রুশ বিপ্লবে নারী
১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবে দেখা যায় তৎকালীন রুশ সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ, এক স্বল্পস্থায়ী সরকার এবং বলশেভিকদের নেতৃত্বে গঠিত পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তারা নারী ও পুরুষের সমতার ধারণা প্রচার করার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই সময়ের অনেক প্রাথমিক রুশ নারীবাদী এবং সাধারণ রুশ কর্মজীবী মহিলারা বিপ্লবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সকলেই সেই সময়ের একাধিক ঘটনা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নতুন রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল।
১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জারকে উৎখাত করার পর ক্ষমতা গ্রহণকারী অস্থায়ী সরকার উদারনীতিবাদকে প্রচার করে এবং রাশিয়াই পৃথিবীর প্রথম প্রধান দেশ হয় যেখানে নারীরা ভোট দেবার অধিকার অর্জন করে। ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে বলশেভিকরা ক্ষমতা গ্রহণ করার সাথে সাথেই, বিবাহবিচ্ছেদ এবং গর্ভপাত সংক্রান্ত আইনকে উদার করা হয়, সমকামিতাকে অপরাধমুক্ত কার্য হিসেবে ঘোষণা করে এবং মহিলাদের সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটায়। ইনেসা আরমান্ড (১৮৭৪-১৯২০), আলেকজান্দ্রা কোলোনতাই (১৮৭২-১৯৫২), নাদেজহদা ক্রুপস্কায়া (১৮৬৯-১৯৩৯) এবং আলেকসান্দ্রা আর্টিউখিনা (১৮৮৯-১৯৬৯), এঁরা ছিলেন বিশিষ্ট বলশেভিক সদস্যা। বলশেভিক সদস্যাদের বাইরে, মারিয়া স্পিরিডোনোভা আবির্ভূত হন বাম সমাজতান্ত্রিক-বিপ্লবীদের এবং সাধারণত কৃষক আন্দোলনের প্রধান নেতাদের একজন হিসাবে। তিনি ১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসের শেষের দিকে বিশেষ অল-রাশিয়া কংগ্রেস অফ সোভিয়েট অফ পিজেন্টস ডেপুটিজের সভাপতিত্ব করেন এবং পরে ১৯১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত অল-রাশিয়ান সোভিয়েতের শ্রমিক, কৃষক এবং সৈনিকদের ডেপুটিজ-এর (VTsIK) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির কৃষক বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন।
রুশ মহিলাগণ এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
[সম্পাদনা]১৯০৫ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তরুণ রাশিয়ান নারীবাদী আন্দোলন উজ্জীবিত হয়েছিল, যার ফলে মহিলাদের উপর কিছু কঠোর বিধিনিষেধের উদারীকরণ ঘটে এবং একটি জাতীয় সংসদ তৈরি করা হয়। কিন্তু, ১৯০৮ সাল নাগাদ, এর প্রতিক্রিয়ায় গঠিত শক্তিগুলি কঠোরভাবে নারীবাদীদের পিছু হটতে বাধ্য করে। মহিলাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিষিদ্ধ করা হয়, এবং উদারপন্থী দলগুলির মধ্যে হতাশা জন্ম নেয়।
১৯১৪ সালের আগস্টে যুদ্ধের প্রাদুর্ভাব ছিল একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা যার জন্য সাম্রাজ্য একদমই প্রস্তুত ছিল না। যেহেতু পুরুষদের দ্রুত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হয় তাই লক্ষ লক্ষ মহিলারা নতুন ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। ১৯১৪ এবং ১৯১৭ সালের মধ্যে ২৫০,০০০ মহিলা কারখানায় যোগদান করে ফলে শিল্প কেন্দ্রগুলিতে মহিলা শ্রমিকের সংখ্যা এক মিলিয়নেরও বেশি হয়ে যায়। কৃষক মহিলারাও নতুন ভূমিকা গ্রহণ করেন ও তাদের স্বামীর খামারের কাজে অংশগ্রহণ করেন। অল্প সংখ্যক নারী যুদ্ধে সরাসরি প্রথম সারিতে লড়াই করেন পুরুষের ছদ্মবেশে, এবং আরও হাজার হাজার মহিলা নার্স হিসাবে কাজ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নারীদের সামাজিক পরিস্থিতি আসন্ন বিপ্লবে তাদের ভূমিকাকে প্রভাবিত করেছিল।
