শাহে আলমের সমাধি ও মসজিদ
| শাহ ই আলমের সমাধি ও মসজিদ | |
|---|---|
![]() ১৮৬০-এর দশকে সমাধিটি | |
| ধর্ম | |
| অন্তর্ভুক্তি | ইসলাম |
| যাজকীয় বা সাংগঠনিক অবস্থা | দরগাহ এবং মসজিদ |
| অবস্থা | সক্রিয় |
| অবস্থান | |
| অবস্থান | শাহ আলম, আহমেদাবাদ, গুজরাত |
| দেশ | ভারত |
আহমেদাবাদে সমাধি ও মসজিদের অবস্থান | |
| স্থানাঙ্ক | ২২°৫৯′৪০″ উত্তর ৭২°৩৫′২২″ পূর্ব / ২২.৯৯৪৫৪৫৬° উত্তর ৭২.৫৮৯৩১৯৯° পূর্ব |
| স্থাপত্য | |
| ধরন | ইসলামি স্থাপত্য |
| স্থাপত্য শৈলী | ইসলামি স্থাপত্য |
| অর্থায়নে |
|
| ভূমি খনন | ১৪৭৫ |
| সম্পূর্ণ হয় |
|
| বিনির্দেশ | |
| গম্বুজসমূহ | আনুমানিক ৫০টি (সম্ভবত আরও বেশি) |
| মিনার | ২টি |
শাহ ই আলমের সমাধি ও মসজিদ, যা রসুলবাদ দরগাহ বা শাহ আলম নো রোজো নামেও পরিচিত, হলো ভারতের গুজরাত রাজ্যের আহমেদাবাদের শাহ আলম এলাকায় অবস্থিত একটি দরগাহ এবং মসজিদ কমপ্লেক্স (রোজা)।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]শাহ ই আলম ছিলেন সৈয়দ বুরহানউদ্দিন কুতুব-উল-আলমের পুত্র এবং সৈয়দ মাখদুম জাহানিয়াঁ জাহানগশ্তের প্রপৌত্র। প্রথম আহমদ শাহের দরবারের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তার পিতা ভাতভা এলাকায় বসতি স্থাপন করেন এবং ১৪৫২ সালে সেখানেই মারা যান। শাহ ই আলম তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হন এবং ১৪৭৫ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মাহমুদ বেগাদার যৌবনকালের পথপ্রদর্শক এবং পরবর্তীতে আহমেদাবাদের সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় মুসলিম ধর্মীয় শিক্ষকদের একজন ছিলেন।[১][২][৩]
১৬৭০ সালে আওরঙ্গজেব এই রোজা এবং এর তত্ত্বাবধায়ক ভাতভার সৈয়দদের জন্য বেশ কিছু গ্রাম বরাদ্দ করেন। ১৭২৪ সালে ত্রম্বক রাও দাভাড়ে গায়কবাড়ও কিছু গ্রাম দান করেন। ১৮৬৭ সালে বোম্বেতে অবস্থিত ব্রিটিশ সরকার এই রোজার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করেছিল।[৪]
রোজা
[সম্পাদনা]শাহ ই আলমের পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি উঁচু ও বুরুজযুক্ত প্রাচীর দিয়ে ঘেরা একগুচ্ছ ভবন, একটি সমাধি, একটি মসজিদ এবং একটি সভা ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল।
উত্তর দিক থেকে দুটি সুদৃশ্য পাথরের তোরণ দিয়ে এই প্রাঙ্গণে প্রবেশ করা যায়। বাম দিকের দ্বিতীয় তোরণের ভেতরে সুলতান তৃতীয় মুজাফফর শাহ (১৫৬১–১৫৭২) কর্তৃক নির্মিত একটি সভা ঘর রয়েছে। এটি ১৭৭৯ সালে প্রথম ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের সময় শহর অবরোধের উপকরণ হিসেবে ব্যবহারের জন্য ব্রিটিশরা আংশিকভাবে ধ্বংস করেছিল। ডান দিকে আরও কিছু ভবন রয়েছে যার নির্মাণের তারিখ জানা যায়নি। এই ভবনগুলোর সামনে ডান দিকে একটি জলাধার রয়েছে এবং প্রাঙ্গণের মাঝখানে জলাধারের বাম দিকে শাহ ই আলমের সমাধি অবস্থিত। ভবনগুলোর মধ্যে এটিই প্রাচীনতম। বলা হয় যে এটি সাধুর মৃত্যুর পরপরই হিজরি ৮৮০ সালে নির্মাণ শুরু হয় এবং মাহমুদ বেগাদার দরবারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাজ খাঁ নরিয়ালি হিজরি ৮৮৮ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন।[৫]

A. সাধুর সমাধি
B. সভা ঘর (Assembly Hall)
C. ভেতরের তোরণ
D. বাইরের তোরণ
E. মসজিদ
F. অজুখানা
G. অন্যান্য ভবনসমূহ
