লি জার্মন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
লি জার্মন
Lee Germon cricketer.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামলি কেনেথ জার্মন
জন্ম (1968-11-04) ৪ নভেম্বর ১৯৬৮ (বয়স ৫০)
ক্রাইস্টচার্চ, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি লেগ ব্রেক
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৯৩)
১৮ অক্টোবর ১৯৯৫ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭ বনাম ইংল্যান্ড
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৯২)
৮ ডিসেম্বর ১৯৯৪ বনাম শ্রীলঙ্কা
শেষ ওডিআই৪ মার্চ ১৯৯৭ বনাম ইংল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৮৭-১৯৯৮ক্যান্টারবারি
২০০০-২০০২ওতাগো
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১২ ৩৭ ১০৩ ১৩৬
রানের সংখ্যা ৩৮২ ৫১৯ ৩,১২৩ ১,৫৮৬
ব্যাটিং গড় ২১.২২ ১৯.৯৬ ২৯.১৮ ১৯.৩৪
১০০/৫০ ০/১ ০/৩ ৪/১০ ০/৭
সর্বোচ্চ রান ৫৫ ৮৯ ১৬০* ৮৯
বল করেছে ১০
উইকেট
বোলিং গড় ১২.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ১/১২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২৭/২ ২১/৯ ২৫৮/২৬ ১১৯/২৮
উৎস: ক্রিকইনফো, ৭ জানুয়ারি ২০১৬

লি কেনেথ জার্মন (ইংরেজি: Lee Germon; জন্ম: ৪ নভেম্বর, ১৯৬৮) ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী সাবেক নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারনিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি দলের অধিনায়কেরও দায়িত্ব পালন করেছেন লি জার্মন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি এবং ওতাগো দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। তন্মধ্যে, আধুনিক যুগে ক্যান্টারবারি ক্রিকেটের অন্যতম সফলতম অধিনায়ক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।[১] প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অনানুষ্ঠানিকভাবে এক বলে সর্বাধিক ৭০ রানের রেকর্ড গড়েন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

৫ জানুয়ারি, ১৯৮৮ তারিখে ১৯ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির পক্ষে তাঁর অভিষেক ঘটে। ল্যাঙ্কাস্টার পার্কে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় দলের প্রতিপক্ষ ছিল অকল্যান্ড দল। এরপর প্রায় তিন বছর পর দলের অধিনায়ক মনোনীত হন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৯০ তারিখে রড ল্যাথামের কাছ থেকে তিনি এ দায়িত্ব পান।

তাঁর নেতৃত্বে ক্যান্টারবারি আশাতীত সাফল্য লাভ করে। ১৯৯১-৯২, ১৯৯২-৯৩ ও ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের একদিনের প্রতিযোগিতা হিসেবে স্বীকৃত ৫০ ওভারের শেল কাপের শিরোপা জয় করে। এরপর ১৯৯৫-৯৬ ও ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমেও দলটি শিরোপা জয় করেছিল। এছাড়াও, ১৯৯৩-৯৪, ১৯৯৬-৯৭ ও ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে তাঁর অধিনায়কত্বে নিউজিল্যান্ডের প্রথম-শ্রেণীর প্রতিযোগিতা শেল ট্রফি জয় করে। ১৯৯২ সালে নিউজিল্যান্ড অ্যাকশন ক্রিকেট ট্রফির একমাত্র আসরটিতেও দলটি শিরোপা পায়।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে জার্মনের উইকেট-রক্ষণে দক্ষতা ও অধিনায়কের সক্ষমতা থাকা স্বত্ত্বেও জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক তিনি প্রায়শঃই উপেক্ষিত হয়ে আসছিলেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ক্যান্টারবারিকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা লাভের পর জানুয়ারি, ১৯৯৪ সালে সফরকারী পাকিস্তান দলের বিপক্ষে অপরাজিত ১০০* রান তোলার পর অবশেষে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলে খেলার সুযোগ পান। ইংল্যান্ডে ১৯৯৪ এর শীতকালীন সফরে বাদ পড়লেও ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দলের সদস্য করা হয়। তিনি দলের নিয়মিত উইকেট-রক্ষক ও ব্যাটসম্যান অ্যাডাম প্যারোরের সহকারী হন। এ সফরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁর একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে। ৮ ডিসেম্বর ব্লুমফন্টেইনের গুডইয়ার পার্কে বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় তিনি উইকেট-রক্ষক এবং প্যারোরে বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন। ঐ সফরে জার্মন খুব কমই খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

