বিষয়বস্তুতে চলুন

রেড ডেড রিডেম্পশন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

রেড ডেড রিডেম্পশন (ইংরেজি: Red Dead Redemption) হলো ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার গেম, যা রকস্টার সান ডিয়েগো দ্বারা তৈরি এবং রকস্টার গেমস দ্বারা প্রকাশিত। এটি ২০০৪ সালের গেম রেড ডেড রিভলভার-এর আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি এবং রেড ডেড সিরিজের দ্বিতীয় গেম। গেমটি মূলত ১৯১১ সালে আমেরিকান ফ্রন্টিয়ারের পতনের সময়ের প্রেক্ষাপটে নির্মিত।

রেড ডেড রিডেম্পশন

কাহিনী

[সম্পাদনা]

গেমের কাহিনী ১৯১১ সালে আমেরিকান ওল্ড ওয়েস্টের সীমান্ত অঞ্চলের পটভূমিতে রচিত। ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের দুই এজেন্ট, এডগার রস এবং আর্চার ফোর্ডহ্যাম, প্রাক্তন আউট ল জন মারস্টনকে ব্ল্যাকমেইল করে। তারা জনের স্ত্রী অ্যাবিগেইল এবং পুত্র জ্যাককে জিম্মি করে রাখে এবং শর্ত দেয় যে, জন যদি তার পুরনো 'ভ্যান ডার লিন্ডে' গ্যাংয়ের সদস্য—বিল উইলিয়ামসন, হাভিয়ের এসকুয়েলা এবং ডাচ ভ্যান ডার লিন্ডেকে—আইনের হাতে তুলে দিতে পারে বা হত্যা করতে পারে, তবেই তার পরিবারকে মুক্তি দেওয়া হবে।

জন প্রথমে নিউ অস্টিনে যায় বিল উইলিয়ামসনকে ধরতে, কিন্তু বিলের গ্যাংয়ের হাতে সে মারাত্মকভাবে আহত হয়। স্থানীয় খামার মালিক বনি ম্যাকফারলেন তাকে উদ্ধার করে সুস্থ করে তোলেন। পরে জন আর্মাডিলো শহরের শেরিফ মার্শাল লেই ডিকসন এবং ধূর্ত ব্যবসায়ী নাইজেল ওয়েস্ট ডিকেন্সের সহায়তায় ফোর্ট মার্সারে বিলের দুর্গে আক্রমণ করে। সেখানে সে জানতে পারে যে বিল পালিয়ে মেক্সিকোতে চলে গেছে।

মেক্সিকোর নুয়েভো প্যারাইসোতে গিয়ে জন এক জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির শিকার হন। তিনি সেখানে কর্নেল আলেন্দের স্বৈরাচারী সরকারি বাহিনী এবং আব্রাহাম রেয়েসের বিপ্লবী দল—উভয় পক্ষের হয়েই কাজ করতে বাধ্য হন যাতে বিল ও হাভিয়েরের খোঁজ পাওয়া যায়। মেক্সিকোতে তিনি কিংবদন্তি গানস্লিঙ্গার ল্যান্ডন রিকেটসের কাছে নতুন রণকৌশল শেখেন। শেষ পর্যন্ত বিপ্লবীদের সহায়তায় জন কর্নেল আলেন্দে ও বিল উইলিয়ামসনকে হত্যা করেন এবং হাভিয়ের এসকুয়েলাকে গ্রেপ্তার (অথবা হত্যা) করেন।

এরপর জন শেষ সদস্য ডাচ ভ্যান ডার লিন্ডেকে ধরতে টল ট্রিসে যান। ডাচ একসময় জনের মেন্টর ছিল, কিন্তু এখন সে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। জন ও সরকারি বাহিনী ডাচকে কোণঠাসা করলে ডাচ পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে। কাজ শেষ হওয়ার পর জন তার পরিবারের কাছে ফিরে আসেন এবং শান্তিতে খামার জীবন শুরু করেন। কিন্তু বিশ্বাসঘাতক এডগার রস তার বাহিনীকে নিয়ে জনের খামারে অতর্কিত হামলা চালায়। পরিবারের সুরক্ষার জন্য জন বীরত্বের সাথে লড়াই করেন এবং শত শত সেনার গুলির মুখে প্রাণ হারান। ১৯১৪ সালে জনের ছেলে জ্যাক মারস্টন বড় হয়ে ওঠে এবং তার বাবার হত্যাকারী এডগার রসকে একটি দ্বৈরথ যুদ্ধে হত্যা করে চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেয়।

