লকহিড মার্টিন এফ-৩৫ লাইটনিং ২

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এফ-৩৫ লাইটনিং ২
F-35A off the coast of Northwest Florida
যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর অন্তর্গত একটি এফ-৩৫এ
ভূমিকা স্টিলথ মাল্ট্রোল ফাইটার
উৎস দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
নির্মাতা লকহিড মার্টিন অ্যারোনটিকস
প্রথম উড্ডয়ণ ১৫ ডিসেম্বর ২০০৬; ১৪ বছর আগে (2006-12-15) (এফ-৩৫এ)
প্রবর্তন এফ-৩৫বি: ৩১ জুলাই ২০১৫ (ইউএসএমসি)[১]
এফ-৩৫এ: ২ অগাস্ট ২০১৬ (ইউএসএএফ)[২]
এফ-৩৫সি: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ (ইউএসএন)[৩]
অবস্থা পরিষেবাতে নিযুক্ত
মুখ্য ব্যবহারকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনী
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেরিন কর্পস
যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী
রয়্যাল এয়ার ফোর্স
অন্যদের জন্য ব্যবহারকারী অনুছেদ দেখুন
নির্মিত হচ্ছে ২০০৬–বর্তমান
নির্মিত সংখ্যা ৫৫৫+ টি (২০২০ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত)[৪]
প্রোগ্রাম খরচ US$৪২৮.৪ বিলিয়ন (through 2044 in then-year dollars), পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য $১,১৯৬.৪ বিলিয়ন (through 2077 in then-year dollars) (2019 estimate)[৫]
ইউনিট খরচ এফ-৩৫এ: $৭৭.৯ মিলিয়ন (lot 14)[৪]
এফ-৩৫বি: $১০১.৩ মিলিয়ন (lot 14)[৪]
এফ-৩৫সি: $৯৪.৪ মিলিয়ন (lot 14)[৪]
উন্নয়নকৃত লকহিড মার্টিন এক্স-৩৫

লকহিড মার্টিন এফ-৩৫ লাইটনিং ২ বায়ুতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ও আঘাত হানা উভয় অভিযান পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে তৈরি একক আসন, একক ইঞ্জিন, সকল আবহাওয়ায় উপযোগী স্টেল্থ বৈশিষ্ট সম্পন্ন মার্কিন পরিবারের একাধিক ভূমিকার যুদ্ধ বিমানের। এটি বৈদ্যুতিন যুদ্ধ এবং বুদ্ধিমত্তা, নজরদারি ও পুনরায় সংযোগ ক্ষমতা সরবরাহ করতে সক্ষম। এফ -৩৫ বিমানের প্রধান ঠিকাদার সংস্থা লকহিড মার্টিন এবং প্রধান অংশীদার নর্থরোপ গ্রুমম্যানবিএই সিস্টেম। বিমানটির প্রধান তিনটি সংস্করণ রয়েছে, এগুলি হল প্রচলিত উড্ডয়ন ও অবতরণকারী এফ-৩৫এ (সিটিওএল), সংক্ষিপ্ত উড্ডয়ন ও উল্লম্ব-অবতরণকারী এফ-৩৫বি (এসটিওভিএল) এবং বিমানবাহী রণতরী ভিত্তিক এফ-৩৫সি (সিভি/ক্যাটোবার)।

বোয়িং এক্স-৩২-কে পরাজিত করে ২০০১ সালে যৌথ স্ট্রাইক ফাইটার (জেএসএফ) প্রোগ্রামটি জিতে লকহিড মার্টিন এক্স-৩৫ থেকে বিমানটি তৈরি করে। এর উন্নয়ন যুক্তরাজ্য, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নরওয়ে, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও পূর্বের তুরস্ক সহ ন্যাটো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলির মধ্য থেকে প্রকল্পে অংশ নেওয়া দেশগুলির অতিরিক্ত অর্থায়নের সাথে মূলত আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে হয়।[৬][৭] আরও বেশ কয়েকটি দেশ বিমানটি ক্রয়ের আবেদন করেছে, বা ক্রয়ের আবেদন করার কথা বিবেচনা করছে। প্রকল্পটি তার অভূতপূর্ব আকার, জটিলতা, বেলুনিং ব্যয় এবং অনেক বিলম্বিত বিতরণের জন্য অনেক তদন্ত ও সমালোচনার সম্মুখীন হয়।[N ১] বিমানটির উন্নয়ন ও পরীক্ষা চলাকালীন একযোগে উৎপাদন কৌশল অর্জনের ফলে ব্যয়বহুল নকশার পরিবর্তন এবং পুনঃনির্মাণ ঘটে।[৯][১০]

এফ-৩৫বি ২০১৫ সালের জুলাই মাসে মার্কিন মেরিন কর্পস-এর সাথে পরিষেবায় প্রবেশ করে, এরপরে এফ-৩৫এ ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে মার্কিন বিমান বাহিনী এবং এফ-৩৫সি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন নৌবাহিনীতে নিযুক্ত হয়।[১][২][৩] ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ২০১৮ সালে প্রথম যুদ্ধে এফ-৩৫ ব্যবহার করে।[১১] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০৪৪ সালের মধ্যে ২,৪৬৬ টি এফ-৩৫এস ক্রয়ের পরিকল্পনা করেছে, যা আগামী বেশ কয়েক দশক ধরে মার্কিন বিমান বাহিনী, নৌ ও সামুদ্রিক কর্পসের কৌশলগত বিমানশক্তির বেশিরভাগ অংশকে উপস্থাপন করবে।[৫] বিমানটি ২০৭০ সাল অবধি ব্যবহৃত হওয়ার কথা রয়েছে।[১২]

নকশা[সম্পাদনা]

