রাশা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রাশা
লেখকমুহম্মদ জাফর ইকবাল
প্রচ্ছদ শিল্পীধ্রুব এষ
দেশবাংলাদেশ
ভাষাবাংলা
ধরনকিশোর উপন্যাস
প্রকাশকতাম্রলিপি
প্রকাশনার তারিখ
২০১০
পৃষ্ঠাসংখ্যা২৪০
আইএসবিএন984-70096-0105-7

রাশা মুহম্মদ জাফর ইকবাল রচিত একটি কিশোর উপন্যাস যা ২০১০ সালে তাম্রলিপি প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয়।[১]

গল্পসংক্ষেপ[সম্পাদনা]

বইটির মূল চরিত্র রাশা নামের অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া একটি মেয়ে। অসম্ভব রকমের মেধাবী এই মেয়েটির আসল নাম ছিল রাইসা। পড়ত ঢাকার একটা নামকরা স্কুলে। মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে বুঝেশুনে পড়াতেই তার বেশি আগ্রহ। তার এক সহপাঠী তার নাম নিয়ে একটা বিদ্রূপাত্মক কবিতা লিখলে সে নিজেই তার নাম পরিবর্তন করে রাশা রেখে ফেলে। মেধাবী এই ছাত্রীর বাসার পরিবেশ খুব একটা ভাল ছিল না। তার আব্বু আম্মু প্রায়ই ঝগড়া করত যা রাশার মনে প্রচণ্ড প্রভাব ফেলে। আর এর প্রতিক্রিয়ায় তার পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিল। একসময় তার আব্বু আম্মুর মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর তারা দুজনেই আরেকটি বিয়ে করে বিদেশে চলে যায়। এই অবস্থায় রাশার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। অবশেষে তার ঠাঁই হয় গ্রামের বাড়িতে তার পাগলী নানির কাছে। [১]
শুরু হয় রাশার নতুন জীবন। পাগলী নানিই এখন তার একমাত্র সম্বল। মুক্তিযুদ্ধে স্বামী হারানো বৃদ্ধা নানিকে নিয়েই শুরু হয় তার নতুন সংসার। তাকে পেয়ে তার নানিও নতুন করে বেঁচে থাকার প্রেরণা খুঁজে পান। প্রথম দিকে গ্রামের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে সমস্যা হলেও রাশা একসময় খাপ খাইয়ে নেয়। তার কিছু বন্ধুও তৈরি হয় গ্রামে- জয়নব, মতি, জিতু। আব্বু-আম্মুর বিচ্ছেদে বিধ্বস্ত রাশা নতুন করে জীবন কে সাজিয়ে নেয়। নিজের প্রচেষ্টায় সে গ্রামের স্কুলে ভর্তি হয়, যে স্কুলটির নামকরণ করা হয়েছিল একজন রাজাকারের নামে। তার নানা আজিজ মাষ্টার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাই সে ব্যাপারটি মেনে নিতে পারেনি। এছাড়াও তার নানার বন্ধু মুক্তিযোদ্ধা সালাম নানা আর গৌরাঙ্গ ঘরামির সাথে তার পরিচয় হয়, যিনি রাশা আর তার বন্ধুদের বর্ষাকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য নৌকা বানিয়ে দেন।
একদিন মতি তাকে একটা পেপার মুড়ে কিছু খাতা এনে দেয়। রাশা খবরের কাগজটা উল্টে-পাল্টে দেখতে গিয়ে দশটা প্রস্নসহ সায়েন্স অলিম্পিয়াডের একটা বিজ্ঞাপন দেখতে পায়। সে ওই দশটা প্রশ্নের সঠিক উত্তর লিখে পাঠিয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে যায়। সায়েন্স অলিম্পিয়াডে স্কুলের নাম লিখতে বলা হলেও সে লিখেনি। আর সে জন্যই স্কুল পড়ুয়া রাশা কলেজের ছাত্রছাত্রীদের চাইতে বেশি নম্বর পেয়েও সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বিজয়ী হতে পারেনি। কিন্তু এতে সে বিন্দুমাত্র পরাজিত বোধ করেনি। বরং নিজেকে মূল্যবোধের পরীক্ষায় জয়ী হিসেবেই প্রমাণ করেছে। অবশ্য প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মন্ত্রী মহোদয় তাকে যথাযোগ্য পুরস্কার দেন- তার স্কুলের নাম পরিবর্তনের ব্যবস্থা করে দেন।
আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাজাকার আহাদ আলী রাশার উপর প্রতিশোধ নিতে যায়। সে রাশাকে ধরে নিয়ে যায় পানিতে ডুবিয়ে মারার জন্য। কিন্তু রাশা তার বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পালিয়ে যায় এবং পুলিশের কাছে আহাদ আলীর সকল কুকীর্তির কথা ফাঁস করে দেয়। এভাবেই বুদ্ধির জোরে রাশা তার নানার হত্যাকারী রাজাকারকে বিচারের সম্মুখীন করে।

প্রধান চরিত্রগুলো[সম্পাদনা]

  • রাশা
  • জাহানারা ম্যাডাম, প্রথম স্কুলের শিক্ষিকা
  • নিলু, রাশার মা
  • জয়নব, রাশার বন্ধু
  • মতি, রাশার বন্ধু
  • জিতু, রাশার বন্ধু
  • আজিজ মাষ্টার, রাশার নানা
  • সালাম নানা, রাশার নানার বন্ধু
  • গৌরাঙ্গ ঘরামি, সালাম নানার বন্ধু
  • আহাদ আলী, রাজাকার এবং রাশার নানার খুনি
  • নানি, আজিজ মাষ্টারের বউ

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনিক প্রথম আলো। ২৯ জানুয়ারি ২০১০ http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2010-01-29/news/38407। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মার্চ ২০১৮  |শিরোনাম= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]