বিষয়বস্তুতে চলুন

শঠে শাঠ্যং

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শঠে শাঠ্যং
পরিচালকদীনেন গুপ্ত
প্রযোজকমমতা দাস
রচয়িতাঅঞ্জন চৌধুরী
চিত্রনাট্যকারঅঞ্জন চৌধুরী
অতিরিক্ত চিত্রনাট্য:
শেখর চট্টোপাধ্যায় (অনুল্লিখিত)
কাহিনিকারঅঞ্জন চৌধুরী
শ্রেষ্ঠাংশেরঞ্জিত মল্লিক
মহুয়া রায়চৌধুরী
সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়
শেখর চট্টোপাধ্যায়
অনুপ কুমার
সুরকারদিলীপ গাঙ্গুলী
চিত্রগ্রাহকদীনেন গুপ্ত
সম্পাদকঅমিয় মুখোপাধ্যায়
প্রযোজনা
কোম্পানি
জ্যোতির্ময় পিকচার্স
পরিবেশকশ্রী বিষ্ণু পিকচার্স
মুক্তি
  • ১২ মার্চ ১৯৮২ (1982-03-12)
দেশভারত
ভাষাবাংলা

শঠে শাঠ্যং হল ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দীনেন গুপ্ত পরিচালিত ও চিত্রায়িত ভারতীয় বাংলা ভাষার একটি অ্যাকশন কমেডি চলচ্চিত্র। জ্যোতির্ময় পিকচার্স-এর ব্যানারে মমতা দাস প্রযোজিত এই ছবিটি অঞ্জন চৌধুরী সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা চুমকি-তে প্রকাশিত তাঁরই লেখা একই নামের একটি ধারাবাহিক গল্পের ওপর আধারিত।[][] ছবিটিতে রঞ্জিত মল্লিক যমজ ভাইদের দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন;[] তাঁর পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মহুয়া রায়চৌধুরী, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়, শেখর চট্টোপাধ্যায়, অনুপ কুমার, দিলীপ রায় এবং বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।[]

চৌধুরী-র কাছ থেকে গুপ্ত শঠে শাঠ্যং-এর মূল চিত্রনাট্যটি কিনে নেন এবং পরবর্তীতে তাঁর নিয়মিত চিত্রনাট্য-সহযোগী শেখর চট্টোপাধ্যায়ের সাথে মিলে সেটিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করেন। এই চলচ্চিত্রটি গুপ্ত ও মল্লিকের মধ্যকার পঞ্চম যৌথ প্রয়াস; পাশাপাশি এটি মল্লিক ও রায়চৌধুরীকে তৃতীয়বারের মতো জুটিবদ্ধ করেছে। ছবিটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন দিলীপ গাঙ্গুলী এবং এর গানগুলি রচনা করেছেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও এমনকি চৌধুরী নিজেও।

১৯৮২ সালের ১২ই মার্চ, পহেলা বৈশাখের দিনটিতে শঠে শাঠ্যং প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। ইতিবাচক সমালোচক-প্রতিক্রিয়া নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই ছবিটি বক্স-অফিসে দারুণ সাফল্য অর্জন করে এবং ১৯৮২ সালের সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলা চলচ্চিত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ছবিটির সাউন্ডট্র্যাক অ্যালবামটিও বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়; বিশেষ করে "আমার মতো এমন ছেলে" গানটি তৎকালীন বহুল সমাদৃত বাংলা গানের তালিকায় শীর্ষে স্থান করে নেয়। দীর্ঘ বিরতির পর মল্লিকের অ্যাকশন ঘরানায় প্রত্যাবর্তনের নিদর্শন হিসেবে ছবিটি দর্শকদের মাঝে একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান বা 'কাল্ট স্ট্যাটাস' অর্জন করে।[][]

নিজস্ব যুগান্তকারী বিষয়বস্তুর জন্য সমাদৃত হওয়ায় শঠে শাঠ্যং ছবিটি জ্যাকি চ্যান অভিনীত ১৯৯২ সালের চলচ্চিত্র টুইন ড্রাগনস-এর অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে; আর এই ছবিটিই পরবর্তীতে বিভিন্ন ভাষায় পুনর্নির্মিত হয়েছে—যেমন তেলুগু ভাষায় হ্যালো ব্রাদার (১৯৯৪), হিন্দি ভাষায় দু'বার—জুড়ওয়া (১৯৯৭) ও জুড়ওয়া ২ (২০১৭), কন্নড় ভাষায় চেলুভা (১৯৯৭) এবং বাংলাদেশী ভাষায় ভাইজান এলো রে (২০১৮) হিসেবে।

কাস্ট

[সম্পাদনা]

রিমেক

[সম্পাদনা]

শঠে শাঠ্যং ছবির দ্বৈত ভূমিকার বিষয়টি প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা রিঙ্গো লামকে অনুপ্রাণিত করেছিল, যার ফলস্বরূপ ১৯৯২ সালে জ্যাকি চ্যান অভিনীত হংকংয়ের রিমেক চলচ্চিত্র 'টুইন ড্রাগনস' (Twin Dragons) নির্মিত হয়। এই ছবিটি পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের রিমেক তৈরিরও উৎস হয়ে ওঠে; যার সূচনা ঘটে আক্কিনেনি নাগার্জুন অভিনীত তেলুগু ছবি হ্যালো ব্রাদার (১৯৯৪)-এর মাধ্যমে। পরবর্তীতে হ্যালো ব্রাদার অবলম্বনে সালমান খান অভিনীত জনপ্রিয় হিন্দি ছবি জুড়ওয়া (১৯৯৭) নির্মিত হয়, যা পরবর্তীতে জুড়ওয়া ২ (২০১৭) নামে একটি রিবুট বা নতুন সংস্করণের জন্ম দেয়। এছাড়া হ্যালো ব্রাদার কন্নড় ভাষায় চেলুভা (১৯৯৭) নামেও পুনর্নির্মিত হয়েছিল। ২০১৮ সালে শঠে শাঠ্যং-এর কাহিনিতে কিছু পরিবর্তনসহ শাকিব খান অভিনীত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র ভাইজান এলো রে হিসেবে পুনর্নির্মিত হয়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Anjan Chowdhury: মুখে মুখে ফিরত তাঁর ছবির সংলাপ"Anandabazar Patrika। ২৫ নভেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  2. "Ranjit Mallick: It feels sad to see mainstream Bengali commercial films failing at the box office"The Times of India। ৯ জুন ২০২৩। আইএসএসএন 0971-8257। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  3. "Ranjit Mallick says stories of earlier films were "more realistic""The Times of India। ১৪ মার্চ ২০১৮। আইএসএসএন 0971-8257। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  4. "Bilingual E-archive Digital Platform for Bengal's Cinema"Bengal Film Archive। সংগ্রহের তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  5. "Ranjit Mallick: The evergreen "Pratibadi Nayak" of Bengali cinema"The Telegraph। ২৯ জুলাই ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  6. "When Ranjit Mallick used to beat Prosenjit Chatterjee on the sets!"The Times of India। ২৬ অক্টোবর ২০২২। আইএসএসএন 0971-8257। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  7. Ray Chaudhuri, Shantanu (১৯ এপ্রিল ২০২৩)। "Ranjit Mallick: 'I do films for two reasons – to provide a moral compass to the viewer and for them to laugh'"The Telegraph। ১৯ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  8. Acharya, Anindita (২২ এপ্রিল ২০২৩)। "Feel sad when mainstream commercial films don't run today: Ranjit Mallick"Millennium Post (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২৫