লোহিত সাগর সংকট
লোহিত সাগর সংকট ছিল হুথি আন্দোলন সৃষ্ট একটি চলমান সশস্ত্র সংঘাত ও সামুদ্রিক সংকট। গাজা যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় হুথিরা ইসরায়েল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র ও সশস্ত্র ড্রোন নিক্ষেপ শুরু করে এবং লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বহু বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ জব্দ বা আক্রমণ করে, যেগুলোকে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করে। এসব কর্মকাণ্ডের জবাবে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।[৮৯] এই সংকট মধ্যপ্রাচ্য সংকট, ইরান-ইসরায়েল প্রক্সি সংঘাত এবং ইয়েমেন সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত।[৯০]
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরোধী এবং ইরান সমর্থিত হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই হামাস সমর্থিত এই গোষ্ঠী ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। একই সঙ্গে তারা লোহিত সাগরে, বিশেষ করে বাব এল-মান্দেব প্রণালীর মাধ্যমে সুয়েজ খালের দক্ষিণ প্রবেশপথ অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়, যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গোষ্ঠীটি ঘোষণা করে যে, ইসরায়েল গাজা যুদ্ধ বন্ধ না করা পর্যন্ত তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।[৯১][৯২]
হুথিরা ঘোষণা করে, ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো জাহাজ তাদের হামলার লক্ষ্য হবে।[৯৩][৯৪][৯৫] এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যুদ্ধজাহাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন বিভিন্ন দেশের জাহাজেও হামলা চালায়। সশস্ত্র সংঘাত অবস্থান ও ঘটনা তথ্য প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরব্যাপী এই অভিযানে হুথিরা ১৭৮টি জাহাজে হামলা চালায়, চারটি জাহাজ ডুবিয়ে দেয় এবং নয়জন নাবিক নিহত হন। এসব হামলা এড়াতে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজকে দক্ষিণ আফ্রিকা ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল করতে হয়।
লোহিত সাগরে হুথিদের হামলার জবাবে বিভিন্ন দেশ সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জানুয়ারি ২০২৪ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ২৭২২ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণ করে, যাতে হুথিদের হামলার নিন্দা জানানো হয় এবং নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।[৯৬] লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান শুরু হয়। ১২ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের অবস্থানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে শুরু করে। একই সময়ে অন্যান্য দেশও স্বাধীনভাবে লোহিত সাগরে হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা পরিচালনা করে। ৩ মে ২০২৪ তারিখে ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি ঘোষণা করেন যে, ভূমধ্যসাগরে ইসরায়েলি বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রাকারী যেকোনো জাহাজ তাদের নাগালের মধ্যে থাকলে লক্ষ্যবস্তু হবে। ৬ মে ২০২৫ তারিখে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও হুথিদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতির ফলে মার্কিন হামলা বন্ধ করা হয়েছে। ১০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে গাজা শান্তি পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ার পর হুথিরা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের হামলা বন্ধ করে। এরপর মার্স্কসহ কয়েকটি প্রধান নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠান পুনরায় লোহিত সাগরের নৌপথ ব্যবহার শুরু করলেও, অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।[৯৭]
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় হুথিরা সংঘাত আরও বিস্তৃত করার হুমকি দেয়।[৯৮][৯৯] এক মাস পর, ২৮ মার্চ ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পুনরায় হামলা শুরু করে। ২০ জুলাই হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের বিরুদ্ধে চলমান সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপ ও অবরোধের জবাবে তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একটি সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে।
পটভূমি
[সম্পাদনা]ইয়েমেনে হুথি
[সম্পাদনা]হুথি আন্দোলন একটি ইরান সমর্থিত জায়দি শিয়া ইসলামপন্থী সশস্ত্র সংগঠন, যা ইয়েমেনের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এটি দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার নয়। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে হুথিদের ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে তারা রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। অন্যদিকে, হুথিবিরোধী প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইয়েমেনের বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে সংঘাতটি পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নিলে লক্ষ লক্ষ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হন এবং সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে দেশটির অর্থনীতি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে এবং ২০১৬ সাল থেকে সেখানে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যা বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।[১০০][১০১][১০২] সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির কথা উল্লেখ করে মার্কিন সামরিক বাহিনী হুথি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল এবং লোহিত সাগরের আকাশসীমায় একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করে, যা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে। এই ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটে, যখন হুথিদের অব্যাহত হামলা এবং ইয়েমেনের যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা একই সঙ্গে চলছিল।[১০৩]
হুথি আন্দোলন এবং গাজা যুদ্ধ
[সম্পাদনা]মূল নিবন্ধ: ইরান-ইসরায়েল প্রক্সি সংঘাত

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে হামাস নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল আক্রমণের মাধ্যমে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হুথিসহ একাধিক ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানায় এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দেয়। হুথি নেতা আব্দুল-মালিক আল-হুথি যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান এবং সতর্ক করেন যে, এমন হস্তক্ষেপ হলে তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে প্রতিশোধ নেবে। লোহিত সাগরে নিজেদের হামলা বন্ধ করার শর্ত হিসেবে হুথিরা গাজা যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি এবং গাজা উপত্যকার ওপর ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানায়।[১০৪][১০৫]
হুথি আন্দোলনের ব্যবহৃত অস্ত্র
[সম্পাদনা]আর্মামেন্ট রিসার্চ সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, হুথিদের অস্ত্রভান্ডারের অধিকাংশ অস্ত্রের উৎস রাশিয়া, চীন অথবা ইরান।[১০৬][১০৭] তারা ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি রকেট, বিচরণক্ষম আক্রমণাস্ত্র এবং মনুষ্যবিহীন আকাশযান ব্যবহার করে থাকে।[১০৮] ইয়েমেন থেকে ইসরায়েল পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম তাদের পরিচিত অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- তুফান ক্ষেপণাস্ত্র — ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার।[১০৯]
- সোউমর পরিবারের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র — প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।
- কুদস-২ ক্ষেপণাস্ত্র — কথিতভাবে প্রায় ১,৩৫০ কিলোমিটার পাল্লার এবং ইসরায়েলে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে তৈরি।[১১০]
- সামাদ-৩ এবং সামাদ-৪ — প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি পাল্লার মনুষ্যবিহীন আকাশযান ও বিচরণক্ষম আক্রমণাস্ত্র।
- ওয়াইদ ড্রোন — শাহেদ ১৩৬ আদলে নির্মিত প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার বিচরণক্ষম আক্রমণাস্ত্র।
- নৌ ড্রোন — প্রায় ৭ মিটার দীর্ঘ বিস্ফোরকবাহী চালকবিহীন জলযান।[১১১][১১২]
ঘটনাক্রম
[সম্পাদনা]মূল নিবন্ধ: লোহিত সাগর সংকটের সময়রেখা
বাব এল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে প্রায় ১০,০০০ ডেডওয়েট টন বা তার বেশি ধারণক্ষমতার মালবাহী জাহাজ চলাচল করে।
- আক্রমণের আগে
- প্রথম হুথি জাহাজ জব্দ বা হামলার পর (১৯ নভেম্বর ২০২৩)
- নৌ নিরাপত্তা অভিযান শুরু হওয়ার পর (১৮ ডিসেম্বর ২০২৩)
- ইয়েমেনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হামলার পর (১২ জানুয়ারি ২০২৪)
প্রাথমিক পর্যায় (২০২৩)
[সম্পাদনা]নিচে (বাম থেকে ডানে): লোহিত সাগরে টহলরত ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী নৌকা, ১ নভেম্বর ২০২৩; লোহিত সাগরের আকাশে ইসরায়েলি আকাশপথে বাধা প্রদান, ২৭ অক্টোবর ২০২৩।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইরান নেতৃত্বাধীন প্রতিরোধ অক্ষের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে হুথি আন্দোলনও ইসরায়েল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ শুরু করে।[১১৩] ১৯ অক্টোবর মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কার্নি লোহিত সাগরের ওপর দিয়ে ইসরায়েলের দিকে উৎক্ষেপিত চারটি ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫টি ড্রোন প্রতিহত করে। ২৭ অক্টোবর হুথিরা ইসরায়েলের দিকে দুটি ড্রোন নিক্ষেপ করলে সেগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মিশরের তাবা শহরে আঘাত হানে এবং ছয়জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন। ৩১ অক্টোবর এবং ৯ নভেম্বর ইসরায়েল প্রথমবারের মতো যুদ্ধে যথাক্রমে অ্যারো ২ ও অ্যারো ৩ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে হুথিদের নিক্ষেপ করা অস্ত্র প্রতিহত করে।[১১৪]
১৮ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক জাহাজে হুথি হামলা প্রতিরোধে বহুজাতিক নৌ নিরাপত্তা উদ্যোগ অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান গঠনের ঘোষণা দেয়। ৩১ ডিসেম্বর লোহিত সাগরে মার্স্ক হাংঝৌ কন্টেইনার জাহাজে হামলার চেষ্টার সময় মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টারের গুলিতে কয়েকজন হুথি যোদ্ধা নিহত হন।[১১৫]
২০২৪
[সম্পাদনা]ইয়েমেনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হামলা এবং অপারেশন অ্যাস্পাইডস
[সম্পাদনা]মূল নিবন্ধ: ইয়েমেনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিমান হামলা এবং অপারেশন অ্যাস্পাইডস
নিচে (বাম থেকে ডানে): ইয়েমেনে হামলা চালানোর আগে মার্কিন নৌবাহিনীর এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন; একটি মার্কিন নৌযান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ (১২ জানুয়ারি ২০২৪)।
১২ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য, আরও কয়েকটি দেশের সমর্থনে, ইয়েমেনে হুথিদের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে অপারেশন পোসাইডন আর্চার নামে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে।[১১৬][১১৭] অভিযানের প্রথম দিনেই ৬০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয় এবং পাঁচজন হুথি সদস্য নিহত হন। ১৯ ফেব্রুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল রক্ষার উদ্দেশ্যে অপারেশন অ্যাস্পাইডস নামে একটি নৌ অভিযান শুরু করে। ৩০ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইয়েমেনজুড়ে ১৩টি হুথি লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালায়। হুথিদের দাবি অনুযায়ী, এতে ১৬ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং আরও ৪০ জন আহত হন।[১১৮][১১৯]