অস্থায়ী সরকারের অধীনে
[সম্পাদনা]১৯১৭ সালের বসন্তে, রাশিয়ান যুদ্ধ মন্ত্রক ষোলটি পৃথক সর্ব-মহিলা সামরিক বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেয়। যার মধ্যে চারটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন হিসাবে, এগারোটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকরণ এবং একটি একক নৌ ইউনিট হিসাবে মনোনীত করা হয়। ইতিমধ্যেই কিছু মহিলা সফলভাবে নিয়মিত সামরিক ইউনিটে যোগদানের জন্য আবেদন করেছিলেন, এবং কেরেনস্কি আক্রমণের পরিকল্পনার সাথে, বেশ কিছু সংখ্যক মানুষ বিশেষ মহিলা ব্যাটালিয়ন তৈরি করার জন্য নতুন অস্থায়ী সরকারকে চাপ দিতে শুরু করে। রাশিয়ান সরকার এবং সামরিক প্রশাসনের উচ্চ-পদস্থ সদস্যদের এবং অংশগ্রহণকারী মহিলাদের বিশ্বাস ছিল যে মহিলা সৈন্যদের মতবাদের বিশেষ মূল্য থাকবে এবং তাদের উদাহরণ রাশিয়ান সেনাবাহিনীর ক্লান্ত ও নীতিভ্রষ্ট পুরুষ সৈন্যদের পুনরুজ্জীবিত করবে। একই সাথে, তারা আশা করেছিলেন যে মহিলা সৈন্যদের উপস্থিতি যুদ্ধের দায়িত্ব পুনরায় শুরু করতে দ্বিধাগ্রস্ত পুরুষ সৈন্যদের লজ্জা দেবে।
ফেব্রুয়ারী বিপ্লব এবং বলশেভিক দলের উপর এর প্রভাব
[সম্পাদনা]
ফেব্রুয়ারি বিপ্লব জারবাদী শাসনের পতন ঘটায় এবং একটি অস্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠা করে। এই বিপ্লবে কয়েকজন নারী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেন, বিশেষ করে যারা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে গণবিক্ষোভের জন্য একত্রিত হন। তারা অস্থায়ী সরকারের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার অর্জন করেন, যার মধ্যে ভোটের অধিকার, অ্যাটর্নি হিসাবে কাজ করার এবং সিভিল সার্ভিসে সমান অধিকার দাবি করা হয়। এই ধরনের রাজনৈতিক অধিকারের জন্য সাধারণত উচ্চ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মহিলারা প্রতিবাদ জানান, যেখানে সাধারণ দরিদ্র মহিলারা "রুটি এবং শান্তি" এর জন্যই প্রতিবাদ করেছিলেন। রেকর্ড সংখ্যায় মহিলারা রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। সমস্ত মহিলাদের যুদ্ধ ইউনিট স্থাপন করা হয়েছিল, এর মধ্যে প্রথমটি 1917 সালের মে মাসে গঠিত হয়েছিল।
নারীদের প্রশ্ন এবং বলশেভিক রাজনীতি
[সম্পাদনা]নারীদের প্রশ্ন, এবং নারীদের ব্যক্তিগত কঠোর সামাজিক নিয়ম ও ভূমিকার মধ্যে আবদ্ধ রাখার ধারণা, ১৯ শতকের শেষের দিকে এবং ২০ শতকের প্রথম দিকে রাশিয়ান বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে একটি জনপ্রিয় বিষয় ছিল। তবে, পাশ্চাত্য সভ্যতার বিপরীতে নারীর অধিকার ও ভূমিকা সম্পর্কিত রাশিয়ান আলোচনা মানবাধিকারের নিমিত্ত কোনো মৌলিক সংগ্রামের অংশ হিসেবে গঠিত হয়নি। বিপ্লব কিভাবে লিঙ্গকেন্দ্রিক হয়ে উঠলো তা নিয়ে বারবারা এঞ্জেল অন্বেষণ করেন। রাজকীয় যুগে গৃহপালিত জীবনের দুর্বলতা নতুন বলশেভিক নীতির প্রবর্তনকে সহজতর