রুল ৩৪
রুল ৩৪ হলো একটি ইন্টারনেট মিম। এই মিম অনুযায়ী, ইন্টারনেটে যেকোনো সম্ভাব্য বিষয় নিয়ে কোনো না কোনো ধরনের পর্নোগ্রাফি খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এই ধারণাটি সাধারণত ফ্যান আর্টের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, যেখানে এমন সব বিষয় বা চরিত্রকে যৌন ক্রিয়াকলাপে লিপ্ত হিসেবে দেখানো হয়, যারা সাধারণত যৌন উত্তেজক নয়।[১] এর মধ্যে লেখা, অ্যানিমেশন, ছবি, জিআইএফ এবং অন্যান্য যেকোনো ধরনের মিডিয়াও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে ও পুনরায় বিতরণ করা যায়।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]রুল ৩৪ শব্দগুচ্ছটি ১৩ আগস্ট, ২০০৩ সালের একটি ওয়েবকমিক থেকে উদ্ভূত হয়, যার ক্যাপশন ছিল, "নিয়ম #৩৪ এর ওপর পর্ন আছে। কোনো ব্যতিক্রম নেই।" (Rule #34 There is porn of it. No exceptions.)। কমিকটি ট্যাঙ্গোস্টারি (পিটার মর্লি-সাউটার) এঁকেছিলেন, যেখানে তিনি ক্যালভিন অ্যান্ড হবস-এর প্যারোডি পর্ন দেখে নিজের বিস্ময় প্রকাশ করেন।[১][২] যদিও কমিকটি সময়ের সাথে হারিয়ে যায়, এর ক্যাপশনটি ইন্টারনেটে সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর থেকে, এই শব্দগুচ্ছটি বিভিন্ন আঙ্গিকে ব্যবহৃত হতে থাকে এবং এমনকি ক্রিয়াপদ হিসেবেও এর ব্যবহার শুরু হয়।[৩] ফোরচ্যান ওয়েবসাইটে তৈরি "ইন্টারনেটের নিয়মাবলী"র একটি তালিকায় রুল ৬৩-এর মতো অন্যান্য রসাত্মক নিয়মের সাথে রুল ৩৪-কেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[৪]
২০০৮ সালে, ফোরচ্যানের ব্যবহারকারীরা রুল ৩৪-কে চিত্রিত করে অসংখ্য যৌনতাপূর্ণ প্যারোডি এবং কার্টুন পোস্ট করে। ফোরচ্যানের বাজে ভাষায়, পর্নোগ্রাফিকে "রুল ৩৪" বা "প্রঞ্জ" (pr0nz) নামেও উল্লেখ করা হয়।[৫] দ্য ডিকশনারি অফ মডার্ন প্রোভার্বস-এ দাবি করা হয়েছে যে, রুল ৩৪ "২০০৮ সাল থেকে ইন্টারনেট পোস্টিংয়ে প্রকাশ হতে শুরু করে"।[৬]
রুল ৩৪ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে কিছু প্রচলিত গণমাধ্যমও এটি নিয়ে প্রতিবেদন করতে শুরু করে। ২০০৯ সালের একটি দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর নিবন্ধে রুল ৩৪-কে "শীর্ষ ১০" ইন্টারনেট নিয়ম ও আইনের মধ্যে তৃতীয় স্থানে রাখা হয়।[৭] ২০১৩ সালের একটি সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয় যে, রুল ৩৪ "সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত" ইন্টারনেট নিয়ম যা মূলধারার সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।[৪]
ফ্যান ফিকশনে ২০১৬ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রপতি নির্বাচন,[৮] ২০২১ সুয়েজ খাল প্রতিবন্ধকতা[৯] এবং ব্রেক্সিট-এর মতো ঘটনাগুলো নিয়েও প্যারোডি তৈরি করা হয়েছে।[১০]
বিশ্লেষণ
[সম্পাদনা]রুল ৩৪-এর জনপ্রিয়তা নিয়ে গবেষক ওগি ওগাস এবং সাই গাদ্দাম একটি সহজ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, ইন্টারনেটে বিচরণকারী প্রায় প্রত্যেকের কাছেই এই নিয়মটি আপাতদৃষ্টিতে সত্য বলে মনে হয়, আর একারণেই এটি এত ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।[১১] তবে ওগাস উল্লেখ করেছেন যে, সময়ের সাথে সাথে এই নিয়মের কার্যকারিতা কমে আসতে পারে। তিনি দেখান যে, ২০০৯-২০১০ সালের পর থেকে পর্ন শিল্প বড় ভিডিও অ্যাগ্রিগেটর সাইটগুলোতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় বিশেষায়িত বা স্বল্প প্রচলিত ভিডিওগুলোর কদর কমে গেছে। এই বড় সাইটগুলো ছোট নির্মাতাদের অসুবিধায় ফেলে, কারণ তারা শক্তিশালী পাইরেসি-রোধী ব্যবস্থা গ্রহণের সামর্থ্য রাখে না, যা রুল ৩৪-এর ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।[১২]