ইসরায়েল ও হুথিদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
[সম্পাদনা]
১৯ জুলাই একটি সামাদ-৩ ড্রোন তেল আবিবের একটি ভবনে আঘাত হানলে একজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং দশজন আহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ২০ জুলাই ইসরায়েল হুথি নিয়ন্ত্রিত বন্দরনগরী হোদাইদাহে বিমান হামলা চালায়। হামলায় একটি তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত ছয়জন নিহত ও ৮৩ জন আহত হন। ২৯ সেপ্টেম্বর ইসরায়েল ইয়েমেনে পুনরায় হামলা চালিয়ে রাস ইসা এবং হোদাইদাহ বন্দরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, যাতে কয়েকজন নিহত হন।[১২০]
১৯ ডিসেম্বর ইসরায়েল আস-সালিফ বন্দর, রাস ইসা, হোদাইদাহ এবং সানার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায়, যাতে নয়জন নিহত হন। ২৬ ডিসেম্বর তারা সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সানার বিভিন্ন স্থান এবং রাস ইসা ও হোদাইদাহ বন্দরে পুনরায় হামলা চালায়। এতে ছয়জন নিহত ও কয়েক ডজন আহত হন। আহতদের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুসের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে থাকা জাতিসংঘের একজন কর্মীও ছিলেন, যিনি হামলার সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।[১২১]
২০২৫
[সম্পাদনা]জানুয়ারির গাজা যুদ্ধবিরতি
[সম্পাদনা]হুথিরা জানায় যে, ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তারা ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে হামলা স্থগিত রাখবে। একই সঙ্গে হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলাও বন্ধ হয়ে যায়। ২২ জানুয়ারি ওমানের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তির মাধ্যমে গ্যালাক্সি লিডার জাহাজের ২৫ জন নাবিককে মুক্তি দেওয়া হয়। ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই জাহাজটি ২০২৩ সালের নভেম্বরে হুথিরা জব্দ করেছিল।
মার্চ থেকে মে মাসে ইয়েমেনে মার্কিন হামলা
[সম্পাদনা]১৫ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিরুদ্ধে অপারেশন রাফ রাইডার নামে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। প্রথম দিনেই ইয়েমেনের সাতটি প্রদেশে কয়েক ডজন হামলা চালানো হয়, যাতে ৫৩ জন নিহত হন। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, এসব হামলা হুথিদের ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন জাহাজ ও সামরিক সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ১৭ এপ্রিল রাস ইসা বন্দরে এক বিমান হামলায় অন্তত ৭৪ জন নিহত হন, যা এই অভিযানের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা ছিল। ২৮ এপ্রিল সা'দা গভর্নরেটের একটি আটককেন্দ্রে আরেকটি হামলায় ৬৮ জন আফ্রিকান অভিবাসী নিহত এবং ৪৭ জন আহত হন।
৬ মে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করে। চুক্তি অনুযায়ী, হুথিরা আর মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করবে না। ততদিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে ১,০০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছিল। এয়ারওয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় ২২৪ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন, যা ২০০২ সাল থেকে ইয়েমেনে পূর্ববর্তী সব মার্কিন অভিযানে নিহত মোট বেসামরিক মানুষের সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। এই অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয় ৭৫ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি এবং সাতটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়।
ইসরায়েল–হুথি সংঘাতের ধারাবাহিকতা
[সম্পাদনা]৪ মে একটি হুথি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালের কাছে আঘাত হানে। এটি ছিল বিমানবন্দরটির আশপাশে হুথিদের প্রথম সফল সরাসরি হামলা। এতে ছয়জন হালকা থেকে মাঝারি মাত্রায় আহত হন। পরদিন ইসরায়েল হোদাইদাহর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়, যাতে চারজন নিহত হন। ৭ মে তারা সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায়। এতে তিনজন নিহত হন এবং ইয়েমেনিয়ার তিনটি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়। ২৮ মে বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় ইয়েমেনিয়ার শেষ কার্যক্ষম উড়োজাহাজটিও ধ্বংস হয়ে যায়।
২০২৫ সালের জুন মাসে বারো দিনের যুদ্ধ চলাকালে হুথিরা ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালায় এবং যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই দিন পর তাদের প্রথম আক্রমণ পরিচালনা করে। ১৪ জুন ইসরায়েল সানায় হুথিদের প্রধান সামরিক কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদ আল-করিম আল-গামারিকে হত্যার চেষ্টা চালালেও তিনি বেঁচে যান। ২৪ আগস্ট হুথিরা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দিকে গুচ্ছ যুদ্ধাস্ত্র নিক্ষেপ করার কয়েক দিন পর ইসরায়েল সানায় রাষ্ট্রপতি প্রাসাদ এলাকাসহ একাধিক স্থানে হামলা চালায়। এতে অন্তত দশজন নিহত এবং ১০২ জন আহত হন। ২৮ আগস্ট সানায় হুথি নেতাদের এক বৈঠকে ইসরায়েলি হামলায় হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের মন্ত্রিসভার ১২ জন সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউইও ছিলেন এবং আল-গামারি গুরুতর আহত হন।
৭ সেপ্টেম্বর একটি হুথি ড্রোন রামোন বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে আঘাত হানে। ১০ সেপ্টেম্বর সানা ও আল জাওফ গভর্নরেটে ইসরায়েলি হামলায় ৪৬ জন নিহত এবং ১৬৫ জন আহত হন। সানার একটি গণমাধ্যম কমপ্লেক্সে হামলায় ৩১ জন সাংবাদিক নিহত হন, যা সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটির তথ্য অনুযায়ী গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সংঘটিত দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাণঘাতী হামলা। ১৮ সেপ্টেম্বর একটি হুথি ড্রোন সরাসরি এইলাতের একটি হোটেলে আঘাত হানে। ২৪ সেপ্টেম্বর এইলাতে আরেকটি ড্রোন হামলায় ২২ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। পরদিন ইসরায়েল সানায় হুথিদের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যা ইয়েমেনে তাদের এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেন, এতে কয়েক ডজন হুথি সদস্য নিহত হয়েছে। অন্যদিকে হুথি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, হামলায় নয়জন নিহত এবং ১৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
অক্টোবরের গাজা যুদ্ধবিরতি
[সম্পাদনা]১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর হুথিরা ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে তাদের হামলা স্থগিত করে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত ইজ্জ আদ-দীন আল-কাসসাম ব্রিগেডকে লেখা একটি তারিখবিহীন চিঠিতেও তারা হামলা বন্ধ রাখার ইঙ্গিত দেয়। তবে তারা সতর্ক করে যে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে হামলা পুনরায় শুরু করা হবে। ৩ ডিসেম্বর এটারনিটি সি নামের গ্রিক মালিকানাধীন মালবাহী জাহাজ থেকে আটক ১১ জন নাবিককে হুথিরা মুক্তি দেয়। ২৫ ডিসেম্বর হুথিরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইউনিটের প্রধান জাকারিয়া আবদুল্লাহ ইয়াহিয়া হাজারসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘোষণা দেয়। যদিও মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয় যে তারা মার্চ মাসে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হয়েছিলেন।
২০২৬
[সম্পাদনা]২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হুথিরা সংঘাত আরও বিস্তৃত করা এবং লোহিত সাগরে হামলা পুনরায় শুরু করার হুমকি দেয়। ইয়েমেনের জন্য জাতিসংঘের বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ সব পক্ষকে উত্তেজনা বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো পক্ষেরই দেশটিকে এমন বৃহত্তর সংঘাতে জড়ানোর অধিকার নেই, যা ইয়েমেনের জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেবে।
হুথিরা ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিবৃতি দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করেনি। কারণ তারা ২০১৪ সাল থেকে চলমান ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে নতুন রণাঙ্গন খুলতে অনিচ্ছুক ছিল এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতের অবসানের দিকেই মনোযোগ দিতে চেয়েছিল। ১৬ মার্চ দ্য টাইমস জানায়, হুথিরা ইরানের সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে এবং মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের প্রভাব দুর্বল করলে তারা পুনরায় হামলা শুরু করতে পারে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাব এল-মান্দেব তখনও কার্যকর তেল পরিবহনপথ হিসেবে রয়ে গেছে এবং ইয়ানবুর কাছে অবস্থানরত প্রায় ৩০টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হুথিদের সম্ভাব্য হামলার আওতায় ছিল। তবে সে সময় হুথি বাহিনী তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিল।
প্রায় ২০ মার্চ হুথি আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি জানান, সংগঠনটি একটি সামুদ্রিক অবরোধ আরোপের বিষয় বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে ইরান, ইরাক, লেবানন ও ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে সামরিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে যেসব দেশকে তারা আক্রমণকারী হিসেবে বিবেচনা করে, সেসব দেশের জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তিনি এই পদক্ষেপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে সমর্থন প্রদর্শনের কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেন।
২৮ মার্চ হুথিরা যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়ে ইসরায়েলের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পরে তারা সতর্ক করে যে, বাব এল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দেওয়াও একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ এবং ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে সংঘাত তীব্র হলে অথবা উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধে যোগ দিলে তারা তা বাস্তবায়ন করতে পারে। ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর হুথি নেতা আব্দুল-মালিক আল-হুথি একে ইরান ও প্রতিরোধ অক্ষের জন্য একটি ‘মহান বিজয়’ বলে অভিহিত করেন এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে নতুন হামলার হুঁশিয়ারি দেন।
২০ জুলাই হুথিরা প্রায় ১২ বছর ধরে ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের আরোপিত ‘আগ্রাসী অবরোধ’-এর জবাবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একটি সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। তাদের অভিযোগ ছিল, এই অবরোধের মাধ্যমে ইয়েমেনের সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়েছে এবং স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে দেশটির বন্দর ও বিমানবন্দর অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে। ঘোষণার পর বাব এল-মান্দেব প্রণালী অতিক্রমকারী সৌদি তেলবাহী দুটি ট্যাঙ্কার এবং ইয়ানবুগামী আরেকটি ট্যাঙ্কার তাদের নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করে। ২২ জুলাইয়ের মধ্যে পথ পরিবর্তনকারী জাহাজের সংখ্যা বেড়ে সাতটিতে পৌঁছায়। একই দিনে মার্কিন নৌবাহিনীর যৌথ সামুদ্রিক তথ্যকেন্দ্র সতর্ক করে জানায়, হুথিরা জাহাজ চলাচলের ওপর সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে বাব এল-মান্দেবের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন সম্পন্ন করেছে।
বাণিজ্যিক জাহাজে হুথি হামলা
[সম্পাদনা]মূল নিবন্ধ: বাণিজ্যিক জাহাজে হুথি হামলা
২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর হুথি আন্দোলন লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা শুরু করে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৪০টি জাহাজ আক্রান্ত হয়। বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহন কোম্পানিগুলো, যারা সাধারণত লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল হয়ে চলাচল করত, তারা পরিবর্তে তাদের জাহাজ দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ উপদ্বীপ সংলগ্ন উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরিয়ে পরিচালনা করতে শুরু করে। ২০২৩ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুথিদের হামলার ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ১.৩ শতাংশ হ্রাস পায়। ২০২৪ সালের মার্চের মধ্যে আগের নভেম্বরের প্রথম হামলার পর থেকে ২,০০০-এরও বেশি জাহাজ লোহিত সাগরের পথ এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচল শুরু করে, যার ফলে পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
প্রথমদিকে হুথিরা কেবল ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিলেও পরে এক ডজনেরও বেশি দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজেও হামলা চালায়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তারা এসব হামলাকে তাদের ভাষায় ‘আমাদের দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের আগ্রাসনের’ প্রতিশোধ হিসেবে বর্ণনা করে। এর জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় কমান্ড জানায়, হুথিদের হামলার সঙ্গে গাজার সংঘাতের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা লোহিত সাগরে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে ৪০টিরও বেশি দেশের জাহাজকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ৩ মে ২০২৪ তারিখে হুথি সমর্থিত ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক টেলিভিশন ভাষণে ঘোষণা করেন যে, ভূমধ্যসাগরে ইসরায়েলি বন্দরের উদ্দেশে যাত্রাকারী যেকোনো জাহাজ তাদের নাগালের মধ্যে এলে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
সমস্যা
[সম্পাদনা]অপতথ্য
[সম্পাদনা]আরও দেখুন: গাজা যুদ্ধে অপতথ্য
হুথি আন্দোলন এবং তাদের সমর্থকেরা সংঘাত চলাকালে একটি ব্যাপক অপতথ্য প্রচারণা পরিচালনা করে। মার্কিন নৌবাহিনীর মতে, এসব ভুয়া তথ্যের উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লোহিত সাগর এবং আশপাশের জলসীমায় নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার প্রচেষ্টা দুর্বল করা এবং হুথিদের একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে হুথিরা কেওআই নামের একটি মার্কিন জাহাজে হামলার দাবি করলেও সামুদ্রিক সূত্র বিবিসিকে জানায় যে এ দাবি মিথ্যা। হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ইসলাম টাইমস এবং আল মায়াদিন হুথিদের এই ভুয়া দাবিগুলো প্রচার করে। ২৮ জানুয়ারি ইসলাম টাইমস ২০২১ সালের এক্স-প্রেস পার্ল অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য প্রকাশ করে সেটিকে একটি ব্রিটিশ জাহাজে হুথি হামলার ফল বলে দাবি করে। তিন দিন পর আল মায়াদিন দাবি করে যে, হুথিরা ইউএসএস গ্র্যাভেলিতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে, যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।
এক্স (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম)সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা পুরোনো বা বিকৃত ছবি ও ভিডিও প্রচার করে সেগুলোকে হুথি হামলার দৃশ্য বলে মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক্সের ব্যবহারকারীরা ২০১৮ সালে ইউএসএস রেসিন (এলএসটি-১১৯১) ডুবে যাওয়া এবং এক্স-প্রেস পার্ল বিপর্যয়ের ছবি প্রকাশ করে দাবি করেন যে সেগুলো স্টার নাসিয়া ও মর্নিং টাইড জাহাজে হুথিদের হামলার দৃশ্য। জুন মাসে ব্যবহারকারীরা ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ারের একটি উপগ্রহচিত্র ডিজিটালভাবে সম্পাদনা করে সেটিকে হুথি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বলে প্রচার করেন। একই ধরনের আরও বহু বিকৃত বা ভুলভাবে চিহ্নিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যদিও এর কিছু ছিল ব্যঙ্গাত্মক উদ্দেশ্যে তৈরি।
চেক প্রজাতন্ত্রেের নির্মিত ভিডিও গেম আরমা ৩ের দৃশ্যও সংঘাতসংক্রান্ত অপতথ্য ছড়াতে ব্যবহার করা হয়। দ্য ইন্টেল ড্রপ এবং প্রাভদাসহ কয়েকটি রুশ ওয়েবসাইট গেমটির দৃশ্য প্রকাশ করে মিথ্যাভাবে দাবি করে যে, সেখানে ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ারের ওপর হামলার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। গেমটির নির্মাতা বোহেমিয়া ইন্টারেক্টিভ জানায়, এসব ভুয়া ভিডিও প্রতিরোধের প্রচেষ্টা কার্যকর হচ্ছে না, কারণ একটি ভিডিও সরিয়ে ফেললেই প্রতিদিন আরও বহু নতুন ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে। একইভাবে গেমটির দৃশ্যকে জাহাজে হামলা এবং সানার আকাশে হুথিদের দ্বারা একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনা বলেও ভুলভাবে প্রচার করা হয়।
বিদেশী সম্পৃক্ততা
[সম্পাদনা]আরও দেখুন: হুথি আন্দোলন § কথিত ইরান, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া এবং চীনের সমর্থন
ইরান
[সম্পাদনা]রয়টার্স নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি সূত্র এবং ‘ইরানের ঘনিষ্ঠ একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা’র বরাত দিয়ে জানায় যে, ইরানি কর্মীরা ইয়েমেনে হিজবুল্লাহর সদস্যদের সঙ্গে কাজ করছিলেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তাদের দায়িত্বের মধ্যে ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের হামলা পরিচালনা ও তদারক করা। একই সূত্রগুলোর দাবি, গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান হুথিদের কাছে উন্নত ড্রোন, জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বৃদ্ধি করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা সেমাফোরকে জানান যে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার ও উপদেষ্টারা ইয়েমেনে অবস্থান করে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুথিদের হামলায় সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাহিনীটি ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পরিচালনাকারী এবং প্রশিক্ষকদেরও মোতায়েন করেছিল। কুদস বাহিনী আক্রমণকারী ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থানান্তরের তদারকি করেছে বলে দাবি করা হয়, যেগুলো লোহিত সাগর ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল।
পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী একটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকারী জাহাজ মোতায়েন করেছিল, যা বেতার যোগাযোগ ও শনাক্তকারী সংকেত বন্ধ করে চলাচলকারী জাহাজের অবস্থান নির্ণয়ে হুথিদের সহায়তা করত। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের মতে, জাহাজটি সম্ভবত এমভি বেহশাদ, যা এমভি সাভিজের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল। এর আগে ২০২১ সালের এপ্রিলে সাভিজ একটি ইসরায়েলি লিম্পেট মাইন হামলার শিকার হয়েছিল। পরবর্তীকালে ইরানের আলবোর্জ ফ্রিগেটও লোহিত সাগরে প্রবেশ করে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর স্ট্রিন্ডা নামের নরওয়ের পতাকাবাহী জাহাজে হামলায় হুথিরা ইরানে নির্মিত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল। ধ্বংসাবশেষে ইরানের নূর ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত টলু-৪ টার্বোজেট ইঞ্জিনের বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা হয়। এর আগে একটি বীমা প্রতিষ্ঠানও ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে একই ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এনবিসি নিউজ দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায় যে, ইরান সরাসরি হুথিদের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন লক্ষ্য করে হামলা চালাতে সহায়তা করছিল। লোহিত সাগর সংকট চলাকালে এসব ড্রোনের কয়েকটি ভূপাতিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মকর্তারা সহায়তার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি। তবে ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির গবেষক মাইকেল নাইটস বলেন, হুথিরা ইরানের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ৩৫৮ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এসএ-২ ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছিল, যা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে এবং মার্কিন ড্রোন লক্ষ্যবস্তু করতে সহায়তা করেছে।
উত্তর কোরিয়া
[সম্পাদনা]ভয়েস অব আমেরিকা জানায়, হুথিদের নিক্ষেপ করা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রে পাওয়া হাঙ্গুল লিপির ভিত্তিতে ধারণা করা হয় যে উত্তর কোরিয়া ইরানের মাধ্যমে হুথিদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করে থাকতে পারে।
চীন
[সম্পাদনা]২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুটি চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠান দুটি এমন দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য উপাদান ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে, যা হুথিদের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও মনুষ্যবিহীন আকাশযানের অস্ত্রভান্ডার তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবহারে সহায়ক ছিল। ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লোহিত সাগরে চীনা জাহাজের নিরাপদ চলাচলের বিনিময়ে হুথিরা চীনে তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করে অন্যান্য জাহাজে হামলা চালাচ্ছিল। আই২৪নিউজের এক প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, চীন হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য উন্নত যন্ত্রাংশ ও দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চ্যাং গুয়াং স্যাটেলাইট টেকনোলজি কর্পোরেশন লোহিত সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্যবস্তু করতে হুথিদের ভূস্থানিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছিল।
রাশিয়া
[সম্পাদনা]২০২৪ সালের জুলাই মাসে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, মার্কিন কর্মকর্তারা ক্রমবর্ধমান ইঙ্গিত পাচ্ছিলেন যে রাশিয়া, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতিক্রিয়ায়, ইরানের চোরাচালানপথ ব্যবহার করে হুথিদের উন্নত জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বিরোধিতার কারণে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৪ সালের আগস্টে মিডল ইস্ট আই এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায় যে, রাশিয়ার প্রধান গোয়েন্দা অধিদপ্তরের সদস্যরা ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় হুথিদের সহায়তা করার জন্য মোতায়েন ছিলেন। একই বছরের অক্টোবরে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানায়, রাশিয়া বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করার জন্য হুথিদের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছিল।
যুদ্ধাপরাধ
[সম্পাদনা]আরও দেখুন: গাজা যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ
হুথিরা ঘোষণা করেছিল যে, তারা এমন জাহাজও লক্ষ্যবস্তু করবে যেগুলোর কোনো সামরিক ভূমিকা নেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অন্যান্য সংস্থার মতে, এ ধরনের হামলা সংঘটিত হলে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সংস্থাটি আরও জানায়, আটক নাবিকদের মুক্তি বা নিরাপত্তার বিনিময়ে কোনো তৃতীয় পক্ষকে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে বা তা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে তাদের আটক রাখা হলে, সেটি জিম্মি হিসেবে গণ্য হবে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী জিম্মি করা একটি গুরুতর লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে হুথিদের প্রতি আহ্বান জানায়, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধের অংশ হিসেবে বেসামরিক ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা বন্ধ করতে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইয়েমেনে ইসরায়েলের বিমান হামলাকেও সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে। সংস্থাটির মতে, হামলাটি দৃশ্যত বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচার বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ আক্রমণ ছিল। একই সঙ্গে হামলার আগের দিন তেল আবিবে হুথিদের ড্রোন হামলাকেও সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, কারণ সেটিও ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা নির্বিচারে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল।
প্রভাব
[সম্পাদনা]ইসরায়েল এবং মিশর
[সম্পাদনা]হুথি হামলার কারণে ইসরায়েলে জাহাজ চলাচল ও স্থানীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এইলাতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এশিয়া থেকে ইসরায়েলে আসা বাণিজ্যিক জাহাজ এবং কিছু ইসরায়েলগামী নয় এমন জাহাজও আফ্রিকা ঘুরে চলাচল শুরু করে, যার ফলে যাত্রার সময় প্রায় তিন সপ্তাহ বেড়ে যায় এবং ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে শতাধিক কন্টেইনার জাহাজকে আফ্রিকা ঘুরে চলাচলের জন্য পথ পরিবর্তন করতে হয়, যার ফলে প্রতিটি যাত্রায় প্রায় ৬,০০০ নটিক্যাল মাইল অতিরিক্ত দূরত্ব যুক্ত হয়।
লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের বীমা খরচও বৃদ্ধি পায়। কিছু ইসরায়েলি জাহাজের ক্ষেত্রে বীমার খরচ ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায় এবং কিছু জাহাজ কোনো বীমা সুবিধাই পায়নি। ইসরায়েল সরবরাহ ব্যবস্থায় বিলম্ব ও মূল্যবৃদ্ধির মুখোমুখি হলেও, মিশরের অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও গুরুতর হয়। কারণ সুয়েজ খালের মাধ্যমে জাহাজ চলাচল থেকে মিশরের অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ৯.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়। একই সময়ে গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ায় মিশর ঋণ সংকটের মধ্যেও পড়ে।
২০২৪ সালের মার্চে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানায়, লোহিত সাগর সংকটের কারণে এইলাত বন্দর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ায় বন্দরের অর্ধেক কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে ছিলেন। হিস্তাদরুত শ্রমিক ফেডারেশন জানায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২০ জন কর্মীর মধ্যে অর্ধেককে ছাঁটাই করার ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইয়েমেনের অবরোধের কারণে বন্দরের কার্যক্রম ৮৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় এইলাত বন্দর দেউলিয়া ঘোষণা করে এবং ইসরায়েলি সরকারের কাছে সহায়তা চায়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বন্দরের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয় এবং সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, সুয়েজ খালের বার্ষিক আয় ২০২৩–২৪ অর্থবছরে কমে প্রায় ৭.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়, যেখানে আগের বছর তা প্রায় ৯.৪ বিলিয়ন ডলার ছিল।
বিশ্ব অর্থনীতি
[সম্পাদনা]হুথি হামলার কারণে বড় বড় জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লোহিত সাগর দিয়ে চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে ছিল এমএসসি, মার্স্ক, সিএমএ সিজিএম, কসকো, হ্যাপাগ-লয়েড এবং এভারগ্রিন মেরিন কর্পোরেশন। ১৮ ডিসেম্বর, ব্রিটিশ বহুজাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানি বিপিও লোহিত সাগর দিয়ে সব ধরনের চালান স্থগিত করে। বিশ্বব্যাপী কন্টেইনার পরিবহন বাজারে প্রায় ১৪.৮ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকা মার্স্ক ২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর জানায় যে অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ানের কারণে তারা শিগগিরই কার্যক্রম পুনরায় শুরু করবে। তবে ৩০ ডিসেম্বর কার্যক্রম শুরু করার পর মার্স্ক গুয়াংঝো জাহাজে হামলার কারণে তারা আবার তা স্থগিত করে।
২০২৪ সালের মে মাসে মার্স্ক জানায়, লোহিত সাগর সংকটের কারণে পুরো শিল্পে জাহাজ পরিবহন সক্ষমতা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি টেসলা জানায়, সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে তারা ২৯ জানুয়ারি থেকে দুই সপ্তাহের জন্য জার্মানির গ্রুনহাইডে অবস্থিত তাদের একমাত্র ইউরোপীয় কারখানায় অধিকাংশ উৎপাদন বন্ধ রাখবে। ভলভো কারসও জানায়, তারা বেলজিয়ামের ঘেন্ট কারখানায় তিন দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ রাখবে। শেল পিএলসিও লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহন স্থগিত করে।
১৮ ডিসেম্বর, এভারগ্রিন মেরিন কর্পোরেশন ঝুঁকি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের আমদানি ও রপ্তানি পরিষেবা স্থগিত করে। ২০২৪ সালের জানুয়ারির শুরুতে চতুর্থ বৃহত্তম জাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠান কসকো এবং এর কন্টেইনার পরিবহন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওওসিএলও ইসরায়েলে সব পরিষেবা বন্ধ করে। ২১ ডিসেম্বর এইলাত বন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ইয়েমেনের হামলার পর বন্দরের কার্যক্রম ৮৫ শতাংশ কমে গেছে।
অনেক জাহাজ নিরাপদ পথ হিসেবে আফ্রিকা ও কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলাচল শুরু করে। এই পথ ব্যবহারে অতিরিক্ত প্রায় দশ দিন সময় লাগে, বেশি জ্বালানি খরচ হয় এবং নাবিকদের দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকতে হয়। লোহিত সাগর দিয়ে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সুয়েজ খালের ব্যবহার কমে যায়, যা মিশরের অর্থনীতির জন্য বড় আঘাত হয়ে দাঁড়ায়।
তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মালবাহী জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখে। বড় কন্টেইনার জাহাজগুলোর অধিকাংশ বিকল্প পথ ব্যবহার করলেও, বাল্ক ক্যারিয়ার ও ট্যাঙ্কারগুলো লোহিত সাগর ব্যবহার চালিয়ে যায়। ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে লোহিত সাগরে প্রতিদিন সক্রিয় জাহাজের গড় সংখ্যা ছিল ১০৫টি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং ৫৮টি ট্যাঙ্কার, যা আগের সপ্তাহে যথাক্রমে ১১৫টি ও ৭০টি ছিল। এর বিপরীতে, বিশ্বের দশটি বৃহত্তম কন্টেইনার পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টি মূলত লোহিত সাগর এড়িয়ে চলছিল।
কসকো এবং ওওসিএল ইসরায়েলে পরিষেবা বন্ধ করার পর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এক হুথি কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কহীন চীনা ও রুশ জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। একই সময়ে অধিকাংশ সামুদ্রিক বীমা প্রতিষ্ঠান লোহিত সাগরপথ ব্যবহারকারী জাহাজের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকার নিশ্চয়তা চাইতে শুরু করে। কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকার শর্তও আরোপ করা হয়।
ইয়েমেনে হুথি লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন হামলার পর বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে কাতার ওই পথ দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনকারী ট্যাঙ্কারের চলাচল বন্ধ করে দেয়। ইউরোপের অন্যতম প্রধান এলএনজি সরবরাহকারী হওয়ায় কাতারের রপ্তানি স্থগিত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি শেল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কারণে লোহিত সাগরের সব চালান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন জাহাজের প্রতি হুথিদের আহ্বানের পর কিছু জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় “ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই” বার্তা প্রচার করতে শুরু করে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে লোহিত সাগর সংকটের কারণে যুক্তরাজ্যের অর্ধেকের বেশি রপ্তানি ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের কন্টেইনার ভাড়ার খরচ ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা নগদ অর্থপ্রবাহের সমস্যা এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের ঘাটতির কথাও জানায়।
জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাংহাই থেকে ইউরোপগামী কন্টেইনারের তাৎক্ষণিক ভাড়া গড়ে ২৫৬ শতাংশ বেড়ে যায়। একই সময়ে সুয়েজ খাল দিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৪২ শতাংশ কমে যায়। ২০২৪ সালের জুনে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত লোহিত সাগরে কন্টেইনার পরিবহন ৯০ শতাংশ কমে যায়। সংস্থাটি আরও জানায়, ৬৫টি দেশের ২৯টি জ্বালানি ও জাহাজ পরিবহন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনেক জাহাজ কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলাচল শুরু করে। এতে প্রতিটি যাত্রায় অতিরিক্ত প্রায় ১১,০০০ নটিক্যাল মাইল দূরত্ব, দশ দিন সময় এবং প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় যুক্ত হয়।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত লোহিত সাগরে হুথি হামলার কারণে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য পরিবহনে প্রভাব পড়েছে বলে রাসেল গ্রুপ অনুমান করে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে সুয়েজ খাল দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা ২,০৬৮টি থেকে কমে ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রায় ৮৭৭টিতে নেমে আসে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ লোহিত সাগরের বাব-এল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে প্রায় ২০০টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করলেও, বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনের খরচ গাজা যুদ্ধের আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত প্রণালীটির দৈনিক যান চলাচল যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্তরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।
