রুয়েত-ই-হিলাল কমিটি
مرکزی رویتِ ہلال کمیٹی Markazi Ruet-e-Hilal Committee | |
| প্রতিষ্ঠিত | ১৯৭৪ |
|---|---|
| ধরন | সরকারি সংস্থা |
| সদরদপ্তর | করাচি, সিন্ধু, পাকিস্তান |
ধর্ম বিষয়ক ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি মন্ত্রণালয়ের প্রধান | সরদার মুহাম্মদ ইউসুফ |
| আব্দুল খাবীর আজাদ | |
প্রধান প্রতিষ্ঠান | ধর্ম বিষয়ক ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি মন্ত্রণালয় (পাকিস্তান) |
কেন্দ্রীয় রুয়েত-ই-হিলাল কমিটি (উর্দু: مرکزی رویتِ হلال کمیٹی) হলো পাকিস্তানে নতুন চাঁদ দেখার ঘোষণার জন্য দায়বদ্ধ আনুষ্ঠানিক সংস্থা, যা ইসলামি বর্ষপঞ্জি নির্ধারণ করে। বর্তমানে মাওলানা আব্দুল খাবীর আজাদের সভাপতিত্বে পরিচালিত এই কমিটিকে পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১৫০টি মানমন্দির সহায়তা প্রদান করে।[১]
১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের একটি প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এই কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়ম ও বিধিবদ্ধ নীতিমালার অভাব রয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
চাঁদ সম্পর্কিত তথ্য
[সম্পাদনা]যারা নিজেরাই চাঁদ দেখেছেন, তারা চাঁদ দেখার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য রুয়েত-ই-হিলাল কমিটি বা পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তরকে তাদের ফোন নম্বরে জানাতে পারেন। জনসাধারণের মাধ্যমে পাকিস্তানে নতুন চাঁদ দেখার তথ্য দেওয়ার জন্য ছবিগুলোতে উল্লিখিত এই ফোন নম্বরগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।[২]
চেয়ারম্যানগণ
[সম্পাদনা]- মুহাম্মদ আবদুল্লাহ গাজী (১৯৭৫-১৯৯৮)
- মুনীব-উর-রেহমান (১৯৯৮-২০২০)
- আব্দুল খাবীর আজাদ (২০২০-বর্তমান)
বিতর্ক
[সম্পাদনা]চাঁদ দেখা নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্কসমূহ
[সম্পাদনা]মধ্যযুগীয় সময় থেকে ইসলামের ইতিহাসে চাঁদ দেখা নিয়ে বিতর্ক দেখা গেছে। ত্রয়োদশ শতাব্দীর আরব পণ্ডিত মুহিউদ্দিন ইয়াহিয়া আন-নববীর লেখা আল মাজমু গ্রন্থে দেখা যায় যে, অষ্টম ও নবম শতাব্দীর যথাক্রমে ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আহমদ বিন হাম্বল সহ বিভিন্ন ইসলামি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা এই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। শাফেয়ী গাণিতিক এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতেন; অন্যদিকে হাম্বল সশরীরে চাঁদ দেখাকে বাধ্যতামূলক মনে করতেন, যদিও তিনি স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখাকে আবশ্যক মনে করতেন না — মুসলিম বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে বিশ্বাসের সকল অনুসারীকে তা গ্রহণ করতে হবে। ত্রয়োদশ শতাব্দীর আরেক পণ্ডিত ইবনে তাইমিয়া তার রিসালা ফিল হিলাল গ্রন্থে চন্দ্র মাস নির্ধারণে জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের ব্যবহারকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। দ্বাদশ শতাব্দীর গ্রিক বংশোদ্ভূত আরব জীবনীকার ও ভূগোলবিদ ইয়াকুত ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হামাউই এ জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারকে পূর্ণ কর্তৃত্ব দিয়েছেন। তিনি একটি আইনি নীতি উল্লেখ করেছেন: “হুকম আল-হাকিম ইলজামুন ওয়া ইয়ারফা আল-খিলাফ” (শাসকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং তা মতপার্থক্য দূর করে)। ১৯২০-এর দশকে কায়রোর জামি আল-আজহারের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মোস্তফা মারাঘি একটি গবেষণাপত্রে লিখেছিলেন যে, যদি বৈজ্ঞানিক গণনা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে যে চাঁদ দেখা সম্ভব ছিল না, তবে চাঁদ দেখার ব্যক্তিগত সাক্ষ্য গ্রহণ করা যাবে না।
