বিষয়বস্তুতে চলুন

শহীদ আমান উল্যাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার ১২নং কুতুবপুর ইউনিয়ন, বেগমগঞ্জ আলাইয়ারপুর গ্রামের কাজির হাট অবস্থিত এবং এটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা অধীনে একটি বেসরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ।

শহীদ আমান উল্যাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়
School official Logo
বিদ্যালয় অফিশিয়াল লোগো
আলাইয়ারপুর কাজির হাট বেগমগঞ্জ নোয়াখালী
শহীদ আমান উল্যাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়
প্রাতিষ্ঠানিক লোগো
অবস্থান
আলাইয়ারপুর,

,
নোয়াখালী–৩৮৩১,

তথ্য
ধরনবেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়
নীতিবাক্যহে প্রভু! আমায় জ্ঞান দাও
প্রতিষ্ঠাকাল জানুয়ারি ১৯৪৮; ৭৮ বছর আগে (1948-01-01)
প্রতিষ্ঠাতাআলহাজ্ব কাজী আজহার উল্যাহ
অবস্থাসক্রিয়
বিদ্যালয় বোর্ডমাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা
বিদ্যালয় জেলানোয়াখালী জেলা
সেশনজানুয়ারি–ডিসেম্বর
বিদ্যালয় কোড১৩৩৮৩০
প্রধান শিক্ষককার্তিক লাল ভৌমিক
অনুষদবিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা
শিক্ষকমণ্ডলী২৩
কর্মচারী৭জন
শ্রেণি৬ষ্ঠ–১০ম
লিঙ্গছেলেমেয়ে উভয়
শিক্ষার্থী সংখ্যা১০০০ বেশি শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত আছে
ভাষাবাংলা
ক্যাম্পাসের ধরনগ্রাম
রং  
ডাকনামআলাইয়ারপুর কাজির হাট পাবলিক স্কুল
ওয়েবসাইটwww.sauphs.edu.bd/web/

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর গ্রামের দানবীর আলহাজ্ব কাজী আজহার উল্যাহ দানে সম্পত্তির উপর কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আজকের প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শহীদ আমান উল্যাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়।

১৯৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি প্রথম কাদামাটি দিয়ে প্রথম শহীদ মিনার তৈরি করা করা হয় এই স্কুল মাঠে, তাই মূলত নোয়াখালী জেলার প্রথম শহীদ মিনার স্থাপন হয় শহীদ আমান উল্যাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে ইট সিমেন্ট দিয়ে শহীদ মিনারটি স্থায়ী ভাবে স্থাপন করা হয়।

বিদ্যালয়টির সর্বপ্রথম ১৯৩৫ সালে প্রাচীন নাম ছিলো (এমই স্কুল) এবং ১৯৪৮ সালে নামকরণ করা হয়েছে (আলাইয়ারপুর কাজির হাট পাবলিক স্কুল) পরর্বতীতে ২০০৭ সালে নতুন করে স্থায়ী ভাবে নামকরণ করা হয় (শহীদ আমান উল্যাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়) স্থায়ীভাবে স্থাপিত ১৯৪৮ সালে।

এই বিদ্যালয় এর নাম শহীদ আমান উল্যাহ রাখার কারণ ১৯৭১ সালে অম্বরনগর গ্রামের এই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন মোহাম্মদ আমান উল্যাহ তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধে শহীন হয়েছিল, মূলত শহীদ আমান উল্যাহকে কে উৎসর্গ করে এই নামকরণ করেন ২০০৭ সালে।

শ্রেণি, বিভাগ ও শাখা সমূহ

[সম্পাদনা]

বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণিতে প্রতিটি ক্লাসে ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা করে ক্লাস রুম রয়েছে । সবগুলো শাখা দিবা []

ইউনিফর্ম

[সম্পাদনা]
  • ছেলেদের পোশাক রং সাদা শার্ট কালো প্যান্ট এবং মেয়েদের গাঢ় সবুজ জামা ও সাদা।

শিক্ষা কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়টি মূলত সংযুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে উভয় অধ্যায়নের সুযোগ থাকে। বিদ্যালয়টিতে মাধ্যমিক অংশে ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অধ্যায়ন করে।

ফলাফল

[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়ে পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পাশের হার ১০০%।[]

খেলাধুলা ও সহপাঠ্যকর্ম

[সম্পাদনা]

শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য একটি মাঠ রয়েছে, যা মূল ভবনের সামনেই অবস্থিত। মাঠটি বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আন্তঃশ্রেণী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনে ব্যবহৃত হয়।

School Field
বিদ্যালয় মাঠ


ল্যাবরেটরি

[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়নবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার, কৃষি ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য রয়েছে ল্যাব। এসব ল্যাবে বহু মূল্যবান যন্ত্রপাতি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক বিষয়ে জ্ঞান লাভের জন্য এসব উপকরণ ব্যবহৃত হয়।

গ্রন্থাগার

[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়টিতে রয়েছে একটি গ্রন্থাগার। এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নামী-দামী বই। শিক্ষার্থীরা এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে বসে পড়তে পারে।

বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড

[সম্পাদনা]

বছরজুড়েই বিদ্যালয়ে নানা রকম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পালন করা হয়। শহীদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, জাতির জনকের জন্মদিন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান যথাযথ মর্যাদার সাথে পালিত হয়। বর্ষবরণ, বাসন্তী উৎসব ইত্যাদি নানা রকম অনুষ্ঠান ছাত্রছাত্রী -শিক্ষক শিক্ষিকা সম্মিলিতভাবে পালন করে। এছাড়াও প্রতি বছরই আয়োজিত হয় শিক্ষা সফর।

