বিষয়বস্তুতে চলুন

লরা জেমসার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
লরা জেমসার
ব্ল্যাক এমানুয়েল (১৯৭৫)-এ জেমসার
জন্ম
লরেট মার্সিয়া জেমসার

(1950-10-05) ৫ অক্টোবর ১৯৫০ (বয়স ৭৫)
সুরাবায়া, ইন্দোনেশিয়া
অন্যান্য নামএমানুয়েল
মোইরা চেন
নাগরিকত্বডাচ
পেশা
  • অভিনেত্রী
  • মডেল
  • কস্টিউম ডিজাইনার
কর্মজীবন১৯৭১–১৯৯৩
দাম্পত্য সঙ্গীগাব্রিয়েলে টিন্টি (বি. ১৯৭৬; মৃ. ১৯৯১)

লরেট মার্সিয়া জেমসার (জন্ম ৫ অক্টোবর ১৯৫০) একজন অবসরপ্রাপ্ত ইন্দোনেশীয়-ওলন্দাজ অভিনেত্রী, মডেল এবং কস্টিউম ডিজাইনার।[] তিনি মূলত ইতালীয় ইরোটিক চলচ্চিত্রে, বিশেষত এমানুয়েল সিরিজে, তার অভিনয়ের জন্য পরিচিত। তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে জো ডি'আমাটো এবং ব্রুনো মাতেই পরিচালিত চলচ্চিত্রের সংখ্যাই বেশী।[]

জেমসার লাভ ইজ ফরেভার (১৯৮৩) চলচ্চিত্রে মোইরা চেন ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।

জীবনী

[সম্পাদনা]

লরা জেমসার ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে অবস্থিত সুরাবায়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৫ সালে ৪ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সাথে তিনি উট্রেখট, নেদারল্যান্ডসে চলে যান এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। মাধ্যমিকের পড়াশোনার পরে উট্রেখটের আর্টিবাস আর্ট স্কুলে ভর্তি হয়ে ফ্যাশন নিয়ে পড়াশোনা করেন। সত্তরের দশকের প্রথমার্ধে তিনি নেদারল্যান্ডস এবং বেলজিয়ামের বহু ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মডেল হিসেবে কাজ করে পরবর্তীতে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক ম্যাগাজিনেও উপস্থিত হন। তিনি প্লেমেনের ১৯৭৩-এর সেপ্টেম্বর সংখ্যায় মাসের সেরা প্লেগার্ল ছিলেন।

পিয়ের লুডোভিকো পাভোনি পরিচালিত প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র আমোরে লিবেরো - ফ্রি লাভ-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে জেমসার ১৯৭৪ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক করেন। এতে অভিনয়ের সুযোগ পেতে তিনি ইতালিতে চলে যান।[] চলচ্চিত্রটি ইতালিতে জেমসারকে একজন বিদেশীনী-ইরোটিক ধারার অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।[]

এমানুয়েল নেরা সিরিজ

[সম্পাদনা]

১৯৭৫ সালে সিলভিয়া ক্রিস্টেলের সাথে তিনি এমানুয়েল ল'আন্তিভার্জিন চলচ্চিত্রে একজন ম্যাসাজ থেরাপিস্টের ছোট ভূমিকায় অভিনয় করেন। এটি ছিল এমানুয়েল আর্সানের উপন্যাস দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত মূল ফরাসি সিরিজের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। ফরাসি এই চলচ্চিত্র সিরিজের গল্প থেকে উৎসাহিত হয়ে আর্সানের এমানুয়েল উপন্যাস-ভিত্তিক চলচ্চিত্র সিরিজ তৈরির ধারণা ইতালিতেও জন্ম নেয়।[] এর কেন্দ্রীয় চরিত্র "এম" নামের একজন সুন্দরী কৃষ্ণাঙ্গ ফটোসাংবাদিক।[] জেমসার তখন বেলজিয়াম বাস করছিলেন এবং এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ইতালিতে ফিরে আসেন।[]। চলচ্চিত্র সিরিজটি আদালবার্তো আলবার্তিনির এমানুয়েল নেরা (১৯৭৫) চলচ্চিত্র দিয়ে শুরু হয়, যা ইতালির বাইরে ব্ল্যাক এমানুয়েল নামে পরিচিত পায়।[] আমোরে লিবেরো - ফ্রি লাভ চলচ্চিত্রের মতো জেমসার এতেও অভিনয়শিল্পীদের নামের তালিকায় নিজের আসল নামের পরিবর্তে এমানুয়েল ছদ্মনাম ব্যবহার করেন।[] চলচ্চিত্রটিতে হার্ডকোর ধরণের যৌনদৃশ্যও ছিল। ঐসব দৃশ্যগুলোতে জেমসারের পরিবর্তে তার বডি ডাবল অভিনয় করেছিলেন।[]

