লোলিতা ফ্যাশন

লোলিতা (জাপানি: ロリータ・ファッション,হেপবার্ন: rorīta fasshon) হলো জাপানের একটি উপ-সংস্কৃতি, যা ভিক্টোরীয় যুগের পোশাক ও রোকোকো সময়কালের স্টাইল দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত।[১][২][৩][৪][৫][৬] লোলিতা ফ্যাশনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর মাধুর্যতার (কিউটনেস) নান্দনিকতা। [২][৭] এই পোশাক উপসংস্কৃতিকে তিনটি প্রধান উপধারায় বিভক্ত করা যায়: 'গথিক', 'ক্লাসিক' এবং 'কাওয়াই'।[৩][৮] অন্যান্য অনেক উপধারা রয়েছে, যেমন 'সেইলার', 'কান্ট্রি', 'হিমে' (জাপানি: 姫; বাংলা: রাজকুমারী)। এই শৈলী ১৯৯০ এবং ২০০০-এর দশকে জাপান ও অন্যান্য দেশে ব্যাপকভাবে অনুসৃত একটি উপসংস্কৃতিতে পরিণত হয়। [২][৫][৯][১০][১১] তবে ২০১০-এর দশকে বিকল্প ফ্যাশনের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় জাপানে লোলিতা ফ্যাশনের জনপ্রিয়তাও কমে গেছে।[১২][১৩][১৪]
বিবরণ
[সম্পাদনা]লোলিতা ফ্যাশনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্কার্টের ভলিউম, যা পেটিকোট বা ক্রিনোলিন পরিধানের মাধ্যমে তৈরি করা হয়।[১][৩][১৫] স্কার্টটি হয় ঘণ্টার মতো আকৃতির বা এ-লাইনের হতে পারে। [৩] লোলিতা পোশাকের প্রধান উপাদান হলো ব্লাউজ (লম্বা বা ছোট হাতা) এবং স্কার্ট বা একটি ড্রেস, যেমন জাম্পারস্কার্ট (ইংরেজি: Jumpercoat) বা ওয়ান-পিস (ইংরেজি: One Piece), যা সাধারণত হাঁটুর কাছাকাছি দৈর্ঘ্যের হয়ে থাকে। [৪] লোলিতারা প্রায়ই পরচুলা পরেন, যা হেয়ার বো বা বনেট (পোক বনেটের মতো) এর মতো হেডওয়্যারের সাথে মিলিয়ে পরা হয়। লোলিতারা তাদের পেটিকোটের নিচে ভিক্টোরিয়ান স্টাইলের ড্রয়ারও পরতে পারেন। আরও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য, কিছু লোলিতা হাঁটু মোজা (স্টকিং), গোড়ালি মোজা বা টাইটস পরিধান করেন, যা সাধারণত উঁচু হিল বা সমতল জুতার সাথে মিলে সাজানো থাকে।
জনপ্রিয়করণ
[সম্পাদনা]
লোলিতা ফ্যাশন জনপ্রিয় করে তুলেছেন যেসব ব্যক্তিরা, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইউকারি তামুরা, মানা এবং নভালা তাকেমোতো। নভালা তাকেমোতো লিখেছিলেন লাইট নভেল কামিকাজে গার্লস (২০০২)[৫][১০] যেখানে মোমোকো নামের এক লোলিতা মেয়ে এবং ইচিগো নামের এক ইয়াঙ্কির বন্ধুত্বের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। এই বইটি ২০০৪ সালে একটি চলচ্চিত্র [২][৪][৫][৬][১০] এবং ২০০৪ সালে একটি মাঙ্গা। তাকেমোতো দাবি করেছেন, "লোলিতা জগতের মধ্যে কোনো নেতা নেই।" [১৬] [১৭] মানা হচ্ছেন এমন এক সংগীতশিল্পী যিনি গথিক লোলিতা ফ্যাশন জনপ্রিয় করেছেন, যাকে তিনি "EGL" (পূর্ণরূপ: Elegant Gothic Lolita) বা "এলিগেন্ট গথিক লোলিতা" বলে আখ্যায়িত করেন। [৫] তিনি ম্যালিস মাইজার (১৯৯২–২০০১) রক ব্যান্ডে বাজাতেন এবং পরে মোই দিক্স মুইস (২০০২–বর্তমান) নামক হেভি মেটাল ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। উভয় ব্যান্ডের সদস্যরা তাদের বৈচিত্র্যময় প্রকাশভঙ্গি এবং জটিল পোশাকের জন্য পরিচিত, যা ভিজ্যুয়াল কেই আন্দোলনের অংশ। মানা ১৯৯৯ সালে মোই-মেমে-মোইটি নামক নিজস্ব ফ্যাশন লেবেল প্রতিষ্ঠা করেন, যা গথিক লোলিতা ফ্যাশনে বিশেষায়িত। [১][৬][১৫][১৮] উভয় ব্যান্ডই রোকোকো যুগে গভীরভাবে আগ্রহী।[১৮]
