শহীদ সিরাজ হ্রদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শহীদ সিরাজ হ্রদ

শহীদ সিরাজ হ্রদ বা শহীদ সিরাজ লেক ("নীলাদ্রি হ্রদ" বা "নীলাদ্রি লেক" নামেও পরিচিত) ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা বাংলাদেশের উপজেলা তাহিরপুরে অবস্থিত একটি হ্রদ।

সীমান্তবর্তী ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্পের পরিত্যক্ত এই খোয়ারীটি ১৯৪০ সালে চুনাপাথর সংগ্রহ শুরু করে। এখানে চুনাপাথর সংগ্রহ করে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় নির্মিত আসাম বাংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটানো হত। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যয় বৃদ্ধি দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় এর সকল কার্যক্রম।

পরে ১৯৬০ সালে সিমেন্ট ফ্যাক্টরী চালু রাখার জন্য চুনা পাথরের প্রয়োজনে ভূমি জরিপ চালিয়ে সীমান্তবর্তী ট্যাকেরঘাট এলাকায় ৩২৭ একর জায়গায় চুনাপাথরের সন্ধান পায় বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৬ সালে খনিজ পাথর প্রকল্পটি মাইনিংয়ের মাধ্যমে র্দীঘদিন পাথর উত্তোলন করা হয়। ১৯৯৬ সালে এই প্রকল্পটি একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোয়ারী থেকে চুনাপাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়।[১]

শহীদ সিরাজ হ্রদ

মুক্তিযুদ্ধের একজন শহীদ সিরাজুল ইসলামের নামানুসারে এই হ্রদের নামকরণ করা হয় শহীদ সিরাজ হ্রদ। মো. সিরাজুল ইসলাম ১৯৫২ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার ফিলনী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে স্নাতকে পড়াকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ঘর ছাড়েন সিরাজ। আসামের ইকো ওয়ান সেন্টারে প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ৫ নম্বর সেক্টরের বড়ছড়া সাব-সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

১৯৭১ সালের ৭ই আগস্ট সুনামগঞ্জের সাচনা বাজার এবং জামালগঞ্জ থানা থেকে পাকিস্তানীদের বিতাড়িত করার লক্ষ্যে আক্রমণ চালায় একদল মুক্তিযোদ্ধা। এই দলে ছিলেন সিরাজুল ইসলাম। পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে ব্যাপক গুলি শুরু করে। আকস্মিক এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধারা কিছুটা হকচকিত। তাঁরাও পাল্টা আক্রমণ শুরু করলেন। মুক্তিযোদ্ধারা চেষ্টা করছেন ক্রলিং করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু প্রবল গুলির কারণে তাঁরা সামনে এগোতে পারছেন না। এ অবস্থায় সিরাজুল ইসলাম ক্রলিং করে গ্রেনেড চার্জ করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় অপর দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি তার চোখ ভেদ করে চলে যায়। তিনি শহীদ হন।

সিরাজের জীবনের বিনিময়ে সেদিন সাচনা বাজার এবং জামালগঞ্জ পাকিস্তানি মুক্ত হয়েছিলো। স্বাধীনতার পর শহীদ সিরাজকে বীরবিক্রম উপাধিতে ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার।[২]

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এই সাব-সেক্টরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাহিত করা হয়। এঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জামালগঞ্জ-সাচনা যুদ্ধে শহীদ দাসপার্টির গেরিলা যোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম বীর বিক্রম। তাঁর স্মৃতিতে এই হ্রদের নামকরণ করা হয় শহীদ সিরাজ হ্রদ। হ্রদের পাশেই সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার কবরও সংরক্ষিত রয়েছে এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ স্মৃতি সংসদ গড়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "পর্যটকদের ডাকছে বাংলার কাশ্মীর খ্যাত শহীদ সিরাজ লেক"দৈনিক নয়া দিগন্ত। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০২০ 
  2. "নীলাদ্রি নয়, 'মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সিরাজ লেক'"। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০২০