গেমপ্লে

[সম্পাদনা]

এটি একটি ওপেন-ওয়ার্ল্ড গেম যা থার্ড-পারসন পারসপেক্টিভ থেকে খেলা হয়। খেলোয়াড়রা ঘোড়ায় চড়ে বা পায়ে হেঁটে বিশাল মানচিত্র ভ্রমণ করতে পারে। গেমের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য হলো:

  • ডেড আই (Dead Eye): এটি একটি বিশেষ ক্ষমতা যা সময়কে ধীর করে দেয় এবং খেলোয়াড়কে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করতে সাহায্য করে।
  • অনার সিস্টেম (Honor System): খেলোয়াড়ের ভালো বা খারাপ কাজের ওপর ভিত্তি করে তার 'অনার' বা সম্মান বাড়ে বা কমে, যা গেমের চরিত্রদের আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে।
  • শিকার ও ক্রাফটিং: বন্য প্রাণী শিকার করে তাদের চামড়া বা মাংস বিক্রি করা যায়।

চরিত্রসমূহ

[সম্পাদনা]

প্রধান চরিত্রসমূহ

[সম্পাদনা]
  • জন মারস্টন: গেমের মূল নায়ক (Protagonist), একজন প্রাক্তন আউট ল যে নিজের অতীত মুছে পরিবারের কাছে ফিরতে চায়।
  • অ্যাবিগেইল মারস্টন: জনের স্ত্রী এবং জ্যাকের মা।
  • জ্যাক মারস্টন: জন ও অ্যাবিগেইলের ছেলে, যে গেমের শেষে বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেয়।
  • ডাচ ভ্যান ডার লিন্ডে: ভ্যান ডার লিন্ডে গ্যাংয়ের নেতা এবং জনের পুরনো অভিভাবক।
  • এডগার রস: ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং গেমের প্রধান খলনায়ক।
  • বিল উইলিয়ামসন: জন মারস্টনের প্রাক্তন সঙ্গী এবং নিউ অস্টিনের এক শক্তিশালী গ্যাং লিডার।
  • হাভিয়ের এসকুয়েলা: জনের পুরনো গ্যাংয়ের সদস্য যে মেক্সিকোতে পালিয়ে গিয়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ শুরু করে।

অন্যান্য চরিত্রসমূহ

[সম্পাদনা]
  • মার্শাল লেই ডিকসন: আর্মাডিলো শহরের আদর্শবাদী শেরিফ।
  • বনি ম্যাকফারলেন: ম্যাকফারলেন রাঞ্চের মালিকের মেয়ে যে আহত জনকে আশ্রয় ও সাহায্য দেয়।
  • নাইজেল ওয়েস্ট ডিকেন্স: একজন চতুর ও বাচাল বিক্রেতা যে বিচিত্র কৌশলে জনকে সাহায্য করে।
  • ল্যান্ডন রিকেটস: মেক্সিকোতে বসবাসরত একজন প্রবীণ ও কিংবদন্তি গানস্লিঙ্গার।
  • আব্রাহাম রেয়েস: মেক্সিকান বিপ্লবীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী নেতা।
  • কর্নেল অগাস্টিন আলেন্দে: মেক্সিকোর নুয়েভো প্যারাইসো অঞ্চলের স্বৈরাচারী শাসক।
  • সেথ ব্রায়ার্স: গুপ্তধনের খোঁজে পাগল হয়ে যাওয়া এক অদ্ভুত ব্যক্তি।

উত্তরাধিকার ও প্রভাব

[সম্পাদনা]

মুক্তির পর রেড ডেড রিডেম্পশন সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা পায়। এর গ্রাফিক্স, মিউজিক, ওপেন-ওয়ার্ল্ড ডিজাইন এবং কাহিনীর গভীরতা এটিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ভিডিও গেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি একাধিক 'গেম অফ দ্য ইয়ার' পুরস্কার জয় করে। ২০১৮ সালে এর প্রিক্যুয়েল (Prequel) হিসেবে রেড ডেড রিডেম্পশন ২ মুক্তি পায়, যা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]

    বহিঃসংযোগ

    [সম্পাদনা]