার্চ শাহ দুই সামরিক কর্মকর্তা বুন্দর তাবারি ও খালিদ ইবনে ইমরানকে সঙ্গে নিয়ে বাগদাদের নিকটে তুর্কি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। কিন্তু এই যুদ্ধে তারা পরাজিত হন এবং পিছু হটতে বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত গৃহযুদ্ধে আল-মু'তাজ্জ বিজয়ী হন। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় শাহ ও আল-মুস্তাঈনের অন্য সমর্থকরা সফলভাবে তাদের আনুগত্য পরিবর্তন করে আল-মু'তাজ্জের পক্ষে যোগ দেন, যা তাদের পরবর্তী জীবনে টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।[]

৮৭০ সালে তাকে আলি ইবনে যায়দ আল-তালিবির বিদ্রোহ দমন করার জন্যে একটি বৃহৎ বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে প্রেরণ করা হয়। তিনি সফলভাবে এই বিদ্রোহ দমন করতে সক্ষম হন।[] পরবর্তীতে জাঞ্জ বিদ্রোহ চলাকালীন ৮৮০ খ্রিস্টাব্দে শাহকে অশ্বারোহী বাহিনীর একজন কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। জাঞ্জ বিদ্রোহ আব্বাসীয় খিলাফতের বিরুদ্ধে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ বিদ্রোহ ছিল।[]

এরপর শাহ সম্পর্কে তেমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। ধারণা করা হয়, তিনি নবম শতাব্দীর শেষভাগে মৃত্যুবরণ করেন।

পরিবার

[সম্পাদনা]

শাহের একজন পুত্র ছিল, যার নাম ছিল মুহাম্মদ ইবন শাহ। ৮৯২ সালে আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতাদিদ তাকে তার দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। শাহের একজন ভাতিজাও ছিল, যার নাম আবদুল্লাহ মিকালি। তিনি শাহের ভাই মুহাম্মদের একমাত্র ছেলে ছিলেন। []

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Bulliet 1984, পৃ. 764।
  2. 1 2 Al-Tabari 1985–2007, v. 35: p. 48।
  3. Al-Tabari 1985–2007, v. 36: p. 115।
  4. 1 2 Kennedy 2001, পৃ. 202।

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]
  • Kennedy, Hugh (২০০১)। The Armies of the Caliphs: Military and Society in the Early Islamic State.। New York: Routledge। আইএসবিএন ০-৪১৫-২৫০৯৩-৫
  • Al-Tabari, Abu Ja'far Muhammad ibn Jarir (১৯৮৫–২০০৭)। Ehsan Yar-Shater (সম্পাদক)। The History of Al-Ṭabarī.। খণ্ড ৪০ vols.। Albany, NY: State University of New York Press।
  • Bulliet, R. W. (১৯৮৪)। "ĀL-E MĪKĀL"। Encyclopaedia Iranica, Vol. I, Fasc. 7। পৃ. ৭৬৪। ১৯ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  • C.E., Bosworth (২০১২)। "Mīkālīs"। Encyclopaedia of Islam, 2nd Ed.। Leiden and New York: BRILL। আইএসবিএন ৯৭৮৯০০৪১৬১২১৪