রানী পদ্মিনী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
রানী পদ্মিনী
পদ্মিনীর একটি অষ্টাদশ শতকের চিত্র 
পদ্মিনীর একটি অষ্টাদশ শতকের চিত্র 
তথ্য
শিরোনাম মেওয়ার রানী 
দাম্পত্য সঙ্গী রতন সেন
ধর্ম হিন্দু ধর্ম 

পদ্মিনী,পদ্মাবতী হিসেবেও পরিচিত,ছিলেন ১৩-১৪ শতকের একজন অত্যন্ত বিখ্যাত ভারতীয় রানী । সর্বপ্রথম 1540 সালে মালিক মুহাম্মদ জায়াসির লিখিত পদ্মাবত নামক একটি মহাকাব্যে তাঁর উল্লেখ পাওয়া যায় । এই মহাকাব্য হতে পদ্মাবতী সম্পর্কে জানা যায় যে তিনি সিংহল রাজ্যের (শ্রীলঙ্কা) অত্যন্ত সুন্দরী একজন রানী ছিলেন । হিরামন নামের একটি কথা বলা টিয়া পাখির কাছে তৎকালীন চিতোর এর রাজপুৎ রাজা রতন সেন তাঁর অসাধারণ রূপের কথা জানতে পারেন । এক রোমাঞ্চকর অভিযানের মাধ্যমে রতন সেন পদ্মাবতীকে জয় করে নেন এবং বিয়ে করে চিতোর নিয়ে আসেন । তখনকার দিল্লির বাদশাহ আলাউদ্দিন খিলজিও তাঁর রূপের কথা শুনে তাঁকে দখল করার উদ্দেশ্যে চিতোর আক্রমণ করেন । অনেক যুদ্ধের পর খিলজি চিতোর দখল করতে সক্ষম হন । এই যুদ্ধে রতন সেন কুম্ভালনারের রাজা দেবপালের হাতে নিহত হন,যিনি নিজেও পদ্মাবতীর রূপমুগ্ধ ছিলেন । আলাউদ্দিনের দুর্গ দখলের আগেই পদ্মাবতী এবং তাঁর সঙ্গীরা আত্মহত্যা করেন নিজেদের সম্মান বাঁচানোর  জন্য । তাঁর মৃত্যুর পর রাজপুুত রাজা যুদ্ধরত অবস্থায় যুদ্ধক্ষেত্রেই মৃত্যুবরণ করেেন ।

বেশ কিছু কিংবদন্তি তাকে বর্ণনা করে এমন একজন হিন্দু রাজপুত রানী হিসেবে যে মুসলিম আগ্রাসনের হাত থেকে নিজের সম্মান রক্ষা করতে পেরেছিল। পরবর্তীতে সে একজন ঐতিহাসিক চরিত্র হিসেবে বিভিন্ন উপন্যাস,নাটক এবং টিভি সিরিয়ালে চিত্রিত হয় । কিন্তু ১৩০৩ সালে আলাউদ্দিন খিলজির চিতোর আক্রমণ ঐতিহাসিক ঘটনা হলেও পদ্মিনী চরিত্রের কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায় না । বর্তমানের অধিকাংশ ইতিহাসবিদ তাঁর বাস্তব অস্তিত্বের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন ।