শঙ্খমুখম সমুদ্র সৈকত
| শঙ্কুমুঘাম সমুদ্র সৈকত | |
|---|---|
শঙ্কুমুঘাম সমুদ্র সৈকত, তিরুবনন্তপুরম | |
| অবস্থান | তিরুবনন্তপুরম, কেরল, ভারত |
| স্থানাঙ্ক | ৮°২৮′৫২″ উত্তর ৭৬°৫৪′৪৫″ পূর্ব / ৮.৪৮১১২৯৫০° উত্তর ৭৬.৯১২৩৭০৩০° পূর্ব |
| ভূতত্ত্ব | সমুদ্র সৈকত |
| টহলদার | কেরল পুলিশ; সৈকত লাইফগার্ড |

শঙ্কুমুঘাম সমুদ্র সৈকত দক্ষিণ ভারতের কেরলের তিরুবনন্তপুরম জেলার একটি সমুদ্র সৈকত। এই সমুদ্র সৈকতটি তিরুবনন্তপুরম শহরের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। তিরুবনন্তপুরম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের খুব কাছেই এই সমুদ্র সৈকতটির অবস্থান।
শঙ্কুমুঘাম সমুদ্র সৈকতকে শহরের প্রধান দেবতা শ্রী অনন্তপদ্মনাভনের ‘আরাতুকাদাভু’ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।[১] ‘আরাতুকাদাভু’ আক্ষরিক অর্থ “ধর্মীয় স্নানের ঘাট” এবং এটি একটি পবিত্র স্থানকে বোঝায়। প্রায়শই নদী বা সমুদ্রের তীরে, যেখানে একটি ধর্মীয় উৎসবের অংশ হিসাবে মন্দিরের মূর্তিগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্নান করানো হয়। "আরত্তু" মানে হলো ধর্মীয় স্নান এবং "কদাভু" মানে হলো স্নানের ঘাট। এই দুই শব্দ একত্রিত করে ‘আরাতুকাদাভু’ শব্দটি এসেছে। শঙ্কুমুঘাম সমুদ্র সৈকতে হাজার হাজার হিন্দু বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘বালি থার্পানাম’ পরিবেশন করে।[২] গণেশ চতুর্থী উৎসবের পর গণেশ নিরঞ্জনের অন্যতম স্থান হলো শঙ্কুমুঘাম।[৩][৪]
তিরুবনন্তপুরমে আরত্তুর অর্থাৎ ধর্মীয় স্নানের দিনে ভগবান পদ্মনাভস্বামী, ভগবান নরসিংহ এবং ভগবান কৃষ্ণের মূর্তিগুলিকে শঙ্কুমুঘাম সমুদ্র সৈকতের লাক্ষাদ্বীপ সাগরে নিয়ে যাওয়া হয়।[৫] ত্রিভাঙ্কোরের বর্তমান উপাধিপ্রাপ্ত মহারাজা রাজকীয় তরবারি হাতে নিয়ে শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন। শোভাযাত্রার সঙ্গে থাকেন রাজপরিবারের সদস্য, সশস্ত্র রক্ষী, মন্দির কর্তৃপক্ষ, অশ্বারোহী পুলিশ এবং নানা পদের অফিসাররা। শঙ্কুমুঘামে আনুষ্ঠানিক স্নানের পর প্রতিমাগুলিকে শোভাযাত্রা সহকারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এইভাবে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।[৬]
ভাস্কর এবং চিত্রকর কানাই কুনহিরামনের তৈরি জলমগ্ন সাগরকন্যার ভাস্কর্যটি এখানকার একটি অতিরিক্ত আকর্ষণ।[৭] এই বিশাল মূর্তিটি ৩৫ মিটারেরও বেশি লম্বা। ‘শিশুদের জন্য জওহরলাল নেহেরু পার্ক অফ ট্র্যাফিক সাইন’ এখানে অবস্থিত। [৮] এটি শিশু উদ্যানটিতে খেলার ফাঁকে ফাঁকে শিশুরা সহজেই ট্র্যাফিক নিয়মের নানা বিষয় বুঝতে পারে। উদ্যানটি ছোট শিশুদের জন্য সাইকেল চালানোর সুবিধাও প্রদান করে।
ভারতীয় বিমান বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় বিমান কমান্ডের সামরিক এলাকা এবং প্রধান বিমানবন্দরের কিছু অংশ শঙ্কুমুঘাম সমুদ্র সৈকতের কাছে অবস্থিত।[৯]
উপকূলীয় ক্ষয় এবং সৈকতের উপর প্রভাব
[সম্পাদনা]
তিরুবনন্তপুরম উপকূলরেখা বরাবর উপকূলীয় ভাঙনের ফলে সমুদ্র সৈকত এলাকা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে শঙ্কুমুঘাম সমুদ্র সৈকতসহ এই অঞ্চলে প্রতি বছর ৪.৭৩ মিটার ভূমি ক্ষয় হয়।[১০] অতিরিক্ত ক্ষয়ের কারণে পরবর্তীকালে সৈকত বরাবর শঙ্কুমুঘাম-বিমানবন্দর সড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।[১১]
পরিবহন
[সম্পাদনা]তিরুবনন্তপুরম শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে শঙ্কুমুঘাম সমুদ্র সৈকত ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বাস যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন হলো তিরুবনন্তপুরম সেন্ট্রাল এবং কোচুভেলি রেলওয়ে স্টেশন। আর নিকটতম বিমানবন্দর হলো তিরুবনন্তপুরম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সমুদ্র সৈকতের নিকটতম বাস স্টেশন হলো তিরুবনন্তপুরমের ‘সেন্ট্রাল বাস স্টেশন’।
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]- শঙ্কুমুঘাম সমুদ্র সৈকতের আরতু মণ্ডপম
- শঙ্কুমুঘাম সমুদ্র সৈকতে সোনালী সূর্যাস্তের দৃশ্য
- সমুদ্র সৈকত
- শঙ্কুমুঘাম সমুদ্র সৈকত
- সমুদ্র সৈকতে একটি ভাস্কর্য
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Arattu Mandapam, Shanghumugham"। Kerala Tourism (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ "Thousands offer Bali Tharpanam on Karkidaka Vavu"। Mathrubhumi (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ "Ganeshotsavam procession tomorrow"। Times of India। সংগ্রহের তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Ganesh Visarjan 2021"। Deccan Herald। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১।
- ↑ "Alpashi and Painkuni Arattu festival of Sree Padamanabhaswamy Temple | Festivals of Kerala"। www.keralaculture.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ "Alpashi festival comes to a close"। The New Indian Express। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ "Backwaters - Kerala, Kerala Travel, Real Estate, Kerala Matrimonial"। www.kerala.com। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ "Thiruvananthapuram: Traffic park to get a lease of life"। The New Indian Express। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ "On cloud nine: Differently-abled students visit Air Force Station"। The New Indian Express। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ "Thiruvananthapuram's famed beaches could vanish in just five years."। Manorama online। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২৩।
- ↑ "Passengers walk to Trivandrum airport lugging baggage, thanks to bad roads."। The News Minute। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২৩।