জাপানের সরকারও লোলিতা ফ্যাশন জনপ্রিয় করার চেষ্টা করেছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে [১৯] পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাপানি পপ সংস্কৃতি প্রচারের জন্য মডেল নিয়োগ দেয় [২০][২১][২২][২৩] এই ব্যক্তিদের "কাওয়া তাইশি" (কিউটনেসের রাষ্ট্রদূত) উপাধি দেওয়া হয়েছিল[২১] কিউটনেসের প্রথম তিনজন রাষ্ট্রদূত ছিলেন মডেল মিসাকো আওকি, যিনি লোলিতা স্টাইলের ফ্রিলস এবং লেসের প্রতিনিধিত্ব করেন, ইউ কিমুরা, যিনি হারাজুকু স্টাইলের প্রতিনিধিত্ব করেন, এবং শিজুকা ফুজিওকা, যিনি স্কুল ইউনিফর্ম স্টাইলের ফ্যাশনের প্রতিনিধিত্ব করেন [২১][২৪] জাপানি স্ট্রিট ফ্যাশন এবং লোলিতাকে জনপ্রিয় করার আরেকটি উপায় হল জাপানে আন্তর্জাতিক হারাজুকু পদযাত্রার আয়োজন করা, যা অন্যান্য দেশগুলিকেও অনুরূপ পদযাত্রার আয়োজনে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করবে। [৪]
লোলিতা ফ্যাশনের জাপানের বাইরে জনপ্রিয়তার সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো জাপানি সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার, যেখানে তথ্য শেয়ার করা যায়,[২৫][২২][১৫][২৬] যার ফলে বিশ্বব্যাপী শপিংয়ে বৃদ্ধি ঘটে এবং উত্সাহী বিদেশী লোলিতাদের জন্য ফ্যাশন আইটেম কেনার সুযোগ তৈরি হয়।[২৭] চীনের জেএন জেড ব্যবহারকারীদের মধ্যে জে কে ইউনিফর্ম, হানফু এবং লোলিতা তিনটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পোশাকের ধরন।[২৮] পশ্চিমে জাপানি সাংস্কৃতিক প্রভাবের উৎস ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে ফিরে যাওয়া যায়, যখন হ্যালো কিটি, পোকেমন,[২৬] এবং অনূদিত মাঙ্গা পশ্চিমে প্রদর্শিত হয়েছিল। [২৬] অ্যানিমে তখনই পশ্চিমে আমদানি হচ্ছিল ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে,[২৯] এবং গবেষকরা উল্লেখ করেন যে অ্যানিমে এবং মাঙ্গা জাপানি সংস্কৃতির জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক ছিল। [৪][২৬] এটি সমর্থিত হয় এই ধারণা দ্বারা যে সাংস্কৃতিক প্রবাহ জাপান থেকে পশ্চিমে এবং পশ্চিম থেকে জাপানে উভয় দিকেই প্রবাহিত হয়েছে। [১]
গ্যালারি
[সম্পাদনা]- হিমে লোলিতা
- ক্লাসিক লোলিতা
- শিরো/সাদা লোলিতা (বামে) এবং কুরো/কালো লোলিতা (ডানে)
- মিষ্টি লোলিতা ( নানা কিতাদে )
- মিষ্টি লোলিতা ( মিসাকো আওকি)
- মিষ্টি লোলিতা
- মিষ্টি লোলিতা
- কান্ট্রি লোলিতা (নানা কিতাদে)
- জলদস্যু লোলিতা
- পাঙ্ক লোলিতা
- ওল্ড-স্কুল লোলিতা
- গুরো লোলিতার বৈশিষ্ট্য সহ ওয়া-লোলিটা (চোখের দাগ)
- ওউজি (একই ধরণের ফ্যাশন যার চেহারা আরও পুরুষালি)
- গথিক লোলিতা
- গথিক লোলিতা
- মার্জিত গথিক অভিজাত (বামে) এবং গথিক লোলিতা (ডানে)
- কিউই লোলিতা ( চীনা / চেওংসাম অনুপ্রাণিত লোলিতা ফ্যাশন)
- হানফু কিউই লোলিতার ফ্যাশনকে অনুপ্রাণিত করেছেন।
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]উদ্ধৃতি
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 Hardy Bernal 2011
- 1 2 3 4 Monden 2008
- 1 2 3 4 Robinson 2014
- 1 2 3 4 5 Gatlin 2014
- 1 2 3 4 5 Haijima 2013
