বিষয়বস্তুতে চলুন

শহর বানু বেগম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শহর বানু বেগম
বিজাপুরের শাহজাদী
বিজাপুরের একজন সম্ভ্রান্ত নারী আয়নায় নিজেকে দেখছেন, আনুমানিক ১৭২০।
মুঘল সাম্রাজ্যের রানি সহধর্মিণী
কার্যকাল১৪ মার্চ ১৭০৭ – ২০ জুন ১৭০৭
জন্মআনু. ১৬৬৩
বিজাপুর, ভারত
দাম্পত্য সঙ্গীমুহাম্মদ আজম শাহ (বি. ১৬৭২; d. ১৭০৭)
পূর্ণ নাম
শহর বানু
রাজবংশআদিল শাহী রাজবংশ (জন্মসূত্রে)
তৈমুরি (বিবাহসূত্রে)
পিতাদ্বিতীয় আলি আদিল শাহ
মাতাখুরশিদা খানুম
ধর্মইসলাম

শহর বানু বেগম (আনুমানিক ১৬৬৩ – ?) ছিলেন সম্রাট মুহাম্মদ আজম শাহের তৃতীয় (এবং শেষ) স্ত্রী হিসেবে ১৪ মার্চ ১৭০৭ থেকে ৮ জুন ১৭০৭ পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্যের সম্রাজ্ঞী। তিনি মূলত পাদিশাহ বিবি[] এবং পাদশাহ বেগম উপাধিতে পরিচিত।[]

জন্মসূত্রে শহর বানু ছিলেন বিজাপুরের আদিল শাহী রাজবংশের একজন রাজকুমারী এবং আলী আদিল শাহ ২য় ও তার সঙ্গী খুরশিদা খানুমের কন্যা। তিনি ছিলেন সিকান্দার আদিল শাহের বোন।[]

পরিবার ও বংশপরিচয়

[সম্পাদনা]

শহর বানু বেগম বিজাপুরের আদিল শাহী রাজবংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন আলী আদিল শাহ ২য় এবং মা ছিলেন খুরশিদা খানুম। শহরের দাদা ছিলেন তার বাবার পূর্বসূরি মোহাম্মদ আদিল শাহ এবং দাদি ছিলেন সম্রাজ্ঞী তাজ জাহান বেগম। শহরের ভাইবোনদের মধ্যে ছিলেন শাহজাদা হোসেন এবং সিকান্দার। সিকান্দার ১৬৭২ সালে মাত্র চার বছর বয়সে তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে রাজা হন।

শহর বানু তার পরিবার ও বিজাপুরের জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। তিনি যেমন সুন্দরী ছিলেন,[] তেমনি ছিলেন বুদ্ধিমতী। ১৬৭৯ সালে যখন একটি রাজনৈতিক জোটের স্বার্থে তাকে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়া হয়, তখন তিনি তার রাজ্য রক্ষায় সাহসী ভূমিকা পালন করে রাজ্যের প্রতি তার একাগ্রতা প্রদর্শন করেন।[]

বিবাহ

[সম্পাদনা]

আলী আদিল শাহ ১৬৭২ সালের ২৪ নভেম্বর মারা যান এবং তার সাথে বিজাপুর রাজ্যের গৌরবও ম্লান হতে থাকে। তার চার বছর বয়সী শিশু পুত্র সিকান্দার আদিল শাহ সিংহাসনে বসেন এবং রাজ্যে অরাজকতার সৃষ্টি হয়। এই অরাজকতা ১৬৮৬ সালে রাজবংশের বিলুপ্তি ও রাজ্যের স্বাধীনতা হারানোর মাধ্যমে শেষ হয়। এই সময়ে বিজাপুরের দুর্বলতা ও অপমানের চিত্র ফুটে ওঠে যখন ১০,০০০ বিজাপুরি সৈন্য প্রতিপক্ষ মুঘল শিবিরে যোগ দেয় এবং সিকান্দারের বোন শহরকে মুঘল হারেমে পাঠাতে বাধ্য করা হয়।[] শাহজাদীকে মুঘলদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সিকান্দারের অভিভাবক খাওয়াস খান, যাকে পরবর্তীতে তার এই বিশ্বাসঘাতকতার জন্য তার উত্তরসূরি আব্দুল করিম হত্যা করেন। বিজাপুর ও মুঘলদের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যার শর্ত অনুযায়ী শাহজাদী শহরকে রাজকীয় শাহজাদা মুহাম্মদ আজম শাহের সাথে বিবাহ দিতে হবে। আজম শাহ ছিলেন তৎকালীন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এবং তার সম্রাজ্ঞী দিলরাস বানু বেগমের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও উত্তরাধিকারী

তার পরিবার ও বিজাপুরের মানুষের চোখের মণি শাহজাদী শহর বানু ১৬৭৯ সালের ১ জুলাই তার জন্মস্থান ত্যাগ করেন। বিজাপুর রাজ্যের মঙ্গলের জন্য তার এই স্বেচ্ছাত্যাগ ছিল অত্যন্ত আবেগঘন।[] তিনি ১৬৮০ সালের ৪ মার্চ সম্রাটের দরবারে পৌঁছান এবং ১৬৮১ সালের ২৬ জুলাই মুহাম্মদ আজমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।[] সম্রাট নিজে শেহরি বেঁধে দেন এবং কাজী শেখ-উল-ইসলাম খাস ও আম মসজিদে (জামে মসজিদ) বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। মুহাম্মাদের (খাদিজার সাথে বিবাহের সময়) উদাহরণ অনুসরণ করে বিবাহের মহর ৫০০ দিরহাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।[]

মুঘল-বিজাপুর সম্পর্কে ভূমিকা

[সম্পাদনা]

বিবাহের অল্পকাল পরেই তার শ্বশুর আওরঙ্গজেব তাকে মুঘল ও বিজাপুরের মধ্যে সম্পর্ক শান্ত করার জন্য নিযুক্ত করেন। শহর বানু তার ভাইয়ের নতুন অভিভাবক শারজা খানকে একটি চিঠি লিখে তাকে মারাঠাদের সাথে মিত্রতা না করে মুঘলদের সাথে যোগ দিয়ে তাদের দমন করার আহ্বান জানান।[] শাহজাদা আজমের সাথে সদ্য বিবাহিত শাহজাদী শহর বানু ১৮ জুলাই শারজা খানকে এই ব্যক্তিগত আবেদনটি পাঠান। কিন্তু কোনো উত্তর আসেনি। বিজাপুরি উচ্চপদস্থরা গোপনে মারাঠা রাজা সম্ভাজির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে তাকে শক্তিশালী করেছিলেন।[১০]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Sharma, Sudha (২১ মার্চ ২০১৬)। The Status of Muslim Women in Medieval India। SAGE Publications India। পৃ. ৮২আইএসবিএন ৯৭৮-৯-৩৫১-৫০৫৬৭-৯
  2. Kincaid, Charles Augustus; Pārasanīsa, Dattātraya Baḷavanta (১৯২২)। A History of the Maratha People: From the death of Shivaji to the death of Shahu (ইংরেজি ভাষায়)। S. Chand। পৃ. ২৪।
  3. Sarkar, Sir Jadunath (১৯৭২)। Sir Jadunath Sarkar birth centenary commemoration volume: English translation of Tarikh-i-dilkasha (Memoirs of Bhimsen relating to Aurangzib's Deccan campaigns). (ইংরেজি ভাষায়)। Dept. of Archives, Maharashtra। পৃ. ১২৪।
  4. Gazetteer of the Bombay Presidency: Bijápur (ইংরেজি ভাষায়)। Government Central Press। ১৮৮৪। পৃ. ৪৩১
  5. Lal, Muni (১৯৮৮)। Aurangzeb। Vikas Pub. House। পৃ. ২৪৫।
  6. 1 2 Sharma, S. R. (১৯৯৯)। Mughal empire in India : a systematic study including source material (Rev. সংস্করণ)। Atlantic Publ। পৃ. ৫০০। আইএসবিএন ৮১৭১৫৬৮১৮১
  7. Sarkar, Sir Jadunath (১৯৩৩)। Studies in Aurangzib's reign: (being Studies in Mughal India, first series) (ইংরেজি ভাষায়)। Orient Longman। পৃ. ৪৫। আইএসবিএন ৯৭৮০৮৬১৩১৯৬৮৮ {{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য)
  8. Khān, Muḥammad Sāqī Mustaʻidd (১৯৪৭)। Maāsir-i-ʻĀlamgiri: a History of the Emperor Aurangzib-ʻl̀amgir (reign 1658-1707 A. D.)। Royal Asiatic Society of Bengal। পৃ. ১২৯।
  9. Ali, Shanti Sadiq (১৯৯৬)। The African Dispersal in the Deccan : From Medieval to Modern Times। Orient Longman। পৃ. ১৩৪। আইএসবিএন ৯৭৮৮১২৫০০৪৮৫১
  10. Sir Jadunath Sarkar (১৯১৯)। History of Aurangzib: Southern India, 1645-1689। M.C. Sarkar & Sons। পৃ. ৩০১।
  • Jadunath Sarkar Translation, Maāsir-i-ʻĀlamgiri : a history of the emperor Aurangzib-ʻl̀amgir (reign 1658-1707 A.D.) by Muḥammad Sāqī Mustaʻidd Khān