শফিকুর রহমান (বীর প্রতীক)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শফিকুর রহমান
মৃত্যু৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১২
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
পরিচিতির কারণবীর প্রতীক

শফিকুর রহমান (জন্ম: অজানা, - মৃত্যু: ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১২) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে। [১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

শফিকুর রহমানের জন্ম যশোর জেলার সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের জোত রহিমপুর গ্রামে। বাবার নাম নওয়াব আলী বিশ্বাস এবং মায়ের নাম জরিনা বেগম। তার স্ত্রীর নাম শাহনাজ বেগম। তাঁদের দুই ছেলে, দুই মেয়ে।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

শফিকুর রহমান চাকরি করতেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। ১৯৭১ সালে এই রেজিমেন্টের অবস্থান ছিল যশোরেমুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে।[২]

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ৩১ জুলাই জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলার কামালপুরে ছিলো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ওই সীমান্তচৌকি ঘিরে তৈরি করে দুর্ভেদ্য এক ঘাঁটি। সেদিন মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ওই ঘাঁটিতে আক্রমণ করে। এই যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ও সালাহউদ্দীন মমতাজ (বীর উত্তম) নেতৃত্ব দেন। সেখানে তখন গোলাগুলির শব্দে গোটা এলাকা প্রকম্পিত। বৃষ্টির মতো শত শত গুলি ধেয়ে আসছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা অবস্থান থেকে। গোলাও এসে পড়ছে। বিরামহীন গোলাবর্ষণ। শফিকুর রহমান ও তার সহযোদ্ধারা ভীতসন্ত্রস্ত হলেন না। অধিনায়কের নির্দেশ পেয়ে গোলাগুলি উপেক্ষা করে সাহসিকতার সঙ্গে তারা এগিয়ে যেতে থাকলেন সামনে। ঢুকে পড়লেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষার ভেতর। এমন সময় হঠাৎ একটি গোলা এসে পড়ল শফিকুর রহমানের পাশে। বিস্ফোরিত গোলার বড় এক স্প্লিন্টার আঘাত করল তার বাঁ হাতে। নিমেষে উড়ে গেল তার হাতের সামনের অংশ। গুরুতর আহত শফিকুর রহমান লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে। এই আক্রমণ ও যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে একজন অফিসারসহ ৩১ জন যোদ্ধা শহীদ ও দুজন জুনিয়র কমিশন অফিসারসহ ৬৫ জন আহত হয়। আর শত্রুপক্ষের ৫০ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়। ওই আক্রমণ যদিও পুরোপুরি সফল হয়নি, তবুও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এটা একটা স্মরণীয় আক্রমণ ছিল। শফিকুর রহমান ওই যুদ্ধে আহত হওয়ার পর সহযোদ্ধারা তাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করে পাঠিয়ে দেন ফিল্ড হাসপাতালে। পরে ভারতে তার চিকিৎসা হয়।[৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না"| তারিখ: ০৮-০৪-২০১২
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাঁথা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারকগ্রহন্থ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জুন ২০১২। আইএসবিএন 9789843351449 
  3. একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (প্রথম খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। এপ্রিল ২০১২। আইএসবিএন 9789843338884 

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]