করেছিল। অন্যদিকে শ্রমিক শ্রেণীতে একাধারে পুরুষদের অধিকার ছিল, যা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। প্রকৃতপক্ষে, ১৯০৫ সালের পর চরমপন্থীরা ক্রমাগত মহিলাদের সামাজিকক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন করতে থাকে এবং শুধুমাত্র পুরুষরাই বৈধভাবে অংশগ্রহণের অধিকার পায়, বিপ্লবী হিসেবে পুরুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং প্রায়শই গৃহিণী এবং কৃষক মহিলাদের উপহাস করা হয়। ফলস্বরূপ, সমাজসংস্কারক ও বিপ্লবীরা সাধারণত নারীদের পশ্চাৎপদ এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনে করতে থাকেন এবং রাজনৈতিকভাবে মহিলারা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে দাবি রাখেন। কিছু মার্কসবাদী নারী-শ্রমিকদের "সর্বহারা শ্রেণীর সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা স্তর" হিসাবে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করা হয় যে তারা দলের নির্দেশ ছাড়া বিপ্লবী চেতনা বিকাশে অক্ষম। এই বিষয়ে অনেক লেখালেখি ও তাত্ত্বিক আলোচনা হলেও, অনেক রাশিয়ান এই সমস্যাটিকে প্রধানত নারীবাদীদের সাথে সম্পর্কিত করেছেন। বিপ্লবের আগে, নারীবাদকে "বুর্জোয়া" হিসাবে নিন্দা করা হয়েছিল কারণ এটিকে উচ্চ শ্রেণী থেকে আসা একটি ধারণা বলে মনে করা হয় এবং এই ধারণা শ্রমিক শ্রেণীকে বিভক্ত করবে এমন ভাবার ফলে এটি বিপ্লব-বিরোধী বলেও বিবেচিত হয়েছিল। ১৮৯০ সালে দ্য উইমেন কোয়েশ্চেনের উপর এঞ্জেলসের কাজ লেনিনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে আসলে নারী-নিপীড়ন হল নারীদের সামাজিকক্ষেত্র থেকে বাদ দিয়ে গার্হস্থ্য কর্মে তাদের নির্বাসন দেওয়া। মহিলাদের সত্যিকারের কমরেড হিসাবে স্থান দেওয়ার জন্য, বুর্জোয়া পরিবারকে ভেঙে দেওয়া হয় এবং মহিলাদের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং কর্মসংস্থানের অধিকার দেওয়া হয়। ফেব্রুয়ারি বিপ্লবে নারীদের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে, বলশেভিক দল "দ্য উইমেন কোয়েশ্চেন"-এর বিষয়ে তাদের পদ্ধতিগুলি পুনর্বিবেচনা ও পুনর্গঠন শুরু করে। স্তালিন বলশেভিকদের যুদ্ধকালীন অনেক নীতিকে বদলে দিয়েছিলেন এবং তিনি এমন একটি ব্যবস্থাও স্থাপন করেছিলেন যা কিছু মহিলাদের জন্য ক্ষমতাপ্রদানকারী ছিল।
বলশেভিকরা শ্রমিক শ্রেণীর যে কোনো রকমের বিভাজনেরই বিরুদ্ধে ছিল, অর্থাৎ এই সময় মহিলা ও পুরুষদের পৃথক করে বিশেষভাবে মহিলাদের সমস্যায় দৃষ্টিপাত করা হয়নি। তারা ভেবেছিল যে নারী ও পুরুষের কোনো ভেদাভেদ ছাড়া একসঙ্গে কাজ করা দরকার, এবং এই কারণে, প্রথম দিকে, দলের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে মহিলাদের জন্য কোনো সাহিত্য প্রকাশ হয়নি, এবং বলশেভিকরা নারী কর্মীদের জন্য একটি ব্যুরো তৈরি করতে অস্বীকার করে। ১৯১৭ সালে, তারা রাশিয়ান নারীবাদী আন্দোলনের দাবি মেনে নেয় এবং মহিলা ব্যুরো তৈরি করে।
অক্টোবর বিপ্লব এবং গৃহযুদ্ধ