নিউজিল্যান্ডীয় কোচ গ্লেন টার্নার সাবেক উইকেট-রক্ষক ব্যারি মিলবার্নইয়ান স্মিথের পরামর্শক্রমে ঐ সময়ের নিউজিল্যান্ডের সেরা উইকেট-রক্ষক হিসেবে তাঁকে মনোনয়ন দেয়া হয়। সাবেক নিউজিল্যান্ডীয় অধিনায়ক ও দলের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ সদস্য মার্টিন ক্রোও অ্যাডাম প্যারোরের তুলনায় তাঁকে অধিক নির্ভরযোগ্য মনে করতেন।[২]

অর্জনসমূহ[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে বারো টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন লি জার্মন। সবগুলোতেই দলের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।[৩] খুব স্বল্পসংখ্যক উইকেট-রক্ষকদের মধ্যে তিনি অন্যতম হিসেবে দশ টেস্টের অধিক খেলায় বাইয়ের তুলনায় ডিসমিসাল বেশি করেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে তিনি ২৯ ডিসমিসাল করেন ও এর বিপরীতে মাত্র ২৪ বাই রান দিয়েছিলেন।[৪]

১৯৯১-৯২ মৌসুমে সর্বাধিক ৩৪ ডিসমিসাল করেন। তন্মধ্যে, ৩১ ক্যাচ ও ৩ স্ট্যাম্পিং ছিল।[৫] ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত খেলায় নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে এক ইনিংসে সর্বাধিক ৬ ডিসমিসাল করেন। একই খেলায় সর্বাধিক ৯ ডিসমিসাল করেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ২৩৮ ডিসমিসাল করেন যার ২১৭টি ক্যাচ ও ২১টি স্ট্যাম্পিং ছিল।[১]

১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে ওতাগো’র বিপক্ষে শেল কাপের খেলায় ৫ ডিসমিসাল করেন। এ প্রতিযোগিতায় তিনি সর্বমোট ৯৬ ডিসমিসাল করেন যার ৭৮টি ক্যাচ ও ১৮টি স্ট্যাম্পিং ছিল।[৫]

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৯৮ সালে ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার পর ক্যান্টারবারির সাবেক কোচ ডেনিস আবেরহার্ট ও নিউজিল্যান্ডীয় কোচ গ্লেন টার্নারের চাপে ওতাগো দলের পক্ষে অংশ নিতে বাধ্য হন। ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন। তবে পূর্বেকার সাফল্যে আর যেতে পারেননি।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

১৯৯৮ সালে নিউজিল্যান্ড ব্যাংকের পক্ষে সাউথ আইল্যান্ড ডেভেলপম্যান্ট ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০০ সালে সেন্ট অ্যান্ড্রুজ কলেজে ডেভেলপম্যান্ট অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০০৪ সালে সিইও হিসেবে মেইনল্যান্ড সকারে ১০-মাসের জন্য দায়িত্ব পালন শেষে নেলসনে তাসমান রাগবি ইউনিয়নে সিইও হন। ২০০৯ সালে নিজ শহর ক্রাইস্টচার্চে ফিরে যান ও ক্যান্টারবারি ক্রিকেটে সিইও হন।[৬]

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত জার্মন টনি’র সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ দম্পতির চার সন্তান রয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Appleby, Matthew / Canterbury cricket : 100 greats, Auckland [N.Z.] : Reed, 2002.
  2. Turner, Glenn Turner / Lifting the covers, Dunedin, N.Z. : Longacre Press, 1998
  3. Lynch, Steven। "Lee Germon captained New Zealand in all his 12 Tests. How many others played their entire Test career as captain?"Ask Steven - Cricinfo.com। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০১২ 
  4. Rajesh, S / The unsung heroes behind the stumps : 30 September 2005
  5. Currie, Shayne / Germon closes door on illustrious wicketkeeping career, The Press, Christchurch, New Zealand 27 March 1998
  6. "Lee Germon to be new Canterbury chief executive"from Stuff 1/1/2009

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


পূর্বসূরী
কেন রাদারফোর্ড
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়ক
১৯৯৫-১৯৯৭
উত্তরসূরী
স্টিফেন ফ্লেমিং