লোহিত সাগর সংকট সুদান এবং দেশটির চলমান গৃহযুদ্ধের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দেশটির প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র পোর্ট সুদানের মাধ্যমে আমদানি গ্রহণের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে, যা আগে থেকেই দুর্বল অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে। হুথিদের হামলা সুদানের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সাহায্যবাহী চালান আটকে দিয়েছে, মানবিক সংস্থাগুলোর জন্য দেশে কার্যক্রম পরিচালনা আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির সুদানি পরিচালক ইতিজাজ ইউসিফ বলেন, হামলার কারণে যেসব চালান সাধারণত এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছাত, সেগুলো এখন দেশে পৌঁছাতে কয়েক মাস সময় নিচ্ছে। কারণ পোর্ট সুদানের পথে সাহায্যবাহী জাহাজগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য আফ্রিকা প্রদক্ষিণ করে, ভূমধ্যসাগর অতিক্রম করে এবং পরে সুয়েজ খাল দিয়ে লোহিত সাগরে প্রবেশ করতে হচ্ছে।
প্রতিক্রিয়া
[সম্পাদনা]জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ
[সম্পাদনা]জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ১০ জানুয়ারি ২০২৪-এ রেজোলিউশন ২৭২২ গ্রহণ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পৃষ্ঠপোষকতায় গৃহীত এই প্রস্তাবে হুথিদের হামলার নিন্দা জানানো হয়, নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিজ নিজ জাহাজ রক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে হুথিদের গ্যালাক্সি লিডার জাহাজ ও এর নাবিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। ভোটের ফলাফল ছিল ১১-০; চারটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়, আর রাশিয়া ও চীন ভোটদানে বিরত থাকে।
২৭ অক্টোবরের ঘটনার পর একটি শিল্প প্রদর্শনীতে দেওয়া এক ভাষণে মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি গাজা যুদ্ধের সব পক্ষকে মিশরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আরও কোনো আক্রমণ হলে মিশরীয় সেনাবাহিনী দেশকে রক্ষা করতে সক্ষম। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে ইসরায়েল পশ্চিমা মিত্রদের হুথিদের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাচি হানেগবি বলেন, হুমকি অব্যাহত থাকলে অবরোধ দূর করতে তারা পদক্ষেপ নেবে। জানা যায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণী অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। তবে আল-ইসলাহ ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুথিদের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করলেও গাজা যুদ্ধে হুথিদের প্রতিক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানায়।
২৫ জানুয়ারি ২০২৪-এ আব্দুল-মালিক আল-হুথি বলেন, তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি জনগণকে সমর্থন করা এবং এর বাইরে তাদের আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। তিনি আরও বলেন, গাজার সব এলাকায় খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছানো শুরু হলেই হুথিদের অভিযান বন্ধ হয়ে যাবে। ৩০ জানুয়ারি হুথি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ আল-আতিফি বলেন, তারা স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ এক হুথি মুখপাত্র বলেন, যখন ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনার রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব উদ্বিগ্ন ছিল, তখন ওয়াশিংটন গণহত্যার ঘটনা অস্বীকার করতে দ্বিধা করেনি। তার মতে, যারা এমন অবস্থান নিতে পারে, তারা সহজেই লোহিত সাগর ও গাজায় চলমান ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক অস্বীকার করতে পারে।
অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান: আমেরিকান নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট
[সম্পাদনা]যদিও মার্কিন নৌবাহিনী লোহিত সাগরে হুথিদের নিক্ষেপ করা রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে, তবে এসব হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেয়নি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাব এল-মান্দেব প্রণালী এবং এডেন উপসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষার জন্য একটি বহুপাক্ষিক নৌ টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা দেয়। অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান নামের এই অভিযানটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩-এ শুরু হয়। বাণিজ্যিক জাহাজকে আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য এটি অতীতের বিভিন্ন অভিযানের অনুরূপ, যার মধ্যে ১৯৮০-এর দশকে ট্যাঙ্কার যুদ্ধ চলাকালে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে পরিচালিত অভিযান এবং বাহরাইনভিত্তিক মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন টাস্ক ফোর্স কম্বাইন্ড টাস্ক ফোর্স ১৫৩-এর চলমান সামুদ্রিক নিরাপত্তা অভিযান অন্তর্ভুক্ত। এই অভিযানকে এক দশক আগে আফ্রিকার শৃঙ্গ উপকূলে সোমালি জলদস্যুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সফল বহুপাক্ষিক নৌ অভিযানের সঙ্গেও তুলনা করা হয়েছে। তবে সোমালি জলদস্যুদের বিপরীতে হুথিরা ইরানের সমর্থন এবং হেলিকপ্টার, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও দ্রুতগতির নৌযানের মতো উন্নত সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির সুবিধা পায়।
সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য স্বাধীন নৌ টহল
[সম্পাদনা]ফ্রান্স, ইতালি এবং ভারত প্রত্যেকেই স্বাধীনভাবে এই অঞ্চলে নৌ বহর পাঠিয়েছে। ফরাসি ফ্রিগেট ল্যাঙ্গেডক হুথি নিয়ন্ত্রিত বন্দর থেকে উৎক্ষেপিত ড্রোন প্রতিহত করেছে এবং ইতালি নিরাপদ ভূমধ্যসাগরীয় অভিযানের আওতায় ফ্রিগেট ভার্জিনিও ফাসান পাঠিয়েছে। ভারতও লোহিত সাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য দুটি কলকাতা শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার পাঠিয়েছে।
ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ
[সম্পাদনা]২০২৪ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা হুথি যোদ্ধাদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে। জাহাজে হুথিদের হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হুথি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। কিছু বিক্ষোভকারীকে “ইয়েমেন, ইয়েমেন আমাদের গর্বিত করে, আরেকটি জাহাজ ঘুরিয়ে দাও” ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়। অন্যরা “ইয়েমেন থেকে হাত সরাও”, “ধন্যবাদ ইয়েমেন” এবং “যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চায়। ইয়েমেন ফিলিস্তিনকে সমর্থন করে। গাজা বাঁচতে চায়” লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে।
আন্তর্জাতিক
[সম্পাদনা]- বাহরাইন: ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফা এবং অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন হুথিদের হামলা নিয়ে আলোচনা করেন এবং নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য তাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ানে যোগদানকারী একমাত্র আরব দেশ ছিল বাহরাইন।
- চীন: চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লোহিত সাগর সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং হামলা বন্ধের আহ্বান জানায়। চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ২৭২২-এ ভোটদানে বিরত ছিল।
- ডেনমার্ক: ডেনমার্ক হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হামলার প্রতি সমর্থন জানায় এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করার জন্য তাদের সতর্ক করে।
- জিবুতি: সংকটের মধ্যে জিবুতি বাব এল-মান্দেব প্রণালী বরাবর উপকূলরক্ষী টহল জোরদার করে। জিবুতির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী ইউসুফ বলেন, এসব হামলা “ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি দৃঢ় সংহতি” প্রকাশ করে এবং তিনি হুথিদের প্রতি সমর্থন জানান। তবে তিনি হুথিদের হামলা বন্ধ করার আহ্বানও জানান, কারণ এসব কর্মকাণ্ড দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
- ফ্রান্স: ফ্রান্স বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের হামলার নিন্দা জানায় এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ২৭২২ গৃহীত হওয়ার পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করে।
- জার্মানি: জার্মানি হুথিদের হামলাকে সহিংস ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে নিন্দা করে। দেশটি জানায়, এসব হামলা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং জাহাজের নাবিকদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
- ভারত: ভারত ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা করে এবং ভারতীয় রপ্তানিকারকদের হামলা থেকে রক্ষার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর মধ্যে নজরদারি বৃদ্ধি এবং ভারতীয় জাহাজগুলোকে সুরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- ইরান: ইরান হুথিদের অভিযানের প্রতি সমর্থন জানায়। একই সঙ্গে ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলার নিন্দা করে এগুলোকে “স্বেচ্ছাচারী” আখ্যা দেয় এবং বলে যে এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
- ইতালি: ইতালি জানায়, সশস্ত্র সংঘাত শুরু না করে হুথিদের হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
- জাপান: জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নৌচলাচলের স্বাধীনতায় হুথিদের হস্তক্ষেপের নিন্দা করে এবং অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানায়। ২০২৩ সালের নভেম্বরে জাপান জানায়, তারা ছিনতাই হওয়া গ্যালাক্সি লিডার জাহাজের মুক্তি নিশ্চিত করতে হুথি ও ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
- রাশিয়া: রাশিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৭২২ নম্বর প্রস্তাব এবং এর প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ভোটদানে বিরত থাকে। সংশোধনীতে অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ানের অনুমোদন প্রত্যাহার এবং গাজা যুদ্ধকে হামলার মূল কারণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। রাশিয়া হুথিদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হামলারও নিন্দা জানায়।
- সৌদি আরব: সৌদি আরব অঞ্চলটির উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে হুথিদের মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করে।
- সোমালিয়া: কেনিয়ায় নিযুক্ত সোমালিয়ার রাষ্ট্রদূত জাবরিল ইব্রাহিম আব্দুল্লে বলেন, এসব হামলা সোমালিয়ার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি সমুদ্রপথে হুথিদের কাছ থেকে আল-শাবাবের অস্ত্র সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
- সংযুক্ত আরব আমিরাত: সংযুক্ত আরব আমিরাত হুথিদের হামলার পরিণতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং একে “অগ্রহণযোগ্য হুমকি” বলে অভিহিত করে।
বিশ্লেষণ
[সম্পাদনা]৭ আগস্ট ২০২৪-এ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল জর্জ উইকফ বলেন, লোহিত সাগর সংকটে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমেরিকান ও ব্রিটিশ পদ্ধতি হুথিদের নিরুৎসাহিত করতে এবং এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলে হামলা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, হামলা ও প্রতিরক্ষামূলক প্রচেষ্টা হুথিদের আচরণ পরিবর্তনে খুব সামান্যই প্রভাব ফেলেছে। হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো এবং সাবেক নৌবাহিনীর সাবমেরিন কর্মকর্তা ব্রায়ান ক্লার্ক বলেন, লোহিত সাগর সংকট ছিল “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন নৌবাহিনীর দেখা সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ—নিঃসন্দেহে”।
