বিষয়বস্তুতে চলুন

শান্তা বশিষ্ঠ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

শান্তা বশিষ্ঠ (জন্ম: আনুমানিক ১৯২৬[] ) একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ। ১৯৫০ এবং ১৯৬০ এর দশকে তিনি দিল্লি রাজ্য সরকারের মন্ত্রী এবং রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ছাত্র জীবন

[সম্পাদনা]

শান্তা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তাঁর বাবা এল ডি বশিষ্ঠ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[][][] ছাত্রাবস্থায় শান্তা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের দিল্লি শাখায় সক্রিয় ছিলেন এবং কিংসওয়ে শরণার্থী কমিটির সাথে কাজ করতেন।[] ১৯৫০ সালে তিনি কাপ্পা আলফা থিটা সংঘের বিদেশী ছাত্র বৃত্তির মাধ্যমে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকর্ম বিষয়ে পড়াশোনা করেন।[][]

দিল্লি বিধানসভা

[সম্পাদনা]

ভারতে ফিরে আসার পর, শান্তা ১৯৫২ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ফিরোজ শাহ কোটলা নির্বাচনী এলাকায় কংগ্রেস দলের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি ভারতীয় জন সংঘের ভি পি জোশীকে পরাজিত করে আসনটি জিতেছিলেন। শান্তা মোট ৪,৬৪৬ ভোট (নির্বাচনী এলাকার ৫৬.২৬%) পেয়েছিলেন।[] ১৯৫৩ সালে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী চৌধুরী ব্রহ্ম প্রকাশ তাঁকে দিল্লি রাজ্য সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন।[][] দিল্লির কংগ্রেস আইনসভা দলের অভ্যন্তরে একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী তাঁর মনোনয়নের সমালোচনা করেছিল, তারা প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিল যে মুখ্যমন্ত্রীর দলের বিধানসভা সদস্যদের সাথে পরামর্শ না করে উপমন্ত্রী মনোনীত করা উচিত ছিল না।[]

১৯৫৪ সালে দিল্লি লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশনের পুনরুজ্জীবনে শান্তা অংশগ্রহণ করেন এবং দীর্ঘতম সময় ধরে এই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[][]

রাজ্যসভা

[সম্পাদনা]

১৯৬০ সালে শান্তা রাজ্যসভায় (ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ) নির্বাচিত হন। জওহরলাল নেহেরু, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী এবং ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের অধীনে তাঁর মেয়াদ ১৯৬০ সালের ৩রা এপ্রিল থেকে ১৯৬৬ সালের ২রা এপ্রিল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।[১০][১১]

পরবর্তী সময়কাল

[সম্পাদনা]

২০০৮ সালে শান্তা নেহেরু টু ইরাক বইটি প্রকাশ করেন, যেখানে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অভিজ্ঞতার বিবরণ দেওয়া হয়েছে।[১২] ২০১৩ সালের খবর অনুযায়ী, শান্তা সর্বোদয় এনক্লেভে বসবাস করতেন।[]

অভিনেত্রী এবং প্রযোজক মিতা বশিষ্ঠ তাঁর পিসি শান্তা বশিষ্ঠের জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে ১৬ পৃষ্ঠার একটি জীবনীমূলক প্রবন্ধ লেখেন, যার নাম লেস দ্যান এ সেঞ্চুরি – মোর দ্যান এ লাইফ শান্তা বশিষ্ঠ: এ সোয়ান হু ওর খাদি[১৩] ইণ্ডিয়ান জার্নালে প্রকাশিত, এই লেখাটি ২৪৭-২৬২ পৃষ্ঠা জুড়ে বিস্তৃত এবং খাদি পরিধানের মাধ্যমে সেবায় নিবেদিতপ্রাণ শান্তার জীবনকে এখানে তুলে ধরা হয়েছে।[১৩]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 Chief Electoral Officer, Delhi. ELECTORAL ROLL 2013, STATE- (U05) DELHI ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৫ মার্চ ২০১৩ তারিখে
  2. 1 2 3 Woman Lawyer Plans Return to Native India, Pittsburgh Post-Gazette – 22 June 1950
  3. Ministry of Defence. List of erstwhile CAOs & Joint Secretary ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে
  4. Kappa Alpha Theta. 1946–1958
  5. Election Commission of India. STATISTICAL REPORT ON GENERAL ELECTION, 1951 TO THE LEGISLATIVE ASSEMBLY OF DELHI
  6. 1 2 Puri, Yogesh. Party Politics in the Nehru Era: A Study of Congress in Delhi. New Delhi, India: National Book Organisation, 1993. p. 102
  7. Teacher Education. PROCEEDINGS OF THE TWENTY FIRST MEETING ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে
  8. Library Herald, Vol. 7–9. Delhi Library Association., 1965. p. 87
  9. Ranganathan, Shiyali Ramamrita, and Prithvi Nath Kaula. A Librarian Looks Back: An Autobiography of Dr. S.R. Ranganathan. New Delhi: ABC Publ. House, 1992. p. 378
  10. The Telegraph. Disruption shame in House
  11. Delhi Pradesh Congress Committee. FORMER MEMBERS OF RAJYA SABHA FROM DELHI
  12. The Tribune. Requiem to a bygone era
  13. 1 2 "Less Than A Century – More Than A Life Shanta Vasisht: ASwan Who Wore Khadi"Library Herald। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