লক্ষণা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
লক্ষণা
পরিবারদুর্যোধন (পিতা)
ভানুমতী (মাতা)
দাম্পত্য সঙ্গীশাম্ব

লক্ষণা ছিলেন দুুুুর্যোধন এবং ভানুমতীর কন্যা।হিন্দু মহাকাব্য মহাভারতে, লক্ষণা ছিলেন দুর্যোধন এবং ভানুমতীর কন্যা।[১] তার একজন যমজ ভাই ছিল যার নাম লক্ষণমহাভারতে লক্ষণার শ্রীকৃষ্ণের পুত্র শাম্বের সাথে বিবাহের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।

জন্ম ও নামকরণ[সম্পাদনা]

দুর্যোধনের ঔরসে ভানুমতীর গর্ভে তার জন্ম হয়। রূপে, গুণে অনুপমা, সর্বগুণযুক্তা, ভুবন মোহিনী ,সুলক্ষণা ,বিভূষণা বলে তার নাম রাখা হয় লক্ষণা।

শাম্বের সাথে বিবাহ[সম্পাদনা]

সপ্তদশ শতাব্দীর চিত্রকর্মে বলরাম হস্তিনাপুর প্রাসাদকে গঙ্গা নদীতে নিক্ষেপ করতে যাচ্ছেন

তিনি যুবতী হলে দুর্যোধন লক্ষণার জন্য সম্ভাব্য স্বামী নির্ধারণের জন্য স্বয়ংবরের আয়োজন করেছিল।নারদের মুখে তার রূপ বর্ণনা শুনে শ্রীকৃষ্ণের পুত্র শাম্ব তার প্রেমে পড়েন।একাই সবার অলক্ষ্যে তিনি রথে চড়ে স্বয়ংম্বরের জন্য যাত্রা করলেন।

স্বয়ংবরে লক্ষণাকে বাইরে আনা হল। অনুপম মুখ তার যিনি শরদিন্দু(শরৎকালের স্নিগ্ধ চাঁদকেও জয় করে)। ঝলমল কুন্ডল তার, মিহির(সূর্য) যেন অধর(ঠোঁট)কে রাঙ্গিয়ে তুলেছে। ভ্রূভঙ্গে অনঙ্গ(কামদেব) জয় সম্ভব। পাখির মত চঞ্চল চক্ষু(খঞ্জন) অঞ্জনে(কাজলে) রঞ্জিত। শুকচঞ্চুর(টিয়াপাখির ঠোঁট) মত নাক, শ্রুতি(কান) গৃধিনীকেও(শকুনী) লজ্জা দেবে। বিপুল নিতম্ব গতি মরালের(রাজহাঁস) মত। চরণে রসাল কিঙ্কিণী ও নূপুর বাজে। ধূমহীন অগ্নি কিংবা বিদ্যুতে যেন এর সৃষ্টি। শিশু সূর্যের যেন উদয় হল।

তাকে দেখা মাত্র রাজারা চেতনা হারাল। স্বয়ংবরে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে শাম্ব লক্ষ্মণাকে নিয়ে হস্তিনাপুর থেকে দ্বারকার জন্য বেরিয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানির পর কৌরবরা ক্ষুব্ধ হয়ে শাম্বকে তাড়া করে। কর্ণ (মহাভারত) ইন্দ্রজাল অস্ত্র প্রয়োগ করে শাম্বকে বেঁধে ফেলল ও বন্দী করল। যা জেনে যাদবরা (শ্রীকৃষ্ণের পরিবার) তাকে মুক্ত করতে এগিয়ে আসে। যাদব ও কৌরবদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় যাদবদের অন্যতম নেতা বলরাম শান্তিপূর্ণ এবং পারিবারিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে হস্তিনাপুর যান। হস্তিনাপুর গিয়ে বলরাম বলেছিলেন যে মথুরার যাদবদের রাজা উগ্রসেন শাম্বকে মুক্তি দিতে অনুরোধ করেছেন। কৌরবরা সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিল। উপরন্তু কৌরবরা বলরামকে অপমান করেছিল। এতে বলরাম ক্ষুব্ধ হন। তিনি সর্বদা বহন করা হল বা লাঙ্গল দিয়ে গঙ্গায় নিক্ষেপ করার জন্য হস্তিনাপুর শহরের ভিত্তি তুলে নেন। শহর ডুবে যাবে বুঝতে পেরে কৌরবরা তৎক্ষণাৎ বলরামের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল। তারপর বলরাম হস্তিনাপুর শহরটিকে তার আসল অবস্থানে রাখেন। অবশেষে শাম্ব মুক্তি পায় এবং লক্ষণার সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়। দুর্যোধন মেয়ের বিয়েতে ৬০,০০০ হাতি, এক লক্ষ এবং ১,২০০ ঘোড়া, ৬০,০০০ রথ এবং ১০০০ মহিলা দাসী দিয়েছিলেন।[২][৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Indian Myth and Legend: Chapter XVIII. The Battle of Eighteen Days"। Sacred-texts.com। 
  2. "Krishna Book Chapter 67: The Marriage of Samba"। Krsnabook.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৮-২৬ 
  3. "Indian Myth and Legend: Chapter XVIII. The Battle of Eighteen Days"। Sacred-texts.com।