২৫ এপ্রিল ২০২৪-এ সিএনএন প্রতিবেদন প্রকাশ করে যে, হুথিদের দ্বারা মার্কিন রিপার ড্রোন সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করার ফলে ইয়েমেনে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং হুথি নেতাদের নির্মূল করার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে আকাশে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Are the Houthis Attacking Ships in the Mediterranean?"। The Washington Institute for Near East Policy (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ জুলাই ২০২৪। ৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুলাই ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১০ জুলাই ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ Jansen, Michael (২০ জুলাই ২০২৫)। "Israel's Red Sea port of Eilat halts operations due to Yemeni-Houthi blockade"। The Irish Times (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুলাই ২০২৫।
- ↑ Bertrand, Natasha; Atwood, Kylie (৬ মে ২০২৫)। "Trump says US to stop strikes on Houthis in Yemen"। CNN। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০২৫।
- ↑ "Yemen's Houthi rebels signal that they've stopped attacks on Israel and Red Sea shipping"। NBC News (ইংরেজি ভাষায়)। Associated Press। ১১ নভেম্বর ২০২৫। ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "semafor" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Landay, Jonathan (৮ ডিসেম্বর ২০২৩)। "Biden aide says Iran helps plan, execute attacks by Yemen's Houthis"। Reuters। ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "hez" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - 1 2 "خلال 10 أيام.. مقتل 75 حوثيا في الضربات الغربية" [Within 10 days.. 75 Houthis were killed in Western strikes] (আরবি ভাষায়)। Sky News Arabia। ২১ জানুয়ারি ২০২৪। ২১ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২২ জানুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ Mallawarachi, Bharatha (৯ জানুয়ারি ২০২৪)। "Sri Lanka to join US-led naval operations against Houthi rebels in Red Sea" (ইংরেজি ভাষায়)। Associated Press। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ Brar, Aadil (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪)। "China sends warships to the Middle East"। Newsweek। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ Awadalla, Nadine; Solsvik, Terje; এবং Stewart, Phil (১২ ডিসেম্বর ২০২৩)। "Yemen's Houthis claim attack on Norwegian tanker"। Reuters। ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০২৩।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "זה מה שקרה בדקות בין זיהוי הכטב"ם – ליירוט ההיסטורי בלב ים"। Israel Defense Forces (হিব্রু ভাষায়)। ২৮ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২৯ এপ্রিল ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "Israel Navy deploys Sa'ar 5-class corvette INS Hanit in Red Sea against Yemeni Houthis"। Navy Recognition (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ২ নভেম্বর ২০২৩। ১৯ মার্চ ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২০ মার্চ ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "The fighter pilots hunting Houthi drones over the Red Sea"। BBC News (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "French warship intercepts Huthis aerial attack on Norwegian tanker near Red Sea"। France 24। ১২ ডিসেম্বর ২০২৩। ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "French navy downs two drones over Red Sea"। France 24 (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। ১৬ মার্চ ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১৭ মার্চ ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ Peruzzi, Luca (২০ ডিসেম্বর ২০২৩)। "Italy Sends A FREMM In The Red Sea To Protect International Trade"। Naval News। Paris। ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ Barber, Harriet (১৬ ডিসেম্বর ২০২৩)। "Israel–Hamas war latest news: British warship shoots down suspected attack drone in Red Sea"। The Telegraph (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0307-1235। ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "HMS Richmond heads to Gulf to support Diamond and Lancaster safeguard shipping"। Royal Navy। ৯ জানুয়ারি ২০২৪। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ Maltezou, Renee; Papadimas, Lefteris (৭ জুলাই ২০২৪)। "Yemen's Houthis claim attack on vital target in Israel's Haifa"। Reuters। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০২৪।
- ↑ Gupta, Shishir (১৯ ডিসেম্বর ২০২৩)। "India stations two destroyers off the coast of Aden for maritime security"। Hindustan Times। ৭ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ৮ জানুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "Pakistan Navy deploys ship to Gulf of Aden"। The Express Tribune। ১ ডিসেম্বর ২০২৩। ২ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ৩ ডিসেম্বর ২০২৩ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "The new saviour of the seas: Indian Navy makes its presence felt in Red Sea amid Houthi threats"। Firstpost (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। ২৪ মার্চ ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২৫ মার্চ ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "Pakistan deploys warships in Arabian Sea following recent Houthi attacks"। Arab News (ইংরেজি ভাষায়)। ৭ জানুয়ারি ২০২৪। ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "Pakistan deploys advanced warship for regional maritime security"। Arab News। ২০ জুলাই ২০২৪। ৯ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১০ অক্টোবর ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "Chinese Fleet Heads to Red Sea amid Rising Tensions"। english.aawsat.com (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। ৯ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১০ অক্টোবর ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "The Houthi Leader Talks About The Losses Of The American–British Strikes On The Group's Sites"। Scope 24। ২ জানুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২৫।
- ↑ Mohammed Sameai; Rania Abu Shamala (২০ মার্চ ২০২৫)। "Yemen's Houthis say US airstrikes killed 16 of its members"। Anadolu Agency। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "Yemen's Houthis confirm prime minister killed in Israeli strike on Sanaa"। Al Jazeera English। ৩০ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "US Navy sinks 3 Houthi boats attacking merchant ship in Red Sea, US says"। ABC News (ইংরেজি ভাষায়)। ১ জানুয়ারি ২০২৪। ৯ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১০ অক্টোবর ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "خلال 48 ساعة.. مقتل 40 حوثيا في الضربات الأميركية البريطانية" [Within 48 hours... 40 Houthis were killed in US–British strikes] (Arabic ভাষায়)। Sky News Arabia। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। ৯ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১০ অক্টোবর ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - ↑ Ghobari, Mohammed (১১ মার্চ ২০২৪)। "US–British forces strike Houthi targets, killing 11, Yemen government says"। Reuters। ১২ মার্চ ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১৩ মার্চ ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "Yemeni gov't says U.S. airstrike kills 70 Houthi militants in Hodeidah"। Xinhua News Agency। ৪ এপ্রিল ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৫ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ "Report claims Houthi intelligence chief killed in US strike"। The Times of Israel। ৮ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ "Four charged in connection with trying to smuggle Iranian missile components to Houthis"। CNN (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "Two US Navy Seals declared dead after raid to seize Iranian weapons bound for Houthis"। The Guardian (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ২২ জানুয়ারি ২০২৪। আইএসএসএন 0261-3077। ২২ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "US Navy identifies sailor who died 'supporting operations' in Red Sea, officials say"। ABC News (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ মার্চ ২০২৪। ২৪ মার্চ ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২৫ মার্চ ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ Britzky, Haley; Bertrand, Natasha; Lendon, Brad (২৯ এপ্রিল ২০২৫)। "US Navy loses $60 million jet at sea after it fell overboard from aircraft carrier"। CNN। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০২৫।
- 1 2 "Second US Navy jet is lost at sea from Truman aircraft carrier"। CNN। ৭ মে ২০২৫।
- ↑ Martinez, Luis (২৩ এপ্রিল ২০২৫)। "Houthis shoot down growing number of US drones"। ABC News। ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ Gambrell, Jon (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪)। "Yemen's Houthi rebels claim shooting down another US-made drone as US acknowledges losing one"। The Associated Press। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০২৪।
- ↑ "Houthis say group downed US drone in northwest Yemen as US strikes continue"। Al Jazeera। ২২ এপ্রিল ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ Mackintosh, Thomas (২২ ডিসেম্বর ২০২৪)। "US carries out airstrikes against Houthis in Yemen"। BBC। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ "F-18 falls overboard from U.S. aircraft carrier in Red Sea"। Reuters। ২৮ এপ্রিল ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৮ এপ্রিল ২০২৫।
- 1 2 "Three killed in Houthi missile attack on cargo ship – US military"। BBC (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ৬ মার্চ ২০২৪। ৬ মার্চ ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ৭ মার্চ ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - 1 2 "Filipino sailor killed in Houthi attack on cargo ship, White House says"। The National (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ জুন ২০২৪। ১৮ জুন ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১৯ জুন ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ Christou, William (১০ জুলাই ২০২৫)। "Seafarers from cargo ship attacked by Houthis rescued after 48 hours in water"। The Guardian (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0261-3077। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২৫।
