শকুন্তলা পরাঞ্জপে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শকুন্তলা পরাঞ্জপে
Shakuntala Paranjpye in film, Duniya Na Mane (1937).jpg
১৯৩৭ য়ের 'দুনিয়া না মানে' চলচ্চিত্রে শকুন্তলা পরাঞ্জপে
জন্ম(১৯০৬-০১-১৭)১৭ জানুয়ারি ১৯০৬
মৃত্যু৩ মে ২০০০(2000-05-03) (বয়স ৯৪)
জাতীয়তাভারতীয়
পেশালেখক, অভিনেত্রী, সমাজকর্মী

শকুন্তলা পরাঞ্জপে (১৭ই জানুয়ারি, ১৯০৬ – ৩রা মে ২০০০) ছিলেন একজন ভারতীয় লেখক, অভিনেত্রী ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী। তিনি ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৪ পর্যন্ত মহারাষ্ট্র বিধানসভার সদস্য এবং ১৯৬৪ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার মনোনীত সদস্য ছিলেন[১][২][৩] ১৯৩৮ সাল থেকে তিনি মহারাষ্ট্রের পুণেতে মহিলাদের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্যে প্রয়াস করেছিলেন এবং তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯১ সালে, ভারত সরকার তাঁকে ভারতের তৃতীয় সর্ব্বোচ্চ অসামরিক পুরস্কার পদ্মভূষণ দ্বারা সম্মানিত করে[৪]

জীবনী[সম্পাদনা]

শকুন্তলা পরাঞ্জপে ১৯০৬ সালের ১৭ই জানুয়ারী ভারতেমহারাষ্ট্রে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা স্যার আর পি পরাঞ্জপে ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভারতীয় র‍্যাংলার এবং ১৯৪৪ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত[৫]। শকুন্তলা কেমব্রিজের নিউনহাম কলেজে গাণিতিক ট্রিপোসের জন্য পড়াশোনা করেছিলেন[৬]। ১৯২৯ সালে তিনি সেখানে স্নাতক হন। পরের বছর লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি শিক্ষাব্যবস্থায় একটি ডিপ্লোমা অর্জন করেন। শকুন্তলা স্বল্প সময়ের জন্য রাশিয়ান চিত্রশিল্পী ইয়েরা স্লেপ্টজফের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। ১৯৩৮ সালে তাঁদের কন্যা সাই পরাঞ্জপের জন্মের পরেই এই দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল এবং শকুন্তলা একাই সাইকে লালন-পালন করেছিলেন।

কর্ম জীবন[সম্পাদনা]

সমাজকর্ম[সম্পাদনা]

প্রাক-স্বাধীনতা যুগে, যখন পরিবার পরিকল্পনা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করাও নিষিদ্ধ ছিল, সেই সময়ে ১৯৩০এর দশকে শকুন্তলা সাধারণ মহিলাদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণের ধারণাটি প্রবেশ করানোর প্রচেষ্টা করেছিলেন। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সুন্দরী এবং শিক্ষিতা এই মহিলা যখন পরিবার পরিকল্পনার বিষয়ে বোঝানোর জন্য তাঁর বাসভবনে একটি ক্লিনিক চালু করেছিলেন তখন তা সমাজের অনেকের বক্র দৃষ্টির কারণ হয়েছিল। এই কাজটি করার জন্যে শকুন্তলা তাঁর সম্পর্কিত দাদা অধ্যাপক আর ডি কার্ভে দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। অধ্যাপক কার্ভে এককভাবে পরিবার পরিকল্পনার জন্য প্রচার চালাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। কিন্তু একজন পুরুষ হওয়ায়, অধ্যাপকের পক্ষে সম্ভব ছিল না মহিলাদের মধ্যে এই বিষয়ে প্রচার করার এবং সেই কারণে তিনি শকুন্তলাকে তাঁর কাজে সহায়তা করার অনুরোধ জানান। শকুন্তলা পুণের ডেকান জিমখানায় নিজ বাসভবনে একটি পরামর্শ কেন্দ্র খুলে তাঁর কাজ শুরু করেছিলেন। মহিলাদের মধ্যে সাক্ষরতার অভাব তাঁর কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। পরে শকুন্তলা মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত ভাবে এই বিষয়ে প্রচারচালাতেন। একইসাথে,তিনি সংবাদপত্র এবং সাময়িকীতে পরিবার পরিকল্পনা সম্বন্ধে পরামর্শ দিয়ে লেখালেখিও করতেন। শকুন্তলা ১৯৩০-এর দশকে সুইজারল্যান্ডেজেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সাথে কাজ করেছিলেন[৭]