এই নিয়মের বাজারকেন্দ্রিক ব্যাখ্যার পাশাপাশি এর সাংস্কৃতিক তাৎপর্য নিয়েও ভিন্ন মত রয়েছে। লেখক করি ডক্টরো বিষয়টিকে দ্বৈত দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেন, "রুল ৩৪-কে অদ্ভুত, খ্যাপাটে এবং কিম্ভূতকিমাকার লোকেদের আবর্জনার স্তূপ হিসেবে ওয়েবের একটি সমালোচনা বলে মনে করা যেতে পারে। কিন্তু বিশ্বজনীনতাবাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এটি এক ধরনের পরিশীলিত রুচি এবং জীবন সম্পর্কে একটি সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দেয়।"[১৩]
সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে, শিক্ষায়তনিক ক্ষেত্রে এর আরও গভীর তাৎপর্য খোঁজা হয়েছে। তাত্ত্বিক জন পল স্ট্যাডলারের মতে, রুল ৩৪ মূলত প্যারাফিলিয়া বা বিভিন্ন যৌন পছন্দগুলোকে সামাজিক পরিচয়ের কাঠামোতে রূপান্তরিত করার একটি প্রতিফলন।[১৪]
তথ্য সূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Dewey, Caitlin (৬ এপ্রিল ২০১৬)। "Is Rule 34 actually true?: An investigation into the Internet's most risqué law"। The Washington Post। Washington, D.C.: Nash Holdings। ২৯ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০১৮।
- ↑ Ogas, Ogi; Gaddam, Sai (২০১১)। A Billion Wicked Thoughts: What the Internet Tells Us About Sexual Relationships। New York City: Penguin Books। আইএসবিএন ৯৭৮১১০১৫১৪৯৮৬। ২২ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৫
- ↑ Ogas, Ogi (২০১৩)। "A billion wicked thoughts: What the internet reveals about sexual desire"। PsycEXTRA Dataset। ডিওআই:10.1037/e638152013-018। ২২ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০২০।
- 1 2 Leopold, Todd (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। "Meet the Rules of the Internet"। CNN (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ জুন ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০২২।
- ↑ Olson, Parmy (৫ জুন ২০১২)। We Are Anonymous: Inside the Hacker World of LulzSec, Anonymous, and the Global Cyber Insurgency (ইংরেজি ভাষায়)। Little, Brown। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩১৬-২১৩৫৩-০। ২২ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৫।
- ↑ Doyle, Charles Clay; Mieder, Wolfgang; Shapiro, Fred Richard (৩১ ডিসেম্বর ২০১৭)। The Dictionary of Modern Proverbs। Yale University Press। ডিওআই:10.12987/9780300183351। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩০০-১৮৩৩৫-১। জেস্টোর j.ctt1nq6jk। ওসিএলসি 794004254।
- ↑ Chivers, Tom (২৩ অক্টোবর ২০০৯)। "Internet rules and laws: the top 10, from Godwin to Poe"। telegraph.co.uk। ১৯ মে ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ আগস্ট ২০২২।
- ↑ Lavin, Talia (২১ জুলাই ২০১৬)। "The Political Erotica of 2016"। The New Yorker। ৩ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০২১।
- ↑ Ball, Siobhan (২৯ মার্চ ২০২১)। "Yes, there's already erotic fanfic about the ship that got stuck in the Suez Canal: Rule 34 is alive and well"। The Daily Dot। ১৮ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০২১।
- ↑ Hay, Mark (২৭ জুন ২০১৬)। "Oh, Good, Now There Is Brexit Erotica"। Vice। ১৮ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০২১।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "OgasGaddam20112" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; ":22" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Cory Doctorow (১ অক্টোবর ২০১১)। Context। Tachyon Publications। পৃ. ৭০–। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬১৬৯৬-০৭৮-০।
- ↑ Stadler, John Paul (১২ অক্টোবর ২০১৮)। "The Queer Heart of Porn Studies"। Journal of Cinema and Media Studies (ইংরেজি ভাষায়)। ৫৮ (1): ১৭৪। ডিওআই:10.1353/cj.2018.0079। আইএসএসএন 2578-4919। এস২সিআইডি 194935601। ২১ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১।