[সম্পাদনা]১৮১৮ সালে অক্টোবরের শুরুতে, সোভিয়েত ইউনিয়ন বিবাহবিচ্ছেদ এবং গর্ভপাত আইনের উদারীকরণ করে, সমকামিতাকে অপরাধমুক্ত করে, সহবাসের অনুমতি দেয় এবং এমন কিছু নিয়মের সংশোধন ঘটায় যা খাতায়কলমে নারীকে পুরুষের সমান করে তোলে। নতুন ব্যবস্থার ফলে অনেক বিবাহ বিচ্ছেদ, এবং সেইসঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া অগণিত সন্তানের জন্ম হয়। বিবাহবিচ্ছেদ এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ব্যাপক উদ্ভব সামাজিক অসুবিধার সৃষ্টি করে কিন্তু তখন সোভিয়েত নেতারা চেয়েছিলেন যে জনগণ শুধুমাত্র অর্থনীতির বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় মনোনিবেশ করবে। তারা শহরের বিভিন্ন শিল্প ও শ্রমসাধ্য কাজে নারীদের এগিয়ে আনার ব্যাপারটিকে অগ্রাধিকার দেন। জন্মহার প্রবলভাবে কমতে শুরু করে, যাকে ক্রেমলিন সোভিয়েত সামরিক শক্তির জন্য আশঙ্কাজনক হিসাবে গণ্য করে। ১৯৩৬ সাল নাগাদ, জোসেফ স্টালিন বেশিরভাগ উদারনীতির আইনকে বদলে দিয়েছিলেন এরফলে একটি রক্ষণশীল, প্রোনাটালিস্ট যুগের সূচনা হয় যা কয়েক দশক ধরে চলেছিল।
বলশেভিক দল নারী মুক্তি এবং পরিবার রূপান্তরের ধারণা নিয়ে ক্ষমতায় আসে। ১৯১৮ সালের অক্টোবরে অনুমোদিত বিবাহ বিষয়ক, পরিবার এবং অভিভাবকত্বের মতো কিছু আইন সংস্কার করে তাঁরা পুরুষদের সাথে নারীর আইনি মর্যাদা সমান করতে সক্ষম হন যা উভয় স্বামী-স্ত্রীকে তাদের নিজস্ব সম্পত্তি এবং উপার্জনের অধিকার বজায় রাখার অনুমতি দেয়, বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরে জন্ম নেওয়া অবৈধ শিশুদেরও বৈধ শিশুদের সমান অধিকার দেওয়ার অনুমতি দেয় এবং অনুরোধের ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদ উপলব্ধ করে। বলশেভিক সদস্যরা নারীদের স্ব-ক্রিয়াকলাপের জন্য একটি আন্দোলন শুরু করেছিলেন; ঝেনোটডেল, যা কমিউনিস্ট পার্টির মহিলা বিভাগ হিসাবেও পরিচিত (১৯১৯-১৯৩০)। আলেকজান্দ্রা কোলোনতাইয়ের নেতৃত্বে এবং ইনেসা আরমান্ড এবং নাদেজ্দা ক্রুপস্কায়ার মতো মহিলাদের সমর্থনে, ঝেনোটডেল বিপ্লবের প্রচার ঘটায়, তাদের আইন চালু করে, শ্রমিক-শ্রেণী ও কৃষক মহিলাদের জন্য রাজনৈতিক শিক্ষা এবং সাক্ষরতার ক্লাস স্থাপন করে এবং পতিতাবৃত্তির বিপক্ষে সরব হয়।

যখন একাধিক শত্রু বলশেভিকদের উৎখাত করার চেষ্টা করে তখন পুরুষদের বাধ্যতামূলকভাবে গৃহযুদ্ধে নিযুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু মহিলাদের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ ছিল না। তা সত্ত্বেও, প্রভূত সংখ্যায় নারীরা অংশগ্রহণ করেন যার থেকে বোঝা যায় যে বলশেভিক দল কিছু নারীর সমর্থন অর্জন করেছে। ১৯২০ সাল নাগাদ প্রায় ৫০,০০০ থেকে ৭০,০০০ মহিলা রেড আর্মিতে যোগ দিয়েছিলেন যা ছিল সামগ্রিক সশস্ত্র বাহিনীর শতকরা ২ ভাগ।
এই সময়ে বলশেভিক নারীবাদ প্রকৃতভাবে রূপ নিতে শুরু করে। লেনিন প্রায়ই মহিলাদের গৃহকর্ম থেকে মুক্তি দেওয়ার গুরুত্বের কথা বলতেন যাতে তারা সমাজে আরও সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং গৃহস্থালির কাজের জন্য শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার প্রচেষ্টাও শুরু হয়। "সমান কাজের জন্য সমান বেতন" নীতিটি সরকারি আইন রূপে বিধিবদ্ধ করা হয়েছিল। বিবাহবিচ্ছেদকে সহজে অর্জনযোগ্য করে তোলা এবং অবৈধ সন্তানদের সম্পূর্ণ অধিকার প্রদান সহ ঐতিহ্যশালী পরিবারের উপর কিছু পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়েছে।
একজন প্রাক্তন মহিলা বিপ্লবী যোদ্ধা, ফ্যানি কাপলান, 1918 সালে ভ্লাদিমির লেনিনকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে লেনিন তার স্বাস্থ্য পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে পারেননি।
