রিচার্ড হার্টশোর্ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

রিচার্ড হার্টশোর্ন একজন প্রখ্যাত আমেরিকান ভূতত্ত্ববিদ ছিলেন। তিনি উইসকনসিন-মেডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভূগোল ও ভূগোলের দার্শনিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তাঁর বিশেষায়িত জ্ঞান ছিল। ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত "ভূগোলের প্রকৃতি" বইটির জন্য তিনি সুপরিচিত। [১]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের কিটানিং শহরে হার্টশোর্ন জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২০ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় হতে তিনি স্নাতক-পূর্ব লেখাপড়া সম্পন্ন করেন। ১৯২৪ সালে তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর অভিসন্দর্ভের মূল প্রতিপাদ্য ছিল "শিকাগো শহরের হ্রদ।"

হার্টশোর্ন ১৯২৪ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। ১৯৪৫ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি উইসকনসিন-মেডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তিনি "কৌশলগত সেবা দপ্তরের" গবেষণা ও বিশ্লেষণ শাখার ভূগোল বিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। [২]

১৯৪৯ সালে হার্টশোর্ন আমেরিকান ভূতত্ত্ববিদ সংঘের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ সালে তিনি উক্ত সংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল তিনি ক্লার্ক বিশ্ববিদ্যালয় হতে "ডক্টর অব ল" ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৪ সালে রাজকীয় ভূতত্ত্ববিদ সংঘ তাঁকে ভিক্টোরিয়া মডেল প্রদান করে।

উইসকনসিনের মেডিসন শহরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। [৩]

কর্ম[সম্পাদনা]

১৯৩৯ সালে হার্টশোর্ন "ভূগোলের প্রকৃতি: অতীতের আলোকে বর্তমান চিন্তাধারার বিশ্লেষণধর্মী নিরীক্ষা" শীর্ষক একটি বই প্রকাশ করেন। এ বইয়ে হার্টশোর্ন বলেন, " ভূগোলের উপর অতীতে যে কাজ হয়েছে, সে সম্পর্কে প্রত্যেক ভূতত্ত্ববিদের পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করা বাঞ্ছনীয়।" এটি ভূগোল বিষয়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বই। ২০০০ সালে বইটির সপ্তম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। [৪]

ভূগোলশিক্ষার পদ্ধতি নিয়ে হার্টশোর্ন ১৯৫০ সালে ফ্রেড কে শ্যাফারের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হন। শ্যাফার ভূগোল শিক্ষায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রবর্তনের উপর জোর দেন। তিনি হার্টশোর্নের প্রথাগত ভূগোল শিক্ষণ পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেন।

১৯৭০ সালে "শিক্ষা নাগরিক: রিচার্ড হার্টশোর্নের নির্বাচিত বিবৃতি" নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। মার্ক হোয়েট ইনগ্রাহাম এর ভূমিকা ও টীকা রচনা করেন। এতে ১৯৪০ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত রচিত ও কথিত হার্টশোর্নের বিভিন্ন বিবৃতি ও লেখা স্থান পায়।

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

বই[সম্পাদনা]

  1. ১৯৩৯: ভূগোলের প্রকৃতি: অতীতের আলোকে বর্তমান চিন্তাধারার বিশ্লেষণধর্মী নিরীক্ষা
  2. ১৯৪৫: ভূগোলের প্রকৃতির প্রেক্ষাপট
  3. ১৯৭০: শিক্ষা নাগরিক : রিচার্ড হার্টশোর্নের নির্বাচিত বিবৃতি

প্রবন্ধ[সম্পাদনা]

  1. ১৯২৭: অবস্থান:ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক
  2. ১৯৩৩: ঊর্ধ্ব সিলেসিলার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানা
  3. ১৯৩৫: সংঘবদ্ধ পরিসংখ্যানিক উপাত্তের ভিত্তিতে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার কৃষি অঞ্চলের শ্রেণিবিন্যাস ( স্যামুয়েল এন ডিকেনের সঙ্গে যৌথভাবে)
  4. ১৯৩৫: রাজনৈতিক ভূগোলের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ
  5. ১৯৩৮: বছরের ছয়টি আদর্শ মৌসুম
  6. ১৯৪১: বিশ্বের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক ধারা
  7. ১৯৫৮: স্থানিক বিজ্ঞান হিসেবে ভূগোলের ধারণা : কান্ট, হামবোল্ট থেকে হেটনার
  8. ১৯৬০: আধুনিক বিশ্বের রাজনৈতিক ভূগোল

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. https://query.nytimes.com/gst/fullpage.html?res=9E0CE3D81E31F933A25752C1A964958260
  2. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি" (PDF)। ২০ অক্টোবর ২০০৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  3. https://www.jstor.org/pss/2563779
  4. http://www.colorado.edu/geography/giw/hartshorne-r/1939_ng/naturehome.html