রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী

জন্ম:- ? - মৃত্যু:- ১৯৩৬

                 যারা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আশ্রয় দেয়, তারাও একজন দেশপ্রেমী। এমনই একজন দেশপ্রেমীর কথা বলতে চলেছি, তিনি শুধু আশ্রয় দাতা নন তিনি একজন বিপ্লবী বটে। যার সমন্ধে লেখছি তিনি হলেন রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী।

                 ১৯৩২ সালের ১২ ই জুন শেষ রাতে ইংরেজ সেনাবাহিনী এসে তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলল। কেন বাড়ী ঘেরাও করল কি কারনে, তা তো জানতেই হবে। রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর বাড়িতে ছিল মহান বিপ্লবী নায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, অপূর্ব সেন ও নির্মল সেন। এই চার বিপ্লবীদের ধরার জন্য ইংরেজ পুলিস রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর বাড়ি ঘেরাও করেন।

                 ইংরেজ বাহিনীর সাথে শুরু হল বিপ্লবীদের তুমুল সংগ্রাম। বিপ্লবীদের গুলিতে ক্যাপ্টেন ক্যামেরন মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। নিহত হলেন দুই বিপ্লবী অপূর্ব সেন ও নির্মল সেন। মাস্টারদা সূর্য সেন ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

                 অনেকে হয়তো শুনেছেন সাবিত্রী দেবীর কথা, এই সাবিত্রী দেবীই হলেন রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর মা। ইংরেজ সরকার মা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করলেন বিপ্লবীদের আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে। বিচারে তাদের চার বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং তৃতীয় শ্রেণীর বন্দীদের মতো তাদের কারাগারে রাখা হয়।

                 মা ও ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হল মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে। জেলের সুপারিনটেন্ডেন্ট ছিল নিষ্টুর ও অত্যাচারী। রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী যক্ষ্মারোগে ভুগছেন তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জেল হাসপাতালে শুধু নামেই চিকিৎসাহীন। রোগের অসহ্য যন্ত্রণা ও কাশির যন্ত্রনায় বেজে উঠছে পায়ের শিকল। সুপারিনটেন্ডেন্ট কাটারিয়া ছিলেন এক ডাক্তার বটে, তার ডাক্তারি কতখানি তা তো জানা নেই, কিন্তু চরম অত্যাচারের ছাপ রেখে গেছেন যক্ষ্মারোগীদের প্রতিটি নিঃশ্বাসে। মা সাবিত্রী দেবী অসুস্থ্য ছেলেকে দেখার জন্য উতলা হয়ে উঠেন, অনেক অনুরোধ করা সত্বেও পেলনা ছেলের দেখা।

                 এদিকে রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর দিন ঘনিয়ে আসছে। রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর জিবনজ্যোতি নিভে গেল কিন্তু তার দেহ শিকল বাঁধা রয়েই গেলো। একই জেলে থাকা সত্বেও মায়ের সাথে শেষ দেখা হলো না। এবার মা সাবিত্রী দেবীকে নিয়ে আসা হলো কিন্তু পুত্রের শবদেহে তখনো বাঁধা রয়েছে ইংরেজদের প্রবল পরাক্রমের চিহ্ন ডান্ডাবেড়ি। এসব দেখেই হয়তো কবি লিখেছেন,--

                  "তোমার শঙ্খ ধুলায় প'ড়ে

                              কেমন ক'রে সইব,

                    বাতাস আলো গেলো মরে

                                    একি রে দুদৈব।"

                 রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর ওপর যে যন্ত্রনা আর অত্যাচার করা হয়, তার সে দুঃখ কষ্ট সমস্ত দেশবাসীর হৃদয়ে লেগেছিল। রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীকে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শত কোটি প্রণাম।


তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

প্রকাশ রায়ের লেখা