রাবেয়া বসরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
মুসলিম তপস্বী
হযরত রাবেয়া বসরী
উপাধি আল-বসরী
জন্ম ৭১৩ খ্রিঃ বা ৭১৭ খ্রিঃ
মৃত্যু ৮০১ খ্রিঃ
জাতিভুক্ত আরব
মূল আগ্রহ সুফিবাদ, Asceticism, ঐশ্বরিক প্রেম
উল্লেখযোগ্য ধারণা ঐশ্বরিক প্রেম

হযরত রাবেয়া বসরী (আরবি: رابعة العدوية القيسية‎‎) ছিলেন একজন মহিলা মুসলিম সাধক এবং সুফী ব্যক্তিত্ব।[১]

জীবনী[সম্পাদনা]

ইরাকের বসরা নগরীতে এক দরিদ্র পল্লীতে জন্ম হয়েছিল এই ধর্মভীরু হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.)-এর। হযরত রাবেয়া বসরীর জন্ম তারিখ বিয়ে বহু মতভেদ রয়েছে। তিনি ৯৫ হিজরী, মতান্তরে ৯৯ হিজরির ৭১৯ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে ইরাকের বসরা নগরীতে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম ইসমাঈল এবং মাতার নাম মায়ফুল। তারা দরিদ্র ছিলেন বটে তবে পরম ধর্মিক ও আল্লাহভক্ত ছিলেন। রাবেয়া বসরী ছিলেন ভদ্র, নম্র ও সংযমী। সেই সাথে প্রখর বুদ্ধিমত্তার অধিকারিনী ছিলেন তিনি। সব সময় গভীর চিন্তায় ধ্যানমগ্ন হয়ে যেতেন। রাগ, হিংসা, অহংকার তার চরিত্রকে কখনো কলুষিত করতে পারেনি। মোট কথা আল্লাহর একজন প্রকৃত ওলী হবার জন্য যা যা গুনাবলি থাকা প্রয়োজন সকল গুণের অধিকারিনী ছিলেন হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.)। হযরত রাবেয়অ বসরী (রহ.) সকল বিপদ-আপদকে পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতেন। আর কেনই বা মনে করবেন না। কারণ এ জগতে যারাই আল্লাহর বন্ধু হতে চেয়েছেন তাদেরকে ঈমানের কঠিন অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়েছে। এ প্রেক্ষিতেই আল্লাহ্ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন। “তোমরা কি ধারণা করেছ এমনিতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ্ তা’য়ালা অবগত আছে তোমাদের মাঝে কে জিহাদ করছে আর কে ধৈর্য ধারণ করছে” [সূরা আলে ইমরান: ১৪২]। রাবেয়া বসরী দাসত্ব জীবনও অতিবাহিত করেছেন। তাঁর মনিব ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর প্রকৃতির লোক। বিরামহীন সে কাজ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলতে থাকতো। মনিবের নির্ধারিত কাজ শেষ করার পর মহান রবের ইবাদতে মশগুল হয়ে যেতেন। মূলত রাবেয়া বসরীর উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভ করা। আল্লামা ফরিদ উদ্দীন সাত্তারের মতে, এক রাতে রাবেয়া যখন আরাধনায় লিপ্ত ছিলেন, তখন তাঁর মাথার ওপর কোনো শিকল দিয়ে বাঁধা ছাড়াই একটি ঝাড়বাতি জ্বলছিল। যার আলো বিচ্ছুতি হয়ে ঘরের চারপাশ আলোকিত হয়ে গেল। এ ঘটনা দেখে মনিবের পাষান হূদয় গলে গেল। মনে মনে বললো, হায়! এ আমি কাকে আমার ঘরে দাসী বানিয়ে রেখেছি। সে তো সামাণ্য নারী হতে পারে না। সে আল্লাহর প্রিয়জন। পরদিন সকালে মনিব রাবেয়া বসরীকে দাসত্ব জীবন থেকে মুক্ত করলেন। যরত রাবেয়া বসরী (রহ.) একাডেমিকভাবে লেখাপড়া করার সুযোগ পাননি। তবে খুব অল্প বয়সেই মা-বাবার কাছ থেকে কুরআন, হাদীস, ফিকহ্ শাস্ত্রের ইলম হাসিল করেছিলেন। শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে তাঁর কখনো কোনো সংকোচ ছিল না। মা-বাবাকে খুব অল্প বয়সেই তিনি হারান জীবনে চলার পথে বহু কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। তারপরও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কখনো পিছপা হননি। সে সসময়ের একজন মহান সাধক ছিলেন ইমাম হাসান বসরী (রহ.)। রাবেয়া তাঁর কাছে গিয়ে ইলমে তাসাউফ ও মারেফাতের সুক্ষ্মজ্ঞান অর্জন করেন। পরবর্তী জীবনে রাবেয়া একজন কবি হিসেবেও প্রসিদ্ধ লাভ করেন। রাবেয়া বসরী (রহ.)-এর জীবন থেকে অনেক কারামত প্রকাশিত হয়েছে। এরকম অলৌকিক কর্মকাণ্ডের সংখ্যাও কম নয়। তার মধ্য থেকে একটি কারামত হচ্ছে একদিন রাবেয়া ফোরাত নদীর তীরে বসে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন; এমনি সময় তত্কালীন শ্রেষ্ট সাধক হযরত হাসান বসরী (রহ.) সেখানে হাজির হলেন। তিনি তার জায়নামাযখানি পানিতে বিছিয়ে দিলেন এবং রাবেয়াকে ডেকে বললেন, এসো রাবেয়া, আমরা দাঁড়িয়ে দু’রাকাত নামায আদায় করি। (এখানে হাসান বসরীর ইচ্ছে ছিল রাবেয়া তাঁর আসনখানি ডুবে যাওয়া হতে রক্ষা করতে পারে কিনা)। রাবেয়া কিছুক্ষন চুপ থেকে তাঁর জায়নামাযটিকে শূন্যলোকে উড়িয়ে ছিলেন এবং রাবেয়া নিজে উড়ে সেখানে বসে বললেন, জনাব আসুন, যদি পারেন এখানে এসে দু’রাকাত নামায আমরা আদায় করি। আল্লাহর নবী-রসূল ওলীদের বহু অলৌকিক ঘটনা রয়েছে। তবে তাঁরা এসব ক্ষমতা নিয়ে কখনো অহংকার করেননি। তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে কখনো তা প্রকাশ করেননি। বরং তা আপনার আপনি প্রকাশিত হয়ে যেত। এই মহিয়সী নারী ১৮৫ হিজরী মোতাবেক ৮০১ খ্রিস্টাব্দে শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন।

দর্শন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Smith, Margaret (২০১০)। Rabi'a The Mystic and Her Fellow-Saints in Islam। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস। পৃ: ২৫২। আইএসবিএন 9781108015912 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]