- 1 2 "Filipijns bemanningslid overlijdt na aanval op Nederlands vrachtschip bij Jemen"। GVA (ওলন্দাজ ভাষায়)। ৭ অক্টোবর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৭ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ "UK-owned ship damaged in Houthi missile attack off Yemen, US says"। BBC (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। ১ মার্চ ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২ মার্চ ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "Houthis Armed with New Iranian-Designed Missile as Attacks Increase"। Maritime Executive (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ মে ২০২৪। ৩০ মে ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ৩১ মে ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "Houthi missile attack severely injures sailor on cargo ship: US military"। Agence France-Presse (ইংরেজি ভাষায়)। Arab News। ১৪ জুন ২০২৪। ১৩ জুন ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১৪ জুন ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ Argosino, Faith (২৫ জুন ২০২৪)। "1 minor injury among 27 Filipino crew onboard MV Transworld Navigator"। Inquirer (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ জুন ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২৬ জুন ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ Saul, Jonathan; Maltezou, Renee; Maltezou, Renee (৮ জুলাই ২০২৫)। "Four crew dead, at least two wounded in latest Red Sea attack on Greek ship"। Reuters (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০২৫।
- ↑ Gambrell, Jon (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫)। "Crew abandons damaged vessel after second Houthi strike on Dutch ship in days"। Los Angeles Times (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "Man faints, dies, following siren in central Israel"। Arutz Sheva। ২১ ডিসেম্বর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ "50 hurt in UAV strike in Eilat, 2 in serious condition"। Israel National News। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "'Outraged': WFP says staff member died while detained in northern Yemen"। Al Jazeera। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ Graham, Dave (২৭ ডিসেম্বর ২০২৪)। "WHO chief describes ordeal during Israeli strike on Yemen airport"। Reuters। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ "Yemen's Houthi rebels report first civilian death in US–UK strikes"। The Times of Israel। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "Houthis launch second wave of attacks on Red Sea vessels after deadly British–US airstrikes"। Arab News (ইংরেজি ভাষায়)। ২ জুন ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুন ২০২৪।
The militia acknowledged that the joint British–US airstrikes killed at least 16 people and wounded 42 of its fighters.
- ↑ "اليمن.. ارتفاع حصيلة قتلى الغارات الإسرائيلية إلى 14 قتيلا"। Sky News Arabia (আরবি ভাষায়)। ২১ জুলাই ২০২৪।
- ↑ Suciu, Peter (২৩ জুলাই ২০২৪)। "The Houthis Freaked: Israel Attacks with F-35I Adir Stealth Fighter"। The National Interest (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ Berker, Merve (১৯ ডিসেম্বর ২০২৪)। "9 killed as Israel strikes power plants, port, oil facility in Yemen"। Anadolu Agency। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ "Israel launches air raids on power station, ports in Yemen"। Al Jazeera। ১০ জানুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "US fires on Sanaa as campaign against Yemen's Houthis continues"। Al Jazeera। ২৪ মার্চ ২০২৫।
- ↑ Gambrell, Jon (২ এপ্রিল ২০২৫)। "Suspected US airstrikes in Yemen kill at least 6 people, Houthi rebels say"। The Associated Press। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ Nabolsi, Iyad; Sio, Mohammed (৭ এপ্রিল ২০২৫)। "Yemen's Houthis say US airstrikes kill 6, injure 32"। Anadolu Agency। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ Gambrell, Jon (৮ এপ্রিল ২০২৫)। "Suspected US strikes in Yemen kill at least 6 people, Houthi rebels say"। The Associated Press। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ Gambrell, Jon (১৫ এপ্রিল ২০২৫)। "Suspected US strikes in Yemen kill at least 3 people, Houthi rebels say"। The Associated Press। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ Sameai, Mohammed; Sio, Mohammed (১৬ এপ্রিল ২০২৫)। "1 killed in over 20 US airstrikes in northern Yemen"। Anadolu Agency। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ Beaumont, Peter (১৮ এপ্রিল ২০২৫)। "Scores killed in US strikes on Yemen fuel port of Ras Isa, Houthi officials say"। The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ "US attacks Yemen again after at least 80 people killed in Hodeidah"। Al Jazeera। ১৯ এপ্রিল ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ Gambrell, Jon (২১ এপ্রিল ২০২৫)। "US airstrikes killed 12 people in Yemen's capital, the Houthi rebels say"। The Associated Press। সংগ্রহের তারিখ ২১ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ Asmar, Ahmed (২৪ এপ্রিল ২০২৫)। "3 injured in fresh US airstrikes in Yemen, Houthis say"। Anadolu Agency। সংগ্রহের তারিখ ২৫ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ "IDF intercepts missile from Yemen, rocket sirens sound in Beersheba, Negev area"। The Jerusalem Post। ২৬ এপ্রিল ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ "Yemen's Houthis say two killed in US strikes on Sanaa"। The New Arab। ২৭ এপ্রিল ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৮ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ "At least 8 killed in latest US air attacks on Yemen's capital, Saana"। Al Jazeera। ২৭ এপ্রিল ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৮ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ Sameai, Mohammed; Haboush, Mustafa; Kouachi, Ikram (২ মে ২০২৫)। "3 civilians injured in US airstrike on Yemen's capital: Houthis"। Anadolu Agency। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২৫।
- ↑ "At least 15 injured in strike on Yemeni capital, according to Houthi group"। Sky News। ৫ মে ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০২৫।
- ↑ "Houthis say 4 killed, 39 wounded in Israel's Monday strikes on Yemen"। The Times of Israel। ৬ মে ২০২৫।
- ↑ "الحوثيون: 3 قتلى وإصابة 54 جراء القصف الإسرائيلي على صنعاء وعمران"। Lebanon 24 (আরবি ভাষায়)। ৬ মে ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০২৫।
- ↑ Amouri, Said; Asmar, Ahmed (১৬ মে ২০২৫)। "Houthis say 1 killed, 9 injured in Israeli airstrikes on Yemen's Al-Hudaydah, Salif seaports"। Anadolu Agency। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২৫।
- ↑ Gritten, David (২৮ এপ্রিল ২০২৫)। "Dozens of African migrants killed in US strike on Yemen, Houthis say"। BBC। সংগ্রহের তারিখ ২৮ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ "Russian sailors injured in U.S. airstrikes on Yemen's Red Sea port: Houthis"। United News of India। ২৭ এপ্রিল ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ Menna Alaa El-Din; Enas Alashray; Yomna Ehab; Nidal Al-Mughrabi; Ali Sawafta (১৩ জুন ২০২৫)। "Israel says missile launched from Yemen fell in Hebron; at least 5 Palestinians hurt"। Reuters। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০২৫।
- ↑ Ghobari, Mohammad (৩ মার্চ ২০২৪)। "Ship sunk by Houthis threatens Red Sea environment, Yemen government and US military say"। Reuters। সংগ্রহের তারিখ ৪ মার্চ ২০২৪।
- ↑ Gambrell, Jon (১৯ জুন ২০২৪)। "Ship attacked by Yemen's Houthi rebels in fatal assault sinks in Red Sea in their second sinking"। The Associated Press। ১৯ জুন ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২০ জুন ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ Maltezou, Renee; Souliotis, Yannis; Saul, Jonathan; Maltezou, Renee (৯ জুলাই ২০২৫)। "Four dead and 15 missing after Houthis sink latest Greek ship in Red Sea"। Reuters (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "Calming the Red Sea's Turbulent Waters" (পিডিএফ)। International Crisis Group (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ মার্চ ২০২৫। ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০২৬।
- ↑ References for this being a US–Iran proxy war: * Sanger, David E.; Barnes, Julian E.; Yee, Vivian; Rubin, Alissa J. (১৪ জানুয়ারি ২০২৪)। "U.S. and Iran Wage a Proxy War" (News article)। The New York Times। ১৯ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (News article)। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২০ জানুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) * McMahon, Robert; Robbins, Carla Anne (১৮ জানুয়ারি ২০২৪)। "U.S.–Iran Proxy War Intensifies, Sudan Conflict Rages On, Sundance Film Festival Marks Forty Years, and More"। Council on Foreign Relations। ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০২৪।{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২৪ জানুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) * Plitsas, Alex; Mouton, Daniel E.; Panikoff, Jonathan; Warrick, Thomas S.; Wechsler, William F.; Fontenrose, Kirsten; Wald, Ellen (১১ জানুয়ারি ২০২৪)। "Experts react: What to know about US and UK strikes on the Houthis in Yemen" (Think tank analysis)। Washington, D.C.: Atlantic Council। ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (Think tank analysis)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০২৪।The challenge has long been that Iran, which provides technology and crucial parts for the Houthis' missiles and drones, will continue to urge its proxy to carry out attacks regardless of US strikes. Iran is not deterred by attacks on its proxies. But it remains to be seen what it will take to deter the Houthis from continuing to be involved in Iran's proxy war against the United States and its allies.