নোয়াখালী জেলার প্রথম শহীদ মিনার ইতিহাস

[সম্পাদনা]

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির মুক্তির প্রথম আন্দোলন। সে আন্দোলনে নিজের মায়ের ভাষাকে প্রতিষ্ঠা করতে মানুষ বুলেটের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই আন্দোলন শুধু ঢাকার রাজপথে সীমাবদ্ধ ছিল না, ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশব্যাপী। নোয়াখালীতে মাতৃভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে আন্দোলন করেছিল ছাত্র-শিক্ষকসহ সর্বস্তরের জনগণ। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি" স্মরণীয় গানটি যখন এদেশের ছাত্র-জনতার মুখে মুখে ব্যাপকভাবে ধ্বনিত হয়নি, তখন শহীদ মিনার স্থাপন ছিল দুঃসাহসিক কর্ম। আইয়ুবি শাসক গোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জীবনবাজী রেখে সে সময় নোয়াখালী জেলার হাতেগোনা কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া ছাত্র ও তরুণ মিলে এক অজপাড়াগাঁয়ে কাদামাটি দিয়ে শহীদ মিনার স্থাপন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে নোয়াখালীতে প্রথম শহীদ দিবসটি পালন করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বেগমগঞ্জ হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার পর কয়েকজন ছাত্র ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই-শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’ এ স্লোগান দিয়ে বেগমগঞ্জের কাজিরহাট হাই স্কুলের মাঠে একুশের রাতে জড়ো হয়। বর্তমানে এটি শহীদ আমান উল্লাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচিত। তখন তাদের নেতৃত্বে ছিলেন এক সময়ের বৃহ্ত্তর নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে গণতান্ত্রিক কর্মী ও শিবিরের সভাপতি কমরেড নুরুল হক চৌধুরী মেহেদী। তার সাথে ছিলেন সোনালী ব্যাংকের সাবেক জিএম মরহুম আবদুল জলিল, টিএন্ডটির এসডিই মরহুম মো. হানিফ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা প্রয়াত শান্তিরঞ্জন কর্মকার ও চৌমুহনীর চক্ষু চিকিৎসক মরহুম ডা. আবুল খায়ের প্রমুখ। তারা সকলে মিলে কাজির হাট হাইস্কুলের মাঠে কাঁদামাটি দিয়ে তৈরি করেন শহীদ মিনার। ঐ রাতে দু-দুবার মুসলিম লীগের নেতা-কর্মীরা তা ভেঙ্গে ফেলে। তবুও তারা দমেননি। ভোররাতে আবারও শহীদ মিনার বানিয়ে তারা ভাষা শহীদদের স্মরণ করে গাঁদা ফুলের মালা গেঁথে পুষ্পস্তবক অর্পনের মধ্য দিয়ে প্রথম শহীদ দিবস পালন করেছিলেন। এটিই ছিল জেলার প্রথম শহীদ মিনার ও শহীদ দিবস পালন। এমন ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নোয়াখালীর প্রথম শহীদ মিনারটি এখন পড়ে রয়েছে নানা অযত্ন-অবহেলায়। প্রায় ৬৭ বছর আগে নির্মিত শহীদ মিনারটিকে ঘিরে জেলার অনেক ইতিহাস ঐতিহ্য বহন করলেও এখন কেউ আর সেখানে যায় না। ফলে স্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে বসেছে নোয়াখালীর প্রথম শহীদ মিনারসহ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস। বিদ্যালয়ের ছাত্ররা আক্ষেপ করে বলেন, ‘অনেকেই জানেন না যে, ভাষা শহীদের স্মরণে নির্মিত এ মিনারটিই জেলার প্রথম মিনার।তাদের দাবি এ মিনারটিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে আবার আগেরমত শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ করে দিতে হবে।প্রবীণ বাসদ নেতা ও স্থানীয় সাংবাদিক ফারুখ আল ফয়সাল প্রথম শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ‘সেদিন একুশের রাতে দুইবার মুসলিম লীগের লোকেরা শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে ফেলার পরও কমরেড নুরুল হক চৌধুরী মেহেদীরা থামেননি। স্থানীয় ছাত্র জনতাকে সংঘবদ্ধ করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে তৃতীয়বার শহীদ মিনার স্থাপন করেন। এরপর কয়েক বছর অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি দিবসটি পালন করেছিলেন তারা। তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে ১৯৬৯ সালে ইট, সিমেন্ট দিয়ে ঐ শহীদ মিনারটি স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি কাজির হাট শহীদ আমান উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে।

Noakhali First Shaheed Minar
নোয়াখালী জেলার প্রথম শহীদ মিনার


এ বিদ্যালয়ে ০১টি সংগঠন আছে।


উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী

[সম্পাদনা]
  • মোহাম্মদ আমান উল্যাহ - শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা
  • কামরুজ্জামান মোহন - লেখক ও কবি
  • আফজাল শরীফ - প্রাক্তন শিক্ষার্থী

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "একনজরে, https://www.sauphs.edu.bd/web"https://www.sauphs.edu.bd/web/। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |ওয়েবসাইট= এবং |শিরোনাম=-এ বহিঃসংযোগ (সাহায্য)
  2. "ফলাফল,শহীদ আমান উল্যাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়"https://www.sauphs.edu.bd/web/। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |ওয়েবসাইট=-এ বহিঃসংযোগ (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]

https://www.sauphs.edu.bd/web/