এটি অত্যন্ত মনোরম নকশায় নির্মিত এবং এতে তৎকালীন ভবনগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে নূর জাহানের ভাই আসাফ খাঁ এর গম্বুজটিকে সোনা এবং মূল্যবান পাথর দিয়ে অলঙ্কৃত করেছিলেন। শাহ ই আলমের সমাধিটি রোজার পূর্ব প্রান্তের মোটামুটি কেন্দ্রে অবস্থিত। সমাধিটি একটি বর্গাকার নকশার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত যাতে ১২টি স্তম্ভ রয়েছে এবং ছাদের মাঝখানে একটি উঁচু গম্বুজ রয়েছে যা ২৪টি ছোট গম্বুজ বিশিষ্ট দুটি করিডোর দিয়ে ঘেরা। এর সব দিকে খিলান আকৃতির প্রবেশপথ রয়েছে। পশ্চিম দিকের প্রধান প্রবেশপথটিতে একটি ছোট গম্বুজ রয়েছে যা দেয়াল থেকে বাইরের দিকে প্রসারিত। সমাধিসৌধের প্রতিটি দেয়ালের মাঝখানে একটি করে প্রবেশপথ রয়েছে। প্রবেশপথের উভয় পাশে তিনটি করে খিলান আকৃতির জানালা রয়েছে, যার ওপরে ছিদ্রযুক্ত পাথরের জানালা দিয়ে ঢাকা একটি খিলানযুক্ত অংশ রয়েছে। সমাধির মেঝে সাদা ও কালো মার্বেল পাথর দিয়ে খচিত, দরজাগুলো পিতলের জালি কাজের এবং দরজার ফ্রেম ও স্তম্ভের মাঝের অংশগুলো সুন্দরভাবে খোদাই করা সাদা মার্বেল পাথরের তৈরি। সমাধিটি নিজেই ছিদ্রযুক্ত পাথরের একটি ভেতরের দেয়াল দিয়ে ঘেরা। উত্তর দিকের বাইরের দেয়ালটি বিভিন্ন নকশার পাথরের জালি কাজ দিয়ে তৈরি।[৬]
সমাধির পশ্চিম দিকে মসজিদটি অবস্থিত যা মুহাম্মদ সালাহ বাদাকশি নির্মাণ করেছিলেন। মসজিদের দুই প্রান্তের মিনারগুলোর কাজ নিজাবত খাঁ শুরু করেন এবং ১৬২০ সালে সাইফ খাঁ তা সম্পন্ন করেন। মসজিদটির অবয়ব মনোরম এবং এর গম্বুজগুলো নিপুণভাবে তৈরি হলেও এতে ভারতের অন্যান্য অংশে প্রচলিত সাধারণ ইসলামি স্থাপত্যের প্রভাব বেশি। এটি আহমেদাবাদের নিজস্ব নির্মাণশৈলী থেকে কিছুটা ভিন্ন। মসজিদের দক্ষিণে প্রধান সমাধিসৌধের মতোই ২৪টি ছোট গম্বুজ বিশিষ্ট একটি সমাধি রয়েছে যেখানে শাহ ই আলমের পরিবারের সদস্যরা সমাহিত আছেন। তাদের মধ্যে শাহ ই আলমের ষষ্ঠ প্রপৌত্র সৈয়দ মাখদুম আলমও রয়েছেন। পশ্চিম দেয়ালের বাইরে তাজ খাঁ নরিয়ালির স্ত্রী কর্তৃক নির্মিত একটি বিশাল জলাধার রয়েছে। ১৮১৯ সালের কচ্ছের রন ভূমিকম্পে মসজিদের মিনারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তবে ১৮৬৩ সালে সেগুলো সংস্কার করা হয়।[১][২][৩]
গ্যালারি
[সম্পাদনা]- ২০১৮ সালে সমাধির গম্বুজসমূহ
- সমাধি, সভা ঘর এবং প্রবেশপথ, ১৮৬৬
- সমাধির নকশা
- ১৮৬০-এর দশকে রোজার প্রবেশপথ
- মসজিদ
- মসজিদের অভ্যন্তরীণ দৃশ্য, ১৮৬৬
- ১৮৬০-এর দশকে শাহ ই আলমের সমাধি
- ১৮৬৬ সালে সমাধি
- রোজার কাছে অবস্থিত ছোট সমাধি
- দক্ষিণ দিক থেকে শাহ আলম মসজিদ
- শাহ ই আলম রোজার তোরণের অঙ্কিত চিত্র, ১৮৫৬
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Gazetteer of the Bombay Presidency: Ahmedabad। Government Central Press। ১৮৭৯। পৃ. ২৮৬।
- 1 2 "AHMEDABADS OTHER ROZAS"। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১। ৭ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০১৪।
- 1 2 Yagnik, Achyut (২ ফেব্রুয়ারি ২০১১)। Ahmedabad: From Royal city to Megacity। Penguin Books Limited। পৃ. ৩৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৮৪৭৫-৪৭৩-৫।
- ↑ Commissariat, M. S. (১৯৩৮)। A History of Gujarat: Including a Survey of its Chief Architectural Monuments and Inscriptions। খণ্ড I: From A.D. ১২৯৭-৮ to A.D. ১৫৭৩। Longmans, Green, and Co.। পৃ. ২১২–২১৪।
- ↑ Kapilray M. Mehta (১৯৫৯)। Ahmedabad, 1958। Gujarat Publishers। পৃ. ২২।
- ↑ Captain Lyon, 14. In this mausoleum is buried Shaikh Kabir, renowned for learning, who died in 1618 (1026 H.). Blochmann's Ain-i-Akbari, I. 547.
স্বীকৃতি
[সম্পাদনা]- এই নিবন্ধে Gazetteer of the Bombay Presidency: Ahmedabad। Government Central Press। ১৮৭৯। পৃ. ২৮৬। থেকে পাবলিক ডোমেইন টেক্সট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]
উইকিমিডিয়া কমন্সে শাহে আলমের সমাধি ও মসজিদ সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।