- 1 2 3 Coombes 2016
- ↑ Younker, Terasa। "Lolita: dreaming, despairing,defying" (পিডিএফ): ৯৭। ১ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ Berry 2017
- ↑ Kawamura, Yuniya (২০১২)। "Harajuku: The Youth in Silent Rebellion"। Fashioning Japanese Subcultures। পৃ. ৬৫–৭৫। ডিওআই:10.2752/9781474235327/KAWAMURA0008। আইএসবিএন ৯৭৮১৪৭৪২৩৫৩২৭।
- 1 2 3 Staite 2012
- ↑ Robinson 2014
- ↑ "The Outrageous Street-Style Tribes of Harajuku"। BBC। ১৮ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুন ২০১৮।
- ↑ "Japan's wild, creative Harajuku street style is dead. Long live Uniqlo"। Quartz। ৮ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ Dazed। ৪ ডিসেম্বর ২০১৫ http://www.dazeddigital.com/fashion/article/28687/1/what-the-hell-has-happened-to-tokyo-s-fashion-subcultures/। ১৩ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুন ২০১৮।
{{ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - 1 2 3 Valdimarsdótti 2015
- ↑ Hardy Bernal 2007।
- ↑ Hardy Bernal 2007
- 1 2 Hardy Bernal 2007
- ↑ "Press Conference, 26 February 2009"। Ministry of Foreign Affairs of Japan। ১২ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "Association formed to pitch 'Lolita fashion' to the world"। The Japan Times। ৩১ মে ২০১৩। ১১ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১৭।
- 1 2 3 Borggreen, G. (২০১৩)। "Cute and Cool in Contemporary Japanese Visual Arts": ৩৯–৬০। ডিওআই:10.22439/cjas.v29i1.4020।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - 1 2 Kawamura, Yuniya (২০১২)। "The Globalization of Japanese Subcultures and Fashion: Future Possibilities and Limitations"। Fashioning Japanese Subcultures। পৃ. ১২৬–১৩৫। ডিওআই:10.2752/9781474235327/KAWAMURA0015। আইএসবিএন ৯৭৮১৪৭৪২৩৫৩২৭। উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "KAWAMURA0015 Y. Kawamura (2012)" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে - ↑ Koma, K. (২০১৩)। "Kawaii as Represented in Scientific Research: The Possibilities of Kawaii Cultural Studies": ১০৩–১১৭। ১২ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ "The Kawaii Ambassadors (Ambassadors of Cuteness)"। Trends in Japan। ১১ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ Kawamura, Yuniya (২০০৬)। "Japanese Teens as Producers of Street Fashion": ৭৮৪–৮০১। ডিওআই:10.1177/0011392106066816।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - 1 2 3 4 Mikami 2011
- ↑ Kang, Z. Young; Cassidy, T. Diane (২০১৫)। "Lolita Fashion: A transglobal subculture": ৩৭১–৩৮৪। ডিওআই:10.1386/fspc.2.3.371_1। ১৯ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ "JK汉服Lolita,"三坑少女"这个冬天有点冷"। The Paper (Chinese (China) ভাষায়)। ১২ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Plevíková 2017