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২৪ জানুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "Yemen's Houthis 'will not stop' Red Sea attacks until Israel ends Gaza war"। Al Jazeera। ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ Michaelis, Tamar (১০ ডিসেম্বর ২০২৩)। "Israel ready to act against Houthi rebels if international community fails to, national security adviser says"। CNN। ২২ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "US Navy helicopters fire at Yemen's Houthi rebels and kill several in latest Red Sea shipping attack"। Associated Press। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩। ১০ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১১ জানুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ Partington, Richard (৩ জানুয়ারি ২০২৪)। "What is the Red Sea crisis, and what does it mean for global trade?"। The Guardian। ৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০২৪।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ৯ জানুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ LaRocco, Lori Ann (৩ জানুয়ারি ২০২৪)। "Red Sea crisis boosts shipping costs, delays – and inflation worries"। CNBC। ৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০২৪।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ৯ জানুয়ারি ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "Houthi Attacks in the Red Sea: Issues for Congress"। Congressional Research Service। ১২ মার্চ ২০২৪। ১৫ মার্চ ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০২৪।
Many Houthi attacks on commercial vessels have not appeared discriminate or linked to stated demands. Since October 17, the Houthis have attacked commercial and naval vessels more than 60 times (Figure 1)
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=/|archive-url=টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; ১৬ মার্চ ২০২৪ প্রস্তাবিত (সাহায্য) - ↑ "How Egypt is reviving the Suez Canal after maritime attacks sank traffic"। The Washington Post (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২১ জানুয়ারি ২০২৬। আইএসএসএন 0190-8286। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "Iraqi armed group, Yemen's Houthis threaten to target US bases as Iran-Israel confrontation widens"। www.aa.com.tr। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "Houthi plans for a US-Iran war worry a weary Yemen"। dw.com (ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "Yemen crisis"। UNICEF (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
- ↑ "Torture in slow motion: The economic blockade of Yemen and its grave humanitarian consequences – Yemen"। ReliefWeb (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২। ৮ জুন ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
- ↑ "Food crisis and famine"। UNICEF Yemen (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
- ↑ "US military says it destroyed Houthi drones over the Red Sea and in Yemen"। Associated Press। ৩১ মার্চ ২০২৪। ২ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০২৪।
- ↑ El Yaakoubi, Aziz (১১ জানুয়ারি ২০২৪)। "Yemen's Houthis say Red Sea attacks do not threaten peace with Riyadh"। Reuters। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২৪।
- ↑ "By bombing Yemen, the west risks repeating its own mistakes"। The Guardian। ১২ জানুয়ারি ২০২৪। ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০২৪।
- ↑ Salhani, Justin (১৮ জানুয়ারি ২০২৪)। "Beyond the Red Sea: Who are the Houthis up against inside Yemen?"। Al Jazeera (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
"The majority of their arms are of Russian, Chinese or Iranian origin, but North Korean weapons and those produced in former Warsaw Pact countries are also present in the arsenal," NR Jenzen-Jones, the director of the Australian-based Armament Research Services, told Voice of America.
- ↑ Brar, Aadil (২০ ডিসেম্বর ২০২৩)। "Houthi rebel missiles in the Red Sea have a link to China"। Newsweek (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
- ↑ "Yemen's Houthi rebels claim to launch major drone attack on Israel"। The Times of Israel (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১ নভেম্বর ২০২৩। ২ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০২৩।
- ↑ "Interview: Inside the Houthi arsenal that can reach Israel"। Amwaj.media (ইংরেজি ভাষায়)। ১ নভেম্বর ২০২৩। ২ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০২৩।
- ↑ Jalal, Ibrahim (২০ অক্টোবর ২০২৩)। "The Houthis' Red Sea missile and drone attack: Drivers and implications"। Middle East Institute (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০২৩।
- ↑ "UK Announces Loss of Crew of Ship Recently Sunk by Houthis in the Red Sea"। Yemen Monitor (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২০ জুন ২০২৪। ৯ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২৪।
- ↑ Epstein, Jake (১৩ জুন ২০২৪)। "The Houthis just scored their first drone boat hit on a Red Sea ship"। Business Insider (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ জুলাই ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২৪।
- ↑ Nagi, Ahmed; Boccon-Gibod, Claire; Franz, Paul; Boutros, Christina; van Douveren, Cassandra (৩ এপ্রিল ২০২৫)। "[Visual] The Houthis' Red Sea Attacks Explained"। International Crisis Group। ২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ Iddon, Paul (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪)। "The Houthis probed Israeli defenses with a ballistic missile, and Iran is likely taking notes"। Business Insider (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "Several Houthi rebels killed when U.S. Navy helicopters returned fire in Red Sea attack"। PBS News (ইংরেজি ভাষায়)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ Sabbagh, Dan; Borger, Julian (১২ জানুয়ারি ২০২৪)। "US and UK strike Houthi sites in Yemen in response to 'unprecedented' attacks"। The Guardian (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0261-3077। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "What is Operation Prosperity Guardian, US-led mission to protect Red Sea shipping?"। The Independent (ইংরেজি ভাষায়)। ১২ জানুয়ারি ২০২৪। ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ Wintour, Patrick (৩১ মে ২০২৪)। "Houthis say at least 16 killed in UK and US strikes in Yemen"। The Guardian (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0261-3077। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ Liebermann, Oren (৩০ মে ২০২৪)। "US and UK carry out strikes against Houthi targets in Yemen for first time in months"। CNN (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ Rasgon, Adam (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪)। "Israel Strikes the Houthis, an Iranian Ally, in Yemen"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ Tawfeeq, Mohammed; Salem, Mostafa; Nasser, Irene (২৬ ডিসেম্বর ২০২৪)। "WHO chief and UN team caught up in Israeli strikes that killed six in Yemen"। CNN (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ The Houthis have claimed several attacks on ships in the Mediterranean, though none have been confirmed.[১]
- ↑ Political legitimacy of all Houthi-led government bodies has been rejected by the United Nations, rival Yemeni factions, the Gulf Cooperation Council, and the United States.
- ↑ Multiple sources indicate that the Iranian government has deployed military personnel to Houthi-controlled Yemen who are actively involved in attacks on commercial shipping.[৫][৬][৭]
- 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "fn1" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ 10 killed on 30–31 December,[৩০] 75 killed on 12–22 January,[৮] 40 killed on 3–5 February,[৩১] 11 killed on 11 March,[৩২] 70 killed on 1 April,[৩৩] 1 killed on 8 April[৩৪]
- ↑ Two Navy SEALs on 21 January 2024,[৩৬] one Navy sailor on 23 March 2024[৩৭]
- ↑ Fatalities include one Vietnamese, one Russian, and seven Filipinos[৪৫][৪৬][৪৭][৪৮]
- One injured on 22 February 2024[৪৯]
- Three killed, four injured on 6 March 2024[৪৫]
- One injured on 28 May 2024[৫০]
- One killed on 12 June 2024[৪৬]
- One severely injured on 13 June 2024[৫১]
- One injured on 23 June 2024[৫২]
- Four killed, at least two injured on 7 July 2025[৫৩]
- Two injured on 29 September 2025[৫৪] (one succumbed to their wounds on 6 October)[৪৮]
- ↑ [৫৯][৬০][৬১][৬২][৬৩][৬৪][৬৫][৬৬][৬৭][৬৮][৬৯][৭০][৭১][৭২][৭৩][৭৪][৭৫][৭৬][৭৭][৭৮][৭৯][৮০][৮১][৮২]
<ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="lower-alpha"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি- লোহিত সাগর সংকট
- আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ২০২৪
- আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ২০২৫
- ২০২০-এর দশকের সংঘাত
- জর্ডানে ২০২০-এর দশক
- ইয়েমেনে ২০২০-এর দশক
- অক্টোবর ২০২৩ ইসরায়েলে
- অক্টোবর ২০২৩ মিশরে
- অক্টোবর ২০২৩ সৌদি আরবে
- গাজা যুদ্ধের সময় বিমান হামলা
- ইসরায়েল জড়িত বিমান অভিযান এবং যুদ্ধ
- যুক্তরাজ্যের সাথে জড়িত আকাশপথে অভিযান ও যুদ্ধ
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জড়িত আকাশপথে অভিযান ও যুদ্ধ
- ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের সামরিক অভিযান (২০১৪–বর্তমান)
- মধ্যপ্রাচ্যের সংকট (২০২৩–বর্তমান)
- একবিংশ শতাব্দীতে মার্কিন নৌবাহিনী
- পাকিস্তানের সাথে জড়িত নৌ অভিযান
- ইরান-ইসরায়েল প্রক্সি সংঘাত
- হুথিদের ইতিহাস
- জো বাইডেনের রাষ্ট্রপতি পদ
- ঋষি সুনাকের প্রিমিয়ারশিপ
- সিনাই উপদ্বীপের ইতিহাস
- লোহিত সাগরের ইতিহাস
- সশস্ত্র অচলাবস্থা
- অবরোধ
- বাণিজ্য আক্রমণকারী
- ড্রোন হামলা
- বাব-এল-মান্দেব
- দক্ষিণ সিনাই গভর্নরেট
- মিশর-ইয়েমেন সম্পর্ক
- ইসরায়েল-ইয়েমেন সম্পর্ক
- জর্ডান-ইয়েমেন সম্পর্ক
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি পদ
- সৌদি আরব–ইয়েমেন সম্পর্ক
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইয়েমেন সম্পর্ক
- যুক্তরাজ্য-ইয়েমেন সম্পর্ক