লিলিয়ান লুইস
লিলিয়ান লুইস | |
|---|---|
১৯২৫ সালে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ারবুক প্রতিকৃতি। | |
| জন্ম | লিলিয়ান বারওয়েল লিওনোরা আগস্ট ১৩, ১৯০৪ |
| মৃত্যু | ১৯ জানুয়ারি ১৯৮৭ (বয়স ৮২) |
| মাতৃশিক্ষায়তন | হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় |
| দাম্পত্য সঙ্গী | জন এফ. লুইস |
| বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন | |
| কর্মক্ষেত্র | প্রাণিবিদ্যা, অন্তঃক্ষরাবিজ্ঞান। |
| অভিসন্দর্ভের শিরোনাম | A Study of Some Effects of Sex Hormones upon the Embryonic Reproductive System of the White Pekin Duck |
লিলিয়ান বারওয়েল লুইস[Note ১] (১৩ আগস্ট ১৯০৪ – ১৯ জানুয়ারি ১৯৮৭)[১][২][৩] ছিলেন একজন আমেরিকান প্রাণিবিজ্ঞানী, যিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনকারী প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী হিসেবে এবং গোনাডোজেনেসিস সংক্রান্ত তার গবেষণার জন্য পরিচিত।[৪] ১৯৬০ সালের ৮ নভেম্বর তিনি উইনস্টন-সেলাম ফরসিথ কাউন্টি স্কুল বোর্ডে নির্বাচিত হন যেখানে তিনি সাম্য এবং জাতিগত পৃথকীকরণ বিলুপ্তির প্রবক্তা ছিলেন। তিনি এমন এক সময়ে শিশুদের সমান অধিকারের জন্য প্রচারণা চালিয়েছিলেন যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কার্যত জাতিগত পৃথকীকরণ বিদ্যমান ছিল।
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
[সম্পাদনা]লুইস ১৯০৪ সালের ১৩ আগস্ট মেরিডিয়ান, মিসিসিপি-তে তেরো সন্তানের মধ্যে নবম সন্তান হিসেবে লিলিয়ান লিওনোরা বারওয়েল নামে জন্মগ্রহণ করেন।[১][৫] ১৯১৯ সালে তিনি টুগালু কলেজ থেকে হাই স্কুল ডিপ্লোমা অর্জন করেন এবং এরপর হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়-এ ভর্তি হন। ১৯২৫ সালে তিনি আর্নেস্ট এভারেট জাস্ট-এর অধীনে পড়াশোনা করেন এবং জীববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।[৬] লুইস এরপর জাস্টের আরেক ছাত্র রজার আর্লাইনার ইয়ং-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রাঙ্ক র্যাট্রে লিলি-র কাছে পড়াশোনা করতে যান।[৪]
জেনারেল এডুকেশন বোর্ড ফেলোশিপের প্রাপক হিসেবে লুইস ১৯৩১ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি গ্রীষ্মকালে শিকাগোতে পড়াশোনা করতেন এবং শিক্ষাবর্ষের সময় টিলোটসন কলেজ-এ জীববিজ্ঞান পড়াতেন।[৬]
যদিও বিভিন্ন কারণে তার পিএইচডি গবেষণায় বিলম্ব হয়েছিল — যার মধ্যে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার আর্থিক বোঝা এবং তার বৃদ্ধ পিতামাতার ভরণপোষণ চালিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা[Note ২][৭] — তবুও তিনি ১৯৪৬ সালে অন্তঃক্ষরাবিজ্ঞান-এ ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।[৪]
কর্মজীবন ও গবেষণা
[সম্পাদনা]শিক্ষকতা
[সম্পাদনা]লুইস তার কর্মজীবনে বেশ কয়েকটি শিক্ষকতার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি স্নাতক পড়াশোনা শুরুর আগেই স্টেট এগ্রিকালচার অ্যান্ড মেকানিক্স কলেজ অফ সাউথ ক্যারোলিনা (১৯২৬-১৯২৯) এবং মর্গান কলেজ (১৯২৯-১৯৩১)-এ সহকারী/সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কাজ শুরু করেন।[৮] ১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত লুইস তার ডক্টরেট গবেষণার অর্থের সংস্থানের জন্য টিলোটসন কলেজে শিক্ষকতা করেন, যদিও তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুটি রোজেনওয়াল্ড ফেলোশিপ অর্জন করেছিলেন। ডক্টরেট অর্জনের পর লুইস তার কর্মজীবনের বাকি সময় উইনস্টন-সেলাম টিচার্স কলেজ-এ প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কাটান।[৮][৯] তিনি ১৯৭০ সালে অবসর গ্রহণ করেন।[২] তার গবেষণা হাঁসের গোনাডোজেনেসিস, কোষীয় বিভাজন, ভ্রূণতত্ত্ব এবং যৌন হরমোন নিয়ে কাজ করেছে।[৪]