কিছু নারী, যেমন নৈরাজ্যবাদী মারিয়া নিকিফোরোভা এবং বাম সমাজতান্ত্রিক-বিপ্লবী ইরিনা কাখোভস্কায়া, যথাক্রমে গৃহযুদ্ধের সময় ইউক্রেনে সামরিক অভিযান এবং সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিলেন, পরবর্তীকালে জার্মান সামরিক গভর্নর, ফিল্ড মার্শাল হারম্যান ফন ইচহর্নকে হত্যার পরিচালনাও করা হয়।
ইনেসা আরমান্ড
[সম্পাদনা]ইনেসা আরমান্ড (১৮৭৪-১৯২০) ছিলেন একজন সক্রিয় বিপ্লবী যাঁর সাথে লেনিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল; লেলিনের ক্ষমতা গ্রহণের পর তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পান। তিনি মস্কো ইকোনমিক কাউন্সিলের প্রধান হন এবং মস্কো সোভিয়েতের একজন কার্যনির্বাহী সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঝেনটডেল(Zhenotdel)-এর পরিচালক হন, ঝেনটডেল(Zhenotdel) হলো এমন একটি সংস্থা যেটি কমিউনিস্ট পার্টি এবং সোভিয়েত ট্রেড ইউনিয়নগুলিতে আইনী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাসহ নারী সমতার জন্য লড়াই করে (ঝেনটডেল(Zhenotdel) ১৯৩০ সাল পর্যন্ত সক্রিয় ছিল)। তিনি উন্নয়নের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ, গর্ভপাত, সরকারি কাজে অংশগ্রহণ এবং গণ ক্যান্টিন ও মাদার সেন্টারের সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নারীদের অধিকারের আওতায় আনেন। ১৯১৮ সালে, জিনোভিয়েভ এবং রাদেকের বিরোধিতার বিরুদ্ধে সার্ভারডলভের সহায়তায়, তিনি লেনিনকে একজন বক্তা হিসাবে নিয়ে কর্মজীবী মহিলাদের একটি জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত করতে সফল হন। এলউডের মতে, পার্টির নেতারা সাম্প্রদায়িক সুবিধার জন্য আরমান্ডের করা এই আন্দোলনকে সমর্থন জানান তার কারণ গৃহযুদ্ধের জন্য মহিলাদের কারখানার কাজ এবং রেড আর্মির সহায়ক কাজগুলিতে তালিকাভুক্ত করার দরকার হয়ে পড়েছিল, যা মহিলাদের প্রথাগত কাজ থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। আরমান্ড ১৯২০ সালে কমিউনিস্ট মহিলাদের প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও সভাপতিত্ব করেন। ১৯২০ সালের বসন্তে আবারও আরমান্ডের উদ্যোগে কমিউনিস্টকা পত্রিকার আবির্ভাব দেখা যায়, যা "নারী মুক্তির বিস্তৃত দিক এবং দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন লিঙ্গের মধ্যে সম্পর্ক পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয়তা" নিয়ে কাজ করে।
গ্রাম্য কৃষক মহিলা এবং মহিলাদের বন্ধন-মোচন
[সম্পাদনা]কৃষক মহিলারা মূলত "বুর্জোয়া" নারীবাদী আন্দোলন এবং বলশেভিক বিপ্লবে কোনো ভূমিকা রাখেননি। গ্রামে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাই প্রচলিত ছিল, এবং গ্রাম্য জীবনেই কৃষক মহিলারা অভ্যস্ত ছিলেন। ইতিহাসবিদদের মতে গ্রাম্য কৃষকরা বিপ্লবকে তাদের জীবনযাত্রার পথে একটি বিপজ্জনক হুমকি হিসাবে দেখেছিলেন এবং দরিদ্র গ্রাম্য মহিলারা শুধু যুদ্ধের ফলে জীবনযাত্রায় ঘটা ব্যাঘাতের আশঙ্কাই করেছিলেন। শুধুমাত্র গ্রাম্য মহিলাদের একটি ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু অংশ বলশেভিক আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। নারীর মুক্তির বিষয়ে গ্রাম্য নারীদের প্রত্যাখ্যান সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হয় নারী ব্যুরোতে তাদের যোগদানে অস্বীকারের মাধ্যমে।
