বিষয়বস্তুতে চলুন

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধা

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধা
মানচিত্র
প্রাক্তন নাম
  • পূর্ব পাকিস্তান ভবন (১৯৫৪–১৯৬২)
  • প্রেসিডেন্ট ভবন (১৯৬২–১৯৭২)
  • গণভবন (১৯৭২–১৯৭৪)
বিকল্প নামপুরাতন গণভবন
সাধারণ তথ্যাবলী
অবস্থাসচল
ধরনইমারতি
স্থাপত্যশৈলীগথিক স্থাপত্য
অবস্থান২২ বেইলি রোড, রমনা
শহরঢাকা
দেশবাংলাদেশ
স্থানাঙ্ক২৩°৪৪′২৫″ উত্তর ৯০°২৪′০৮″ পূর্ব / ২৩.৭৪০৩° উত্তর ৯০.৪০২২° পূর্ব / 23.7403; 90.4022
বর্তমান দায়িত্বপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
নির্মাণ শুরু১৯০৬
সম্পূর্ণ১৯১০
উন্মুক্ত হয়েছে১৯১২
সংস্কার১৯৬১
স্বত্বাধিকারীগণপূর্ত অধিদপ্তর
কারিগরি বিবরণ
তলার সংখ্যা

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধা বাংলাদেশের ঢাকার হেয়ার রোডের পাশে অবস্থিত একটি ভবন। ১৯১২ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই ভবন বর্তমানে ফরেন সার্ভিস একাডেমির দপ্তর।

অবস্থান ও স্থাপত্য

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত ২ তলা বিশিষ্ট এই ভবনের আয়তন ২৩,৪৫২ বর্গফুট। এটি ইমারতি গাঁথুনিতে নির্মিত।[] এটি রমনা পার্কের নিকটে অবস্থিত।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

১৯০৬ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসামের সরকার ভবনটি নির্মাণ শুরু করে। ১৯১০ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।[] ১৯১২ সালে এই ভবন চালু করা হয়।[] এটি অতীতে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বাসভবন ছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর এই ভবনটিকে পূর্ববঙ্গের মুখ্য সচিবের বাসভবন করা হয়েছিল। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর-জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ববঙ্গ সফরে আসলে বাসভবনটিকে তার জন্য প্রস্তুত করা হয়।[] ২৪ মার্চে বাংলা ভাষা আন্দোলন চলাকালে এখানে গভর্নর-জেনারেলের সাথে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের বৈঠক হয়।[] ১৯৫৪ সালের পর এই ভবনটিকে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন করা হয়।[] ১৯৬১ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও তার স্বামী রাজপুত্র ফিলিপ রাজকীয় সফরে পূর্ব পাকিস্তানে এলে এই ভবনে থেকেছিলেন, তাদের আগমন উপলক্ষে ভবনটি সংস্কার করা হয়েছিল। তখন এর নাম ছিল "পূর্ব পাকিস্তান ভবন"।[][] ষাটের দশকে এটিকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির অন্যতম বাসভবনে রূপান্তর করা হয়েছিল, যা পরে "প্রেসিডেন্ট ভবন" নামে পরিচিতি পায়।[] পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তানে এলে এই ভবনে অবস্থান করতেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ১৯৭১ সালের মার্চে এই ভবনে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে ৬ বার বৈঠক আয়োজিত হয়।[] ২৫ মার্চে অপারেশন সার্চলাইট চলাকালে ভবনে দায়িত্বরত পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সদস্যদের ধরে নিয়ে গিয়ে রমনা কালী মন্দিরে জড়ো করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হত্যা করে।[১০] বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা এই ভবনে প্রথম বৈঠক করে।[১১] ভবনটির নাম পরিবর্তন করে "গণভবন" নাম দিয়ে[] দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয় এবং এই ভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এখানে পর্যাপ্ত জায়গার অভাব থাকায় ১৯৭৩ সালে শেরে বাংলা নগরে নতুন কার্যালয় ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তার পরের বছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই ভবন থেকে নির্মিত নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয়।[১২] ১৯৭৫ সালে এটিকে বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রপতির বাসভবন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।[১৩] ১৯৯৭ সালে ভবনটিতে ফরেন সার্ভিস একাডেমির অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপিত হয়।[১৪][১২] ১৮ এপ্রিল ২০১৯ সালে ভবনটিতে একাত্তরের গণহত্যা স্মরণে "জেনোসাইড কর্নার" স্থাপন করা হয়।[১৫] ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে দেশের ৮টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের এই ভবনে রাজনৈতিক সংলাপ আয়োজন করা হয়।[১৬]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 "22 Hare Road, Sugandha, Dhaka"পিডাব্লিউডি.জিওভি.বিডি (ইংরেজি ভাষায়)। গণপূর্ত অধিদপ্তর। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০২৫
  2. হেলাল, আজমল হক (২৮ জানুয়ারি ২০২৩)। "আধুনিক রমনা পার্কের উদ্বোধন সোমবার"সারাবাংলা
  3. "এক নজরে"এফএসএ.জিওভি.বিডি (ইংরেজি ভাষায়)। ফরেন সার্ভিস একাডেমি বাংলাদেশ। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০২৫
  4. 1 2 3 আহমদ, মহিউদ্দিন (২০২৫)। ঢাকায় জিন্নাপ্রথমা প্রকাশন। পৃ. ১৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৫৩৭-০২৬-৪
  5. আহমদ, মহিউদ্দিন (২০১৬)। আওয়ামী লীগ উত্থানপর্ব ১৯৪৮-১৯৭০প্রথমা প্রকাশন। পৃ. ৩৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৯১৭৬৬-৬-৪
  6. উমর, বদরুদ্দীন (১৯৭১)। পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি। খণ্ড ১। কলকাতা: আনন্দধারা প্রকাশন। পৃ. ১১৫–১১৬।
  7. "বাংলাদেশে এসে রানি এলিজাবেথ যা যা দেখেছিলেন"জাগো নিউজ। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২।
  8. "QUEEN ARRIVING TOMORROW"। দ্য পাকিস্তান অবজার্ভার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬১। পৃ. ১।
  9. "মুজিব-ইয়াহিয়ার বৈঠকে ভুট্টো"প্রথম আলো। ২২ মার্চ ২০২১।
  10. হাসান, শরিফুল (৩ মার্চ ২০১৭)। "পিলখানায় দুপুরে অবস্থান চিহ্নিত করে রাতে হত্যা"প্রথম আলো
  11. নতুন আঙ্গিকে সাজছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধাযমুনা টিভিইউটিউব। ২১ জুন ২০১৯।
  12. 1 2 "১ টাকায় ইজারা নেওয়া গণভবনের ইতিহাস, কে কখন থাকতেন সেখানে?"সোনালীনিউজ.কম। ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
  13. "গণভবন হবে নয়া রাষ্ট্রপতি ভবন"। দৈনিক বাংলা। ২৭ জানুয়ারি ১৯৭৫। পৃ. ১।
  14. গোলাম মোস্তাকিম (২০১২)। "ফরেন সার্ভিস একাডেমী"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১ওসিএলসি 883871743ওএল 30677644M
  15. "সুগন্ধায় 'জেনোসাইড কর্নার'"দ্য ডেইলি স্টার। ২৩ এপ্রিল ২০১৯।
  16. "রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধায় সুগন্ধায় বিএনপিসহ আট দলের প্রতিনিধিরা"রেডিও টুডে। ৪ ডিসেম্বর ২০২৪।