জনসেবামূলক পদ
[সম্পাদনা]১৯৬০ সালের ৮ নভেম্বর লুইস উইনস্টন-সেলামে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ফরসিথ কাউন্টি স্কুল বোর্ডে নির্বাচিত হন। স্কুল বোর্ডের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে লুইস স্কুলগুলোতে জাতিগত পৃথকীকরণ বিলুপ্ত করার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।[১][২] ছয় বছর আগে ব্রাউন বনাম শিক্ষা বোর্ড মামলায় স্কুল পৃথকীকরণকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হলেও, দেশের অনেক স্কুল তখনো কার্যত পৃথকীকৃত ছিল। লুইস জাতি নির্বিশেষে নিম্ন আয়ের শিশুদের ন্যায্য আচরণের জন্যও প্রচারণা চালিয়েছিলেন। লুইস ১৯৬২ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন এবং ১৯৭০ সালে স্কুল বোর্ড থেকে অবসর গ্রহণ পর্যন্ত টানা পুনর্নির্বাচিত হতে থাকেন, এমনকি ১৯৬৮ সালে বোর্ডে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও তিনি টিকে ছিলেন।[১]
প্রকাশিত কর্মসমূহ
[সম্পাদনা]- Lewis, Lillian B. Early Differentiation of the Duck Gonad. Diss. University of Chicago, Department of Zoology, 1931.
- Lewis, Lillian B. "A Study of Some Effects of Sex Hormones upon the Embryonic Reproductive System of the White Pekin Duck." Physiological Zoology, vol. 19, no. 3, July 1946, pp. 282–329. DOI.org (Crossref), .
- Lewis, Lillian B., and L. V. Domm. "A Sexual Transformation of the Osseus Bulla in Duck Embryos Following Administration of Estrogen." Physiological Zoology, vol. 21, no. 1, Jan. 1948, pp. 65–69. DOI.org (Crossref),
ব্যক্তিগত জীবন
[সম্পাদনা]হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে লুইস ১৯২২ সালে ফ্রেশম্যান ডিবেট টিমের সদস্য ছিলেন, আলফা কাপ্পা মু স্কলারশিপ সোসাইটির করেসপন্ডিং সেক্রেটারি এবং আলফা কাপ্পা আলফা সরোরিটির সদস্য ছিলেন।[১০][৫] শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি সিগমা জাই এবং সিগমা ডেল্টা এপসিলন সম্মাননা সোসাইটির সদস্য ছিলেন।[১১]
লুইস ১৯৩৪ সালে উইনস্টন-সেলামের বাসিন্দা জন ফ্রাঙ্ক লুইসকে বিয়ে করেন।[১][১২] জনাব লুইস ছিলেন শিক্ষা ও মনোবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক এবং উইনস্টন-সেলাম কলেজের শিক্ষা ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান। অবসরের পর লুইস দম্পতি 'লুইস অ্যাওয়ার্ড ফর একাডেমিক এক্সিলেন্স' প্রতিষ্ঠা করেন। এই পুরস্কারটি ছিল উইনস্টন-সেলাম স্টেট থেকে স্নাতক হওয়া সর্বোচ্চ একাডেমিক গড় নম্বরধারী শিক্ষার্থীর জন্য ৫০০ ডলারের একটি পুরস্কার।[৯] তারা অন্তত একটি সন্তান লালন-পালন করেছিলেন।[Note ৩][৬][৪]
স্কুল বোর্ডের দায়িত্ব পালন ছাড়াও লুইস স্টেট স্পেলিং বি-র প্রধান বিচারক ছিলেন।[১৩]
১৯২৫ সালে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ারবুকে তার উদ্ধৃতি ছিল: "একজন বিজয়ী কখনো হাল ছাড়ে না এবং যে হাল ছেড়ে দেয় সে কখনো জেতে না।"[৫]
টীকা
[সম্পাদনা]- ↑ লুইসের নাম পর্যায়ক্রমে "Lilian" এবং "Lillian" উভয় বানানেই পাওয়া যায়। এই নিবন্ধে সামঞ্জস্যের জন্য সর্বত্র "লিলিয়ান" ব্যবহার করা হয়েছে।
