শালিনী পাটিল
শালিনী পাটিল | |
|---|---|
| সংসদ সদস্য, লোকসভা | |
| কাজের মেয়াদ ১৯৮৩ — ১৯৮৪ | |
| পূর্বসূরী | বসন্তদাদা পাতিল |
| উত্তরসূরী | প্রকাশবাপু বসন্তদাদা পাতিল |
| নির্বাচনী এলাকা | সাঙ্গলি |
| মহারাষ্ট্র বিধানসভার সদস্য | |
| কাজের মেয়াদ ১৯৯৯ — ২০০৯ | |
| পূর্বসূরী | শঙ্কররাও জগতাপ |
| উত্তরসূরী | শশিকান্ত শিন্দে |
| নির্বাচনী এলাকা | কোরেগাঁও |
| কাজের মেয়াদ ১৯৮০ — ১৯৮৩ | |
| পূর্বসূরী | বসন্তদাদা পাতিল |
| উত্তরসূরী | বসন্তদাদা পাতিল |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ২৬ জুন ১৯৩১ |
| মৃত্যু | ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ (বয়স ৯৪) মুম্বাই, মহারাষ্ট্র, ভারত |
| রাজনৈতিক দল | আইএনসি |
| দাম্পত্য সঙ্গী | শ্যামরাও যাদব (১৯৬৪ সাল পর্যন্ত) বসন্তদাদা পাতিল |
| সন্তান | ৪ |
শালিনী পাটিল (জন্ম: শালিনী ফালকে, পরে শালিনী যাদব; ২৬ জুন ১৯৩১ - ২০ ডিসেম্বর ২০২৫)[১] একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ ছিলেন যিনি ১৯৮০-এর দশকে মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস সরকারে মন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। শালিনীর দ্বিতীয় বিবাহ হয়েছিল মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী বসন্তদাদা পাটিলের সাথে।[২]
প্রাথমিক এবং ব্যক্তিগত জীবন
[সম্পাদনা]শালিনী ১৯৩১ সালের ২৬শে জুন একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, তাঁর বাবা শুধু যে তাঁর ভালো শিক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন তাই নয়, বরং এমন একজনের সাথে তাঁর বিয়ে দেন যিনি বিয়ের পরে তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেবেন। অল্প বয়সে, শালিনীকে তাঁর নিজস্ব সম্প্রদায়ের এবং একই পটভূমির শ্যামরাও যাদবের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়, তাঁদের পরিবারের দ্বারা নির্ধারিত ভারতীয় রীতি অনুসারে। শালিনীর পড়াশোনা তাঁর স্বামীর পূর্ণ সমর্থনে অব্যাহত ছিল: শালিনী যাদব আইনে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং তাঁকে আইনবারে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়। তাঁদের চারটি সন্তান ছিল। শিক্ষা এবং রাজনৈতিক জীবন অনুসরণ করার সময়, তিনি তাঁর স্বামী এবং নিকটাত্মীয়দের সহায়তায় নিজের পারিবারিক দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন।
শালিনী যখন রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তখন তাঁর সন্তানরা খুব ছোট ছিল। তাঁর প্রথম জনসেবামূলক পদ ছিল সাতারা জেলা পরিষদের (কাউন্টি কাউন্সিল) সদস্য পদ। পরে, তিনি এমপিসিসির (মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি) মহিলা শাখার সভাপতি নিযুক্ত হন। কংগ্রেস দলের একজন কর্মী হিসেবেই তিনি তাঁর দ্বিতীয় দ্বিতীয় স্বামী বসন্তদাদা পাটিলের সংস্পর্শে আসেন।
১৯৬৪ সালে শ্যামরাও যাদব মারা যান এবং তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন পরেই শালিনী মারাঠি রাজনীতিবিদ বসন্তদাদা পাটিলকে বিয়ে করেন।[৩] এই সময়ে তাঁর বয়স ছিল মধ্য তিরিশে এবং তাঁর চারটি ছোট সন্তান ছিল। শালিনীর চেয়ে চোদ্দ বছরের বড় বসন্তদাদা একজন বিপত্নীক ছিলেন এবং তাঁর একটি পূর্ণবয়স্ক ছেলে ছিল। শালিনীর দ্বিতীয় বিবাহে কোনও সন্তান জন্মগ্রহণ করেনি।
রাজনৈতিক জীবন
[সম্পাদনা]১৯৮০-র দশকে শালিনী মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস সরকারে মন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।[৪] ১৯৮১ সালে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এ আর আন্তুলেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।[৫] বসন্তদাদা পাটিলকে বিয়ে করার পর শালিনী মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে ১৯৮০-র দশকে তিনি ভারতীয় সংসদে (লোকসভা) সাঙ্গলি নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মহারাষ্ট্র রাজ্য বিধানসভায় সাতারার কোরেগাঁও নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এর আগে তিনি ১৯৯০ এবং ১৯৯৫ সালে যথাক্রমে জনতা দলের হয়ে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।[৬]