পাকিস্তানে চাঁদ দেখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান ১৯৪৮ সালে গঠিত হয়েছিল; একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয় যা এখনকার পৃথক হওয়া পূর্ব অংশ সহ সকল অঞ্চলের জেলা কমিটিগুলো থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করত। চাঁদ দেখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাথেও পরামর্শ করা হতো।
১৯৫৮ সালে এই ব্যবস্থাটি প্রথম বড় ধাক্কার সম্মুখীন হয় যখন পেশাওয়ারে দেশের বাকি অংশের এক দিন আগে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। এটি ছিল ভবিষ্যতে আসতে যাওয়া অনেক বিতর্কের মধ্যে প্রথম, যা চাঁদ দেখা নিয়ে আঞ্চলিক এবং কখনও কখনও রাজনৈতিক মতপার্থক্য থেকে তৈরি হয়েছিল। ১৯৬০-এর দশকে সাত বছরের মধ্যে তিনবার চাঁদ দেখার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের সাথে করাচির দ্বিমত দেখা দেয়।
১৯৬১ সালের ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাটি প্রায় ভেঙে পড়ে। আইয়ুব খানের সামরিক সরকার ঈদুল ফিতর সম্পর্কে একটি ঘোষণা দেয় এবং পরে গভীর রাতে করাচির একজন সম্মানিত আলেম ও কমিটির চেয়ারম্যান ইহতিশামুল হক থানভির সাথে পরামর্শ না করেই তাদের ঘোষণা পরিবর্তন করে। বন্দর নগরীর বাসিন্দারা আগে থেকেই ফেডারেল রাজধানী করাচি থেকে ইসলামাবাদে সরিয়ে নেওয়ার সরকারের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ছিল এবং তারা ঈদের দিন পরিবর্তনকে আরেকটি রাজনৈতিক অবমাননা হিসেবে দেখেছিল। ফলে করাচির বেশিরভাগ অংশে ১৮ মার্চ রোজা রাখা হয়েছিল যখন দেশের বাকি অংশের বেশিরভাগ অঞ্চল — অবশ্যই পেশাওয়ার বাদে — সেদিন ঈদ উদযাপন করেছিল। সৌদি আরবের ঘোষণা অনুসরণ করে পেশাওয়ার ১৭ মার্চেই ঈদ পালন করেছিল। ফলে সে বছর পাকিস্তানে তিনটি ঈদ হয়েছিল।
কয়েক বছর পর সমস্যাটি আবার দেখা দেয়। ১৯৬৬ এবং ১৯৬৭ উভয় বছরেই আইয়ুব খানের সরকার গভীর রাতে তাদের আগের চাঁদ দেখার ঘোষণা পরিবর্তন করেছিল। পরের বছর ঈদের চাঁদ দেখা গেছে বলে চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি বিশেষভাবে বিরক্তিকর ছিল কারণ সেদিন আবহাওয়ার কারণে চাঁদ দেখা অসম্ভব ছিল। করাচি ভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামী যারা সে সময় আইয়ুব খানের এক দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসন হঠানোর জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিল, তারা সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিল। করাচির বেশিরভাগ বাসিন্দা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ নেয় এবং সরকারের নির্ধারিত দিনে ঈদ পালন করেনি।
আইয়ুব খানের প্রশাসন এটিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কাজ হিসেবে দেখেছিল এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান আবুল আ'লা মওদুদী, থানভি এবং লাহোরের বিশিষ্ট বেরলভী পণ্ডিত মুহাম্মদ হোসেন নাঈমী সহ তিনজন শীর্ষস্থানীয় পণ্ডিতকে গ্রেপ্তার করে। এই তিনজনকে তিন মাসের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। সরকারের এই অস্থিরতা থেকে একটি লোককাহিনীর জন্ম হয় যে, শুক্রবার ঈদ এড়ানোর জন্যই সরকার তার ঘোষণা পরিবর্তন করেছিল — শাসকদের কাছে এই কাকতালীয় ঘটনাটি 'অশুভ লক্ষণ' হিসেবে দেখা হয়েছিল।