রাশিয়ান নারী এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
[সম্পাদনা]১৯০৫ সালের অভ্যুত্থানে তরুণ রাশিয়ান নারীবাদী আন্দোলনকে উজ্জীবিত করেছিল, যা পরে নারীদের উপর কিছু কঠোর বিধিনিষেধ উদারীকরণ করা এবং জাতীয় সংসদ গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু, ১৯০৮ সালের মধ্যে, প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলি প্রবলভাবে পিছিয়ে পড়তে থাকে এবং নারীবাদীরা পিছু হটতে থাকে। নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় এবং উদারপন্থী শক্তিগুলির মধ্যে হতাশা এনে দেয়। [১]
১৯১৪ সালের আগস্টে যুদ্ধ শুরু হওয়াটা এক আশ্চর্যজনক ঘটনা ছিল; সাম্রাজ্যে যুদ্ধের জন্য খুব একটা ভালো প্রস্তুত ছিল না। লক্ষ লক্ষ পুরুষদের তাড়াহুড়ো করে যুদ্ধে যোগ দেওয়তে, নারীরা নতুন ভূমিকা গ্রহণ করে। ১৯১৪ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে ২,৫০,০০০ নারী কর্মক্ষেত্রে যোগদানের ফলে শিল্প কেন্দ্রগুলিতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা দশ লক্ষেরও বেশি বেড়ে যায়। কৃষক মহিলারাও নতুন ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন, তাদের স্বামীদের কৃষিকাজের কিছু দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। [২] যুদ্ধে অল্প সংখ্যক মহিলারা সরাসরি সম্মুখ সারিতে যুদ্ধ করেছিলেন, প্রায়শই পুরুষের ছদ্মবেশে, এবং আরও হাজার হাজার নার্স হিসেবে কাজ করেছিলেন। [৩] প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নারীদের সামাজিক অবস্থা আসন্ন বিপ্লবগুলিতে তাদের ভূমিকার উপর প্রভাব ফেলেছিল। [৪]
অস্থায়ী সরকারের অধীনে
[সম্পাদনা]১৯১৭ সালের বসন্তে, রাশিয়ার যুদ্ধ মন্ত্রণালয় ষোলটি পৃথক সম্পূর্ণ মহিলা সামরিক গঠন তৈরির অনুমোদন দেয়। চারটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল, এগারোটি যোগাযোগ ক্ষা িসেবে এবং একটি একক নৌ ইউনিট ছিল। ইতিমধ্যেই কিছু মহিলা নিয়মিত সামরিক ইউনিটে যোগদানের জন্য সফলভাবে আবেদন করেছিলেন এবং কেরেনস্কি আক্রমণের পরিকল্পনার সাথে সাথে, নঅেকেই তনুন অস্থায়ী সরকারকে বিশেষ মহিলা ব্যাটালিয়ন তৈরির জন্য চাপ দিতে শুরু করেছিলেন। [৫] এই মহিলারা, রাশিয়ান সরকার এবং সামরিক প্রশাসনের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সদস্য সমেথ বিশ্বাস করতেন যে মহিলা সৈন্যদের প্রচারণা উল্লেখযোগ্য ফল দেবে, তাদের পস্থিতি াশিয়ান সেনাবাহিনীর ক্লান্ত এবং হতাশ পুরুষদের পুনরুজ্জীবিত করবে। একই সাথে, তারা আশা করেছিল যে নারীদের উপস্থিতি দ্বিধাগ্রস্ত পুরুষ সৈন্যদের লজ্জা দেবে এবং তাদের যুদ্ধের দায়িত্ব পুনরায় শুরু করতে সাহায্য করবে। [৬]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- ইনেসা আরমান্ড
- Bibliography of the Russian Revolution and Civil War § Women and families
- আলেকজান্দ্রা কোলোনতাই
- কমিউনিস্টকা
- নাদেজ্দা ক্রুপস্কায়ার
- ইরিনা কখোভসকায়া
- ক্লারা জেটকিন
- রোজা লুক্সেমবার্গ
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত মহিলারা
- মারিয়া স্পিরিডোনোভা
- রুশ নারীগণ
- রাশিয়ান ও সোভিয়েত সেনাবাহিনীতে মহিলারা
