লিঙ্গাগ্রত্বক পুনঃস্থাপন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

লিঙ্গাগ্রচর্ম বা লিঙ্গাগ্রত্বক পুনঃস্থাপন হচ্ছে ত্বকচ্ছেদের কারণে হারানো লিঙ্গাগ্রচর্ম ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া যেখানে লিঙ্গের চামড়াকে টেনে সামনের দিকে আনা হয়, যা অনেকটা লিঙ্গাগ্রচর্মের মতই দেখতে লাগে। তবে এই প্রক্রিয়াটি করা হয় সাধারানত কোন অস্ত্রোপচার ছাড়াই, লিঙ্গের অবশিষ্ট চামড়াকে টেনে এনে সম্পন্ন করা হয়, যদিও এর অস্ত্রোপচার-পদ্ধতিও বর্তমান। 

অস্ত্রোপচারহীন পদ্ধতি[সম্পাদনা]

কলা সম্প্রসারণ[সম্পাদনা]

 দ্বৈত টানে পুনরুদ্ধার, এই যন্ত্রটি অস্ত্রোপচারহীন পদ্ধতিতে লিঙ্গত্বক পুনঃস্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হয়

এই পদ্ধতি কলা-বিভাজনের নিয়ম অনুসরণ করে এবং এ পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। লিঙ্গের অবশিষ্ট চামড়া, যদি ত্বকচ্ছেদ/ খৎনার পর অবশিষ্ট থাকে, তাহলে তা সম্প্রসারিত করা হয়।  কোষ-বিভাজনের নিয়ম অনুসারে লিঙ্গাগ্রচর্ম পুনঃস্থাপন করতে হয় লিঙ্গের অবশিষ্ট ত্বককে সামনের দিকে টেনে শিশ্নের অগ্রভাগের ওপর নিয়ে আস্তে হবে।

অস্ত্রোপচার পদ্ধতি[সম্পাদনা]

অস্ত্রোপচার পদ্ধতিতে লিঙ্গের শেষ প্রান্তের চামড়াকে কেটে এনে লাগানোর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়।

ফলাফল[সম্পাদনা]

প্রয়োজনীয় সময়[সম্পাদনা]

অস্ত্রোপচারহীন লিঙ্গত্বক পুনঃস্থাপনের পর্যায়সমূহ

এই পদ্ধতিতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই সময় নির্ভর করে লিঙ্গে কি পরিমাণ চামড়া অবশিষ্ট আছে এবং কি ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুনঃস্থাপনের ফলাফল তাৎক্ষণিক, তবে তা সন্তোষজনক নয় এবং পুনঃস্থাপনের পক্ষের ব্যক্তিবর্গের পরামর্শ অস্ত্রোপচার না করাই ভাল।[১]

প্রাকৃতিক লিঙ্গত্বকের তিনটি প্রধান উপাদান রক্ত ধমনী, স্নায়ু এবং যোজক কলা ছাড়াও রয়েছে, ত্বক যার বহির্মুখ উন্মুক্ত করা থাকে; রয়েছে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী যার পৃষ্ঠের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে শিশ্নাগ্রের , যখন লিঙ্গ বীর্যহীন ও কোমল থাকে; এবং আরও আছে একদল মাংসপেশি যা লিঙ্গত্বকের আগায় থাকে। সাধারণত, যদি লিঙ্গত্বকের চামড়া ও মাংস উভয়কে প্রসারণ করা হয় অর্থাৎ টেনে ধরা হয়, লিঙ্গত্বকের চামড়া শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর তুলায় বেশ সহজে গজায়। লিঙ্গের চারপাশের চামড়ার গোলক যা লিঙ্গত্বক-কে লিঙ্গের কাছাকাছি ধরে রাখে, খৎনার সময় সেটিকে পুরোপুরি অপসারণ করা হয়।স্বাভাবিক-উপস্থিত পুং-জননেন্দ্রিয় আবরক ত্বক."[২]

কিছু পুরুষের খৎনার কারণে যেসব সমস্যা হয় বলে তারা নিজেরা মনে করেন, তা লিঙ্গত্বক পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে সমাধান করা যায়। এই ধরনের কিছু সমস্যা হচ্ছে ক্ষতস্থানের দাগ থাকা(৩৩%), আরামদায়ক লিঙ্গ-উত্থানের জন্য পর্যাপ্ত লিঙ্গত্বক না থাকা(২৭%), অসমান লিঙ্গত্বক অপসারণ করা হলে লিঙ্গ বাঁকা হয়ে যাওয়া(১৬%), লিঙ্গ-উত্থানের কিংবা হস্তমৈথুনের সময় ব্যথা করা ও রক্তপাত হওয়া(১৭%)। এই জরিপে অংশগ্রাহকদেরকে লিঙ্গত্বক পুনঃস্থাপন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হয় এবং তাদের জন্য মতামত প্রদানের একটি কমেন্ট বক্স খোলা হয়। অনেক উত্তরদাতা ও তাদের স্ত্রীরা জবাব দিয়েছেন "ত্বক-পুনঃস্থাপন, খৎনা-করা লিঙ্গের অস্বাভাবিক শুষ্কতা দূর করেছে; যে শুষ্কতার কারণে সঙ্গমের সময় ঘর্ষণ, ব্যথা ও রক্তপাত হয়ে থাকে, এবং এই পুনঃস্থাপনের ফলে পাওয়া যায় এক অনন্য আনন্দ, যা যৌন অন্তরঙ্গতা বাড়ায়।  

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Cold CJ, Taylor J.. The prepuce. BJU Int. 1999;83 Suppl 1:34–44. doi:10.1046/j.1464-410x.1999.0830s1034.x. PMID 10349413.
  2. Goodwin WE. Uncircumcision: a technique for plastic reconstruction of a prepuce after circumcision. J Urol. 1990;144(5):1203–5. doi:10.1016/s0022-5347(17)39693-3. PMID 2231896.