১৯৭০-এর দশকে, শালিনী দরিদ্র ও নারী-সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য রাজমাতা জিজাউ প্রতিষ্ঠান নামে একটি দাতব্য সংস্থার প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্রদের সেবা প্রদানকারী হাসপাতালগুলির জন্য তহবিল সংগ্রহ করা। সরকার কর্তৃক ওই দাতব্য সংস্থাকে বিতর্কিতভাবে জমি প্রদান বা জমি ক্রয় করার বিষয়টি সংবাদ শিরোনামে এসেছিল।[৭] শালিনী বিশেষ করে মারাঠা সম্প্রদায়ের অধিকার সম্পর্কে তাঁর মনের কথা বলার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর কর্মজীবনে, তিনি নির্বাচিত সংস্থাগুলিতে মহিলাদের জন্য আরও আসনের জন্য প্রচারণা চালিয়েছেন।[৮] তিনি আইআইটি এবং আইআইএম-এর মতো কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ওবিসিদের জন্য ২৭.৫ শতাংশ সংরক্ষণ বৃদ্ধির জন্য ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেছেন। তাঁর তৎকালীন দল, শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি এই নীতিকে সমর্থন করায়, ২০০৬ সালে শালিনীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০০৯ সালে, তিনি ক্রান্তিসেনা মহারাষ্ট্র নামে একটি নতুন দল গঠন করেন। দলটি খুব কম সমর্থন পেয়েছিল এবং শীঘ্রই শালিনী কংগ্রেসে যোগ দেন।[৯]
মৃত্যু
[সম্পাদনা]২০২৫ সালের ২০শে ডিসেম্বর তারিখে, মুম্বাইয়ে, ৯৪ বছর বয়সে শালিনী মারা যান।[১০]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "आर्थिक निकषावरील आरक्षणाची बुलंद तोफ थंडावली; डॉ. शालिनीताई पाटील यांचे ९४ व्या वर्षी निधन"। Lokmat। ২০ ডিসেম্বর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ Deccan Herald (১৪ জুন ২০০৫)। "FROM PAGES OF HISTORY"। ৫ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ Pai, Aditi (৬ জানুয়ারি ২০০৯)। "New political party Krantisena Maharashtra launched"। India Today। India Today।
- ↑ Deccan Herald (১৪ জুন ২০০৫)। "FROM PAGES OF HISTORY"। ৫ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ Agtey-Athale, Gouri; Kuber, Girish (১১ নভেম্বর ২০০৮)। "Economic Times : Shalinitai's sugar mill on sale under Securitisation Act"। ১২ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "Sitting and previous MLAs from Koregaon Assembly Constituency"।
- ↑ Kapoor, Coomi; Singh, Chander Uday (৩১ মার্চ ১৯৮৪)। "Shalinitai Patil: The bettering half Shalinitai Patil: Aggressive, ambitious and not a person to be underestimated"। India Today।
- ↑ Zelliot, E (১৯৯৮)। Images of Women in Maharashtrian Society। State university of New York। পৃ. ২৭০। আইএসবিএন ০-৭৯১৪-৩৬৫৯-৪।
- ↑ Pai, Aditi (৬ জানুয়ারি ২০০৯)। "New political party Krantisena Maharashtra launched"। India Today। India Today।
- ↑ Deccan Herald (২০ ডিসেম্বর ২০২৫)। "Former Maharashtra Minister Shalinitai Patil passes away at 94"।
- মহারাষ্ট্র বিধানসভার সদস্য ২০০৪-২০০৯
- মহারাষ্ট্র বিধানসভার সদস্য ১৯৯৯-২০০৪
- মহারাষ্ট্র বিধানসভার সদস্য ১৯৮০-১৯৮৫
- ভারতের রাজ্য মন্ত্রিপরিষদের নারী মন্ত্রী
- ২০শ শতাব্দীর ভারতীয় নারী রাজনীতিবিদ
- মারাঠি রাজনীতিবিদ
- মহারাষ্ট্রের জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির রাজনীতিবিদ
- মহারাষ্ট্রের ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতিবিদ
- মহারাষ্ট্রের রাজ্য মন্ত্রিপরিষদের মন্ত্রী
- মহারাষ্ট্রের লোকসভা সদস্য
- সপ্তম লোকসভার সদস্য
- মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নারী
- ২০২৫-এ মৃত্যু
- ১৯৩১-এ জন্ম