- Gender roles in post-communist Central and Eastern Europe
- ঝেনোটডেল
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Goldberg Ruthchild, 2010a, পৃ. 147।
- ↑ Engel, 2004, পৃ. 129–131।
- ↑ Stoff, পৃ. 30।
- ↑ Goldberg Ruthchild, 2010b।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;:4নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;:0নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
Reference bibliography
[সম্পাদনা]- Borbroff, Anne (১৯৭৪)। "The Bolsheviks and Working Women, 1905–20"। Soviet Studies। ২৬ (4)।
- Boxer, Marilyn J.; Quataert, Jean H. (২০০০)। "Chapter 14"। Connecting Spheres: European women in a globalizing world, 1500 to the present (Second সংস্করণ)। New York, New York: Oxford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫১০৯৫০-৪।
- Clements, Barbara Evans (শীতকাল ১৯৮২)। "Working-Class and Peasant Women in the Russia Revolution, 1917–1923"। Signs। ৮ (2): ২১৫–২৩৫। ডিওআই:10.1086/493960। জেস্টোর 3173897। এস২সিআইডি 143882149।
- Engel, Barbara Alpern (২০১৭)। "A Gendered Revolution?"। Revolutionary Russia। ৩০ (2): ১৯৬–২০৭। ডিওআই:10.1080/09546545.2017.1404681। এস২সিআইডি 149308201।
- Engel, Barbara Alpern (২০০৪)। Women in Russia, 1700–2000। Cambridge, U.K.: Cambridge University Press।
- Goldberg Ruthchild, Rochelle (২০১০)। Equality and Revolution: Women's Rights in the Russian Empire, 1905-1917 (পিডিএফ)। University of Pittsburgh Press। ডিওআই:10.2307/j.ctt5hjp1d। আইএসবিএন ৯৭৮০৮২২৯৪৩৯০৭। জেস্টোর j.ctt5hjp1d।
- Goldberg Ruthchild, Rochelle (২০১০)। "Women's Suffrage and Revolution in the Russian Empire, 1905-1917"। Offen, Karen (সম্পাদক)। Globalizing Feminisms, 1789-1945। New York: Routledge। পৃ. ২৫৭–২৭৪।
- Holmgren, Beth; Goldberg Ruthchild, Rochelle, সম্পাদকগণ (২০০৯)। A Very Short Course on Russian Women's History Contextualizing Russian Feminism: Twenty Years Forward। Bloomington: Indiana University Press।
- Smith, S. A. (২০০২)। The Russian Revolution। United States: Oxford University Press। পৃ. ১৩৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-২৮৫৩৯৫-০।
- Stites, Richard (১৯৭৮)। The Women's Liberation Movement in Russia: Feminism, Nihilism and Bolshevism। Princeton University Press। আইএসবিএন ৯৭৮০৬৯১১০০৫৮৬।
- Stoff, Laurie (২০০৬)। They fought for the Motherland: Russia's women soldiers in World War I and the Revolution। Lawrence, KS: University Press of Kansas।
আরও পাঠ্যবস্তু
[সম্পাদনা]- Clements, Barbara E. (১৯৮২)। "Working-Class and Peasant Women in the Russian Revolution, 1917-1923"। Signs। ৮ (2): ২১৫–২৩৫। ডিওআই:10.1086/493960। জেস্টোর 3173897। এস২সিআইডি 143882149।
- Clements, Barbara E. (১৯৯৭)। Bolshevik Women। Cambridge University Press।
- Clements, Barbara E. (১৯৯৪)। Daughters of Revolution: A History of Women in the U.S.S.R।