- ↑ "আমার মা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এখন তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম। আমার বাবা অনেক বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ায় তার একা পক্ষে মায়ের দেখাশোনা করা কঠিন। তেরোটি সন্তান বড় করতে গিয়ে আমার বাবা-মা এমন সময়ের জন্য খুব বেশি সঞ্চয় করতে পারেননি এবং সন্তানদের মধ্যে কেবল আমিই অবিবাহিত হওয়ায় তাদের আর্থিকভাবে সাহায্য করতে সক্ষম। আমি যদি কাজ বন্ধ করে দিই তবে তারা চরম অভাবে পড়বেন, তাই আমাকে অবশ্যই আমার মাসিক অবদান চালিয়ে যেতে হবে।"
- ↑ লিলিয়ান এবং জনের নিজস্ব সন্তান ছিল কিনা তা নিয়ে উৎসগুলোতে মতভেদ রয়েছে। তবে ধারণা করা হয় যে তারা তাদের দুই ভাগ্নে/ভাইপোকে বড় করার দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 "LILLIAN LEWIS MADE HEADWAY FOR BLACKS"। Winston-Salem Journal। ১০ মার্চ ১৯৯৮।
- 1 2 3 East, Bill (১৯৮৭)। "Lillian B. Lewis, Ex-Professor, Dies"। Winston-Salem Journal।
- ↑ "Lillian Burwell Lewis"। Winston-Salem Chronicle। পৃ. ২৪।
- 1 2 3 4 5 Ogilvie, Marilyn Bailey; Harvey, Joy Dorothy (১ জানুয়ারি ২০০০)। The Biographical Dictionary of Women in Science: L-Z (ইংরেজি ভাষায়)। Taylor & Francis। আইএসবিএন ৯৭৮০৪১৫৯২০৪০৭।
- 1 2 3 Howard University, "The Bison: 1925" (1925). Howard University Yearbooks. 106.
- 1 2 3 R., Beilke, Jayne। "Deserving to Go Further" : Philanthropic Fellowships, African American Women, and the Development of Higher Educational Leadership in the South, 1930–1954.। ওসিএলসি 967412440।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ Application for Fellowship, Box 399, folder 1, Julius Rosenwald Fund Papers, Fisk University Library Special Collections, Nashville, Tenn.
- 1 2 Warren, Wini (১৯৯৯)। Black Women Scientists in the United States। Indiana University Press।
- 1 2 Hauser, C.B. (৩০ মে ১৯৮১)। "Couch Wins $500 Lewis Award"। Winston-Salem Chronicle। পৃ. ৭।
- ↑ "Scientific Meet Honors Dr. Lillian B. Lewis"। The Chicago Defender (National Edition)। ৬ এপ্রিল ১৯৪৬। পৃ. ৩।
- ↑ "The American Negro in College"। The Crisis। নং 8। The Crisis Publishing Company, Inc.। আগস্ট ১৯৪৬ [August 1946]। পৃ. ২৮। আইএসএসএন 0011-1422।
- ↑ Adams, Robin (৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮৩)। "WSSU Faculty Disturbed BY Salaries, Other Policies"। Winston-Salem Chronicle। পৃ. ৩।
- ↑ "Three Retiring Members WSSU Faculty are Honored at Banquet"। The Carolina Times। ৩০ মে ১৯৭০। পৃ. ১২।
- ১৯০৪-এ জন্ম
- ১৯৮৭-এ মৃত্যু
- ২০শ শতাব্দীর আফ্রিকান-আমেরিকান বিজ্ঞানী
- আফ্রিকান-আমেরিকান জীববিজ্ঞানী
- আফ্রিকান-আমেরিকান নারী বিজ্ঞানী
- আফ্রিকান-আমেরিকান স্কুল বোর্ড সদস্য
- আমেরিকান অন্তঃক্ষরাবিজ্ঞানী
- ২০শ শতাব্দীর আমেরিকান প্রাণিবিজ্ঞানী
- হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- মেরিডিয়ান, মিসিসিপির ব্যক্তি
- শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- নারী অন্তঃক্ষরাবিজ্ঞানী
- নারী প্রাণিবিজ্ঞানী
- মিসিসিপির জীববিজ্ঞানী
- ২০শ শতাব্দীর আমেরিকান নারী জীববিজ্ঞানী
- মার্কিন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিবিজ্ঞানী
- ২০শ শতাব্দীর মার্কিন প্রাণিবিজ্ঞানী