অভিনয় জীবন[সম্পাদনা]

শকুন্তলা বেশ কিছু মারাঠিহিন্দি সিনেমাতেও অভিনয় করেছিলেন।

চলচ্চিত্রের তালিকা[সম্পাদনা]

  • গঙ্গা মাইয়া (১৯৫৫)
  • লোকশহির রাম যোশী (১৯৪৭)
  • রামশাস্ত্রী (১৯৪৪)
  • জওয়ানি কা রং (১৯৪১)
  • পয়সা (১৯৪১)
  • স্ত্রী (১৯৩৮)
  • সুনিয়া না মানে (১৯৩৭)
  • জীবন জ্যোতি (১৯৩৭)
  • কুঙ্কু (১৯৩৭)
  • সুলতানা চাঁদ বিবি (১৯৩৭)
  • বাহাদুর বেটি (১৯৩৫)
  • কালি ওয়াঘা (১৯৩৫)
  • মুদ্রাক্ষরিক মায়া (১৯৩৫)
  • ভক্ত প্রহ্লাদ (১৯৩৪)
  • ভেড়ি রাজকুমার (১৯৩৪)
  • পার্থ কুমার (১৯৩৪)
  • সৈরিন্ধ্রি (১৯৩৩)

সাহিত্য জীবন[সম্পাদনা]

শকুন্তলা মারাঠি ভাষায় অনেক নাটক, স্কেচ এবং উপন্যাস রচনা করেছিলেন।শকুন্তলার লেখা একটি মারাঠি গল্প অবলম্বনে নির্মিত হিন্দি শিশু চলচ্চিত্র, ইয়ে হ্যা চাক্কার বাক্কার বাম্বেবো[৮] ২০০৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল[৯]

রচিত বইয়ের তালিকা[সম্পাদনা]

  • থ্রি ইয়ার্স ইন অস্ট্রেলিয়া, (ইংরেজি), পুণা, ১৯৫১
  • সেন্স আন্ড ননসেন্স (ইংরেজি), নতুন দিল্লি, ওরিয়েন্ট লংম্যান, ১৯৭০.[১]
  • কাহি আম্বাট, কাহি গোড়, (মারাঠি), পুনে, শ্রীবিদ্যা প্রকাশন, ১৯৭৯.
  • দেশ-বিদেশচ্যা লোককথা, (মারাঠি)

সম্মাননা ও স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

শকুন্তলার সমাজকর্ম দীর্ঘদিন ভালোভাবে গৃহীত না হলেও, ১৯৬০-য়ের দশক থেকে ধীরে ধীরে তা গ্রহণযোগ্য হতে থাকে। জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তাঁর নিরলস অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯১ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Members Of Rajya Sabha Since 1952 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৮ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে Rajya Sabha website.
  2. Rajya Sabha website ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে Nominated members
  3. "NOMINATED MEMBERS OF RAJYA SABHA"। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২০ 
  4. Padma Bhushan Awardees Shakuntala Pranjpye, 1991, Maharashtra, Social Work. Sai Paranjpye, Arts, Maharashtra, 2006.
  5. "Sai Paranjpye at ASHA"। ১৭ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২০ 
  6. Aparna Basu; Malavika Karlekar (২০০৮)। In So Many Words: Women's Life Experiences from Western and Eastern India। Routledge। পৃষ্ঠা 89। আইএসবিএন 978-0-415-46734-6 
  7. Sai speak! The Times of India,8 July 2002.
  8. ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে Yeh Hai Chakkad Bakkad Bumbe Bo (ইংরেজি)
  9. yeh hai chakkad bakkad bumbe bo upperstall.