এই বিরোধগুলো নিরসনের লক্ষ্যে জুলফিকার আলী ভুট্টোর সরকার আনুষ্ঠানিক চাঁদ দেখার ব্যবস্থাকে আইনি কাঠামো দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৭৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় পরিষদ একটি কেন্দ্রীয় রুয়েত-ই-হিলাল কমিটির পাশাপাশি চারটি আঞ্চলিক/প্রাদেশিক কমিটি গঠনের জন্য একটি আইন পাস করে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে একজন নারীসহ নয়জন সদস্য থাকার কথা ছিল এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আঞ্চলিক/প্রাদেশিক কমিটিগুলোর সাথে পরামর্শ করা বাধ্যতামূলক ছিল।
এই পরামর্শমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার ভবিষ্যতে চাঁদ দেখা নিয়ে যেকোনো বিতর্কের অবসানের আশা করেছিল। থানভিকে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান হিসেবে বহাল রেখে আইনে আরও বলা হয়েছিল যে চেয়ারম্যানসহ এর সদস্যরা কেবল তিন বছরের একটি মেয়াদের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।[৩] ২০১৭ সালের জুনে ঈদুল ফিতরের আগে সরকার পেশাওয়ার ভিত্তিক কাসিম আলি খান মসজিদের মুফতি শাহাবুদ্দিন পোপালজাইকে চাঁদ দেখার বিতর্কের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টায় জোরপূর্বক বিদেশে পাঠিয়েছিল বলে তার সহকর্মী মাওলানা খাইরুল বাশার অভিযোগ করেন।[৪]
অন্যান্য বিতর্ক
[সম্পাদনা]১৯৭৪ সালে তৈরির পর থেকেই কেন্দ্রীয় রুয়েত-ই-হিলাল কমিটির মর্যাদা বিতর্কিত ছিল কারণ এটি প্রায়শই অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের "সাক্ষ্য" (শাহাদাত) গ্রহণ করতে অস্বীকার করে।[৫] প্রতি বছর রমজানের শুরুতে এবং শেষে কেন্দ্রীয় রুয়েত-ই-হিলাল কমিটির নতুন চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানে সমালোচিত হয়। কাসিম আলি খান মসজিদের মুফতি শাহাবুদ্দিন পোপালজাই প্রতি বছর পেশাওয়ারে পৃথকভাবে রমজান এবং শাওয়ালের নতুন চাঁদের ঘোষণা দেন।[৬][৭] পাকিস্তানি সাংবাদিকরা অনেক সময় নতুন চাঁদ দেখার জন্য নতুন পদ্ধতি গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।[৮]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "New Ruet-e-Hilal Committee chairman appointed"। The News International (ইংরেজি ভাষায়)। ৩০ ডিসেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২১।
- ↑ "Ruet-e-Hilal committee to meet on June 14 for Shawwal moon"। ১২ জুন ২০১৮।
- ↑ Abid Hussain (১৭ জুলাই ২০১৫)। "Moon gazing"। Daily Dawn।
- ↑ "Popalzai 'forcibly sent abroad' in bid to end moon-sighting controversy"। ২৮ জুন ২০১৭।
- ↑ "Senate body decides to draft Ruet-e-Hilal Constitution"। pakistantoday.com.pk। Pakistan Today।
- ↑ Manzoor Ali (২৫ জুলাই ২০১৪)। "A Popalzai Lune: The writing on Qasim Khan mosque's walls"। The Express Tribune।
- ↑ ALI AKBAR (১৭ জুলাই ২০১৫)। "190 years of controversy: The Qasim Ali mosque and moon sighting elitism"। Daily Dawn।
- ↑ BILAL KARIM MUGHAL (১৭ জুন ২০১৫)। "Ending the moon-sighting controversy through science"। Daily Dawn।