এই চলচ্চিত্রটি সফল হয়।[] চলচ্চিত্রটির সেটে তার সাথে অভিনেতা গ্যাব্রিয়েল টিন্টির[] সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা ইতালিতে জেমসারের স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।[] টিন্টি পরে তার স্বামী হন। আলবার্তিনি জেমসারের অভিনয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্মরণ করেন, "তাকে অভিনয় করানো কঠিন ছিল, তিনি ভাবতেন এটি একটি খেলা। প্রথমে তিনি এটিকে গুরুত্বের সাথে নেননি, তারপর তিনি এতে বেশ ভাল হয়ে উঠেন।"[]

এমানুয়েল ইন আমেরিকা-এর একটি দৃশ্যে জেমসার

পরের বছর তার চতুর্থ চলচ্চিত্র ভোতো দি কাস্তিতা-এর মাধ্যমে তিনি প্রথমবারের মতো ইতালীয় পরিচালক জো ডি'আমাতোর (আরিস্তিদে মাসাচেসির ছদ্মনাম) সাথে কাজ করেন।[] একই বছর জেমসার ডি'আমাতো পরিচালিত ইভা নেরা (১৯৭৬) এমানুয়েল নেরা - ওরিয়েন্ট রিপোর্টাজ (১৯৭৬) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।[] বড় বাজেটের[] দ্বিতীয় চলচ্চিত্রটির দৃশ্যধারণ হয় ভেনিস, ব্যাংকক এবং কাসাব্লাঙ্কায়। এটি মন্দো মুভি দ্বারা দৃঢ়ভাবে প্রভাবিত[] এবং এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে জেমসার সমকামী দৃশ্যেও অংশ নেন।

পেশাজীবন

[সম্পাদনা]

নেদারল্যান্ডসবেলজিয়াম-এর বিভিন্ন ম্যাগাজিনে মডেলিং করার পর ১৯৭৪ সালে তিনি ইরোটিক চলচ্চিত্র আমোর লিবেরো - ফ্রি লাভ-এ অভিনয়ের জন্য তিনি ইতালি যান।[১০] তার অভিনীত প্রথম এই চলচ্চিত্রটি প্রেক্ষাগৃহে আর্থিক সফলতা পায়। তিনি ১৯৭৫ সালের চলচ্চিত্র এমানুয়েল ২ (অপর নাম এমানুয়েল, দ্য জয়স অফ আ ওম্যান)-এ একজন ম্যাসাজ থেরাপিস্টের চরিত্রে অভিনয় করেন। একই বছর তিনি বিটো আলবার্টিনির ব্ল্যাক এমানুয়েল-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।[১১] পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে তিনি ৫টি ব্ল্যাক এমানুয়েল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।[১২][১৩][১০]

১৯৮৩ সালে মাইকেল ল্যান্ডনের মার্কিন টেলিভিশন চলচ্চিত্র লাভ ইজ ফরেভার-এ তিনি লাওশিয়ান অভিনেত্রী কেও সিরিসোমফোনের চরিত্রে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটিতে তাকে মোইরা চেন নামে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে তিনি জো ডি'আমাটোর সাথে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে কাজ করেন। জেমসার চলচ্চিত্রে সক্রিয় থাকার সময় তার অভিনেতা স্বামী গাব্রিয়েলে টিন্টির (বি. ১৯৭৬-১৯৯১) সাথেও কাজ করেছেন। ১৯৯০-এর দশকে তিনি চলচ্চিত্র থেকে সরে গিয়ে চলচ্চিত্রের কস্টিউম ডিজাইনের কাজে যোগ দেন এবং সম্পূর্ণনভাবে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান।[১৪]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 "Laura Gemser"। Movies & TV Dept.। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। ২০১৫। ২৮ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  2. Gordiano Lupi p. 18
  3. Gordiano Lupi p. 18-19
  4. Gordiano Lupi p. 20
  5. 1 2 3 4 5 6 Gordiano Lupi p. 21
  6. 1 2 Nocturno n. 35 p. 33
  7. 1 2 Nocturno n. 35 p. 32
  8. 1 2 টেমপ্লেট:Cita.
  9. টেমপ্লেট:Cita.
  10. 1 2 Gordiano Lupi, Laura Gemser e le altre. Edizioni Profondo Rosso, 2011. pp. 18–19.
  11. Paul, Louis (২০১৩)। Italian Horror Film Directors। McFarland। পৃ. ১৮৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০৭৮৬৪৮৭৪৯৩। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
  12. www.critic.de (১৩ অক্টোবর ২০২০)। "Emanuelle Around the World | Kritik"critic.de (জার্মান ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০২০
  13. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Leeuwarder নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  14. Gabriele (২ নভেম্বর ২০২০)। "Ricordate Laura Gemser? Che fine ha fatto Emanuelle Nera - FOTO"Ck12 Giornale (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০২০

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]