লুৎফুল্লাহ শিরাজি
লুৎফুল্লাহ খান শিরাজী | |
|---|---|
| কামরূপ/শুজাবাদের ফৌজদার | |
| কাজের মেয়াদ ১৬৫৬ – ১৬৫৮ | |
| সার্বভৌম শাসক | শাহ জাহান |
| গভর্নর | শাহ সুজা |
| পূর্বসূরী | নূরুল্লাহ খান হেরাতী |
| উত্তরসূরী | অজ্ঞাত |
| সিলেটের ফৌজদার | |
| কাজের মেয়াদ ১৬৫৮ – ১৬৬৩ | |
| সার্বভৌম শাসক | আওরঙ্গজেব |
| গভর্নর | মীর জুমলা |
| পূর্বসূরী | সুলতান নজর |
| উত্তরসূরী | ইসফান্দিয়ার খান বেগ |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| সন্তান | মতিউল্লাহ খান (পুত্র) |
| আত্মীয়স্বজন | সোনারফুল (বংশধর) |
মীর লুৎফুল্লাহ খান বাহাদুর শিরাজী (ফার্সি: مير لطف الله خان بهادر شيرازي, বাংলা: মীর লুৎফুল্লাহ খান বাহাদুর শিরাজী) ছিলেন একজন মুঘল কর্মকর্তা, যিনি তার কর্মজীবনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি ১৬৫৬ থেকে ১৬৫৮ সাল পর্যন্ত শুজাবাদ সরকারের (কামরূপ অঞ্চল) ফৌজদার এবং ১৬৬৩ সাল পর্যন্ত সিলেট সরকারের ফৌজদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পটভূমি ও উৎস
[সম্পাদনা]
শিরাজী ছিলেন পারসিক বংশোদ্ভূত, যার পূর্বপুরুষরা ইরানের শিরাজ শহর থেকে এসেছিলেন।[১]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]
ঐতিহাসিক নথি অনুসারে, শিরাজী বাংলার সুবাহদার শাহ সুজার একজন সেনাপতি ছিলেন। ১৬৫৬ সালে তিনি নূরুল্লাহ খান হেরাতীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে শুজাাবাদ সরকারের (কামরূপ অঞ্চল) ফৌজদার নিযুক্ত হন। ১৬৫৭ সালে শিরাজী হাজোর পাহাড়ের চূড়ায় 'পোয়া-মক্কা' মসজিদটি নির্মাণ করেন। এখানে গিয়াস উদ্দিন আউলিয়ার মাজার রয়েছে, যিনি একজন ইরাকি শাহজাদা ছিলেন এবং এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের জন্য পরিচিত।[২] শিলালিপি অনুসারে, শিরাজী কার্নালের শাহ সৈয়দ নিয়ামতুল্লাহর শিষ্য ছিলেন এবং শাহ এই মসজিদে তার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন।[৩]
মীর জুমলার আসাম অভিযানের সময় যখন আহোম ও কোচবিহারের শাসকরা (যথাক্রমে চুপুংমুং ও প্রাণ নারায়ণ) বিদ্রোহ করেন, তখন ১৬৫৮ সালে শিরাজী গুয়াহাটি থেকে ঢাকায় পালিয়ে যান। ঢাকায় তাকে সুলতান নজরের পরিবর্তে সিলেট সরকারের ফৌজদার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ১৬৬০ সালে তিনি সিলেটের শাহজালালের মাজারে একটি শক্তিশালী বেষ্টনী এবং একটি ছোট মসজিদ নির্মাণ করেন। এই ঘটনার ফার্সি শিলালিপিটি আজও বিদ্যমান।[৪]
১৬৬৩ সালে তিনি শামশেরনগরের পণ্ডিত রঘুনাথ বিশারদকে ইটা পরগনায় সাড়ে তিন 'হাল' জমি দান করেছিলেন।[৫]
উত্তরাধিকার
[সম্পাদনা]সোনারফুল ছিলেন শিরাজীর পরিবারের একজন সদস্য।[৬] পার্শ্ববর্তী মণিপুর রাজ্যের রাজা পাইখোম্বর (শাসনকাল ১৬৬৬–১৬৯৭) রাজত্বকালে মুহাম্মদ সানী নামক এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি রাজাকে সোনা ও হাতি উপহার দেন যাতে তিনি আরও মুসলমানদের তার রাজ্যে বসবাসের অনুমতি দেন। রাজা এতে সম্মত হন এবং মুহাম্মদ সানীর অনুরোধে সোনারফুল মণিপুরে চলে যান এবং জীবনের বাকি সময় সেখানেই অতিবাহিত করেন। মণিপুরি মুসলিম বা পাঙ্গালদের মধ্যে যারা 'মাকাক আঙ্গৌবা' বংশের অন্তর্ভুক্ত, তারা সোনারফুলের মাধ্যমে লুৎফুল্লাহ শিরাজীর বংশধর বলে পরিচিত।[৭]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Chatterjee, Indrani (বসন্ত ২০১৭)। "Response to Philippe Ramirez" (পিডিএফ)। European Bulletin of Himalayan Research: ১৫৫।
- ↑ Goswami, Māmaṇi Raẏachama (২০০২)। An Unfinished Autobiography। পৃ. ৬৭।
- ↑ Balakrishnan, Srinivasan। "The Masjid atop the mountain"। Tripura Chronicle। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০২৬।
- ↑ Chowdhury, Mujibur Rahman (২ অক্টোবর ২০১৯)। "গৌড়-বঙ্গে মুসলিম বিজয় এবং সুফি-সাধকদের কথা"। Sylheter Dak। ৫ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০২৬।
- ↑ সৈয়দ মোহাম্মদ আলী (১৯০০)। The Proceedings Of The All Pakistan History Conference। খণ্ড ১। করাচি: Pakistan Historical Society। পৃ. ২৭৫–২৮৪।
- ↑ Makhjummayum, Imাম খান (১৬ ডিসেম্বর ২০০৯)। "Evolution of kinship and clan system among Manipuri Muslim"। The Sangai Express।
- ↑ Khan, Md. Chingiz (২০১৪), "Socio-Cultural And Religious Facets Of Manipuri Muslims During The 17th And 18th Centuries", International Journal of Research, পৃ. ১১৯
| রাজনৈতিক দপ্তর | ||
|---|---|---|
| পূর্বসূরী নূরুল্লাহ খান |
শুজাবাদের ফৌজদার ১৬৫৬-১৬৫৮ |
উত্তরসূরী অজ্ঞাত |
| পূর্বসূরী সুলতান নজর |
সিলেটের ফৌজদার ১৬৫৮-১৬৬৩ |
উত্তরসূরী ইসফান্দিয়ার খান বেগ |