- DeHaan, Francisca; Dasskalova, Krassimira; Loutfi, Anna (২০০৬)। Biographical Dictionary of Women's Movements and Feminisms in Central, Eastern, and Southeastern Europe, 19th and 20th Centuries। Budapest: Central European University Press।
- Dzhumyga, Ievgen (২০১৩)। "The Home Front In Odessa During The Great War (July 1914–February 1917): The Gender Aspect Of The Problem"। Danubius। ৩১: ২২৩–৪২।
- Hillyar, Anna; McDermid, Jane (২০০০)। Revolutionary women in Russia, 1870-1917: A study in collective biography। Manchester University Press।
- McDermid, Jane (২০১৭)। "The role of women workers in the 1917 Russian Revolution"। Theory & Struggle। ১১৮: ৮২–৯৫। ডিওআই:10.3828/ts.2017.8।
- McDermid, Jane; Hillyar, Anna (১৯৯৯)। Midwives Of Revolution: Female Bolsheviks & Women Workers In 1917।
- Porter, Cathy (১৯৭৬)। Fathers and Daughters: Russian Women in Revolution। London: Virago।
- Goldberg Ruthchild, Rochelle (২০০৭)। "Women's Suffrage and Revolution in the Russian Empire, 1905-1917"। Aspasia। ১ (1): ১–৩৫। ডিওআই:10.3167/asp.2007.010102।
- Goldberg Ruthchild, Rochelle (২০১৭)। "Women and Gender in 1917" (পিডিএফ)। Slavic Review। ৭৬ (3): ৬৯৪–৭০২। ডিওআই:10.1017/slr.2017.177। এস২সিআইডি 165801602।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- Shcherbinin, Pavel Petrovich (২০১৪)। "Women's Mobilization for War (Russian Empire)"। Daniel, Ute [in জার্মান] (সম্পাদক)। 1914-1918 International Encyclopedia of the First World War। ডিওআই:10.15463/ie1418.10278।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|সাময়িকী=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য) - Turton, Katy (২০০৫)। "Revolution begins at home? The life of the first Soviet family"। Family & Community History। ৮ (2): ৯১–১০৪। ডিওআই:10.1179/fch.2005.8.2.003। এস২সিআইডি 144398169।
- Wade, Rex A. (২০১৭)। The Russian Revolution, 1917 (3rd সংস্করণ)।
ইতিহাস লিখনধারা
[সম্পাদনা]- Donald, Moira (১৯৯৫)। "'What did you do in the Revolution, Mother?' Image, myth and prejudice in Western writing on the Russian Revolution"। Gender & History। ৭ (1): ৮৫–৯৯। ডিওআই:10.1111/j.1468-0424.1995.tb00015.x।
- Pushkareva, Natalia (২০১৭)। "Soviet and Post-Soviet Scholarship of Women's Participation in Russia's Socio-Political Life from 1900 to 1917"। Revolutionary Russia। ৩০ (2): ২০৮–২২৭। ডিওআই:10.1080/09546545.2017.1406292। এস২সিআইডি 149322815। summarizes the Russian-language scholarly literature.
- Turton, Katy (২০১১)। "Men, Women and an Integrated History of the Russian Revolutionary Movement"। History Compass। ৯ (2): ১১৯–১৩৩। ডিওআই:10.1111/j.1478-0542.2010.00755.x।
- Turton, Katy (২০১১)। "Teaching & Learning Guide for: Men, Women and an Integrated History of the Russian Revolutionary Movement"। History Compass। ৯ (5): ৪৪৮–৪৫৩। ডিওআই:10.1111/j.1478-0542.2011.00773.x।