লাংতাং

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
লাংতাং ন্যাশনাল পার্কে রাতের দৃশ্য
২০১৫ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে লাংতাং
গোসাইকুণ্ড লেক বা হ্রদ
কেয়ানজিন গুম্ফা

লাংতাং হলো উত্তর-মধ্য নেপালের পাহাড়ে অবস্থিত একটি হিমালয় উপত্যকা। এই উপত্যকাটি ট্রেকিং এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য পরিচিত।

প্রশাসনিক[সম্পাদনা]

লাংতাং উপত্যকা নেপালের বাগমতি প্রদেশের রাসুওয়া জেলায় অবস্থিত। কাঠমান্ডু উপত্যকা থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তরে এর অবস্থান। উপত্যকাটি লাংতাং জাতীয় উদ্যানের মধ্যে অবস্থিত, যা চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সীমান্তবর্তী। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের আগে লাংতাং উপত্যকায় ৬৬৮ জন লোক বসবাস করত বলে জানা যায়।[১]

বাস্তুসংস্থান[সম্পাদনা]

লাংতাং জাতীয় উদ্যানের মধ্যে লাংতাং উপত্যকা অবস্থিত। এই জাতীয় উদ্যানটিতে উপক্রান্তীয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু অঞ্চল দেখা যায়।[২] এই জাতীয় উদ্যানের প্রায় শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি। বৃক্ষরাজির মধ্যে রয়েছে পর্ণমোচী ওক এবং ম্যাপেল, পাইনের মতো চিরহরিৎ বৃক্ষ এবং বিভিন্ন ধরনের রডোডেনড্রন। প্রাণীজগতের মধ্যে রয়েছে হিমালয় ব্ল্যাক বিয়ার, হিমালয়ান তাহর, আসাম ম্যাকাক, স্নো লেপার্ড, ইয়াক, রেড পান্ডা এবং ২৫০টিরও বেশি প্রজাতির পাখি।[৩]

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

লাংতাং উপত্যকার স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের মধ্যে একে অপরকে 'লাংতাংপা' বলে উল্লেখ করেন। তারা সাধারণত তিব্বতি বৌদ্ধধর্মকে অনুসরণ করেন। তারা একটি তিব্বতি ভাষায় কথা বলেন যা দক্ষিণ তিব্বতের কিরং-এ কথিত তিব্বতি ভাষার সাথে অনেকটাই মিল খুঁজে পাওয়া যায়। স্থানীয় মানুষেরা লাংতাং লিরুং পর্বতকে স্থানীয় দেবতা 'ইউ-লহা' বলে মনে করেন। রাজ্যের আদমশুমারিতে, লাংতাংপাসকে তামাং হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।[৪] লাংতাং উপত্যকাটিকে বেউল দাগাম নামগো বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ গুরু পদ্মসম্ভবের আশীর্বাদপ্রাপ্ত অনেকগুলি লুকানো উপত্যকার মধ্যে একটি।[৫]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

লাংতাং উপত্যকার ঐতিহ্যগত জীবিকা সবই প্রায় কৃষিকাজকে কেন্দ্র করে।[৬][৭] ১৯৭০- এর দশকের মাঝামাঝি থেকে লাংতাং উপত্যকায় পর্যটন শিল্প জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে।[৮][৯][১০] ১৯৫০-এর দশকে ভার্নার শুলথেস লাংতাং-এ সুইস পনির তৈরির প্রচলন করেছিলেন। সময়ের সাথে সাথে সুইস পনির লাংতাং-এর একটি জনপ্রিয় পণ্য হয়ে ওঠে। এই উপত্যকায় সুইস পনিরের উৎপাদন আজও অব্যাহত রয়েছে।[১১]

পরিবহন[সম্পাদনা]

লাংতাং উপত্যকার নিকটতম মোটরযোগ্য রাস্তা হলো শ্যাফ্রুবেসি, যেখান থেকে লাংতাং উপত্যকাযর বেশিরভাগ ট্রেকিং শুরু হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Langtang Valley Assessment - Langtang Valley, May 2015" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ৬, ২০২২ 
  2. "Flora and Fauna in Langtang national park"Ministry of Forest and Environment, Government of Nepal। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০২২ 
  3. "Faunal Diversity"dnpwc.gov.np। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১২-২৩ 
  4. Lim, Francis Khek Gee (২০০৮)। Imagining the Good Life: Negotiating Culture and Development in Nepal Himalaya (ইংরেজি ভাষায়)। BRILL। পৃষ্ঠা 19। আইএসবিএন 978-90-474-4337-7 
  5. "Langtang"Nekhor (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৮-০৬ 
  6. McVeigh, Colleen (২০০৪)। "Himalayan Herding is Alive and Well: The Economics of Pastoralism in the Langtang Valley"Nomadic Peoples8 (2): 107–124। আইএসএসএন 0822-7942জেস্টোর 43123727ডিওআই:10.3167/082279404780446023 
  7. Aryal, Suman; Maraseni, Tek Narayan; Cockfield, Geoff (২০১৪-০৭-০১)। "Sustainability of transhumance grazing systems under socio-economic threats in Langtang, Nepal"Journal of Mountain Science (ইংরেজি ভাষায়)। 11 (4): 1023–1034। আইএসএসএন 1993-0321ডিওআই:10.1007/s11629-013-2684-7 
  8. Lim, Francis Khek Ghee (২০০৭)। "Hotels as sites of power: tourism, status, and politics in Nepal Himalaya"Journal of the Royal Anthropological Institute13: 721–738। ডিওআই:10.1111/j.1467-9655.2007.00452.x 
  9. Acharya, Rajesh (২০১১)। Mountain Tourism in Nepal (A Case Study of Langtang Rastriya Nikunja, Rasuwa) (গবেষণাপত্র) (ইংরেজি ভাষায়)। Central Departmental of Rural Development। 
  10. Kunwar, Ramesh Raj; Aryal, Dev Raj; Karki, Neeru (২০১৯-০৪-১৯)। "Dark Tourism: A Preliminary Study of Barpak and Langtang as Seismic Memorial Sites of Nepal"Journal of Tourism and Hospitality Education (ইংরেজি ভাষায়)। 9: 88–136। আইএসএসএন 2467-9550ডিওআই:10.3126/jthe.v9i0.23683 
  11. Tamang, Gyalbu। "The story of Langtang cheese" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৮-০৬