ইঞ্জিন[সম্পাদনা]

এফ৩৫ এ প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ 135 লো-বাইপাস অগমেন্টেড টার্বোফানযুক্ত ইঞ্জিন রয়েছে যার থ্রাস্টক্ষমতা 43,000 এলবিএফ (191 কেএন)।এই ইঞ্জিনটি এফ২২ র‍্যাপ্টরে ব্যাবহিত হয়। এই ইঞ্জিন গলাকার থ্রাস্ট তৈরি করে যা রাডার থেকে রক্ষা করে।

স্টেলথ ক্ষমতা[সম্পাদনা]

স্টেলথ এফ -35 এর ডিজাইনের একটি মূল দিক। এফ৩৫ এ রাডার শোষণকারি উপকরণ (র‍্যাম)এর প্রলেপ দেয়া হয়, যা রাডার ক্রস -সেকশন হ্রাস করে। আর এর ধাতব কম রশ্নি উৎপন্ন করে যা রাডার ধরতে পারে না। এছাড়া বিমানে পুরো দেহ র‍্যাম দ্বারা আবৃত যা অন্য কোন বিমানে দেখা যায় না।

অস্ত্র[সম্পাদনা]

এর স্টিলথ বজায় রাখার জন্য, এফ -35 এ দুটি অস্ত্র স্টেশন সহ দুটি অভ্যন্তরীণ অস্ত্র বে রয়েছে।এফ৩৫ দুই পাখায় ১০০০ বা ৬০০ কেজির বোমা ধারন করতে পারে । এফ৩৫ পেটের ভেতরে অস্ত্র করে মূলত, যার ফলে এটি রাডারে ধরা পড়েনা। এফ৩৫এর এয়ার টু সারফেস অস্ত্রগুলু হচ্ছে ঃ জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন (জেডিএএম), পেভওয়ে সিরিজ বোমা, জয়েন্ট স্ট্যান্ডাফ ওয়েপন (জেএসডাব্লু) এবং গুচ্ছ হামলা (উইন্ড কারেক্টেক্ট মিউনিশনস ডিসপেন্সার)। স্টেশনটি একাধিক ছোট ছোট অস্ত্রশস্ত্র যেমন জিবিইউ -৯৯ ছোট ব্যাস বোম্বস (এসডিবি), জিবিইউ -৩৩ / বি এসডিবি II, এবং স্পিয়ার 3 অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইলগুলি বহন করতে পারে; এফ -35 এ এবং এফ -35 সি এর জন্য স্টেশনে চারটি এসডিবি এবং তিনটি এফ -35 বি বহন করতে পারে। এয়ার ট এয়ার মিসাইলঃ এ আই এম-৯ এবং আই এম-১২০।

ব্যবহারকারী[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়া

৪০টী এফ৩৫ রয়েছে

বেলজিয়াম

৩৪ টি কেনার পরিকল্পনা

ডেনমার্ক

২৭টি কেনার পরিকল্পনা

ইসরায়েল

২৭টি রয়েছে , আরও ৭৫টি কিনবে

ইতালি

১৩টি রয়েছে , এয়ার ফোর্সের জন্য ৭৫টি ও নেভির জন্য ১৫ কিনবে

জাপান

৪২টী রয়েছে, আরও কিনবে ১৪৭টি

নেদারল্যান্ড

১৭টি রয়েছে

নরওয়ে

২৫টি রয়েছে

পোল্যান্ড

৩২টি অর্ডার করা হয়েছে

সাউথ কোরিয়া

১১টি রয়েছে

সিঙ্গাপুর

৪টির সাথে ৮টি কেনার পরিকল্পনা

তুরস্ক

৪টি রয়েছে, কিন্ত সম্প্রীতি তাঁদের বাদ দেয়া হয়

যুক্তরাজ্য

২১ রয়েছে , ৮০টি কেনার পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্র

২৮৩টি রয়েছে

নোট[সম্পাদনা]

  1. By 2014, the program was "US$163 billion over budget [and] seven years behind schedule".[৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Drew, James (৩১ জুলাই ২০১৫)। "First operational F-35 squadron declared ready for combat"flightglobal। Reed Business Information। 
  2. Insinna, Valerie (২ আগস্ট ২০১৬)। "Air Force Declares F-35A Ready for Combat"Defense News – defensenews.com-এর মাধ্যমে। 
  3. Eckstein, Megan (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "Navy Declares Initial Operational Capability for F-35C Joint Strike Fighter"usni.org। USNI News। 
  4. Lockheed Martin (৩ আগস্ট ২০২০)। "F-35 Lightning II Program Status and Fast Facts" (PDF)f35.com। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২০ 
  5. "Select Acquisition Report: F-35 Lightning II Joint Strike Fighter (JSF) Program (F-35) as of FY 2020 President's Budget" (PDF)। ১৭ এপ্রিল ২০১৯। ৬ জুন ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  6. "F-35 Global Partnerships"lockheedmartin.com। Lockheed Martin। ২ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১২ 
  7. Dudley, Richard. "Program Partners Confirm Support for F-35 Joint Strike Fighter". Defence Update, 5 March 2012.
  8. "Fighter plane cost overruns detailed"Politico। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  9. "Flawed F-35 Too Big to Kill as Lockheed Hooks 45 States"Bloomberg.com। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। 
  10. Ciralsky, Adam। "Will the F-35, the U.S. Military's Flaw-Filled, Years-Overdue Joint Strike Fighter, Ever Actually Fly?"Vanity Fair। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  11. Ahronheim, Anna (২২ মে ২০১৮)। "IAF Commander: Israel First To Use F-35 Jet In Combat"Jerusalem Post 
  12. Lockheed F-35 service life extended to 2070 – Flightglobal.com, 25 March 2016

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]